তৃতীয় রিপু

সমরেশ মজুমদার

বাড়ীর কাছাকাছি প্রায় এসে পড়েছি, এমন সময় মুষলধারে বৃষ্টি এলো। এই বিঘা দুই ফাঁকা জমিটুকুর ভিতর দিয়ে পেরিয়ে যেতে পারলেই বড় রাস্তায় পড়তুম। কিন্তু বৃষ্টি নামলো।

ছোট মেয়েটার জন্য ওষুধ আনতে গিয়েছিলুম ডাক্তারখানায়; ফিরে গিয়ে আবার আপিস বেরোতে হবে। কিন্তু এ জামা কাপড় ভিজলে আজকে আপিস যাওয়া আর চলবে না। দ্বিতীয় ধোবদস্ত কাপড় পেতে গেলে ধোবার বাড়ি ছুটতে হবে।

শ্রাবণ মাসের বৃষ্টি,—দিনচারেক রোদের পর আবার আকাশ ভেঙ্গেছে। একি থামবে সহজে? বেলা ন'টা বাজতে চললো। একটু মুশকিলে পড়েই মাঠের এই নড়বড়ে চালাটার তলায় ঢুকে আশ্রয় নিলুম।

এই মাঠটুকু নিয়ে পাড়ায়-পাড়ায় কত রকমের কথা ঘুরে বেড়ায়। কেউ বলে, নাবালকের সম্পত্তি; কেউ বলে, এর জমিদার থাকে খিদিরপুরের ওদিকে—তাদের বংশে বাতি দেবার নাকি কেউ নেই। কেউ বা বলে, এখানে আজ বিশ বছর ধরে বারোয়ারী পুজো আর যাত্রা থিয়েটার হচ্ছে—এ এখন জনসাধারণের সম্পত্তি, এর ওপর এখন পাড়ার সকলেরই অধিকার। আসল কথা, এই জমিটুকুর ওপর লোভ আছে বহু লোকের। দ্বিতীয় মহাযুদ্ধের আমলের সস্তা টাকা আছে অনেকের হাতে,—কোনমতে এই দুই বিঘা দখল করে নিতে পারলেই বাজিমাৎ। সেই কারণে এই জমিটুকু নিয়ে পাড়ায় পাড়ায় চক্রান্তের আর অবধি নেই। যে ব্যক্তি সর্বাগ্রে গ্রাস করবে তারই পোয়াবারো।

বৃষ্টির ঝাপ্টা আসছে প্রবল বেগে; দু'পা পিছিয়ে চালা ঘরখানার দরজায় উঠে দাঁড়াতেই হল। কিন্তু হঠাৎ আশপাশের বিশ্রী দুগর্ন্ধে সজাগ হয়ে এদিক ওদিক তাকালুম। এটি ঠিক চালাঘর নয়, কোন এককালের এক মাটকোঠারই ভগ্নাবশেষ। পাশেই কাজ করছে একজন ছুতোর মিস্ত্রি। দুটো গরু এসে কখন যেন আশ্রয় নিয়েছে ওধারে। এপাশে একটি হাঁড়ি-কলসীর দোকানের পিছন দিক। বুঝতে পারা যাচ্ছে এ ঘরখানা ভেঙে চুরে দাঁড়িয়ে আছে। ওপাশে থাকে এক ঝাড়ুদার পরিবার; তারই গায়ে-গায়ে বসবাস করে বাজারের এক ফড়ে,—ছাগলের মাংস বিক্রি করে। অনেককাল ধরেই দেখে আসছি এই চালাঘর এমনি ভাবেই কাৎ হয়ে আছে,—মাঝে মাঝে বদলায় শুধু এর বারান্দা।

ছুতোর মিস্ত্রি আমার জড়োসড়ো অবস্থা লক্ষ্য করে ওধার থেকে বলে উঠল, ভেতরে উঠে এসে দাঁড়ান না বাবু, বড্ড ছাট আসছে।

উঠে এসে হাসিমুখে বললুম, তুমিই না আমাদের বাড়িতে গিয়ে সেবার তক্তাখানা মেরামত করেছিলে?

আজ্ঞে হ্যাঁ, আমারই নাম সন্তোষ। দেখবেন, বুড়ি শুয়ে আছে আপনার পায়ের কাছে। হোঁচট খাবেন না।

এমনি বেঁহুস আমি, লক্ষ্যই করিনি এতক্ষণ। মনে করেছিলুম জঞ্জালের স্তূপ! ছেঁড়া কাঁথা,খড়ের আটি,ভাঙ্গা টিনের কানেস্তারা, ইঁট কাঠ আর ঝুরো মাটির রাশীকৃত জটলা, এ ছাড়া এ ঘরে বুঝি আর কিছু নেই। সহসা ঠাহর করে দেখি, সত্যি প্রায় পায়ের কাছে আপাদমস্তক নোংরা কাঁথা আর খড় চাপা দিয়ে পড়ে আছে একজন, তার সাড়াশব্দ নেই। একটু আড়ষ্ট হয়ে দরজা ঘেঁষে দাঁড়ালুম। মুষলধারে বৃষ্টি চলছে।

