সৌম্য ভট্টাচার্য
সনাতনের পেছু পেছু বনের সুঁড়িপথ দিয়ে ডোরা, মিতুল আর নীলু এগিয়ে গেছে বহুদূর। তারা খেয়ালও করেনি যে, ডোনা পিছিয়ে পড়েছে। কালনেমির খপ্পরে পড়েছে। তাদের লক্ষ্য কত তাড়াতাড়ি পর্তুগিজ বোম্বেটেদের কেল্লায় ফিরে যাবে।
এদিকে ডোনা কালনেমির বাক্যচ্ছটায় একেবারে মোহিত হয়ে গেল। সে ভুলে গেল বাংলা মায়ের কথা, ভুলে গেল বাঘুয়ার কথা, ভুলে গেল ডোরা, মিতুল আর নীলুর কথা, ভুলে গেল যে, কত বড়ো মহৎ প্রতিশ্রুতির বাহক হয়ে জাদুপথ বেয়ে সে এই আজবদেশে এসে পৌঁছেছে।
এক অশুভ লগ্নে, যখন জঙ্গলের মধ্যে ঘনিয়ে এসেছে অন্ধকারের ঘোর, আকাশ ঢেকে গেছে গাঢ় কুয়াশায়, যখন কালনেমির গা থেকে বেরোনো তীব্র সুগন্ধ আচ্ছন্ন করে দিচ্ছে সমস্ত চৈতন্য, সেই দুঃস্বপ্নের লগ্নে ডোনা কালনেমির কথায় বিশ্বাস করে তার পেছন পেছন যক্ষপুরীর দিকে চলল।
পর্তুগিজ কেল্লার যখন খুব কাছে চলে এসেছে ডোরা-মিতুল-নীলু, তখন তাদের সবারই একসঙ্গে খেয়াল হল—ডোনা কোথায়?
সেই ঝিঁঝিঁ ডাকা, জোনাক জ্বলা সন্ধেবেলা, যখন ময়নাবুড়ির কাছে গান শিখে বেরিয়েছিল ওরা চারজন, তখন ডোরা ছিল সবার আগে আগে। তারপর মিতুল আর নীলু। সবার শেষে ছিল ডোনা। সনাতন ভোঁদড় পথ দেখিয়ে তাদের নিয়ে যাচ্ছিল।
কখন কোন ফাঁকে ডোনা যে সরে পড়েছে, তা তারা কেউই খেয়াল করেনি।
খেয়াল হতেই ডোরা জিগ্যেস করল, ‘ডোনা কোথায়?’
শুনে মিতুলের টনক নড়ল। সে বলল, ‘তাই তো! ডোনার তো কোনো সাড়া পাওয়া যাচ্ছে না!’
নীলু বলল, ‘ডোনাদিদি কোথায় গেল?’
তখন তিন বাচ্চা সমস্বরে চিৎকার করে উঠল, ‘ডোনা! কোথায় তুমি!’ ঝিঁঝি ডাকা বনের গাছে গাছে, পাতায় পাতায় প্রতিধ্বনিত হয়ে তাদের কন্ঠস্বর ফিরে এল, ‘ডোনা! কোথায় তুমি!’
শালগাছ প্রতিধ্বনি করল, ‘ডোনা! কোথায় তুমি!’
বটগাছ প্রতিধ্বনি করল, ‘ডোনা! কোথায় তুমি!’
তাল, শিমুল, জারুল, অর্জুন, সুন্দরী গাছ প্রতিধ্বনি করল, ‘ডোনা! কোথায় তুমি!’
রাত্রির আকাশ, বাতাস, প্রতিধ্বনি করল, ‘ডোনা! কোথায় তুমি!’
কিন্তু কোথাও ডোনার সাড়া পাওয়া গেল না।
সনাতন ভোঁদড় আর্তনাদ করে উঠল, ‘ডোনা কোথায়? ডোনা কি হারিয়ে গেল? এ কী সর্বনাশ!’
