ভাষার সূক্ষ্মতা ও সংস্কার

সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

কোনও সাহেব যখন বাংলা শিখতে শুরু করেন তখন গোড়ার দিকে, তাঁকে কতকগুলি সাংঘাতিক অসুবিধের সম্মুখীন হতে হয়। তাঁর পূর্ব অভিজ্ঞতার সঙ্গে এই ভাষার অনেক কিছুই মেলে না। হ্রস্বই, দীর্ঘঈ, হ্রস্বউ দীর্ঘউ, ণ ন, শ ষ স, রেফ, চন্দ্রবিন্দু, হসন্ত ইত্যাদি দেখে তিনি দিশাহারা হয়ে যেতে পারেন। তাঁর বাঙালি শিক্ষক লজ্জিত বিব্রত মুখে বলেন, সত্যিই আমাদের ভাষায় অনেক গণ্ডগোল।

শুধু সাহেব কেন, আমাদের নিজেদের শিশুরাই যখন প্রথম লিখিত ভাষা শিক্ষা করতে শুরু করে, আজও তাদের হিমসিম খেতে হয় কয়েক বছর। বানান ভুলের ভীতি শৈশবের অনেকখানি আচ্ছন্ন করে রাখে। তখন অনেকেরই মনে হয়েছে, তিনটে স যদি না থাকত কিংবা দুটো ন!

এখন কথা হচ্ছে, শিশু বা বিদেশিদের শিক্ষার সুবিধার জন্য কোনও ভাষার আমূল সংস্কারের প্রয়োজন আছে কি না। এরকম প্রস্তাব বারবার শোনা গেছে। প্রস্তাবটি অতিশয় অদ্ভুত। শিশু বা বিদেশিদের সুবিধার্থে ভাষার অতি সরলীকরণ সে ভাষার সমূহ ক্ষতি করতে পারে। কারণ, ভাষা তো শুধু শিক্ষার্থীদের জন্যই নয়, পরিণতবুদ্ধি মানুষের জন্যও, বা জন্যই, প্রধানত। অশিক্ষিত ব্যক্তিরা, শিশুরা বা বিদেশিরা ভাঙা ভাঙা ভাষায়, সীমিত সংখ্যক শব্দ নিয়ে, ভুল ব্যাকরণেও মোটামুটি কাজ চালিয়ে দেয়। কিন্তু ভাষার বিশুদ্ধতা, সৌন্দর্য ও শিল্প নির্মাণ করেন পরিণত বুদ্ধির এবং পরিশীলিত মানুষেরা। তাঁদের জন্যই ভাষা বাঁচে এবং শ্রীসম্পন্ন হয়। কঠিন পরিশ্রম ও অভিনিবেশ ছাড়া কোনও কোনও ভাষাই সম্পূর্ণ রপ্ত করতে পারে না। যে কারণে, শিক্ষিত ব্যক্তিমাত্রই ভাষা-অভিজ্ঞ নন। চিকিৎসা শাস্ত্রজ্ঞ, ভৌত বিজ্ঞানী বা যন্ত্র-কলাকুশলীরা অনেকেই নিজ নিজ ক্ষেত্রে কীর্তিমান হলেও ভাষাজ্ঞান দীন হতে পারেন। এঁরা হয়তো ভাষা অধ্যয়নে সময় পাননি। অথচ এঁদের সকলের সুবিধের জন্য একটি উন্নত ভাষাকে লঘু ভাষায় পরিণত করা ফিলিস্টিনিজমেরই নামান্তর।

