চঞ্চলকুমার ঘোষ
শুয়োরের মনে খুব দুঃখ। গোরু-ছাগল-ভেড়া সবার শিং আছে শুধু তার কোনো শিং নেই। একদিন শিবঠাকুরের কাছে গিয়ে বলল, ‘ঠাকুর তুমি সবাইকে শিং দিয়েছ, আমায় কেন দাওনি?’
শিবঠাকুর বললেন, ‘শিং নিয়ে তুই কী করবি?’
শুয়োর বলল, ‘শিং থাকলে আমি মাটি খুঁড়তে পারব। কেউ তাড়া করলে ভয় দেখাতে পারব।’
শিবঠাকুর বললেন, ‘ঠিক আছে, তবে কাল দুপুরবেলা আসিস আমি তোকে শিং দেব।’
শুয়োর পরদিন সকাল হতেই বেরিয়ে পড়ল। অনেকটা পথ। পথের মাঝে দেখা হয়ে গেল এক ছাগলের সঙ্গে। ছাগল গাছের কচি পাতা খাচ্ছিল। শুয়োরকে দেখে বলল, ‘কোথায় চললে শুয়োরদাদা?’
শুয়োর খুশিতে ডগমগ, একগাল হেসে বলল, ‘শিবঠাকুরের কাছে। ঠাকুর বলেছেন আজ আমাকে শিং দেবেন।’
ছাগল বলল, ‘চলো আমিও তোমার সঙ্গে যাব।’
ছাগল আর শুয়োর গল্প করতে করতে চলল। যেতে যেতে হঠাৎ শুয়োরের চোখে পড়ল ঝোপের আড়ালে মস্ত একটা কচু গাছ। এতবড়ো কচু গাছ কোনোদিন দেখেনি শুয়োর। লোভে জিভ দিয়ে জল গড়িয়ে পড়ল। ছাগলকে বলল, ‘তুমি একটু দাঁড়াও, আমি এই কচুটা তুলে নিই।’
ছাগল বলল, ‘এখন কচু খেতে গেলে দেরি হয়ে যাবে। ফিরে এসে খেও।’
শুয়োর বলল, ‘দেরি হবে না, একটানে কচু তুলে নেব।’
ছাগল ভাবছিল কখন শিবঠাকুরকে দেখবে। সেবলল, ‘যা করবার তাড়াতাড়ি করো।’
শুয়োর তার ধারালো দাঁত দিয়ে মাটি খুঁড়তে আরম্ভ করল। শুয়োর মাটি খুঁড়ছে তো খুঁড়ছেই, কচু আর বেরোয় না। খানিকক্ষণ পর ছাগল বলে উঠল, ‘আমি আর দেরি করতে পারছি না।’

শুয়োর বলল, ‘আর একটু দাঁড়াও, আমার তো মাটি খোঁড়া হয়েই গেছে।’
ছাগল বলল, ‘বাকিটা ফিরে এসে খুঁড়ো।’
শুয়োর ভাবল, এখন চলে গেলে কেউ যদি এসে কচুটা তুলে নিয়ে যায়, তখন তো আমার খাওয়াই হবে না। ছাগলকে সেকথা বলতেই ছাগল রেগে গিয়ে বলল, ‘তবে তুমি কচু খাও, আমি চললাম।’
শুয়োর মাথা নেড়ে বলল, ‘কী আর করা যাবে, তুমি যাও আমি পরে যাব। দুপুরের আগেই ঠিক শিবঠাকুরের কাছে পৌঁছে যাব।’
ছাগল ছুটতে ছুটতে চলে গেল। শুয়োর আবার মাটি খুঁড়তে আরম্ভ করল। যখন মাটি থেকে কচু বের করল তখন বেলা দুপুর। মাটি খুঁড়তে খুঁড়তে হাঁপিয়ে পড়েছিল শুয়োর। একটু বিশ্রাম নিয়ে চলল শিবঠাকুরের কাছে। কিছুটা গিয়েই আবার ফিরে এল যদি কেউ তুলে রাখা কচুটা খেয়ে ফেলে। লোভ সামলাতে পারল না শুয়োর। ভাবল কতই বা দেরি হবে কচুটা খেয়েই যাই।
অতবড়ো কচু খেয়ে শুয়োরের পেট ফুলে ঢোল, আর নড়তেই পারল না। গাছের তলায় হাত-পা ছড়িয়ে শুয়ে পড়ল আর শুতে শুতেই ঘুম। যখন ঘুম ভাঙল তখন দুপুর গড়িয়ে গিয়েছে। মনে পড়ে গেল শিবঠাকুরের কথা। ঊর্ধ্বশ্বাসে ছুটতে আরম্ভ করল শুয়োর। গাছের তলায় বসেছিলেন শিবঠাকুর। হাঁপাতে হাঁপাতে এসে শুয়োর বলল, ‘ঠাকুর আমার শিং?’
শিবঠাকুর শুয়োরের দিকে চেয়ে বললেন, ‘আর আমার কাছে কোনো শিং নেই, তুই এলি না দেখে সব বিলিয়ে দিয়েছি। একটু যদি আগে আসতিস, তবে তুইও শিং পেতিস।’
শুয়োর আর কী করে! শিং ছাড়াই হতাশমনে বাড়ি ফিরে চলল।

নোট নিতে এবং টেক্সট হাইলাইট করতে লগইন করুন
লগইন