লামা লামদুপ

বিমল দে

পরের দিন খুব ভোরবেলা ডাকাডাকি করে কে যেন আমাদের ঘুম ভাঙালো—কম্বলটাকে মাথায় শব্দ রহিত করে জড়িয়েও কোন লাভ হল না। চার পাঁচবার কাঠের মেঝের উপর গড়াগড়ি দিয়ে উঠতে বাধ্য হলাম। কোন রকমে চোখটা খুলে জিজ্ঞাসা করলাম-কে? তার পরই নিজেকে সংযত করে নিলাম ৷ পাশেই নাক ডেকে ঘুমিয়েছিলেন গুরুজী তাঁকে ঠেলে তুলতে বাধ্য হলাম। দরজার কাছে আধো আলোয় ভূতের মতো যিনি দাঁড়িয়ে আমাদের নিদ্রাভঙ্গে ব্যস্ত, তিনি মনে হয় কোনো বিশেষ সংবাদ নিয়ে এসে হাজির। ঘরের কোণে লোহার গামলায় কাঠকয়লার আগুন সারা রাত্রিই ধুনচির মতো জ্বলে, তারই অল্প আলোতে ভালো করে তাকালাম, একটা দশবারো বছরের ছেলে আষ্ঠেপৃষ্ঠে চাদর জড়িয়ে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে শীতে কাঁপছে। আমি তার কাছে উঠে গিয়ে, ইসারায় তাকে আগুনের কাছে আসতে বললাম। সে মাথা নীচু করে কৃতজ্ঞতা জানিয়ে এগিয়ে গেল নিজেকে গরম করতে। আমাদের দেশে অতিথিকে চা দেবার মতো তিব্বতে অতিথিকে আগুন পোহাতে বলা খুব আন্তরিকতার পরিচয়। গুরুজী এর মধ্যে উঠে বসেছেন, ছেলেটি তাঁর দিকে তাকিয়ে খুব তাড়াতাড়ি কি যেন বলল। তার কথার মধ্যে বিশেষ খাম্পা টান আমি লক্ষ্য করলাম, আর বার বার একটা নামই কানে বাজল, “গুরু লামদুপ”। কিছুক্ষণ আগুনের তাপে শরীরটাকে গরম করে নিয়ে তারপর চলে গেল। সাধুবাবা আমাকে বুঝিয়ে দিলেন—জোখাং মন্দিরে লামা লামদুপ্ এসেছেন। লামা লামদুপ্ তিব্বতের নামকরা কুম্ মন্দিরের অন্যতম প্রধান পূজারী। এর আগে লামা লামদুপের সাথে গুরুজীর দু'বার দেখা হয়েছিল। তিনি গুরুজীর লাসায় আগমনের কথা লোকমুখে শুনেছেন, তাই তিনি লোক পাঠিয়েছেন দেখা করবার জন্য। শুনে বেশ ভালোই লাগল—গুরুজীর মতে' লামা লামদুপ্ খুব জ্ঞানী ব্যক্তি কাজেই এ সুযোগ পরমেশ্বরের কৃপা ছাড়া সম্ভব নয়। তিনিই সব যোগাযোগের মালিক। কম্বলের আকর্ষণ সত্ত্বেও আমি গুরুজীর সাথে উঠতে বাধ্য হলাম। বারান্দায় এসে দেখি তখনও আকাশের তারাগুলো জ্বল জ্বল করছে। ভোরের প্রথম মুরগির ডাক কানে এল। গুরুজীকে জিজ্ঞাসা করলাম- কেন ?

