কবির মেয়ে

সমরেশ মজুমদার

বৎসর দুই-একের মধ্যে আমাদের দলের তিন-চারি জন আড্ডাধারী যখন সন্ন্যাসী হইয়া বাহির হইয়া গেল, তখন আমরা দস্তুরমত শঙ্কিত হইয়া পড়িলাম। গেরুয়া না পরিলেও ত্যাগে আমরা গেরুয়াধারী অপেক্ষা কম ছিলাম না। আর এই পার্থিব জগতে আড্ডা দেওয়া হইতে যে অপার্থিব সুখ আর নাই, এ কথার ব্যবহারিক পরিচয় দিয়া অনেক গৃহবিমুখ সন্ন্যাসীকেও আমরা আড্ডামুখী করিয়া তুলিয়াছি। এহেন আড্ডা ছাড়িয়া লোক কি সুখে সন্ন্যাসী হইতে চাহে, এ সমস্যার মীমাংসা কিছুতেই করিতে না পারিয়া আমরা সকলেই মনমরা হইয়া দিন কাটাইতেছিলাম, এমন সময় একদিন সংবাদ পাওয়া গেল যে আরও একটি বড় স্তম্ভ খসিয়া গিয়াছে। অর্থাৎ কি না আমাদের দীনবন্ধু হঠাৎ সন্ন্যাসী হইয়া গিয়াছে।

ভাঙ্গা আড্ডা কোনরূপে চলিতে লাগিল। বছর দুই-তিন আশায়-আশায় থাকিয়া পলাতক আড্ডাধাদীদের ঘরে ফেরা সম্বন্ধে যখন আমরা নিরাশ হইয়া পড়িয়াছিলাম, এমন সময় একদিন দীনবন্ধু হৈ-হৈ করিয়া-আড্ডায় উপস্থিত।

—সংবাদ কি?

—কোথায় ছিলি এতদিন?

—গেরুয়া গেল কোথায়?

—ওয়ারেন্ট বেরিয়েছিল বুঝি?

চারিদিক হইতে তাহার উপরে সহস্র প্রশ্নের বাণ নিক্ষিপ্ত হইতে লাগিল।

দীনবন্ধু বলিল,—'সন্ন্যাসী হয়েছিলুম ভাই।'

সুরেশ বলিল—'সে ত আমরা সবাই জানি। কিন্তু সন্ন্যাসীই যদি হলি, তবে ফিরলি কেন?'

দীনবন্ধু বলিল—'ওরে বাবা! সংসারীর চেয়ে সন্ন্যাসী হওয়ার ফ্যাঁসাদ বেশি।'

মহেন্দ্রদাদা বলিল,—'সেই জন্যই তো পৃথিবীতে সংসারী লোক বেশি, আর সন্ন্যাসী কম। এই কথাটা বোঝবার জন্য অত কষ্ট করলে কেন? আমাকে জিজ্ঞাসা করলেই ত এর উত্তর পেতে।'

দীনবন্ধু বলিল—'মহেনদা, উত্তরের অভাব হলে নিশ্চয়ই তোমার কাছে যেতুম, কিন্তু তখন আমার যা প্রয়োজন হয়েছিল, তা উত্তরের একেবারে বিপরীত। আর সে জিনিষ অন্তত তোমার কাছে পাওয়া যেত না।'

মহেন্দ্র বলিল—'কি হয়েছিল, বল তো?'

দীনবন্ধু বলিল—'পৈতৃক বাড়িখানা বাঁধা পড়েছিল জান তো। পাওনাদাররা নালিশ করে বাড়িখানা বিক্রি করে নিলে। এরপরে আর সংসারে টান থাকে? তুমিই বল?'

মহেন্দ্রদা বলিল—'সংসার-সমুদ্রে অর্থই হল সব চেয়ে বড় নোঙর, তারই শিকল যখন ছিঁড়ে গেল, তখন কিসে আর রাখবে বল। কিন্তু আবার ফিরে এলে কিসের টানে, বল দেখি। ছোট-ছোট নোঙর কোথাও ফেলবার চেষ্টা আছে না কি?'

দীনবন্ধু হাসিয়া বলিল—'না দাদা, আর নোঙরে কাজ নেই। এরকম ভেসে ভেসেই বেড়াব।'

সুরেশ বলিল—'আচ্ছা, বেরিয়েই বা গেলে কেন আর ফিরেই বা এলে কেন?'

দীনবন্ধু বলিল—'বেরিয়ে যাবার কারণ তো বলেছি। অবিশ্যি ফিরে আসবারও কারণ একটা আছে।'

দীনবন্ধুকে সকলে চাপিয়া ধরিলাম—'কারণ বলিতেই হইবে।'

তাহারও বিশেষ আপত্তি ছিল না। সে আরম্ভ করিল—

তোমাদের ত আগেই বলেছি, পৈতৃক আর স্বোপার্জ্জিত পাওনাদাররা মিলে ভিটেখানা বিক্রী করালে। তখন আমার হাতে আছে মোট তিপান্ন টাকা আর কয়েক আনা পয়সা। সকাল থেকে সন্ধে অবধি বসে-বসে ভাবলুম, কি করা যায়! যেমন বাজার, তাতে চাকরি-বাকরির সুবিধা কোথাও হবে না। ওদিকে তিপ্পান্ন টাকা ফুরাবার আগে যে উদরযন্ত্রের দাবিও ফুরিয়ে যাবে, এমন কোনও আশা নেই। এই সব দিক ভেবে ঠিক করে ফেললুম, সন্ন্যাসীই হওয়া যাক। যাঁহাতক মনে হওয়া, অমনই আনা-দুয়েকের লাল মাটি কিনে এনে দুখানা ধুতি গেরুয়া রঙে ছেপে ফেলা গেল। তার পরদিন দুপুরবেলায় হরিদ্বারের গাড়িতে সন্ন্যাস-যাত্রা।

হরিদ্বারে গিয়ে ত পৌঁছুলুম, কিন্তু গুরু আর খুঁজে পাইনে। অনেকে পরামর্শ দিলে যে হিমালয়ে অনেক ভালো ভালো সন্ন্যাসী আছেন, সেখানে গিয়ে কারুর কাছ থেকে দীক্ষা নাও।

হিমালয়ের দিকেই যাত্রা করা গেল। সমস্ত দিন চলি আর রাত্রে কোন চটিতে আশ্রয় নিই। পথে লোকজনের সঙ্গে দেখা হলে জিজ্ঞাসা করি, ভালো সন্ন্যাসী কোথায় আছে? তাদের নির্দ্দেশমতো কোন মঠে গিয়ে উঠি। কোথাও বা যাওয়া মাত্র তাড়িয়ে দেয়, কোথাও বা দুদিন বাদে বলে দেয়, তোমাকে দীক্ষা দেব না। সেখান থেকে বেরিয়ে আবার চলতে আরম্ভ করি।

এইরকম প্রায় মাসখানেক পাহাড়ে ঘুরে একদিন এক সন্ন্যাসীর আস্তানায় গিয়ে উপস্থিত হলুম। এর নাম জীবানন্দ। হরিদ্বারে থাকতেই খুব উচ্চদরের সাধক বলে এঁর নাম শুনেছিলুম। ছোট্ট একটি উপত্যকার মধ্যে এঁর মঠ। তিন-চার খানি ঘর, তাতে গুটিদুয়েক শিষ্যকে নিয়ে তখন বাস করছিলেন।

সন্ন্যাসীকে গিয়ে প্রণাম করে বললুম,—'বাবা আমার মনে বড় অশান্তি, তাই আপনার আশ্রয়ে এসেছি।'

সন্ন্যাসী স্মিতহাস্যে বল্লেন,—'বেশ করেছ, এখানে থাক। শান্তিময় এইস্থানে, শান্তি পাবে।'

'সেখানে দু-তিন দিন থাকার পর একদিন বিকেলবেলা তাঁকে একলা পেয়ে আমি বলে ফেললুম, 'বাবা, আমি সন্ন্যাস গ্রহণ করব বলে বাড়ি থেকে বেরিয়েছি, আপনি আমায় দীক্ষা দিন।'

—আমার কথা শুনে সন্ন্যাসীর চোখ দুটো হঠাৎ লাল টকটকে হয়ে উঠল। আমি তাঁর পদসেবা করছিলুম, তিনি পা গুটিয়ে নিয়ে উঠে বসে জিজ্ঞাসা করলেন—'কি বললে?'

