বিজয়ার প্রণাম

হেমেন্দ্রকুমার রায়

এক

হঠাৎ কলকাতা ছাড়তে হয়েছিল। মনে আছে, সেদিন দুর্গাপূজার অষ্টমী। ঠিক এক বছর পরে, নবমীর দিন আবার কলকাতায় ফিরে এলাম। বাড়িতে এসে দেখি, চিঠির বাক্সে আমার নামে খানকয় চিঠি জমা হয়ে আছে।

একখানা চিঠি লিখেছেন আমার দূরসম্পর্কের আত্মীয় সুরেনকাকা। তারিখ দেখে বুঝলাম, চিঠিখানি লেখা হয়েছে গেল বছরের কোজাগরী লক্ষ্মীপুজোর দিন। চিঠিখানি এই —

‘স্নেহাপদেষু,

প্রিয় নরেশ, একবার আমার সঙ্গে দেখা করো। আমার বিশেষ দরকার আছে।

ইতি নিত্যশুভাকাঙ্ক্ষী

সুরেনকাকা।'

বিদেশ থেকে সুরেনকাকাকে তিন-চারখানা চিঠি লিখেছিলাম। কিন্তু একখানারও জবাব পাইনি। ঠিক করলাম, আসছে কাল বিজয়াদশমীর দিন সুরেনকাকাকে প্রণাম করতে যাব।

দুই

সুরেনকাকার বাড়ি ছিল ভবানীপুরে। অনেকগুলো বাড়িতে বিজয়ার কোলাকুলি ও প্রণাম সেরে যখন সুরেনকাকার বাড়ির সামনে গিয়ে হাজির হলাম, রাত তখন সাড়ে নটার কম হবে না।

গ্যাসের আলোতে দেখলাম, সুরেনকাকার বাড়ির সব দরজা-জানলা বন্ধ। ভিতর থেকে একবিন্দু আলোর আভাও বাইরে আসছে না। এরই মধ্যে কি বাড়ির সব লোক ঘুমিয়ে পড়েছে? কিন্তু একটা জানলাও খোলা নেই কেন? এখন তো শীতকাল নয়, এই গরমে সব জানলা বন্ধ করে কেউ কি ঘুমোতে পারে? তবে কি বাড়িতে কেউ নেই? বাড়িখানাকে দেখলে তাই-ই মনে হয়। সে যেন কাতরভাবে নাচার হয়ে দাঁড়িয়ে আছে, হঠাৎ মূর্ছিত হয়ে ভেঙে পড়তে পারে! দু-পা এগিয়ে সদর দরজার কাছে গেলাম। দরজা বন্ধ ছিল, কিন্তু ঠেলতেই খুলে গেল।

সুরেনকাকার বাড়িতে আমার অবারিত দ্বার, কাজেই ভিতরে ঢুকতে কোনো দ্বিধাবোধ করলাম না। উঠানের সামনে এসে আমার থমকে দাঁড়ালাম। দশমীর চাঁদের আলো এসে উঠানের খানিকটা উজ্জ্বল করে তুলেছে, বাকি সবটা অন্ধকার। কোথাও কারুর সাড়াশব্দ নেই, কেবল কতগুলো ঝিঁঝিপোকা কর্কশ স্বরে চিৎকার করছে।

চেঁচিয়ে ডাকলাম, ‘সুরেনকাকা!' আমার গলার আওয়াজ শুনে ঝিঁঝিঁপোকাদের কনসার্ট থেমে গেল।

বাড়ির ভিতর থেকে কোনো সাড়া এল না, কিন্তু বাইরের রাস্তা থেকে আওয়াজ এল ‘রাম-নাম সত্য হ্যায়, রাম-নাম সত্য হ্যায়, রাম-নাম সত্য হ্যায়!' কারা মড়া নিয়ে যাচ্ছে। অন্ধকারের ভিতরে নিজেকে বড়ো বেশি একলা বলে মনে হতে লাগল !