—এত ভোরবেলায় তিনি ডেকে পাঠিয়েছেন

—তিনি বরাবরই খুব ভোরবেলা ওঠেন। সন্ধ্যার পর তিনি কারও সাথে কথা বলেন না। সম্ভবতঃ এটাই তার সুস্থ শরীরের আসল চাবিকাঠি। তুই দেখিস তার বয়স ধরা মুশকিল। তিনি যখন এদিক ওদিকে যান তখন তার সাথে সব সময়ই পাঁচ ছ'জন শিষ্য থাকেন, কাজেই তুই মৌনই থাকিস। আমাদের ওঠার সাথে সাথে আমাদের দলের আর একজন লামা উঠে পড়েছেন, তিনিও আমাদের সাথে তৈরী হয়ে নিলেন। আমরা জোখাং মন্দিরের কাছে একটা দোকানের সামনে এসে দাঁড়াতেই নজরে পড়ল একজায়গায় আগুনের চারধারে কয়েকজন দাড়িয়ে গল্পগুজব করছে। কাছে আসতেই দেখি আমাদের সংবাদদাতা সেই পরিচিত ছেলেটি। অন্যান্য লোকগুলো একটু বয়স্ক গোছের, তারা মন্দিরের প্রহরী। আমাদের দেখেই তারা সসম্মানে জিভ বার করে সম্মানসূচক প্রণাম জানাল। আমরা প্রধান পূজারীর বাড়ীর ঠিক সামনের বাড়ীটায় এসে দরজায় ধাক্কা দিলাম। দরজাটা খোলাই ছিল। ভেতরে ঢুকতেই হ্যারিকেন হাতে নিয়ে একজন ভদ্রমহিলা এগিয়ে এলেন। সাধারণ তিব্বতী পুরুষ ও মহিলাদের পোশাক প্রায় একই রকম, তাই ভদ্রমহিলাকে প্রথমে ভদ্রলোক বলে মনে হয়েছিল। ভদ্রমহিলার সাথে আমরা বিরাট বারান্দা পেরিয়ে একটা ঘরে এসে ঢুকলাম। সেই ঘরের মাঝখানে আগুন আর তারই পাশে সাতজন লামা চোখ বুজে বসে আছেন। সবাই ধ্যানমগ্ন। সকলের সামনে একটু উঁচু বেদীতে তাঁদের মুখোমুখি বসে আছেন একজন প্রৌঢ় ব্যক্তি। তিনিও ধ্যানে মগ্ন ৷ আমরা তাঁদের সাথে যুক্ত হলাম ৷

প্রায় ঘণ্টাখানেক পর মন্ত্রপাঠের মাধ্যমে তাঁদের ধ্যানভঙ্গ হল। প্রৌঢ় ভদ্রলোক আস্তে আস্তে চোখ খুললেন। তাঁকে দেখেই মনে ভক্তির ভাব আসে, পবিত্র শান্ত রূপ ৷ তিনি সরাসরি গুরুজীর দিকে তাকিয়ে একটু হাসলেন। সেই হাসিতে যেন ঝরে পড়ল স্নেহ ও প্রীতি। শিশুর মতো সহজ ও সরল সে হাসিতে প্রাণ আর মধুরতার স্পর্শ পেলাম। তারপর তিনি বললেন—গতকাল খবর পাঠিয়েছিলাম তুমি ছিলে না, তাই এখন খবর পাঠিয়েছি। অনেকদিন পর দেখা হল, ভালো আছো তো? রাস্তায় কোন অসুবিধা হয়নি? তার কথাতে এতটুকু উচ্ছ্বাস নেই, এতদিন পর দেখা হচ্ছে অথচ তা সত্ত্বেও নেই এতটুকু ভাবাবেগ ।

—আপনার আশীর্বাদে রাস্তায় কোন অসুবিধাই হয়নি। গতকাল আমরা একটু বেরিয়েছিলাম—ফিরতে একটু রাত হয়েছিল। আপনি আছেন তো কয়েকদিন ? গুরুজীর প্রশ্ন শুনে লামা লামদুপ্ আগের মতোই অতি মৃদু স্বরে জবাব দিলেন,

