প্রবাসে বাংলা ভাষা

সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

নিউজার্সির রাটগার্স বিশ্ববিদ্যালয়ের নিকোলাস মিউজিক সেন্টারটির নির্মাণশৈলী ভারী চমৎকার। শব্দ প্রক্ষেপণ অতি স্বাভাবিক। দর্শক-শ্রোতাদের মধ্যে অধিকাংশই খয়েরি ও উজ্জ্বল শ্যামবর্ণ বাঙালি এবং কিছু শ্বেতাঙ্গ আমেরিকান। নভেম্বরের শেষ, থ্যাংকস গিভিং-এর ছুটি, বাইরের বাতাস বেশ ঠান্ডা। বেঙ্গল ফাউন্ডেশন অফ আমেরিকার সান্ধ্য অনুষ্ঠানে মঞ্চে শুরু হল অর্কেস্ট্রা, যার নাম দেওয়া হয়েছে 'সার্কল অফ হারমোনি'। ভায়োলিন, স্যাক্সোফোন, বাঁশি, ক্লারিওনেট আর কি-বোর্ডের সামনে বসে আছে বিভিন্ন বয়েসের কয়েকটি ছেলেমেয়ে এবং দুজন প্রৌঢ় পুরুষ, এরা বাজাচ্ছে বাংলা গানের সুর, লোকসঙ্গীত থেকে রবীন্দ্রসঙ্গীত। এরকম তো কতই হয়, এখানকার অনুষ্ঠানটির বৈশিষ্ট্য এই যে যারা বাজাচ্ছে, তারা সকলেই বাঙালি নয়, কেউ কেউ বাংলা ভাষা জানেই না। বাংলা গানের পশ্চিমি স্টাফ নোটেশন করা হয়েছে, তা দেখে দেখে এরা সাবলীলভাবে বাজিয়ে যাচ্ছে। এই অর্কেস্ট্রার পরিচালক এবং প্রকল্পক দুজনের নাম রিচার্ড টরস্ট্রিক আর অ্যান্ডর ক্যারিয়াস।

ইউরোপ-আমেরিকায় বাঙালিদের যেসব অনুষ্ঠান হয়, তাতে শুধু বাঙালিরাই আসে, বাংলাদেশ ও পশ্চিম বাংলার, বড়জোর কোনও বাঙালির মেম বউ বা কোনও মেয়ের সাহেব স্বামী হাসি হাসি মুখ করে না-বোঝার আনন্দ নিয়ে উপস্থিত থাকে। বেঙ্গল ফাউন্ডেশনের উদ্দেশ্য কিছুটা পৃথক, তারা বাংলা সংস্কৃতি পশ্চিমি মানুষদের মধ্যে ছড়িয়ে দেবার ব্রত নিয়েছে। এদের অনুষ্ঠান হয় বাংলা ইংরেজি দুটি ভাষাতেই যুগপৎভাবে। বাংলা কবিতা কেউ পাঠ করলে সঙ্গে সঙ্গে শুনিয়ে দেওয়া হয় তার ইংরেজি অনুবাদ, আমেরিকান শ্রোতাদের কিছু না বুঝে বসে থাকতে হয় না, কেউ কেউ সবিস্ময়ে বলে ওঠে, বাংলা ভাষায় যে এত আধুনিক চিন্তাধারার কবিতা লেখা হয় তা তো আমরা এতদিন জানতুম না! বাংলা গানের অর্কেস্ট্রাতেও তাদের অনেকের অন্তর স্পর্শ করে। স্টাফ নোটেশনের অভাবে এর আগে তারা শুধু রবীন্দ্রসঙ্গীত শুনে রসগ্রহণ করতে পারেনি। বেঙ্গল ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা নূপুর লাহিড়ী। বহুকাল প্রবাসী, পেশায় চিকিৎসক এবং সার্থক চিকিৎসক। সার্থক হলেই ব্যস্ততা খুব বেশি হয়। কিন্তু তা সত্ত্বেও এই রমণী গান-বাজনা, ছবি আঁকা, কবিতা লেখা, নাটকে অভিনয়ে সময় ব্যয় করেন মহানন্দে। বাংলার সংস্কৃতি গেঁথে আছে তাঁর মর্মমূলে।

