বাঘুয়ার আবির্ভাব

সৌম্য ভট্টাচার্য

গান মুখস্থ করে শুতে শুতে দেরি হয়ে গিয়েছিল ডোরা, ডোনাদের। তাদের ঘুমোবার সময় আকাশে ফুটে উঠেছিল অসংখ্য জ্বলজ্বলে তারা। তারপর ধীরে ধীরে ভোর হল। পুবের আকাশে প্রথম দেখা দিল লালচে আভা। সেই লাল ছড়িয়ে পড়ল আকাশের আনাচেকানাচে। বনের জন্তুরা ভোরে ওঠে। ঘুমন্ত বাচ্চাদের না-জাগিয়ে সন্তর্পণে গুহা ছেড়ে বেরিয়ে পড়ল সনাতন, সনাতনগিন্নি, ওদের বাচ্চারা আর দুই কুমির। শুধু ভোঁদড়-বুড়ি নাক ডাকিয়ে ঘুমোতে লাগল।

ডোরা, ডোনাদের ঘুম যখন ভাঙল, তখন বেশ বেলা হয়ে গেছে। সূর্য লাফিয়ে আকাশে উঠে পড়েছে অনেকটা। তার উজ্জ্বল রশ্মি অন্ধকার গুহার ভেতরটাও আলোকিত করে তুলেছে।

আগেই বলেছি যে, ডোরা, ডোনারা ভোরে উঠে স্কুলে যায়। তাদের স্কুলের বাস সকাল সকাল নিতে আসে। বেশি দেরি করে ঘুমোনোর অভ্যেস তাদের নেই। সূর্যের আলো চোখে পড়তে প্রথম উঠল ডোনা।

চোখ কচলে তাকাল সে। সকালটা কী আশ্চর্য সুন্দর। সূর্যের উজ্জ্বল আলোয় ঝকমক করছে চারদিক। এ দেশে আসা ইস্তক এমন উজ্জ্বল, সুন্দর সূর্যের আলো দেখেনি লীনা। কুমিরের গুহা থেকে বেরোতে চোখ ধাঁধিয়ে গেল তার। কোথায় কুয়াশা? কোথায় সেই বিষণ্ণ অন্ধকার পরিবেশ? সব কেমন জাদুমন্ত্রে মিলিয়ে গেছে! সামনের নদীটা সূর্যের আলোয় রুপোর পাতের মতো ঝকমক করছে। গাছের ডালে ডালে গান গাইছে কত নাম না-জানা পাখি। কী মিষ্টি, ঠাণ্ডা বাতাস বইছে চারদিকে!

ডোনা আনন্দে চিৎকার করে উঠল, ‘ডোরাদিদি, নীলু, মিতুল ওয়েক আপ! ওয়েক আপ! লুক, দ্য ফগ হ্যাজ লিফটেড! দা ফগ হ্যাজ লিফটেড!’

ডোনার চিৎকারে ডোরা আর বাকিরাও চোখ মুছতে মুছতে বেরিয়ে এল গুহার বাইরে। সত্যিই কুয়াশা কেটে গেছে। বাইরে আলো ঝলমলে দিন। সূর্য অকৃপণ আলোয় দুনিয়াকে ভরিয়ে তুলছে। দূরের ধানখেতে রোদ্দুর আর ছায়ার লুকোচুরি খেলা চলছে। নীল আকাশে ভেসে চলেছে সাদা মেঘের ভেলা।

আর এপারে বনের মধ্যে?