স্বামীজিকে হঠাৎ অমন উত্তেজিত হতে দেখে আমি থতোমতো খেয়ে গিয়েছিলুম। তিনি আবার জিজ্ঞাসা করলেন—'কি, কি বললে?'

এবার আমি সাহস সঞ্চয় করে বলে ফেললুম—'আপনার কাছে আমি দীক্ষা নিতে এসেছি। আমি সংসার ত্যাগ—'

স্বামীজি সেই সুরেই বললেন,—'কে তোমাকে সংসার ত্যাগ করতে বলেছে? আমার কাছে আসতেই বা কে বলেছে?'

কোনও জবাব না দিয়ে চুপ করে বসে রইলুম। কিছুক্ষণ পরে স্বামীজি আবার বললেন—'আমি মনে করেছিলুম, তুমি এখানে বেড়াতে এসেছ, কিছুদিন থেকে মনটা ভালো হলে ফিরে যাবে। এই ভেবেই তোমায় আশ্রয় দিয়েছিলুম।'

জানোই ত! এরকম ধরনের কথা কোনওদিনই সহ্য করা আমার অভ্যেস নেই। তবুও সন্ন্যাসী লোক, তাকে কিছু বলব না মনে করে এতক্ষণ চুপ করেই ছিলুম। কিন্তু আর সহ্য করা সম্ভব হল না। বলে ফেললুম—'আশ্রয়ের আমার এমন অভাব হয়নি যে, যে জন্য এই পাহাড়-পর্বত ভেঙে আপনার কাছে আসতে হবে—'

আরও একটু কড়া বলতে যাচ্ছিলাম, কিন্তু স্বামীজি তার আগেই একটি প্রকাণ্ড ধমক ছেড়ে বললেন—'তবে উঠ। এই মুহূর্তেই এখান থেকে দূর হয়ে যা।'

চিৎকার শুনে শিষ্য দুজন ছুটে এল। স্বামীজি তাদের বললেন,—'এখনি একে মঠের চৌহদ্দী পার করে দিয়ে এসো।'

—আমি তখনই উঠে পড়লুম। শিষ্য দুজন আমাকে অনেকখানি এগিয়ে দিয়ে একটা রাস্তা দেখিয়ে বললে—'এই পথ ধরে যাও, কেদারে পৌঁছবে। রাস্তা দুর্গম, একটু সাবধানে যেও। পথে যাত্রী দেখলে তাদের সঙ্গ নিও, অসুবিধা হবে না।'

শিষ্যরা চলে গেলে সেই পথ ধরে হাঁটতে আরম্ভ করলুম। অনেকক্ষণ চলার পর বিপরীত দিক থেকে একজন লোক আসছে দেখে তাকে জিজ্ঞাসা করলুম—'চটি কত দূরে?'

সে বললে—'এখানে চটি কোথায়? দশ মাইল দূরে একটা চটি আছে বোধহয়।'

লোকটার কথা শুনে আমি একেবারে বসে পড়লুম। একে তখন সন্ধ্যা হয়ে এসেছে, অন্ধকারে পথও চিনতে পারি না, মঠে যাবার পথ চিনি বটে, কিন্তু সেখানে ফেরবার পথ নিজেই নষ্ট করে এসেছি। এই রাত্রিতে দশ মাইল পাহাড়ে-পথ অতিক্রম করে চটিতে পৌঁছবার আশা বিড়ম্বনা মাত্র। বাইরের অন্ধকার ক্রমেই ঘনিভূত হয়ে উঠতে লাগল। অন্তরের আশার শিখাও স্তিমিত। একমাত্র ভরসা আমার দুর্জয় সাহস। সেই সাহসে ভর করে আমি অগ্রসর হতে লাগলুম।

রাত্রি এক প্রহর কেটে যাবার পর আকাশে একটু চাঁদের আলো দেখা দিল। ক'মাইল পথ চলে এসেছি তা ঠিক করতে পারলুম না, তবে যতদূর মনে পড়ে—একটা ছোট আর একটা বড় উপত্যকা পার হয়ে হাঁপিয়ে পড়েছিলুম। স্থির করলুম যে, এক জায়গায় বসে একটু জিরিয়ে নিয়ে আবার চলতে শুরু করব।

একটা গাছের তলায় বসে বিশ্রাম করছিলুম, কখন যে সুষুপ্তির কোলে ঢলে পড়েছি, তা জানতেই পারিনি, হঠাৎ খানিকটা ঠান্ডা বাতাস আমায় ঠেলা দিয়ে জাগিয়ে দিল।

জেগে দেখি, চাঁদের আলোতে চারিদিক ভেসে গেছে। আমার চারিদিকে ছোট থেকে বড় একটার পর একটা পাহাড় থাকে থাকে স্থির হয়ে দাঁড়িয়ে। দূরে সবার পিছনে একটা পাহাড় আর সকলের মাথা ছাড়িয়ে নীল আকাশ ভেদ করে উঠেছে। বাতাস অতি মৃদুভাবে তার গায়ে মেঘের চামর বুলিয়ে দিচ্ছে। কি স্থির আর কি শান্ত ভাবে তারা কাল-সমুদ্রের বুকে অনন্তের নোঙর পেতে পড়ে আছে।

আমার মনে হতে লাগল, পাহাড়গুলো যেন এই শব্দহীন, অন্তহীন নীল চাঁদোয়ার নীচে বসে মহাপ্রলয়ের দিন কে কি কার্যের ভার নেবে, তারই পরামর্শ করছে। সেই বিরাট মহান প্রকৃতির সামনে মাথা আপনি নুয়ে পড়ল।

মাথা তুলতে না তুলতে শুনতে পেলুম—চল, এত রাতে আর এখানে বসে থাকে না।

পিছনে ফিরে দেখি, স্বামীজি তাঁর দুই শিষ্যকে সঙ্গে নিয়ে দাঁড়িয়ে আছেন। আমি ফিরতেই তিনি বললেন,—'তুই ত ভারী অভিমানী ছেলে। চলে যেতে বললুম বলেই কি চলে যেতে হয়?'