বেঙ্গল ফাউন্ডেশন সদ্য প্রতিষ্ঠিত। কয়েক বছর আগেই নূপুর গড়ে তুলেছেন একটা বাংলা বইয়ের লাইব্রেরি। নিজের বাড়িতে, তাঁর বাবার নামে। ওঁর বাবা ছিলেন বিশিষ্ট সাহিত্যিক নির্মল গঙ্গোপাধ্যায়। তাঁর ভ্রমণ ও ইতিহাসমূলক রচনাগুলি খুবই উঁচু মানের। 'দেশ' পত্রিকাতেও তাঁর রচনা ধারাবাহিকভাবে প্রকাশিত হয়েছে। নির্মল গঙ্গোপাধ্যায়ের দুটি বই আমার খুব প্রিয়, 'শংকর-নর্মদা' এবং 'খাজুরাহো চান্দেল্ল স্মৃতি'। নির্মলবাবুর চার ছেলেমেয়ের মধ্যে তিনজনই আমেরিকা প্রবাসী। তবু দেশ ছেড়ে বিদেশে যাবার কোনও আগ্রহ ছিল না তাঁর। বড় মেয়ের খুব অনুরোধে একবারই তিনি আমেরিকা পাড়ি দিয়েছিলেন, কিন্তু আমেরিকায় তাঁর কিছুই দেখা হয়নি। নিরিবিলিতে বসে বাবা লিখবেন বলে নূপুর চেয়ার টেবিল সাজিয়ে রেখেছিলেন, কিন্তু সেখানে নির্মলচন্দ্রের বসা হল না। ওদেশে পৌঁছোবার চব্বিশ ঘণ্টার মধ্যেই নির্মলচন্দ্র শেষনিশ্বাস ত্যাগ করেন।

এখন প্রিন্সটনের নির্মল পাঠাগারে আছে এক হাজার বাংলা বই, এবং দুশো বাংলা সাহিত্য সম্পর্কিত ইংরেজি বই। এমন সুনির্বাচিত গ্রন্থরাজি খুব কম জায়গাতেই দেখা যায়। যে-কোনও আগ্রহী পাঠক বিনা চাঁদায় এই পাঠাগার ব্যবহার করতে পারে। বেঙ্গল ফাউন্ডেশন থেকে কিছু কিছু বাংলা বইয়ের ইংরিজি অনুবাদেরও পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। নিউ ইয়র্কের অতগুলি রঙ্গমঞ্চে কোথাও না কোথাও বিদেশি নাটকেরও অভিনয় হয়, বাংলা নাটক কেন হবে না? নূপুরের এই প্রশ্ন। তাঁর জেদ, ব্রডওয়েতে কোনও বাংলা নাটক মঞ্চস্থ করতেই হবে, তাই তিনি নিজেই রবীন্দ্রনাথের 'রক্তকরবী'-র আধুনিক ইংরিজি অনুবাদ শুরু করেছেন।

আমেরিকার পূর্ব উপকূলে যেসব বাঙালি লেখক, বুদ্ধিজীবী রয়েছেন, তাঁদের একটি অংশ বেঙ্গল ফাউন্ডেশনের কার্যক্রমে উৎসাহের সঙ্গে অংশ গ্রহণ করেছেন। ছিলেন জ্যোতির্ময় দত্ত, মীনাক্ষী দত্ত। অনেক অভিযানের নায়ক জ্যোতি এখন কর্মসূত্রে 'ইন্ডিয়া অ্যাব্রড' পত্রিকার সঙ্গে জড়িত হয়ে নিউইয়র্কে বসবাস করলেও কলকাতা থেকে বাংলা পত্রিকা প্রকাশের উদ্যোগ চালিয়ে যাচ্ছেন। ওই অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারী ও সহায়কদের মধ্যে আরও ছিলেন লেখিকা আলোলিকা মুখোপাধ্যায় আর তাঁর সুগায়ক স্বামী ভবানী মুখোপাধ্যায়, অধ্যাপক শিবাজী সেনগুপ্ত, সমাজতাত্ত্বিক ডক্টর মণি নাগ এবং করবী নাগ, টেগোর সোসাইটির অন্যতম আদি সদস্যা স্নিগ্ধা মুখোপাধ্যায়, ডাক্তার শ্যামশ্রী সেনগুপ্ত, কবিতা-পাগল গৌতম দত্ত, যিনি নিজের বাড়িতে প্রায়ই কবিতা পর্বের আসর জমান, নাট্য পরিচালক সুদীপ্ত ভৌমিক, লালী বিশ্বাস, আঞ্জম হোসাইন, মেহরিন হোসাইন, ধ্রুবনারায়ণ কুণ্ডু, মেরি অ্যান উইলিয়ামস, প্যাট উইস্টার ডেভিডসন, এডোয়ার্ড জাজ, চার্লি ডোরিয়া, অ্যান্ডর কেরিয়াস প্রমুখ।

