আজও যা রহস্য

হেমেন্দ্রকুমার রায়

ফ্রান্সের ইতিহাসে সব থেকে রহস্যজনক প্রেতের আগমন ঘটেছিল সম্ভবত মেরি অ্যান্টয়নেটের উপস্থিতি৷ ভার্সাই-এর প্রাসাদ সংলগ্ন বাগানে দু-জন সম্ভ্রান্ত ইংরেজ মহিলা একবার হারিয়ে যান৷ সেই বাগানে প্রকাশ্য দিবালোকে তাঁরা কাকে দেখেছিলেন? মেরি অ্যান্টয়নেটকে? নাকি এ সবই তাঁদের দেখার ভুল? এটি একটি আশ্চর্যজনক ঘটনা, যার রহস্য আজও আমাদের কাছে অনাবিষ্কৃত৷ কিন্তু তদানীন্তনকালে এ ঘটনা খুব আলোড়ন তুলেছিল একথা সবাই স্বীকার করেছেন৷ পরবর্তীকালেও সেই দুই ইংরেজ রমণীর চাক্ষুষ অভিজ্ঞতাকে কেন্দ্র করে কিছু গবেষণা নতুন করে আলোকপাত করলেও—সত্যই সে-দিন মেরি অ্যান্টয়নেট এসেছিলেন কি না তা আজও রহস্য এবং সন্দেহের পর্যায়ে রয়ে গেছে৷

ভার্সাই-এর বাগানে সে-দিন দুই মহিলা যা দেখেছিলেন তা নির্ভরযোগ্য সত্য কিনা তা কেউ হলফ করে বলতে না পারলেও, গবেষকরা যে এই দুই প্রত্যক্ষদর্শীর বিবরণকে এত মূল্য কেন দিয়েছিলেন তাও একটি ভাববার বিষয়৷ এই দুই মহিলা ছিলেন পেশায় সম্মানিতা৷ বয়েস এবং বংশমর্যাদায় ছিলেন রানি ভিক্টোরিয়ার সমগোত্রীয়৷ এঁদের একজনের নাম শার্লো অ্যানি মোবারলি৷ তিনি জন্মগ্রহণ করেন ১৮৪৬ সালে৷ পনেরোটি ভাই-বোনের মধ্যে তিনি দশম৷ লেখাপড়াতেও তিনি ছিলেন উচ্চশিক্ষিত৷ মেধায় ছিলেন অত্যন্ত তীক্ষ্ণ৷ এর জন্যে তাঁর পারিবারিক পরিবেশ তাঁকে খুবই সাহায্য করেছিল৷ বাবা ছিলেন উইনচেস্টার কলেজের কৃতী প্রধান শিক্ষক এবং স্যালিসবেরির বিশপ৷ অন্য ইংরেজ মহিলার নাম ছিল এলিনর জর্ডেন৷ বংশমর্যাদায় তিনিও খুব একটা হেলাফেলার নন৷ তাঁর পিতা ছিলেন ডার্বিশায়ারের অন্তর্গত অ্যাসবোর্ন-এর ধর্মযাজক৷ যাই হোক শার্লোর সঙ্গে জর্ডেনের বয়েসের বেশ কিছু পার্থক্য সত্ত্বেও দু-জন ছিলেন দু-জনের পরম মিত্র৷

১৮৬৬ সাল৷ মিস মোবারলি অক্সফোর্ডের সেন্ট হুগস হলে অধ্যক্ষা হয়ে এলেন৷ তখন তাঁর বয়েস চল্লিশ৷ বিবাহও করেননি৷ দিনরাত পড়াশুনা নিয়েই ব্যস্ত থাকেন৷ অবসর সময় কাটান দেশ ভ্রমণে৷ সেন্ট হুগস হলটি ছিল মেয়েদের আবাসিক হোস্টেল৷ বিদেশ থেকে বা দূর দূর অঞ্চল থেকে যারা লেখাপড়া করতে আসত তারাই ওখানে বসবাস করত৷ রাশভারী অধ্যক্ষা হিসেবে মিস মোবারলিকে প্রত্যেকেই বেশ সমীহ করে চলত৷

দেখতে দেখতে অনেকগুলো বছর ওই হোস্টেলে প্রধান অধ্যক্ষা হিসেবে কাটিয়ে দিলেন মিস মোবারলি৷ আসলে তিনি হয়তো ওই পেশাটিকে মনেপ্রাণে ভালোবেসে ছিলেন৷ তাই এতদিন তাঁর মধ্যে কোনো কর্মশৈথিল্য আসেনি৷ কিন্তু বয়েস সবসময় মনের ইচ্ছা পূরণ করে না৷ শরীর এসে বাদ সাধে৷ দেখতে দেখতে প্রায় পঞ্চান্ন বছর বয়েস হয়ে গেল৷ কর্তৃপক্ষের কাছে তিনি আবেদন জানালেন এক সহকারিণীর জন্য৷ আবেদন মঞ্জুর হল৷ নতুন সহকারিণী হয়ে এলেন মিস জর্ডেন৷ মিস মোবারলির থেকে ইনি বয়েসে অনেক ছোটো৷ জর্ডেনকে প্রথম সাক্ষাতে মোবারলির বেশ ভালো লাগল৷ বেশ চটপটে আর করিতকর্মা৷ তবুও হোস্টেল কর্তৃপক্ষের নির্দেশে উভয়কে একইসঙ্গে একটি ছোট্ট ভ্রমণে বের হতে হল৷