জল নামছে গোলপাতার বড় বড় ছিদ্র দিয়ে। কোথায় যেন বিড়ালের বাচ্চারা ডাকছে। গরু দাঁড়িয়ে আছে স্তব্ধ হয়ে। বৃষ্টির অত ছাট সত্বেও সন্তোষ তার র্যাঁদা চালাচ্ছে।

এমন সময় আবার এক নেড়িকুকুর উঠে সোজা ভিতরে ঢুকে কান ও গা ঝাড়া দিল। বাইরে পা বাড়াবার উপায় নেই, এত বৃষ্টি। ভিতরে দুনিয়ার নোংরা, তাদের সঙ্গে বীভৎস দুর্গন্ধ জড়ানো। অত্যন্ত বিপন্ন অবস্থায় কেবলমাত্র জামা কাপড় বাঁচাবার জন্যেই ভিতরে দাঁড়িয়ে থাকতে বাধ্য হলুম।

ছাতা নিয়ে বেরোতে হয়, বাবু—বর্ষা বাদলের দিন।—সন্তোষ আবার নিজের মনেই কাজ করতে লাগল।

কুকুরটা একটু বদ-খেয়ালি। কাঁথার উপর শুঁকতে শুকতে হঠাৎ একবার নাক ঝাড়া দিল। কিন্তু সেই শব্দে কাঁথার স্তূপ এবার নড়ে উঠল। ভিতর থেকে কি যেন একটা গালমন্দ দিয়ে বুড়ি এবার মুখের উপর থেকে কাঁথা সরালো। এদিক ওদিক তাকিয়ে আমারই দিকে তাঁর নজর পড়ল বটে, তবে কুকুরটা সেখান থেকে সরে গিয়ে অদূরে বসল। আমি নিজে কুণ্ঠিত হয়ে দাঁড়িয়ে রইলুম। মেঝের উপর পুঁটলী পাকিয়ে ওই নোংরা কাঁথার মধ্যে বুড়ি কুণ্ডলী পাকিয়ে রয়েছে। বয়স সত্তর বছরের কম নয়।

সন্তোষ আবার ওধার থেকে বলল, দেখবেন বাবু, ওর কাঁথা যেন ছোঁবেন না, বড্ড নোংরা।

আরেকটু সরেই আমি দাঁড়ালুম। রুমাল চাপা দিলুম নাকে।

বুড়ি এবার একটু ক্ষীণ কন্ঠে বললে, দরজাটা বন্ধ করো না বাছা, জল আসছে যে। ইটের ঠেকোটা দিয়ে দাও—

দেখতে পাচ্ছি দরজা বন্ধ করলে দম আটকে আসবে। কিন্তু বুড়ির অনুরোধ আধাআধি পালন করতে হল। আকাশ আজ ভেঙ্গে পড়েছে, পা বাড়াবার কোনও উপায় নেই।

সন্তোষ বললে, ওই দেখুন, অমনি করে পড়ে আছে এক হপ্তা। কাল আবার আমানি খেলে। বারণ করলুম, শুনলে না,...আজ আবার বাড়াবাড়ি।

বললুম, কি হয়েছে। ওর?

সন্তোষ কি যেন জবাব দিতে যাচ্ছিল, কাঁথার ভিতর থেকে ফোঁস করে উঠলো বুড়ি, —থাম তুই হারামজাদা—তোর আর তর সইছে না। ছাই দেবো তোর মুখে। নচ্ছার।

সন্তোষ একবার মুখ ফিরিয়ে তাকালো আমার দিকে। তারপর নিজের কাজে মনোযোগ দিয়ে বললে, দেখছেন বাবু,—জাত সাপের ছোবল, বিষ একবার দেখুন। প্রায় সত্তর বছর হতে চললো ওই ছোবল মারছে সবাইকে।

ভিতরে একটা বিসদৃশ কাণ্ড না বেধে ওঠে,—আমি যেন সন্তোষের কথায় একটু আড়ষ্ট বোধ করলুম। কিন্তু বুড়ি গ্রাহ্যও করলো না,—চুপ করে রইল নিজের মনে। সম্ভবত বুড়ি এখানে-ওখানে ভিক্ষে করে খায় সেজন্য সে কারোকে বেশি রকম চটাতে চায় না। কিন্তু বুড়ির মুখের চেহারা দেখে মনে হওয়া স্বাভাবিক যে, এ জীবনে ধিক্কার সয়েছে সে অনেক। সমস্ত ধিক্কার এবং অসম্মানকে শুধু যে গায়ে মাখেনি তাই নয়, সন্তোষের মতো ব্যক্তিকে সে মানুষ বলেও মনে করেনি।

