ভয়ংকর রাত

বিমল দে

নদীর কাছাকাছি আসতে আরও ঘণ্টাখানেক লাগল। নদীর ঠিক ধারে যখন এসে পৌছলাম তখন দিনের আলো নিভে গিয়ে রাতের তারা দেখা দিয়েছে। এখন অবশ্য আর আগের মতো পাহাড়ি পথ নয়, পথ অনেকটা সমতল কিন্তু প্রতি পদক্ষেপেই অন্ধকারে হোঁচট খেতে খেতে চলতে হচ্ছে, একমাত্র আকাশের তারা ছাড়া কোন আলোই চোখে পড়ছে না। পৃথিবী থেকে গ্রামগুলো যেন সম্পূর্ণ উধাও হয়ে গেছে। এই মুহূর্তে যে কোন মানুষের দেখা পেলেই তার পিছনে পথ ধরতাম। দুপুরের সেই গ্রামটার পর আর কোন মানুষই চোখে পড়েনি ।

শুধু যে নিঃসঙ্গতা তাইই নয় নতুন সমস্যা দেখা দিল শীত। মাথা ঢাকা, ভালভাবে কম্বলটা দিয়ে দেহটাকে জড়িয়েও মনে হচ্ছে তার থেকে নিষ্কৃতি পাওয়া মুশকিল। একনাগাড়ে চলতে চলতে আমি এখন খুবই ক্লান্ত, গ্রামের সেই ভদ্রলোকের দেওয়া লাড্‌ডু আমি ইতিমধ্যে খেয়েছি। কিছুক্ষণ পর এমন অবস্থায় এসে পৌঁছলাম যে, আমার আর চলবার মতো এতটুকু শক্তিও যেন নেই। বাইরের শীত আর মনের ক্লান্তি দুইয়ের চাপ সহ্য করতে না পেরে আমি বসে পড়তে বাধ্য হলাম। কম্বলটাকে আরও ভালভাবে জড়িয়ে নিজেকে এবার বস্তা বন্দী করে কুকুর-কুণ্ডলী হয়ে শুয়ে পড়লাম । ঘুমিয়ে পড়েছিলাম; স্বপ্ন দেখলাম-আমি এক অজ্ঞাত রাজ্যে এসে পড়েছি। সে রাজ্যে রাজা নেই, প্রজা নেই, কোন শব্দ নেই, মাঝে মাঝে শুধু আকাশ থেকে ফুলঝুরির মতো ঝরে পড়ছে তুষার ঠাণ্ডা, ভীষণ ঠাণ্ডা সেই ঠাণ্ডায় কেউ টিঁকে থাকতে পারে না। সেখানে তান্ত্রিকেরা মড়ার খুলির জন্য ঘুরে বেড়াচ্ছে, আমি সেই রাজ্যে এসে হারিয়ে গিয়েছি। শীতে আমার সর্বশরীর কাঁপছে, শরীরের হাড়গুলো একের সঙ্গে আর এক ঠোকাঠুকি করছে, পাশের শুকনো ঘাসের লেপ জড়িয়েও যেন সুবিধা হচ্ছে না। আমার পাশেই দাঁড়িয়ে আছে এক কাপালিক, শকুনির মতো সে অপেক্ষা করছে—আমার মৃত্যুর জন্য। আমার মাথার খুলিটা তার চাই, তার গলায় নরমুণ্ডের মালা, হাতে ত্রিশুল, মাথায় বিরাট চুলের জটা, তার দিকে তাকিয়ে আমি আতঙ্কে চীৎকার করে উঠলাম ঘুম ভাঙলো, বুকের হৃৎপিণ্ডটা জোরে জোরে শব্দ করে রক্তের গতি সামলাতে ব্যস্ত হয়ে পড়েছে। কামাখ্যায় দেখা বলির পাঁঠার মতো আমার সর্বশরীর ভয়ে ও শীতে কাঁপছে। .....