বিশেষ করে বলতে হয় শেষোক্তজনের কথা। জার্মানি-জাত এই আমেরিকান পুরুষটির নাম Andor আসলে And/or, বাংলায় এবং অথবা। নিজেই এ নাম গ্রহণ করেছেন। এর মধ্যে রয়েছে তাঁর জীবনদর্শন। বিশ্বসংস্কৃতির সঙ্গে ব্যক্তির সংযোগ। তিনি যে দেশেই যান, সে দেশের ভাষা তার নাম হয় এবং/অথবা, যেমন জাপানে সোশিতে/মাতা! তিনি বিশ্বাস করেন, প্রত্যেক মানুষই নিজস্ব সংস্কৃতি বজায় রেখে বিশ্বসংস্কৃতির সঙ্গে মিলিত হতে পারে। আমেরিকায় বহু ভাষা, বহু জাতি, বহু সংস্কৃতির মানুষ এসে মিশেছে, যাকে বলা হয় মেল্টিং পট। এটা অ্যান্ড অর-এর পছন্দ নয়, ফুটন্ত পাত্রে সবকিছু তালগোল পাকিয়ে যায়, তিনি বরং উপমা দিতে চান স্যালাড-এর সঙ্গে। স্যালাডে যেমন সবক'টি উপাদানই আলাদা থাকে, অথচ সব মিলিয়ে একটা স্বাদ হয়, তেমনই আমেরিকাতেও বাংলাভাষী এবং অন্যান্য ভাষাভাষী বহিরাগতরা নিজস্ব ভাষা-সংস্কৃতি অক্ষুণ্ণ রেখে আমেরিকান সংস্কৃতির সঙ্গে যুক্ত হতে পারে। অ্যান্ড অর নানারকম বাদ্যযন্ত্রে পারদর্শী। ছবি আঁকতে পারেন, গাইতেও পারেন। বাঁশিতে তিনি দিব্যি বাজিয়ে দেন নানারকমের বাংলা গান। 'একী লাবণ্যে পূর্ণ প্রাণ প্রাণেশ হে'র মতন কঠিন গান গেয়ে ওঠেন যখন-তখন। তাঁর সবচেয়ে প্রিয় গান অবশ্য, 'ডুব ডুব ডুব ডুবসাগরে আমার মন'।

নিউ ইয়র্কের জ্যাকসন হাইট অঞ্চলে ঢুকে পড়লে মনে হয়, এ যেন এক বাঙালিটোলা। অনেক দোকানের নামই বাংলায় লেখা। রাস্তায় শোনা যায় বাংলায় কথাবার্তা, পাওয়া যায় বাঙালি রান্নার গন্ধ। তিনটি বাংলা বই ও বাংলা গানের ক্যাসেটের দোকানও আছে। 'মুক্তধারা' নামে বইয়ের দোকানটিতে কখনও কখনও ঢাকা বা কলকাতা থেকে কোনও কোনও খ্যাতিমান লেখক যান, ক্রেতাদের বইতে স্বাক্ষর দেন। সে খবর পেলে শত শত মানুষ ছুটে আসে, অনেকে অফিসের কাজে ছুটি নিয়ে, কেউ কেউ একদিনের উপার্জন নষ্ট করে। লেখক স্বাক্ষরিত বাংলা বই সংগ্রহ করার জন্য এঁদের উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখবার মতো। এঁদের অধিকাংশই অবশ্য বাংলাদেশি। পশ্চিম বাংলার বাঙালিদের মধ্যে এমন উৎসাহীর সংখ্যা দিন দিনই কমে আসছে। অনেকগুলি পত্র-পত্রিকাও প্রকাশিত হয় এখান থেকে, শুধু লিটল ম্যাগাজিন নয়, পূর্ণাঙ্গ পত্রিকা। খবরের কাগজের সাইজের একটি পত্রিকার নাম 'বাংলা কাগজ'। টিউব টেনে সবাই খবরের কাগজ পড়তে পড়তে যায়, তার মধ্যে কারুর হাতে একটি বাংলা খবরের কাগজ দেখলে বিস্ময়ের সঙ্গে গর্ববোধও যুক্ত হয়।

টেগোর সোসাইটি নিউ ইয়র্কের একটি পুরোনো প্রতিষ্ঠান। এটা শুধু বাঙলিদের জন্য নয় যদিও, কিন্তু বাঙালি সদস্যদেরই প্রাধান্য। বর্তমানে এর প্রেসিডেন্ট একজন মার্কিন মহিলা। বঙ্গ সম্মেলন নামে একটি বাৎসরিক বিরাট উৎসব হয় উত্তর আমেরিকার বিভিন্ন শহরে। প্রায় পাঁচ-ছ'হাজার বাঙালি নারী-পুরুষ সমবেত হন সেখানে, এক সঙ্গে এত বাঙালির সমাবেশ আমাদের দেশের কোনও সভা-সমিতিতেও দেখা সম্ভব নয়। এই সম্মেলনের উদ্যোক্তা পশ্চিমবঙ্গের বাঙালিরা, বাংলাদেশিরা কোথাও কোথাও যোগ দেন। কোথাও কোথাও দূরে থাকেন। তাঁদের উদ্যোগে আলাদা সম্মেলনও হয় প্রায়ই। পশ্চিম উপকূলে, এবং মধ্যবর্তী অনেক শহরেই বাংলা সাহিত্য-সংস্কৃতির অনেক প্রতিষ্ঠান আছে, প্রায় সবগুলির উদ্যোক্তা বাংলাদেশের বাঙালিরা। এখন কিছু কিছু স্কুলে বাংলা পড়ানো হচ্ছে দ্বিতীয় ভাষা হিসেবে, সেরকম একটি স্কুলের সঙ্গে যুক্ত আছেন মীনাক্ষী দত্ত। তাঁর অভিজ্ঞতা থেকে জানা যায়, বাংলার ছাত্রছাত্রীরা প্রায় সকলেই বাংলাদেশ থেকে আগত ছেলেমেয়ে।