বাঘুয়া তখন কেল্লার মাঠে। তার মধ্যস্থতায় ইঁদুর আর ছুঁচোদের কাজিয়া মিটে গেছে। বেশ কিছু ইঁদুর আর ছুঁচো সেই ভ্রাতৃঘাতী দাঙ্গায় প্রাণ হারিয়েছে। কেল্লার মাঠে এক বিশাল চিতা জ্বেলে তাদের সৎকার হয়েছে। দধিকর্মা, নান্দীমুখ আর মেঠো ইঁদুরদের সর্দার সূচিমুখ পরস্পরকে আলিঙ্গন করে ঝগড়া মিটিয়ে, মাথা নীচু করে বাঘুয়ার তিরস্কার শুনছিল।
তাদের কানেও এল ডোরা, মিতুল, নীলু, সনাতনের মিলিত আর্তনাদ। দৌড়ে কেল্লার বাইরে বেরিয়ে এল তারা।
তখন চারদিকে খোঁজ খোঁজ রব পড়ে গেল। ডোনার সন্ধানে চারদিকে চর পাঠানো হল। বাঘুয়াকে দেখে অবশ্য খুব বিচলিত মনে হল না। তার হাবে ভাবে মনে হল, এমন কিছু যে হবে, তা সে ভেতরে ভেতরে ধরেই নিয়েছিল।
ডোরা, মিতুল আর নীলু হাউ হাউ করে কাঁদতে কাঁদতে বলল, ‘বাঘুয়া, কী হবে? ডোনা কি হারিয়ে গেল?’
বাঘুয়া শান্তস্বরে বলল, ‘খোঁজ নিচ্ছি, ডোরা, নীল, মিতুল। দেখি, ও কোথায় আছে। বাচ্চা মেয়ে। হয়তো অন্ধকারে পথ ভুল করেছে।’
সারারাত ওরা ঠায় জেগে বসে রইল। কেউ কিছু খেল না। খাওয়ার রুচিও ছিল না। রাতটা যেন কেমন কেমন। আগে কুয়াশা কেটে গিয়ে ঝকঝকে আকাশে নীল নীল তারা ফুটে উঠত। চাঁদের আলোর বান ভেসে যেত। এখন আবার ধূসর কুয়াশা তাদের ঘিরে পাক খাচ্ছে। তারার আলো, চাঁদের আলো ঢেকে গিয়ে এক কুয়াশা ঘেরা ঘন অন্ধকার তাদেরকে জড়িয়ে ধরেছে, পাকে পাকে পেঁচিয়ে ধরেছে।
শেষ রাত্রে খবর এল। আকাশে তখন ভোরের আলো ফুটি ফুটি করছে। হঠাৎ একটা ডানার ঝাপটের শব্দ পাওয়া গেল। সে শব্দে দধিকর্মা, নান্দীমুখ, সূচিমুখ ক্রোধে অধীর হয়ে কিচ কিচ শব্দ করে রোঁয়া ফুলিয়ে ল্যাজের ওপর ভর দিয়ে দাঁড়িয়ে তাদের তীক্ষ্ণ দাঁত বের করে ভেঙচি কাটল। বাঘুয়া বলল, ‘দধিকর্মা, নান্দীমুখ, সূচিমুখ—ভয়ের কোনো কারণ নেই, এ তোমাদের শত্রু নয়।’
বলতে বলতেই লক্ষ্মী প্যাঁচা সুষমা ডানা ঝাপটাতে ঝাপটাতে শোঁ শোঁ করে নেমে এসে বাঘুয়ার কাঁধের ওপর বসল। দধিকর্মা, সূচিমুখদের দেখে সে-ও প্রীত নয়। তার ভাঁটার মতো চোখ মেলে স্থির দৃষ্টিতে সে এই বৃহৎ, বর্ধিষ্ণু ছুঁচো আর ইঁদুরদের দিকে তাকাল। প্যাঁচাদের কাছে ছুঁচো, ইঁদুর অতি সুখাদ্য। সুষমার নোলাও শকশকিয়ে উঠল। তার জিভ দিয়ে অনেকটা নাল ঠস করে বাঘুয়ার কাঁধের ওপর পড়ল।
বাঘুয়া বলল, ‘সুষমা! এরা তোমার জলখাবার নয়! আজ বাংলা মায়ের দুঃখমোচনের জন্য সবাই মিলিত হয়েছি। ছুঁচো, ইঁদুর, প্যাঁচা আজ ভাই ভাই! ডোনার খবর কিছু পেলে?’
