সৌম্য ভট্টাচার্য
এবার আর বাঘুয়ার পিঠে নয়। পেছন পেছন চলেছে ওরা। শাল, শিমুল, জারুল, অর্জুন আর সুন্দরী গাছের বন। গরানের ঝোপও রয়েছে। মাঝে মাঝে শিয়ালকাঁটা গায়ে বিঁধছে। শুকনো পাতার ওপর পা পড়ে খড়মড় খড়মড় শব্দ হচ্ছে। ঝোপেঝাড়ে সর সর করে সরে যাচ্ছে নাম না-জানা প্রাণী। বাঘুয়া সঙ্গে আছে বলেই ডোরা-ডোনাদের ভয় করল না। ওরা নি:শঙ্কচিত্তে বাঘুয়ার অনুগমন করল।
অনেকটা চলে বাঘুয়া একটা বিশাল বটগাছের নীচে এসে দাঁড়াল। বটগাছের চারপাশে ঝুরি নেমেছে। জায়গাটা বেশ নিরিবিলি, ছায়া ছায়া। গাছের ডাল থেকে পাখির কলকাকলি ভেসে আসছে।
বটগাছের নীচে এসে বাঘুয়া সুর করে বলল, ‘ময়নার মা ময়নামতী, ময়না তোমার কই?’
কিছুক্ষণ চুপচাপ, তারপর ওপরের ডাল থেকে খুব মিষ্টি সুরেলা গলায় উত্তর এল, ‘ময়না গেছে কুটুমবাড়ি গাছের ডালে ওই!’
বলতে বলতেই ময়নার মা ময়নামতী টুক করে লাফিয়ে, ডানা মেলে, বাতাসে গা ভাসিয়ে মাটিতে নেমে এল। ডোরা-ডোনারা দেখল যে, অনেকটা শালিকের মতো দেখতে একটা ছোট্ট পাখি— খয়েরি পালক, কালো ল্যাজ, হলুদ ঠোঁট। চঞ্চল পায়ে পাখিটা মাটিতে খপ খপ করে লাফিয়ে বেড়াতে লাগল।
বাঘুয়া জিগ্যেস করল, ‘ময়নামতী, ময়নার কী হল?’
‘আর বলো কেন, বাঘুয়া, দিদিমার সঙ্গে ঝগড়া করে ময়না কুটুমবাড়ি গেছে। তবে সত্যি কথাটা বলি?’ বলে ময়নামতী মুচকি হাসল।
—বলো?
—ময়না আসলে প্রেম করছে। ওর মনটা উড়ু উড়ু। কুটুমবাড়ি ওর হবু বউ থাকে। ওখানে চরতে গেছে।
—দিদিমার সঙ্গে ঝগড়া হল কেন?
—সে এক কান্ড, বাঘুয়া। জানো তো, কুয়াশা কেটে গিয়ে দেশে বসন্ত এসেছে। ময়না তাই খুশি হয়ে যক্ষপুরীতে গান গাইতে গেছিল।
—হ্যাঁ, সে-খবর আমার কানে এসেছে। মকররাজ ময়নার গান শুনে খুব বিচলিত হয়ে পড়েছেন।
—আমরা তো ভয়ে মরি। আমাদের না-জানিয়ে ময়না এ কী দুঃসাহস করল! যদি কালাপাহাড় বিষদৃষ্টি দিয়ে বাছাকে আমার ভস্ম করে দিত? যাই হোক সেই গান গেয়েই তো যত বিপত্তি বাড়িতে।
বলতে বলতেই আরেকটা খয়েরি হলুদ পাখি লাফিয়ে ডাল থেকে নেমে এল। দেখলেই বোঝা যায় পাখিটি প্রবীণা, বয়েস হয়েছে। ঈষৎ খ্যানখেনে গলায় সে বলল, ‘ময়নামতী, বাঘুয়ার সাথে কী গল্প করচিস লা? আমার নিন্দে-মন্দ করচিস বুঝি?’