সেদিকে তাকিয়ে ডোরা-ডোনাদের চক্ষুস্থির। নদীর ধারে বেশ খানিকটা জায়গা পরিষ্কার মাঠের মতো। ঝোপঝাড় নেই সেখানে। সেই মাঠে জড়ো হয়েছে অসংখ্য বনের প্রাণী। গোল হয়ে বসে আছে তারা। কে নেই সেখানে? ইঁদুর, বাদুড়, সজারু, ছুঁচো, বেজি, ভাম, শেয়াল, কুমির, ভোঁদড়, ভাল্লুক, গন্ডার, এমনকী জলহস্তী পর্যন্ত। দু-একটা চিতাবাঘ আর গুলেবাঘও নখ দিয়ে কান চুলকোতে চুলকোতে অপেক্ষা করছে। খানতিনেক হাতি মোটাসোটা বলে বসতে পারেনি। তারা পাশে গাছের গায়ে পিঠ ঘষছে। গাছের ডালে ডালে কত নাম না-জানা পাখি। ঝলমলে ডানা মেলে তারা এ-গাছ থেকে ও-গাছে উড়ে যাচ্ছে। একটা ময়ূর পেখম মেলে নাচছে। কিন্তু এত জন্তুজানোয়ার থাকলেও কোথাও কোনো সাড়াশব্দ নেই। চারদিক আশ্চর্য রকম নিস্তব্ধ, নিশ্চুপ।

ভোঁদড় সনাতন ও তার পরিবার একদিকে চুপ করে বসে আছে। তিন ভোঁদড় ছানা হ্যাংলা, ল্যাংড়া আর খাই-খাই এমনিতে হুটোপুটি করে। এখন তারাও বাধ্য ছেলের মতো টুঁ শব্দ না করে বসে আছে।

নীলু সনাতনকে জিগ্যেস করল, ‘কী ব্যাপার, সনাতন? সবাই এখানে কেন? সবাই একসাথে জড়ো হয়েছে কেন?’

‘চুপ!’ মুখে আঙুল ঠেকাল সনাতন। ‘চুপ! সে আসছে!’

—কে আসছে?

বলতে না বলতেই ডোরা, ডোনা, মিতুল, নীলু ভয়ে, বিস্ময়ে এক্কেবারে নির্বাক হয়ে গেল।

মাঠের কাছ ঘেঁষেই গরান ঝোপের ঘন জঙ্গল। সেই জঙ্গলে প্রথমে একটু চাঞ্চল্য জাগল। জঙ্গলটা ধীরে ধীরে ফাঁক হচ্ছে। খড়মড় খড়মড় শব্দ হচ্ছে শুকনো পাতায়। একটা গম্ভীর গুরু গুরু আওয়াজ আসছে ঝোপঝাড়ের ভেতর থেকে।

তারপর গরানের ঝোপ ফাঁক হয়ে হলুদের একটা আভাস দেখা দিল। ধীরে ধীরে হেলতে দুলতে বেরিয়ে এল সে। চলনে, বলনে রাজকীয় আভিজাত্য। এক সুবিশাল হলুদ, কালো ডোরা কাটা রয়্যাল বেঙ্গল টাইগার।

‘বাঘুয়া!’ রুদ্ধশ্বাসে বলে উঠল মিতুল।

‘মাই গড!’ চমকে ফিস ফিস করে উঠল ডোরা।

চমকাবারই কথা। ডোরা, ডোনা, মিতুল, নীলু চিড়িয়াখানায় বাঘ দেখেছে। টেলিভিশনে বা সিনেমাতেও বাঘের দর্শন অলভ্য নয়। কিন্তু এ-বাঘের জাতই আলাদা। আয়তনে সাধারণ বাঘের প্রায় দু-গুণ। সারাদেহে পেশির ঢেউ খেলছে। একই সঙ্গে শক্তি আর রূপ মিশলে যে ভয়ংকর সুন্দরের সৃষ্টি হয়, এই বাঘ যেন তার মূর্ত প্রতীক।

ধীরেসুস্থে দুলকি চালে বাঘটি মাঠের মাঝখানে ফাঁকা জায়গায় এসে বসল।

যে জানোয়াররা চুপ করে ছিল, তারা এবার সরব হয়ে উঠল।

‘বাঘুয়া!’, ‘বাঘুয়া!’, ‘বাঘুয়া!’ —সবাই একসুরে কথা বলছে।

ডোরা, ডোনারা লক্ষ করল যে, সেই ডাকে একটা অদ্ভুত সুর আছে, ছন্দ আছে। অনেক আদর, অনেক সমাদর, অনেক প্রত্যাশা মিশে আছে ডাকটাতে— বাঘুয়া! বাঘুয়া! বাঘুয়া! বাঘুয়া!