অতি কষ্টে জিভের জল সংবরণ করে সুষমা যে সংবাদ দিল, তা মোটেই শুভ নয়। সে বলল, ‘ডোনা কালনেমির খপ্পরে পড়েছে।’
—কালনেমি? কে সে?
—এক ভাম। এক অতি পাজি বৃদ্ধ ভাম। মকররাজের গুপ্তচর।
—কীভাবে সে ডোনাকে ধরল?
—জানি না। ডোনা বোধহয় দলছুট হয়ে গিয়েছিল। কালনেমি কথার জাদুকর। জীবনে সে কখনো সত্যি কথা বলেনি। মিথ্যে কথা বলে দিনকে রাত আর রাতকে দিন সে করতে পারে। ডোনাকে হয়তো উলটো-সিধে বুঝিয়ে ভুলিয়ে দিয়েছে। ভুলিয়ে ভালিয়ে তাকে যক্ষপুরীতে নিয়ে গেছে।
সনাতন ভোঁদড় এতক্ষণ চুপচাপ শুনছিল। তার মনমেজাজ অত্যন্ত খারাপ। ডোরা, ডোনাদের পথ দেখিয়ে ফিরিয়ে আনার দায়িত্ব সে-ই নিয়েছিল। ডোনাকে হারিয়ে ফেলার পর অত্যন্ত বিষণ্ণ মনে সে নিজেকেই দোষ দিচ্ছে। সে এবার ভাঙা গলায় বলল, ‘ভাম! আমার ছেলে হ্যাংলার আশপাশে একটা ভামকে কয়েকদিন ঘুর ঘুর করতে দেখেছি! ভামটাকে কীরকম দেখতে বলো তো?’
—ছাইবর্ণ দেহ। সাদা-কালো ডোরাকাটা বিশাল ল্যাজ। গলায় সবসময় মাফলার জড়ানো। গোঁফগুলো সব সাদা।
সাদা গোঁফ, গলায় মাফলার-জড়ানো ভাম! ওরে সর্বনাশ! ওই ভামটাই তো তাহলে কালনেমি! কতবার হ্যাংলাটাকে বললাম যে, ভামটাকে খেদিয়ে দে। ও বলে, ‘না বাবা, ভামটা খুব ভালো। আমায় দেখলেই তোপসে মাছ খাওয়ায়।’ হ্যাংলা রে! তোর হ্যাংলামির জন্যে যে সব গেল! গলায় মাফলার দেখেই আমার সন্দেহ হওয়া উচিত ছিল।
ডোরা বলল, ‘গলায় মাফলার দেখলেই সন্দেহ হবার কী আছে?’
সনাতন কাঁদতে কাঁদতে বলল, ‘যারা মকররাজের বিষবড়ি বেশি করে খেয়েছে, তাদের সবারই গলা নীল হয়ে যায়। নীলকন্ঠ হয়ে যায় তারা। সেটা ঢাকতে কেউ মাফলার, কেউ বা টাই পরে। কেউ বা শাল গলায় জড়িয়ে নেয়। হায় রে, হ্যাংলা! কী কুক্ষণে যে তুই কালনেমির পাল্লায় পড়েছিলি?’
বাঘুয়া বলল, ‘ডোনা যে যক্ষপুরীতে পৌঁছে গেছে, সেটা স্থির জানো?’
সুষমা বলল, ‘হ্যাঁ। এই নদী তিনটে বাঁকের পর যেখানে বিশাল চওড়া হয়ে গেছে, সেখানে একটা দ্বীপের মধ্যে যক্ষপুরী। পার থেকে একটা সাঁকো সেই দ্বীপের সঙ্গে সংযোগ রক্ষা করছে। সাঁকো পেরিয়ে বিশাল প্রাচীর। সেই দেয়াল বিশ হাত উঁচু। সেই পাঁচিলের ওপর তীক্ষ্ণ লোহার শলা বসানো। পাঁচিলে একটা সিং-দরজা। সেটাও লোহার। শয়ে শয়ে সশস্ত্র খোক্কোস সাঁকোর সামনে-পেছনে, সিং-দরজার সামনে-পেছনে আর পাঁচিলের ওপর থানা দিয়ে বসে আছে। আমি নিজের চোখে দেখলাম যে, ডোনা কালনেমির পেছন পেছন বন পেরিয়ে, সাঁকো পেরিয়ে সেই সিং-দরজার মধ্যে দিয়ে ঢুকে গেল।’
—তাকে ডাকলে না? সতর্ক করলে না?
