বিমল দে
আমার ঘুম ভাঙ্গলো। বিছানায় সূর্যের আলো এসে পড়েছে। একটা হাই তুলে বিছানার উপর উঠে বসলাম, উঠে বসতেই রাতের সমস্ত ঘটনাটা মনে পড়ল। আমি চারপাশে তাকিয়ে ভাবতে লাগলাম আমি কি স্বপ্ন দেখলাম, সমস্ত ঘটনাটাকে আমি ভালোভাবে সাজাতে চেষ্টা করলাম ভুলে যাবার আগেই সেটাকে লিখে রাখা দরকার। ঝুলি থেকে খাতা পেন্সিল বার করে তাই এখন লিখতে শুরু করেছি। সবচেয়ে আশ্চর্য হচ্ছে ভোর বেলার ঘটনাটা, রাতের গভীর অন্ধকারে পথ হারিয়ে শীতে প্রায় মরতে বসেছিলাম এমন সময় এল সেই রহস্যময় নাংগা সন্ন্যাসী তিনিই আমাকে এখানে পৌঁছে দিয়েছেন। কি ভাগ্য। একমাত্র গুরুকৃপা ছাড়া এ ধরনের অভিজ্ঞতা অর্জন করা অসম্ভব। আমার নিজের কাছেই এই ঘটনাকে অসম্ভব বলে মনে হচ্ছে। রাতের অন্ধকারে জনমানব শূন্য পৃথিবীর এক অজ্ঞাত দেশে কেউ জানে না আমার ঠিকানা সেখানে হঠাৎ উদয় হলেন এক রহস্যময় সন্ন্যাসী। মনের মধ্যে এখন একমাত্র প্রশ্ন জাগছে, কে এই সন্ন্যাসী ? কে এই সিদ্ধ পুরুষ ? তিব্বতের এই শীতের রাতে পথ হারাদের পথ দেখাবার জন্য ঘুরে বেড়াচ্ছেন কে এই নাংগা ভৈরব ? জানি না কেউ আমার এই প্রশ্নের উত্তর দিতে পারবেন কি না। তাঁর উদ্দেশ্যে বার বার আমি আমার আন্তরিক ভক্তি ও কৃতজ্ঞতা সমর্পণ করতে লাগলাম। বিচুলির গদি করা বিছানায় আরও কিছুক্ষণ বসে থাকার ইচ্ছা ছিল কিন্তু সম্ভব হল না। দুটো কুকুরের বাচ্চা খেলা করতে করতে প্রায় আমার কোলের উপর এসে পড়ল। আর তাদের ঠিক সাথে সাথে ছুটে এল একদল ছেলেমেয়ে, আমাকে দেখেই তারা থেমে পড়ল। আমি হেসে তাদের স্নেহ জানালাম, তারপর তাদের সাথে উঠে এলাম বাইরে।
উঠোনে আসতেই সূর্যালোকে আমার দেহটা যেন স্নান করে উঠল। আমি চাঙ্গা হয়ে উঠলাম, উঠোনের মধ্যে একটা চটের উপর আরও কয়েকটি শিশু বসে আছে। কিছু যব সূর্যের আলোতে শুকোচ্ছে আর দূরে এক বৃদ্ধা মহিলা তুলো থেকে লাটিমে করে সূতো তৈরী করছেন কয়েকটা কুকুর নিশ্চিন্তে ঘুমোচ্ছে, কুকুরছানাগুলো চারদিকে ছোটাছুটি করছে। উঠোনের চারকোণে চারটে বাড়ী, মাটির গাঁথুনীতে পাথরের চাঁই বসিয়ে তৈরী করা হয়েছে শক্ত দেয়াল। জানালা দরজাগুলো কাঠের আর ঘরের চালগুলো টিনের তিব্বতের একটা মধ্যবিত্ত গ্রাম। আমি চারদিকে তাকিয়ে তাকিয়ে দেখতে লাগলাম তাদের বৈশিষ্ট্য। আমার চারপাশের শিশুরা এখন অনেকটা সহজ হয়ে তাদের মধ্যে খেলাধূলা আরম্ভ করে দিয়েছে। এমন সময় আমার সামনে হাজির হলেন একজন লোক—তাঁকে দেখেই বুঝলাম যে তিনিই আমার রক্ষাকর্তা। ভোরবেলা তিনিই আমাকে