আবার চেঁচিয়ে ডাকলাম, ‘সুরেনকাকা বাড়িতে আছেন?'

যেন অনেকদূর থেকে ক্ষীণ সাড়া এল, ‘কে? কে ডাকে?”

আমি! আমি নরেশ।'

'যাচ্ছি।'

খট খট খট করে খড়মের শব্দ জেগে উঠে সেই অন্ধকার বাড়ির স্তব্ধতা ভেঙে দিল। সুরেনকাকা বাড়িতে খড়ম পায়ে দিতেন।

খড়মের শব্দ বারান্দার কাছে এসে থামল। সেইখান থেকেই সুরেনকাকা বললেন, ‘নরেশ, এতদিন পরে তুমি এলে বাবা? আমি যে আজ এক বছর ধরে তোমার অপেক্ষা করছি।' আমি বললাম, ‘সুরেনকাকা! আমি যে বিদেশে ছিলাম, আপনার চিঠি পাইনি।' “আচ্ছা, সে-সব কথা পরে শুনব অখন। আগে তুমি ওপরে এসো।’

‘ওপরে কী করে যাব, চারদিকে যে অন্ধকার! আগে আলো জ্বালুন !

আচ্ছা নরেশ, ‘তবেই তো মুশকিলে ফেললে! সব আলোর তেল ফুরিয়ে গেছে যে! . তাহলে তুমি ওইখানেই দাঁড়িয়ে শোনো। তুমি আমাকে হাজার টাকা ধার দিয়েছিলে, মনে আছে তো? তোমার সেই হাজার টাকা আমার অ্যাটর্নি রামেন্দু বোসের কাছে জমা আছে। সেখানে গেলেই তুমি টাকা পাবে !

আমি বললাম, ‘সুরেনকাকা, ওকথা কেন, আমি তো আপনার কাছে টাকা চাইতে আসিনি, আমি এসেছি বিজয়ার প্রণাম করতে! আমি ওপরে যাব।’

'আচ্ছা, তাহলে ওপরেই এসো। সিঁড়ির ওপরে চাঁদের আলো আছে, তোমার কোনো কষ্ট হবে না!”

খুব সাবধানে, উঠানের অন্ধকার পেরিয়ে সিঁড়ির উপরে গিয়ে উঠলাম। তারপর দ্বিতলের ছাদে গিয়ে দাঁড়াতেই সুরেনকাকা ধীরে ধীরে এগিয়ে এলেন।

সুরেনকাকার মাথায় ছিল বকের পালকের মতন সাদা লম্বা চুল ও মুখে ছিল তেমনই লম্বা ও সাদা দাড়ি; তার উপরে আজ তিনি আবার একখানা সাদা চাদরে আপাদমস্তক মুড়ি দিয়েছিলেন। ম্লান চাঁদের আলোতে আজ তাঁর মূর্তির ভিতরে কেমন একটা অমানুষিক ভাব জেগে উঠেছে! এ মূর্তিকে আজ যদি কোনো অপরিচিত লোক অজানা কোনো জায়গায় দেখতে পায়, তাহলে নিশ্চয়ই তার নাড়ি ছেড়ে যায় !

আমি ভূমিষ্ঠ হয়ে তাঁর পায়ে হাত দিয়ে প্রণাম করতে গেলাম, কিন্তু হাত বাড়িয়েও তাঁর পা ছুঁতে পারলাম না। বললাম, 'ও সুরেনকাকা, আপনি পা সরিয়ে নিলেন কেন? দিন, পায়ের ধুলো দিন !

সুরেনকাকা কোনো জবাব দিলেন না।

আচম্বিতে বাড়ির একটা ঘরের ভিতর থেকে মেয়ে-গলায় আর্তনাদ জেগে উঠল, কে যেন কাতরে কাতরে কাঁদছে আর যাতনায় ছটফট করছে।

চমকে মুখ তুলে বললাম, সুরেনকাকা, সুরেনকাকা, ও কে কাঁদে?'

