পোড়ারমুখি

হেমেন্দ্রকুমার রায়

এইখানেই আমার জন্ম। শুনেছি, আমার মা কুলত্যাগ করে এসেছিলেন। লোকে বলে, সেটা পাপ। পাপ কি পুণ্য জানি না; কারণ সে শিক্ষা আমার কখনো হয়নি। যদি পাপ হয়, তবে বলতে হবে যে, মা-র সে পাপের শাস্তি ভোগ করছি আমি।

রূপকথায় এক কুৎসিত রাজকন্যার কথা শুনেছি, আরশিতে নিজের মুখ দেখে তিনি আরশিখানাকেই ভেঙে খান খান করে ফেলেছিলেন। জানি না, তিনি আমার চেয়েও কুৎসিত ছিলেন কি না!... আরশিতে আমিও মুখ দেখি; দেখি, আর আমার বুকটা কেমন করে ওঠে। মনে হয় আমিও আরশিখানাকে ভেঙে চুরমার করে ফেলি। কিন্তু তাতে হবে কী? আমার এ কুরূপের ছায়া শুধু ওই এক আয়নাতেই তো ধরা পড়ে না— এ যে মানুষের চোখে চোখে ছড়িয়ে বেড়ায়!

নিজের চেহারার খুঁত, নিজের চোখে একরকম মানানসই হয়ে যায়; কিন্তু হায়, আমার মুখে এমন কিছুই নেই, যা আমার নিজের চোখেও ভালো লাগতে পারে— এ যেন মানুষের মুখই নয়! তাই কিছুতেই আমি মনকে চোখ ঠেরে বোঝ মানাতে পারি না! মানুষকে গড়বার সময়ে ভগবান এতটাও নিষ্ঠুর হতে পারেন!

বুঝতে পারি না, আমার মুখে কী এমন আছে, যাতে করে লোকে আমার দিকে তাকালে হাসি চাপতে পারে না! সাহেবদের দোকানের জানলায় যেসব বেয়াড়া রকমের অস্বাভাবিক মুখোশ দেখা যায়, আমার মুখটাও যেন অনেকটা সেই ধরনের। তাই কি লোকে অমন করে হাসে? ওঃ, এ কী হাসি! মানুষের অবজ্ঞার চেয়ে মানুষের এই হাসি আমার প্রাণে যেন আরও নিদারুণ হয়ে বাজে!

বিকালে পাউডারে, রঙে, গয়নায় আর রঙিন জামাকাপড়ে আমার এই কুরূপ যতটা পারি ঢেকেঢুকে বারান্দায় গিয়ে দাঁড়িয়ে থাকি। যতক্ষণ দিন থাকে, ততক্ষণ কেউ আমার কাছে ঘেঁষে না। সন্ধে হলে যখন আর চোখ চলে না, তখন রাস্তা থেকে ঠাহর না পেয়ে কেউ কেউ আমার কাছে উপরে উঠে আসে। তারপর, আমার চেহারা দেখবার জন্যে সিগারেট ধরাবার অছিলায় ফস করে একটা দেশলায়ের কাঠি জ্বেলে আমার মুখের কাছে ধরে; আর আমাকে দেখেই হেসে ওঠে!

ওগো, দুনিয়ায় যার ভালোবাসবার কেউ নেই, যার প্রেমের ফুল আপনি ফুটে আপনি ঝরে যায়, যার বাসনা কখনো তৃপ্তির স্বাদ পায়নি, সে অভাগিনির মনের ব্যথা প্রাণের কথা তোমরা কেউ বুঝতে পারবে না! আমার রূপ নেই, কিন্তু যৌবনের আকাঙ্ক্ষা তো আছে!

কুরূপা কুব্জা এই জ্বালা বুকে পুরে না জানি কত কান্নাই কেঁদেছিল! কিন্তু তার নিন্দিত জীবনও নন্দিত করে একদিন তো শ্রীকৃষ্ণ এসেছিলেন! আমারও এই অনাদৃত জীবন-যৌবন কি একদিন কোনো অজানা অতিথির পদস্পর্শে সফল হয়ে উঠবে না?