—আজকেই আমি অন্যত্র চলে যাবো। বিশেষ দরকারে আমি এসেছি।

এর পর আর কোন কথা হল না, লামা লামদুপ্ এরপর চোখ বুজলেন। ঘরের অন্যান্য লামারাও সঙ্গে সঙ্গে চোখ বুজলেন। তারপর শুরু হল নাভিস্বরে মন্ত্রপাঠ । কিছুক্ষণ পর আবার সবাই ধ্যানমগ্ন হলাম। আমাদের যখন ধ্যান ভাঙ্গলো তখন কাঁচের জানালা দিয়ে বাইরের আলো দেখা দিয়েছে। ভোরের ধ্যান আর নীরবতা শরীর ও মনকে সুস্থ ও সবল করে, মনের প্রসন্নতা ও একাগ্রতা এনে দেয়। মনের অহঙ্কারকে বুদ্ধ চরণে নিবেদন করলে চিত্তের সংশয় দূর হয় ।

ভক্তরা গুরুর চরণে প্রণাম করে আস্তে আস্তে উঠে পড়ল ৷ আমরা পরমগুরু লামা লামদুপকে নিজেদের মধ্যে পেলাম। এবার তিনি গুরুজীকে আরও কাছে এগিয়ে আসতে বললেন। আমি এখন ভালোভাবে তাঁকে দর্শন করতে লাগলাম । তাঁর মুখটা অন্যান্য তিব্বতীদের মতোই, মাথায় অল্প চুল অন্যান্য লামাদের মতো তাঁর মুণ্ডিত মস্তক নয়। সাদা-পাকা চুলের খুব হালকা দাড়ি গোঁফ। লম্বায় মনে হয় প্রায় ছ’ফুটের কাছাকাছি, চেহারাটাও খুব শক্ত। গুরুজী ঠিকই বলেছেন যে বয়স কত ধরা মুশকিল। গুরুজী পনেরো বছর আগেও তাঁকে এরকমই দেখেছেন। আমি অনেক তীর্থ ঘুরেছি হিমালয়ের সর্বোচ্চে এখন রয়েছি, একটা মানুষের মধ্যে হিমালয়ের পবিত্রতা যে এমন সুন্দরভাবে প্রকাশিত হতে পারে তা এই প্রথম চোখে পড়ল। তিনি সাক্ষাৎ যোগীপুরুষ। দেবতুল্য ব্যক্তিদের দর্শন পেয়ে নিজেকে ধন্য বলে মনে হল। গুরুজীর সাথে তাঁর মৃদু কথাবার্তার মধ্যে আমি খুঁজে পেলাম এক অপূর্ব ছন্দ। গুরুজীর সাথে তাঁর এই মিলন আমার জীবনে এক অব্যক্ত অভিজ্ঞতা হয়ে থাকবে। ঘরের মধ্যে দুটি মেয়ে একটা থালায় করে কিছু সুজির বরফি আর চা নিয়ে ঢুকল। মেয়ে দুটি খুব অল্প বয়সের। আগে সম্ভবতঃ এদের মাকে দেখেছি। পনেরো ষোল বছরের হবে। সবচেয়ে নজরে পড়ল তাদের চুলের বাহার। মাথার উপড়ে চূড়োর আকারে বেতের কাঠামোর উপর চুলগুলোকে ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। ঠিক যেন পাহাড়ের একটি ছবি। চোখাচোখি হতেই একটু মিষ্টি হেসে আমার দিকে এক বাটি চা আর দুটো বরফি এগিয়ে দিল, আমি মাথা নীচু করে তাদের কৃতজ্ঞতা জানিয়ে তা গ্রহণ করলাম ।

এরপর সেই ঘরটিতে আরও লোকজন পরমগুরু দর্শনার্থে এসে জড়ো হতে লাগল। আমরা বসে রইলাম। গুরুজী ছাড়া তিনি ব্যক্তিগতভাবে আর কারও সাথে কথা বললেন না। মাঝে মাঝে তিনি নিজেই মৃদু স্বরে কথা বলেন, মনে হয় তিনি নিজের সাথেই কথা বলছেন ৷