ধীরে ধীরে হেলতে দুলতে বেরিয়ে এল সে।চলনে,বলনে রাজকীয় আভিজাত্য।এক সুবিশাল হলুদ,কালো ডোরা কাটা রয়্যাল বেঙ্গল টাইগার।

সুরেলা নামোচ্চারণে জঙ্গল মুখর হয়ে উঠল। সারা জঙ্গল যেন মন্ত্রোচ্চারণে পবিত্র হয়ে উঠেছে।

হাত-কয়েক দূরত্বে এক বিশাল রয়্যাল বেঙ্গল টাইগার। তবু ডোরা, ডোনাদের ভয় করল না। বাঘুয়ার চলনে, গমনে একটা প্রবল শক্তি যেমন আছে, তেমনই আছে নির্ভরতা। তার কাছে এলে কেউ ভয় পায় না, বরং স্বস্তি পায়। তারপর বাঘুয়া তাদের দিকে তাকাল। জ্বলজ্বলে চোখ, কিন্তু হিংস্র নয়। কঠিন অথচ কোমল, শান্ত অথচ অস্থির, আদিম অথচ জ্ঞানী সে চাউনি। বেশ কিছুক্ষণ ডোরা-ডোনাদের দেখে বাঘুয়া কথা বলল। গম্ভীর বাজের মতো গুরু গুরু তার কন্ঠস্বর : ডোরা ‘কণা, ডোনা, মিতুল, নীলু—তোমরা এসেছ! আমি খুব খুশি হয়েছি তোমাদের দেখে।’

নীলু বলে উঠল, ‘আমাদের চিনলে কী করে?’

—আমি সব জানি নীলু, সবাইকে চিনি। তোমরা যে আসবে, তোমাদের যে আসতেই হবে, সে তো দেশের ভাগ্যে লেখা আছে।

মিতুল বলল, ‘বাঘুয়া, এতদিন কোথায় ছিলে?’

মিতুলের প্রশ্নে নিস্তব্ধ জঙ্গল সরব হয়ে উঠল। সবার মুখেই এক প্রশ্ন— কোথায় ছিলে বাঘুয়া? এতদিন কোথায় ছিলে?

হাতিরা প্রশ্ন করল, ‘এতদিন কোথায় ছিলে?’

কুমিরেরা প্রশ্ন করল, ‘এতদিন কোথায় ছিলে?’

ভাল্লুক প্রশ্ন করল, ‘এতদিন কোথায় ছিলে?’

এক পদ্মকোরকবর্ণা তরুণী জলহস্তিনী তার পাখির নীড়ের মতো চোখ তুলে সলজ্জ মিহি গলায় শুধোল, ‘এতদিন কোথায় ছিলেন?’

সমবেত গুঞ্জনধ্বনিতে জঙ্গল মুখর হয়ে উঠল। জন্তুজানোয়ারেরা এগিয়ে এসে বাঘুয়াকে ঘিরে ধরল। তাদের সবার মুখে প্রশ্ন, সবার চোখে বিস্ময়।

—কোথায় ছিলে, বাঘুয়া? কীভাবে ছিলে? কীভাবে ফিরলে?

বাঘ যদি মুচকি হাসে তাহলে যে ভাব ফোটে, কতকটা সেরকম ভাব বাঘুয়ার মুখে ফুটে উঠল।

সে বলল, ‘ঘুমিয়ে ছিলাম!’