স্বামীজিকে প্রণাম করে বললুম,—'প্রভু, আপনি তাড়িয়ে না দিলে এ দৃশ্য আমি দেখতে পেতুম না। চলে যেতে বলে ভালোই করেছিলেন।'

স্বামীজি আমার একখানি হাত ধরে বললেন,—'চল, ফিরে চল। রাগ করিসনি।'

সেই রাত্রিতে আবার মঠে ফিরে এলুম। বোধ হয়, চারদিন পরে স্বামীজি আমায় দীক্ষা দিলেন। আমার সংসারী নাম ঘুচে গিয়ে নাম হল—'অরূপচৈতন্য'।

মঠে বেশ আনন্দেই দিন কাটতে লাগল। সকালে স্বামীজি আমাদের ধর্ম শিক্ষা দিতেন। দূরে দু-তিনখানা গ্রাম ছিল, তারই বাসিন্দারা আমাদের আহার্য যোগাত, মধ্যে মধ্যে স্বামীজির ধনী শিষ্যরা ভেট পাঠাত। শক্ত কাজের মধ্যে ছিল ঝরণা থেকে জল নিয়ে আসা। জ্যোৎস্না রাত্রি হলেই আমি পাহাড়ে বেরিয়ে পড়তুম, ঘণ্টার পর ঘণ্টা পাহাড়ে পাহাড়ে ঘুরে ক্লান্ত হয়ে পড়লে মঠে এসে শুয়ে পড়তুম।

বাইরের যে পৃথিবীটার সঙ্গে সমস্ত সম্পর্ক চুকিয়ে চলে এসেছিলুম, মাঝে মাঝে অসর্তক মুহূর্তে তার আহ্বান আমার হৃদয়-দুয়ারে ঘা দিয়ে আমাকে আকুল করে তুলত। কিন্তু নির্জনতার মধ্যেও একটা মাদকতা আছে। তার নেশা ধরতে দেরি লাগে বটে, কিন্তু সে মৌতাত একবার অভ্যাস হয়ে গেলে আর ছাড়া মুস্কিল। আস্তে-আস্তে এই একলা থাকার মৌতাতে আমি মসগুল হয়ে উঠেছিলুম। এমন সময় কি একটা বিশেষ প্রয়োজনে স্বামীজিকে বোম্বাইয়ের দিকে চলে যেতে হল।

মঠে তখন আমরা তিনজন মাত্র শিষ্য ছিলুম। স্বামীজি একজনকে সঙ্গে নিলেন, একজনকে পাঠিয়ে দিলেন প্রয়াগ অঞ্চলে আর আমায় বললেন—'তুই নিজের দেশে যা। সন্ন্যাস গ্রহণ করবার পর একবার দেশে যেতে হয়।'

মঠ ছেড়ে কোথাও যেতে আর আমার মোটে ইচ্ছা ছিল না, কিন্তু গুরুর আগ্রহে আমায় বেরুতে হল। তিনি আমাদের দুজনকে বলে দিলেন—'দু-বছর পরে আমি এইখানে ফিরব।' বিনাটিকিটেই রেলে উঠে পড় গে। টিকিট নেই শুনে কেউ বা সন্ন্যাসী বলে ছেড়ে দেয়, আর কেউ বা ঘাড় ধরে নামিয়ে দেয়। তখনকার মতো নেমে পড়ে পরদিন আবার ট্রেনে উঠে চলতে থাকি।

এই রকম করে অগ্রসর হতে একদিন মধুপুর রেলস্টেশনে একজন কর্মচারী আমার নিকট টিকিট নেই দেখে ট্রেন থেকে নামিয়ে দিলে। আমি মনে করেছিলুম, আমাকে নামিয়ে দিয়েই সে নিশ্চিন্ত হবে, আমিও আবার অন্য গাড়িতে চড়ব। কিন্তু তা হল না, স্টেশন থেকে গাড়িখানা চলে যাবার পর সে ব্যক্তি আমাকে একেবারে রেলপুলিশের জিম্মায় সমর্পণ করলে। এরকম ফ্যাঁসাদে এর আগে আর কখনও পড়িনি। প্রায় আট-দশদিন টানাপোড়েন থানা-পুলিশ হতে-হতে ব্যাপারটা আদালত অবধি গড়াল। আমি আন্দাজ করেছিলুম, এই সুযোগে জেলে যাওয়ার অভিজ্ঞতাটা বোধহয় হয়ে যাবে। কিন্তু অবোধ হাকিম কোম্পানির সমস্ত কথা শুনে আমায় বললে—'যাও, এমন কার্য আর কর না।'

সন্ন্যাসীর নামে মামলা হওয়ায় সেখানে হই-চই পড়ে গিয়েছিল। আমি মুক্তি পেতেই শহরের এক ধনী আমাকে তার বাড়িতে নিয়ে গেল। কলকাতায় যাব শুনে তারা রেলের টিকিট কিনে দিতে চাইলে। কিন্তু রেলে উঠতে আমার আর প্রবৃত্তি হল না। আমি সেখান থেকে হেঁটেই রওনা হলুম।

মধুপুর থেকে কলকাতা অবধি বেশ ভালো হাঁটা-পথ আছে। সেই রাস্তা ধরে কলকাতার দিকে এগিয়ে চলেছি, তখন বর্ষাকাল, মাঝে-মাঝে বৃষ্টিতে কষ্ট দেয়, আর পাহাড়ে নদীগুলো ভরে উঠায় কোনও কোনও জায়গায় পারের জন্য একটু মুস্কিলে পড়তে হয়। তা না হলে সন্ন্যাসীর পক্ষে পথ চলায় কোনও কষ্ট নেই।

মাসখানেক পথ চলে বাঙ্গালায় এসে পৌঁছলুম। বৃষ্টি তখনও থামেনি, বরং আরও বেড়েছে। মাঠ-ঘাট সব জলে ভরতি, রাস্তাও আর তেমন শুকনো নয়। মধ্যে-মধ্যে ভারী কাদা!

একদিন—সেদিন আর কোনও গ্রামের মধ্যে ঢুকিনি। রাস্তা বেয়ে তাড়াতাড়ি চলেছি, কোনও রকমে কলকাতায় গিয়ে পৌঁছতে পারলে হয়। কতবার বৃষ্টি এল, আর কতবার যে ভিজে কাপড় গায়ে শুকিয়ে গেল, তার ঠিকানা নেই। সমস্ত দিন চলে-চলে সন্ধ্যার সময় একটা গাছতলায় আশ্রয় নিলুম। পরিশ্রমে অত্যন্ত ক্লান্ত হয়ে পড়েছিলুম, তার ওপর জলে ভিজে-ভিজে ক'দিন ধরেই শরীরটা জ্বর-জ্বর করছিল।

সন্ধ্যার কিছু পরেই আবার বৃষ্টি শুরু হল। মনে করেছিলুম, রাত্রিটা সেইখানে কোনরকমে কাটিয়ে সকালে আবার চলা শুরু করব। কিন্তু কিছুক্ষণ যেতে না যেতে আকাশ যেন ভেঙে পড়ল, গাছের তলায় দাঁড়িয়ে আত্মরক্ষা করা ক্রমেই অসম্ভব হয়ে উঠতে লাগল।

আমি যে গাছের নীচে আস্তানা করেছিলুম, তার একটু দূরেই একটা রাস্তা গ্রামের দিকে চলে গিয়েছে। এই দুর্যোগে কোনওরকমে কোনও গৃহস্থের দরজায় গিয়ে উপস্থিত হতে পারলে নিশ্চয় রাত্রির মতো একটু আশ্রয় পাওয়া যাবে, এই ভরসায় গাছের তলা থেকে দৌড় দিলুম।

দৌড়—দৌড়—দৌড়!—কিছুক্ষণ দৌড়ুই, আবার কিছুক্ষণ হাঁটি। এইরকম করে চলতে-চলতে দূরে একটা আলো দেখতে পেলুম। ছুটতে-ছুটতে সেখানে গিয়ে উপস্থিত হলুম। সেটা একটা মুদীর দোকান, ছোট একটা চালা-ঘর। মুদী সেখানে আশ্রয় দিলে না, তবে সে দয়া করে গ্রামের রাস্তাটা আমায় দেখিয়ে বললে—গাঁয়ের ভিতরে যাও, সেখানে আশ্রয় পেতে পার।