কেন এরকম স্বপ্ন দেখলাম ! ভয় আমার নেই এমন কথা বলতে পারবো না তবে ভয়টাকে মোটেই পাত্তা দিইনি। মৃত্যুর গ্যারান্টি নিয়েই যখন জন্ম তখন মৃত্যুকে আমি ভয় করি না। কাপালিকের সাথে এই আমার প্রথম রাত কাটানো নয়, কাপালিক কেষ্ট সাধুর সাথে মৃত্যুর মুখোমুখি আমি অনেকদিনই হয়েছি কিন্তু কোনদিনই আমি ভয়ে তার সঙ্গ ছাড়িনি। কিন্তু আজকের এই স্বপ্ন হঠাৎ যেন আমাকে দুর্বল করে দিচ্ছে। নিজেকে সংযত করে আবার ঘুমোবার চেষ্টা করতে লাগলাম কিন্তু অসম্ভব। রাতের বেলা বাইরে এত শীত করবে আমার জানা ছিল না, ভেবেছিলাম তিব্বতে এখন বরফ গলতে শুরু করেছে, কাজেই এখন গরম কাল। আমার অনুমান সম্পূর্ণ মিথ্যা। আমার জামা-কাপড় ও কম্বলের ভেতর দিয়ে ঠাণ্ডা আমাকে আক্রমণ করতে লাগল। বেশ কিছুক্ষণ গড়াগড়ি দিয়েও শেষে উঠতে বাধ্য হলাম। শরীরের অবস্থা খুবই কাহিল,মনে হয় সম্পূর্ণ উত্তাপ আমি হারিয়ে ফেলেছি। মনে পড়ল কপাল-ভাতির কথা, এই প্রাণায়ামটি করলে নাকি ইড়া ও পিঙ্গলার উত্তাপ ফিরিয়ে আনা যায়। কাজেই শুরু করলাম প্রাণায়াম। বেশ কিছুক্ষণ প্রাণায়াম করার পর দেহের উত্তাপ স্বাভাবিক হয়ে এল—তারপর সেই অবস্থাতেই শুরু করলাম শুদ্ধ জপ, সোঅহম্ সোঅহম্ সোঅহম্ জপ করতে করতে আমি ফিরে পেলাম শূন্যাবস্থা। মন্ত্র নিরুদ্দেশ হয়ে মন খুঁজে পেল তার স্তব্ধতা। এই অবস্থায় কতক্ষণ ছিলাম জানি না। মনের মধ্যে উদয় হল শান্ত ধ্যানী বুদ্ধের রূপ—তারই পাশে দেখলাম সেই স্বপ্নে দেখা কাপালিককে। তিনি দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে হাসছেন। এবার আবিষ্কার করলাম কাপালিকের বেশে তিনি আমার সাধুবাবা, লম্বা দোহারা চেহারা। তাঁকে চিনতে পেরেই আমি স্থান-কাল ভুলে গিয়ে চেঁচিয়ে উঠলাম সাধুবাবা! ব্যস্ সঙ্গে সঙ্গে আবার জেগে উঠলাম। মন্ত্রের পরিবর্তে চিন্তাস্রোতের এক জাগ্রত রূপ আমার মনে বাসা বেঁধে উঠেছিল। আমি এবারে ভালোভাবে জেগে উঠলাম। এই চিন্তাস্রোতকে কিছুতেই মন থেকে দূর করতে পারছি না। কি করবো ঠিক করতে না পেরে ঝুলি নিয়ে দাঁড়িয়ে পড়লাম—চলাই ভালো ৷