ঠিক হল পনেরো দিনের ছুটিতে উভয়ে প্যারিস যাবেন৷ যদিও মিস জর্ডেনের অনেকবারই প্যারিস ভ্রমণ করা ছিল তবুও তিনি নতুন সহকারিণীর সঙ্গিনী হলেন৷ কারণ মিস মোবারলির একবারও প্যারিস যাওয়া হয়নি৷ বলা বাহুল্য জর্ডেন ছিলেন বেশ মিশুকে ধরনের মহিলা৷ আর মোবারলির তো মিস জর্ডেনকে ভালোই লেগেছিল৷ ট্রেনে ওঠার পর উভয়ের বন্ধুত্ব হতে বেশি সময় লাগল না৷

এর পরের কাহিনি সেই ঐতিহাসিক রহস্যময় ভ্রমণ বৃত্তান্ত৷ সেই বৃত্তান্ত শোনার আগে আমার মনে হয় একবার ইতিহাসের পাতায় কিছুক্ষণের জন্যে ঘুরে আসা দরকার৷ মেরি অ্যান্টয়নেটের জীবন ইতিহাস সামান্য জানা থাকলে পরবর্তী কাহিনির রহস্যময়তা অনুধাবন করতে সাহায্য করবে৷

মেরি অ্যান্টয়নেট—পৃথিবীর ইতিহাসে একটি উল্লেখযোগ্য নাম৷ বিশেষ করে ফ্রান্সের ইতিহাসে তৎকালীন সভ্যতায় মেরি অ্যান্টয়নেট রানি হয়েও জীবদ্দশায় তিনি জনখ্যাতি পাননি৷ বরং জনমানসে তিনি ছিলেন বিলাসী, খামখেয়ালি এবং হঠকারিণী৷

মেরি অ্যান্টয়নেট যখন ফ্রান্সের রানি তখন ফ্রান্সের ঘোর দুর্দিন৷ ফ্রান্সের জনগণ মনে করত তাদের দুঃখদুর্দশার জন্যে রানির দায়িত্বও কিছু কম ছিল না৷

১৭৫৫ সালের ২ নভেম্বর অ্যান্টয়নেট ভিয়েনায় জন্মগ্রহণ করেন৷ অস্ট্রিয়ার সম্রাট প্রথম ফ্রান্সিস এবং মারিয়া থেরেসার কন্যা ছিলেন এই মেরি অ্যান্টয়নেট৷

সম্রাট দুহিতা অ্যান্টয়নেট আজন্ম সুখ আর ভোগে লালিতা পালিতা৷ তার ওপর বাবা-মায়ের চোখের মণি তিনি৷ দুঃখ এবং দারিদ্র্য যে কী জিনিস সেটুকু বোঝার ক্ষমতা বা ইচ্ছা কোনোটাই ছিল না মেরির৷ আর তার খোঁজ রাখার প্রয়োজনই বা কী? ফলে খুব ছোটো থেকেই মেরি হয়ে উঠলেন খামখেয়ালি আর বিলাসী প্রকৃতির৷ যখন যেটি দরকার সেই মুহূর্তেই সেটি হাতের সামনে পাওয়া চাই৷ নইলে? নইলে যে কী তা বলার কোনো প্রয়োজন নেই৷

কন্যার এই খামখেয়ালিপনা আর অতি আদুরে স্বভাব বাবা-মা’ও লক্ষ করেছিলেন৷ তাই তাঁরা বেশি দিন কন্যাকে নিজেদের কাছে রাখতে চাইলেন না৷ মাত্র পনেরো বছর বয়েসে মেরির বিয়ে দিয়েছিলেন৷ আশা করেছিলেন বিয়ের পর স্বামীর গৃহে গেলে হয়তো বা কন্যার স্বভাব পালটাতে পারে৷

বিয়ে হল ফ্রান্সের যুবরাজের সঙ্গে৷ ১৭৭৪ সালে ফ্রান্সের রাজার মৃত্যুর পর যুবরাজ সিংহাসনে বসলেন রাজা ষষ্ঠদশ লুইস নামে৷ ফ্রান্সের নতুন রানি হলেন মেরি অ্যান্টয়নেট৷

মেরির বাবা-মা ভেবেছিলেন স্বামীর গৃহে গেলে মেয়ের হয়তো মতি ফিরবে৷ কিন্তু তা হল না৷ পনেরো বছর বয়েসে যুবরাজের পত্নী হলেন আর উনিশ বছর বয়েসে হলেন রানি৷ জীবনের দুঃখকষ্টের দিক তাঁর দেখা হয়নি৷ আশপাশের জগতে কেবল স্বচ্ছলতা আর স্বাচ্ছন্দ্যের জোয়ার৷ উনিশ বছরের রানির পক্ষে তাই বেহিসেবি হওয়া ছাড়া অন্য কোনো গতি ছিল না৷ নিত্যনতুন উপায়ে তিনি সুখ খুঁজে বেড়াতেন৷

ফ্রান্সের তখন ঘোর দুর্দিন৷ বিশেষ করে রাজা ষষ্ঠদশ লুইসের রাজত্বকালে সাধারণ মানুষের দুঃখ-দারিদ্র্য চরমে উঠেছিল৷ বিশেষ করে দিনমজুর আর চাষি সম্প্রদায়ের মধ্যে অভাবের জ্বালা তীব্র আকার ধারণ করেছিল৷ অনাহার আর রোগ একসঙ্গে ঝাঁপিয়ে পড়েছিল তাদের ওপর৷ এক বেলাও পেটপুরে খাবার সংস্থান তাদের ছিল না৷