—ঘুমিয়ে ছিলে? এতদিন? কোথায়? কীভাবে?

—আইরাক্ষস-কাইরাক্ষসের দেশে।

—আইরাক্ষস, কাইরাক্ষস? তারা কারা, বাঘুয়া?

তখন সবার সরব প্রশ্নের জবাবে বাঘুয়া এই গল্প বলল,

শ্বেত রাক্ষসদের তাড়াতে, বাংলা মায়ের দুঃখ ঘোচাতে আমি পীতরাক্ষসদের সঙ্গে নিয়ে যুদ্ধ করছিলাম। কিন্তু পারিনি। যুদ্ধে আমাদের হার হায়। যুদ্ধের শেষে আহত দেহে আমি শেষবারের মতো বাংলা মায়ের কাছে আসি। মাকে বলি, ‘মা, আর যে-কেউ হাল ছেড়ে দিক, আমি ছাড়ব না। আমি শেষ রক্তবিন্দু দিয়ে লড়ব।’

মা বললেন, ‘কী করবি, বাঘুয়া?’

—মা, আমি দরিয়া সাঁতরে আইরাক্ষস-কাইরাক্ষসদের দেশে যাব। তাদের সাহায্য চাইব।

—পারবি?

—তোমার প্রসাদে সব পারব, মা?

সনাতন বলে উঠল, ‘মকররাজ তো বলে বেড়ায় যে, তুমি আইরাক্ষস-কাইরাক্ষসদের দেশে যেতে গিয়ে জলে ডুবে মারা গেছ?’

বাঘুয়া হাসল, ‘দেখতেই পাচ্ছ যে, মকররাজের কথাটা সত্যি নয়। তবে সে দরিয়া সাঁতরানো সহজ ছিল না। তুফানে উথালপাতাল দরিয়া। ঢেউ ফুলে ফুলে উঠছে। আকাশে চমকাচ্ছে বিদ্যুৎ। ঢেউয়ের তোড় কোথায় ভাসিয়ে নিয়ে যেতে চাইছে! তার মধ্যে একা সাঁতরে চলেছি।’

—তারপর?

—তারপর একদিন কূলের দেখা মিলল। আইরাক্ষস-কাইরাক্ষসদের দেশের মাটিতে এসে পড়লাম।

—তারপর?

ওরা খুব খাতির করে আমায় একটা গুহায় নিয়ে গেল। সেখানে ভালো ভালো খাবারদাবার। শোবার ধপধপে বালিশ বিছানা। বলল, ‘বিশ্রাম নিন। ঘুম থেকে উঠলে আই রাক্ষস, কাই-রাক্ষসের সঙ্গে দেখা হবে।’

ডোনা রুদ্ধশ্বাসে বলে উঠল, ‘তারপর কী হল?’

—যেই চোখটা একটু বুজে এসেছে, ধপ করে গুহার মুখে লোহার দরজায় তালা পড়ে গেল। বাইরে শোনা গেল আইরাক্ষস-কাইরাক্ষসের অট্টহাসি, ‘ফাঁদে পড়েছে, ব্যাটা ফাঁদে পড়েছে! আর বেরোতে পারবে না!’

—তারপর?

—সেই অন্ধকার গুহায় কেটে গেল মাসের পর মাস, বছরের পর বছর, যুগের পর যুগ। প্রথমে দিনের হিসেব করতাম, কিছুদিন পর তা-ও ছেড়ে দিলাম। দিনের মধ্যে একবার ওরা গরাদের মধ্যে দিয়ে খাবার ছুড়ে দিত। যা দিত, তাই খেতাম। আর খেয়েই ঘুম পেত। পড়ে পড়ে ঘুমোতাম। হয়ত খাবারে ঘুমের ওষুধ মিশিয়ে দিত ওরা।’

—পালানোর কথা ভাবতে না?

