বিনয় ঘোষ
লেখাগুলি পুনর্মুদ্রণের কোনো সম্ভাবনাই ছিল না। কারণ আমি ভুলে গিয়েছিলাম লেখাগুলির কথা। যদি ভুলে না যেতাম তাহলেও ছাপা সম্ভব হত কি না সন্দেহ, কারণ বইটির কোনো কপি আমার কাছে ছিল না। পাঠাগারে কোথায় আছে কি না-আছে তাও খোঁজ করার অবসর হত না। ছাপা সম্ভব হল কারণ প্রদীপ কুমার বসু এবং তার স্ত্রী শুক্লা বসু বইটি হঠাৎ কুড়িয়ে পায় ফুটপাথ থেকে। অর্থাৎ গোলদীঘির রেলিং থেকে পয়সা দিয়ে কিনে আমাকে জানায় এবং আমার অনুরোধে তাদের বর্তমান কর্মস্থান সুরাটের সমাজবিজ্ঞানের গবেষণাকেন্দ্র থেকে ডাকযোগে আমাকে পাঠিয়ে দেয়।
বইটির চেহারা দেখে ভালো লাগল, অনেকবার মলাটের গায়ে হাত বুলিয়ে লেখাগুলির পড়ার পরে আরও ভালো লাগল। প্রথম যৌবনের বন্ধুর সঙ্গে বহুকাল পরে দেখা হলে যেমন গায়ে হাত বুলোতে ভালো লাগে তেমনি। ছাপালে মন্দ হয় না ভাবছি এমন সময় হঠাৎ একদিন ইন্দ্রনাথ মজুমদারের (সুবর্ণরেখা) চিঠি নিয়ে অমিত সরকারের প্রবেশ আমার গৃহে যাদবপুরে। অমিতের কিশোরসুলভ সাদাসিধে ব্যবহার দেখে মুগ্ধ তো হলামই, উপরন্তু মনে হল ওর দ্বারা ব্যবসা হবে না, ব্যবসায়ী বুদ্ধি ওর নেই। তৎক্ষণাৎ বইটি পুনর্মুদ্রণের প্রস্তাব করলাম এবং অমিত সোজা বইটি নিয়ে গিয়ে প্রেসে দিল। অবশেষে বইটিও ছেপে বেরুল। তার জন্য কার কাছে যে কতখানি কৃতজ্ঞ তা মেপে বলতে পারব না।
বিনয় ঘোষ
নোট নিতে এবং টেক্সট হাইলাইট করতে লগইন করুন
লগইন