জনগণের ক্রোধ আর রোষ বেশি দিন চাপা রইল না৷ প্রতিদিন অবস্থা সঙ্গিন থেকে সঙ্গিনতর হয়ে উঠল৷ আর শেষপর্যন্ত সেই জনরোষ একদিন ‘ফরাসি বিপ্লবে’ রূপান্তরিত হল৷

মাত্র ক-টা বছর৷ ১৭৭৪ থেকে ১৭৭৯৷ পাঁচ বছরের মধ্যে সারা দেশ একসঙ্গে জ্বলে উঠল৷ ১৭৭৯ সালে অক্টোবরে ভার্সাই-এর রাজপ্রাসাদে বিপ্লবের আগুন ধরে গেল৷ ক্রুদ্ধ জনতার রোষ রাজপরিবারকে প্রাসাদ থেকে প্যারিসে পলায়ন করতে বাধ্য করল৷ সাধারণ মানুষের ছদ্মবেশে তাঁরা পালাতে চেয়েছিলেন উন্মত্ত জনতার হাত থেকে বাঁচার জন্যে৷ কিন্তু তা হল না৷ রাজা-রানিকে আশ্রয় দেওয়ার মতো কেউ ছিল না৷ দেশের আপামর জনতা যে রাজার শত্রু৷ উভয়েই শেষপর্যন্ত জনতার হাতে বন্দি হলেন৷ সশস্ত্র প্রহরা বসল বন্দিনিবাসের দরজায়৷ বিদ্রোহী এবং দেশপ্রেমিক বিপ্লবীরা চাইল প্রকাশ্যে তাঁদের বিচার করা হোক৷

অবশেষে বিচার শুরু হল৷ ফল কী হবে তা জানাই ছিল৷ ১৭৯৩ সালের ২১ জানুয়ারি গিলোটিনের করাত রাজা ষষ্ঠদশ লুইসের মাথাটি কেড়ে নিল৷

মুক্তি পেলেন না রানি অ্যান্টয়নেট৷

অবশেষে ১৭৯৩ সালের ১৬ অক্টোবর৷ রাজা ষষ্ঠদশ লুইসের মতো তিনিও নিজের মাথা দিয়ে গেলেন গিলোটিনের নীচে৷

এরপর কেটে গেছে অনেক বছর৷ পৃথিবীর ইতিহাসে ঘটেছে অনেক বিবর্তন৷ জীবনের সব ঋণ শোধ করে মেরি অ্যান্টয়নেট হয়েছেন একটি চাঞ্চল্যকর এবং করুণ নাম৷ মেরির জীবন ইতিহাস বার বার স্মরণ করিয়ে দেয় স্বেচ্ছাচারিতার পরিণাম৷ কিন্তু সেইটাই কি শেষ কথা? সত্যিই কি মৃত্যুর পর আর কোনো কিছুই অবশিষ্ট থাকে না? অতৃপ্ত বাসনা নিয়ে কেউ মারা গেলে আমরা দেখেছি সেসব আত্মারা বার বার পৃথিবীর আশেপাশে ফিরে আসতে চেয়েছে৷ মেরিরও কি অতৃপ্ত বাসনা কিছু ছিল? তাঁরও কি জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে পুনর্বার বাঁচার বাসনা জেগেছিল? অন্তত ষষ্ঠদশ লুইসের জীবদ্দশায় আমরা দেখেছি মেরি বাঁচার জন্য শেষ সংগ্রাম করেছেন৷ কিন্তু রাজার মৃত্যুর পর মেরিকে আমরা পেয়েছি শান্ত এবং স্থির উদাসীন এক মূর্তির মতো৷ অনেক ঝড়ের শেষে পৃথিবী যেমন শান্ত হয়, মেরিও ঠিক তেমনি সারাজীবন ভোগবিলাসের শেষে হয়ে পড়েছিলেন নির্বিকার৷ শান্তভাবে এসেছেন নিজের বিচারের এজলাসে৷ দৃঢ় উন্নত ভঙ্গিতে শুনেছেন নিজের মৃত্যু পরোয়ানা৷ তারপর রানির মতো বলিষ্ঠ পদক্ষেপে এগিয়ে গেছেন গিলোটিনের নীচে৷

তবু যেন মনে হয় সব শেষ হয়েও সব কিছু শেষ হয়ে যায়নি৷ অন্তত পরবর্তী ঘটনা যদি সত্যি হয় তাহলে ধরে নিতে হবে মেরি অ্যান্টয়নেটেরও ছিল কিছু শেষ কথা বলার যা তিনি জীবদ্দশায় বলে যেতে পারেননি৷

সেদিন ১০ আগস্ট৷ ১৯০১ সাল৷ এই শতাব্দীর বছর শুরু৷ রানির মৃত্যুর পর কেটে গেছে এক-শো আট বছর৷ পৃথিবীর মানুষ ইতিহাসের পাতা ব্যতিরেকে তাঁর সব কিছু ভুলে গেছে৷ সচরাচর মনে পড়ে না তাঁর জীবনের করুণ আলেখ্য৷