—কতবার ডাকলাম। নাম ধরে চিৎকার করলাম। শুনতেই পেল না। কেমন একটা ঘোরের মধ্যে বাচ্চা মেয়েটা হাঁটছিল।
বাঘুয়া বলল, ‘সর্বনাশ! মেয়েটা বিষের বড়ি খায়নি তো?’
—অসম্ভব নয়। কালনেমির পক্ষে সবই সম্ভব।
বাঘুয়া তখন গম্ভীর মুখে চোখ বন্ধ করে, চুপ করে অনেকক্ষণ কী যেন চিন্তা করল।
ডোরা, মিতুল, নীলু, সনাতন, সুষমা, দধিকর্মা, নান্দীমুখ, সূচিমুখ—এরা সবাই চুপ করে, ধৈর্য ধরে বসে রইল।
অনেকক্ষণ চোখ বন্ধ করে চিন্তা করার পর বাঘুয়া যখন চোখ মেলে তাকাল, তখন উপস্থিত সবাই অধীর আগ্রহে প্রশ্ন করল, ‘কী হল, বাঘুয়া? ডোনা কি বিষের বড়ি খেয়েছে?’
বাঘুয়া বলল, ‘না, খায়নি। শেষবার আমি যখন ডোনার পেছনে একটা কালো ছায়া দেখেছিলাম, তখন ওকে ডেকে বার বার সতর্ক করে দিয়েছিলাম যে, পথেঘাটে কক্ষনো কারো দেওয়া খাবার যেন না খায়। এ ছাড়া মনে মনে এমন একটা জাদুমন্ত্র পড়ে দিয়েছিলাম যে, বিষ মেশানো কোনো খাবার দেখলেই যাতে ওর মনে বিতৃষ্ণা আসে, শীত করে ওঠে, বমি পায়। কালনেমি ডোনাকে বিষ মেশানো চকলেট খাওয়াতে চেয়েছিল—পারেনি। তবে বিপদ মেয়েটাকে ঘিরে রেখেছে। আমাদের দেরি করলে চলবে না।’
ডোরা-ডোনা পিঠোপিঠি দুই বোন। দু-বছরের মাত্র তফাত। আশ্চর্য ব্যাপার হল, দু-জনের জন্মও একই দিনে! দুই বোনের মধ্যে খুনসুটি লেগেই আছে। ওদের স্কুল যাওয়ার বাসে, ইস্কুলে, বাড়িতে ঝগড়াঝাঁটি চলতেই থাকে। কিন্তু ডোনা যক্ষপুরীতে বন্দি হয়েছে—সে-খবর পেয়ে ডোরার মনে কোনো আনন্দ হল না। এক তীব্র দুঃখ আর বেদনার বোধ তার বুকে চেপে বসল। যেন তার বুকে কেউ একটা বিষম ভার চাপিয়ে দিয়েছে। চোখ দিয়ে ফোঁটা ফোঁটা জল পড়ে তার জামা ভিজিয়ে দিতে লাগল। মিতুল আর নীলুও মাথা নীচু করে প্রাণপণে কান্না চাপার চেষ্টা করতে লাগল।
হঠাৎ ডোরা অনুভব করল যে, তার পিঠে এক নরম স্পর্শ। কেউ যেন মায়ের মতো পরম মমতায় তার পিঠে হাত বুলিয়ে দিচ্ছে। দেখল বাঘুয়া এসে তার পিঠে গা ঘষছে। তার নরম গায়ের লোম আর শরীরের উত্তাপ দিয়ে সান্ত্বনা দিতে চাইছে। ডোরা বাঘুয়ার গলা জড়িয়ে কাঁদতে লাগল। এমনিতে সে কাঁদতে লজ্জা পায়, কিন্তু বাঘুয়ার মতো পরম বন্ধুর বুকে মুখ রেখে কাঁদতে লজ্জা নেই।
