পিশাচ

হেমেন্দ্রকুমার রায়

এক

বাড়িওয়ালা অত্যন্ত বিমর্ষভাবে বললে, ‘আজ্ঞে হ্যাঁ মশাই, এ বাড়িখানা নিয়ে আমি রীতিমতো বিপদে পড়ে গিয়েছি৷ খবরের কাগজে যা বেরিয়েছে তা মিথ্যে নয়৷ এ বাড়িতে গেল তিনমাসের মধ্যে তিনজন লোক মারা পড়েছে! আর সেই তিনটি মৃত্যুই রহস্যময়! এ বাড়িতে আর বোধ হয় নতুন ভাড়াটে আসতে রাজি হবে না৷’

বিমল বললে, ‘ব্যাপারটা আমাদের একটু খুলে বলবেন কি?’

বাড়িওয়ালা বললে, ‘ব্যাপারটা এখন সবাই জানতে পেরেছে৷ সুতরাং আমার আপত্তি নেই৷’

কুমার বললে, ‘এ-বাড়িতে যিনি শেষ ভাড়াটে ছিলেন, সেই রামময়বাবুর নাম আমরা শুনেছি৷ উদ্ভিদবিদ্যা নিয়ে গবেষণা করে তিনি খুব নাম কিনেছেন৷’

‘আজ্ঞে হ্যাঁ৷ তিনি আসবার আগে কিন্তু আমার বাড়ির কোনো দুর্নামই ছিল না৷ কলকাতার কাছেই যতটা সম্ভব নির্জনে বসে উদ্ভিদশাস্ত্র আলোচনা করবেন বলেই এই বাড়িখানা তিনি ভাড়া নিয়েছিলেন৷ বাড়ির পিছনকার বাগানে তিনি হরেকরকম দামি গাছগাছড়া আনিয়ে নানারকম পরীক্ষা করতেন৷ পাছে কোনো অভিজ্ঞ লোক তাঁর বাগানে গিয়ে গাছগাছড়ার ক্ষতি করে, সেই ভয়ে কারুকে তিনি সেখানে যেতে দিতেন না৷ এ বিষয়ে তাঁর নিষেধ ছিল খুব স্পষ্ট৷ কিন্তু মাসতিনেক আগে একদিন সকাল বেলায় দেখা গেল, রামময়বাবুর উড়ে বেয়ারাটার মৃতদেহ বাগানের ভিতরে পড়ে রয়েছে! তার সর্বাঙ্গে লম্বা লম্বা কালশিরা! তার দেহকে যেন অনেকগুলো দড়ি দিয়ে খুব শক্ত করে বেঁধে ফেলা হয়েছিল! তার গলাতেও ফাঁসির দাগ! কিন্তু সবচেয়ে আশ্চর্য আর ভয়ানক ব্যাপার হচ্ছে, তার দেহের ভিতরে এক ফোঁটাও রক্ত বা রস ছিল না৷ কে যেন তার শরীরের সমস্ত রক্ত আর রস একেবারে নিংড়ে বার করে নিয়েছিল৷ পুলিশ এল৷ কিন্তু আজ পর্যন্ত এ হত্যাকাণ্ডের কোনো কিনারাই হয়নি৷ রামময়বাবু রটিয়ে দিলেন, তাঁর বাগানে ভূত আছে, কেউ যেন আর তার ত্রিসীমানায় না-যায়!’

বিমল বললে, ‘তারপর থেকে রামময়বাবুও কি আর বাগানের ভিতরে যেতেন না?’

বাড়িওয়ালা বললে, ‘যেতেন বই কী! বাগানের ভিতরেই তাঁর সারা বেলা কেটে যেত৷ তারপর শুনুন৷ মাস দেড়েক আগে আর এক সকালে বাগানের ভিতরে আর একটা অচেনা লোকের মৃতদেহ পাওয়া যায়৷ পুলিশের তদন্তে প্রকাশ পায়, সে হচ্ছে একজন পুরোনো দাগী চোর৷ চুরি করবার মতলবেই এখানে এসে বেঘোরে প্রাণ হারিয়েছে৷ সে হতভাগ্যের গায়েও ছিল তেমনি লম্বা লম্বা কালশিরার ডোরা আর তার দেহের ভিতরেও একফোঁটা রক্ত বা রস ছিল না!’