মিস মোবারলি আর মিজ জর্ডেন গেছেন প্যারিস ভ্রমণে৷ বাড়িতে বসে না থেকে দুই অসমবয়েসি নারী প্রতিদিন বিকেলে বেরিয়ে পড়েন৷ আজ এখানে কাল সেখানে৷ কখনো ট্রেনে, কখনো অন্য কোনও যানে৷ সে-দিন হঠাৎ মিস জর্ডেনের খেয়াল হল ভার্সাই-এর বিখ্যাত রাজপ্রাসাদ দেখতে যাবেন৷ মিস মোবারলির প্যারিস ঘোরা হয়নি এর আগে৷ ভার্সাই-এর রাজপ্রাসাদের ঐতিহাসিক মূল্যও আছে যথেষ্ট৷ দুই মহিলা ট্রেনে চেপে উপস্থিত হলেন ভার্সাইতে৷ যতটা উৎসাহ নিয়ে তাঁরা এসেছিলেন, ভার্সাই-এর রাজপ্রাসাদ তাঁদের তেমন মুগ্ধ করল না৷ তখন মিস মোবারলিই জানালেন তিনি প্রের্টিট ট্রায়ানোঁতে যাবেন৷ বিখ্যাত ‘প্রের্টিট ট্রায়ানোঁ’ মেরি অ্যান্টয়নেটের সাধের বাড়ি৷ ভার্সাই রাজপ্রাসাদ থেকে কিছুদূরে বাগানের মধ্যে অবস্থিত এই প্রের্টিট ট্রায়ানোঁ৷

পায়ে হেঁটেই তাঁরা রওনা হলেন৷ সাধারণত অন্যান্য দর্শনার্থীরা কোনো পথ নির্দেশককে সঙ্গে নেন৷ অপরিচিত স্থান৷ পথ ভুল হতেই পারে৷ সঙ্গে পথ নির্দেশক থাকলে অনেক পরিশ্রম আর হয়রানি লাঘব হয়৷ কিন্তু মহিলাসুলভ লজ্জায় তাঁরা কোনো পথ নির্দেশক অথবা কোনো পথ নির্দেশিকার বইও কিনলেন না৷ তাঁরা ভাবলেন, বিখ্যাত স্থান, স্থানীয় লোকজনদের জিজ্ঞাসা করলেই তাঁরা প্রের্টিট ট্রায়ানোঁতে পৌঁছে যাবেন৷

আগেই বলেছি অপরিচিত স্থানে পথ ভুল হওয়ার সম্ভাবনা প্রতি পদে পদে৷ অচিরেই তাঁরা রাস্তা ভুল করলেন এবং পথ হারালেন৷ বড়ো রাস্তা ছেড়ে তাঁরা একটি গলির মধ্যে ঢুকে পড়লেন৷ ফলে প্রের্টিট ট্রায়ানোঁতে পৌঁছোনোর বদলে এসে উপস্থিত হলেন একটি গ্রাম্য আর মেঠো বাড়ির সামনে৷ মিস মোবারলির হঠাৎ কেমন যেন সন্দেহ হল, হয়তো তাঁরা ঠিক রাস্তায় আসেননি৷ সেই কুঁড়েঘরটির জানালার সামনে দাঁড়িয়ে তখন একটি গ্রাম্য মহিলা কাপড় থেকে জল ঝাড়ছিলেন৷ এবার তাঁর মনে হল মহিলাটিকে প্রের্টিট ট্রায়ানোঁ সম্বন্ধে জিজ্ঞাসা করেন৷ কিন্তু তিনি ফরাসি ভাষা জানতেন না৷ তবে আশ্চর্য হলেন মিস জর্ডেন যৎসামান্য ফরাসি ভাষা জানা সত্ত্বেও গ্রাম্য মেয়েটিকে কিছু জিজ্ঞাসাই করলেন না৷ আসলে মিস জর্ডেন বোধ হয় মেয়েটিকে লক্ষই করেননি৷

যে গলি ধরে ওঁরা যাচ্ছিলেন, কিছুদূর এগোবার পরই দেখলেন গলিটি তিন ভাগে ভাগ হয়ে গেছে৷

দু-জনে একবার থমকে দাঁড়ালেন৷ দু-জনে দু-জনের মুখের দিকে তাকালেন৷ দু-জনের মুখে তখন একটা প্রশ্নই আটকে আছে—এবার কোন রাস্তায়? কয়েক সেকেন্ড চিন্তা করতে-না- করতেই তাঁরা মধ্যবর্তী রাস্তায় দু-জন লোককে দেখতে পেলেন৷ তাদের দেখে প্রাসাদের মালি বলেই মনে হয়েছিল৷ সুতরাং আর কিছু চিন্তা না করে মাঝের রাস্তা ধরে এগিয়ে চললেন৷

মিস মোবারলি পরে অবশ্য বলেছিলেন, লোক দুটোকে দেখে তাঁর মনে হয়েছিল সাধারণ মালি নয় এরা৷ নিশ্চয় সৈন্যবিভাগের কোনো উচ্চপদস্থ অফিসার হবেন৷ তাঁদের পরনে ছিল ধূসর সবুজ রঙের লম্বা কোট৷ আর মাথায় ছিল তিন কোনা টুপি৷ মিস জর্ডেনও পরবর্তীকালে বলেছিলেন তিনিও ওইরকম দু-জন লোককে দেখেছিলেন৷ এমনকী তাদের হাতে যে ছড়ি জাতীয় কিছু ছিল তারও উল্লেখ করেছিলেন৷ যাই হোক, লোক দুটিকে দেখার পর মিস মোবারলিই এগিয়ে গিয়ে প্রের্টিট ট্রায়ানোঁ কোন রাস্তায় পড়বে তার হদিশ জিজ্ঞাসা করেছিলেন৷ লোক দুটি ইংরেজি প্রশ্নের কী মানে করেছিলেন কে জানে৷ তাঁরা ফরাসি ভাষায় উত্তর দিয়েছিলেন, ‘টুট্য ড্রাআ’ (Tout Droit)৷