—না। সব কিছু কেমন অবশ, অসাড় হয়ে গেছিল। ভাবনাচিন্তা করার শক্তিও চলে গিয়েছিল। কাদার তালের মতো খালি বেঁচেই ছিলাম।

—বাংলা মা-র কথা মনে পড়ত না।

—প্রথম প্রথম পড়ত। শেষ দেখার সময় মায়ের সেই কান্না-কান্না মুখ। পরে তা-ও ভুলে গেছিলাম।

বাঘুয়ার মুখ দেখে মনে হল যে, অত্যন্ত দুঃখ, কষ্ট, হতাশা আর আক্ষেপের মধ্যে তার বন্দিদশা কেটেছে।

—ছাড়া পেলে কীভাবে?

বাঘুয়া হাসল, ‘সে আরেক গল্প। ঘুমিয়ে আছি। এক সকালে হঠাৎ নাকের ওপর কটাশ করে কে কামড়াল। চমকে চেয়ে দেখি একটা মৌমাছি!’

—মৌমাছি!

—হ্যাঁ, একটা নয়। বেশ কয়েকটা। তারা গরাদের ফাঁক দিয়ে গুহার মধ্যে ঢুকেছে, ঘুরপাক খাচ্ছে আর কামড়াচ্ছে। রেগে গিয়ে এক থাবা মারলাম কিন্তু ধরতে পারলাম না। মৌমাছিগুলো গুন গুন করে গান গাইছিল—

—কী গাইছিল তারা?

—প্রথমে বুঝতে পারিনি। তারপর সুর আর কথা স্পষ্ট হয়ে উঠল।

ওঠো ওঠো বাঘুয়া, কত ঘুমাবে বলো।

ডোরা, ডোনা, নীলু, মিতুল বাংলাদেশে এল।

ডোনা চুপ করে শুনছিল। সে আর থাকতে পারল না, বলল—‘আশ্চর্য, মৌমাছিরা তো আমাদেরও আসতে বলল।’

—তাই নাকি? কী বলল তারা?

—কল্যাণীতে দাদুর বাড়ির বাগানে, পুকুরের ধারে বসে আছি। মৌমাছিরা গুন গুন করে বলল—

ডুব দে রে মন কালী বলে।

ভরা ডুব একটা শুধু দাও।

দাও ডুব, ডুব দাও।

সেই সুর শুনেই তো স্থির থাকতে না পেরে জলে ঝাঁপিয়ে পড়লাম। তারপর বটগাছের ফোকর গলে এই আজব দেশে চলে এসেছি।

—আজব দেশ বলছ কেন, ডোনা? এতো তোমার নিজেরই দেশ।

—ঠিক, বাঘুয়া! এ দেশে এসেই মনে হচ্ছে যে, এ দেশ তো অচেনা নয়, অনেক দিনের চেনা। অনেক দিন এ দেশের সঙ্গে আমাদের পরিচয়!

নীলু বলল, ‘ডোনা, তোর হল কী? তুই তো এতক্ষণ কারো সঙ্গে বাংলায় কথা বলিস না। সবসময় ইংরেজিতে ফট ফট করিস।’

—সামথিং হ্যাজ বিন লিফটেড ফ্রম মাই সোল, নীলু। আই ফিল লাইক আই অ্যাম বেঙ্গলি এগেইন!’

বাঘুয়া বলল, ‘সবই মৌমাছিদের মধুর চক্রান্ত। আসলে কোনো কিছুই বিনা কারণে ঘটে না। আমারও ফেরার সময় হয়েছিল। তোমাদেরও আসার সময় হয়েছিল। মৌমাছিরা যোগাযোগটা ঘটিয়ে দিয়েছে মাত্র।’

মিতুল বলল, ‘মৌমাছিরা তো কামড়ে আর গান করে তোমাকে জাগিয়ে দিল। কিন্তু তুমি সেই গারদ থেকে বেরোলে কী করে?’