বুড়িকে দেখে ময়নামতী ফুড়ুৎ করে উড়ে গেল। যাওয়ার আগে বলল, ‘এই তো, দিদিমার কাছেই ঝগড়ার বিবরণ শুনে নাও। আমি যাই। ডালে ফোড়ন দেওয়াটা বাকি আছে।’
বুড়ি ময়না বাঘুয়া আর চার বাচ্চার সামনে বসে খ্যানখ্যানে গলায় বলল, ‘আজকালকার ছেলেছোকরারা!’
—কেন? ছেলেছোকরারা আবার কী করল?
—গুরুজনকে মান্যিগণ্যি করে না! সম্মান দিতে শেখেনি! কতার পর কতা কয়!
—কেন, ময়না তোমায় কিছু বলেছে?
—আর বলো কেন? ময়নাকে বলনু যে, দেশে বসন্ত এয়েচে, তা কোন আক্কেলে গুরুদেবের পূজা পর্যায়ের গানটা তুই যক্ষপুরীতে গাইলি? বসন্তের গান কিচু খুঁজে পেলি না?
—তাই নাকি?
—হ্যাঁ গো। ‘আমার ভাঙা পথের রাঙা ধুলায়’ তো পূজা পর্যায়ের গান। গুরুদেব বসন্তের কত ভালো ভালো গান লিকে গ্যাচেন—আজি বসন্ত জাগ্রত দ্বারে, ওরে গৃহবাসী—তা ময়নাকে সে-কতা বলতে তো রেগে গিয়ে ভারি চোটপাট করতে লাগল।
—কী বলল?
—বলে, ‘দেশে বসন্ত এয়েচে, তাই আমি প্রাণের আনন্দে গান গেয়েচি। পূজা পর্যায় না প্রকৃতি সে খেয়াল রাখিনিকো।’
—তা তুমি কী বললে?
—আমি বলনু, ‘ওরে গোমুকখু গুরুদেবের গান কি ছেলেখেলা? তুই তো এ-গানটা গাইতেও তালে দু-বার ভুল করিচিস। একবার কড়ি মা ঠিকমতো লাগেনি।’
—তারপর?
ময়না শুনে আরো রেগে যাচ্ছেতাই ভাষায় কতা বলতে লাগল। সে-কতা কানে শোনা যায় না, বাবা, মুকে আনা যায় না। তা আমি বলনু—‘ময়না রে, আমি গুরুদেবের কোলে বসে গান শিকিচি। গুরুদেব বলতেন যে, ‘তোমরা আমার গানের ওপর স্টিমরোলার চালিয়ো না। আমার গান চ্যাপ্টা হয়ে যাবে।’ শুনে ময়না কী বলল জানো?
—কী বলল?
—বলে কিনা, তুমি আর তোমার গুরুদেবের নিকুচি করেচে! ভাবতে পারো! গুরুদেবের নিকুচি করেচে! আমি, যে কিনা গুরুদেবের কোলে বসে গান শিকিচি— আমায় এত বড়ো কতা! দুনিয়াটা কোতায় যাচ্ছে!
ময়নাবুড়ি হাপুশ নয়নে কাঁদতে লাগল।
বাঘুয়া সান্ত্বনা দিয়ে বলল, ‘ময়নাবুড়ি, দুঃখ কোরো না। ময়না রাগের চোটে বলে ফেলেছে। ছোকরা তো, তাই মাথা গরম। এই দেখো, চারজন তোমার কাছে গান শিখতে এসেছে।’
ডোরা-ডোনাদের দেখে ময়নাবুড়ি একগাল হাসল, ‘আহা, কী সুন্দর, সুন্দর ছেলে-মেয়ে! তোমরা কাদের বাছা গো? কী গান শিখতে এয়েচ?’