আকাশের তারা থেকে যে সামান্য আলো এসে পৃথিবীর এই অঞ্চলে পড়েছে তাতেই এখন পথটা দেখা যাচ্ছে। নদীর সাথে সমান্তরাল রেখে আকাশের একটি তারা বেছে নিলাম ও হাঁটতে শুরু করলাম। শীতটা আস্তে আস্তে আবার বাড়তে আরম্ভ করেছে। চলার ছন্দটা কিছুতেই যেন ফিরিয়ে আনতে পারছি না। মণি মন্ত্রটাকে এবারে গুনগুন করে গাইতে লাগলাম। ওম্ মণি পদমে হুম্, আর তারই সাথে মেলাতে লাগলাম আমার চলার গতি—নিশ্বাস আর প্রশ্বাস। রাত এখন কটা হবে কে জানে, দূরে পাহাড়ের উপর হঠাৎ নজরে পড়ল এক ফালি চাঁদ। কোনরকমে সে নিজেকে প্রকাশ করেছে মাত্র। আমার চারদিকের সেই মহা নিস্তব্ধতার মধ্যে মনে হচ্ছে আমিই একমাত্র প্রাণী। আমার কাছে মনে হচ্ছে হঠাৎ আমি যেন পড়ছি এক অনন্ত রাত্রির মধ্যে। পৃথিবীর পথে চলছিলাম সেই পথের একঘেয়েমীপনাকে সইতে না পেরে আমি ধরেছিলাম অন্য পথ। সেই পথের মধ্যে ছিল এই অজানা অনন্ত রাত্রির ফাঁদ, সেই ফাঁদেই পড়েছি জানি না এ রাত্রির শেষ আছে কি না। রাত্রি যে এত দীর্ঘ হয় তা আমি এই প্রথম জানলাম। মনকে যতই সজাগ করি না কেন তা যেন কিছুতেই সম্ভব হচ্ছে না। হঠাৎ সামনের একটা দৃশ্য দেখে আমার সর্বাঙ্গে কাঁটা দিয়ে উঠল প্রত্যেকটা রোমকূপ যেন দাঁড়িয়ে উঠল—আমার ঠিক সামনে দিয়ে কে যেন হেঁটে চলেছে, আকাশ থেকে ছিটকে পড়া আলোকে চেষ্টা করলাম তাকে দেখতে, মনে হল ঠিক যেন কাপালিক। মনকে আরও সজাগ করলাম চলতে চলতে নিশ্চয়ই কেউ স্বপ্ন দেখে না ৷ আমি নিজেকে বিশ্লেষণ করতে লাগলাম আমার এই অবস্থাকে আর যাইই বলি না কেন, কিছুতেই বলবো না যে আমি জেগে-জেগেই স্বপ্ন দেখছি। মনে হল এই অনন্ত রাত্রি থেকে মুক্তি পেতে হলে এই মুহূর্তে এই মানুষটিকে আমার একান্তই দরকার। সব দ্বিধা দূর করে মনের শক্তি ফিরিয়ে এনে তাকে ডাকলাম—কিন্তু আমার সেই ডাক কিছুতেই গলার স্বর হয়ে প্রকাশিত হল না। তা হোক তবুও তাকে অনুসরণ করা ছাড়া উপায় নেই—এই বিরাট অন্ধকারের তিনিই একমাত্র আলোক। অনেকক্ষণ চলার পর থামতে বাধ্য হলাম, আমি এবার সেই অজানা রহস্যময় মানুষটির ঠিক ডান দিকে এসে দাঁড়িয়েছি।

