আমাদের হ্রস্সি দীর্ঘি জ্ঞান

সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

সিউড়ি শহরে একটি ছবির প্রদর্শনী দেখতে গিয়েছিলাম কিছুদিন আগে, নানা বয়সের স্থানীয় শিল্পীদের চিত্রকলা, ভাস্কর্য ও হাতের কাজের সমাবেশ। ঢোকার মুখেই দেখি, বেশ বড় অক্ষরে শিল্পী বানান লেখা আছে শিল্পি। উদ্যোক্তাদের ধমক দিতে যাচ্ছিলাম ভুল বানান লেখার জন্য, সামলে নিলাম শেষ মুহূর্তে। আমি ছবি দেখতে এসেছি, আমার অত জ্যাঠামশাইগিরি করার দরকার কী?

তবু, বাংলা ভাষা ও বাংলা অক্ষর নিয়ে তো জড়িয়ে মড়িয়ে আছি অনেকগুলি বছর। কোথাও ভাষা-ভ্রান্তি দেখলে মনটা খচখচ করে। ঘুরতে ঘুরতে এক সময় আমার হঠাৎ মনে হল, বর্তমান নতুন রীতিতে শিল্পি বানান হয়তো ভুল নাও হতে পারে। এখন যে বানান সংস্কার চলছে, তাতে হ্রস্ব-ই-রই তো জয়যাত্রা, দীর্ঘ-ঈ বেচারির খুবই দুরবস্থা। যেমন রানী হয়েছেন রানি, কাহিনী এখন কাহিনি ইত্যাদি। সুতরাং শিল্পী না শিল্পি, কোনটা সঠিক তা দেখতে হবে তো!

একালের প্রসিদ্ধ ভাষাবিদ্গণ প্রায় সকলেই একমত হয়ে বানান সংস্কারের কয়েকটি নির্দেশ দিয়েছেন। যেমন, বহিরাগত বা বিদেশি শব্দের সবই হ্রস্ব-ই হবে, দীর্ঘ-ঈ অপ্রয়োজনীয়, বাংলা উচ্চারণেও দীর্ঘ-ঈর প্রচলন বিশেষ নেই। যেসব শব্দ সংস্কৃত থেকে সরাসরি এসেছে অর্থাৎ তৎসম, সেগুলি থাকবে অপরিবর্তিত। সেগুলিতেও দীর্ঘ-ঈর প্রয়োজনীয়তা থাকুক বা না থাকুক, সংস্কৃতের প্রতি সম্মান জানাতেই বোধহয় সেগুলির বদল হবে না। এ নির্দেশ শিরোধার্য। আর যেসব সংস্কৃত শব্দ কিছুটা রূপান্তরিত হয়েছে, অর্থাৎ তদ্ভব, সেগুলিতে আর দীর্ঘ-ঈ কিংবা দীর্ঘ-উ-র প্রয়োজন নেই। সেই যুক্তিতেই সংস্কৃত রাজ্ঞী থেকে তদ্ভবে হয়েছে আগেকার আমলের রানী। এখনকার বিচারে রানি। সংস্কৃত ব্যাকরণ মতে, স্ত্রীবাচক শব্দের শেষে দীর্ঘঈ-কার কিংবা আ-কার যোগ হয়, কিন্তু বাংলায় তা মানবার দরকার নেই। কারণ, সংস্কৃতের সঙ্গে বাংলার কোনও প্রত্যক্ষ সম্পর্ক নেই। হরপ্রসাদ শাস্ত্রী, রবীন্দ্রনাথ, সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায় প্রমুখ বলেছেন বাংলা একটি পৃথক ভাষা, তার ব্যাকরণও আজও লিখিত হয়নি বটে, কিন্তু নতুন ভাবে বানান সংস্কার শুরু হয়েছে। এই নতুন বানান-বিধিতেই রচিত হবে পাঠ্য বই।