ভুল হয়েছিল এখানেই৷ Droit শব্দটির ইংরেজি আভিধানিক অর্থ হল right. মানে দাবি বা অধিকার৷ কিন্তু মিস মোবারলি ধরে নিলেন তাঁদের বুঝি ডান দিকের গলিতে যেতে বলা হচ্ছে৷ কালবিলম্ব না করে তাঁরা ডান দিকের রাস্তা ধরে কিছুদূরে এগিয়ে গেলেন৷ একটু পরেই মিস জর্ডেনেরই প্রথম নজরে এল একটি ছোট্ট কুঁড়েঘর৷ বাড়িটির নির্মাণ কৌশল ছিল বহু পুরোনো আমলের ফরাসি কায়দায়৷ কুঁড়েঘরটির সামনে দাঁড়িয়ে ছিল একজন মধ্যবয়েসি স্ত্রীলোক ও একটি অল্পবয়েসি কুমারী মেয়ে৷ সম্ভবত ছোটো মেয়েটি ওই বয়স্কা মহিলারই কন্যা হবে৷ মিস মোবারলি আর মিস জর্ডেন দু-জনেই একটু আশ্চর্য হলেন৷ কারণ ওই দু-জন গ্রাম্য মহিলার পরনে ছিল অতি পুরোনো দিনের পোশাক-আশাক৷ কম করে এক শতাব্দীর আগের পরিচ্ছদ৷ এসব পোশাকের চলন ১৯০১ সালে ছিল না৷ কিন্তু বিস্ময়ের এখানেই শেষ নয়৷ আরও খানিকটা এগিয়ে গিয়ে তাঁরা একটা জিনিস লক্ষ করে বেশ চমকেই উঠেছিলেন৷ মেয়ে দুটির মুখে কোনো কথা ছিল না৷ বয়স্কা মহিলাটিকে দেখে মনে হল সে যেন হাতে একটা বালতি জাতীয় কিছু নিয়ে কোমর ভেঙে নীচু হয়ে কী যেন করছে৷ কিন্তু তার ওই ভঙ্গির মধ্যে জীবনের কোনো স্পন্দনই ছিল না৷ মনে হল কেউ যেন তাকে শাস্তি দিয়ে ওইভাবে আজন্মকাল ধরে দাঁড় করিয়ে রেখেছে৷ মিস জর্ডেন তো অস্ফুটে বলেই ফেললেন, দেখে মনে হচ্ছে ‘ট্যাবলো ভিভাঁ’র মতো জীবন্ত কোনো প্রতিমূর্তি৷ কেউ যেন মোম দিয়ে জ্যান্ত মানুষের মতো প্রতিকৃতি তৈরি করে রেখেছে৷

তাঁদের এই প্রথম অদ্ভুত অভিজ্ঞতাটি পরবর্তীকালে বেশ গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছিল৷

মেয়ে দুটিকে ওইভাবে নিশ্চল এবং নিথর অবস্থায় দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে দু-জনেই বেশ হতভম্ব হয়ে মুখ চাওয়াচাওয়ি করলেন৷ যখন তাঁরা ভাবছিলেন এর পর কী করবেন, ঠিক তখনি অকল্পনীয় ঘটনা ঘটতে শুরু করল৷ মুহূর্ত মধ্যেই সুস্পষ্ট তাঁরা অনুভব করলেন, চারিদিকের প্রকৃতির মধ্যে অভাবনীয় সব পরিবর্তন৷ আকাশের রং একটু আগেও ছিল নীল৷ হঠাৎই কেমন যেন সেই রং হয়ে উঠল বিবর্ণ হলুদ৷ আশপাশে সমস্ত প্রকৃতির বুকে নেমে এল রাতের নিস্তব্ধতা৷

এমন একটা পরিবেশ, চারিদিক অসহ্য নিস্তব্ধ, আশেপাশে একটা জীবন্ত প্রাণী পর্যন্ত নেই, এমনকী গাছে গাছে যেসব পাখিরা ওড়াউড়ি করছিল তারাও ছবির মতো স্থির; মিস মোবারলি আর মিস জর্ডেনের মতো শিক্ষিত দুই মহিলা রীতিমতো ভয় পেয়ে গেলেন৷ তাঁরা তাড়াতাড়ি পা চালিয়ে ওই অভিশপ্ত জায়গাটি পার হয়ে আসতে চেয়েছিলেন৷ কিন্তু কয়েক পা এগিয়েই আবার থমকে দাঁড়াতে হল৷

কুঁড়েঘরটার ঠিক পিছনেই ছিল একটা জঙ্গল৷ কিন্তু জঙ্গলটাকে দেখে তাঁদের মনে হল কে যেন থিয়েটারের জন্যে একটা চিরকালীন দৃশ্যপট এঁকে দিয়েছে৷ সেখানেও মৃত্যুর শীতলতা ছড়িয়ে রয়েছে৷ তারপর হঠাৎই তাঁরা দেখতে পেলেন মাটির একটা ছোট্ট ঢিপি৷ সেখানে বসে আছে একটি মাঝবয়েসি লোক৷ লোকটির পরনে রয়েছে একটা পুরোনো আমলের কালো আলখাল্লা৷ আর মাথায় ঢাউস টুপি৷

অন্য সময়ে হলে এই লোকটিকে দেখে তাঁদের এমন কিছুই মনে হত না৷ কিন্তু সেই অস্বাভাবিক পরিবেশের মধ্যে দাঁড়িয়ে দু-জনেই তখন কিংকর্তব্যবিমূঢ়৷ মনে মনে তাঁরা দু-জনেই যখন ভাবছেন এখন কী করা যায় ঠিক সেই মুহূর্তে সামনের সেই বসে থাকা লোকটি হঠাৎ যেন নড়ে উঠল৷ অনেকক্ষণ পর এই প্রথম মৃত্যুপুরীর শীতলতায় প্রাণের স্পর্শ লাগল যেন৷ লোকটি বসা অবস্থায় ধীরে ধীরে ওদের দিকে ফিরে তাকাল৷