সস্নেহে এনে বিছানায় শুইয়ে দিয়েছেন। সাধারণ পরিস্থিতি হলে আমি তার পায়ে পড়ে গড় হয়ে কৃতজ্ঞতা জানিয়ে প্রণাম করতাম কিন্তু এই অবস্থায় সেটা অসম্ভব। আমি লামা, কাজেই তাঁকে প্রণাম করলে তিনি নিজেকে খুবই অপরাধী ভাববেন, তাই সবদিক বিচার করে আমি আমার মালাটা বের করে তার উদ্দেশ্যে ইষ্টমন্ত্র জপ করে আশীর্বাদ জানালাম। তিনি কৃতার্থ হয়ে মাথা নীচু করলেন, তারপর আমাকে তিনি অনুসরণ করতে বললেন। তাঁর পেছন পেছন আমি ও ছেলেমেয়েরা সবাই চলতে লাগলাম, এমন কি কুকুরগুলো পর্যন্ত ।
কিছুক্ষণের মধ্যে আমরা হাজির হলাম একটা চৈত্যের সামনে, ইতিমধ্যে গ্রামের অন্যান্য লোকজনেরাও এখানে এসে জড়ো হয়েছেন। অবস্থাটা দেখেই বুঝলাম যে, আমাকে সেখানে পূজো করতে হবে। গ্রামে নিশ্চয়ই কোনো গুম্ফা ও অন্য কোনো লামা নেই। আমি যখন এসেই পড়েছি কাজেই সে সুযোগটা ছাড়া চলবে না। অবশ্য আমার সম্পর্কে তাদের কি ধারণা সেটা সম্পূর্ণ আমার অজ্ঞাত। কিছুক্ষণের মধ্যেই গ্রামশুদ্ধ সবাই এসে সেখানে জড়ো হল। ভদ্রলোক ও আমি চৈত্যের চারপাশের প্রার্থনা চক্র ঘুরিয়ে প্রার্থনা করে দাঁড়ালাম। চৈত্যটি ছোট, প্রায় দু'মানুষ সমান উঁচু আর চারদিকে আটকানো ষোলটি চক্র। আট দশজন হাত ধরে গোল করে অনায়াসে সেটাকে ঘিরে ফেলা যায়। তার সামনে বিরাট একটা খাদের ওপর অসংখ্য প্ৰাৰ্থনা পতাকা উড়ছে।
সবাই চারিদিকে ঘিরে বসল। চৈত্যটি ছোট বটে কিন্তু পঞ্চতত্ত্বের ও মণ্ডলার পূর্ণ রূপ প্রকাশ পেয়েছে। চৈত্যের পাশে একটি আসন পাতা হয়েছে, আসনের সামনে একটা বাটিতে কিছু চাল, ছোট্ট একটি বজ্র আর ঘণ্টা। চারপাশের অবস্থা দেখেই বুঝতে পারলাম যে আমাকে পূজো করতে হবে। গ্রামবাসীরা সবাই তাঁরই অপেক্ষায় আছেন। আমি একে একে সবাইকে গুনতে লাগলাম সবশুদ্ধ একচল্লিশ জন ।
ভদ্রলোক এবার আমাকে অতি বিনীত হয়ে পূজো আরম্ভ করতে বললেন। মনের মধ্যে দ্বিধা দেখা দিল ; কার পূজো করবো কি ভাবে কি করবো মন্ত্রতন্ত্র'কিছুই জানা নেই। মনের সংশয়টাকে প্রকাশ না করে আমি এগিয়ে গিয়ে বসলাম আসনের উপর এর আগে এই ধরনের পরিস্থিতিতে পড়িনি। কি করবো ঠিক করবার জন্য আমি চোখ বুজে নিজেকে সংযত করতে লাগলাম। কিছুক্ষণ পর ভাবলাম যে পূজো মানেই তো সেই মহান আত্মার সাথে আমাদের এই ক্ষুদ্র আত্মার যোগসাধন। সেই অজানা আনন্দলোকের দেবতাদের এই মর্ত্যে আনার পদ্ধতি, দেবতাদের তুষ্ট করে প্রার্থনা করা হয় মনোবাঞ্ছা পূরণ করার জন্য। ভগবান অন্তর্যামী তিনি জানেন যে আমি পূজো-আর্চা কিছুই জানি