জাগ্রত হৃৎপিণ্ড

হেমেন্দ্রকুমার রায়

সত্য! মন আমার অশান্ত—অতি, অতিশয় অশান্ত! কিন্তু কেন তোমরা আমাকে পাগল মনে করবে? ব্যাধি আমার অনুভূতিকে নষ্ট করতে পারেনি, বরং প্রখর করে তুলেছে অধিকতর৷ আমার শ্রবণশক্তির তীক্ষ্ণতা যথেষ্ট! স্বর্গের আর মর্তের সব কিছুই আমি শুনতে পাই৷ কানে শুনি নরকেরও অনেক কথাই৷ তবু কি বলবে আমি পাগল? শোনো! কেমন শান্তভাবে গুছিয়ে গুছিয়ে আমার কথা বলব তোমাদের কাছে৷

আমার মগজে এমন কথা জাগল কেন, তার কারণ নির্দেশ করা অসম্ভব৷ কিন্তু কল্পনাটা আমাকে ভূতের মতো পেয়ে বসেছিল—কিবা রাত্রি, কিবা দিন! উদ্দেশ্য ছিল না কিছুই, ছিল না কোনো ক্রোধের উত্তেজনা৷

বুড়োকে আমি ভালোই বাসতুম৷ কখনো সে আমার কোনো অপকারই করেনি৷ কখনো তার কাছে আমি অপমানিত হইনি৷ তার টাকাকড়ির ওপরেও আমার কোনো লোভ ছিল না৷

কিন্তু একটা কারণ আছে বোধ হয়৷ তার ওই চোখটা! হ্যাঁ, তাই-ই বটে, তাই-ই বটে! তার একটা চোখ দেখতে ছিল শকুনের মতো এবং তার ওপরে ছিল ছানির মতো পাতলা পর্দা৷ সেই চোখটা দিয়ে যখন সে তাকিয়ে দেখত আমার পানে, তখন যেন জল হয়ে যেত আমার বুকের রক্ত! ক্রমে সেটা হয়ে উঠত অসহনীয়, মনে মনে আমি স্থির করে ফেললুম, বুড়োকে মেরে একেবারে ঘুচিয়ে দেব ওই চোখের ঝঞ্ঝাট!

কারণ আর কিছুই নয়৷ তোমরা আমাকে পাগল ভাবছ? কিন্তু তখন আমাকে দেখলেই বুঝতে পারতে যে, কতদিকে নজর রেখে কত সাবধানে আমি কাজ হাসিল করেছি কত বড়ো চালাকের মতো! হত্যাকাণ্ডের এক হপ্তা আগে থেকেই বুড়োর সঙ্গে কী মিষ্টি ব্যবহারই করেছি!

আমরা এক বাসাতেই থাকতুম৷ প্রতিদিন ঠিক রাতদুপুরে তার ঘরের দরজা ঠেলে খুলতুম; কিন্তু কত যে ধীরে ধীরে, তা আর কহতব্য নয়! দরজা অল্প একটু ফাঁক করে প্রথমে আস্তে আস্তে গলিয়ে দিতুম কেবল আমার মাথাটা৷ সমস্ত মুখখানা ঘরের ভেতরে নিয়ে যেতে আমার সময় লাগত ঝাড়া একঘণ্টা! পাগল কখনো এত সাবধান হতে পারে?

আমার হাতে থাকত একটা চোরা-লণ্ঠন৷ দরজার কাছে দাঁড়িয়েই লণ্ঠনের খুব ছোট্ট একফালি আলো খুলে ফেলতুম বুড়োর সেই শকুন-চোখের ওপরে৷ কিন্তু উপরি-উপরি সাত-সাতটা রাত এই কাণ্ড করেও সেই শকুন-চোখটাকে খোলা অবস্থায় পেলুম না৷ চোখটা বন্ধ থাকলে আমি কাজ করি কেমন করে? হতাশ হয়েও আমার কিন্তু বুড়োর ওপরে একটুও রাগ হত না, খাপ্পা হয়ে উঠতুম কেবল সেই অপয়া চোখটারই ওপরে৷ কেন সে বন্ধ হয়ে থাকে, কেন?