ওঃ, সে কী বীভৎস মুখ! আর কী জঘন্য চাউনি লোকটির! মিস মোবারলি তো আঁতকে দু-পা পিছিয়ে এলেন৷

অবশ্য অত ভয়ের মধ্যেও দু-জনের মনেই একটা কথার উদয় হয়েছিল৷ লোকটা তাঁদের দিকে তাকিয়ে ছিল বটে কিন্তু তার দৃষ্টি ঠিক তাঁদের দিকে নিবদ্ধ ছিল না৷ তার ওই কুৎসিত শয়তানি দৃষ্টিটা যেন বার বার বলছিল—কেন, কেন তোমরা এখানে? তোমরা এখান থেকে যাও৷ পালাও এখান থেকে৷

সেই মায়াময় পরিবেশে, সেই রহস্যময় বিকেলে রাস্তা হারিয়ে ফেলা দুই ইংরেজ মহিলা মনে মনে হয়তো এটাই চাইছিলেন যে এই ভয়াবহ পরিবেশ থেকে এক্ষুনি পালিয়ে যাওয়া উচিত৷ নইলে যেকোনো মুহূর্তে আরও ভয়াবহ কিছু ঘটে যেতে পারে৷

ঠিক তখনি ঘটল আরও এক অদ্ভুত কাণ্ড৷ আশেপাশে কোনো জনমানবের চিহ্ন ছিল না৷ কিন্তু হঠাৎ যেন মাটি ফুঁড়ে বেরিয়ে এল আর একজন লোক৷ অবশ্য এই লোকটির মধ্যে অত ভীতিজনক তেমন কিছু ছিল না৷ তবে লোকটি যেভাবে হাঁপাতে-হাঁপাতে এসে হাজির হল তাতে মনে হল সে যেন অনেক দূর থেকে ছুটতে ছুটতে আসছে৷

লোকটি তখন রীতিমতো উত্তেজিত৷ চিৎকার করে সে বলে উঠল, ‘মহাশয়ারা, আপনারা এখনও কেন এখানে দাঁড়িয়ে আছেন? আর এক মুহূর্ত এখানে দাঁড়াবেন না৷ আপনারা যা দেখতে চাইছেন সেটা এদিকে নয়, ওদিকে৷’ বলেই হাত তুলে অন্য রাস্তা দেখিয়ে দিল৷ মিস জর্ডেন বোধ হয় কিছু বলতে যাচ্ছিলেন৷ কিন্তু লোকটি সে অবকাশই দিল না৷

লোকটির দেখিয়ে দেওয়া রাস্তা ধরে উভয়ে কিছুদূর এগিয়ে গেলেন৷ সামনেই পড়ল অতি প্রাচীন একটি গ্রাম্য সেতু৷ সেতুটি পার হতেই এসে পড়লেন বাগান ঘেরা একটি বাড়ির সামনে৷ তখন কিন্তু আর সেই আগের থমথমে অবস্থাটা ছিল না৷ প্রকৃতিও অনেক স্বাভাবিক৷ চারদিকের পরিবেশ দেখে মনে হল তাঁরা যেন কোনো ব্যারাকে এসে পড়েছেন৷ যে বাড়িটার সামনে এসে ওঁরা দাঁড়ালেন ওটাই সেই বিখ্যাত প্রের্টিট ট্রায়ানোঁ৷ মেরি অ্যান্টয়নেটের সাধের বাড়ি৷

অস্বাভাবিকতা পার হয়ে স্বাভাবিক এবং জাগতিক পরিবেশের মধ্যে আসতে পেরে উভয়েই যেন হাঁফ ছেড়ে বাঁচলেন৷ প্রাণভরে প্রকৃতির নির্মল বাতাস নিলেন৷ কিন্তু এখানেই মিস মোবারলির জন্যে সব থেকে বেশি চমক আর বিস্ময় অপেক্ষা করে ছিল৷

সবুজ ঘাসে মোড়া শান্ত লনটির দিকে চোখ ফিরিয়ে ফিরিয়ে দেখছিলেন দু-জনেই৷ সামনে প্রের্টিট ট্রায়ানোঁ৷ মেরি অ্যান্টয়নেটের প্রিয় আবাসস্থল৷ ঐতিহাসিক মূল্যেও এ-স্থান বেশ উল্লেখযোগ্য৷ সহসা, বিকেলের অর্ধম্রিয়মাণ আলোয় চমকে উঠলেন মিস মোবারলি৷ কোনো ভুল ছিল না তাঁর দেখায়৷ বিকেলের আলোয় দৃশ্য অপেক্ষাকৃত কম উজ্জ্বল হলেও মিস মোবারলির চোখের দৃষ্টি খুবই প্রখর৷ তিনি দেখলেন বাড়ির দিকে পিছন ফিরে এক সুবেশা রমণী ছোট্ট একটি টুলের ওপর বসে আছেন৷ তাঁর হাতে ধরা একটি কাগজ৷ বাঁ-হাতটিকে সোজা টানটান রেখে কাগজটি চোখের সামনে ধরে আছেন৷ দেখে মনে হচ্ছিল তিনি যেন ছবি আঁকার স্কেচ করছেন৷ মিস মোবারলি বেশ আশ্চর্য হলেন৷ এই পরিবেশে এখন একজন মহিলাকে একা একা বসে থাকতে দেখা একটু অস্বাভাবিক৷ কনুই-এর ঠেলা দিয়ে তিনি পাশে দাঁড়ানো মিস জর্ডেনকে বললেন, ‘কী ব্যাপার বল তো? এমন এক নির্জন জায়গায় ওই মহিলা একা একা বসে কী করছেন?’

