বিনয় ঘোষ
নানাবিধ লঘুগুরু বিষয়ের কয়েকটি আলোচনা ও সমালোচনা এই গ্রন্থে সংকলিত হল। 'যুগান্তর সাময়িকী'তে ধারাবাহিকভাবে কয়েকটি এবং অন্যান্য মাসিকপত্রে কয়েকটি পূর্বে প্রকাশিত হয়েছে। এ-ছাড়া অপ্রকাশিত রচনাও কয়েকটি আছে এর মধ্যে।
প্রকাশ করার একমাত্র কৈফিয়ত হল, রচনাগুলি ঠিক 'টপিকাল' নয়, বরং 'টিপিকাল'। শুধু টপিকাল হলে বা সাংবাদিকতা হলে হয়তো গ্রন্থাকারে প্রকাশ করার প্রয়োজন অনুভব করতাম না। অবশ্য প্রয়োজন অনুভব করেছি বলেই যে গ্রন্থাকারে প্রকাশযোগ্য তা বলছি না। সে-বিচারের ভার আপাতত যাঁরা কষ্ট করে পড়বেন তাঁদের উপর ছেড়ে দিয়েই নিশ্চিন্ত হলাম।
আলোচিত বিষয়গুলি লঘুগুরু। অর্থাৎ লঘুবিষয় গুরুভঙ্গিতে, আবার গুরুবিষয় লঘুভঙ্গিতে বলা। পড়লে হাসিও পাবে, কান্নাও পাবে, আবার প্রচণ্ড রাগও হবে। কি হবে না-হবে সঠিক বলা মুশকিল, তবে 'কুলীন' সাহিত্যিক কেউ যেন এর মধ্যে অনর্থক 'মৌলিক' কিছু সন্ধান না করেন। এ একেবারে জল-অনাচারণীয় শ্রেণির, কুলীনও নয়, মৌলিকও নয়।
খ্যাতনামা শিল্পী পিসিয়েল, সূর্য রায় ও চিত্তপ্রসাদ এই বইয়ের জন্যে ছবি এঁকে যে-মর্যাদা দিয়েছেন, হয়তো বইখানির তা প্রাপ্য নয়। তবু তাঁরা যখন এঁকেছেন, অনুরোধেই হোক আর অনুপ্রেরণাতেই হোক, তখন তাঁদের কাছে ঋণী রইলাম। ঋণশোধ আমার স্বভাববিরুদ্ধ। ছবিগুলি এর আগে কোথাও প্রকাশিত হয়নি।
'বেঙ্গল পাবলিশার্স'-এর পরিচালক লব্ধপ্রতিষ্ঠ সাহিত্যিক শ্রীযুক্ত মনোজ বসু ও প্রধান উদ্যোক্তা শ্রীযুক্ত শচীন্দ্রনাথ মুখোপাধ্যায়কে আমার আন্তরিক ধন্যবাদ জানাচ্ছি। কারণ, আমার চাইতে তাঁরাই বেশি এই রচনাগুলি গ্রন্থাকারে প্রকাশ করার প্রয়োজন অনুভব করেছিলেন। প্রচ্ছদপট এঁকেছেন শিল্পী চিত্তরঞ্জন ঘোষ।
শেষে প্রবীণ সাহিত্যিক শ্রদ্ধেয় শ্রীযুক্ত পবিত্রকুমার গঙ্গোপাধ্যায়ের নাম করছি। তাঁর কাছে ঋণ স্বীকার করছি না, কৃতজ্ঞও থাকছি না। কারণ, লেখকদের উৎসাহ দেওয়া ও লালন করাই তাঁর একমাত্র মহৎ কাজ, আজ থেকে নয়, 'কল্লোল'-এর কাল থেকে। স্বার্থ কি তাঁর আছে জানি না, কিছু একটা আছে নিশ্চয়ই। এই গ্রন্থের নানাবিধ ঘষামাজার কাজ তিনিই করেছেন।
বিনয় ঘোষ
৭ ফেব্রুয়ারি, ১৯৪৪
শশিভূষণ দে স্ট্রিট
কলকাতা
নোট নিতে এবং টেক্সট হাইলাইট করতে লগইন করুন
লগইন