ক্যানাডার টরেন্টো শহরে বেঙ্গলি ক্লাবের একটি বিশেষ কৃতিত্ব আছে। এঁরা নিজস্ব বেশ বড় একটা বাড়ি নির্মাণ করেছেন। সারা বছরই নানারকম সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান হয় সেখানে। টরেন্টো বিশ্ববিদ্যালয়েও এখন সাউথ এশিয়ান স্টাডিজ-এ বাংলা পঠনপাঠন স্বীকৃত হয়েছে। ১৯৯১ সাল থেকে শুরু হয়েছে এই কার্যক্রম। প্রধান উদ্যোগ নিয়েছিলেন এবং অর্থসাহায্য করেছিলেন দীপক মজুমদার এবং তাঁর স্ত্রী পলিন। গতবছর মহাদেব চক্রবর্তী নামে এক সহৃদয় প্রাক্তন বঙ্গবাসী ষাট হাজার ডলার দান করে এই বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলা নিয়ে গবেষণার জন্য স্কলারশিপ প্রবর্তন করেছেন। আমেরিকার যে-কোনও শহরের তুলনায় লন্ডনে বাংলাভাষীর সংখ্যা অনেক বেশি। পূর্ব লন্ডনেই অধিকাংশ বাঙালির বসতি। টাওয়ার হ্যামলেট এলাকায় কয়েকটি রাস্তার নাম বাংলায় লেখা দেখে প্রথমবার বেশ পুলকিত হয়েছিলাম। ব্রিক লেনে হাঁটতে হাঁটতে শোনা যায়, কোনও রেস্তোরাঁ থেকে ভেসে আসছে বাংলা গান।

লন্ডনের বেশ কিছু স্কুলে বাংলা পড়ানো হচ্ছে অনেকদিন থেকেই। এখন 'ও' লেভেল পর্যন্ত বাংলা স্বীকৃত। বাঙালিদের নিজস্ব অনেকগুলি স্কুল আছে, প্রতি রবিবার সকালে কোনও একটা জায়গায় মিলিত হয়ে ছেলেমেয়েদের বাংলা শেখাবার চেষ্টা হয়। ও-দেশে যারা জন্মেছে, যাদের বলা হয় সেকেন্ড জেনারেশন, সেইসব ছেলেমেয়ে যাতে বাংলা সম্পর্কে একেবারে অজ্ঞ না থাকে, সেই জন্যই বাবা-মায়েদের এই উদ্যোগ। হ্যারোতে এইরকমই একটি ক্লাবের নাম মিতালি, এদের সানডে স্কুল থেকেই বাংলা পড়াবার উপযুক্ত সিলেবাস তৈরি করা হয়। ১৯৮২ সালে প্রতিষ্ঠিত এই স্কুলটি যখন আমি দেখতে গিয়েছিলাম, তখন এর সভাপতি ছিল আমার বাল্যবন্ধু ভাস্কর দত্ত। স্বভাবে সে বেশ অলস ও অগোছালো। তবু যে সে এরকম একটা দায়িত্ব নিয়ে মনোযোগী হয়েছে, তা দেখে বিস্মিতই হয়েছিলাম।

শুধু লন্ডন নয়, পুরো ইংল্যান্ডেই এরকম ক্লাব ও সানডে স্কুল অনেকগুলি। বাংলাদেশের ছেলেমেয়েরাই সিংহভাগ ছাত্রছাত্রী। বাংলা ভাষার মর্যাদা রক্ষার দাবি বাংলাদেশ নামে নবীন রাষ্ট্রটি সৃষ্টির অন্যতম কারণ। এই বাংলাদেশের মানুষ পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে পড়লেও ভাষার কথা ভোলে না। পশ্চিমবঙ্গীয় বাঙালিদের অনেকেরই ছেলেমেয়ে বাংলা একেবারেই শেখে না, না শেখার জন্য লজ্জাবোধও করে না। (ব্যতিক্রম অবশ্যই আছে।) কিন্তু আমি স্বীকার করতে বাধ্য হচ্ছি, এমন কোনও বাংলাদেশি পরিবার আমি দেখিনি, যার ছেলেমেয়েরা বাংলা জানে না।