মিস জর্ডেন বেশ অবাক হয়ে চারদিক দেখে বললেন, ‘কার কথা বলছেন মিস মোবারলি? কে বসে আছেন?’

‘সে কী, তুমি দেখতে পাচ্ছ না? ওই তো এক মহিলা ওখানে বসে কিছু বোধ হয় আঁকছেন৷’

‘আপনি যে কী বলছেন আমি কিছুই বুঝতে পারছি না৷ আমি তো কাউকেই দেখতে পাচ্ছি না৷ তবে...হ্যাঁ, হ্যাঁ, আবছা মতো একটা কিছু ওখানে রয়েছে বলে মনে হচ্ছে৷’

‘আবছা! কী বলছ তুমি? তোমার কি চোখের দৃষ্টিশক্তি কমে গেছে! আমি তো স্পষ্ট দেখতে পাচ্ছি৷ ওই তো উনি আমাদের দিকে মুখ ফেরালেন—ওঃ, ঈশ্বর! এ আমি কী দেখছি—উনি, উনি তো মেরি অ্যান্টয়নেট—’

মিস মোবারলি পরবর্তীকালে তাঁর জবানবন্দিতে বলেছিলেন, ‘সেই অভিশপ্ত বিকেলে আমি যা দেখেছিলাম তা বিস্ময়ের হলেও বেশ স্পষ্ট৷’

এই ঘটনার কিছু পরেই মিস মোবারলি এবং মিস জর্ডেনের আর সেখানে দাঁড়াবার মতো মানসিক ক্ষমতা ছিল না৷ তাঁরা চটপট বাগান সংলগ্ন বাড়িটার কাছে গিয়ে দাঁড়ালেন৷ এমন সময় বাড়ির ভেতর থেকে খুব প্রাণবন্ত এবং হাসিখুশি ভরা এক তরুণ এসে তাঁদের সামনে দাঁড়াল৷ জিজ্ঞাসা করল তাঁরা কোথায় যেতে চান৷ তরুণটিই শেষপর্যন্ত তাঁদের প্রের্টিট ট্রায়ানোঁর প্রধান ফটকের কাছে নিয়ে যায়৷ কিন্তু সেখানকার পরিবেশ সম্পূর্ণ অন্যরকম৷ এই যে এতক্ষণের দেখা অলৌকিক সব কাণ্ডকারখানা তার কোনো চিহ্নই ছিল না৷ প্রের্টিট ট্রায়ানোঁর প্রধান ফটক পার হতেই তাঁরা দেখলেন হাসিখুশি ভরা বহু দর্শনার্থীর ভিড়৷ সেই মুহূর্তে তাঁদের মনে হয়েছিল মৃত্যুপুরী থেকে তাঁরা ফিরে এসেছেন৷

মেরি অ্যান্টয়নেটের ঐতিহাসিক বাড়ি দেখে একসময় ওঁরা দু-জনে অন্যান্য দর্শনার্থীদের সঙ্গে নির্বিঘ্নে ফিরে এসেছিলেন প্যারিসে৷

এই ঘটনার সপ্তাহকাল পরেও মিস মোবারলিকে বেশ চিন্তাচ্ছন্ন এবং ভারাক্রান্ত দেখাত৷ তাঁকে দেখে মনে হত তিনি সর্বদাই কী যেন ভাবেন৷ এমনকী মনের ভাব হালকা করার জন্যে তিনি ইংল্যান্ডে তাঁর বোনকে সব কিছু জানিয়ে চিঠিও লিখেছিলেন৷

একদিন কথায় কথায় মিস জর্ডেনকেও জিজ্ঞাসা করেছিলেন, ‘আচ্ছা জর্ডেন, তোমার কি মনে হয় প্রের্টিট ট্রায়ানোঁর বাড়িটা ভূতুড়ে বাড়ি?’ মিস জর্ডেন এককথায় উত্তর দিয়েছিলেন, ‘হ্যাঁ, মিস মোবারলি৷ কোনো সন্দেহ নেই ও-বাড়িতে ভূত আছে৷’

এরপর ওই দুই ইংরেজ মহিলা অনেকদিন ধরে সে-দিনের ঘটনার মানে খোঁজার চেষ্টা করেছিলেন৷ পুরোনো দিনের শোনা সব ভূতের গল্পের সঙ্গে নিজেদের অভিজ্ঞতা বার বার মিলিয়ে দেখেছিলেন৷ তাঁরা দু-জনেই একমত হয়েছিলেন যে সে-দিন তাঁরা যা দেখেছিলেন, তাতে তাঁরা দু-জনেই একইসঙ্গে ভয়চকিত হয়েছিলেন৷ দু-জনেই সেই বিকেলে একইসঙ্গে এক অজানা শিহরনে শিহরিত হয়েছিলেন৷ এমনকী দু-জনে আলাদা আলাদা ভাবে নিজেদের বক্তব্য আর অভিজ্ঞতার কথা লিখেছিলেন৷ পরে মিলিয়ে দেখেছিলেন দু-জনের বক্তব্য আর অভিজ্ঞতা হুবহু এক৷ সেদিনটা ছিল ১০ আগস্ট৷ পুরোনো ইতিহাসে ওই দিনটার একটি ঐতিহাসিক ঘটনাও তাঁরা পেয়েছিলেন৷ ১০ আগস্ট ১৭৯২ সাল৷ রাজার সুইস রক্ষীদল সে-দিন সম্পূর্ণভাবে পরাজিত হয়েছিল যার ফলে আর রাজার পক্ষে নিজের রাজতন্ত্রবাদ বাঁচিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি৷