একটা সংশয় থেকেই যায়। কোন শব্দটি তৎসম আর কোন শব্দটি তদ্ভব, তা বোঝা যাবে কী করে? আমাদের বয়েসি পাঠকরা ছাত্রাবস্থায় বাধ্যতামূলকভাবে কিছু কিছু সংস্কৃত শিখেছি, এখন তো আর সে বালাই নেই। এখনকার ছেলেমেয়েরা সংস্কৃতর ধার ধারে না। তারা একটি নতুন শব্দ পেলে সেটি খাঁটি সংস্কৃত না বাংলা না বিদেশি তা বুঝবে কী করে? এর উত্তর হচ্ছে, তাদের অভিধান মুখস্থ করতে হবে। যেমন ইংরেজিতে সব বানানই মুখস্থ করতে হয়। বাংলায় অবশ্য সেরকম নতুন মানদণ্ডের অভিধান এখনও সংকলিত হয়নি, প্রচলিত পূর্ণাঙ্গ অভিধানগুলিতে পুরোনো বানানই চলছে। এখন কয়েকবছর ছাত্রছাত্রীদের কপালে দুঃখ আছে।

অল্পবিদ্যা ভয়ংকরী বলেই মাঝে মাঝে আমাদের খুব মুশকিলে পড়তে হয়। তৎসম শব্দ কি সবসময় চিনতে পারি? জানি কি তার রূপভেদ?

বাল্যকাল থেকেই শিল্পী বানান দেখে আসছি, সব অভিধানেই আছে, তবু কেন সংশয়? হরিচরণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের বঙ্গীয় শব্দকোষ দেখার পর মনে হল, শিল্পি বানানও তো চলতেই পারে। শিল্পিন থেকে শিল্পী। কিন্তু শিল্পিজন, শিল্পিশালা, শিল্পিসংঘ, এর কোথাও দীর্ঘ-ঈ নেই, তাহলে কি দুরকম বানানই চলবে? তা হলে আর সরলীকরণ হল কোথায়? একই শব্দের দুরকম বানান রাখা যে-কোনও ভাষার পক্ষেই অতি দুর্বলতা। তা হলে কি শিল্পীকে দীর্ঘ-ঈ-তে রাখতে গেলে, সংস্কৃত নিয়ম অগ্রাহ্য করে অন্যগুলিও শিল্পীজন, শিল্পীশালা, শিল্পীসংঘ করা উচিত নয়? নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী, পবিত্র সরকার, জ্যোতিভূষণ চাকী প্রমুখ কী বলেন?

একই প্রশ্ন অনেকদিন থেকে উঠেছে মন্ত্রী বিষয়ে, অভিধানে মন্ত্রি এবং মন্ত্রী দুই-ই আছে, দুটিই সিদ্ধ। কিন্তু বাংলায় অনেককাল ধরে শুধু মন্ত্রীই চলছে, বোধহয় দীর্ঘ-ঈ দিলে গুরুত্ব বাড়ে। কিন্তু মন্ত্রিবর, মন্ত্রিমশাই, মন্ত্রিসভা, মন্ত্রিগণ ইত্যাদি বেশির ভাগ শব্দেই হ্রস্ব-ই। দুটোই থাকবে? একমাত্র মুখ্যমন্ত্রীর ক্ষেত্রে দীর্ঘ-ঈ রেখে বাকি সব মন্ত্রিদের দৈর্ঘ্য কমিয়ে দিলে কেমন হয়? সুধী ও কি সুধি হলে ওজন কমে যায়?

একই শব্দের দুরকম বানানের আরও কয়েকটি উদাহরণ মনে পড়ে। মহাদেবের মাথায় চাঁদও থাকে, সাপও থাকে। তাই তাঁর অন্য দুটি নাম শশিভূষণ ও ফণিভূষণ। কিন্তু শুধু চাঁদ হলে শশী, আর শুধু সাপ হলে ফণী। এ তো মহা ঝামেলা। সংস্কৃতের এই সূক্ষ্ম নিয়ম আমরা মানতে যাব কেন? সংস্কৃতের কাছে আমাদের এমনকী দায়বদ্ধতা আছে? একই অর্থবিশিষ্ট কোনও শব্দেরই দুরকম বানান থাকবে না, এরকম নীতি যদি আমরা গ্রহণ করি, তাহলে সাপ ও চাঁদের পক্ষে এখন ফণি এবং শশি হওয়াই যুক্তিযুক্ত। মেঘদূতের পূর্বমেঘে আছে নবশশিভৃৎ।