যারা বাংলায় কথা বলে, বাংলা বই পড়ে, জন্ম যেখানেই হোক, তারাই বাঙালি। কিন্তু দ্বি-খণ্ডিত বাংলার একটি দিকের নাম এখন পশ্চিমবঙ্গ, অন্য দিকে কিন্তু পূর্ববঙ্গ নেই, সেখানে এখন স্বাধীন, সার্বভৌম বাংলাদেশ নামে রাষ্ট্র। পাকিস্তানি আমলে এই দু-দিকের বাঙালিদের মধ্যে যোগাযোগ অনেকখানিই বিচ্ছিন্ন হয়েছিল, এখন আর সেরকম পরিবেশ নেই, তবু যেন খানিকটা দূরত্ব তৈরি হয়েই গেছে। লন্ডনে পশ্চিমবঙ্গীয় ও বাংলাদেশি বাঙালিদের মেলামেশা অবাধ নয়। দু-দিকের মানুষদেরই ভিন্ন ভিন্ন প্রতিষ্ঠান আছে, কিন্তু পরস্পর মিলিতভাবে তেমন কিছু নেই। বাংলাদেশের কেউ কেউ অভিযোগ করেছেন, তাঁরা তবু পশ্চিমবঙ্গীয়দের মাঝে মাঝে আমন্ত্রণ জানান, কিন্তু বিশেষ সাড়া পান না, অপরপক্ষে পশ্চিমবঙ্গীয়রা তাদের আদৌ আমন্ত্রণই জানান না।

দু-দিকের বাঙালিদের উৎসবের তারতম্য আছে। পশ্চিমবঙ্গীয়, তথা ভারতীয় বাঙালিদের দারুণ উৎসাহ দুর্গাপুজোয়। লন্ডন শহরে ধুমধাম করে দুর্গাপুজো হয় অনেকগুলি। বেলসাইজ পার্কের পুজোর আয়োজন তো বিশাল। এই ধর্মীয় উৎসবে মুসলমানদের যোগ দেবার প্রশ্নই ওঠে না। সরস্বতী পুজো, এমনকী সত্যনারায়ণের সিন্নিতেও পশ্চিমবঙ্গীয়দের যথেষ্ট আগ্রহ আছে। অপরপক্ষে, বাংলাদেশের লোকেরা মেতে ওঠে নববর্ষ উৎসবে, প্রতি বছর নিয়মিত পালন করে একুশে ফেব্রুয়ারি। তা বলে কি তারা ঈদ বা সবে-বরাত পালন করে না? তা নয়, তাও অবশ্যই করে, এবং ধর্মের সঙ্গে সম্পর্কহীন নববর্ষ ও একুশে ফেব্রুয়ারিও বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে মান্য করে।

সাহিত্যচর্চাও বাংলাদেশিরাই করে বেশি। পশ্চিমবঙ্গীয় হিরন্ময় ভট্টাচার্য 'সাগর পারে' নামে একটি পত্রিকা প্রকাশ করছেন অনেকদিন থেকে, বেশ উন্নতমানের পত্রিকা। কিন্তু সম্প্রতি হিরন্ময় ভট্টাচার্যের সঙ্গে দেখা হবার পর জানা গেল, তিনি আর সে পত্রিকাটি চালিয়ে যেতে পারছেন না। বাংলাদেশিদের উদ্যোগে পাঁচ-ছ'টি পত্রিকা চলছে রমরমিয়ে। তার মধ্যে দু-একটি পত্রিকা এমনই মজবুত যে সেখানে যোগ দিয়ে কয়েকটি তরুণ জীবিকা নির্বাহ করে। এদের ব্যবস্থাপনায় সাহিত্য আলোচনা ও কবিতা পাঠের আসর বসে লন্ডনের পাড়ায় পাড়ায়। একটি বাংলাদেশি সংস্থার উদ্যোগে প্রতি বছর বড় আকারে সাহিত্য সম্মেলন হয়, ঢাকা এবং কলকাতা থেকে কয়েকজন সাহিত্যিককে তাঁরা আমন্ত্রণ জানিয়ে, বিমান ভাড়া দিয়ে নিয়ে যান। পশ্চিমবঙ্গীয়দের উদ্যোগে লন্ডনে এরকম কোনও সাহিত্য সম্মেলনের ব্যবস্থা করার কথা শুনিনি, অন্তত দশ-পনেরো বছরের মধ্যে তাঁরা কলকাতা-ঢাকা থেকে কোনও সাহিত্যিককে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন, এরকম আমার জানা নেই। এঁদের বেশি ঝোঁক গান-বাজনার দিকে। যে ছেলেমেয়েরা পরিষ্কার বাংলায় কথা বলতে পারে না, তারাও দু-একটি রবীন্দ্রসঙ্গীত শেখে। অবশ্য লন্ডনেও আছে টেগোর সোসাইটি, বেশ সম্ভ্রান্ত প্রতিষ্ঠান, এঁদের গ্রন্থাগারটি খুব সমৃদ্ধ, সুষ্ঠুভাবে পরিচালিত। বিলিতি পত্র-পত্রিকায় রবীন্দ্রনাথ বিষয়ক যাবতীয় সংবাদ ও রচনার একটি মূল্যবান সংকলন এঁরা প্রকাশ করেছেন। রবীন্দ্রভক্তরাও লন্ডনে দ্বিধাবিভক্ত। টেগোরিয়ান নামে আছে একটি পৃথক প্রতিষ্ঠান।