সমস্ত সকালটা সেখানে আমরা কাটালাম, তারপর তাঁর আশীর্বাদ নিয়ে আমরা তাঁর ঘর ছাড়লাম। জোখাং মন্দিরের চত্বরে বসে গুরুজী আমাকে লামা লামদুপের উপদেশগুলো ব্যাখ্যা করে শোনাতে লাগলেন। মহামূল্য উপদেশ যে কাজে লাগাবে সেই উপকৃত হবে। যেমন—

ইচ্ছাশক্তির অভাবই অন্ধকার, ইচ্ছাশক্তির জাগরণই আলো ৷

মনটাকে পূর্ণ না করলে, শূন্য পাবে কি করে ?

এই বিশ্বব্রহ্মাণ্ডকে যুক্তি ও বিচার দিয়ে জানাই হচ্ছে

মহাযানকে জানা ৷

যারা অশুদ্ধ অপবিত্র তাদের দ্বারা ‘বজ্রযান' জানা অসম্ভব। তাদের বজ্রযান পন্থা অবলম্বন না করাই ভালো ৷

আমাদের মধ্যে আছে ব্যক্তিগত শক্তি আর বাইরে আছে বিশ্বশক্তি। আত্মশক্তি দিয়ে জানতে হবে বিশ্বশক্তিকে। বিশ্বশক্তিকে নিজের মধ্যে আনার চেষ্টা, আত্মহত্যার চেষ্টা মাত্ৰ ।

মন্ত্র মনকে রক্ষা করে, তন্ত্রর মাধ্যমে বিশ্ব রহস্যকে জানা যায়। ঘটের মধ্যে যে শূন্যতা আছে তার মধ্যে নেই আলো সেই শূন্য অন্ধ। জ্ঞানের আলো দিয়ে যে শূন্যতা উপলব্ধি করা যায় সেটাই মহাশূন্য ।

মনটাকে সংযত কর, ভালোমন্দ বিচারের মালিক মন, বিচারকের মন অনুযায়ীই তো বিচার হয়। মনটাকে শুদ্ধ ও পবিত্র রাখলে তার বিচারও হয় শুদ্ধ ও পবিত্র। মনই মনের রাজা,তাকে যেভাবে গড়বে তোমার কর্মও হবে সে রকম। আর সেই কর্মফল ভোগ করবার জন্য বারবার আসতে হবে এই পৃথিবীতে। মনটাকে সজাগ রেখে দিন রাত্রি তার গতিবিধি লক্ষ্য কর দেখবে তাতে মঙ্গলই হবে।

আমাদের মনে যখন কোন একটা কিছু পাবার বা করবার ইচ্ছা জাগে তার মূলে আছে সংঘাত। চক্ষু কর্ণ নাসিকা জিহ্বা ত্বক এর সাথে সংঘাত হয় বহির্জগতের শব্দ স্পর্শ রূপ রস গন্ধের। সুন্দর ও ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য বস্তুর সাথে মনের সংঘাতে সৃষ্টি হয় ইচ্ছা । কাম ভাব ও বিভাব এই তিন রকমের ইচ্ছা আমাদের সত্য থেকে দূরে সরিয়ে নেয়। আমাদের যাবতীয় জাগতিক ইচ্ছাকে চরিতার্থ করবার জন্যই আমাদের বার বার এই পৃথিবীতে আসতে হয় জন্ম নিয়ে ।

ইন্দ্রিয়ের সাথে বস্তুর সংঘাতে বেদনার উৎপত্তি হয়। বেদনার থেকে উপাদান, উপাদান থেকে ভাব আর ভাবের থেকে জাতি এই কথাগুলো বুঝলে চরম সত্যকে জানা যাবে ; ভগবান তথাগত এই সত্যকে প্রচার করে জীবকে উদ্ধার করবার জন্যই মর্ত্যে এসেছিলেন। জরা ব্যাধি মৃত্যুর হাত থেকে পরিত্রাণ পাবার একমাত্র উপায় এই সত্যকে উপলব্ধি করে জন্ম-কর্মের বাইরে যেতে হবে।