গাঁয়ের মধ্যে ঢুকলুম। কৃষ্ণপক্ষের রাত্রি, তার ওপরে কালো মেঘের ছায়া। ধরণী যা কিছু সব যেন নিকিয়ে নিয়েছে। চোখে কিছুই দেখতে পাই না। অন্ধকার, কাঁটা আর কাদায় মিলে সে একটা বীভৎস ব্যাপার হয়ে রয়েছে। তার ওপর দিয়ে একরকম গড়াতে-গড়াতে চলতে লাগলুম।

গ্রাম একেবারে নিশুতি। একে এই দুর্যোগ, তার উপরে রাত্রি প্রায় দ্বিপ্রহর, গ্রামবাসীরা যে যার শুয়ে পড়েছে। মানুষ তো ছার, একটা কুকুরের ডাক পর্যন্ত শুনা যাচ্ছে না। এরই ভিতর দিয়ে আমি পিছলে-পিছলে টলতে-টলতে চলেছি। পা থেকে মাথা পর্যন্ত কাঁটায় ক্ষতবিক্ষত হয়ে গিয়েছে। তবুও চলেছি। এমন সময় অনেক দূরে একটা ক্ষীণ আলো দেখা গেল।

প্রায় আধঘণ্টা সেই আলো লক্ষ্য করে গিয়ে আমি একটা একতলা জীর্ণ বাড়ির সামনে উপস্থিত হলুম। একটা খোলা জানালা দিয়ে ক্ষীণ আলোর রশ্মি দেখা যাচ্ছিল। একটু ঘুরে বাড়ির দরজার কাছে গিয়ে দাঁড়ালুম। দরজা ভেজান ছিল, ধাক্কা দিতেই খুলে গেল বটে, কিন্তু কেউ নেই সেখানে। আমি ডাক দিলুম,—'বাড়িতে কে আছেন?' বাড়ির ভিতরে রমণীকণ্ঠ শুনা গেল,—'ওরে দেখ, বোধহয় ডাক্তারবাবু এলেন।'

সঙ্গে সঙ্গেই একটি কিশোরী একটা লণ্ঠন হাতে নিয়ে ভিতর থেকে বেরিয়ে এল। কিশোরী প্রথম আমাকে দেখতে পায়নি। সে লণ্ঠনটা তুলে 'কে' বলে আমার সামনে এসে দাঁড়াল।

আমাকে সেই অবস্থায় দেখে তার মুখ দিয়ে কোনও কথা বেরুল না, কিছুক্ষণ হতভম্বের মতো দাঁড়িয়ে থেকে লণ্ঠনটা ঠক করে নামিয়ে রেখে সে ভিতরে চলে গেল।

একটু পরেই এক জন বিধবা রমণী—'কে' বলে ভিতর থেকে বেরিয়ে এলেন। তাঁর পিছনে গুটি দু-তিন ছেলে-মেয়ে।

আমি একটু এগিয়ে এসে বললুম—'আমি অতিথি। এই দুর্যোগে বড় বিপদে পড়েছি, রাত্রির মতো একটু আশ্রয় চাই।'

রমণী স্নিগ্ধকণ্ঠে প্রশ্ন করলেন—'তোমার বাড়ি কোথায় বাবা?'

বললুম—'সন্ন্যাসীর আবার বাড়ি কোথায় মা!'

'ও, তুমি সন্ন্যাসী! তা গেরুয়া দেখেই মনে হয়েছিল। এস, বাবা, ভিতরে এস। ভগবান তোমায় পাঠিয়ে দিয়েছেন।'

বাড়ির ভিতরে গিয়ে হাত-পা ধুয়ে কাপড়খানা নিংড়ে পরলুম। শরীর একেবারে ভেঙ্গে আসছিল, শোবার জন্য জায়গা খুঁজছি, এমন সময় সেই বিধবা আমায় বললেন—'বাবা, আমাদের বড় বিপদ। তাই বোধহয়, ভগবান এত রাত্রে তোমাকে আমাদের কাছে পাঠিয়ে দিয়েছেন।'

ঘুমটুম সব ছুটে গেল। জিজ্ঞাসা করলুম—'কি বিপদ, বলুন আমার যদি সাধ্য থাকে—'

তিনি বললেন, 'আমার বড় মেয়েটি আজ ছয় মাস ধরে জ্বরে ভুগছে। আজ সন্ধ্যাবেলায় কাসতে কাসতে কীরকম অজ্ঞানের মতো হয়ে পড়েছে, এখনও ভালো করে জ্ঞান হয়নি। এ গ্রামে কোনও ডাক্তার নেই, ভিন গাঁয়ে ডাক্তার ডাকতে পাঠান হয়েছে। তা এই দুর্যোগে সে বোধহয় আর এল না।'

'চলুন, তাকে দেখে আসি।'

এই বলে উঠলুম। বিধবা আমাকে একটি ঘরে নিয়ে গেলেন। ঘরের এক দেওয়ালের গায়ে লাগা এক খাটে রোগিণী শুয়ে আছে। এই ঘরেরই খোলা জানালা দিয়ে যে ক্ষীণ আলো দেখা যাচ্ছিল, তাই লক্ষ্য করে আমি এসেছি। রোগিণীর বয়স বোধহয় কুড়ির কাছাকাছি। দেখতে হয়তো সুন্দরীই ছিল, কিন্তু নির্মম রোগ তার সমস্ত সৌন্দর্যই গ্রাস করেছে।

অনেকক্ষণ বিছানার ধারে দাঁড়িয়ে মুখ দেখলুম। চোখ বুজিয়ে সে পড়ে আছে। জিজ্ঞাসা করলুম, 'এর নাম কি?'

'ললিতা।'

রোগিণীর তপ্ত ললাটে হাত দিয়ে মৃদুস্বরে ডাকলুম—'ললিতা।'

ডাকামাত্র তার নিমিলিত চোখ দুটো খুলে গেল। সে আস্তে আস্তে পাশ ফিরে শুলে।

রোগিণীর মা বললে—'সন্ধ্যার আগে একবার বমি করে সেই চোখ বুজেছিল, আর এই খুলল। তোমাকে কি বলব বাবা—'

আমি বললুম—'আপনি গিয়ে শুয়ে পড়ুন। আর কোনও ভয় নেই। কাল ডাক্তার এলে যা হয় ব্যবস্থা হবে।'

রোগিণীর ঘরের বাইরে একটা চওড়া দাওয়া। তারই কোণে আমার শোবার ব্যবস্থা হল।

পাশের একটা ঘরে ছেলে-মেয়েদের মৃদু কণ্ঠস্বর শুনা যাচ্ছিল, ললিতার মা আমাকে শুইয়ে সেই ঘরে ঢুকে গেলেন।

তখনও বৃষ্টি থামেনি। বৃষ্টির সেই অখণ্ড ঘুমপাড়ানিয়া গানে গ্রামের সমস্ত প্রাণীই নিদ্রিত। আমার চোখ থেকে কিন্তু ঘুম ছুটে গিয়েছিল। চোখ বুজলেই পাশের ঘরের সেই রুগ্না মেয়েটির শীর্ণ মুখ চোখের সামনে ভাসতে থাকে! তার কথা ভাবতে-ভাবতে একটা অদ্ভুত আকর্ষণে আমাকে তার দিকে টানতে লাগল।