এরপর তাঁরা দু-জনে তাঁদের পূর্ব অভিজ্ঞতা স্মরণ করে এবং মেরি অ্যান্টয়নেটের জীবন ইতিহাসের সঙ্গে মিলন ঘটিয়ে লিখলেন একটি বই৷ বইটির নাম দিলেন—অ্যান অ্যাডভেঞ্চার ৷

অ্যান অ্যাডভেঞ্চার প্রকাশিত হয়েছিল ১৯১১ সালে৷ আর ওই একই বছরে বইটির এডিশন হু হু করে বিক্রি হয়ে যায়৷

সকল অধ্যায়
১.
অদৃশ্য মানুষ
২.
অমানুষিক মানুষ
৩.
ইন্দ্ৰজালের মায়া
৪.
বিশাল গড়ের দুঃশাসন
৫.
মানব দানব
৬.
বিভীষণের জাগরণ
৭.
মানুষের গড়া দৈত্য
৮.
মোহনপুরের শ্মশান
৯.
মড়ার মৃত্যু
১০.
প্রেতাত্মার প্ৰতিশোধ
১১.
সর্বনাশা নীলা
১২.
কামরা আর আমরা
১৩.
মূর্তি
১৪.
কী?
১৫.
ওলাইতলার বাগানবাড়ি
১৬.
বাঁদরের পা
১৭.
বাদলার গল্প
১৮.
বাড়ি
১৯.
মাথা-ভাঙার মাঠে
২০.
রামস্বামীর উপলমণি
২১.
ভূতের রাজা
২২.
কে?
২৩.
মিসেস কুমুদিনী চৌধুরি
২৪.
চিলের ছাতের ঘর
২৫.
খামেনের মমি
২৬.
ক্ষুধিত জীবন
২৭.
রুদ্রনারায়ণের বাগানবাড়ি
২৮.
বিজয়ার প্রণাম
২৯.
আয়নার ইতিহাস
৩০.
ঐন্দ্রজালিক
৩১.
জ্বলন্ত চক্ষু
৩২.
কঙ্কাল-সারথি
৩৩.
কিসমৎ
৩৪.
তিন নম্বরের ঘর
৩৫.
দিঘির মাঠে বাংলো
৩৬.
পিশাচ
৩৭.
ভীমেডাকাতের বট
৩৮.
জীবন্ত মৃতদেহ
৩৯.
অভিশপ্ত মূর্তি
৪০.
কলকাতার বিজন দ্বীপে
৪১.
বন্দি আত্মার কাহিনি
৪২.
ছায়া, না কায়া?
৪৩.
জীবন্ত মৃত্যু
৪৪.
নবাব কুঠির নর্তকী
৪৫.
কোর্তা
৪৬.
ভূত-পেত্নীর কথা
৪৭.
পোড়ো-মন্দিরের আতঙ্ক
৪৮.
অভিশপ্ত নীলকান্ত
৪৯.
ভূতের ভয়
৫০.
আজও যা রহস্য
৫১.
ভূত যখন বন্ধু হয়
৫২.
এথেন্সের শেকল বাঁধা ভূত
৫৩.
আধ খাওয়া মড়া
৫৪.
স্বপ্ন হলেও সত্য
৫৫.
শয়তান
৫৬.
গঙ্গার বিভীষিকা
৫৭.
বাদশার সমাধি
৫৮.
পোড়ো বাড়ি
৫৯.
ভৌতিক, না ভেলকি?
৬০.
ভৌতিক চক্রান্ত
৬১.
পেপির দক্ষিণ পদ
৬২.
পর্বত ও মূষিক
৬৩.
অট্টহাসক
৬৪.
টেলিফোন
৬৫.
নবাবগঞ্জের সমাধি
৬৬.
ভূত আর ভূতনাথ
৬৭.
আজব সত্য-কাহিনি
৬৮.
বাজলে বাঁশী কাছে আসি
৬৯.
বংশীবদনের বহির্গমন
৭০.
অলৌকিক
৭১.
জুজুর ভয়
৭২.
রামস্বামীর উপল মণি
৭৩.
বাড়ি, বুড়ো, বুট
৭৪.
শয়তানি-জুয়া
৭৫.
রহস্যময় বাড়ি
৭৬.
বাঘের চোখ
৭৭.
মানুষ, না পিশাচ
৭৮.
জাগ্রত হৃৎপিণ্ড
৭৯.
অভিশপ্তা
৮০.
সূর্যদেবতার পুরোহিত
৮১.
অদৃশ্যের কীর্তি
৮২.
নসিবের খেলা
৮৩.
ছায়া—কায়া—মায়া
৮৪.
বিছানা
৮৫.
লোটা
৮৬.
মাঝরাতের ‘কল’
৮৭.
এক রাতের ইতিহাস
৮৮.
কিন্তু
৮৯.
কায়া কি ছায়া কি মায়া
৯০.
ডাকবাংলো
৯১.
তবে
৯২.
মামূর্তের দানব-দেবতা
৯৩.
নবাব বাহাদুরের বংশধর
৯৪.
মুক্তি
৯৫.
মৃতদেহ
৯৬.
নরকের রাজা
৯৭.
ভেলকির হুমকি
৯৮.
আধ খাওয়া মড়া
৯৯.
কালো বিদ্যুৎ
১০০.
নিশীথ রাতের কাহিনী

নোট নিতে এবং টেক্সট হাইলাইট করতে লগইন করুন

লগইন
০%