বৃষ্টি যেন আবার নতুন করে ঝাঁপিয়ে এলো। গোল পাতার ভিতর দিয়ে জল নামছে চালার মধ্যে। গরু দাঁড়িয়ে কি যেন অশ্রান্ত চিবোচ্ছে, কুকুরটা গিয়ে এক পাশে গা এলিয়েছে—কিন্তু মাঝে মাঝে মুখ তুলে দেখছে বিড়াল বাচ্চাগুলোর দিকে। র্যাঁদা চালাচ্ছে সন্তোষ অবিশ্রান্ত। হাঁড়ি কলসীর দোকানের ভিতরে বসে কে যেন বর্ষা উপলক্ষে বোম্বাই সিনেমার বিরহ সঙ্গীত ধরেছে। আমি দাঁড়িয়ে রইলুম কাঠ হয়ে—নাকে রুমাল চাপা দিয়ে। এমন বিব্রত কোনদিন বোধ করিনি।

এমন সময় বুড়ি ক্ষীণ কণ্ঠে আমাকে ডাকলো। কাছে সরে এলুম। একটুখানি ঝুঁকে তার দিকে চেয়ে বললুম, কি বলছ?

এই কলায়ের বাটিটায় একটু জল ধরে দাও দিকি, বাবা।

বললুম, খাবার জল চাও বুঝি?

হ্যাঁ হ্যাঁ খাবার জল, দাওনা একটু।

এদিক ওদিক তাকিয়ে বললুম খাবার জল ত এখানে কোথাও দেখছিনে, বাছা?

ও মা, কি বুদ্ধি তোমার! চারদিকে এত জল, আর একটু খাবার জল দিতে পারছ না? আক্কেল নেই ঘটে? তুলে নে যাওনা বাটিটা, চালার নীচে ধরো,—ওই তো হুড় হুড় করে জল পড়ছে।

বুড়ি যে এই নোংরা চাল ধোওয়া বৃষ্টির জলই খেতে চায়, এটা ঠিক আগে বুঝতে পারিনি। কিন্তু নিজের হাতে করে এ জল কেমন করে দেবো, এ কথাটা তলিয়ে ভাববার আগেই বাটিটা নিয়ে দরজার বাইরে ধরলাম। পাঁচ সেকেন্ডে বাটি ভরে গেল। বাটি নিয়ে বুড়ির সামনে দিলুম। বুড়ি পরিতুষ্ট হয়ে, শুয়ে শুয়ে সেই জল পান করল। অবাক হয়ে গেলুম।

বুড়ি বললে, এ ভগবানের জল বাবা,—পেটের ব্যামোর এমন ওষুধ আর নেই। —হ্যাঁ বাবা, শোনো এক কথা বলি। চারটে পয়সা দাও দেখি,—এই চেয়ে নিচ্ছি বাবা, —না হয় ভিক্ষেই দিলে! সামান্য চারটে পয়সা!

আজকাল দুটো পয়সা পর্যন্ত কায়ক্লেশে ভিখারিকে দেওয়া যায়, চারটে পয়সা এক থোকে দিতে গেলে গায়ে একটু লাগে। কিন্তু পয়সাটা বার করার আগে বুড়ি খরতর দৃষ্টিতে আমাকে ইঙ্গিত করে বললে, এই আবাগের ব্যাটা যেন দেখেনা, চোখ টাটাবে। একটু লুকিয়ে দাও।

ঠিক তাই হল। র‌্যাদা থামিয়ে ঘাড় উঁচু করে ওধার থেকে সন্তোষ বললে, ও ভদ্দর লোকটাকে এবার বাগে পেয়েছ, না? পয়সা চাওয়া হচ্ছে চোখ টিপে? দেবেন না বাবু, একটি আদলাও দেবেন না, ওই শুকনির হাতে। মাগি বড় শয়তান।

বুড়ি চুপ।

সন্তোষের এবম্বিধ মন্তব্যে আমি একটু আহতই হলুম। সর্বপরিত্যক্তা বৃদ্ধা ভিখারিনী কাদামাটিতে মুখ থুবড়ে পড়ে রয়েছে,—এবং চেহারা দেখে মনে হচ্ছে হতভাগী তার অন্তিম শয্যাই পেতেছে। এর ওপর এই অপমান বর্বরতারই পরিচয়। একটু ক্ষুদ্ধ কণ্ঠেই বললুম, সন্তোষ এটা কি তোমার ভালো হচ্ছে, ভাই? যার বাঁচবার কোন আশা নেই, তাকে এমন করে মারছো কেন?