তৎসম বলতে ঠিক কী বোঝায়, তার বিশদ ব্যাখ্যা প্রয়োজন। কোন সংস্কৃত-সম? সংস্কৃত ভাষারও তো বিভিন্ন স্তর আছে। একই তৎসম শব্দেরও আছে বানানভেদ। তা ছাড়া, তৎসম ভেঙে প্রাকৃত, অপভ্রংশ, অবহটঠ, সৌরসেনি ইত্যাদি সৃষ্টি হয়, সেই প্রক্রিয়া কি এখন থেমে গেছে? যেসব তৎসম শব্দকে অবিকৃত রাখার কথা, এ যুগেও কি আমরা সেইসব কুলীন সংস্কৃত শব্দগুলিকে কিছু কিছু ভাঙতে পারি না প্রয়োজনে?

একটা উদাহরণ দেওয়া যেতে পারে। কিছু কিছু শব্দের তৎসম এবং প্রাকৃত রূপ দুটিই প্রচলিত আছে। যেমন মাছ এবং মৎস্য। আমরা সবাই মাছ বলি বটে। কিন্তু মৎস্যও দিব্যি চালু আছে। মাছ-মন্ত্রি কি লেখা হয় কখনও? মাছ ধরা যাঁদের জীবিকা, তাঁদের সমিতির নাম মৎস্যজীবী সমিতি। ঠিক আছে, 'মৎস্য' যদি রাখতেই হয়, তার য-ফলাটি কি এখন ত্যাগ করা যায় না? বৎস শব্দে য-ফলা নেই। অথচ ধ্বনির দিক থেকে বৎস এবং মৎস্যর নিখুঁত মিল। মৎস্যের য-ফলাটি নিতান্তই অপ্রয়োজনীয় নয় কি?

মজার ব্যাপার এই যে, যে মাছ ডিম পাড়ে, সেই স্ত্রী জাতীয় মাছ কিন্তু মৎসী। অর্থাৎ য-ফলা লোপ। কেন? কোনও উত্তর নেই। সংস্কৃতে পুরুষবাচক এবং স্ত্রীবাচক শব্দে এরকম অনেক ভেদাভেদ আছে। বলাই বাহুল্য, আমাদের দেবভাষাটি সর্বত্রই পুরুষতান্ত্রিকতার চিহ্নে ভরা। (আমার মনে হয়, বাংলায় পুংলিঙ্গ এবং স্ত্রী লিঙ্গের বদলে পুরুষবাচক এবং স্ত্রীবাচক শব্দ ব্যবহার করা উচিত। কারণ, আগের শব্দ দুটি দৃষ্টিকটু এবং শ্রবণকটু। সব শব্দই এক একটি ছবি আনে আমাদের মানসে, যেমন আকাশ, যেমন নদী যেমন হরিণ ইত্যাদি। সেই অনুযায়ী পুংলিঙ্গ এবং স্ত্রী লিঙ্গের ছবি যখন-তখন মনে আনা শোভন বা রুচিসঙ্গত নয়।)

সংস্কৃত ভাষায় কতখানি নির্লজ্জভাবে পুরুষ প্রাধান্য, তার একটি প্রকট উদাহরণ 'স্বর্ণগর্ভা'। এর সঠিক অর্থ কী আমরা সবাই জানি? ইন্দিরা গাঁধী কিংবা নবনীতা দেবসেন-এর মা কিন্তু স্বর্ণগর্ভা নন, এঁরা যতই কৃতী হোন না কেন। কারণ, ক এদের কোনও ভাই নেই। স্বর্ণগর্ভা বা স্বর্ণকুমারী অর্থ হল, যে মহিলা তাঁর গর্ভে পুত্ররত্ন ধারণ করেন! আশাকরি বাংলা অভিধানে এর অর্থ বদল হবে।