বাঘুয়া বলল, ‘রাখিসংগীত। বাংলার মাটি, বাংলার জল।’
ময়নাবুড়ি চোখ কপালে তুলল, ‘সে গান তো কেউ জানে না, কেউ শেকে না, কেউ গায় না এ দেশে। আমিই একমাত্র এর সুর জানি।’
—তাই তো তোমার কাছে এসেছি ময়নাবুড়ি।
ময়নাবুড়ি বেশ কিছুক্ষণ অবাক দৃষ্টিতে বাচ্চাদের দিকে তাকিয়ে রইল। বিড় বিড় করে বলতে লাগল, ‘এরাই কি তারা? এরাই কি তারা?’
বাঘুয়া বলল, ‘বিড় বিড় করে কী বকছ, ময়নাবুড়ি?’
বুড়ি চটকা ভেঙে চমকে উঠে বলল, ‘এদের দেকে গুরুদেবের শেষ কতাগুলো মনে এসে গেল গো!’
—কী কথা?
—জানো তো, গুরুদেবের আশ্রমের এক বটগাচের ডালে বাসা বেঁধে আমি থাকতাম। গুরুদেবের প্রাণে গান এলে তিনি ডাকতেন, ‘ময়না রে, আয়! শিগগির, শিগগির আয়! আমার কোলে বসে গানটা তুলে নে। আমি নইলে সুর ভুলে যাব।’ ভুলে যেতেনও। ওঁর নিজের দেওয়া সুর কিচুতেই নিজেরই মনে থাকত না। শুদু আমি কেন। আশ্রমের আশপাশের হরিণ, কাঠবেড়ালি, ময়ূর, তোতা সবাই মুগ্ধ হয়ে গুরুদেবের গান শুনত গো।
—তারপর?
—গুরুদেবের তকন খুব খারাপ অবস্থা। যে-কোনোদিন মারা যাবেন। সেই মৃত্যুশয্যায় আমায় ডাকলেন। বললেন, ‘ময়না রে, আমার তো যাবার সময় এসে গ্যাচে।’ আমি তো কাঁদতে লাগনু। গুরুদেব বললেন, ‘ময়না, আজ তোকে একটা গান শিকিয়ে যাব, কতা দে যে মনে করে রাকবি। কোনোদিন ভুলবি না?’ আমি তো শুনে আরো কাঁদতে লাগনু।
—তারপর?
—গুরুদেব বললেন, ‘দেশের খুব বিপদ আসচে রে, ময়না। আমি আমার মানসচোকখে সব দেকতে পাচ্চি। অনেক অনেকদিন পরে চারটে ছোটো ছোটো বাচ্চা তোর কাচে আসবে। মনে করে তাদের গানটা তোকে শেকাতে হবে। পারবি তো?’ আমি বললাম, ‘আমি কি অতদিন বাঁচব, গুরুদেব। আমার তো পাখির প্রাণ। আপনি মানুষদের গানটা শেকান। তারা তো অনেকদিন বাঁচে।’ গুরুদেব বললেন, ‘আমার বরে তুই বহু দিন বাঁচবি রে, ময়না। বাঁচতে তোকে হবেই। মানুষকে শিকিয়ে লাভ নেইকো। বিষে আর পাপে সবাই জরজর হয়ে আচে। তারা এ গান গাইলেও কোনো ফল হবে না। কাউকে শেকালেও কোনো ফল দেবে না।’ বলে সেই অবস্থাতেই গুরুদেব কোনোরকমে আমায় গানটা শিকিয়ে দিলেন।
বাঘুয়া বলল, ‘গুরুদেবের ভবিষ্যদবাণীই ঠিক। তিনি যে চারজনের কথা বলেছিলেন, তারাই আজ উপস্থিত। এদের তুমি রাখিসংগীত শেখাও, ময়নাবুড়ি।’
তখন ময়নাবুড়ি চোখের জল মুছে মহানন্দে ডোরা-ডোনাদের গান শেখাতে বসল। প্রথমেই বলল, ‘তোমরা কেউ হারমোনিয়াম বাজাও না তো?’
ডোরারা বলল, ‘না।’
—বেশ, বেশ! গুরুদেব দু-চোকখে হারমোনিয়াম দেকতে পারতেন না। বলতেন যে, তাঁর গান শুধু এসরাজ আর সারেঙ্গিতে খোলে। গানটার কতা মুখস্ত আচে তো তোমাদের?
