যক্ষপুরীতে ডোনা

সৌম্য ভট্টাচার্য

পর্তুগিজ কেল্লায় যখন ডোনাকে নিয়ে জল্পনাকল্পনা চলছে, তখন ডোনার কী হল?

এক অশুভ লগ্নে কালনেমির কথা বিশ্বাস করে ডোনা তার পেছন পেছন যক্ষপুরীর দিকে চলেছিল। আকাশ ঢেকে গিয়েছিল গাঢ় কুয়াশায়। অন্ধকারে ভালো মতো দেখা যাচ্ছিল না কিছু। কেমন একটা ঘোরের মধ্যে চলছিল ডোনা। কালনেমির গা থেকে বেরোনো তীব্র সুগন্ধ আচ্ছন্ন করে দিচ্ছিল তার সমস্ত চৈতন্য। কে যেন পেছন থেকে ডাকছিল, ‘ডোনা! ফিরে এসো! ডোনা! ফিরে এসো!’ সে ডাক কানে যাচ্ছিল ডোনার, কিন্তু মাথায় ঢুকছিল না। যন্ত্রের মতো, নিশিতে পাওয়া মানুষের মতো সে নীরবে কালনেমির অনুসরণ করছিল।

কালনেমি অবশ্য চুপচাপ ছিল না। সে অনবরত কথা বলছিল। মকররাজ কত ভালো, শেয়ালপন্ডিত কত মহান, কালাপাহাড় কী ভীষণ পরোপকারী আর যক্ষপুরীর খোক্কোসরা ডোনার কত সমাদর করবে, সেই গল্প করতে করতে সে হাঁটছিল। মাঝে দু-একবার থেমে সে ডোনাকে চকলেট খাওয়াতে চেয়েছে, কিন্তু চকলেট দেখেই ডোনার কেমন গা গুলিয়ে উঠেছে। সারা শরীরে কাঁপুনি দিয়ে শীত করে উঠেছে তার। খিদে পেলেও সে তাই চকলেট খেতে পারেনি। ব্যাপারটা খুব বিস্ময়কর। কারণ ডোনা চকলেট সাংঘাতিক ভালোবাসে। বাড়িতে যখনই চকলেট আসে, তখন সে তার নিজের ভাগ গুছিয়ে, গুনে, গেঁথে ফ্রিজে তুলে রাখে। সে চকলেটে আর কেউ হাত দিলে তার রক্ষে নেই। এমনকী ডোনার বাবাও একবার ভুল করে ফ্রিজ খুলে ডোনার ভাগের চকলেট কয়েকটা খেয়ে নিয়েছিল বলে ডোনার অনেক কটুবাক্য তাকে শুনতে হয়েছে! এ হেন চকলেটপাগল ডোনাও কী জানি কী কারণে কালনেমির দেওয়া কোনো চকলেটই খেতে পারল না।

কালনেমি অবশ্য তেমন উচ্চবাচ্য করল না। রাস্তা অনেকটা। নদীর তিনটে বাঁক তাদের পেরোতে হল। প্রথম দুটো বাঁকের পর জঙ্গল শেষ হয়ে এল। ডোনা দেখল যে, এক রুক্ষ, শস্যবিরল মাঠের মধ্যে দিয়ে তারা চলেছে। পাথর ছড়ানো সেই মাঠে মাঝে মাঝে কাঁটা ঝোপ। গাছপালা নেই। গাঢ় অন্ধকার। শন শন করে ঠাণ্ডা বাতাস বইছে।

তারপর নদীটা বিশাল চওড়া হয়ে গেল। এখানে আলোর ব্যবস্থা রয়েছে। ইট, সুরকি বেছানো পথের ধারে দীপদন্ডে মশাল জ্বলছে। সেই মশালের লাল শিখায় এক ভৌতিক পরিবেশের সৃষ্টি হয়েছে। হঠাৎ ডোনা দেখল যে, তাদের সামনে এক বিশাল সাঁকো। সাঁকো পাহারা দিচ্ছে বেশ কিছু বিশালদেহী সশস্ত্র প্রহরী।

‘কে যায়?’ গম্ভীর কন্ঠে নির্দেশ এল।

—আমি কালনেমি। সঙ্গে করে অতিথি নিয়ে এসেছি।

—সঙ্গের অতিথি কে?