শুধু পত্র-পত্রিকা নয়, লন্ডন থেকে এখন কিছু কিছু বইও প্রকাশিত হচ্ছে। কেউ কেউ দাবি করছেন, অদূর ভবিষ্যতে কলকাতা ও ঢাকার পর বাংলা বই প্রকাশনার তৃতীয় কেন্দ্র হবে লন্ডন। কমপিউটারের কল্যাণে এখন যে-কোনও জায়গা থেকেই বাংলা মুদ্রণের কোনও অসুবিধে নেই।

ইন্টারনেটে বাংলা পত্রিকাও শুরু হয়ে গেছে। 'পরবাস' সম্ভবত পৃথিবীতে প্রথম ইন্টারনেট বাংলা পত্রিকা। বস্টনের ইন্দ্রনীল দাশগুপ্ত, জাপানের মনিরুজ্জামান, টেক্সাসের পারমিতা দাশ ও সৌম্য দাশগুপ্ত, নিউ জার্সির সম্বিৎ বসু, সমীর ভট্টাচার্য, অনুব্রত চক্রবর্তী, ওহায়োর অর্ণব গুপ্ত, ওয়াশিংটন ডিসি-র ইন্দ্রাণী দাশগুপ্ত, নিউ ইয়র্কের সুদীপ্ত চট্টোপাধ্যায়—এঁরা সকলে সকলকে সাক্ষাতে চেনেন না। কিন্তু কমিপিউটারের মাধ্যমে এই পত্রিকার পরিকল্পনাকে বাস্তব রূপ দিয়েছেন। বাংলাদেশ, ভারত এবং পৃথিবীর যে-কোনও জায়গা থেকেই ইন্টারনেটে এই পত্রিকাটি পাওয়া যাবে, এর মধ্যে তৈরি হয়ে গেছে চারটি সংখ্যা, যাতে আছে ধারাবাহিক উপন্যাস, গল্প, প্রবন্ধ—রম্যরচনা এবং অবশ্যই কবিতা, সঙ্গে রঙিন ছবি। অভিনব ব্যাপার নিশ্চিত। সম্পাদক সমীর ভট্টাচার্য এবং বাকি সকলেরই পেশা বিজ্ঞান, তবু বাংলা সাহিত্যের প্রতি আছে নাড়ির টান। পরবাসের ইলেকটনিক ঠিকানা : http://www.Parabas Com।

আজ পৃথিবীতে বাঙালির সংখ্যা কুড়ি কোটি কিংবা তারও বেশি। এই জনসংখ্যার দুই তৃতীয়াংশই বাংলাদেশি। পশ্চিমবঙ্গ এবং ত্রিপুরা, ভারতের এই দুটি রাজ্যের ভাষা বাংলা, কিন্তু বাংলাদেশ নামে স্বাধীন দেশটির বাংলা হল রাষ্ট্রভাষা। সেই সুবাদে বাংলা এখন বাংলাদেশের ভাষা হিসাবেই ক্রমে ক্রমে পরিচিত হচ্ছে সারা পৃথিবীতে। অন্যান্য দেশে ইমিগ্রান্টদের মধ্যে ভারতীয় বাঙালিদের তুলনায় বাংলাদেশিদের সংখ্যা অনেক বেশি। জাপানে গিয়ে শুনেছিলাম, সেখানে ভারতীয় বাঙালিদের সংখ্যা দুশো আর বাংলাদেশিদের সংখ্যা দশ হাজার। এতটাই তফাত! ভবিষ্যতের অনিশ্চয়তা, আর্থিক ঝুঁকি, এমনকী জীবনের ঝুঁকি নিয়েও বাংলাদেশের বেকার যুবকরা দেশ ছেড়ে বেরিয়ে পড়ে, বিদেশে গিয়ে অনেক কষ্টের মধ্য দিয়ে জীবিকার সন্ধান করে, তারপর কোনও না কোনওভাবে পায়ের তলায় মাটি পেয়ে যায়। এই অ্যাডভেঞ্চারস্পৃহা ভারতীয় বাঙালি বেকারদের মধ্যে দেখা যায় না। এদিক থেকে যারা যায়, তারা চাকরির নিরাপত্তা কিংবা পড়াশুনো চালিয়ে যাবার ব্যবস্থা নিয়ে যায়, সেই জন্যই এত সংখ্যাল্পতা। বাংলাদেশের ছেলেরা প্রবাসে গিয়ে যখন অনেক কষ্ট করে গ্রাসাচ্ছাদন চালায়, তখনও কিন্তু তারা তাদের ভাষা-সংস্কৃতি ভোলে না। এক ঘরে গাদাগাদি করে চার-পাঁচজন থাকে। নিজেরাই ভাত-ডাল ফুটিয়ে খায়, তবু তাদের বাংলা বই পড়া চাই-ই। এক জায়গায় কয়েকজন মিলিত হলে বাংলা সাহিত্য নিয়ে আলোচনা বা তর্ক করে, এবং একটি পত্রিকা বার করে। জাপানে প্রখ্যাত রবীন্দ্রবিশেষজ্ঞ কাজুও আজুমা মহাশয় টোকিও-তে বাংলা সাহিত্য-সংস্কৃতির চর্চা অব্যাহত রেখেছেন। সেখানে মাঝে মাঝে সাহিত্যসভা ও সেমিনারের ব্যবস্থা হয়। তাঁর সহযোগী হিসেবে একবার কবীর নামে বাংলাদেশি এক যুবককে দেখেছিলাম, যার ঘর-সংসার, চাকরি, টাকা-পয়সা কোনও দিকে মন ছিল না, শুধু নিজস্ব পত্রিকা প্রকাশ ও ওই সম্মেলনের সাফল্যের জন্য নিবেদিতপ্রাণ ছিল। তুলনামূলকভাবে প্রবাসী ভারতীয় বাঙালিদের বাংলা সাহিত্যের প্রতি এমন আন্তরিকতা দুর্লভ। অনেকেই হয়তো বই সংগ্রহ করে পড়েন। কিন্তু বাংলা সাহিত্যের প্রসারের জন্য সংঘবদ্ধভাবে উদ্যোগ খুবই কম। বাংলাদেশিদের মধ্যে লেখকের সংখ্যা ও উচ্চমানের লেখা ক্রমশই বাড়ছে, প্রবাসী বাংলাদেশিরা তাদের সাহিত্য-সংস্কৃতিকে আঁকড়ে ধরে থাকে, কিছুকাল পরে ঢাকাই হবে বাংলা সাহিত্য প্রকাশনা এবং সংস্কৃতির প্রধান কেন্দ্র। ভারতীয় বাঙালিরা যেন ইচ্ছে করেই হেরে যাওয়ার খেলা খেলছেন।