সুরেনকাকা এবারেও জবাব দিলেন না। তাড়াতাড়ি বাড়ির ভিতর দিকে চলে গেলেন, তাঁর খড়মের খটখটানি ক্রমেই অস্পষ্ট হয়ে এল, যেন তিনি দূরে, দূরে, অনেক দূরে এগিয়ে আর এগিয়েই যাচ্ছেন—খটখট খটখট খটখট খট, খট, খট, খট

তিন

হতভম্ব হয়ে বসে আছি। চাঁদের আলো আছে বটে, কিন্তু সে যেন আজ মরে গেছে। একটা কালপ্যাঁচা তেতলার ছাদের আলিসার কোণে বসে মাঝে মাঝে ঘাড় বেঁকিয়ে আমাকে দেখছে।

নীচের উঠান থেকে একটা হুলোবেড়াল ক্রমাগত চ্যাঁচাচ্ছে, আউ, আউ, আউ, আউ- মিনিট পনেরো কেটে গেল, কিন্তু সুরেনকাকার আর দেখা নেই! আজকে এই বাড়ির অবস্থা, সুরেনকাকার ব্যবহার, মেয়ে-গলায় কাতরানি, সবই কেমন রহস্যময় !

আর-একটা প্রশ্ন মনকে বার বার খোঁচা দিতে লাগল। সুরেনকাকার পায়ে হাত দিয়েও তাঁর পা ছুঁতে পারলাম না কেন? হ্যাঁ, কেন পারলাম না, কেন?

আরও মিনিট পাঁচেক কাটল। আমি আর থাকতে না পেরে ডাকলাম, সুরেনকাকা, অ সুরেনকাকা !

কোনো সাড়া নেই।

‘সুরেনকাকা! শুনছেন? অ সুরেনকাকা!’

কোনো সাড়া নেই।

প্যাঁচাটা ওঁচা গলায় চ্যাঁ চ্যাঁ করে চেঁচিয়ে উড়ে পালাল, হুলোবেড়ালটাও চুপ মেরে গেল ৷ আমি তো এ বাড়ির সর্বত্র যেতে পারি, এখানেই বা বসে থাকি কেন? এই ভেবে উঠে বারান্দায় গিয়ে দাঁড়ালাম।

উঠানের উপরে দু-দিকে বারান্দা। তার ভিতরে খানপাঁচেক ঘর। সেখানে চাঁদের আলো নেই। অন্ধকারে হাতড়ে হাতড়ে দেখলাম, সব দরজাই কেবল বন্ধ নয়, বাহির থেকে তাদের শিকলে তালা-চাবি লাগানো !

কিন্তু !

সুরেনকাকা যে এদিকেই এসেছেন, সে-বিষয়ে কোনোই সন্দেহ নেই! আর এই ঘরগুলোরই কোনো একখানার ভিতর থেকে মেয়ে-গলায় কান্না শুনেছি, এটাও আমি হলপ করে বলতে পারি!... সুরেনকাকাই বা কোথায় গেলেন; কাঁদলই বা কে, আর সব ঘর তালাবন্ধই বা কেন?

এতক্ষণ যে সন্দেহ করিনি, এইবারে তা জেগে উঠে আমার মনকে আতঙ্কে একেবারে আচ্ছন্ন করে দিল। আমি পাগলের মতন উপর থেকে ছুটে নীচে নেমে এলাম, রুদ্ধশ্বাসে সদরের কাছে এসে একটানে দরজা খুলে ফেলতে গেলাম, কিন্তু পারলাম না, সদর দরজাতেও বাহির থেকে কুলুপ দেওয়া! এই সদর দরজা দিয়েই একটু আগে আমি বাড়ির ভিতরে ঢুকেছি! এর মধ্যে দরজায় তালা দিল কে? আর কেনই বা দিল?

