নেড়ে

সমরেশ মজুমদার

পুজোর ছুটির পর কলকাতায় ফিরছিলুম। চাঁদপুর স্টেশনে আসবার একটু আগেই জিনিস পত্র গোছাতে লাগলুম। সঙ্গে ছিল শুধু একটি বেতের বাক্স আর সতরঞ্চি জড়ান বিছানা। যাদের সচল অচল অনেক লটবহর থাকে, তাদের ট্রেন ছেড়ে জাহাজে উঠতে দেরি হয়। কাজেই আমার মত স্থাবর অস্থাবর সম্পত্তিবিহীন ব্যক্তি মাত্রেই ছুটে গিয়ে জাহাজ দখল করে বসে। এ অবশ্য আমি গান্ধিক্লাসের যাত্রিদের কথা বলছি।

চাঁদপুরে গাড়ী থামল। তাড়াতাড়ি নেবে পড়লুম। কুলী না ডেকে , মোট ঘাড়ে করে ছুটে চললুম। বিস্তর যুদ্ধের পর জাহাজে উঠলুম। ভেবেছিলুম বেশ খালি পাব; কিন্তু দেখলুম পৃথিবীতে একমাত্র হুসিয়ার লোক আমিই নই। অনেকেই আমার ঢের আগে এসে ভাল জায়গাগুলি দখল করে বসে আছেন। আরোও দেখলুম আমার অপেক্ষাও অল্প লট-বহর বিশিষ্ট বঙ্গসন্তান আছেন। তাদের সম্পত্তির মধ্যে একখানা খবরের কাগজ। কাগজখানা বিছিয়ে হাতে মাথা দিয়ে শুয়ে আছেন।

থাক অনুতাপ করে লাভ নেই। বেশ কসরত করে সিঁড়ির পাশে জায়গা দখল করে বিছানা বিছিয়ে চিৎ হয়ে শুয়ে পড়লুম। তারপর জামার বোতাম খুলে ডান পা খানা সোজা করে, বাঁ পা তার উপর তুলে নাচাতে শুরু করে বিজয় গর্বে চারিদিক তাকাতে লাগলুম। হঠাৎ মনে হল ব্যূহ ত তৈরি করা হয়নি। তাড়াতাড়ি উঠে বিছানার একপাশে জুতা আর একপাশে বাক্স ও মাথার দিকটা রেলীংয়ের সঙ্গে ঠেকিয়ে রাখলুম। এইবার ঠিক হল। আর কোন সামন্ত-যাত্রী রাজ্য আক্রমণ করতে পারবেন না। চৌহুদ্দি ঠিক করে নিশ্চিন্ত মনে শুয়ে পড়ে বিজয় গর্বে আবার ঠেঙ্গ নাচাতে শুরু করলুম। চারিদিকে তখন হৈ হৈ কাণ্ড। জায়গা দখল নিয়ে ঝগড়া, কুলীর সঙ্গে দ্বন্দ্বযুদ্ধ। নানা প্রকারের চীৎকারে চারিদিক তখন বেশ সরগরম।

জাহাজ ছাড়ে ছাড়ে—ভাবলুম যাক একটু কবিত্ব করা যাক—অমনি।

'হে পদ্মা আমার

তোমার আমায় দেখা—'

বাকিটা আর আওড়ানো হলো না। দেখি একটা ভদ্রলোক মরিয়া হয়ে সিঁড়ি দিয়া উঠতে চেষ্টা কর্চ্ছেন। পেছনে তাঁর আবরু-অবগুণ্ঠিতা স্ত্রী—কিছুতেই তাল সামলে তাঁর সঙ্গে চলতে পাচ্ছেন না। ভদ্রলোকের সে দিকে দৃষ্টি নেই।

'এগিয়ে চলার' আনন্দে তিনি তখন মশগুল। আনন্দ বললুম বটে—কিন্তু থাড্ডো কেলাসের যাত্রী মাত্রেরই এ আনন্দের ভয়ে বুকের রক্ত হিম হয়ে যায়।