—একটা বাচ্চা মেয়ে, ডোনা।

—অভিজ্ঞান দেখাও। প্রবেশমন্ত্র বলো।

কালনেমি তখন মাফলারের মধ্যে থেকে একটা কবচ বের করল। ভেতরে ঢোকার মন্ত্রও আবৃত্তি করল :

খোক্কোসের পৌষমাস!

বাঙালির সর্বনাশ!

অভিজ্ঞান দেখে আর মন্ত্র শুনে প্রীত প্রহরীরা পরস্পর কিছুক্ষণ মৃদুস্বরে আলোচনা করল। তারপর তাদের সর্দার হাসতে হাসতে এসে ডোনাকে কোলে তুলে নিল।

—তুমিই ডোনা! বা-বাবা বা! বেশ বেশ! তোমার কথা আমরা কতই শুনেছি! এসো, এসো! স্বাগতম!

ডোনা বলল, দৈনিক মিথ্যাসংবাদ-এর অফিসটা কোন দিকে?

দৈনিক মিথ্যাসংবাদ। প্রহরীদের সর্দারের চোখে বিস্ময়।

—হ্যাঁ। ওখানেই তো আমি চিফ এডিটর হব।

‘চিফ এডিটর হবে?’—সর্দারের সঙ্গে কালনেমির চোখে চোখে কী কথা হয়ে গেল।

প্রহরীদের সর্দার হাসতে হাসতে ডোনার গালে চুমু খেয়ে বলল, ‘বটেই তো! বটেই তো! তুমি দৈনিক মিথ্যাসংবাদ-এর’ চিফ এডিটর হবে না তো কে হবে? এমন উপযুক্ত লোক যক্ষপুরীতে কে-ই বা আছে বলো? তবে কিনা অনেক দূর থেকে এসেছ। ক্লান্ত। এখন যক্ষপুরীতে বিশ্রাম করোগে যাও, পরে কাল না-হয় মিথ্যা সংবাদ-এর অফিসে যাবে। চকলেট খাবে নাকি?’

বলে সর্দারও তার পকেট থেকে ফস করে এক প্যাকেট চকলেট বের করল। ডোনা দেখল, চরম লোভনীয় সব চকলেট, নানা আকার এবং আকৃতির, রংচঙে মোড়কে ঝলমল করছে।

ডোনার প্রহরী সর্দারকে ভালো লাগেনি। তার হাসিটা কেমন কৃত্রিম। গালে যখন চুমু খেয়েছিল তখন একটা বিচ্ছিরি আঁশটে গন্ধ পেয়েছিল লীনা। তা ছাড়া সর্দারের দাঁতগুলো কেমন যেন তীক্ষ্ম, বাঁকা, লম্বা। নেকড়ের দাঁতের মতো কশের থেকে ঝুলে রয়েছে। চকলেটের প্যাকেট দেখে ডোনার বমি বমি ভাব আর কাঁপুনি একসঙ্গে শুরু হল। তার অবস্থা দেখে কালনেমি প্রহরী সর্দারকে বলল, ‘থাক! থাক! ডোনা খুব ক্লান্ত হয়ে আছে। ওকে এখন ব্যতিব্যস্ত কোরো না।’

সাঁকোর প্রহরীরা অট্টহাস্য করে কালনেমি আর ডোনাকে ছেড়ে দিল।

সাঁকো পেরিয়ে বিশাল প্রাচীর। পাথরের তৈরি সে দেওয়াল বিশ হাত উঁচু। প্রাচীরের ওপর তীক্ষ্ণ লোহার শলা বসানো। জায়গায় জায়গায় মশালের আলো জ্বলছে। শয়ে শয়ে সশস্ত্র প্রহরী পাঁচিলের সামনে, পেছনে এবং মাথায় পাহারা দিচ্ছে। যক্ষপুরীতে ঢুকতে গেলে একটা প্রকান্ড সিং-দরজার মধ্যে দিয়ে ঢুকতে হয়। সিং-দরজাটাতেও বড়ো বড়ো তীক্ষ্ণ লোহার শলা বসানো। সিং-দরজার সামনে এসে থমকে গেল ডোনা। মাথায় একটা প্রকান্ড শকুন বসে আছে। ধারালো ঠোঁট, লম্বা গলা, কুতকুতে চোখ, মশালের আবছা আলোয় তাকে ভৌতিক, ভয়ংকর দেখাচ্ছে।