রেষারেষি বা প্রতিযোগিতা নয়, কুড়ি কোটি বাঙালি যদি বাংলা সাহিত্য ও সংস্কৃতির উন্নতি ও প্রসারের জন্য মিলিতভাবে উদ্যোগ নিত, তাহলে অনায়াসেই এই সাহিত্য-সংস্কৃতি এক সময় ফরাসি, ইতালিয়ান, জার্মান, স্প্যানিশ ভাষার পাশাপাশি স্থান করে নিতে পারত। কিন্তু তা হবার নয়। এই কুড়ি কোটি বাঙালির সকলেরই যদি অন্নবস্ত্রের সংস্থান করা যেত, যদি সকলেই পেত শিক্ষার সুযোগ, সকলেরই যদি থাকত কিছু কিছু ক্রয়ক্ষমতা, তাহলে এই বাঙালিরা হয়ে উঠত বিশ্বের অন্যতম শক্তিশালী জাতি। কিন্তু সে সুখস্বপ্ন আমাদের ইহজীবনে বাস্তব হবে কি?

আমাদের এখানে অনেকেরই ধারণা, যারাই বিদেশে চলে যায়, তারা ধীরে ধীরে বাংলার সঙ্গে সম্পর্কচ্যুত হয়, তাদের ছেলেমেয়েরা একেবারেই বাংলা শেখে না। বিদেশে কেন স্বদেশেই দিল্লি, মুম্বই, চেন্নাইয়ের বাঙালি পরিবারগুলির কী অবস্থা? সেখানকার দ্বিতীয় প্রজন্মের ছেলেমেয়েরা বাংলা লিখতে পড়তে জানে না, তাদের শেখাবার কোনও ব্যবস্থা নেই, এবং ব্যবহারিক জীবনে প্রয়োজন নেই বলে তারা শিখতেও চায় না। পরাধীন ভারতে বাংলা ভাষায় যে সর্বভারতীয় মর্যাদা ছিল স্বাধীন ভারতে তা হু-হু করে কমে আসছে। আপাতত সে আলোচনায় আর যাচ্ছি না। প্রবাসে সম্পূর্ণ চিত্রটাই যে নৈরাশ্যজনক নয়, তা বোঝাবার জন্যই কয়েকটি দেশের কয়েকটি সমষ্টিগত দৃষ্টান্ত দিলাম। এরকম অন্যান্য দেশে নিশ্চিত আরও অনেক আছে, সব জানা তো আমার পক্ষে সম্ভব নয়! দিল্লি, মুম্বইতে বাঙালির সংখ্যা কম নয়, কিন্তু ওই দুই শহরের তুলনায় ইউরোপ-আমেরিকার কোনও কোনও শহরে বাংলা ভাষা-সাহিত্য নিয়ে মাতামাতি বেশি হয়। বিদেশ থেকে ইদানীং যত বাংলা পত্র-পত্রিকা প্রকাশিত হয়, তিরিশ বছর আগে তা কল্পনাও করা যেত না।