ঘরের মধ্যে গিয়ে দেখি, বাতিটা তখনও মিট-মিট করছে। কোণে এক বৃদ্ধা ঝি পড়ে অঘোরে নিদ্রা যাচ্ছে। খাটের দিকে চেয়ে দেখলুম, ললিতা আবার চিৎ হয়ে শুয়েছে। সেই স্তিমিত আলোকে তার মুখ ভালো করে দেখা যাচ্ছিল না। আমি খাটের ধারে গিয়ে ঝুকে তার মুখখানা দেখতে লাগলুম।

একদৃষ্টে তাকে দেখছি। নি:শ্বাস এত ক্ষীণ যে, তা পড়ছে কি না তা বুঝতে পারা যাচ্ছে না। তার একখানা হাত তুলে নাড়ি দেখতে লাগলুম। জীবন-প্রবাহ অতি ক্ষীণ, যে কোন মুহূর্তে তা বন্ধ হয়ে যেতে পারে। হঠাৎ রুগ্নার চোখ দুটো খুলে গেল। আমাকে দেখেই সে বলে উঠল—'কে! কে তুমি।'

আমি তাড়াতাড়ি হাতখানা নামিয়ে রেখে বললুম—'কোনও ভয় নেই। আমি সন্ন্যাসী।'

'সন্ন্যাসী! ও, তুমিই বুঝি রোজ ওই জানালার ধারে বসে থাক? আজ এত কাছে এসেছ যে?'

আমি বললুম—'তুমি ঘুমোও। বেশি কথা বললে অসুখ বাড়বে।'

'কিন্তু তুমি এত কাছে এসেছ কেন? আমাকে বুঝি নিয়ে যাবে? না না, আমি যাব না, তুমি যাও।'

স্পষ্ট বুঝতে পারা গেল যে, বিকারের ঘোরে সে ভুল বকছে। আমি তার কপালে হাত দিয়ে বললুম—'তুমি চোখ বুজোও, ঘুমোও।'

মেয়েটি আর একবার দৃষ্টিহীন চাউনীতে আমার দিকে চেয়ে চোখ বুজলো।

একটু পরেই সে ঘুমিয়ে পড়ল। তার সেই শীর্ণ মুখ আর অসহায় অবস্থা দেখে তার প্রতি করুণায় আমার মনটা আর্দ্র হয়ে উঠতে লাগল। আমি বসে বসে ললিতাকে পাখার বাতাস করতে লাগলুম। গুরুদেবের শিক্ষা একেবারে বিফলে যায়নি। তোমাদের সত্যি বলছি, সেখানে বসে বসে আমার মনে হতে লাগল যে, এর মধ্যে ভগবানের নিশ্চয় কোন গূঢ় অভিসন্ধি আছে। তা না হলে কোথাকার লোক আমি আর আজ এই শেষরাতে কোথায় বসে কাকে বাতাস করছি। আশ্চর্য দৈবের খেলা!

সূর্যের রথখানা তখনও উদয়াচলের শিখরে এসে পৌঁছোয়নি। অন্ধকার একটু ফ্যাকাসে হয়েছে মাত্র, এমন সময় ললিতার মা ঘরে ঢুকে আমাকে ওই অবস্থায় বসে থাকতে দেখে বললেন—'সারারাত এইখানে বসে আছ, বাবা? তুমি আর জন্মে নিশ্চয়ই আমাদের কেউ ছিলে। তা না হলে—'

তাকে বাধা দিয়ে বললুম—'আপনি কিছুমাত্র কুণ্ঠিত হবেন না। সেবাই আমাদের ধর্ম।'

আমাদের কথা শুনে ললিতার ঘুম ভেঙ্গে গেল। সে চোখ চেয়ে অবাক হয়ে আমার দিকে চাইতে লাগল। তার মা কাল রাত্রির সমস্ত কথা বলে আমার সঙ্গে তার পরিচয় করিয়ে দিলেন। সে একটু হাসবার চেষ্টা করে শুয়েই আমাকে নমস্কার করলে।

সকালবেলা ক্রমে ক্রমে ললিতাদের বাড়ির অবস্থা জানতে পারলুম। ললিতার বাবা ছিলেন একজন কবি, কার্যেই দরিদ্র। চাকরি-বাকরির চেষ্টা চার-পাঁচবার করেছিলেন, কিন্তু শেষ অবধি কোথাও বনিবনাও হয়নি। অতি সামান্য আয় আছে, তাতে কষ্টে দু-বেলা খাওয়া চলে। জাতে তারা ব্রাহ্মণ। বছরখানেক আগে ললিতার বাবা তিনদিনের জ্বরে মারা গেছেন। ললিতা ছাড়া আরও একটি মেয়ে আছে, তার নাম অমিতা। দুটি ছেলে, তারা মেয়েদের চেয়ে ছোট। মেয়েদের কারও বিয়ে হয়নি। ললিতার বিয়ের চেষ্টা হচ্ছিল, এমন সময় তার বাবা মারা গেলেন। তারপরে আজ ছ'মাস সে জ্বরে-জ্বরেই সারা হচ্ছে। কাল বিকেলে সে রক্তবমি করে অজ্ঞান হয়ে পড়েছিল। ভিনগাঁয়ে ডাক্তার থাকে, রাতে লোক পাঠান হয়েছিল, লোকও ফেরেনি, ডাক্তারও আসেনি।

ললিতার মা'র বয়স বেশি নয়, চল্লিশের কাছাকাছি হবে। সংসারের কাহিনি বলতে বলতে তিনি কেঁদে ফেললেন। আমায় জিজ্ঞাসা করলেন—'বাবা, ললিতা বাঁচবে ত, কর্তার বড় আদরের মেয়ে ও।'

আমি তাঁকে সান্ত্বনা দেবার চেষ্টা করলুম। বললুম, 'না বাঁচার কোন কারণ দেখছি না—ও সেরে উঠবে।'

তিনি বললেন—'তুমি ক'টা দিন এখানে থাক, বাবা। তোমায় দেখে আমার ভরসা হচ্ছে।'

মাসখানেক ধরে হেঁটে-হেঁটে আমিও ক্লান্ত হয়েছিলুম। বিশ্রামের খুবই প্রয়োজন ছিল। তাঁর কথা শুনে বললুম, 'বেশ আমি আছি।'

ললিতার মা সংসারের কার্যে ব্যাপৃত হলেন। আমি আবার ললিতার বিছানার পাশে গিয়ে বসলুম। তার মনটা একটু প্রফুল্ল করার জন্য বললুম—'ললিতা, গল্প শুনবে?'

সে উৎসাহিত হয়ে বললে,—'হ্যাঁ, বলুন শুনব।'

একটা গল্প বললুম, সে শুনে বললে,—'এ গল্প আমি জানি। আর একটা বললুম সে বললে এ-ও আমি জানি।'

সকালবেলা গল্প করে কাটল। দুপুরবেলা ডাক্তার এলেন। হাতুড়ে ডাক্তার, কলকাতার কোন এক স্বদেশী ডাক্তারি কলেজে বছর ছয়েক পড়ে পাঁচটি অক্ষর উপাধি পেয়েছিল। কিন্তু ললিতার যে রোগ, তা ধরবার জন্য দিগগজ ডাক্তার না এলেও চলে। ডাক্তার রোগী পরীক্ষা করে দুটি টাকা নিয়ে আমায় আলাদা ডেকে নিয়ে গিয়ে বললে রাজযক্ষ্মা হয়েছে, দুটো ফুসফুসেই আর কিছু নেই। যে কোন মুহূর্তেই মৃত্যু হতে পারে।

বিকেলবেলায় ললিতার খাটের পাশে বসে আছি। অস্তোন্মুখ রবির একটা টুকরো ম্লান-রশ্মি খোলা জানালা দিয়ে বিছানার ধারে এসে পড়েছিল। ললিতা অনেকক্ষণ সেই আলোটুকুর দিকে চেয়ে চেয়ে বললে,—'সন্ন্যাসী, ডাক্তার কি বলে গেল, আমি আর বাঁচব না?'