‘ওটা কী?’ আঁতকে উঠল ডোনা।

কালনেমি হাসল, ‘ভয় পেয়ো না। ওটা পাথরের মূর্তি। যক্ষপুরীর অধিষ্ঠাত্রী দেবী নিকষা।’

পাথরের মূর্তি! এত জীবন্ত! ডোনার ভয় গেল না। তবে ওরা আসতেই সিং-দরজার প্রহরীরা আবার অভিজ্ঞান, প্রবেশমন্ত্র জানতে চাইল। শুনে কোনো গোলমাল না করে দরজা খুলে দিল তারা। ঘর ঘর ঘর ঘর শব্দে সিংহদ্বার খুলে গেল। কালনেমির পেছন পেছন ডোনা যক্ষপুরীর অভ্যন্তরে প্রবেশ করল।

ভেতরে ঢুকতেই আবার একটা প্রবল আঁশটে গন্ধ ডোনার মুখে ঝাপটা মারল। যেন অনেক দিনের জমে থাকা পাপ গন্ধ হয়ে যক্ষপুরীর বাতাসে ভেসে বেড়াচ্ছে। গা গুলিয়ে উঠল ডোনার। কেমন একটা ঘুমের ঘোর তাকে অবসন্ন করে ফেলল। তাই কখন যে তাকে ওপরে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে, কীভাবে, সেটা সে ঠাহরই করল না ভালোভাবে। যখন ঘোরটা কেটে গিয়ে সংজ্ঞা ফিরে এসেছে, তখন দেখে যে, সে একটা প্রকান্ড ঘরে পালঙ্কে শুয়ে আছে। তার সামনের টেবিলে থরে থরে খাবার সাজানো। কেক, পেস্ট্রি, তেলেভাজা, ফুলুরি, ফুচকা, আলুকাবলি, পোলাও, কালিয়া—কোনো সুখাদ্যই বাদ নেই সেখানে। এক বুড়ি সারা গায়ে শাল জড়িয়ে তার শিয়রে দাঁড়িয়ে। লীনাকে জাগতে দেখে সে হাসল। তীক্ষ্ণ, সাদা, বাঁকা কষের দাঁত ঝিকমিকিয়ে উঠল।

—উঠেছ, ডোনা, সোনা আমার?!

গলাটা ভালো লাগল না ডোনার। কেমন কৃত্রিম গলার স্বর—যেন জোর করে বাচ্চা হওয়ার চেষ্টা করছে।

—খেয়ে নাও, লক্ষ্মীটি, মামণি আমার! নয়তো মাসি ভীষণ রাগ করবে!

দেওয়ালে তিনটে ছবি টাঙানো। একজন বুড়ো চিমসে মতো লোক। অত্যন্ত বিরসবদনে ছবির থেকে চেয়ে আছেন। ডোনা সেদিকে তাকাতে বুড়ি বলল, ‘পেন্নাম করো! পেন্নাম করো! উনিই মহাত্মা মকররাজ।’

ডোনা প্রণাম করার পর দ্বিতীয় ছবির দিকে ফিরল। এক বৃদ্ধ চশমা আঁটা শেয়াল ছবির ফ্রেম থেকে তার দিকে চেয়ে আছে। শেয়ালটার ছুঁচোলো মুখ থেকে ধূর্তামি আর নষ্টামি যেন ঠিকরে বেরোচ্ছে।

—ইনিই আমাদের ন্যায়াধীশ। মহামহিম শেয়ালপন্ডিত। পেন্নাম করো।

প্রণাম করার একেবারেই ইচ্ছে ছিল না ডোনার। শেয়ালপন্ডিত সম্পর্কে সে অনেক খারাপ খারাপ কথা শুনেছে। যাই হোক কোনোরকমে মাথা ঝুঁকিয়ে একটা দায়সারা নমস্কার জানাল সে।

তৃতীয় ছবিটি এক সুপুরুষ ব্যক্তির। ফর্সা গায়ের রং। মাথায় অল্প-স্বল্প টাক। হাসি হাসি মুখে ডোনার দিকে চেয়ে আছেন।

ডোনা বলল, ‘কে ইনি?’

—চেনো না এঁকে? বিখ্যাত লোক! নটসূর্য নাড়ুগোপাল।

—নটসূর্য নাড়ুগোপাল!

—হ্যাঁ! চমকে উঠলে কেন?

—না, শুনেছি উনি খোক্কোসদের একবার খুব উপকার করেছিলেন?