কিছু কিছু ব্যবহারিক সুবিধের জন্য বানান সংস্কারের দাবি ওঠে। কিন্তু ছাপার হরফ বা টাইপ রাইটারের কথা চিন্তা করে আমাদের বানানের নিয়ম সম্পূর্ণ পরিবর্তন করতে হবে, এটা একটা অদ্ভুত কথা। একটি জীবন্ত ভাষায় লিখিত রূপের প্রয়োজনেই ছাপার হরফ ও টাইপ রাইটারের ব্যবহার। এগুলিকেই সে ভাষার উপযোগী হয়ে উঠতে হবে। মানুষের জন্য পোশাক না পোশাকের জন্য মানুষ? বানান রীতির গুরুতর পরিবর্তন ভাষার মূল কাঠামোকে আঘাত করে। একটা ভাষা বা বানান পদ্ধতি গড়ে ওঠে বহুকালের বিবর্তনের মধ্য দিয়ে। এর গতি বড় বিচিত্র। কোনও বিশেষ একজন বা কয়েকজন লোক মিলে হঠাৎ ভাষার ওপর দর্জিগিরি করা একটা অস্বাভাবিক ঘটনা। কোনও ভাষাই এই স্বৈরতন্ত্র সহ্য করে না। ভাষার শারীরিক পরিবর্তন হয় খুব আস্তে আস্তে, পরিবর্তন হয়েই চলেছে, কিন্তু তক্ষুনি তক্ষুনি সেটা অনুভব করা যায় না। যেমন পৃথিবী ঘুরছে, আমরা বুঝতে পারি না। খুব সন্তর্পণে মাঝে মাঝে দুটো একটা পরিবর্তন চেষ্টা করে করা হয় বটে, তাতেও লক্ষ রাখতে হয়, ভাষার শরীরে যেন আঘাত না লাগে।

সংস্কৃত এবং বাংলা এখন দুটি আলাদা ভাষা, এ কথা ঠিক। আলাদা কিন্তু সম্পূর্ণ সম্পর্কহীন নয়। ত্রিপুরা এবং পশ্চিম বাংলা যেমন দুটি আলাদা রাজ্য। ভারত ও বাংলাদেশ যেমন দুটি আলাদা দেশ। রাজনৈতিক ভাবে এইসব রাজ্য বা দেশের মধ্যে কৃত্রিম উপায়ে সম্পর্ক ছিন্ন করা যায়, কিন্তু সংস্কৃতি বা ভাষার ক্ষেত্রে সেরকম তড়িঘড়ি কোনও কাজ হয় কি? স্বৈরাচারীরাই শুধু সেরকম চেষ্টা করে এবং ভুল করে।

সংস্কৃতের সঙ্গে বাংলার সম্পর্ক এখন জননী আর দুহিতার নয়, কিন্তু কোনও একটা রক্তের সম্পর্ক রয়েই গেছে। হঠাৎ একদিন সিদ্ধান্ত নিয়ে এই সম্পর্ক একেবারে ছিন্ন করা, আমার মতে, বাতুলতা। সংস্কৃত উচ্চারণ থেকে বাংলা উচ্চারণের অনেক দূরে সরে আসা মানে এই নয় যে মাঝখানে একটা প্রাচীর তুলে দিতে হবে। অন্তত এখনও সে সময় নিশ্চয় আসেনি। আরও দু-চারশো বছর পর অপরিচয়ের দূরত্বে যদি কেউ কারুকে আর না চিনতে পারে, তখন স্বাভাবিক ভাবেই বিচ্ছেদ সম্পূর্ণ হবে।

সংস্কৃত এবং বাংলা উচ্চারণে অনেক তফাত হয়েছে, এবং বাক্য গঠন রীতির অনেক বদল হলেও বাংলা ব্যাকরণ এখনও সংস্কৃতের অনুসারী। শুদ্ধ বাংলা ব্যাকরণ বলে কিছু আছে নাকি? সেরকম ব্যাকরণ রচনার কথা আজও কেউ চিন্তাও করেনি। বাংলা শব্দের বানানকে আমরা সম্পূর্ণ সংস্কৃত প্রভাব থেকে মুক্ত করে তখনও সংস্কৃত অনুসারী ব্যাকরণ পড়ে যাব? এ যে এক ভয়াবহ অবস্থা!