বিমল খানিকক্ষণ ভেবে বললে, ‘তারপর রামময়বাবু কেমন করে খুন হলেন—সেই কথা বলুন৷’

বাড়িওয়ালা বললে, ‘খুন? না, খুন নয়৷ হপ্তা খানেক আগে বাড়ির একটা ঘর থেকে রামময়বাবুর মৃতদেহ পাওয়া যায় বটে, কিন্তু ডাক্তাররা পরীক্ষা করে বলেছেন, তাঁকে কেউ হত্যা করেনি; হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া হঠাৎ বন্ধ হওয়াতেই তাঁর মৃত্যু হয়েছে৷’

কুমার শুধোলে, ‘তাঁর দেহেও কি কালশিরার দাগ ছিল? রক্ত আর রস কেউ শোষণ করেছিল?’

বাড়িওয়ালা মাথা নেড়ে বললে, ‘মোটেই না, মোটেই না! তাঁর মৃতদেহের অবস্থা ছিল সম্পূর্ণ স্বাভাবিক৷ কিন্তু হুজুগে লোকেরা তা বিশ্বাস করবে কেন? রামময়বাবুর মৃত্যু নিয়েও তারা মহা হইচই লাগিয়ে দিয়েছে!’

বিমল বললে, ‘আপনার আর কিছু বলবার নেই?’

‘আছে, তবে সে বিশেষ কিছু নয়৷ রামময়বাবু মারা পড়বার আগেই, ওই বাগানের ভিতরে প্রায় ইঁদুর, ছুঁচো, প্যাঁচা, বাদুড় আর চামচিকের মরা দেহ পাওয়া যেত৷ তাদের দেহেও রক্ত কি রস থাকত না!’

বিমল উত্তেজিতভাবে বললে, ‘আপনি যে-সব জীবের নাম করলেন তারা সবাই নিশাচর৷ বাগানে কি মরা কাক, চিল বা চড়াই পাখি পাওয়া গেছে?’

‘না৷ ও বাগান সাংঘাতিক হয় রাত্রেই৷ সন্ধ্যার পর আজকাল ওর আশপাশ দিয়ে কেউ তাই হাঁটতে চায় না৷ সকলেরই বিশ্বাস, রাত্রে ওখানে পিশাচের আবির্ভাব হয়৷ রামময়বাবুর মৃত্যুর পর থেকেই বাড়িখানা খালি পড়ে আছে৷ ওখানে আর কেউ বাস করতে চাইবে বলে মনে হয় না৷’

কুমার বললে, ‘কিন্তু আমরা যদি ওখানে কিছুদিন বাস করতে চাই?’

বাড়িওয়ালা অনেকক্ষণ বিস্মিত নেত্রে কুমার ও বিমলের মুখের পানে তাকিয়ে রইল৷ তারপর বললে, ‘তা হলে আমার আপত্তির কোনো কারণই নেই৷ কিন্তু মনে রাখবেন, সব কথা শোনবার পরেও ওখানে গিয়ে আপনারা যদি কোনো বিপদে পড়েন, সেজন্যে আমাকে পরে দায়ী করতে পারবেন না৷ আমি ভাড়া দিই অর্থলাভের জন্যে, নরহত্যার জন্যে নয়৷’

বিমল বললে, ‘আপনি নিশ্চিন্ত থাকুন৷ আমাদের রক্ত শোষণ করে, আজও বোধ হয় এমন পিশাচের সৃষ্টি হয়নি৷ তাহলে এই কথাই রইল৷ আজ বৈকালেই আমরা ওই বাড়িতে গিয়ে উঠব৷’

দুই

বিমল ও কুমার বৈকালের পরে সেই রহস্যময় বাড়িতে এসে উঠল৷ টালিগঞ্জ থেকে যে-পথটি রিজেন্ট পার্কের পাশ দিয়ে গড়িয়াহাটার দিকে চলে গিয়েছে, তারই একপাশে এই সঙ্গীহীন বাড়িখানা দাঁড়িয়ে আছে৷ চারিদিকে ধু-ধু করছে মাঠ আর শস্যখেত, মাঝে মাঝে এক-একটা পোড়ো পুকুর বা জলাভূমি অস্তগামী সূর্যকিরণে চক চক করে উঠছে৷ জায়গাটা নির্জন বটে!