যাক। শেষ পর্যন্ত তিনি উপরে উঠলেনই। বাঙ্গালীর ধৈর্য নেই, যুদ্ধ করতে পারে না—একথা ডাহা মিথ্যে। সেই ভদ্রলোককে দেখলে উপরোক্ত কুসংস্কার কারুরই থাকবে না। উপরে উঠেই তিনি চারিদিকে তাকাতে লাগলেন। কিন্তু—

'স্থান নেই স্থান নেই ক্ষুদ্র সে তরী

মেড়ো, খোট্টা, বাঙ্গালীতে সব গেছে ভরি।'

ততক্ষণে তাঁর স্ত্রী এসে পেছনে দাঁড়িয়েছেন। বাবু তখন পেছনে সিঁড়ির দিকে তাকিয়ে হঠাৎ চমকে উঠলেন। বুঝতে পারলুম 'কুলী চম্পট'—বললুম, 'কি মশাই কি হয়েছে?'

ভদ্রলোকটি কাঁদ কাঁদ হয়ে বললেন, 'কুলী—কুলী কোথায় গেল, এই—'

আমি বললুম, নম্বর মনে আছে?

আমার কথায় কান না দিয়ে বলতে লাগলেন, 'এ্যা, তাইত, কুলী কোথায় গেল—বাক্স টাক্স সব নিয়ে—গয়নার বাক্স—হায় হায়।'

গয়নার বাক্সর কথা মনে হতেই তার শোক দ্বিগুণ হয়ে উঠল। আমি বিরক্ত হয়ে বললুম,—

'নম্বর কত ছাই বলুন না?'

'এ্যা, তাইত নম্বর, হাঁ নম্বর! নম্বর এই—তাইত! ভুলে গিয়েছি!'

'বেশ কোরেছেন!' এইবার তাঁর স্ত্রীর গলা থেকে গড় গড় কোরে একটা আওয়াজ বেরুল। কিন্তু, সেটা কি কোনো ভাষা না শুধু আওয়াজ মাত্র তা বোঝা গেল না।

ভদ্রলোকটি তাড়াতাড়ি সেই দিকে ঝুঁকে বললেন,

'কি, কি, মনে আছে?'

আবার একটু গড়গড়। তারপর শুনতে পেলুম 'এগারো।'

আমি আর অপেক্ষা না করে এক পাটি জুতো পায়ে ঢুকিয়ে অন্যটা ঢুকাতে ঢুকাতে ছুটে চললুম। ফিতে বাঁধা ছিল না বলে ডান পায়ের জুতোর নীচে ফিতে আটকে যাওয়ায় দড়াম করে সিঁড়ির উপর মুখ থুবড়ে পড়লুম। জুতোর উপর ভীষণ চটে গেলুম। কিন্তু মনকে সান্ত্বনা দিলুম 'পরোপকার কি বিনা মেহনতে হয়।' যাহোক আবার উঠে ভিড় ঠেলে 'গ্যারহ নম্বর' কুলী চেঁচিয়ে চললুম। কিন্তু কোথায় 'গ্যারহ নম্বর কুলী।' প্রত্যেক কুলীর নম্বর যদি খুঁজতে যাই তবে সে কাজটি আর সেদিন শেষ হবে না কাজেই শুধু চেঁচিয়ে চললুম।

নদীর পারে উঠে চেঁচাতেই একটা কুলী বললে—'ক্যা বাবু। ক্যেঁও চিল্লাতে হো?' আমি বললুম 'তুমি গ্যারহ নম্বর কুলী?' সে বলল, 'হাঁ, ক্যা চাহতে হো?'

আমি বললুম, 'জলদি চলো—বাবুকা মাল লেকর ক্যোঁও ইতনা দেরি করতা হ্যায়?'