শব্দ সম্পদ বৃদ্ধির জন্য আমরা এখন যে-কোনও ভাষা থেকে শব্দ আহরণ করতে পারি। আরবি, ফার্সি, ইংরেজি, ফরাসি, পর্তুগিজ প্রভৃতি ভাষা থেকে হাজার হাজরা শব্দ এসেছে, এখনও আসছে। মানুষ কখনও গ্রহান্তরে বসতি স্থাপন করলে এবং সেখানে মানুষের মতন কোনও প্রাণী থাকলে তাদের কিছু কিছু শব্দও আমরা বাংলায় নিতে পারব। কিন্তু বাহির বিশ্ব বা বহির্বিশ্ব থেকে শব্দ আহরণ করাই একটা ভাষার পক্ষে যথেষ্ট নয়। সঙ্গে সঙ্গে অনেক নতুন শব্দ তৈরি করতেও হয়। লেখকরা অনেকেই কিছু কিছু নতুন শব্দ উপহার দিয়ে যান তাঁদের ভাষাকে। দেশজ এবং আঞ্চলিক শব্দ থেকেও মাঝে মাঝে এক-একটি নতুন শব্দ আবিষ্কারের আনন্দ পাই। এই আবিষ্কারের বিস্ময় ও আনন্দ যে কতখানি, তা শুধু ভাষাজীবীরাই বুঝবেন।

পরিভাষা খোঁজবার জন্য আমরা এখনও সংস্কৃতের দ্বারস্থ হই। এর অভিজ্ঞতা সবসময় সুখকর হয় না। অনেক সময় অকারণ খটোমটো শব্দ এনে ঝঞ্ঝাট বাড়ানো হয়। আবার এ কথাও ঠিক, এরই মধ্যে থেকে কয়েকটি শব্দ আমাদের মনোমতন হয়ে যায়, এবং থেকে যায়। এবং সরাসরি যাকে আনা হবে, তার সঠিক বানানও রাখতে হবে। Isobar-এর প্রতিশব্দ সমপ্রেষ রেখা। এটাকে শমপ্রেশ রেখা লিখলে কারুর মানে বোঝার সাধ্য থাকবে?

মুখের উচ্চারণ অনুযায়ী শব্দের চেহারা আস্তে আস্তে বদলায়। সেইভাবেই তদ্ভব শব্দগুলি এসেছে। কিন্তু কোনও একদিন মিটিং করে সমস্ত শব্দের বানান একেবারে মুখের উচ্চারণ অনুযায়ী লেখার সিদ্ধান্ত নিয়ে নিতে হবে, এটা একটা অবাস্তব কথা।

কেনই বা সব শব্দ মুখের উচ্চারণ অনুযায়ী হবে? শিশু এবং অনুদ্যমীদের সুবিধের জন্য? ভাষার নানানরকম সূক্ষ্মতা এবং গোপন সৌন্দর্য সব ছেটে ফেলে তাকে করে ফেলতে হবে অতি সরল এবং নিরেট?