আমি বললুম,—'সে কি! কে বললে তোমাকে। ডাক্তার বললে তুমি শিগগির সেরে উঠবে। ও সব কথা ভাবে না লক্ষ্মীটি।'

আমার কথা শুনে ললিতার শীর্ণ মুখ খুশিতে ভরে উঠল। সে বললে,—'না না, সন্ন্যাসী আমি ত সে কথা ভাবি না। আমি দিন-রাত বাঁচবার কথাই ভাবি। শুধু ভাবি, কবে ভালো হয়ে উঠব। এখন আমি মরতে চাই না। আমার এই উনিশ বছর বয়স, এই বয়সে কি মরতে ইচ্ছে হয়? আমার অনেক আশা আছে, অনেক।'

এই অবধি বলে সে ভয়ানক হাঁপাতে লাগল। পাছে আবার সেই প্রসঙ্গ উঠে এই ভয়ে তাকে বললুম—'ললিতা, গল্প শুনবে?'

ললিতা একটু হেসে বললে, 'না, গল্প নয়। ওই তাকের উপরে কবিতার বই আছে, নিয়ে এসে আমায় শোনাও না।'

তাকের ওপর সারি সারি ইংরাজি, বাঙলা কবিতার বই সাজান ছিল। একখানা বাঙলা বই নিয়ে এসে বললুম, 'কোনটা পড়ব?'

ললিতা বললে, 'যেটা ইচ্ছে পড়।'

আমি পড়তে লাগলুম আর ললিতা চোখ বুজিয়ে রইল। একটার পর একটা পড়ে যাই, তার আর ক্লান্তি নেই। ঝি এসে আলো দিয়ে গেল, মা এসে কাছে বসলেন, অমিতা এসে খাইয়ে গেল, মা কার্যে গেলেন, পড়ার আর বিরাম নেই। একবার সে ঘুমিয়ে পড়েছে মনে করে আমি পড়া বন্ধ করলুম, কিন্তু তখনই সে চোখ চেয়ে বলে—'কই, পড়ছ না?'

আবার পড়তে শুরু করা গেল। একবার ললিতার দিকে চেয়ে দেখলুম, তার দুই চোখ দিয়ে অনর্গল অশ্রু গড়িয়ে পড়ছে।

তার সেই অবস্থায় মনের উপর কোনও চাপ পড়া উচিত নয় ভেবে পড়া বন্ধ করলুম। ললিতা তখনই চোখ চেয়ে বললে—'থামলে যে?'

আমি বললুম—'আজ এই অবধি থাক, আবার কাল হবে। কি বল?'

ললিতা বললে—'আচ্ছা।'

তাকে বইখানা রেখে এসে তার কাছে বসা মাত্র সে বললে, 'সন্ন্যাসী, তুমি বড় ভাল। বড় সুন্দর পড়তে পার তুমি। আমার বাবাও খুব সুন্দর পড়তে পারতেন। আমাতে আর বাবাতে বই হাতে করে চলে যেতুম সেই নদীর ধারে, কখনও বা ওই মাঠটা পেরিয়ে সেই বটগাছের নীচে সমস্ত দিন আমরা সেখানে বসে বসে কবিতা পড়তুম। এই ভাদ্রমাসে আমরা ভাই-বোনে মাঠে-ঘাটে কত খেলাই করেছি। আজ প্রায় ছ'মাস হল বাড়ি থেকে বেরুইনি, প্রাণটা আমার হাঁপিয়ে উঠছে। কতদিনে আমি ভালো হয়ে উঠব, বলতে পার সন্ন্যাসী?'

ললিতার মাথায় হাত বুলিয়ে দিতে-দিতে বললুম, 'তুমি শিগগির সেরে উঠবে। সেরে উঠলে আবার আমরা তেমনিই খেলতে যাব। তোমার শরীরটা একটু ভালো হোক।'

আমার কথা শুনে সে সন্দিগ্ধভাবে আমার মুখের দিকে কিছুক্ষণ চেয়ে থেকে কি বলতে যাচ্ছিল, কিন্তু তাকে বাধা দিয়ে বললুম, 'তুমি ঘুমোও, তা না হলে আবার অসুখ বাড়বে।'

ললিতা আর কিছু না বলে চোখ বুজিয়ে ফেললে।

সে রাত্রিতে ললিতার অসুখ ভয়ানক বেড়ে উঠল। রাত্রি বারোটা কি একটার সময় সে কাসতে আরম্ভ করলে। কিছুপরেই তার মুখ দিয়ে ঝলকে ঝলকে রক্ত উঠতে লাগল। আমি ছুটে গিয়ে তার মাকে খবর দিলুম। ললিতার মা আর বোন অমিতা এসে আর্তের পাশে দাঁড়াল। যন্ত্রণায় সে ছটফট করতে লাগল। বাতাস করতে করতে একটু যদি যন্ত্রণা কমে ত অমনই কাসি শুরু হয়, তার পরেই দু-ঝলক লাল টকটকে রক্ত। একটুখানি নিশ্বাস নেবার জন্য সে কি চেষ্টা। শতছিদ্র ফুসফুসের সে কি ভীষণ যন্ত্রণা, তা যক্ষারোগীকে যে না দেখেছে, সে বুঝতে পারবে না। আমার মনে হতে লাগল, আজ রাত্রিতে বোধহয় শেষ। কিন্তু মানুষের প্রাণ পৃথিবীর সমস্ত পাওনা চুকিয়ে না দিয়ে তো মুক্তি পায় না। সারারাত্রি সেই যন্ত্রণা সহ্য করে শেষরাত্রির দিক ললিতা যেন ঝিমিয়ে পড়ল। আমরা তিন জনে সারারাত তার বিছানার পাশে বসে বসে কাটালুম।

ললিতাদের গ্রামের ধার দিয়েই গঙ্গা বয়ে গিয়েছে। আমি রোজ নদীতে গিয়ে স্নান করতুম। সকালবেলা একটুখানি ঘুমিয়ে স্নান সেরে এসে দেখি, ললিতা জেগেছে আর প্রফুল্লভাবেই তার ভাই-বোনদের সঙ্গে গল্প করছে। একটি ভাই আদর করে তার দিদির পায়ে হাত বুলিয়ে দিচ্ছে। আমি ঘরে ঢুকতেই ললিতা আমায় জিজ্ঞাসা করলে—'সন্ন্যাসী, তুমি স্নান করতে গিয়েছিলে বুঝি?'

'হ্যাঁ।'

'এখন গঙ্গার দু-কূল ভরে উঠেছে না?'

'হ্যাঁ।'

'আচ্ছা, সন্ন্যাসী, গঙ্গার ধারে ওই যে বড় গাছটা সেটা দেখেছ?'

'হ্যাঁ।'

'তারই একটা মোটা শিকড় মাটি থেকে ধনুকের মতো হয়ে উঠে আবার মাটির মধ্যে গিয়েছে, সেটা দেখেছ?'

'কই, তা তো দেখিনি!'