দুঃখের হাত থেকে পরিত্রাণ পাবার জন্য আমরা চারদিকে ঘুরে বেড়াচ্ছি। তথাগত বলেছেন—দুঃখের হাত থেকে পরিত্রাণ পাবার জন্য মানুষ আকাশে, সমুদ্রের মাঝখানে, পর্বতগুহায় যেখানেই থাক না কেন তাকে কিছুতেই এড়ানো যাবে না। দুঃখের হাত থেকে পরিত্রাণ পেতে হলে দুঃখের কারণটা জানতে হবে। কারণের মূল সত্যটা আবিষ্কার করলেই তবে দুঃখের হাত থেকে পরিত্রাণ সম্ভব ।

জোখাং মন্দির চত্বরে বসে গুরুজী আমাকে বুঝিয়ে দিতে লাগলেন লামা লামদুপের উপদেশ। এই উপদেশগুলোর কিছু কিছু আমি বুঝলাম। তবে অনুভব করা আমার পক্ষে কঠিন।

জোখাং চত্বরটি সময় কাটাবার এক চমৎকার জায়গা। তীর্থযাত্রীরা দূর দূর থেকে আসছে। সবই হাঁটা পথ। আর পথের জন্য সবকিছুই নিজের সঙ্গে বইতে হয়। তাই এক একজনের পিঠে ও কাঁধে সম্পূর্ণ সংসারটাই যেন চলে এসেছে। চত্বরে পা দিয়েই তারা তাদের সব বোঝাসমেত ভাবে আকুল হয়ে সাষ্টাঙ্গে শুয়ে পড়ে, তারপর শুরু হয় তাদের পরিক্রমা ও দণ্ডি । এই ঠাণ্ডা পাথরের উপর তারা অনায়াসে দণ্ডি কেটে এগুতে থাকে। আশ্চর্য ! এ সত্ত্বেও ঠাণ্ডা তাদের স্পর্শ করে না।

সকল অধ্যায়
১.
বাড়ী থেকে পালিয়ে
২.
যাত্রা
৩.
একটি তিব্বতী পরিবার
৪.
ইয়াটুং শহর ও দুংকার গুম্ফা
৫.
ফারি
৬.
কিয়াংফু গুম্ফা ও লামা শেরিং জো
৭.
তীর্থযাত্রীর প্রথম অঞ্জলি
৮.
আর্য তারার ধ্যান
৯.
গীয়াৎসের থেকে সাম্‌দিং গুফা
১০.
দোরজে পামো
১১.
ভাষা
১২.
প্রথম সাংপো দর্শন
১৩.
পুণ্যতীর্থের দুয়ারে
১৪.
লামা ও শিক্ষা ব্যবস্থা
১৫.
লাসা ও মূল মন্দির জোখা
১৬.
লাসা
১৭.
রাজ-প্রাসাদ পোতালা
১৮.
লামা লামদুপ
১৯.
নরবুলিংকা—দালাই লামার গ্রীষ্মাবাস
২০.
দালাই লামা
২১.
লাসায় শেষের কয়েকদিন
২২.
কৈলাস যাত্রার প্রস্তুতি
২৩.
কৈলাসের পথ-সন্ধানে
২৪.
সাংপার ওঝা
২৫.
ভয়ংকর রাত
২৬.
অচেনা আপনজন
২৭.
সীগাৎসে
২৮.
পাঞ্চেন লামা
২৯.
ত্রাদুম্
৩০.
দুর্গম পথ
৩১.
মহাতীর্থের দরজায়
৩২.
মহাতীর্থ
৩৩.
মানসতীর্থে প্রথম রাত্রি
৩৪.
কৈলাসবাবা
৩৫.
মিলারেপা
৩৬.
মিলেনিয়ামে লাসা

নোট নিতে এবং টেক্সট হাইলাইট করতে লগইন করুন

লগইন
০%