অন্ধকারে, বিছানার উপরে শুয়ে শুয়ে আমি সেই অজানা অনাগত অতিথির কথা ভাবি! আর সবাই আমাকে পায়ে ঠেলে চলে যাচ্ছে, কিন্তু তিনি যেদিন আসবেন সেইদিনই বুঝতে পারবেন, ছাই-ঢাকা আগুনের মতো আমার এই কুদর্শন কুগঠন দেহের তলে তলে প্রাণ-যৌবনের শতমুখী সৌন্দর্যের ফোয়ারা নৃত্য করে উঠছে!

আমি সেই অজানা অতিথির পথ চেয়ে আছি। সেই আশাই যে আমার এই আঁধার প্রাণের ধ্রুবতারা! আমার এই তৃষাতাপিত জীবনের পথে আজ কোনো পথিক নেই বটে, কিন্তু আমি জানি, একদিন তিনি আসবেন, তিনি আসবেনই।

* * *

রূপের বিকিকিনি যার ব্যাবসা, রূপ না থাকলে তার তো চলে না। আমারও দিন চলত না— ভাগ্যে মা একখানা বাড়ি রেখে গেছেন, তাই কোনোগতিকে আমার দিন গুজরান হচ্ছে!

বাড়িতে আমার জনকত ভাড়াটিয়া আছে— তারা সবাই স্ত্রীলোক, কারোরই সমাজে ঠাঁই নেই। রোজ তাদের ঘরে লোক আসে, গানবাজনা হয়, হাসির হল্লা ওঠে! তাদের সেই আমোদ-প্রমোদের ধ্বনি যখন আমার ঘরে এসে ঢোকে, তখন ইচ্ছা হয়, দি সব ভাড়াটেকে দূর করে তাড়িয়ে! কিন্তু তাহলে যে আমার দিন চলবে না— পেটের অন্ন জুটবে না! মনের হিংসা মনেই চেপে আমি যেন গুমরে মরতে থাকি!

বাড়ির দোতলায় একটি মেয়ে দুখানা ঘর নিয়ে আছে, তার সঙ্গে আমি 'মকর' পাতিয়েছি। মকর দেখতে যেমন পরির মতো, তার গানের গলাও তেমনি চমৎকার। শহরের বড়ো বড়ো বাবু তার ঘরে আসবার জন্যে লালায়িত— 'মুজরো'য় গিয়ে প্রায়ই সে মোটা টাকা ঘরে আনে।

সেদিন শুনলুম, কোন বাবুর বাগানে সে গান গাইতে যাবে। আমার কেমন শখ হল, আমি তাকে বললুম, 'মকর, ভাই, আমাকে তোর সঙ্গে নিয়ে যাবি?'

মকর বললে, 'বেশ তো, চল-না!'

বাগানে যাবার সুবিধা আমার তো কখনো ঘটেনি— ঘটবে না; যার মুখ দেখলে লোকে নাক বেঁকিয়ে মুখ ফিরিয়ে নেয়, পয়সা খরচ করে তাকে বাগানে নিয়ে যাবে এমন বাবু কে আছে? অথচ শুনতে পাই, বাগানে নাকি ভারী ঘটা হয়! তাই দেখতে বড়ো সাধ ছিল; দেখি, মকরের দৌলতে সে সাধটা যদি মিটিয়ে নিতে পারি!