—ঠিক মিতুল! তুমি খুব বুদ্ধিমতী! ঠিক প্রশ্ন করেছ! আসলে ঘুম ভেঙে মনে হল যে, বহুদিনের জড়তা, আলসেমি, দুর্বলতা কেটে গেছে। গায়ে ফিরে এসেছে পুরোনো জোর। গরাদের কাছে গিয়ে চাড় দিতেই বহুদিনের পুরোনো গরাদ পাটকাঠির মতো পট করে ভেঙে গেল। বেরিয়ে এলাম। গুহার বাইরে যে বিশাল পাঁচিল, তাতেও শ্যাওলা আর ফাটল ধরেছে। এক ধাক্কায় তাসের ঘরের মতো সেটা ধ্বসে গেল। কোত্থাও কোনো সেপাই-সান্ত্রী নেই। ধু ধু করছে চারদিক। একলাফে পাঁচিল টপকে ছুট দিলাম দেশের মাটির দিকে। যে দরিয়া অত কষ্ট করে সাঁতরে পার হয়েছিলাম একদিন, আমাকে দেখে সে দরিয়া নিজে থেকে ফাঁক হয়ে পথ করে দিল। পলকে নিজের দেশে ফিরে এলাম।

—আইরাক্ষস-কাইরাক্ষস জানে যে তুমি পালিয়েছ?

—আসার আগে তো বিদায় জানিয়ে আসতে পারিনি— ডোরা কিন্তু একটা ছোট্ট মিষ্টি চিঠি লিখে রেখে এসেছি। এতদিন বন্দি থাকলেও আমি তো ছিলাম তাদেরই অতিথি! সেকথা ভুলি কী করে বলো?

—কী লিখেছ সে চিঠিতে?

—লিখেছি—

আই রে! কাই রে!

আমি তো আর নাই রে!

সকল অধ্যায়
১.
গরমের ছুটিতে
২.
ডায়েরি আর রাখি
৩.
দাদুর বাগানে
৪.
এলেম নতুন দেশে
৫.
ভোঁদড় বাহাদুর
৬.
কুমিরের ডেরায় বাঘুয়ার গল্প
৭.
বাঘুয়ার আবির্ভাব
৮.
কালাপাহাড়ের আক্রমণ
৯.
পুরাণের ভবিষ্যদবাণী
১০.
মকররাজের মন্ত্রণাসভা
১১.
পর্তুগিজ কেল্লায়
১২.
খোক্কোসদের চক্রান্ত
১৩.
ছুঁচোর ফৌজ
১৪.
বাঘুয়া ও বাচ্চারা
১৫.
ময়নাবুড়ির কাছে
১৬.
কালনেমির কবলে
১৭.
নটসূর্য নাড়ুগোপাল
১৮.
হারিয়ে গেল ডোনা
১৯.
যক্ষপুরীতে ডোনা
২০.
বিভীষণ
২১.
কালাপাহাড়ের ফন্দি
২২.
যক্ষপুরীর নন্দিনী
২৩.
ডোনার গান ও শেয়ালপন্ডিতের আবির্ভাব
২৪.
যুদ্ধযাত্রা
২৫.
শেয়ালপন্ডিতের সিদ্ধিলাভ
২৬.
বন্দি বাংলা মায়ের কাছে
২৭.
বাংলার মাটি, বাংলার জল
২৮.
বাঘুয়া বনাম কালাপাহাড়
২৯.
বাংলা মায়ের সভা
৩০.
সবপেয়েছির দেশে
৩১.
ঘরে ফেরা
৩২.
আবার আসিব ফিরে
৩৩.
উত্তরকথন
৩৪.
লেখকের কথা
৩৫.
দেশভাগ ও বাঙালি জাতীয়তাবাদ*

নোট নিতে এবং টেক্সট হাইলাইট করতে লগইন করুন

লগইন
০%