সরাসরি তার মুখের দিকে তাকালাম। সেই রাতের অস্পষ্ট আলোকে কিছুতেই তার মুখটা দেখতে পেলাম না। তিব্বতে প্রবেশের পর থেকে এই পর্যন্ত শুধু বিভিন্ন ধরনের লামাই দেখে এসেছি। ভারতীয় মতে যাদের যোগী বা তান্ত্রিক বলে সে রকম কাউকে দেখিনি। সেই অন্ধকারের অস্পষ্ট আলোয় তার দিকে তাকালাম কিন্তু কিছুতেই তাকে চিনতে পারলাম না তার সাথে বলবার মতো কোন ভাষাও পেলাম না, আরও অবাক হলাম তিনি সম্পূর্ণ উলঙ্গ। পরনে কাপড়ের চিহ্নমাত্র নেই। মাথার চুল জটাকারে পেছনে নেমে পড়েছে, তার হাতে কিছু নেই। সম্পূর্ণ এক উলঙ্গ সন্ন্যাসী। আমি সামনের দিকে তাকালাম পথের এখানেই শেষ। আমাদের বাঁদিক থেকে ছোট নদী সাংপোতে মিশে গিয়ে এক সঙ্গমের সৃষ্টি করেছে। সন্ন্যাসী সেখানে কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে থেকে তারপর নদীর উৎসের দিকে হাঁটতে শুরু করলেন আমিও মন্ত্রমুগ্ধের মতো তাকে অনুসরণ করতে লাগলাম । নদীটা একসময় একটু সরু হয়ে এল। মাঝখানে অসংখ্য বড় বড় পাথরে ধাক্কা খেয়ে সে এখানে প্রায় ঝরনার আকার ধারণ করেছে। আমরা সেখানে নদীর ভিতরের বড় বড় পাথরের উপর দিয়ে লাফিয়ে লাফিয়ে কোনরকমে জল বাঁচিয়ে পার হলাম । নদীটা পার হতে সন্ন্যাসী আমার জন্য অপেক্ষা না করেই দক্ষিণদিকে রওনা হয়ে গেলেন। তাঁকে অনুসরণ করতে গিয়েও পারলাম না ।

পায়ের থেকে হঠাৎ যেন আবার ঠাণ্ডাটা শির শির করে উপর দিকে উঠতে শুরু করেছে। নদীর ধারেই বসতে বাধ্য হলাম। প্রায় অচল হওয়া পা থেকে জুতোটা খুলতে গিয়ে দেখি সেটা সম্পূর্ণ জলে ভিজে গিয়েছে। নদী পার হবার সময় কখন যে জুতো দুটোয় জল ঢুকে গেছে তার টেরও পাইনি। কোন রকমে জুতো খুলে চাদরে পা দুটো মুছে নিয়ে মালিশ করতে লাগলাম। কিছুক্ষণের মধ্যেই পা দুটো গরম হয়ে উঠল ৷ কিন্তু আবার জুতো পরার প্রশ্নই উঠে না, অথচ খালি পায়েও এই শীতে চলা মুশকিল । সন্ন্যাসী এখন সম্পূর্ণ উধাও হয়েছেন। তাঁর পরিচয়, রূপ আর আমাকে যেভাবে তিনি এতখানি পথ নিয়ে এসে নদী পার করিয়ে দিয়েছেন সেটা আমার কাছে রহস্যই থেকে গেল। ভেজা জুতো নিয়ে আমি পড়লাম এক নতুন সমস্যায়। সেখানে এইভাবে বসে থাকলে শীতে মারা যাবো আর চলতে গেলেও খালি পায়ে ঠাণ্ডা লেগে সেই একই অবস্থা হবে। কি করবো ঠিক করে উঠতে পারছিলাম না ।

এমন সময় আমার সব সমস্যার সমাধান করে দিয়ে তারস্বরে ডেকে উঠল একটা মুরগী। কু-কু-রু-কু ... । তাল ও ছন্দের এক অপূর্ব মিশ্রণ আমার কানে এসে বাজলো । সেই শব্দ নিয়ে এল আশা আর আনন্দের সংবাদ—আমার অনন্ত রাত্রির সেখানেই শেষ। শুধু একটা মুরগীর ডাক আমার কাছে নিয়ে এল নবজীবনের স্রোত। ভালোভাবে লক্ষ্য করে দেখলাম, দূরের তারাগুলো একটু নিষ্প্রভ হতে শুরু করেছে, ভোরের সূচনা ।