কথাটা শুনে সন্তোষ হঠাৎ হেসে উঠল। কিন্তু আমার এই সমবেদনার কথা শুনে জবাব দিল বুড়ি। একটু নড়ে উঠে রুগ্নকণ্ঠে বললে, তুমি কেমন মানুষ, বাছা? চারটে পয়সা চাইছি ব'লে গায়ে পড়ে আমার মরণ টাঁকতে এসেছ? এতক্ষণ ঘরে দাঁড়িয়ে মাথা বাঁচাচ্ছ, ঘরের ভাড়াও ত' আছে।

আমি একেবারে হতবুদ্ধি।

বুড়ি কিন্তু থামল না। ক্ষীণকণ্ঠে বলতে লাগল, দয়া চাইনি কারো। নিজের গায়-গতরের ওপরেই আছি। যাওনা বাছা বেরিয়ে, না-হয় বৃষ্টিতে ভিজলে খানিকটে।

এবার ছুটতে ছুটতে দুটো ছাগল কোথা থেকে যেন চালার মধ্যে উঠে এলো। গরুটা নির্বিকার, তেমনি জাবর কাটছে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে। বুড়ি আমাকে বেরিয়ে যেতে বললেও নড়তে পাচ্ছিনে, এমনি সাপটে বৃষ্টি চলছে। নিছক সহানুভূতি জানাতে গিয়ে এমন চপেটাঘাত খাওয়া কৌতুকজনক বৈকি।

কথাটা সন্তোষের কানে গিয়েছিল। হাসিমুখে সে বললে, দেখলেন ত' বাবু কুলোপানা চক্কর? আপনি ত' এ পাড়ায় এসেছেন দশ পনেরো বছর। ও মাগির দাপটে এ তল্লাটে চিরকাল থরহরি, ওকি আজকের শয়তান? এ পাড়ার তিন পুরুষকে ও মাগি জ্বালিয়ে খেয়েছে। ওর বয়সকালে বাঘে-গরুতে একসঙ্গে জল খেতো।

বুড়ি কাঁথার ভিতর থেকে খিঁচিয়ে উঠলো,—আ মর, হারামজাদা, দুটি চোখের মাথা খা। চাল নেই, চুলো নেই। আমি না থাকলে যেতিস কোথা? চুকলি কাটছিস যে নতুন লোক পেয়ে?

সন্তোষ আবার চুপ। গজকাঠি দিয়ে মনোযোগের সঙ্গে সে একখানা তক্তা মাপতে লাগলো, কোনও গালাগালির জবাব দিল না। আমার কিন্তু একটু খটকা লেগে রইলো। তাহলে ব্যাপারটা কি? চারটি পয়সা ভিক্ষে চাইলো, কিন্তু পরে বললে—ঘরভাড়া! তবে কি ঘরখানা এরই? কিন্তু সন্তোষের প্রতি যে মন্তব্যটা বুড়ি করে বসল—কই সন্তোষ তার কোন জবাব দিল না ত?'

গজকাঠি রেখে সন্তোষ এবার বললে, চোখ রাঙ্গাবার চেহারাটা দেখলেন? অথচ দেখুন, আমার ঘরে পান্তা রাখার জো নেই,—মাগির এমনি হাতটান। ওই দেখুন, সকাল থেকে দাঁত লেগে পড়েছিল, আপনার কাছে পয়সার গন্ধ পেয়েই চিতিয়ে উঠেছে।

বললাম, অসুস্থ হয়ে পড়েছিল বুঝি?

অসুস্থ!—সন্তোষ এবার দুপা এগিয়ে এল,—আজ ছ'দিন হতে চললো ওলাউঠোয় ভুগছে। বছরে তিনবার চারবার ওর ওলাউঠো হয়। গেল বছর বাঁশ বেঁধে ওকে যেই সবাই মিলে কাঁধে তুলবে, অমনি বেঁচে উঠল। বজ্জাতের হাড়, ওকি সহজে শ্মশানে যাবে। আশি বছর পেরিয়ে গেছে ওর।

আমি আর এদের কথার ফাঁদে পা দিচ্ছিনে, উচিত মতো শিক্ষা আমার হয়ে গেছে। হাসিমুখে বললুম, না না এসব কথা বলতে নেই—। প্রাচীন কালের মানুষ, যতদিন বাঁচে ততদিনই ভালো। সুখেরই কথা।

বুড়ি আমার কণ্ঠস্বর শুনে সন্দেহ করলো কিনা বুঝলেম না। কিন্তু এবার বিরক্ত হয়ে সে বললে, খুব ত' তখন থেকে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে চুকলি কাটছো,—চারটে পয়সা ফেলতে বুঝি হাত উঠলো না?

তাড়াতাড়ি চারটে পয়সা বার করে বুড়ির হাতের কাছে হেঁট হয়ে দিয়ে বললুম, যে যাই বলুক, বুড়ো মানুষের দু:খ সবাই বোঝে না! এ পয়সায় তুমি খাবার খেয়ো।

বিদ্যুৎ ঝলসিয়ে আকাশ পথে কোথায় যেন একটা সশব্দে বাজ পড়ল। দেখতে দেখতে নতুন ঝাপ্টা নিয়ে আবার প্রবল বর্ষণ নেমে এলো। সামনের জমি পেরিয়ে রাস্তার চারদিকে জল দাঁড়িয়ে গেছে। এতক্ষণে আমার বাড়ি পৌঁছে যাওয়া উচিত ছিল, কিন্তু এই জলপ্লাবনের মধ্যে যানবাহনাদির চলাচল যে বন্ধ হতে বাধ্য, এতে আর কোনও সন্দেহ নেই। মুশকিল এই, ধোপার বাড়ি থেকে আর এক প্রস্ত জামাকাপড় না আসা পর্যন্ত এই পোষাকেই আমাকে চালাতে হবে। সুতরাং এই জামাকাপড় সুদ্ধ পথে নামলে আজ আর কাল দুদিনই আপিস কামাই,—সে অসম্ভব।