হতাশভাবে সদর দরজায় পিঠ দিয়ে দাঁড়িয়ে ঠকঠক করে কাঁপতে লাগলাম।

হঠাৎ মনে পড়ল, সুরেনকাকার বাড়ির খিড়কিতে পুকুর ও বাগান আছে। এ-কথা মনে হতেই বেগে সেইদিকে ছুটলাম। বাগানে গিয়ে কোনোরকমে পাঁচিল টপকে আবার রাস্তায় এসে পড়লাম।

সুরেনকাকা যে পাড়াতে থাকতেন,' সেই পাড়াতেই আমার বাল্যবন্ধু অখিলের বাড়ি। পরদিন সকালে ঘুম থেকে উঠেই অখিলের বাড়িতে ছুটলাম।

চার

বৈঠকখানায় বসে অখিল চা পান করতে করতে খবরের কাগজ পড়ছিল, আমাকে দেখে বিস্মিত স্বরে বলল, ‘এই যে, নরেশ যে! কবে কলকাতায় ফিরলে হে?'

‘পরশু! কাল তোমাদের পাড়ায় বিজয়ার প্রণাম করতে এসেছিলাম, কিন্তু সুরেনকাকার

বাড়িতে দেরি হয়ে গেল বলে তোমার সঙ্গে আর দেখা করতে পারিনি।' দুই চোখ কপালে তুলে অখিল বলল, 'কাল তুমি সুরেনবাবুর বাড়িতে গিয়েছিলে? কিন্তু সেখানে তোমার দেরি হল কেন?”

‘সুরেনকাকার সঙ্গে কথা কইতে কইতে দেরি হয়ে গেল।’

অখিল গম্ভীর মুখে বলল, ‘নরেশ, কাল তুমি কতটা সিদ্ধি খেয়েছিলে?'

আমি বললাম, ‘কাল বিজয়ার সম্ভাষণ করতে গিয়ে প্রত্যেক বাড়িতেই একটু-আধটু সিদ্ধি খেতে হয়েছিল বটে, তবে বেশি সিদ্ধি নিশ্চয়ই খাইনি। কিন্তু তুমি এ-কথা জিজ্ঞাসা করছ কেন?’

অখিল বলল, ‘এই এক বছরের ভেতরে তুমি কি সুরেনবাবুর কোনো খবর পাওনি?'

'না ৷’

‘গেল বছরে ঠিক এমনি সময়ে এ পাড়ায় কলেরার মড়ক দেখা দিয়েছিল। সাত দিনের ভেতরে সুরেনবাবু, তাঁর স্ত্রী আর দুটি ছেলে-মেয়ে কলেরায় মারা যান। সেই থেকে তাঁর বাড়ি খালি পড়ে আছে।’

তারপর অনেক বছর কেটে গেছে। কিন্তু বিজয়াদশমীর দিন হাজার অনুরোধেও আর আমি সিদ্ধি খাই না।