উচ্চারণ বলতেই বা কী বোঝায়? কার উচ্চারণ? কোন সময়ের উচ্চারণ? বাংলার সব জেলার মানুষের উচ্চারণ যে এক নয়, সে সম্পর্কে কিছু বলাই বাহুল্য। এখানে নিশ্চয়ই স্ট্যান্ডার্ড বলে ধরে নেওয়া হচ্ছে কৃষ্ণনগর-শান্তিপুর এবং হুগলির অববাহিকার ভাষা, অধুনা যা কলকাতার শিক্ষিত সমাজের ভাষা বলে স্বীকৃত। ডক্তর শহীদুল্লাও বাংলাদেশে লিখিত বাংলা ভাষা বা চলিত বাংলা ভাষার স্ট্যান্ডার্ড হিসেবে প্রমথ চৌধুরী প্রবর্তিত বাংলাকেই স্বীকৃতি দিয়েছিলেন। সেই জন্যই বাংলাদেশ ও পশ্চিম বাংলার ছাপার অক্ষরে বাংলা ভাষা একইরকম। কিন্তু এদিকে বাঁকুড়া ও ওদিকে চট্টগ্রামে উচ্চারণের তফাত বিস্তর। এই কলকাতার ভাষারই কি কোনও নির্দিষ্ট উচ্চারণের স্ট্যান্ডার্ড আছে? উনিশশো সাতচল্লিশের পর রাশি রাশি বাঙালের প্রাদুর্ভাব হল এই শহরে। প্রথমে ছিল ঢেউ, তারপর শুরু হল বন্যা। বালিগঞ্জ, টালিগঞ্জ, যাদবপুর, যোধপুর প্রভৃতি কলকাতার নতুন বসতিগুলো ভরে গেল বাঙালে। বাংলা উচ্চারণের ক্ষেত্রে শুরু হয়ে গেল এক তাণ্ডব! এখন কলকাতাবাসীদের তুলনায় বহিরাগতদের সংখ্যা নিশ্চিত অনেকগুণ বেশি। আগেকার কলকাতার সুমধুর অনেক শব্দ, যেমন, নেবু, নংকা, নুচি ইত্যাদি এখন আর শোনাই যায় না প্রায়। পরিশীলিত উচ্চারণে এইচি, খেইচি, ডাঁড়িয়ে ইত্যাদি চাপা পড়ে গেল অন্যরকম চ্যাঁচামেচিতে। বললুম আর বললাম, দেখেছিলুম আর দেখেছিলাম ইত্যাদিতে তৈরি হল জগাখিচুড়ি। ওমিয়োবাবুরা রাতারাতি হয়ে গেলেন অমিঅবাবু!

এখনও আমরা নিশ্চিন্ত নই যে ছাত বলব, না ছাদ! কাক না কাগ? ইট না ইঁট? একই শব্দের দুরকম উচ্চারণ অভিধানিক স্বীকৃতি পেতে পারে না বা পাওয়া উচিত নয়। বিশেষত বাংলায় এরকম শব্দের তালিকা, সুদীর্ঘ ইংরেজি ফরাসী অভিধানগুলিতে প্রত্যেকটি শব্দে পাশে উচ্চারণ নির্দেশ দেওয়া থাকে, বাংলা ভাষাকে কি সেই স্তরে আনা যাবে? যদি একটিমাত্র উচ্চারণকেই নির্দিষ্ট করা যায় তা হলে কোনটা নেব? যদি ছাত, কাক বা ইট-এর স্বপক্ষে ভোটো দেওয়া যায়, তাহলে সেটা হবে খাঁটি কলকাতাবাসীদের ওপর বাঙালদের আধিপত্যের উদাহরণ। আমি নিজে বাঙাল হয়ে এই নতুন ঔপনিবেশিক মনোবৃত্তির সমর্থন করতে পারি না। অথবা অনুকরণ করতে হবে সেই সংস্কৃত মূল শব্দের। সেটাও তো এক ধরনের পিছু হাঁটা।

উচ্চারণ ঘন ঘন বদলায়। সুতরাং খাঁটি মুখের উচ্চারণ অনুযায়ী বানান সংস্কার করতে গেলে কুড়ি-তিরিশ বছর অন্তত অন্তর অভিধানগুলি পুরো পালটে ফেলতে হবে এবং বঙ্কিম-রবীন্দ্র রচনাবলী ছাপতে হবে আমূল বদলে।