পয়সা দিয়েও আমি ধারে দাঁড়িয়ে রইলুম। বুড়ি কিন্তু না দিলে ধন্যবাদ, না জানালো কৃতজ্ঞতা, এটা যেন নিজের প্রাপ্য হিসেবেই সে নিল। এ না দিয়ে যেন আমার নিস্তার ছিল না।

পরম স্ফুর্তিতে পুনরায় র‌্যাদা টানতে টানতে সন্তোষ বললে, পয়সা দিয়ে বুড়ি কি করবে জানেন? আর দু'ঘণ্টা পরেই গা ঝাড়া দিয়ে উঠবে, তারপর গড়িয়ে-গড়িয়ে যাবে তেলে ভাজা ফুলুরির দোকানে। এই ওলাউঠো তার ওপর ওই ফুলরি বাবু, দু:খের কথা বলবো কি, যা খেলে সবাই মরে, ও মাগি তাই খেয়ে বেঁচে ওঠে।

শোনো গুয়োটার কথা। বুড়ি খিটখিটিয়ে উঠলো আবার,—যাওনা বাছা নিজের কাজে, খামোকা দাঁড়িয়ে কেন চুকলি শুনছ? ও ড্যাকরার তিনপুরুষে কি জাতজন্মের ঠিক আছে? ও হল বাঁদরবাচ্চা।

ঘাড় তুলে সন্তোষ এবার হাসিমুখে জবাব দিল, বলি জাতজন্ম খেলে কে? তুই খাসনি?

বুড়ি বললে, ওই নাও! বলি বাপকে মানুষ করলে কে? বল না তোর ঠাকুমা পালিয়েছিল কার সঙ্গে? বলব তোর মায়ের কথা লোক-সমাজে?

এত বড় কলঙ্কের কাহিনি শুনেও সন্তোষ কিছুমাত্র ভ্রূক্ষেপ করল না। বোধকরি তার ছুতোরের কাজটা ছিল চুক্তিবদ্ধ, অন্যদিকে মনোযোগ দেবার সময় ছিল কম। সুতরাং তেমনি হাসিমুখেই ক্ষিপ্রহস্তে তার কাজ চলতে লাগল। কাজ করতে করতেই এক সময় সে বললে, বাবু, ওর কথায় চটবেন না। ভদ্দর লোকের সামনে ও মাগি মান, খাতির রাখতে জানে না।

বুড়ি গজগজিয়ে বললে, মান-খাতির। জবাব দে না কি দিবি?

সন্তোষ এবার একটা বিড়ি ধরালো। তারপর শান্তকণ্ঠে বললে, বুঝলেন বাবু, আমার ঠাকুরদাদাকে নিয়ে ওর মোট সাতটা মরদ ছিল; সব মিলিয়ে ওর ষোলটা ছেলেপুলে। আমার বাপ কিন্তু ওর পেটে হয়নি, সেই জন্যে আমি ওর দুচোখের বিষ।

সে সব ছেলেপুলেরা কোথায় এখন? ওর এই দুসময়ে তারা দেখেনা কেন? —আমার কণ্ঠে আবার সহানুভূতি ফুটল।

সন্তোষ বললে, তবেই হয়েছে? তাদের বেশি অর্ধেক মারাই গেছে বুড়ো হয়ে। নাতি-নাতনিরা ওর ভয়ে যে যার পালিয়েছে। কেউ কারো খোঁজ রাখে না —বড় ঘর কিনা।

বড় ঘর,—সন্দেহ কি? এবার বললুম, কিন্তু নাতি-নাতনিরা যদি যে-যার কাজ হাসিল করে ওকে ফেলে পালায়, তাহলে তাদের কেমন করে ভালো বলব সন্তোষ?

বুড়ি যেন চিতিয়ে উঠল একেবারে। বললে, এতক্ষণে কথার মতো কথা বলেছ, বাছা। একেই বলি মরদের ব্যাটা। ওই মাদির বাচ্চাটা যা বলছে, একটু বিশ্বাস করোনা, বাছা। শুয়োরে কি মানুষের কথা কইতে জানে?

কি ভাগ্য, বৃষ্টির শব্দে সবগুলি গালাগালের ভাষা সন্তোষের কানে পৌঁছলেও সে যে মারমুখী হয়ে ছুটে আসতো এমন মনে হয় না।

বিড়িতে টান দিয়ে সন্তোষ এবার হি হি করে হাসল। বললে, ওকে সবাই ঠকিয়ে পালাতে চায়, একথা শুনলে বুড়ি ভারি খুশি।

বুড়ি চুপ করে রইল।

সন্তোষ পুনরায় বললে, জিগ্যেস করুন দিকি, আমার বাপকে মিথ্যে ফৌজদুরি মামলায় ফেলে দেড় বচ্ছর জেল খাটিয়েছিল কেন? বাপের পা ভেঙে দিয়েছিল গুণ্ডো লাগিয়ে ওই মাগি, বুঝলেন বাবু?