বাঘুয়া গভীর স্নেহের স্বরে বলল, ‘বাচ্চারা! তোমরা কত বড়ো কাজ করতে বেরিয়েছ, বলো দেখি! বাংলা মায়ের বুকের ঘা জুড়িয়ে দেওয়া কি মুখের কথা? কত কবি এই স্বপ্ন দেখেছেন। কত দেশসেবক এর জন্য দুঃখভোগ করেছেন, এমনকী প্রাণ পর্যন্ত দিয়েছেন। সেই বড়ো কাজ করতে গিয়ে তোমরা কোনো বাধা পাবে না, কোনো বিপত্তিতে ঠেকবে না—তা কেমন করে হবে? বিপদ, বাধা তো আসবেই। সেটাকে তুচ্ছ করেই তো তোমাদের এগোতে হবে। তোমাদের বলতে হবে :
আমি ভয় করব না ভয় করব না।
দুবেলা মরার আগে মরব না, ভাই, মরব না।।
তরীখানা বাইতে গেলে মাঝে মাঝে তুফান মেলে—
তাই বলে হাল ছেড়ে দিয়ে... কান্নাকাটি ধরব না।।
বাঘুয়া কথা বলে আর স্নেহের ভঙ্গিতে গলার ভেতর থেকে মৃদু গর গর আওয়াজ করে। তার সান্নিধ্যে, তার আশ্বাসে, তার উত্তাপে, তার প্রতি বিশ্বাসের জোরে বাচ্চারা আস্তে আস্তে তাদের বিষণ্ণতা কাটিয়ে উঠল। তাদের মুখে ধীরে ধীরে হাসি ফুটে উঠল। ডোরা অনুভব করল, যে বিষম চাপ তার বুকে এঁটে বসেছিল, তা-ও হালকা হয়ে যাচ্ছে।
ডোরা, মিতুল আর নীলু তখন সমস্বরে বাঘুয়াকে বলল, ‘বাঘুয়া, আমরা এখনই কেন যক্ষপুরী আক্রমণ করে লীনাকে উদ্ধার করছি না? তুমি আছ। দধিকর্মার ফৌজ আছে। বনের অন্য পশুরা আছে।’
বাঘুয়া বলল, ‘কারণ আছে। দধিকর্মার ফৌজ খোক্কোসদের মহড়া নিতে পারবে। কিন্তু কালাপাহাড়?’
—তুমি কালাপাহাড়কে ভয় পাও, বাঘুয়া?
—ভয় পাওয়ার প্রশ্ন উঠছে না, মিতুল। শত্রুর শক্তিকে অবজ্ঞা করার মধ্যে বুদ্ধি বা বীরত্ব কিছুই নেই।
নীলু বলল, ‘কালাপাহাড় কি এতটাই শক্তিমান, বাঘুয়া?’
বাঘুয়া বলল, ‘বাঙালি জাতির মধ্যে যত বিষ, যত পাপ আছে, সেই সমস্ত বিষ আর পাপ তিলে তিলে এক করে মকররাজ কালাপাহাড়কে তৈরি করেছে। তার শক্তি ভয়ংকর। এছাড়া যক্ষপুরীর মধ্যে একটা বিষের কুন্ড আছে। সেই বিষের কুন্ডে একবার স্নান করতে পারলে কালাপাহাড় মেঘের আড়ালে অদৃশ্য হয়ে যেতে পারে। তখন সে অজেয়। তখন আমিও তার সঙ্গে পেরে উঠব না।’
—তাহলে? কী উপায়?
—সেই উপায়ের কথাই তো ভাবছি, ডোরা। হ্যাঁ, সমস্যা আছে। তবে সমাধানও বেরোবে নিশ্চয়ই। তোমরা মুষড়ে পোড়ো না। ভরসা হারিয়ো না।
এই কথা বলে বাচ্চাদের আশ্বস্ত করে বাঘুয়া তখনকার মতো তাদের কাছ থেকে বিদায় নিয়ে চলে গেল।
নোট নিতে এবং টেক্সট হাইলাইট করতে লগইন করুন
লগইন