বাড়ির পিছনেই খানিকটা জমি পাঁচিল দিয়ে ঘেরা৷ এইটেই হচ্ছে রামময়বাবুর বাগান৷

বাগানের ঠিক ওপরেই দোতলার একটা ঘরে গরম জলে চা মিশাতে মিশাতে বিমল বললে, ‘আচ্ছা কুমার, তুমি ভূত-পেতনি-পিশাচ বিশ্বাস করো?’

কুমার বললে, ‘সাধারণ লোকে যখন ভূতের গল্প বলে তখন আমি তা হেসে উড়িয়ে দিই৷ কিন্তু বৈজ্ঞানিক পণ্ডিতেরাও যখন ভূতপ্রেত নিয়ে মাথা ঘামান, তখন তা আর হেসে উড়িয়ে দিতে পারি না বটে, কিন্তু বিশ্বাসও করতে প্রবৃত্তি হয় না৷’

বিমল বললে, ‘পিশাচরা নাকি মানুষের মতন দেহধারী হলেও মানুষ নয়৷ অনেক সময়ে প্রেতাত্মারা নাকি মানুষের মৃতদেহের ভিতরে এসে আশ্রয় নেয়৷ তখন সেই মড়া জ্যান্ত হয়ে জীবিত মানুষদের রক্ত চুষে খায়! লোকের কথা মানতে গেলে বলতে হয়, পাশের ওই বাগানে অমনি কোনো জ্যান্ত মড়া রোজ রাত্রে জীবজন্তুর রক্ত শোষণ করতে আসে!’

বিমল ও কুমার দুজনেই জানলা দিয়ে বাগানের দিকে দৃষ্টিপাত করল৷ কিন্তু তখন সন্ধ্যার অন্ধকারে বাগান আচ্ছন্ন হয়ে গিয়েছিল৷

বিমল চা ঢেলে একটা পিয়ালা কুমারের দিকে এগিয়ে দিয়ে বললে, ‘কিন্তু এই নির্বোধ পিশাচটা রক্তপানের জন্যে আর কি কোনো ভালো জায়গা খুঁজে পেলে না? ওই পাঁচিল ঘেরা বাগানটুকুর ভিতরে ক-টা জীবই বা আসতে পারে?’

সামনের টেবিলের ওপরে এক চাপড় বসিয়ে দিয়ে কুমার বলে উঠল, ‘ঠিক! বাগানের বাইরে এত বড়ো বড়ো জীব থাকতে সে এখানে বসে অপেক্ষা করবে কেন?’

বিমল হেসে বললে, ‘হ্যাঁ, তবে যদি বলো, এই পিশাচটি অত্যন্ত বিলাসী; কবির মতো, ফুলের গন্ধ শুঁকতে ভালোবাসে, তাহলে—’

কুমার বাধা দিয়ে বললে, ‘আমি ওসব কিছুই বলতে চাই না৷ আমার মত হচ্ছে, এখানে পিশাচ-টিশাচ কিছুই আসে না!’

বিমল মৌনমুখে চা পান করতে লাগল৷ কুমারও আর কিছু বললে না৷

চারিদিকে সন্ধ্যার নীরবতা ক্রমেই বেশি ঘনিয়ে উঠছে...

আচম্বিতে পাশের ঘরে একটা শব্দ হল৷ কে যেন কী-একটা মাটির ওপরে ফেলে দিলে!

বিমল ও কুমার দুজনেই চমকে দাঁড়িয়ে উঠল৷ তারপর দ্রুতপদে পাশের ঘরে ছুটে গেল৷

ঘরের মাঝখানে রয়েছে একটা মস্ত বিড়াল৷

বিমল হাস্যমুখে গর্জন করে বললে, ‘তবে রে দুরাত্মা পিশাচ! এমন করে আমাদের ভয় দেখানো? রোস তো!’

বিড়ালটা প্রকাণ্ড এক লাফ মেরে জানলা-পথে অদৃশ্য হয়ে গেল৷

কিন্তু তার কয়েক সেকেন্ড পরেই বাগানের ভিতর থেকে একটা বিড়ালের অত্যন্ত তীক্ষ্ণ ও অস্বাভাবিক আর্তনাদ জেগে উঠল—মাত্র একবার! তারপরেই সব চুপচাপ!