রোজ সকালেই আবার যেতুম বুড়োর ঘরে৷ এমন ভালোমানুষটি সেজে তার সঙ্গে মন খুলে গল্প করতুম আর মন-রাখা কথা কইতুম, ঘুণাক্ষরেও সে সন্দেহ করতে পারেনি যে, প্রতি রাত্রে ঘরে ঢুকে আমি তাকে দেখি ঘুমন্ত অবস্থায়!

তারপর অষ্টম রাত্রি! সেদিন হয়েছিলুম আমি আরও বেশি সাবধান! এমন ধীরে ধীরে ঘরের মধ্যে ঢুকেছিলুম যে, ঘড়ির মিনিটের কাঁটার গতিও ততটা মন্থর হতে পারে না৷ একটু-একটু করে এগিয়ে যাচ্ছি—পা মাটিতে পড়ছে কি জানি না!

তবু বুঝি বুড়ো শুনতে পেলে! সে যেন হঠাৎ ধড়ফড় করে জেগে উঠল!

ভাবছ তখুনি আমি পালিয়ে এলুম? মোটেই নয়! ঘরের ভেতরে কালো পিচের মতো অন্ধকার৷ ঠান্ডা লাগবার ভয়ে সব জানলা বন্ধ৷ বুড়ো ফাঁক-করা দরজাটা দেখতে পেল না৷ আমি চোরা-লণ্ঠনের টিনের দরজাটা খুলি-খুলি করছি—

বুড়ো হঠাৎ সশব্দে বিছানার ওপরে উঠে বসে সচমকে বললে, ‘কে, কে ওখানে?’

আমি চুপ! প্রায় ঘণ্টাখানেক সেইখানেই স্থির হয়ে দাঁড়িয়ে রইলুম৷ বুড়োও নিঃসাড়, আবার শুয়ে পড়ল বলেও মনে হল না৷ বোধ হয় সে বসে বসে কান পেতে শুনছে!

তারপরেই বুড়ো গোঁ-গোঁ শব্দ করে উঠল৷ সে হচ্ছে দারুণ আতঙ্কের শব্দ! তা দুঃখ বা যাতনার ধ্বনি নয়, মানুষ মারাত্মক ভয় পেলেই চাপাগলায় এমন আর্তনাদ করে এবং সে ধ্বনি আসে একেবারে অন্তরাত্মার ভেতর থেকেই৷ আমি ও ধ্বনিকে ভালো করেই জানি৷ বহু রাত্রে—ঠিক মধ্যরাত্রে, সারা পৃথিবী যখন ঘুমন্ত, আমার আতঙ্কগ্রস্ত অন্তরাত্মার ভেতর থেকে ঠিক ওইরকম আর্তধ্বনি ও তার ভয়াবহ প্রতিধ্বনি শুনতে পেয়েছি—আমি শুনতে পেয়েছি! হ্যাঁ, ও-ধ্বনিকে আমি খুব চিনি! বুড়োর মনের ভাব বুঝতে আমার বিলম্ব হল না৷

কিছু-একটা শব্দ শুনে সেই যে সে জেগে উঠেছে, এখনও আর ঘুমোতে পারেনি৷ বেড়ে উঠছে—ক্রমেই বেড়ে উঠছে তার আতঙ্ক! ‘যা শুনেছি, ভুল শুনেছি’—এই বলে সে নিজের মনকে প্রবোধ দেওয়ার চেষ্টা করছে, কিন্তু পারছে না৷

কখনো ভাবছে, ‘বোধ হয় বাতাসের শব্দ৷ নয়তো ইঁদুররা চলাফেরা করছে৷ হয়তো কোথা থেকে একটা ঝিঁঝিপোকা ডেকে উঠেছে!’