বাঙালি রমণীদের মধ্যে স্বাতী একটি পরিচিত নাম। মূল বানান স্বাতি এবং পুরুষবাচক। বিকল্পে স্রী-বাচক স্বাতী। এই নক্ষত্র কুঙ্কুম সদৃশ এবং এক তারক। এর অধিদেবতা পবন। এই নক্ষত্রের প্রভাবে জন্মালে নর রূপবান, কান্তার প্রতি প্রীত, অনুরক্ত, প্রসন্ন হয়, এবং মহামতি মহাধনী হয়। নারী হলে কী হয়, তার কোনও উল্লেখ অভিধানে নেই। এই নামটি পুরুষদের পক্ষেই বেশি গ্রহণীয়, এর একটি অর্থান্তর আছে, খড়গ, তাও পুরুষবাচক। কিন্তু ই-কারান্ত বলে পুরুষরা এই নাম গ্রহণ করে না। বিকল্পটিই জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। যেমন সবিতা অর্থ জলজ্যান্ত সূর্য হলেও আ-কারান্ত বলে মেয়েরা নাম হিসেবে ব্যবহার করে।

স্বামী শব্দটিতে একালের নারীবাদীদের ঘোর আপত্তি আছে। কারণ এতে আছে প্রভুত্বের গন্ধ। কিন্তু স্বামী শব্দটি এতই প্রচলিত যে বাংলা ভাষা থেকে জোর করে বাদ দেওয়া তো যাবে না, বরং এর দীর্ঘ-ঈ-কার হরণ করে গুরুত্ব খানিকটা কমিয়ে দেওয়া যেতে পারে। স্বামি অবশ্যই অভিধানসম্মত। সমাসবদ্ধ হলেই স্বামিন থেকে স্বামি, যেমন স্বামিকার্য, স্বামিসম্বন্ধ, স্বামিদুহিতা, স্বামিস্নেহ, স্বামিস্বভাব লক্ষণ। এছাড়া স্বামিত্ব, স্বামিঘ্ন এরকম উদাহরণ অনেক।

স্বামির পর শ্বশুর। বাংলায় শব্দের প্রথমেই ব-ফলা অধিকাংশ ক্ষেত্রেই অবান্তর, অন্তত উচ্চারণের ক্ষেত্রে। এর উদাহরণ অজস্র। যাই হোক, শ্বশুর-এর স্ত্রীবাচক শব্দ শ্বশ্রূ, এই শব্দটি দেখতেই এমন ভজকট যে অবিলম্বেই বাংলায় তা হয়ে গেল শাশুড়ি, স্বাভাবিকভাবেই খসে গেল বফলা, কিন্তু শ্বশুরের বেলায় রয়ে গেল কেন? অধিকাংশ শ্বশুর, শাশুড়ির থেকে বেশি লম্বা বলে? শ্বশুর রয়ে গেলেন তৎসম আর শাশুড়ি শুধু তদ্ভব নয়, ড য়ে শূন্য ড় এনে হয়ে গেলেন প্রায় দেশজ। এখন শ্বশুর-এর ব-ফলা খসিয়ে শশুর এবং শাশুড়িকে সম পর্যায়ে আনা উচিত নয় কি!