—বটেই তো। খোক্কোসভারতী ক্রীড়াঙ্গনে একদল খোক্কোস একবার টিকিট ব্ল্যাক করতে গিয়ে মার খেয়ে মরবার দাখিল হয়েছিল। উনি তাদের প্রাণে বাঁচিয়েছিলেন তো।

—তাই কি ওনার ছবি টাঙিয়েছে?

—হ্যাঁ গো। যেসব খোক্কোসরা তখন টিকিট ব্ল্যাক করত, তারাই তো এখন মন্ত্রী, আমলা, অমাত্য হয়েছে কিনা! ওরা নটসূর্যের ওপর ভীষণ কৃতজ্ঞ। গেলবছর উনি যখন মারা গেলেন, তখন ওঁর স্মৃতি অমর করে রাখতে যক্ষপুরীর ঘরে ঘরে ওঁর ছবি টাঙিয়েছে।

‘গেলবছর নটসূর্য মারা গেলেন!’ ডোনা চমকে উঠল, ‘উনি বেঁচে নেই’?

—না, গতবছরই অঘ্রান মাসে মারা গেলেন। বয়েস হয়েছিল। বাত আর শোত্থে ভুগছিলেন। আমরা জাঁকিয়ে ওনার স্মরণসভা করলাম।

ডোনার মাথা ঝিম ঝিম করতে লাগল। সে ক্ষীণস্বরে বলল, ‘কালনেমি যে বলল?’

বুড়ি কানে ভালো শুনতে পায় না। বলল, ‘কী বললে?’

ডোনা চুপ করে গেল। তার মনে প্রবল সন্দেহ জেগেছে। কালনেমি তার কাছে গল্প ফেঁদেছিল যে, নটসূর্য নাড়ুগোপাল বাঘুয়া সেজে তাদের সঙ্গে ছলনা করছে। এখন নটসূর্য যদি মারাই গিয়ে থাকেন, তাহলে কালনেমি তাকে ডাহা মিথ্যা কথা বলেছে। নিশ্চিত হওয়ার জন্য ডোনা জিগ্যেস করল, ‘আচ্ছা যক্ষপুরীর ছাদ থেকে নাকি হলিউড দেখতে পাওয়া যায়? হাত বাড়ালেই নাকি হলিউড?’

‘হলিউড!’ বুড়ি মাসি চমকে উঠল। তারপর তীক্ষ্ণ সাদা দাঁত দেখিয়ে একগাল হেসে বলল, ‘কথা শোনো মেয়ের? যক্ষপুরী থেকে হলিউড দেখবে কি গো? যেখানে দু-চোখ যায় খালি ধু ধু ফাঁকা মাঠ আর কাঁটা ঝোপ। তোমাকে এসব উষ্টুম ধুষ্টুম গপ্পো কে করেছে বলো দেখি, মেয়ে। নাও নাও, খেয়ে নাও। খাবার যে জুড়িয়ে গেল।’

সামনের টেবিলে রাখা থরে থরে লোভনীয় খাদ্যসামগ্রী। পোলাও, কালিয়া, বিরিয়ানি, চাপ, তেলেভাজা, ফুলুরি, কেক প্যাস্ট্রি, সন্দেশ, রসগোল্লা—কী নেই সেখানে। দীর্ঘ পথ হেঁটে ডোনার খিদেও পেয়েছে যথেষ্ট। কিন্তু খাবারগুলো দেখেই গা গুলিয়ে উঠল তার। একে তো মিথ্যেবাদী কালনেমির কথায় বিশ্বাস করে কী প্রকান্ড ভুল সে করেছে, সেই বোধ মাথায় জেঁকে বসেছে। এক প্রবল শঙ্কা আর আতঙ্ক বুকের ভেতরটা কাঁপিয়ে দিচ্ছে। অন্যদিকে খাবারগুলো দেখেই গা গুলিয়ে উঠে বমি পাচ্ছে তার। ঘরের পাশেই টয়লেট। ডোনা সেই টয়লেটে বেসিনের ওপর হড় হড় করে বমি করতে লাগল। বুড়ি মাসি ব্যস্ত হয়ে তার পিঠে থাবড়াতে লাগল।

থাবড়াতে গিয়ে বুড়ির গায়ের শাল খসে গেছে। চোখের কোণ দিয়ে ডোনা তার গলাটা দেখতে পেল। বুড়ির গলা বিষের নীলে নীল। এক্কেবারে নীলকন্ঠ সে।