ডোরা-ডোনারা ঘাড় নাড়ল।
—খুব ভালো! খুব ভালো! খাতা দেকে গান গেয়ো না, উলটে পাতা যেতেই পারে!
আচ্ছা বলো—
বাংলার মাটি বাংলার জল :
মা পা পা। -পা পধপা। মা -পধা পা। -মগা গা -মা।
বলেই ময়নাবুড়ি বলল, ‘এটা কী তাল বলো তো?’
বাচ্চারা তো সবাই চুপ। শেষে মিতুল মুখ খুলল, ‘দাদরা?’
—ছাই জানো! এটা দাদরা নয়। এই ভুলটা সবাই করে থাকে।
—তবে?
—এটা একতাল গো, একতাল। এর বোল জানা আচে?
—না তো?
—আজকালকার ছেলেছোকরারা কী যে হয়েচে? ঠিকভাবে গান শেকায় মন নেই! খালি ধিঙ্গিপনা করে বেড়াবে! বলো—ধিন ধিন না। তেটে থুন না। কৎ তে ধাগে। তেটে ধিন ধাধা।
ডোরা, ডোনা, মিতুল, নীলু সমস্বরে বলল, ‘ধিন ধিন না। তেটে থুন না। কৎ তে ধাগে। তেটে ধিন ধাধা। ধিন ধিন না। তেটে থুন না। কৎ তে ধাগে। তেটে ধিন ধাধা।’
ময়নাবুড়ি খুশি হয়ে হাসল, ‘বেশ হয়েচে! তা এটা কী অঙ্গের গান?’
আবার হিরণ্ময় নীরবতা।
—এটা বাউল অঙ্গের গান গো, বাউল অঙ্গের গান! দেশাত্মবোধক গান! এটাও জানো না? সারাটা জীবন তবে শিকলে কী?
ডোরা-ডোনারা চুপ করে ময়নাবুড়ির বকুনি শুনছে, এমন সময ভারি একটা শোরগোল উঠল। দধিকর্মা, সনাতন এবং আরেক বর্ধিষ্ণু, নেতৃস্থানীয় ছুঁচো নান্দীমুখ ঊর্ধ্বশ্বাসে দৌড়োতে দৌড়োতে এসে বাঘুয়ার পায়ের কাছে হুমড়ি খেয়ে পড়ল, ‘বাঘুয়া, বাঁচাও! বাঁচাও! রক্ষা করো!’
চমকে উঠল বাঘুয়া। সে এতক্ষণ বেশ মন দিয়ে গান শুনছিল। চটকা ভেঙে বিরক্তস্বরে বলল, ‘কী ব্যাপার?’
ব্যাপার অতি গুরুতর। সকালে বাঘুয়ার ভাষণের আগে কেল্লার মাঠে ছুঁচোদের সঙ্গে মেঠো ইঁদুরদের একপ্রস্থ ঝগড়া হয়ে গিয়েছিল, যেটা বাঘুয়ার মধ্যস্থতায় মিটে যায়। মেঠো ইঁদুররা কিন্তু তাদের অপমান এত সহজে ভোলেনি। সভাভঙ্গের পর বাঘুয়ার অনুপস্থিতিতে তারা একজোট এবং সশস্ত্র হয়ে, অর্থাৎ ছোরা, ছুরি, তরোয়াল, বল্লম যে-যা হাতের কাছে পেয়েছে তাই নিয়ে দধিকর্মার ছুঁচোর ফৌজের সঙ্গে সম্মুখসমরে অবতীর্ণ হয়েছে। কেল্লার মাঠে ধুন্ধুমার লড়াই চলছে। বেশ কিছু ইঁদুর এবং ছুঁচো এই যুদ্ধে অকালমৃত্যু বরণ করেছে।
শুনে বাঘুয়া মাথায় থাবা বুলিয়ে বলল, ‘সর্বনাশ! ভায়ে ভায়ে ঝগড়া! এই জন্যেই তো এ দেশের কিচ্ছু হল না!’