না তা সত্ত্বেও আমাকে তিনি এই পরিস্থিতিতে ফেলেছেন । মনে মনে স্মরণ করলাম সেই রাতের দেখা সন্ন্যাসীর মূর্তিকে। হঠাৎ যেন আলো দেখতে পেলাম, তার পূর্ণাবয়ব মনের মধ্যে ভেসে উঠল, তিনিই তো আমার উদ্ধারকর্তা। তিনিইতো আসলে এই অঞ্চলের গুরু—সাক্ষাৎ শিবস্বরূপ। তার কথা চিন্তা করতেই আমার মন আনন্দে ভরে উঠল। সেই পরমপুরুষের উদ্দেশ্যেই আমার অন্তর থেকে উচ্চারিত হল প্রার্থনা। সেই প্রার্থনার ভাষা আমার মাতৃভাষা, আমি আন্তরিক ভক্তি দিয়ে তাঁকে জানালাম আমার অর্ঘ্য-
তুমি যেখানেই থাক তোমার দর্শন আমি পেয়েছি, তুমি আমাকে মৃত্যুর হাত থেকে বাঁচিয়েছো, আমাকে রক্ষা করেছো। তুমি যেই হও না কেন ; রহস্যঘন রাতের অন্ধকারে সেই দর্শনের সত্য-মিথ্যা যাচাই করে তোমার অস্তিত্বকে আমি হারাইতে চাই না । আমি জাগ্রত অবস্থায়ই তোমার যে রূপ দেখেছি তাতেই আমি ধন্য, আমার তিব্বতে আসা পূর্ণ হয়েছে যা পেয়েছি তাতেই আমার হৃদয় পরিপূর্ণ হয়েছে। তোমাকে আমার অন্তরের সম্পূর্ণ ভক্তি উজাড় করে দিয়ে আমি আত্মসমৰ্পণ করছি :::
প্রার্থনার শেষে আমি কয়েকটি মুদ্রা করলাম তারপর বজ্র ও ঘণ্টার ধ্বনি দিয়ে আরতি করে তাকে চাল সমর্পণ করলাম—অক্ষতং সমর্পয়ামী শ্রীগুরু চরণ কমলেভ্যঃ নমঃ।
প্রণাম করে বললাম- ত্বমেব মাতা চ পিতা ত্বমেব, ত্বমেব বন্ধুশ্চ সখা ত্বমেব, ত্বমেব বিদ্যা দ্রবিণং ত্বমেব, ত্বমেব সর্বম্ মম দেব দেব ৷ উপস্থিত গ্রামবাসীদের উদ্দেশ্য করে বললাম— ওম্ ত্রয়ম্বকম্ ইজামহে সুগন্ধিং পুষ্টি বর্ধনং উর্ভরুকমিভ বন্ধনন্ মৃত্যুঃ মুক্ষি মামৃতৎ। ওম্ সহন ভবতু সহনৌ ভূনক্ত সহ বিম করবাবহৈ ওম্ শান্তিঃ শান্তিঃ শান্তিঃ ।
পূজোর শেষে কিছুক্ষণ নীরব থেকে তারপর আমি উঠলাম। এবার শুরু হল গ্রামবাসীদের তরফ থেকে ভক্তি অর্ঘ্য দেবার পালা। গ্রামের একজন ভদ্রমহিলা আমাকে সাদা গামছা নিবেদন করে গ্রামের সর্বোচ্চ সম্মান প্রদর্শন করলেন। আনন্দে আর কৃতজ্ঞতায় আমার চোখে প্রায় আনন্দাশ্রু এসে গেল। চোখ বুজে ঠাকুরকে স্মরণ করে মনের ভাবাবেগকে সম্বরন করতে হল। গ্রামবাসীদের সাথে চৈত্য পরিক্রমা করে আবার আমরা গ্রামের পথ ধরলাম । আমাকে নিয়েই শুরু হল সেই গ্রামের শোভাযাত্রা ৷