'তাহলে সেটা জলে ডুবে গিয়েছে। আর কতদিনে সে গঙ্গার আবার সেই রূপ দেখতে পাব!'

ললিতা তার ক্লান্ত চোখ দুটো বন্ধ করলে। কিছুক্ষণ পরে ললিতার মা, অমিতা ও তার ছোট ভাইদুটিকে খাবার জন্য ডেকে নিয়ে গেলেন।

ভাই-বোনেরা চলে যাবার পর ললিতা চোখ মেলে আমায় বললে—'সন্ন্যাসী, এই সময় মাঠে খুব কাশফুল হয়। আমার জন্য কাল এক গোছা তুলে আনবে?'

আমি বললুম,—'কাল কেন, আজই বিকেলে তোমার জন্য কাশ নিয়ে আসব। মাঠে অনেক কাশ দেখেছি।'

ললিতা এতক্ষণ বেশ হাসিমুখেই কথা কচ্ছিল, হঠাৎ তার চক্ষু দুটি সজল হয়ে উঠল। অনেকক্ষণ নির্বাক হয়ে আমার মুখের দিকে চেয়ে থেকে সে বললে—'সন্ন্যাসী, আমার যেন মনে হচ্ছে, মাঠভরা কাশের সেই শোভা, বর্ষার গঙ্গার সেই আপনভোলা উদ্দাম স্রোত, শরতের সকালে এই মিষ্টি এই শেষ সব শেষ। আর দেখতে পাব না।'

ললিতার কণ্ঠে এমন একটা অসহায় ও উদাস সুর বাজতে লাগল যে, চোখের জল সংবরণ করা আমার পক্ষে অসম্ভব হয়ে উঠতে লাগল। কিন্তু তখনও সন্ন্যাসীর অভিমান আমার যায়নি। নিজের মনকে ধমক দিতে লাগলুম—ছি, এত কোমল তুমি!

ললিতাকে বললুম—'ললিতা, ও সব কথা ভেবে নিজের অসুখ বাড়িয়ে কেন আমাদের দু:খ দিচ্ছ? তুমি ঘুমোবার চেষ্টা করো।'

ললিতা আবার আমার মুখের দিকে তাকালে। সেই সজল দৃষ্টিতে। এবার সে বললে—'সন্ন্যাসী, আমার জন্য তোমার দু:খ হয়? আমি যদি মরে যাই—আমার কথা কি তোমার মনে থাকবে? আমি মরে গেলে তুমিও এখান থেকে চলে যাবে। তারপর তুমি কত দেশে ঘুরবে, কত লোকের সঙ্গে পরিচয় হবে, তারই মধ্যে সজনে, নির্জনে পাড়া-গাঁয়ের এই ললিতার কথা—যার সঙ্গে দুদিনের জন্য তোমার ভাব হয়েছিল, তার কথা কি মনে থাকবে?'

আমার কণ্ঠ শুকিয়ে এসেছিল। কোনও রকমে গলাটি পরিষ্কার করে নিয়ে বললুম, 'থাকবে, ললিতা। তোমাকে কখনও ভুলব না।'

ললিতা যেন একটা আশ্বাসের নিশ্বাস ফেলে বললে—'আ সন্ন্যাসী, তুমি বড় ভাল মানুষ।'

ললিতাকে ঘুম পাড়িয়ে রেখে তার মাকে নির্জনে ডেকে বললুম,—'ললিতার অবস্থা ভাল নয়, বোধহয় দু-এক দিনের বেশি বাঁচবে না।'

কথাটা শুনে তিনি চমকে উঠলেন। সন্তানের মৃত্যু-সম্ভাবনার সংবাদে মায়ের সে চমকানি—তার বর্ণনা করার ভাষা আমি জানি না। তিনি কোনও কথা না বলে নীরবে কাঁদতে লাগলেন। সদ্যবিধবা সেই নারীকে সান্ত্বনা দেবার মত ভাষা আমার যোগাল না। বসে-বসে ভাবতে লাগলুম, মৃত্যু এ সংসারে নিত্য-নৈমিত্তিক ঘটনা কিন্তু ধরণীর এই অতি পুরাতন অতিথি প্রতি গৃহে প্রতিবারেই দেখা দেয়। সকলেই জানে, এর কোনও প্রতিকার নাই, তবুও তারা শোকে কাতর হয়, সকলেই জানে, সান্ত্বনার কোনও মূল্য নাই, তবুও সান্ত্বনার ভাষা খুঁজে মরে। ললিতার মার অশ্রু দেখে আমিও দু-চারটে সান্ত্বনার গৎ আওড়াতে লাগলুম। কিন্তু ছেলেরা সেখানে এসে পড়ায় তাড়াতাড়ি সেখান থেকে সরে গেলুম।

বিকেলবেলায় অমিতা ও তার ভাইদুটিকে নিয়ে মাঠ থেকে কয়েক গোছা কাশফুল তুলে নিয়ে এলুম। বেলা পড়ার সঙ্গে সঙ্গে ললিতা কীরকম বিষণ্ণ হয়ে পড়েছিল। ফুলগুলো দেখে তার মুখে আবার ম্লান হাসি ফুটে উঠল। সে একটি গোছা ফুল নিয়ে নিজের মুখের উপর বুলোতে আরম্ভ করলে।

সেদিন সন্ধ্যার দিকে ললিতা ঘুমিয়ে পড়েছিল—ঘুম ভাঙল একেবারে রাত্রি বারোটা কি একটায়। এর মধ্যে তাকে একবার জাগিয়ে খাওয়ানো হয়েছিল। আমি তার পাশে বসেছিলুম, সে আমার একখানা হাত ধরে বলে—'সন্ন্যাসী, ঠিক করে বল তো, আমি বাঁচব কি না? দেখ, আমার কাছে গোপন করো না। যদি আমি আর না বাঁচি, তা হলে তোমায় একটা কথা বলে যাব। সে কথা তোমাকে বলবার আগে আমি মরে গেলে আমার ক্ষোভের আর সীমা থাকবে না। সে দু:খ তুমি বুঝতে পারবে না। বল বল, আমি কি আর বাঁচব না?'

ললিতার সে অনুরোধ উপেক্ষা করা আমার পক্ষে সম্ভব হল না। বলে ফেললুম—'তোমার অবস্থা খুবই খারাপ, যে কোনও মুহূর্তে মৃত্যু হতে পারে।'

আমার কথা শুনে সে একটা আক্ষেপের নিশ্বাস ফেলে বললে—'বড় উপকার করলে তুমি আমার। এ কথাটা আমায় না বললে মরেও আমি শান্তি পেতুম না। শুনবে সে কথা?'