সেই নীলকন্ঠ বুড়ি তার তীক্ষ্ণ শ্বাদন্ত বের করে সহানুভূতির হাসি হাসল, ‘আহা হা হা! বেচারা বাচ্চা মেয়ে! শরীর খারাপ লাগছে মেয়ের! গা গুলোচ্ছে! দাঁড়াও, আমি তোমার জন্য শরবত আনি।’

শরবত আনতে বুড়ি ঘর ছেড়ে গেছে। পালঙ্কে শুয়ে শুয়ে হঠাৎ ডোনার মনে পড়ল বাঘুয়ার দেওয়া উপহারের কথা, কাপড়ের মোড়কে বাংলা মায়ের আমসত্ত্ব। সে মোড়কটা কোথায়?

ডোনার মনে পড়ল ভেতরের পকেটে আমসত্ত্বের মোড়কটা সে লুকিয়ে রেখেছিল। ভাগ্যক্রমে যক্ষপুরীর খোক্কোসরা টের পায়নি। তাড়াতাড়ি মোড়কটা বের করে খুলে তার থেকে একটা আমসত্ত্ব মুখে দিল ডোনা।

মিষ্টি-মিষ্টি, টক-টক স্বাদ। পলকে মুখের মধ্যে মিলিয়ে গেল আমসত্ত্বটা। ডোনা দেখল ম্যাজিকের মতো তার বমি বমি ভাব কেটে গেছে। খিদের জ্বালায় পেটের মধ্যে ছুঁচোদের যে ডন-বৈঠক শুরু হয়েছিল, তা-ও এক লহমায় অন্তর্হিত। সবচেয়ে ভালো ব্যাপার হল—যে প্রবল শঙ্কা আর আতঙ্কে তার বুকের ভেতরটা ঠাণ্ডা হিম হয়ে যাচ্ছিল, তাকে আশা আর আনন্দের উত্তাপ দাবিয়ে দিচ্ছে।

ঠিক সেই সময় ডোনা আওয়াজটা শুনতে পেল—সাপের ফোঁস ফোঁস বেড়ালের মিউ মিউ আর হায়নার হাসি একসঙ্গে মিশলে যে ভয়াবহ ভৌতিক শব্দের সৃষ্টি হয়, তাই যেন খুব কাছ থেকে ভেসে আসছে। এগিয়ে আসছে।

সকল অধ্যায়
১.
গরমের ছুটিতে
২.
ডায়েরি আর রাখি
৩.
দাদুর বাগানে
৪.
এলেম নতুন দেশে
৫.
ভোঁদড় বাহাদুর
৬.
কুমিরের ডেরায় বাঘুয়ার গল্প
৭.
বাঘুয়ার আবির্ভাব
৮.
কালাপাহাড়ের আক্রমণ
৯.
পুরাণের ভবিষ্যদবাণী
১০.
মকররাজের মন্ত্রণাসভা
১১.
পর্তুগিজ কেল্লায়
১২.
খোক্কোসদের চক্রান্ত
১৩.
ছুঁচোর ফৌজ
১৪.
বাঘুয়া ও বাচ্চারা
১৫.
ময়নাবুড়ির কাছে
১৬.
কালনেমির কবলে
১৭.
নটসূর্য নাড়ুগোপাল
১৮.
হারিয়ে গেল ডোনা
১৯.
যক্ষপুরীতে ডোনা
২০.
বিভীষণ
২১.
কালাপাহাড়ের ফন্দি
২২.
যক্ষপুরীর নন্দিনী
২৩.
ডোনার গান ও শেয়ালপন্ডিতের আবির্ভাব
২৪.
যুদ্ধযাত্রা
২৫.
শেয়ালপন্ডিতের সিদ্ধিলাভ
২৬.
বন্দি বাংলা মায়ের কাছে
২৭.
বাংলার মাটি, বাংলার জল
২৮.
বাঘুয়া বনাম কালাপাহাড়
২৯.
বাংলা মায়ের সভা
৩০.
সবপেয়েছির দেশে
৩১.
ঘরে ফেরা
৩২.
আবার আসিব ফিরে
৩৩.
উত্তরকথন
৩৪.
লেখকের কথা
৩৫.
দেশভাগ ও বাঙালি জাতীয়তাবাদ*

নোট নিতে এবং টেক্সট হাইলাইট করতে লগইন করুন

লগইন
০%