রাস্তায় চলতে চলতে ভদ্রলোক বললেন- –তুমি ভারতীয় সাধু? তাঁর কাছ থেকে হঠাৎ এই কথাটা আশা করিনি, তাঁর কথার কোনো জবাব দিলাম না। কিছুক্ষণ পর তিনি আবার শুরু করলেন—আমাদের গ্রামে এরকম একজন হিন্দু সাধু পেয়ে আমরা খুব খুশী হয়েছি। তাঁর কথাটাকে অস্বীকার করার ক্ষমতা আমার নেই, মনের ভক্তি যখন প্রকাশ পায় তখন একমাত্র মাতৃভাষাই তার মাধ্যম। গ্রামবাসীদের এই প্রাণখোলা পরিবেশের মধ্যে আমার হৃদয় দ্বার খুলে গিয়েছে। আমি পরিবেশ আর নিজের সাবধানতার কথা ভুলে গিয়ে ব্যবহার করেছি আমার মাতৃভাষা বাংলা আর আমার প্রিয় স্তোত্র সংস্কৃত । তাই এদের কাছে ধরা পড়ে গিয়েছি।
গ্যাংটক ছাড়ার পর থেকে এ পর্যন্ত সব সময়ই সচেতন ছিলাম। নেপালী তীর্থযাত্রী আর মৌনীবাবা বলে নিজেকে সব সময় তিব্বতীদের কাছ থেকে দূরে সরিয়ে রাখতাম। সাধুবাবা কাছে থাকা কালীন আমার সে চিন্তা ছিল না; কিন্তু লাসা থেকে কৈলাসে চলার পথে আমিই আমার অভিভাবক খুব সাবধানেই ছিলাম, প্রচণ্ড ইচ্ছা সত্ত্বেও লাসায় নিজেকে জনসাধারণ থেকে দূরে দূরে রেখেছিলাম। কিন্তু আজ হঠাৎ কেন জানি না সেই সব বাধা, চীনাদের ভয় আর জড়তা সবকিছু যেন মন থেকে উধাও হয়ে গেছে। মনটাকে এত হালকা কোনদিনই লাগেনি। আমার এই ত্রাপার আভ্যন্তরীণ বিমল টা হঠাৎ যেন প্রকাশিত হয়ে পড়েছে। মনের সেই বাধাটা আনন্দের জোয়ারে উধাও হয়ে গেছে। মুণ্ডিত মস্তক, খয়েরি রঙের লামা পোশাকে তিব্বতে ভ্রমণরত এই দেহটাকে হঠাৎ যেন মনে হল এক অজানা মানুষ। আমি এর থেকে সম্পূর্ণ আলাদা। ইছাপুরের সেই বিমলকে হঠাৎ যেন খুঁজে পেলাম ।
ভদ্রলোককে আমি উজার করে দিলাম আমার প্রাণের কথা। ভাঙ্গা তিব্বতী কথা জোড়া দিয়ে তাঁকে বললাম—হ্যাঁ আপনি ঠিকই ধরেছেন আমি ভারতীয়, তীর্থযাত্রীদের সাথে আমি তিব্বতে এসেছি তাঁরা সবাই নেপালী লামা, আমি দীক্ষা নিয়ে তাঁদের সাথেই লাসায় গিয়েছিলাম। তাঁরা সবাই ফিরে গেছেন—আমি কৈলাসে যাবার জন্যই এ পথ ধরেছি।
আমার কথা শুনে ভদ্রলোক আনন্দে যেন লাফিয়ে উঠলেন, তিনি হঠাৎ যেন হীরের টুকরো খুঁজে পেয়েছেন। আমার আর কোন কথা না শুনেই তিনি সকলকে জানাতে লাগলেন আমার বিষয় ।
পরে জানতে পারলাম যে ভারতীয় তীর্থযাত্রীদের দর্শন পাওয়া তিব্বতীদের কাছে এক মহাপুণ্যের ফল । আজকাল তীর্থযাত্রীদের যাতায়াত নেই কিন্তু বছর দশেক আগেও তিব্বতীরা দলবেঁধে বড় রাস্তার ধারে যেতো ভারতীয় তীর্থযাত্রীদের দেখার জন্য। এই গ্রামের তিনিই মোড়ল, দুই ছেলে ইয়াটুং-এ থাকে। ভদ্রলোক দু'বার গ্যাংটকে গেছেন কাজেই এই গ্রামের তিনি একজন সম্মানীয় ব্যক্তি। তিনিও ইয়াংটু-এ পশমের কারবার করতেন এখন ছেলেরাই তার দেখাশুনা করে। তিনি এখন ভেড়া ও খেত-খামার নিয়ে ব্যস্ত। কিছুক্ষণের মধ্যেই আমি সেই পরিবারেই শুধু নয় সমস্ত গ্রামের সম্মানীয় অতিথি হয়ে পড়লাম !