সকল অধ্যায়
১.
অদৃশ্য মানুষ
২.
অমানুষিক মানুষ
৩.
ইন্দ্ৰজালের মায়া
৪.
বিশাল গড়ের দুঃশাসন
৫.
মানব দানব
৬.
বিভীষণের জাগরণ
৭.
মানুষের গড়া দৈত্য
৮.
মোহনপুরের শ্মশান
৯.
মড়ার মৃত্যু
১০.
প্রেতাত্মার প্ৰতিশোধ
১১.
সর্বনাশা নীলা
১২.
কামরা আর আমরা
১৩.
মূর্তি
১৪.
কী?
১৫.
ওলাইতলার বাগানবাড়ি
১৬.
বাঁদরের পা
১৭.
বাদলার গল্প
১৮.
বাড়ি
১৯.
মাথা-ভাঙার মাঠে
২০.
রামস্বামীর উপলমণি
২১.
ভূতের রাজা
২২.
কে?
২৩.
মিসেস কুমুদিনী চৌধুরি
২৪.
চিলের ছাতের ঘর
২৫.
খামেনের মমি
২৬.
ক্ষুধিত জীবন
২৭.
রুদ্রনারায়ণের বাগানবাড়ি
২৮.
বিজয়ার প্রণাম
২৯.
আয়নার ইতিহাস
৩০.
ঐন্দ্রজালিক
৩১.
জ্বলন্ত চক্ষু
৩২.
কঙ্কাল-সারথি
৩৩.
কিসমৎ
৩৪.
তিন নম্বরের ঘর
৩৫.
দিঘির মাঠে বাংলো
৩৬.
পিশাচ
৩৭.
ভীমেডাকাতের বট
৩৮.
জীবন্ত মৃতদেহ
৩৯.
অভিশপ্ত মূর্তি
৪০.
কলকাতার বিজন দ্বীপে
৪১.
বন্দি আত্মার কাহিনি
৪২.
ছায়া, না কায়া?
৪৩.
জীবন্ত মৃত্যু
৪৪.
নবাব কুঠির নর্তকী
৪৫.
কোর্তা
৪৬.
ভূত-পেত্নীর কথা
৪৭.
পোড়ো-মন্দিরের আতঙ্ক
৪৮.
অভিশপ্ত নীলকান্ত
৪৯.
ভূতের ভয়
৫০.
আজও যা রহস্য
৫১.
ভূত যখন বন্ধু হয়
৫২.
এথেন্সের শেকল বাঁধা ভূত
৫৩.
আধ খাওয়া মড়া
৫৪.
স্বপ্ন হলেও সত্য
৫৫.
শয়তান
৫৬.
গঙ্গার বিভীষিকা
৫৭.
বাদশার সমাধি
৫৮.
পোড়ো বাড়ি
৫৯.
ভৌতিক, না ভেলকি?
৬০.
ভৌতিক চক্রান্ত
৬১.
পেপির দক্ষিণ পদ
৬২.
পর্বত ও মূষিক
৬৩.
অট্টহাসক
৬৪.
টেলিফোন
৬৫.
নবাবগঞ্জের সমাধি
৬৬.
ভূত আর ভূতনাথ
৬৭.
আজব সত্য-কাহিনি
৬৮.
বাজলে বাঁশী কাছে আসি
৬৯.
বংশীবদনের বহির্গমন
৭০.
অলৌকিক
৭১.
জুজুর ভয়
৭২.
রামস্বামীর উপল মণি
৭৩.
বাড়ি, বুড়ো, বুট
৭৪.
শয়তানি-জুয়া
৭৫.
রহস্যময় বাড়ি
৭৬.
বাঘের চোখ
৭৭.
মানুষ, না পিশাচ
৭৮.
জাগ্রত হৃৎপিণ্ড
৭৯.
অভিশপ্তা
৮০.
সূর্যদেবতার পুরোহিত
৮১.
অদৃশ্যের কীর্তি
৮২.
নসিবের খেলা
৮৩.
ছায়া—কায়া—মায়া
৮৪.
বিছানা
৮৫.
লোটা
৮৬.
মাঝরাতের ‘কল’
৮৭.
এক রাতের ইতিহাস
৮৮.
কিন্তু
৮৯.
কায়া কি ছায়া কি মায়া
৯০.
ডাকবাংলো
৯১.
তবে
৯২.
মামূর্তের দানব-দেবতা
৯৩.
নবাব বাহাদুরের বংশধর
৯৪.
মুক্তি
৯৫.
মৃতদেহ
৯৬.
নরকের রাজা
৯৭.
ভেলকির হুমকি
৯৮.
আধ খাওয়া মড়া
৯৯.
কালো বিদ্যুৎ
১০০.
নিশীথ রাতের কাহিনী

নোট নিতে এবং টেক্সট হাইলাইট করতে লগইন করুন

লগইন
০%