বিমল আশ্চর্য হয়ে বললে, ‘বাগানে গিয়ে বিড়ালটা অমন চেঁচিয়ে উঠল কেন?’

কুমার দরজার দিকে এগুতে এগুতে বললে, ‘দাঁড়াও, আমি দেখে আসছি!’

বিমল তাড়াতাড়ি বললে, ‘খবরদার! যা দেখবার, কাল সকালে দেখলেই চলবে৷ মনে রেখো, রাত্রে ও-বাগান বিপদজনক!’

‘কি বিমল, তুমি ভয় পেলে নাকি?’

‘না ভাই, একে ভয় বলে না৷ এ হচ্ছে সাবধানতা৷ সকালে আগে বাগানটা দেখি, তারপর ওখানে রাত্রিবাস করব৷’

তিন

রামময়বাবুর বাগান সাধারণ লোকের কাছে বিশেষ উল্লেখযোগ্য বলে মনে হবে না৷ কারণ সকলে যেসব বিখ্যাত ফুলগাছকে আদর করে, তাদের কোনোটাই সেখানে নেই৷

কিন্তু সেখানে যেসব গাছগাছড়া রয়েছে, তাদের অনেকেরই পরিচয় বিমল ও কুমার জানে না৷ ফার্ন, পাতাবাহার, ঝাউ, ক্যাকটাস ও পাম জাতীয় এমন অনেক গাছ সেখানে রয়েছে, বাংলাদেশে যাদের দেখা মেলে না৷

একদিকে রয়েছে অনেকরকম অর্কিড৷

বিমল বললে, ‘কুমার, তোমার-আমারও তো বাগানের শখ আছে, কিন্তু এরকম অর্কিড কখনো দেখেছ কি?’

কুমার বললে, ‘না৷ এগুলো বোধ হয় ভারতবর্ষের অর্কিড নয়৷’

বিমল উচ্ছ´সিত কণ্ঠে বললে, ‘বাঃ, বাঃ, কী চমৎকার! দেখ কুমার, দেখ! আর সব অর্কিডের মাঝখানে, বাঁধানো বেদির ওপরে যে প্রকাণ্ড অর্কিডটা রয়েছে! অর্কিড যে অত বড়ো আর তার ফুল এমন অদ্ভুত হয়, না দেখলে আমি তা বিশ্বাস করতুম না৷ গাঢ় বেগুনি ফুল আর তার প্রত্যেক পাপড়ির মুখ থেকে যেন টকটকে রক্ত ঝরে পড়ছে! রক্তমুখো অর্কিড-ফুল!’

কুমার সেইদিকে এগিয়ে গিয়েই বলে উঠল, ‘বিমল, শিগগির এদিকে এসো!’

বিমল কয়েক পদ অগ্রসর হয়েই স্তম্ভিত নেত্রে দেখলে, কালকের সেই বিড়ালটার মৃতদেহ সেইখানে আড়ষ্ট হয়ে পড়ে রয়েছে!

দুজনে অবাক হয়ে অনেকক্ষণ সেইখানে দাঁড়িয়ে রইল৷

তারপর বিমল ধীরে ধীরে বললে, ‘তাহলে কাল আমরা এই বিড়ালটারই মরণের কান্না শুনেছি! কে একে বধ করলে? কোন অজানা বিভীষিকা এই বাগানে বাস করে? আজ রাত্রে তা বোঝবার চেষ্টা করব!’

চার

পেট্রোলের একটা চারশো-বাতি লণ্ঠন ও দুটো বন্দুক নিয়ে বিমল ও কুমার সন্ধ্যার পর বাগানে এসে বসল৷

খানিক আলোয় খানিক কালোয় বাগানের বিচিত্র গাছগুলোকে আরও অদ্ভুত দেখাতে লাগল৷

বাড়িওয়ালা সত্য কথাই বলেছিল৷ সন্ধ্যার পরে ভয়ে কেউ এদিকে আসে না৷ কারণ দু-ঘণ্টা অপেক্ষা করবার পরেও আশপাশ থেকে তারা কোনো মানুষেরই সাড়া পেলে না৷ তাদের মনে হল—এ যেন সৃষ্টিছাড়া ঠাঁই, কেবল অভিশপ্তরাই এখানে বাস করতে পারে!