আমি আশার আলো দেখলাম, জুতো দুটোকে হাতে করে যে দিক থেকে মুরগীর ডাক এসেছিল সেইদিকেই হাঁটতে শুরু করলাম। সেদিকে নিশ্চয়ই কোন গ্রাম পাওয়া যাবে। কিছুদূর আসতেই নজরে পড়ল হাল চষা জমি, আমাকে আর কষ্ট' করে গ্রাম খুঁজতে হল না মনে হল গ্রামই আমার দিকে ছুটে এল। নতুন-দার মতো আমি জুতো হাতে নিয়ে কুকুর বেষ্টিত হয়ে পড়লাম। মহা বেকুবের মতো দাঁড়িয়ে পড়তে বাধ্য হলাম। এক ভদ্রলোক হ্যারিকেন হাতে নিয়ে আমার দিকে এগিয়ে এলেন। তিনিই আমার রক্ষাকর্তা, তিনি কাছে আসতেই আমি তাকে কোন প্রকারে বললাম—একটু আগুন। একটা ত্রাপার এই দুরবস্থা দেখে তিনি আমাকে সরাসরি তাঁর বাড়ীতে নিয়ে এলেন। ভদ্রলোককে বিশেষ কিছু বুঝিয়ে বলতে হল না, তিনি আমার অবস্থা দেখেই সব অনুমান করে নিলেন। তিনি আমাকে একটা ঘরে নিয়ে গিয়ে সরাসরি একটা বিছানা দেখিয়ে দিয়ে বললেন শুয়ে পড়। আমার এই অবস্থায় চেয়ে এর মধুর কথা আর হতে পারে না। বিছানায় আরও কয়েকজন শুয়ে ছিল আমি বিনা দ্বিধায় তাদের সাথে যোগ দিলাম । আহ ! কি আনন্দ ! মনে হয় এই অবস্থাকেই বলে চরম আনন্দ, লেপটাকে তুলে দিলাম মাথার উপর ।

সকল অধ্যায়
১.
বাড়ী থেকে পালিয়ে
২.
যাত্রা
৩.
একটি তিব্বতী পরিবার
৪.
ইয়াটুং শহর ও দুংকার গুম্ফা
৫.
ফারি
৬.
কিয়াংফু গুম্ফা ও লামা শেরিং জো
৭.
তীর্থযাত্রীর প্রথম অঞ্জলি
৮.
আর্য তারার ধ্যান
৯.
গীয়াৎসের থেকে সাম্‌দিং গুফা
১০.
দোরজে পামো
১১.
ভাষা
১২.
প্রথম সাংপো দর্শন
১৩.
পুণ্যতীর্থের দুয়ারে
১৪.
লামা ও শিক্ষা ব্যবস্থা
১৫.
লাসা ও মূল মন্দির জোখা
১৬.
লাসা
১৭.
রাজ-প্রাসাদ পোতালা
১৮.
লামা লামদুপ
১৯.
নরবুলিংকা—দালাই লামার গ্রীষ্মাবাস
২০.
দালাই লামা
২১.
লাসায় শেষের কয়েকদিন
২২.
কৈলাস যাত্রার প্রস্তুতি
২৩.
কৈলাসের পথ-সন্ধানে
২৪.
সাংপার ওঝা
২৫.
ভয়ংকর রাত
২৬.
অচেনা আপনজন
২৭.
সীগাৎসে
২৮.
পাঞ্চেন লামা
২৯.
ত্রাদুম্
৩০.
দুর্গম পথ
৩১.
মহাতীর্থের দরজায়
৩২.
মহাতীর্থ
৩৩.
মানসতীর্থে প্রথম রাত্রি
৩৪.
কৈলাসবাবা
৩৫.
মিলারেপা
৩৬.
মিলেনিয়ামে লাসা

নোট নিতে এবং টেক্সট হাইলাইট করতে লগইন করুন

লগইন
০%