বললুম, ছি সন্তোষ, ইনি তোমার গুরুজন, বারবার তুমি এভাবে গাল দিয়ো না।

গুরুজন! —বিড়িতে শেষ টান দিয়ে বিড়িটা ফেলে দিয়ে সন্তোষ বললে, তা সেকথা একশোবার। গুরুজন বৈকি। তবে কি জানেন বাবু, মন-মেজাজ ও মাগি ঠিক রাখতে দেয় না সব সময়ে। নৈলে দেখুন না কেন, পাঁচটা মরদকে ধরে ও বুড়ি কারবার করতো বটে, তবে আমার ঠাকুরদাকে নিয়েই শেষ পর্যন্ত ঘরে উঠল। বয়েসকালে ওর মনটা উঁচুদরের ছিল বৈকি। সেই জন্যেই ত ঠাকুমা বলে আজও ডাকি।

বুড়ি আবার তার কাঁথার তলায় চুপ করে রইলো।

প্রবল বর্ষণের ভিতর দিয়ে ছুটে মেয়ে-পুরুষ এবার ওদিকের দরজা দিয়ে ভিতরে উঠে এলো। বৌটাকে দেখেই চিনলুম, এ-পাড়ার মেথরানি, দুজনেরই হাতে দুটো সেই মার্কামারা বালতি। বালতি ধুয়ে এনেছে নর্দমার জলে।

ভিতরটা আমার পক্ষে এবার যেন অসহ্য হয়ে উঠছে। আন্দাজে বুঝতে পারি বেলা দশটা বাজে। বাড়ি ফিরবার জন্য ছটফট করছিলুম! গরুটা, ছাগল দুটো, কুকুরটা বাইরে বৃষ্টির জন্য সবাই নির্বিকার। শুধু ভিতরে এক আধটা ইঁদুরের আনাগোনার জন্য কুকুরটা মাঝে মাঝে ক্রুদ্ধ হয়ে উঠে আবার যেন গভীর নৈরাশ্যে ডুব দিচ্ছে।

আমার চাহনিতে বোধ করি নানাবিধ কৌতূহল ছিল; একসময় ওধার থেকে সন্তোষ বললে, গরু ছাগল কুকুর যা দেখছেন সবই ওই বুড়ির পোষা। কুকুরটা পাহারা দেয় রাত্তিরে। গরুটা দুধ দেয় দেড় সের, দুটো ছাগলেও প্রায় তিন পো। মেথর বৌ ভাড়া দেয় মাসে তিন টাকা।—জিজ্ঞেস করুন দিকি এত টাকা যায় কোথায়?

কথাটা শুনে একটু অবাক হলুম বৈকি। সমস্ত ধারণা এবং কল্পনা যেন ওলট-পালট হতে লাগলো! সন্তোষের মুখের দিকে শুধু চেয়ে রইলুম। না, এতটা বিশ্বাস করা বোধহয় সম্ভব নয়। কিন্তু আমার সঙ্গে চোখাচোখি হতেই সন্তোষ খুব এক চোট হেসে উঠলো। তারপর বললে, বুড়ি বাঁচবে না দেখছেন, কিন্তু আর পাঁচটাকে নিয়েই ও মরবে!

কেন!

আটটা ন'টা মামলা ঝুলছে ওর খতে। পাঁচ সাতটা উকীল মোক্তার ওর তাঁবেদার।—সন্তোষ মহাখুশি হয়ে বলতে লাগল, সাধে কি ওর পা ধরে পড়ে থাকি, বাবু? যদি মাগির একটু মন ফেরে, তাহলে আমাকে আর বাটালি করাত চালিয়ে মজুরি খাটতে হয় না,—পায়ের ওপর পা রেখে বসে খাবো চিরকাল!

কীরকম?

সন্তোষ বললে, কিছু জানেন না দেখছি আপনি। নয় ত' কি! পাড়ার লোক হয়েও কোন খোঁজ-খবর রাখেন না। ওই হাঁড়ি-কলসীর দোকানখানা দেখছেন ত?

হ্যাঁ—

ওর পাশে চৌধুরি কোম্পানির মনোহারীর দোকান?

রয়েছে ত'!

পানের দোকান ওর গায়ে?—এই তিনখানা দোকানের ভাড়া প্রায় একশো দশ টাকা। জিগ্যেস করুন দেখি বুড়ি অত টাকা কি করে? কোথায় জমিয়ে রাখে?

বলো কি সন্তোষ?