দধিকর্মা বলল, ‘বাঘুয়া, তুমি চলো! তুমি না গেলে ঝগড়া মেটার আশা নেই। আরো বহু নিরীহ ছুঁচো আর ইঁদুরের প্রাণ যাবে।’
নান্দীমুখও বলল, ‘বাঘুয়াবাবু, আপনি চলুন! একমাত্র আপনিই এই ক্রোধী ছুঁচো আর ইঁদুরের পালকে সামলে শান্ত করতে পারবেন।’
বাঘুয়া কিন্তু কিন্তু করে বলল, ‘কিন্তু এরা? এই বাচ্চাদের রাখিসংগীত শেখাতে নিয়ে এসেছি! এরা গান শেখা হলে ফিরবে কী করে?’
সনাতন বলল, ‘বাঘুয়া! সে ভাবনা ভেব না। সে-দায়িত্ব আমার। আমি এদের পথ দেখিয়ে নিয়ে যাব। এ বন আমি নিজের হাতের তেলোর মতো চিনি।’
শেষপর্যন্ত সনাতন ভোঁদড়কে দায়িত্ব দিয়ে বাঘুয়া কিছুটা অনিচ্ছাসত্ত্বেও দধিকর্মা আর নান্দীমুখের সঙ্গে ফিরে গেল।
বাঘুয়া চলে যাওয়ার পর ডোরা-ডোনারা আবার গান শেখায় মন দিল। ময়নাবুড়ি সত্যিই যত্ন করে শেখায়। যদিও বয়সের কারণে গলাটা ঈষৎ খোনা আর খ্যানখ্যানে হয়ে গেছে। বার বার শিখিয়ে গানটা তুলিয়ে গলায় একেবারে বসিয়ে দিল সে। তাল-ফাঁকও ঠিকঠাক করে দিল।
আরেকটা দামি কথাও বলল, ‘গানটা শুনে খুব সহজ বলে মনে হয়, বাবারা। কিন্তু এর ভেতরে ভেতরে প্যাঁচ আচে গো। যেমন ধরো বাংলার মাঠ—প্রথম ‘মাঠ’—না সা না। পরের বার—না ধা পা। মনে থাকবে তো, বাবারা? আর মধ্যলয়ে গাইবে। তাড়াহুড়োর কিছু নেইকো। একতাল মনে রেকে তাল-ফাঁক ঠিক করে দিয়ো।’
মিতুল জানে যে, কারো কাছে কিছু শিখলে গুরুদক্ষিণা দিতে হয়। সে আমতা আমতা করে বলল, ‘ময়নাবুড়ি, তোমার গুরুদক্ষিণা?’
শুনে ময়নাবুড়ি চোখের জলে বুক ভাসিয়ে বলল, ‘ডোরা, ডোনা, মিতুল, নীলু তোমরা এয়েচ। গুরুদেব কতদিন আগে তোমাদের কতা বলে গেচিলেন গো। আজ তোমাদের দেকে চোক আমার সাত্থক হয়েচে। তোমরা যদি গান গেয়ে বাংলা মায়ের বুক জুড়ে দিতে পারো, সেই আমার শ্রেষ্ঠ গুরুদক্ষিণা। সেটা দেকব বলেই তো এতদিন আমি বেঁচে আচি গো, আর ময়না হতভাগার গালমন্দ শুনচি।’ —এই বলে সেই বৃদ্ধা খয়েরি হলুদ পাখি ফুড়ুৎ করে বটগাছের ডালে উঠে পড়ল। ডোরা-ডোনারা দেখল যে, সূর্য অস্ত যাচ্ছে। সন্ধ্যা ঘনিয়ে আসছে। অল্প অল্প ঠাণ্ডা বাতাস বইছে। তাদের মনে পড়ল, অন্ধকার হওয়ার আগেই পর্তুগিজ কেল্লায় তাদের ফিরতে হবে।
নোট নিতে এবং টেক্সট হাইলাইট করতে লগইন করুন
লগইন