কিন্তু বৃথা—বৃথা! কোনো যুক্তিতেই সে মনকে বোঝাতে পারছে না৷ তা পারবে কেন? মৃত্যু যে তার শিয়রে এসে দাঁড়িয়েছে—কালো ছায়াপাত করেছে তার মনের ভেতরে! তাই ঘরের ভেতরে যদিও সে কিছু দেখতে পাচ্ছে না, কিছু শুনতে পাচ্ছে না, তবু সে অনুভব করতে পারে আমার উপস্থিতি৷

বহুক্ষণ অপেক্ষা করার পরও যখন দেখলুম, আজ রাত্রে বুড়োর চোখে ঘুম আসা আর অসম্ভব, তখন স্থির করলুম চোরা-লণ্ঠনের টিন সরিয়ে একফালি আলো বাইরে ফেলে দেখা যাক, ব্যাপারটা কী দাঁড়ায়! তাই করলুম, কিন্তু কত, কত চুপি চুপি যে করলুম তোমরা তা আন্দাজ করতে পারবে না৷ বাইরে বেরিয়ে এল একগাছি লতাতন্তুর মতো সূক্ষ্ম আলোকরেখা৷

এবং সে আলোককণা গিয়ে পড়ল একেবারে বুড়োর শকুন-চোখের ওপরেই!

চোখটা আজ আর বন্ধ নয়, ড্যাব-ড্যাব করে তাকিয়ে আছে! সঙ্গে-সঙ্গে খাপ্পা হয়ে উঠলুম আমি৷ সেই ছানির মতো পর্দা-পড়া বিশ্রী শকুন-চোখ, যা দেখলেই আমার দেহের অস্থিমজ্জার ভেতর দিয়ে বয়ে যায় কনকনে তুষারস্রোত! বুড়োর মুখ বা দেহের কিছুই আমি দেখতে পাচ্ছিলুম না, কিন্তু আলো গিয়ে পড়েছে যথাস্থানেই!

সেইসময়ে আমার কানে এল একটা শব্দ৷ একটা নিম্ন, চাপা, দ্রুত ধ্বনি—ঘড়িকে তুলো দিয়ে ঢেকে রাখলে যেমন শব্দ হয়৷ ও শব্দও আমার অজানা নয়৷ ও হচ্ছে বুড়োর হৃৎপিণ্ডের দুপদুপুনি! দামামা বাজলে সৈনিক যেমন চাঙ্গা হয়ে ওঠে, আমাকেও তেমনি জাগ্রত করে তুললে সেই শব্দ!

কিন্তু তখনও আমি নিশ্চল হয়ে দাঁড়িয়ে রইলুম মূর্তির মতো৷ আমার হাত একটুও কাঁপছে না, স্থির হয়ে আছে শকুন-চোখের ওপরে নিক্ষিপ্ত আলোকরেখা৷ ইতিমধ্যে হৃৎপিণ্ডের সেই দুপ-দুপ শব্দ বেড়ে উঠেছে ক্রমে-ক্রমে—বোধ হয় চরমে উঠেছে বুড়োর আতঙ্ক! শব্দ বাড়ছে, আরও বাড়ছে মুহূর্তে-মুহূর্তে! গোড়াতেই বলেছি, মন আমার অশান্ত৷ সত্যই তাই৷ সেই নিশুত রাত, সেই পুরাতন বাড়ির নিদারুণ স্তব্ধতার মধ্যে হৃৎপিণ্ডের সেই অদ্ভুত শব্দ আতঙ্কে আচ্ছন্ন করে তুললে আমার প্রাণমনকেও৷ তবুও আরও কিছুক্ষণ আমি অপেক্ষা করলুম৷

কিন্তু কী মুশকিল—দুপ-দুপ দুপ-দুপ দুপ-দুপ! শব্দ যে ক্রমেই উচ্চতর হয়ে উঠছে! এইবারে হয়তো ফেটেই যাবে ওর হৃৎপিণ্ডটা! একটা নতুন দুশ্চিন্তা আমাকে করলে আক্রমণ৷ যদি কোনো প্রতিবেশী শব্দটা শুনতে পায়? না, আর দেরি নয়! বুড়োর শেষমুহূর্ত উপস্থিত!