উচ্চারণের বৈচিত্র্য অনেক সময় ভাষার মধ্যে মজা আনে। গল্প শোনা যায়, ছাপার অক্ষরে লেখা আছে বিড়াল, তবু বরিশাল জেলার ছাত্র সেটাকে পড়ল নেকুর। প্রায় এর কাছাকাছি উদাহরণ অন্য ভাষায় আছে অনেক। লেখা আছে ককবার্ণ কিন্তু উচ্চারণ হয়ে গেল কোবর্ণ, কিংবা স্পষ্ট লেখা থাকে হোম তবু স্যার অ্যালেকের পদবি হিউম। আর ফরাসি শব্দের বানান দেখে ফরাসি উচ্চারণ শিখতে যায় যদি কেউ তাহলে প্রথম বেশ কদিন সে নাকানি চোবানি খেয়ে মরবে।

হঠাৎ কিছু বৈপ্লবিক পরিবর্তন না করে, সামান্য সামান্য সংস্কারের প্রয়োজনের কথা চিন্তা করলে বরং বাংলা ভাষার বেশি উপকার হবে। ফরাসি আকাদেমির ধাঁচে একটি প্রতিষ্ঠান থাকার প্রয়োজনীয়তা আমরা অনেকেই অনুভব করি। কোনও নতুন শব্দ ফরাসিতে ব্যবহৃত হতে শুরু করলে এই আকাদেমি তার সঠিক বানানটি ঠিক করে দেন। আমাদের শাড়ি শব্দটি ফরাসি কাগজে দেখেছিলাম। এই প্রতিষ্ঠানটিকে সর্বজনমান্য হতে হবে। এই দলাদলি ও স্বজনপোষণের দেশে সেরকম কোনও প্রতিষ্ঠান গড়া সম্ভব কি না আমি জানি না। হলে ভালো হত! বিশেষত, হলে, হ'লে, হোলে এই ধরনের বানান বিভ্রাটের ক্ষেত্রে একটা সমতা আনতে বিশেষ প্রয়োজন দেখা দিয়েছে। এরকম কাজ যত শীঘ্র হয় ততই মঙ্গল।

শ, ষ, স-এর বদলে একটা শ, য-জ এর বদলে শুধু জ, ণ ন এর মধ্যে শুধু ন আর হ্রস্রি দীর্ঘী জ্ঞান লোপ পাইয়ে দেবার কথাও অনেকেই আগে আগে বলেছেন। এগুলির সত্যি কি। কোনও তফাত নেই? কোনও বালকের কাছে না থাকতে পারে, শিক্ষাহীন গ্রাম্য লোকের কাছে না থাকতে পারে, কিন্তু ভাষাকে যারা ভালোবাসেন, ভাষার প্রতি যাঁদের মনোযোগ রয়েছে, তাঁদের কাছেও নেই? এটা কি ঠিক কথা হল?

প্রাণ আর গান এই দুটি শব্দের ণ ও ন এর উচ্চারণ কি এক? বিষাণ আর নিশান এর শেষ দুটি অক্ষরের উচ্চারণ দুটি শব্দেই একরকম হতে পারে? তফাতটা অত্যন্ত সূক্ষ্ম বটে, কিন্তু তফাত আছেই। এই সূক্ষ্মতা মুছে ফেলে বাংলাভাষাকে একটা মোটা দাগের ভাষা করে তোলার জন্য আমাদের এত ব্যস্ততা কীসের?

দিন আর দীন, এর উচ্চারণ এখনও পর্যন্ত এক নয়, কিছুতেই নয়, কোনও সুদূর ভবিষ্যতে হবে হয়তো। দীনবৎসল, কোনও রাজা সম্পর্কে এই বিশেষণটি প্রয়োগের পর প্রশ্ন উঠেছিল যে, তিনি গরিবদের রক্ষণাবেক্ষণ করেন, না তাদের বেছে বেছে রোগা গরু দান করেন। দিনবৎসল, এই বানানে এরকম কোনও মজা পাওয়া যাবে?