গ্রামটির নাম দিংবো আর ভদ্রলোকের নাম ইইগী। ইইগী আর তার ভাই গীবিত দু'জনের একই স্ত্রী, অর্থাৎ ভদ্রমহিলার দু'জন স্বামী, আর ছোট ছেলে মেয়েগুলো যাদের দেখছি তারা সবাই গীবিতের ছেলেমেয়ে। ইইগীর ঔরসে যাদের জন্ম তারা এখন সবাই বড়। গীবিতের ছেলেমেয়েরা এখন ছোট। ভদ্রমহিলাকে বাহবা দিতেই হবে, একই সাথে দুই স্বামীর মন যোগানো কি কম কথা। ভদ্রমহিলার বয়স এখন প্রায় পঞ্চাশের কাছাকাছি তো বটেই, এটা আমার অনুমান মাত্র। ইইগী মশাই উপযাচক হয়েই আমাকে তার হাঁড়ির খবর দিলেন, তিব্বতে এটা খুবই চতি নীতি । হবেই বা না কেন? এতে দোষেরই বা কি আছে? দ্রৌপদীর পাঁচ স্বামী থাকা সত্ত্বেও তো তাকে আমরা পরমা ভাগ্যবতী লক্ষ্মীর মর্যাদা দিয়ে থাকি। এই পরিবারকে দেখেই মনে হচ্ছে যে এমন সুন্দর ও সুখী পরিবার বুঝি জগতে বিরল ।
ইইগীকে আমি কথায় কথায় রাতের সেই সন্ন্যাসীর কথা জিজ্ঞাসা করলাম—তিনি আমার কথা কিছুই বুঝতে পারলেন না। কাজেই আমি সে বিষয়ে নীরব থেকে গেলাম। সেদিনটা খুব তাড়াতাড়ি কেটে গেল। এরা সন্ধ্যের আগেই রাত্রির খাওয়া খেয়ে নেন তাতে আলোর খরচা বাঁচে আর শরীরের পক্ষেও খুব ভালো। ভদ্রমহিলা আমাকে তাঁর ছেলেমেয়েদের সাথেই শোবার বন্দোবস্ত করে দিলেন, তাঁর এই সহজ আর সরলতার কথা কোনদিনই ভুলবো না ।
দিংবো গ্রামে দু'দিন পুরো বিশ্রাম করে তারপর আবার রওনা দিলাম, উদ্দেশ্য সীগাৎসে। সাংপো ধরে আবার চললাম পশ্চিমের পথে। এখান থেকে সীগাৎসের পথ নির্দেশ খুব সোজা।
গ্রামের লোকেরা এই পথেই সীগাৎসে যান। সাংপোর দক্ষিণ ধার ধরে সরাসরি যেতে হবে উৎসের দিকে কয়েকদিন চলার পর পাওয়া যাবে একটা নদী—সেটাই নীয়াং নদী। নদী পার হবার জন্য ফেরী নৌকা পাওয়া যাবে—নদীর ওপারেই সীগাৎসে। অর্থাৎ এখান থেকে নীয়াং নদী ছাড়া আর কোন নদী আমাকে পার হতে হবে না। আমার কাছে এটা একটা বিশেষ সান্ত্বনা ।
নোট নিতে এবং টেক্সট হাইলাইট করতে লগইন করুন
লগইন