প্রচণ্ড চিৎকার করে চোরা-লণ্ঠনের আবরণ সরিয়ে ফেলে এক লাফে আমি বুড়োর বিছানার কাছে গিয়ে পড়লুম৷ বুড়োও বিকট চিৎকার করে উঠল—কিন্তু মাত্র একবার! পরমুহূর্তেই তাকে আমি টেনে এনে মাটির ওপরে পেড়ে ফেললুম, তারপর খাটের তোশক দিয়ে তার দেহটা জড়িয়ে চেপে ধরলুম প্রাণপণে৷ তারপর এক মিনিট, দুই মিনিট, তিন মিনিট এবং আরও কয়েক মিনিট ধরে বুড়োর কলিজাটা করতে লাগল দুপ-দুপ-দুপ! শব্দ এখন হোক-গে যাক, ঘরের দেওয়াল ফুঁড়ে তা বাইরের কোনো লোকের কানে গিয়ে পৌঁছোতে পারবে না তো!

তারপর, থেমে গেল শব্দ৷ বুড়ো মরেছে৷ তোশক সরিয়ে তার বুকের ওপরে হাত রাখলুম৷ স্থির বুক৷ বুড়ো মরে কাঠ হয়ে গিয়েছে৷ স্তব্ধ রাত৷ খণ্ড-খণ্ড করে ফেললুম মৃতদেহটা৷ মেঝেয় ছিল কাঠের পাটাতন৷ তারই খানিকটা সরিয়ে দেহের অংশগুলো নীচে রেখে ওপরে আবার রেখে দিলুম পাটাতনের কাঠ৷ তারপর এমন সাবধানে কাজ করলুম যে, ঘরের কোথাও রক্তের ছিটেফোঁটা পর্যন্ত রইল না৷ দেখছ তো, কী চালাক আমি? হাঃ হাঃ হাঃ!

ঘড়ি বেজে উঠল ঢং ঢং ঢং ঢং! রাত চারটে৷ আমার সব কাজ সমাপ্ত—আর আমাকে পায় কে?

ঘন ঘন সদর দরজার কড়া নাড়তে লাগল অত্যন্ত জোরে-জোরে!

নিশ্চিন্ত মনেই নীচে নেমে গিয়ে খুলে দিলুম সদর দরজা৷ পুলিশের লোক—ইনস্পেকটর ও পাহারাওয়ালা৷ ব্যাপার কী?

এরই মধ্যে পাড়ার কেউ থানায় গিয়ে খবর দিয়েছে যে এই বাড়ির ভেতর থেকে বিকট স্বরে কে চেঁচিয়ে কেঁদে উঠেছে৷ পুলিশ কর্মচারীরা তাই তদন্ত করতে এসেছে৷

শুনে আমার একটুও ভয় হল না৷ হাসতে হাসতে বললুম, ‘দুঃস্বপ্ন দেখে আমিই ঘুমের ঘোরে চেঁচিয়ে উঠেছিলুম৷’

‘এই বাসায় এক বৃদ্ধও থাকেন না?’

‘আজ্ঞে হ্যাঁ৷ কিন্তু কী কারণে তিনি আজ মফসসলে গিয়েছেন৷’

‘বাড়ির ভেতরটা আমরা দেখতে চাই৷’

‘অনায়াসেই দেখতে পারেন৷ আসুন আমার সঙ্গে৷ এই পথে৷’

নির্ভয়ে তাদের নিয়ে গেলুম একেবারে বুড়োর ঘরে৷ ঘরের চারদিক তন্ন-তন্ন করে খুঁজতে বললুম৷ ঘরে কোনো কিছু চুরি যায়নি বা তছনছ হয়নি, সেদিকেও তাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করলুম৷ নিজের হাতে চেয়ার টেনে নিয়ে এসে তাদের সামনে এগিয়ে দিলুম৷ এবং পাটাতনের নীচে যেখানে বুড়োর খণ্ড-বিখণ্ড দেহ আছে, ঠিক তারই ওপরে একখানা চেয়ার নিয়ে এসে আমিও বসে পড়লুম৷

আমার হাবভাব ব্যবহার নিশ্চয়ই তাদের কাছে সন্তাোষজনক বলে মনে হল৷ তারা বসে বসে যে প্রশ্নই করে, আমি চটপট তার জবাব দিই৷ তারপর তাদের প্রশ্ন করা বন্ধ হল বটে, তবু সেইখানে বসে বসে তারা গল্প করতে লাগল৷