দু-তিনটে প্যাঁচা ও বাদুড় শূন্যকে শব্দিত করে কোথায় উড়ে গেল৷ বিমল ও কুমার দুজনেই তাদের উড়ন্ত দেহের দিকে মুখ তুলে দেখলে৷ হয়তো তারা আশা করেছিল যে, এখনি কোনো অজ্ঞাত শত্রু তাদের দেহ ধরে বাগানের জমিতে পেড়ে ফেলবে!

বিমল বললে, ‘কুমার, একটা চমৎকার মিষ্টি গন্ধ পাচ্ছ কি?’

‘পাচ্ছি৷ কিন্তু এ বাগানে সকালে কোনো ফুলও দেখিনি, কোনো সুগন্ধও পাইনি!’

‘হয়তো এ ফুল রাত্রে ফোটে৷ আমার যেন মনে হচ্ছে, সুগন্ধ আসছে ওই অর্কিডগুলোর দিক থেকেই!’

‘আচ্ছা, আমি দেখে আসছি’—এই বলে কুমার উঠে পড়ল৷

বিমল দেখলে, কুমার ধীরে ধীরে অর্কিডগুলোর দিকে এগিয়ে গেল৷ তারপর সেই রক্তমুখো অর্কিড ফুলের কাছে গিয়ে দাঁড়াল৷ পরমুহূর্তেই এক আর্তনাদ এবং সঙ্গে-সঙ্গে কুমারের দেহ মাটির ওপরে লুটিয়ে পড়ে বিষম ছটফট করতে লাগল!

চোখের পলক ফেলবার আগেই বিমল সেখানে গিয়ে হাজির হল এবং কুমারের দিকে চেয়েই ব্যাপারটা বুঝতে তার বিলম্ব হল না৷ সে তখনি রিভলভার তুলে অর্কিড গাছটাকে লক্ষ্য করে উপরি-উপরি দুইবার গুলিবৃষ্টি করলে৷ তারপর মাটি থেকে কুমারের বন্দুকটা নিয়ে আরও দুইবার ছোড়বার পরেই রক্তমুখো ফুলসুদ্ধ অর্কিড-গাছটা দু-খানা হয়ে ভেঙে পড়ল!

কুমার তখন অজ্ঞান হয়ে গেছে৷ তার সারা দেহ জড়িয়ে অনেকগুলো লম্বা শুঁয়া বা দাঁড়া থরথর করে কাঁপছে! বিমল তাড়াতাড়ি ছুরি বার করে সেইগুলো কাটতে বসল৷

পাঁচ

কুমারের জ্ঞান হয়েছে; কিন্তু তার সর্বাঙ্গ তখন ফোড়ার মতন টাটিয়ে রয়েছে৷

পাশে দাঁড়িয়ে বিমল বললে, ‘আসল ব্যাপারটা এইবার বোঝা গেল৷ কেতাবে পড়েছিলুম, দক্ষিণ আমেরিকা ও আরও কোনো কোনো দেশে এমন কোনো কোনো জাতের অর্কিড পাওয়া যায়, যারা জীবজন্তুর রক্তশোষণ করতে পারে৷ উদ্ভিদশাস্ত্রে পণ্ডিত রামময়বাবু ওইরকম এক মারাত্মক অর্কিড এনে এখানে পালন করছিলেন৷ দিনে সে নিরাপদ ছিল, কিন্তু রাত্রে তার ফুলে গন্ধ জাগার সঙ্গে-সঙ্গেই সে রক্তপান করতে চাইত! তখন গন্ধ ছাড়িয়ে নানা জীবজন্তুকে কাছে আকর্ষণ করে এই পিশাচ অর্কিড অক্টোপাসের মতন শুঁয়া দিয়ে তাদের আক্রমণ করত!’