ছাত্র বয়সে সন্ন্যাসী বানানটি আমার প্রায়ই ভুল হত। ন-এর দ্বিত্ব, তার পরেও একটি য-ফলা থাকার কারণটি মাথা ঘুলিয়ে দিত। বাংলায় যুক্তাক্ষর হয়তো পুরোপুরি বর্জন করা যাবে না। কিন্তু তিনতলা অক্ষর রাখার কোনও প্রয়োজন নেই, বিশেষত কম্পিউটারের যুগে। (এখন যুক্তাক্ষরকে ভেঙে ঠিকঠাক চেহারায় লেখার প্রস্তাব এসেছে। আকাঙ্ক্ষা-কে ভেঙে কীভাবে লেখা হবে আমি জানি না। ক-এ মূর্ধন্য ষ-এ ক্ষ অক্ষরটিই বড়ই বিভ্রান্তিকর, উচ্চারণের দিক থেকে ষ-এর কোনও অস্তিত্বই নেই এর মধ্যে। অথচ ক্ষ এমনই প্রয়োজনীয় এবং বহুব্যবহৃত যে স্বয়ং অক্ষর-এর মধ্যেই সে ঢুকে বসে আছে, সুতরাং এর রূপের পরিবর্তন কীভাবে করা যাবে?) সন্ন্যাসীতে একটি ন অথবা য-ফলা অবশ্যই বর্জন করা সম্ভব, তৎসম ভেঙে তদ্ভব করার প্রক্রিয়ায়। সন্যাসী দেখতে খারাপ লাগে না।

সাক্ষ্য-তে য-ফলার কোনও ভূমিকা নেই। শুধু সাক্ষ হলে প্রথম প্রথম দেখে অস্বস্তি বোধ হতে পারে, পরে হয়তো চোখ সওয়া হয়ে যাবে। দীর্ঘ ঈ-কারের মতন চুল মেলা রানীরা এখন হ্রস্ব চুলের রানি হয়েছে, তা তো এখন দিব্যি মেনে নিয়েছি।

অভিধানের পাতা ওল্টাতে ওল্টাতে কয়েকটি বিচিত্র ব্যাপার চোখে পড়ে। যেমন যজ্ঞ থেকে উৎপন্না বলে দ্রৌপদীর আর এক নাম যাজ্ঞসেনী, আমরা সবাই জানি। বেশ সুশ্রাব্য নাম। কিন্তু দ্রৌপদীরও আগে তার এক দাদাও উঠে এসেছিল যজ্ঞের আগুন থেকে, তার নাম শিখণ্ডী। সে দাদা না দিদি তা বলা শক্ত। পূর্বজন্মে যে নারী ছিল, এ জন্মেও সে প্রথম পৃথিবীতে আসে বালিকা হয়ে, বর্ধিত হয় পুরুষ হিসেবে। তার বিয়ের পর তার পুরুষত্বের অভাব দেখে বঞ্চনার অভিযোগ ওঠে, যুদ্ধেরও উপক্রম হয় তার শ্বশুর দশার্ণরাজ হিরণ্যবর্মার সঙ্গে রাজা দ্রুপদের। তখন শিখণ্ডী, যে আসলে শিখণ্ডিনী, এক বনে গিয়ে তপস্যা করতে করতে পুরুষত্ব প্রাপ্ত হয়। সে আবার সংসারে ফিরে পুরুষত্বের প্রমাণ দিলে দুই শ্বশুরের মধ্যে দ্বন্দ্ব মিটে যায়। মহাভারতে এই শিখণ্ডীকেও বলা হয়েছে যাজ্ঞসেনি। আর দ্রৌপদী যাজ্ঞসেনী। হ্রস্ব-ই আর দীর্ঘ-ঈর তফাত আছে দুজনের নামে। এই তফাত কি টিকিয়ে রাখা সঙ্গত? বরং শিখণ্ডীর লিঙ্গ সম্পর্কেই যখন সন্দেহ আছে (এখানে লিঙ্গ শব্দটি সঠিক অর্থে প্রযোজ্য) তখন তাকে হ্রস্ব-ই, দীর্ঘ-ঈ-র এলাকা থেকেই বাদ দেওয়া হোক, বাংলা অভিধানে যাজ্ঞসেনি শব্দটি একেবারে বিলুপ্ত হোক, শুধু যাজ্ঞসেনী হয়ে থাকুন দ্রৌপদী।

এইসব বাদ দেওয়া হবে কোন নিয়মে? তা ঠিক করবেন ভাষাবিদরা। আমরা শুধু দু-একটি প্রশ্ন উত্থাপন করতে পারি। সংস্কৃত ব্যাকরণের খুঁতখুঁতুনি না মেনে এইসব পরিবর্তন হতে পারে বাংলা মতে। সেই জন্যই তো বিশুদ্ধ বাংলা ব্যাকরণ রচনা করা অবিলম্বে অতি প্রয়োজনীয়!