কিন্তু এইবারে আমার মনে হতে লাগল, লোকগুলো এখান থেকে বিদায় হলেই বাঁচি৷ আমার কানের ভেতরে জেগে উঠল একটা শব্দ! ক্রমেই শব্দটা স্পষ্ট হয়ে উঠছে৷ তার কথা ভোলবার জন্যে আমি তড়বড় করে কথা কইতে লাগলুম, তবু শব্দটা থামে না, পুলিশের লোকগুলোও নড়ে না৷ অবশেষে বুঝতে পারলুম যে, শব্দটার উৎপত্তি আমার কানের ভেতরে নয়৷

আমার মুখ যে বিবর্ণ হয়ে গেল, তাতে আর সন্দেহ নেই৷ মনের ভাব ঢাকবার জন্যে মুখে যতই জোরে কথা কই, ততই উচ্চতর হয়ে ওঠে শব্দটা৷ সে এক নিম্ন, চাপা, দ্রুত ধ্বনি, ঘড়িকে তুলো দিয়ে ঢেকে রাখলে যেমন শব্দ হয়৷ রুদ্ধ হয়ে আসতে লাগল আমার শ্বাসপ্রশ্বাস, কিন্তু তবু পুলিশের লোকগুলো সে শব্দ শুনতে পেলে না!

শব্দ বাড়ছে, বাড়ছে, বাড়ছে৷ আমি উত্তেজিতভাবে হাত-পা নেড়ে যা-তা কথা বলতে শুরু করলুম, শব্দ তবু বাড়তে থাকে৷ ও আপদগুলো কি আজ আর বিদায় হবে না? হা ভগবান, কী করি, কী করি! ক্রমে আমি যেন পাগলের মতো হয়ে উঠলুম—কোথা থেকে আসছে ওই হৃৎপিণ্ডের দুপ-দুপ শব্দ? দুপদুপুনি বেড়ে ওঠে জোরে—জোরে—আরও জোরে!

লোকগুলো তখনও বসে বসে গল্প করে হাসিমুখে৷ নিশ্চয়ই ওরা শব্দটা শুনতে পেয়েছে! নিশ্চয়ই ওরা আমাকে সন্দেহ করেছে! নিশ্চয়ই ওরা আমার আতঙ্কগ্রস্ত মুখ দেখে ব্যঙ্গ করছে মনে মনে! যা হওয়ার হোক—এ যন্ত্রণা আর সহ্য করা অসম্ভব, আর আমি সইতে পারছি না ওদের ওই কপট হাসি! আমি হয় ভীষণ চিৎকার করে উঠব, নয় এই মুহূর্তে মারা পড়ব! ওই শোনো—আবার, আবার সেই শব্দ! জোরে! আরও জোরে! আরও জোরে! আরও, আরও জোরে—

সচিৎকারে বলে উঠলুম, ‘ওরে পাষণ্ডরা, আর তোদের ভণ্ডামি করতে হবে না! বুড়োকে খুন করেছি আমিই! পাটাতন তুলে দ্যাখ, এইখানেই আছে তার বীভৎস হৃৎপিণ্ড!’