সকল অধ্যায়
১.
অদৃশ্য মানুষ
২.
অমানুষিক মানুষ
৩.
ইন্দ্ৰজালের মায়া
৪.
বিশাল গড়ের দুঃশাসন
৫.
মানব দানব
৬.
বিভীষণের জাগরণ
৭.
মানুষের গড়া দৈত্য
৮.
মোহনপুরের শ্মশান
৯.
মড়ার মৃত্যু
১০.
প্রেতাত্মার প্ৰতিশোধ
১১.
সর্বনাশা নীলা
১২.
কামরা আর আমরা
১৩.
মূর্তি
১৪.
কী?
১৫.
ওলাইতলার বাগানবাড়ি
১৬.
বাঁদরের পা
১৭.
বাদলার গল্প
১৮.
বাড়ি
১৯.
মাথা-ভাঙার মাঠে
২০.
রামস্বামীর উপলমণি
২১.
ভূতের রাজা
২২.
কে?
২৩.
মিসেস কুমুদিনী চৌধুরি
২৪.
চিলের ছাতের ঘর
২৫.
খামেনের মমি
২৬.
ক্ষুধিত জীবন
২৭.
রুদ্রনারায়ণের বাগানবাড়ি
২৮.
বিজয়ার প্রণাম
২৯.
আয়নার ইতিহাস
৩০.
ঐন্দ্রজালিক
৩১.
জ্বলন্ত চক্ষু
৩২.
কঙ্কাল-সারথি
৩৩.
কিসমৎ
৩৪.
তিন নম্বরের ঘর
৩৫.
দিঘির মাঠে বাংলো
৩৬.
পিশাচ
৩৭.
ভীমেডাকাতের বট
৩৮.
জীবন্ত মৃতদেহ
৩৯.
অভিশপ্ত মূর্তি
৪০.
কলকাতার বিজন দ্বীপে
৪১.
বন্দি আত্মার কাহিনি
৪২.
ছায়া, না কায়া?
৪৩.
জীবন্ত মৃত্যু
৪৪.
নবাব কুঠির নর্তকী
৪৫.
কোর্তা
৪৬.
ভূত-পেত্নীর কথা
৪৭.
পোড়ো-মন্দিরের আতঙ্ক
৪৮.
অভিশপ্ত নীলকান্ত
৪৯.
ভূতের ভয়
৫০.
আজও যা রহস্য
৫১.
ভূত যখন বন্ধু হয়
৫২.
এথেন্সের শেকল বাঁধা ভূত
৫৩.
আধ খাওয়া মড়া
৫৪.
স্বপ্ন হলেও সত্য
৫৫.
শয়তান
৫৬.
গঙ্গার বিভীষিকা
৫৭.
বাদশার সমাধি
৫৮.
পোড়ো বাড়ি
৫৯.
ভৌতিক, না ভেলকি?
৬০.
ভৌতিক চক্রান্ত
৬১.
পেপির দক্ষিণ পদ
৬২.
পর্বত ও মূষিক
৬৩.
অট্টহাসক
৬৪.
টেলিফোন
৬৫.
নবাবগঞ্জের সমাধি
৬৬.
ভূত আর ভূতনাথ
৬৭.
আজব সত্য-কাহিনি
৬৮.
বাজলে বাঁশী কাছে আসি
৬৯.
বংশীবদনের বহির্গমন
৭০.
অলৌকিক
৭১.
জুজুর ভয়
৭২.
রামস্বামীর উপল মণি
৭৩.
বাড়ি, বুড়ো, বুট
৭৪.
শয়তানি-জুয়া
৭৫.
রহস্যময় বাড়ি
৭৬.
বাঘের চোখ
৭৭.
মানুষ, না পিশাচ
৭৮.
জাগ্রত হৃৎপিণ্ড
৭৯.
অভিশপ্তা
৮০.
সূর্যদেবতার পুরোহিত
৮১.
অদৃশ্যের কীর্তি
৮২.
নসিবের খেলা
৮৩.
ছায়া—কায়া—মায়া
৮৪.
বিছানা
৮৫.
লোটা
৮৬.
মাঝরাতের ‘কল’
৮৭.
এক রাতের ইতিহাস
৮৮.
কিন্তু
৮৯.
কায়া কি ছায়া কি মায়া
৯০.
ডাকবাংলো
৯১.
তবে
৯২.
মামূর্তের দানব-দেবতা
৯৩.
নবাব বাহাদুরের বংশধর
৯৪.
মুক্তি
৯৫.
মৃতদেহ
৯৬.
নরকের রাজা
৯৭.
ভেলকির হুমকি
৯৮.
আধ খাওয়া মড়া
৯৯.
কালো বিদ্যুৎ
১০০.
নিশীথ রাতের কাহিনী

নোট নিতে এবং টেক্সট হাইলাইট করতে লগইন করুন

লগইন
০%