(দেশ-২ জুলাই ২০০৪)

সকল অধ্যায়
১.
বাংলা ভাষার আত্ম-পরিচয়
২.
আ মরি বাংলা ভাষা
৩.
এ বার সমস্ত বিদ্যালয়ে বাংলা আবশ্যিক
৪.
বাংলা আছে, থাকবে
৫.
বাঙালি ও বাংলা ভাষা
৬.
বাঙালি কে? আমি কি বাঙালি?
৭.
আর কতদিন সহ্য করব?
৮.
বাঙালি, বাঙালিত্ব—জাতি ও সংস্কৃতি
৯.
দুই বাংলার বাঙালি
১০.
ইতিহাসের পরিহাস
১১.
ভাষার সূক্ষ্মতা ও সংস্কার
১২.
আমাদের হ্রস্সি দীর্ঘি জ্ঞান
১৩.
প্রবাসে বাংলা ভাষা
১৪.
প্রবাসী বাঙালি : সার্থকতা ও পরের প্রজন্ম
১৫.
কিন্তু মাতৃভাষা ছাড়া কি সাহিত্যসৃষ্টি সম্ভব?
১৬.
বাঙালি সংস্কৃতির উত্তরাধিকার
১৭.
আগামী প্রজন্মের বাঙালি
১৮.
বাঙালি অনেক, মুছে যাচ্ছে বাংলা
১৯.
হিস্ট্রি চ্যানেল হিন্দিতে কেন, বাঙালি আজও সর্বংসহা
২০.
বিশ্ব বইমেলা এবং প্রবাসে বাংলা
২১.
স্বাধীন বাংলাদেশ
২২.
সীমান্তে দুবার
২৩.
চলো, আমরাও যাই
২৪.
ওদের সংগ্রামের দিকে তাকিয়ে আমরা
২৫.
বাংলাদেশ কিছুটা অজানা, অচেনা
২৬.
সেদিনের স্মৃতি
২৭.
একুশে ফেব্রুয়ারির গভীর রাত্রে
২৮.
কয়েকটি ছোটখাটো জরুরি বিষয়
২৯.
পাশাপাশি এসে দাঁড়ানোই বড় কথা
৩০.
বাংলাদেশের সঙ্গে আমার নাড়ির টান
৩১.
ধনসম্পদ গেছে, মানসম্মানও যেতে বসেছে
৩২.
পশ্চিমবঙ্গে বাংলা চাইছি, আনন্দবাজারের আপত্তি কেন?
৩৩.
নাম বদলের সৎ প্রস্তাব তাতেই এত বিরুদ্ধ হইহল্লা?
৩৪.
রাকা রায় ওদিকে একলা লড়াই চালাবেন?
৩৫.
যত দূরেই যাই
৩৬.
দৃশ্যপটে বাংলা : প্রয়োজনে চাই ভাষা-পুলিশ
৩৭.
সামনে তাকালে বাংলা অক্ষর চোখেই পড়ে না!
৩৮.
প্রতিবাদের ভাষা কেন কলুষিত হবে?
৩৯.
নিজস্ব ভাষা
৪০.
আগে বাংলা অনুষ্ঠানের জন্য একটা আলাদা চ্যানেল চাই
৪১.
যে প্রশ্নের উত্তর এখনও জানি না
৪২.
বাঙালি কোথায় নেই? বাঙালি এখন কোথায়?
৪৩.
আগামী বছরে দুর্গোৎসব হবে ডিসেম্বর মাসে
৪৪.
মঞ্চে আবার যেন সোনালি যুগ

নোট নিতে এবং টেক্সট হাইলাইট করতে লগইন করুন

লগইন
০%