সে বললে, 'ক্যা চিল্লাতে হো, মেরা পাস তো ইন সাহেবকা মাল হ্যায়। বাবুকা মাল ওঁহা রাখ ছোড়া।' দেখলুম আগে একটি সাহেব যাচ্ছে। আর বাবুর বাক্স নদীর পারে গড়াগড়ি দিচ্ছে। আমি বললুম, 'চলো য়্যহ মাল লেকর—জেয়াদা পয়সা দেগা।'

কুলী কোনো কথা না বলে চলে গেলো। ভারী মুস্কিলে পড়লুম, কি করা যায়? পাশে কোনো কুলীও নেই। জাহাজও তখন ছাড়বার জন্য ফোঁস ফোঁস কোরচে। কি আর করি। নিজেই বিছানা ট্র্যাঙ্ক ঘাড়ে ও গয়নার বাক্স হাতে করে চললুম। খানিকটা যেতেই ঘাড় টনটন কোরতে লাগল। মনে হল কেন এই কুবুদ্ধি চেপেছিল।

সিঁড়ির সামনে আসতেই বাবু তাড়াতাড়ি বাক্স ধরে বললেন, হাঁ হাঁ, করেন কি। আপনি কেন কষ্ট কোরছেন? কুলী বেটারা—আমি এক্ষুনি স্টেশন মাস্টারের কাছে যাচ্ছি। পাজি ব্যাটারা মাল নিয়ে শেষকালে ফেলে দেয়! আমি এক্ষুনি যাচ্ছি বলে তক্ষুনি ঝুপ করে আমার বিছানায় বসে পড়লেন। আমি শুধু—'না না,' বলে দাঁড়িয়ে রইলুম।

ভালো করে তাকিয়ে দেখি ততক্ষণে ভদ্রলোক তাঁর গিন্নি সমেত আমার বিছানায় জাঁকিয়ে বসেছেন। আমাকে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে বললেন, 'বসুন বসুন।'

এই ত একটুক্ষণ থাকতে হবে, কোন রকমে চলে যাবে। বিছানার এক পাশে বসে পড়লুম।

বাবুটি বললেন—'কোথায় যাওয়া হবে?'

'কোলকাতা।'

'সেখানে পড়েন বুঝি?'

প্রশ্ন এড়াবার জন্য শুধু মাথা নাড়লুম। তাতে হাঁ না দুইই বোঝাল। বাবু বললেন—'না, আমার একটি ভাইপোও কলকাতায় পড়ে। ছেলেমানুষ—গেল বছর মেট্রিক পাস করে গিয়েছে। পড়াশুনায় বেশ ভালো। আপনার বাবা কি করেন?'

'চাকরি।'

'বেশ বেশ। আমিও সরকারি চাকরি করি। মাইনে নেহাত কম। কোনওরকম কায়ক্লেশে চলে যায়। আমার যে ভাইপোটির কথা বললুম তার বাবা ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট। ছশ টাকা পায়। তার বিয়ে হয়েছে ফেণীতে। তার শ্বশুর...ইত্যাদি ইত্যাদি। আচ্ছা জ্বালায় পড়লুম! কি করা যায়! ফেরিওলা যচ্ছিল। একটা কাগজ নিয়ে মুখ ঢেকে পড়তে লাগলুম।

বাবু বোললেন,—'কি পড়ছেন?' আমি শুধু মাথা নাড়লুম।

তিনি বললেন, আনন্দবাজার? বলেই—'দেখি কাগজখানা।' ভাবলুম—বাঁচা গেল। বাবু কাগজ পড়বেন। কিন্তু ভদ্রলোক প্রথম লাইন চেঁচিয়ে পড়েই আবার বক্তৃতা জুড়ে দিলেন।

'জগৎগুরু মহাত্মা গান্ধীর কারাবাস—আজ ২২৫ দিন। তাঁহার বিদায় বাণী, খদ্দর পরিধান—ছুঁৎমার্গ পরিহার।'