সন্তোষ একবার আড়চোখে বুড়ির কাঁথা-কুণ্ডলীর দিকে তাকিয়ে বললে, কিন্তু একটা পয়সা গলান দেখি মাগির হাতের ফাঁক দিয়ে? পারবেন না। ওর হাতের মধ্যে ভেল্কি। আমি অনেক তালাস করেছি বাবু, কিন্তু টাকা কোথায় রাখে কোন সন্ধান পাইনি।

বললুম, ওর যখন এত ভালো অবস্থা, অসুখের সময় ওকে হাসপাতালে দাওনা কেন?

হাসপাতাল। তবেই হয়েছে। কার ঘাড়ে কটা মাথা যে সেকথা তুলবে?

বুড়ি আবার নড়ে উঠেছে। আমি চুপ করে গেলুম। কিন্তু সন্তোষের যেন কোনদিকেই ভ্রূক্ষেপ নেই। সে আবার বলতে লাগল, খরচা করবে না, শুধু পুঁজি করবে—এই ওর চিরটাকাল। পাঁচটা গরিব দু:খীকেও ত' ডেকে-ডুকে খাওয়াতে পারে, তাও না। দুনিয়ার লোকের সঙ্গে ঝগড়া আর মামলাবাজি।

বুড়ি এবার আর থাকতে পারলো না। বললে, মামলাবাজি? তোর মায়ের সেই মরদটা আমাকে সেবার ফাঁদে ফেলে নি?

সন্তোষ এবার যেন একটু রেগে উঠল। বললে, সে ছিল ভদ্দরলোক, তোর মতো নচ্ছার নয়। তুই কি ছেড়েছিলি তাকে? তুইও ত' ঘুঘুর ফাঁদ দেখিয়েছিলি!

বললুম, কে সে লোকটা হে?

সন্তোষ বললে, সে ওই মান্নাপাড়ার সেজবাবু—খাঁটি ভদ্ররলোক। বুকের ছাতি ছিল এই, বাবু। দুহাতে খরচ করত।

তোমাদের কে হয়?

আমাদের কেউ নয়, তবে আমার মায়ের খুব আলাপী ছিল। এই ত' গেল বছর মারা গেছে। তার টাকাতেই আমরা মানুষ।

চুপ করে গেলুম। সন্তোষ বলতে লাগলো, তোর গুণ কে না জানে, চিরকাল একজনের পেছনে আরেকজনকে লেলিয়ে দিয়েছিস। দুজনে ঝগড়া বেধেছে, আর তুই ভেতরে ভেতরে কাজ গুছিয়েছিস! আমি বলছি বাবু আপনাকে, ওর ওই কাঁথার মধ্যে নোংরাও যত আছে, নোটের তাড়াও তত আছে।

বুড়ি বললে, মুখপোড়া আয় না—নোংরা ঘেঁটে টাকা বার কর? বুঝবো তুই কত বড় মাদির বাচ্চা।

সন্তোষ বললে, তবে তুই মরে গেলে আমি পাবো কি, বলত দেখি? চিরকাল যে আমাকে আশায়-আশায় রেখে দিলি,—কোথায় তোর টাকা-পয়সা? বলনা সত্যি করে, কেন এত টাকা পয়সা জমাচ্ছিস? তোর পুঁজি ত'মাথা ছাড়িয়ে উঠেছে! মাস-মাস তোর দুশো টাকা রোজগার।

এবার বুঝিবা। একটা বিশ্রী কাণ্ড বেধে ওঠে। বুড়ি এবার কাঁথাখানা সরিয়ে আস্তে আস্তে উঠে বসবার চেষ্টা করল। সেই প্রায়ান্ধকার ঘরের মধ্যে বুড়ির রুগ্ন বীভৎস মুখখানার ওপর দুটো চোখ দপ দপ করে উঠল। বললে, দে না, হাতের কাছে করাতখানা এগিয়ে দে, তোর মাথাটা কেটে নিই!

সন্তোষ অদূরে দাঁড়িয়ে হি হি করে হাসছিল। বললে, ওই দেখুন বাবু পুঁজির কথা ধরিয়ে দিলেই আগুন হয়ে ওঠে। ওইজন্য দুনিয়ায় ওর বন্ধু নেই, সবাই ওর নামে ভয় পায়। ও না পারে হেন নোংরা কাজ নেই। টাকার গরম কিনা, তাই সবাইকে শাসিয়ে চলে।

বৃষ্টির বেগ এবার যেন একটু কমেছে। এখনও বাইরে পা বাড়াবার মতো আকাশের অবস্থা হয়নি বটে, এবার যেতেই হবে—জামা কাপড়ের অবস্থা যাই হোক না কেন।

ভয়ে ভয়ে সন্তোষের দিকে আমি কয়েক পা এগিয়ে দাঁড়িয়েছিলুম—অন্তত মারাত্মক রোগের ছোঁয়াচটা বাঁচুক। সন্তোষ বললে, কুকুরটাকে সাবধান বাবু, বুড়ি একবার চটলেই মুখের শব্দ করে কুকুরটাকে লেলিয়ে দেয়। ওটা ভারি পাজি।

বুড়ি আবার কাঁথা মুড়ি দিয়ে আড় হয়ে শুয়ে পড়লো। ভিতরে ঢুকে বিড় বিড় করে কি যেন বকছে। সন্তোষ বললে, অতগুলো মামলা বাধিয়ে রেখেছে, মাগি মরলে সকলের হাড় জুড়োয়, বাবু।

বললুম, কিসের এত মামলা সন্তোষ?