হা আমার ছার কপাল, এমন জানলে কে বাগানে আসতে চাইত! সেই জমকালো সাজানো ঘরে গিয়ে যখন ঢুকলুম তখন চারদিক থেকে অনেকগুলো চোখ বিস্ময়ে-কৌতুকে একেবারে বিস্ফারিত হয়ে আমার পানে স্থির হয়ে রইল। সে কী নিষ্ঠুর, ব্যঙ্গভরা দৃষ্টি! আমি যেন মরমে মরে গেলুম।

মকর চালাক মেয়ে, সে তখনই এই চাহনির অর্থ ধরে ফেললে। আমার এক হাত নিজের হাতে নিয়ে সে সকলকে শুনিয়ে শুনিয়ে বললে, 'ইনি আমার মকর, এঁকে আমিই সঙ্গে করে এনেছি!' রূপসি মকর জানত, আমি তার সঙ্গে এসেছি শুনলে সকলের কাছে এখনই আমার কদর বেড়ে যাবে! কেননা, আমাকে তাচ্ছল্য করে তার নেকনজর থেকে বঞ্চিত হতে কেউ তো চাইবে না!

বাগানের যিনি মালিক, সেই বাবুটি তাড়াতাড়ি এগিয়ে এসে বললেন, 'আরে এসো— এসো, তুমি ডালিম বিবির মকর— আমাদের মাথার মণি!'

অমনি আরও অনেকে বলে উঠল, 'বসুন, বসুন!'

বুঝলুম, এ আমাকে আদর নয়— আমার ভিতর দিয়ে এ আদর গিয়ে পড়তে চাইছে সুন্দরী মকরের রাঙা পায়ের তলায়! যাক— এও তবু মন্দের ভালো!

সভার মাঝখানে গিয়ে, চোখে-মুখে রূপের দেমাক নিয়ে মকর দিব্যি জাঁকিয়ে বসল। চারদিকে সবাই তাকে খাতির জানাবার জন্যে একেবারে তটস্থ! কেউ পানের ডিবেটা তার দিকে এগিয়ে দিচ্ছে, কেউ নিজের হাতেই তাকে বাতাস করছে, তার মন-রাখা কথা কইছে, আর কেউ-বা কিছুই করতে না পেয়ে দীন চোখে নীরবে তার পানে ফ্যালফ্যাল করে তাকিয়ে আছে! মা গো মা, রূপ দেখলে পুরুষগুলো কি এমনি হয়ে যায়! রূপ, রূপ, রূপ! দুনিয়ায় প্রাণ কেউ খোঁজে না, চায় শুধু ছাই রূপ!

বাগানের কর্তাটি, একেবারে বিনয়ের অবতার! দুটি হাত জোড় করে মকরের সামনে এসে তিনি নিবেদন জানালেন, 'ডালিম বিবি, অধীনের একটি আরজি আছে!'

মকর সিল্কের রংচঙে রুমালখানা মুখের কাছে ঘোরাতে ঘোরাতে, ভঙ্গিভরে যেন ভেঙে পড়ে বললে, 'হুকুম!'

'সে কী ভাই, আমরা হুকুম করবার কে, হুকুম-দেনেওয়ালা তো তুমি! বলছি কী— এতগুলো ভদ্রলোক তীর্থের কাকের মতো হাঁ করে বসে আছে, একটা গান গাইতে আজ্ঞা হোক!'

মকর সদর্পে অবহেলাভরে সেলাম করে অনুগ্রহ জানিয়ে বললে, 'জো হুকুম!'— বলে একটু নড়েচড়ে বসে সে হারমোনিয়ামে সুর ধরলে।

ঘরসুদ্ধ সবাই একসঙ্গে চেঁচিয়ে ক্রমাগত বলতে লাগল, 'এই, গোল কোরো না— গোল কোরো না!' গোল থামাতে গিয়ে গোলমাল এমনি বেড়ে উঠল যে, কান পাতে কার সাধ্যি!

হঠাৎ আমার চোখ একটি লোকের উপরে পড়ল। তাঁকে দেখতে বেশ হোমরাচোমরা,—বুকের পকেটে সোনার ঘড়ি—ঘড়ির চেন, হাতের আঙুলে অনেকগুলো আংটি, বোধহয় তিনি খুব বড়ো মানুষ। লোকটি একদৃষ্টিতে অবাক হয়ে আমার দিকে চেয়ে ছিলেন। তিনি কী দেখছেন? আমার এই অপরূপ রূপ?