দেখলেন, মশাই দেখলেন। এই দুটো জিনিস বলে গেছেন—তাও হতভাগা দেশে কেউ কোরবে না। খদ্দর পরলে কি দোষ রে বাবা! টেকেও ত বেশি; দামও কম।

আমাকে তাঁর কাপড়ের দিকে তাকিয়ে থাকতে দেখে লজ্জিত হয়ে বললেন, 'কি কোরব। ছাপোষা মানুষ। খদ্দর কিনে কুলিয়ে উঠতে পারিনে; আবার অফিসের সাহেব দেখলে চটে। বেটা যেন কসাই। সে কথা যাক। কিন্তু আমি ছোঁয়াছুঁয়ি মানিনে। ওতে তো আর কোনো খরচ নেই। কেনই বা মানব? কেন মুচি মুসলমান কি মানুষ নয়? ওদের সঙ্গে বসে কেন খাব না? খুব খাব।—আলবত খাব।

তারপর এদিকে ওদিকে তাকিয়ে স্ত্রীকে বললেন—'তা হলে জলখাবার—'

স্ত্রী তাড়াতাড়ি বাক্স খুলতে লাগলেন। ততক্ষণে তাঁর ঘোমটা প্রায়ই আড়াই ইঞ্চি হ্রাসপ্রাপ্ত হয়েছে। একখানা প্লেটে হাঁড়ি থেকে বের করে সন্দেশ রাখতে লাগলেন। আমি তখন উঠবার বন্দোবস্ত করতে শুরু করেছি। বাবু তা দেখে বললেন, 'বসুন বসুন, জলখাবারটা এখানেই সেরে নিন।'

আমি মাথা চুলকাতে লাগলুম। তিনি থালাখানি গিন্নির হাত থেকে কেড়ে নিয়ে আমার দিকে একটু এগিয়ে, 'খান,' বলে টপ করে একটি রসগোল্লা আমার মুখে ফেললেন। আমিও আস্তে আস্তে খেতে লাগলুম। তিনি অনর্গল বকে যেতে লাগলেন।

খাওয়া শেষ হলে বললেন, 'আমাদের ত এসে পড়ল—নেকসট স্টেশন—তারপাশা। আপনার তো কলকাতা পৌঁছুতে অনেক দেরি হয়ে যাবে—তা আপনি কোথায় উঠবেন? সোজা মেসে যাবেন বুঝি?'

আমি হু বলে উঠে পড়লুম। প্রতিজ্ঞা করলুম তারপাশা স্টেশন না আসা পর্যন্ত আর ও মুখো হবো না।

দূর থেকে দেখলুম বাবু গিন্নির সঙ্গে খুব আলাপ জুড়ে দিয়েছেন।

ঘণ্টাখানেক পরে তারপাশা দূরে দেখা গেল। ভাবলুম এইবার বাবুর খোঁজ নিই। গিয়ে দেখি তিনি তখন কাগজ পড়েছেন। আমাকে দেখে বললেন,—'এই যে তারপাশা।' তার-পর স্ত্রীর দিকে ফিরে বললেন, 'ওগো সব গুছিয়ে নাও।'

জাহাজ থামল। তিনি পারের দিকে আধঘণ্টা ধরে তাকিয়ে ছিলেন। হঠাৎ একটি লোককে দেখে—যুগপৎ হাত-পা নেড়ে চেঁচাতে শুরু করলেন। লোকটি কিন্তু কিছু দেখতে পাচ্ছিল না। বাবু দুই হাত নেড়ে তার দৃষ্টি আকর্ষণ করবার চেষ্টা করতে লাগলেন। কুলী ডেকে মালগুলো তুলে দিয়ে আমিও সঙ্গে সঙ্গে নাবলুম। পাড়ের লোকটি তখন জাহাজে উঠেছে। বাবুটি পাড়ে নাবতে যাবেন এমন সময় ফিরে বললেন—'চিঠিপত্র লিখবেন—আপনার ঠিকানা?'—তাই ত নামই জানা হল না। আপনার নাম?'