একটা মজার গল্প দিয়ে শেষ করি। গল্প নয়, ঘটনা। সুইজারল্যান্ডে এক বাঙালি পরিবারের কর্তা এক কঠোর নিয়ম জারি করেছেন, বাড়ির চৌহদ্দির মধ্যে ছেলেমেয়েদের সর্বক্ষণ বাংলা বলতে হবে। বাড়ির বাইরে তারা ফরাসি, জার্মান বা ইংরাজি, যা খুশি বলুক, বাড়িতে থাকার সময় বাংলা ছাড়া অন্য ভাষার একটি অক্ষরও উচ্চারণ করা যাবে না। সে বাড়ির বড় ছেলে একদিন বাইরে থেকে হন্তদন্ত হয়ে বাড়ি ফিরছে, তার বাবাকে কোনও জরুরি ব্যাপার জিগ্যেস করতে হবে। দরজা খুলেও সে থমকে দাঁড়িয়ে গেল চৌকাঠের ওপরে। একটি জার্মান শব্দের বাংলা প্রতিশব্দ তার কিছুতেই মনে পড়ছে না। সে তখন অসহায়ভাবে বলল, বাবা এই জার্মান কথাটার আমি বাংলা জানি না, তা হলে কি বাড়ির মধ্যে ঢুকতে পারব না?

(দেশ—২১/২/৯৮)

সকল অধ্যায়
১.
বাংলা ভাষার আত্ম-পরিচয়
২.
আ মরি বাংলা ভাষা
৩.
এ বার সমস্ত বিদ্যালয়ে বাংলা আবশ্যিক
৪.
বাংলা আছে, থাকবে
৫.
বাঙালি ও বাংলা ভাষা
৬.
বাঙালি কে? আমি কি বাঙালি?
৭.
আর কতদিন সহ্য করব?
৮.
বাঙালি, বাঙালিত্ব—জাতি ও সংস্কৃতি
৯.
দুই বাংলার বাঙালি
১০.
ইতিহাসের পরিহাস
১১.
ভাষার সূক্ষ্মতা ও সংস্কার
১২.
আমাদের হ্রস্সি দীর্ঘি জ্ঞান
১৩.
প্রবাসে বাংলা ভাষা
১৪.
প্রবাসী বাঙালি : সার্থকতা ও পরের প্রজন্ম
১৫.
কিন্তু মাতৃভাষা ছাড়া কি সাহিত্যসৃষ্টি সম্ভব?
১৬.
বাঙালি সংস্কৃতির উত্তরাধিকার
১৭.
আগামী প্রজন্মের বাঙালি
১৮.
বাঙালি অনেক, মুছে যাচ্ছে বাংলা
১৯.
হিস্ট্রি চ্যানেল হিন্দিতে কেন, বাঙালি আজও সর্বংসহা
২০.
বিশ্ব বইমেলা এবং প্রবাসে বাংলা
২১.
স্বাধীন বাংলাদেশ
২২.
সীমান্তে দুবার
২৩.
চলো, আমরাও যাই
২৪.
ওদের সংগ্রামের দিকে তাকিয়ে আমরা
২৫.
বাংলাদেশ কিছুটা অজানা, অচেনা
২৬.
সেদিনের স্মৃতি
২৭.
একুশে ফেব্রুয়ারির গভীর রাত্রে
২৮.
কয়েকটি ছোটখাটো জরুরি বিষয়
২৯.
পাশাপাশি এসে দাঁড়ানোই বড় কথা
৩০.
বাংলাদেশের সঙ্গে আমার নাড়ির টান
৩১.
ধনসম্পদ গেছে, মানসম্মানও যেতে বসেছে
৩২.
পশ্চিমবঙ্গে বাংলা চাইছি, আনন্দবাজারের আপত্তি কেন?
৩৩.
নাম বদলের সৎ প্রস্তাব তাতেই এত বিরুদ্ধ হইহল্লা?
৩৪.
রাকা রায় ওদিকে একলা লড়াই চালাবেন?
৩৫.
যত দূরেই যাই
৩৬.
দৃশ্যপটে বাংলা : প্রয়োজনে চাই ভাষা-পুলিশ
৩৭.
সামনে তাকালে বাংলা অক্ষর চোখেই পড়ে না!
৩৮.
প্রতিবাদের ভাষা কেন কলুষিত হবে?
৩৯.
নিজস্ব ভাষা
৪০.
আগে বাংলা অনুষ্ঠানের জন্য একটা আলাদা চ্যানেল চাই
৪১.
যে প্রশ্নের উত্তর এখনও জানি না
৪২.
বাঙালি কোথায় নেই? বাঙালি এখন কোথায়?
৪৩.
আগামী বছরে দুর্গোৎসব হবে ডিসেম্বর মাসে
৪৪.
মঞ্চে আবার যেন সোনালি যুগ

নোট নিতে এবং টেক্সট হাইলাইট করতে লগইন করুন

লগইন
০%