যুক্তাক্ষর ভেঙে সর্বক্ষেত্রে হসন্ত ব্যবহারের প্রস্তাব দেখে শনিবারের চিঠির সেই পুরোনো রসিকতাটা মনে পড়ল। ছাপার যন্ত্রে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই যে হসন্ত ভেঙে উড়ে বেরিয়ে যায়, তা আমরা ভুক্তভোগী মাত্রেই জানি। সেই সুবাদে শনিবারের চিঠিতে লেখা হয়েছিল, সটেশন আর সটিমার। এ কী সটাইল রে বাবা।

(দেশ-৮/৪/১৯৭৮)

সকল অধ্যায়
১.
বাংলা ভাষার আত্ম-পরিচয়
২.
আ মরি বাংলা ভাষা
৩.
এ বার সমস্ত বিদ্যালয়ে বাংলা আবশ্যিক
৪.
বাংলা আছে, থাকবে
৫.
বাঙালি ও বাংলা ভাষা
৬.
বাঙালি কে? আমি কি বাঙালি?
৭.
আর কতদিন সহ্য করব?
৮.
বাঙালি, বাঙালিত্ব—জাতি ও সংস্কৃতি
৯.
দুই বাংলার বাঙালি
১০.
ইতিহাসের পরিহাস
১১.
ভাষার সূক্ষ্মতা ও সংস্কার
১২.
আমাদের হ্রস্সি দীর্ঘি জ্ঞান
১৩.
প্রবাসে বাংলা ভাষা
১৪.
প্রবাসী বাঙালি : সার্থকতা ও পরের প্রজন্ম
১৫.
কিন্তু মাতৃভাষা ছাড়া কি সাহিত্যসৃষ্টি সম্ভব?
১৬.
বাঙালি সংস্কৃতির উত্তরাধিকার
১৭.
আগামী প্রজন্মের বাঙালি
১৮.
বাঙালি অনেক, মুছে যাচ্ছে বাংলা
১৯.
হিস্ট্রি চ্যানেল হিন্দিতে কেন, বাঙালি আজও সর্বংসহা
২০.
বিশ্ব বইমেলা এবং প্রবাসে বাংলা
২১.
স্বাধীন বাংলাদেশ
২২.
সীমান্তে দুবার
২৩.
চলো, আমরাও যাই
২৪.
ওদের সংগ্রামের দিকে তাকিয়ে আমরা
২৫.
বাংলাদেশ কিছুটা অজানা, অচেনা
২৬.
সেদিনের স্মৃতি
২৭.
একুশে ফেব্রুয়ারির গভীর রাত্রে
২৮.
কয়েকটি ছোটখাটো জরুরি বিষয়
২৯.
পাশাপাশি এসে দাঁড়ানোই বড় কথা
৩০.
বাংলাদেশের সঙ্গে আমার নাড়ির টান
৩১.
ধনসম্পদ গেছে, মানসম্মানও যেতে বসেছে
৩২.
পশ্চিমবঙ্গে বাংলা চাইছি, আনন্দবাজারের আপত্তি কেন?
৩৩.
নাম বদলের সৎ প্রস্তাব তাতেই এত বিরুদ্ধ হইহল্লা?
৩৪.
রাকা রায় ওদিকে একলা লড়াই চালাবেন?
৩৫.
যত দূরেই যাই
৩৬.
দৃশ্যপটে বাংলা : প্রয়োজনে চাই ভাষা-পুলিশ
৩৭.
সামনে তাকালে বাংলা অক্ষর চোখেই পড়ে না!
৩৮.
প্রতিবাদের ভাষা কেন কলুষিত হবে?
৩৯.
নিজস্ব ভাষা
৪০.
আগে বাংলা অনুষ্ঠানের জন্য একটা আলাদা চ্যানেল চাই
৪১.
যে প্রশ্নের উত্তর এখনও জানি না
৪২.
বাঙালি কোথায় নেই? বাঙালি এখন কোথায়?
৪৩.
আগামী বছরে দুর্গোৎসব হবে ডিসেম্বর মাসে
৪৪.
মঞ্চে আবার যেন সোনালি যুগ

নোট নিতে এবং টেক্সট হাইলাইট করতে লগইন করুন

লগইন
০%