-------------------

* এডগার অ্যালান পো লিখিত 'The Tell-Tale Heart' অবলম্বনে৷

সকল অধ্যায়
১.
অদৃশ্য মানুষ
২.
অমানুষিক মানুষ
৩.
ইন্দ্ৰজালের মায়া
৪.
বিশাল গড়ের দুঃশাসন
৫.
মানব দানব
৬.
বিভীষণের জাগরণ
৭.
মানুষের গড়া দৈত্য
৮.
মোহনপুরের শ্মশান
৯.
মড়ার মৃত্যু
১০.
প্রেতাত্মার প্ৰতিশোধ
১১.
সর্বনাশা নীলা
১২.
কামরা আর আমরা
১৩.
মূর্তি
১৪.
কী?
১৫.
ওলাইতলার বাগানবাড়ি
১৬.
বাঁদরের পা
১৭.
বাদলার গল্প
১৮.
বাড়ি
১৯.
মাথা-ভাঙার মাঠে
২০.
রামস্বামীর উপলমণি
২১.
ভূতের রাজা
২২.
কে?
২৩.
মিসেস কুমুদিনী চৌধুরি
২৪.
চিলের ছাতের ঘর
২৫.
খামেনের মমি
২৬.
ক্ষুধিত জীবন
২৭.
রুদ্রনারায়ণের বাগানবাড়ি
২৮.
বিজয়ার প্রণাম
২৯.
আয়নার ইতিহাস
৩০.
ঐন্দ্রজালিক
৩১.
জ্বলন্ত চক্ষু
৩২.
কঙ্কাল-সারথি
৩৩.
কিসমৎ
৩৪.
তিন নম্বরের ঘর
৩৫.
দিঘির মাঠে বাংলো
৩৬.
পিশাচ
৩৭.
ভীমেডাকাতের বট
৩৮.
জীবন্ত মৃতদেহ
৩৯.
অভিশপ্ত মূর্তি
৪০.
কলকাতার বিজন দ্বীপে
৪১.
বন্দি আত্মার কাহিনি
৪২.
ছায়া, না কায়া?
৪৩.
জীবন্ত মৃত্যু
৪৪.
নবাব কুঠির নর্তকী
৪৫.
কোর্তা
৪৬.
ভূত-পেত্নীর কথা
৪৭.
পোড়ো-মন্দিরের আতঙ্ক
৪৮.
অভিশপ্ত নীলকান্ত
৪৯.
ভূতের ভয়
৫০.
আজও যা রহস্য
৫১.
ভূত যখন বন্ধু হয়
৫২.
এথেন্সের শেকল বাঁধা ভূত
৫৩.
আধ খাওয়া মড়া
৫৪.
স্বপ্ন হলেও সত্য
৫৫.
শয়তান
৫৬.
গঙ্গার বিভীষিকা
৫৭.
বাদশার সমাধি
৫৮.
পোড়ো বাড়ি
৫৯.
ভৌতিক, না ভেলকি?
৬০.
ভৌতিক চক্রান্ত
৬১.
পেপির দক্ষিণ পদ
৬২.
পর্বত ও মূষিক
৬৩.
অট্টহাসক
৬৪.
টেলিফোন
৬৫.
নবাবগঞ্জের সমাধি
৬৬.
ভূত আর ভূতনাথ
৬৭.
আজব সত্য-কাহিনি
৬৮.
বাজলে বাঁশী কাছে আসি
৬৯.
বংশীবদনের বহির্গমন
৭০.
অলৌকিক
৭১.
জুজুর ভয়
৭২.
রামস্বামীর উপল মণি
৭৩.
বাড়ি, বুড়ো, বুট
৭৪.
শয়তানি-জুয়া
৭৫.
রহস্যময় বাড়ি
৭৬.
বাঘের চোখ
৭৭.
মানুষ, না পিশাচ
৭৮.
জাগ্রত হৃৎপিণ্ড
৭৯.
অভিশপ্তা
৮০.
সূর্যদেবতার পুরোহিত
৮১.
অদৃশ্যের কীর্তি
৮২.
নসিবের খেলা
৮৩.
ছায়া—কায়া—মায়া
৮৪.
বিছানা
৮৫.
লোটা
৮৬.
মাঝরাতের ‘কল’
৮৭.
এক রাতের ইতিহাস
৮৮.
কিন্তু
৮৯.
কায়া কি ছায়া কি মায়া
৯০.
ডাকবাংলো
৯১.
তবে
৯২.
মামূর্তের দানব-দেবতা
৯৩.
নবাব বাহাদুরের বংশধর
৯৪.
মুক্তি
৯৫.
মৃতদেহ
৯৬.
নরকের রাজা
৯৭.
ভেলকির হুমকি
৯৮.
আধ খাওয়া মড়া
৯৯.
কালো বিদ্যুৎ
১০০.
নিশীথ রাতের কাহিনী

নোট নিতে এবং টেক্সট হাইলাইট করতে লগইন করুন

লগইন
০%