ওই ত' বলে কে? একজনের পেছনে আরেকজনকে উসকিয়ে দেয়, এই ওর চিরকাল স্বভাব। এই দেখুন না এই যে সামনের জমিটা,—প্রায় পৌনে তিন বিঘে,—এ জমি হল খিদিরপুরের চাটুয্যেদের। ও মাগি বেনামীতে চোদ্দো বছর খাজনা জুগিয়ে এই জমি দখল নিয়েছে। অত বড় জমিদার হিমসিম খাচ্ছে হাইকোর্টে গিয়ে। দু-হাজার টাকা করে এ জমির কাঠা।

কুকুরটা এবার আমার দিকে তাকিয়ে হঠাৎ গোঁ গোঁ করে উঠল। সন্তোষ তাড়াতাড়ি করাতখানা হাতের কাছে টেনে নিল। চেয়ে দেখি বৃষ্টি এবার ধরে গেছে। এবার এ নরককুণ্ড থেকে বেরোতে পারলে বাঁচি।

চারিদিকে জল জমেছে। আকাশ কিন্তু শান্ত। আমার সঙ্গে সঙ্গে সন্তোষ কয়েক পা বাইরে বেরিয়ে এলো। বললে, বুড়ির মরবার আর দেরি নেই। তবে পুরোনো হাড় কিনা বাবু, ক্ষয় হতে সময় লাগে। কিন্তু ওর চেহারা যা দাঁড়িয়েছে, এবার যাবে। আর একটা ওলাওঠার ধাক্কা যদি যায়, ও নিজেই কাৎ হবে। এ সব কি জানেন, আগে কামড় দিচ্ছে! মরবে নিশ্চয়ই।

সন্তোষকে সাদর সম্ভাষণ জানিয়ে হন হন ক'রে এবার বাড়ির দিকে অগ্রসর হয়ে চললাম।

সকল অধ্যায়
১.
স্ত্রীর পত্র
২.
অবনীভূষণের সাধনা ও সিদ্ধি
৩.
রসময়ীর রসিকতা
৪.
মহেশ
৫.
ভরতের ঝুমঝুমি
৬.
ঝড়
৭.
কলঙ্কিত সম্পর্ক
৮.
কবির মেয়ে
৯.
এপার গঙ্গা ওপার গঙ্গা
১০.
পথের কাঁটা
১১.
শহুরে
১২.
পুঁইমাচা
১৩.
প্রতিহিংসা
১৪.
বেদেনী
১৫.
আঙটি
১৬.
কসাই
১৭.
অতি সাধারণ ঘটনা
১৮.
রাজা
১৯.
বদলি মঞ্জুর
২০.
প্রেমের বি-চিত্র গতি
২১.
হ্যাংম্যান
২২.
নিবারণের মৃত্যু
২৩.
রুদ্রের আবির্ভাব
২৪.
তেলেনাপোতা আবিষ্কার
২৫.
নেড়ে
২৬.
দুকান কাটা
২৭.
তৃতীয় রিপু
২৮.
বৈয়াকরণ
২৯.
অতসী মামি
৩০.
পোস্টার
৩১.
ফেরিওলা
৩২.
জ্যোতিষী
৩৩.
পাশের বাড়ির মেয়ে
৩৪.
ফসিল
৩৫.
আদিম
৩৬.
আজ কোথায় যাবেন
৩৭.
ঘরন্তী
৩৮.
নিম অন্নপূর্ণা
৩৯.
বাঈজী
৪০.
রস
৪১.
টোপ
৪২.
ইঁদুর
৪৩.
বাঁদী
৪৪.
সুখ
৪৫.
পিকুর ডাইরি
৪৬.
ভারতবর্ষ
৪৭.
সাগিনা মাহাতো
৪৮.
আদাব
৪৯.
চোলি কা পিছে
৫০.
রানীরঘাটের বৃত্তান্ত
৫১.
ঘরবাড়ি
৫২.
নিশীথে সুকুমার
৫৩.
অশ্বমেধের ঘোড়া
৫৪.
রাজা যায় রাজা আসে
৫৫.
গরম ভাত অথবা নিছক ভূতের গল্প
৫৬.
রাজার টুপি
৫৭.
খানাতল্লাস
৫৮.
শ্বেতপাথরের টেবিল
৫৯.
উদ্বাস্তু
৬০.
মঁসিয়ে হুলোর হলিডে
৬১.
আত্মজা
৬২.
বড় পাপ হে

নোট নিতে এবং টেক্সট হাইলাইট করতে লগইন করুন

লগইন
০%