'আবদুল রসুল।'

থমকে দাঁড়িয়ে জিজ্ঞেস করলেন—'কি?'

'আবদুল রসুল।'

'তুমি মুসলমান?'

আমি বললুম, 'হাঁ, কেন?'

ভদ্রলোক মুখ খিঁচিয়ে বললেন, 'কেন?—কেন জাতটা মারলে? খাবার সময় বললে না কেন তুমি মুসলমান? উল্লুক!'

আমি অবাক হয়ে বললুম, 'আপনি যে বললেন, জাত মানেন না!'

তিনি তেড়ে এসে আমার নাকের কাছে হাত নেড়ে বললেন, 'মানিনে, খুব মানি। আলবত মানি। সাতপুরুষ মেনে এসেছেন আর আমি মানিনে! আবার প্রাচ্চিত্তির ফেরে ফেললে! হতভাগা—নেড়ে!'

সকল অধ্যায়
১.
স্ত্রীর পত্র
২.
অবনীভূষণের সাধনা ও সিদ্ধি
৩.
রসময়ীর রসিকতা
৪.
মহেশ
৫.
ভরতের ঝুমঝুমি
৬.
ঝড়
৭.
কলঙ্কিত সম্পর্ক
৮.
কবির মেয়ে
৯.
এপার গঙ্গা ওপার গঙ্গা
১০.
পথের কাঁটা
১১.
শহুরে
১২.
পুঁইমাচা
১৩.
প্রতিহিংসা
১৪.
বেদেনী
১৫.
আঙটি
১৬.
কসাই
১৭.
অতি সাধারণ ঘটনা
১৮.
রাজা
১৯.
বদলি মঞ্জুর
২০.
প্রেমের বি-চিত্র গতি
২১.
হ্যাংম্যান
২২.
নিবারণের মৃত্যু
২৩.
রুদ্রের আবির্ভাব
২৪.
তেলেনাপোতা আবিষ্কার
২৫.
নেড়ে
২৬.
দুকান কাটা
২৭.
তৃতীয় রিপু
২৮.
বৈয়াকরণ
২৯.
অতসী মামি
৩০.
পোস্টার
৩১.
ফেরিওলা
৩২.
জ্যোতিষী
৩৩.
পাশের বাড়ির মেয়ে
৩৪.
ফসিল
৩৫.
আদিম
৩৬.
আজ কোথায় যাবেন
৩৭.
ঘরন্তী
৩৮.
নিম অন্নপূর্ণা
৩৯.
বাঈজী
৪০.
রস
৪১.
টোপ
৪২.
ইঁদুর
৪৩.
বাঁদী
৪৪.
সুখ
৪৫.
পিকুর ডাইরি
৪৬.
ভারতবর্ষ
৪৭.
সাগিনা মাহাতো
৪৮.
আদাব
৪৯.
চোলি কা পিছে
৫০.
রানীরঘাটের বৃত্তান্ত
৫১.
ঘরবাড়ি
৫২.
নিশীথে সুকুমার
৫৩.
অশ্বমেধের ঘোড়া
৫৪.
রাজা যায় রাজা আসে
৫৫.
গরম ভাত অথবা নিছক ভূতের গল্প
৫৬.
রাজার টুপি
৫৭.
খানাতল্লাস
৫৮.
শ্বেতপাথরের টেবিল
৫৯.
উদ্বাস্তু
৬০.
মঁসিয়ে হুলোর হলিডে
৬১.
আত্মজা
৬২.
বড় পাপ হে

নোট নিতে এবং টেক্সট হাইলাইট করতে লগইন করুন

লগইন
০%