'বল, শুনি।'

'আমি তোমায় ভালোবাসি।'

'অ্যাঁ!' আমার সন্দেহ হল যে, বিকারের ঝোঁকে সে বুঝি ভুল বকছে। তার মাথায় হাত বুলিয়ে দিতে দিতে বললুম—'ললিতা, ঘুমোও তুমি। বেশি কথা কইলে—'

ললিতা আমার কথা গ্রাহ্য না করে বলে যেতে লাগল—'দেখ সন্ন্যাসী, জীবনে আমার সব সাধই মিটেছে, কিন্তু আমি কখনও কারুকে ভালোবাসিনি। আমার বুকে ভালোবাসার যে সম্পুটখানি আছে, ধনী যেমন যত্ন করে নিজের বুকের মধ্যে মহামূল্য রত্নকে আগলে রাখে, আমিও তেমনই আমার কুমারী ধর্ম দিয়ে আমার সেই ভালবাসাটিকে আগলে রেখেছিলুম—আমার স্বামীর হাতে অক্ষুণ্ণ সেই পাত্রটিকে তুলে দেবার জন্য। আজ আর সময় নেই, আমি তোমার হাতে সে রত্ন তুলে দিচ্ছি। সন্ন্যাসী, শোনো আমি তোমায় ভালোবাসি।'

আমার মনের অবস্থাটা একবার কল্পনা করে দেখ। বাকপটুতার জন্য তো তোমাদের কাছে কত প্রশংসাই না পেয়েছি। কিন্তু সেই মুমূর্ষু দুদিনের পরিচিতার প্রেম গ্রহণ করার মতো ভাষা আমি খুঁজে পেলুম না। স্তম্ভিত হয়ে তার পাশে বসে রইলুম।

ললিতা আবার বলতে আরম্ভ করলে—'সন্ন্যাসী, এদিকে ফের, আমার দিকে চাও।'

আমি তার দিকে চাইলুম। সে বললে, 'তুমি? তুমি আমায় ভালোবাস?'

আমি কি বলব। তাকে ভালোবাসার কোনও কল্পনা তখনও পর্যন্ত স্বপ্নেও আমার মনের মধ্যে উঁকি দেয়নি। কিন্তু তার জীবন-মরণের মাঝে এই ক্ষীণ ব্যবধানটুকু প্রত্যাখ্যানের লজ্জা-আর দু:খে ভরিয়ে দেবার মতো সত্যনিষ্ঠা আমার নেই। বলে ফেললুম—'বাসি ললিতা, বাসি। তুমি কি বুঝতে পার না?'

বলেই মনে হল, মিথ্যা কথা বলতে শেখা আমার সার্থক হয়েছে। মিথ্যার অতখানি সদ্ব্যবহার করবার অবসর বোধহয়, জীবনে আর পাব না।

ললিতা আমার কথা শুনে বললে,—'বুঝতে পারি। সেই জন্যই তো তোমাকে ভালোবেসেছি।'

আমি বললুম, 'ললিতা, গত জন্মে তোমার সঙ্গে নিশ্চয় আমার কোন ঘনিষ্ঠ সম্বন্ধ ছিল। সে-বার বোধহয়, আমি তোমাকে এমনি করে ফাঁকি দিয়েছিলুম, এ জন্মে তুমি আমায় ফাঁকি দিলে।'

ললিতা একটু হেসে বললে, 'শোধবোধ হয়ে গেল। এবার যখন মিশব, তখন আর ছাড়াছাড়ি হবে না। যাবার আগে—'

ললিতা আর বলতে পারলে না। আমি নীচু হয়ে তার জ্বরতপ্ত অধরে তার কুমারীজীবনে প্রথম প্রেমের চুম্বন এঁকে দিলুম।

ললিতা জিজ্ঞাসা করলে—'তোমার নাম কি সন্ন্যাসী?'

আশ্চর্য। এতদিন সে আমার নাম পর্যন্ত জিজ্ঞাসা করেনি। আমাকে সন্ন্যাসী বলেই ডাকত। আমি বললুম—'আমার নাম দীনবন্ধু।'

সে বললে, 'না না, ও নাম ভালো না। ও আবার কি নাম।'

বললুম, 'তা হলে তুমি আমার একটি নাম দাও।'

ললিতা আবার সেই ম্লান হাসি হেসে বললে—'সেই বেশ, তোমার নাম তরুণ! কেমন?'

আমার হাসি পেল, 'বললুম, তোমার যে নাম ইচ্ছা, সেই নাম ধরেই আমায় ডেকো।'

সে বললে, 'দূর, তোমার নাম বুঝি আমায় ধরতে আছে?'

একটু চুপ করে সে আবার বললে—'ওগো, তোমার পায়ের ধুলো আমার মাথায় একটু দাও না।'

তাই আমি দিলুম। একটু হাঁপিয়ে গিয়ে সে বললে—'ওগো আর একবার—ওগো আর একবার।'

আবার তার তৃষিত অধর চুম্বনে ভরিয়ে দিতে হল। চুমুতে তার যেন সাধ মিটছিল না। সে আমার হাত একখানা চেপে ধরে রইল। সেই অবস্থাতে আমাদের প্রথম প্রেমের বাসর রাত্রি অবসান হল।

পরদিন সন্ধ্যার সময় ললিতা ইহলোক থেকে বিদায় নিলে।

দীনবন্ধুর কাহিনি শুনিয়া আমরা নীরব রহিলাম। মহেন্দ্র দাদা জিজ্ঞাসা করিল—'গেরুয়া ছাড়লে কোথায়?'

দীনবন্ধু বলিল, 'শ্মশানঘাটে স্নান করে নতুন কাপড় পরবার সময় গঙ্গার জলে গেরুয়া ভাসিয়ে দিয়ে এসেছি।'

সকল অধ্যায়
১.
স্ত্রীর পত্র
২.
অবনীভূষণের সাধনা ও সিদ্ধি
৩.
রসময়ীর রসিকতা
৪.
মহেশ
৫.
ভরতের ঝুমঝুমি
৬.
ঝড়
৭.
কলঙ্কিত সম্পর্ক
৮.
কবির মেয়ে
৯.
এপার গঙ্গা ওপার গঙ্গা
১০.
পথের কাঁটা
১১.
শহুরে
১২.
পুঁইমাচা
১৩.
প্রতিহিংসা
১৪.
বেদেনী
১৫.
আঙটি
১৬.
কসাই
১৭.
অতি সাধারণ ঘটনা
১৮.
রাজা
১৯.
বদলি মঞ্জুর
২০.
প্রেমের বি-চিত্র গতি
২১.
হ্যাংম্যান
২২.
নিবারণের মৃত্যু
২৩.
রুদ্রের আবির্ভাব
২৪.
তেলেনাপোতা আবিষ্কার
২৫.
নেড়ে
২৬.
দুকান কাটা
২৭.
তৃতীয় রিপু
২৮.
বৈয়াকরণ
২৯.
অতসী মামি
৩০.
পোস্টার
৩১.
ফেরিওলা
৩২.
জ্যোতিষী
৩৩.
পাশের বাড়ির মেয়ে
৩৪.
ফসিল
৩৫.
আদিম
৩৬.
আজ কোথায় যাবেন
৩৭.
ঘরন্তী
৩৮.
নিম অন্নপূর্ণা
৩৯.
বাঈজী
৪০.
রস
৪১.
টোপ
৪২.
ইঁদুর
৪৩.
বাঁদী
৪৪.
সুখ
৪৫.
পিকুর ডাইরি
৪৬.
ভারতবর্ষ
৪৭.
সাগিনা মাহাতো
৪৮.
আদাব
৪৯.
চোলি কা পিছে
৫০.
রানীরঘাটের বৃত্তান্ত
৫১.
ঘরবাড়ি
৫২.
নিশীথে সুকুমার
৫৩.
অশ্বমেধের ঘোড়া
৫৪.
রাজা যায় রাজা আসে
৫৫.
গরম ভাত অথবা নিছক ভূতের গল্প
৫৬.
রাজার টুপি
৫৭.
খানাতল্লাস
৫৮.
শ্বেতপাথরের টেবিল
৫৯.
উদ্বাস্তু
৬০.
মঁসিয়ে হুলোর হলিডে
৬১.
আত্মজা
৬২.
বড় পাপ হে

নোট নিতে এবং টেক্সট হাইলাইট করতে লগইন করুন

লগইন
০%