মকরের গান শুরু হল। গানের সুর বেমালুম ডুবিয়ে 'বাহবা'র উচ্চস্বরে সারা ঘরখানা ভরে উঠল!

আর-একবার সেই লোকটির দিকে তাকালুম। গান বা বাহবা— কিছুই তিনি শুনছিলেন না— মৃদু মৃদু হাসতে হাসতে তেমনি করে তখনও আমার দিকে চেয়ে ছিলেন। সে দৃষ্টিতে আমার কুরূপের প্রতি যে কিছুমাত্র কটাক্ষ বা ঘৃণার ভাব ছিল না, তাও আমি বুঝতে পারলুম। তবে?... তবে কি... না, না, সে যে অসম্ভব! আমাকে দেখে তিনি... না, তা হতেই পারে না!

হঠাৎ তিনি উঠে পড়ে বাইরে গিয়ে দাঁড়ালেন। তারপর— আমি যেন নিজের চোখকে বিশ্বাস করতে পারলুম না— তারপর, তিনি সত্যি সত্যিই আমাকে ইশারা করে ডাকলেন।

প্রথমটা আমি যেন কেমন মূর্ছাহতের মতো হয়ে গেলুম! এমন করে কোনো অজানা পুরুষ তো আজ পর্যন্ত আমাকে কাছে ডাকেননি! এই এক আহ্বানের মধুর রসেই আমার সকল দেহ-মন যে পুলকে ভরে উঠল! অনেক কষ্টে আপনাকে সামলে আবার তাঁর দিকে তাকালুম— আবার তিনি আমাকে হাত নেড়ে ডাকলেন।

ঘরের ভিতরে তখনও সবাই বাহবা দিতে ব্যস্ত; সেই অবকাশে আস্তে আস্তে উঠে,আমি বাইরে তাঁর কাছে গিয়ে দাঁড়ালুম।

আমার দিকে হাসি-মাখা চোখে চেয়ে তিনি বললেন, 'তোমার নাম কী?'

'কামিনী।'

'কোথায় থাকো?'

আমি ঠিকানা বললুম।

'তোমার বাড়িতে কাল সন্ধের সময়ে আমি যাব। এই নাও, আগাম কিছু বায়না দিচ্ছি।'— এই বলে আমার হাতে তিনি চারটে টাকা গুঁজে দিলেন।

আমি আর কী বলব—কী বলতে পারি?... আমার বুকের মাঝে আনন্দের স্রোত যেন উথলে উঠে আছড়ে আছড়ে পড়তে লাগল— আমি যেন কেমন বিহ্বলের মতো হয়ে গেলুম!

তিনি আর কিছু না বলে শুধু একটু মুচকে হেসে ফের ঘরের মধ্যে গিয়ে বসলেন।

মকর তখন মাথার উপর মদভরা গেলাস বসিয়ে, দু-হাত দু-দিকে লীলায়িত করে নাচতে নাচতে গান ধরেছিল—

'চলো গুঁইয়া, আজু খেলে হোরি!'

এতদিন কাল গুনে বসে থাকবার পর, আজ কি সত্যই আমার ঘরে অতিথি আসবেন? আমার সকল কুরূপ আজ কি তাঁর স্পর্শে ধন্য হয়ে উঠবে? হায়, জীবনে এই আমার প্রথম অতিথি— কী দিয়ে তাঁকে তাঁর যোগ্য অভ্যর্থনা করব, কেমন করে তাঁর সঙ্গে কথা কইব?

ফুলের মালায় ঘর সাজিয়ে, আলো জ্বেলে, সেজেগুজে আমি বসে আছি, আকুল প্রাণে নববধূটির মতো! দক্ষিণের খোলা জানলা দিয়ে প্রথম বসন্তের মৃদু মৃদু মন-ভোলানো হাওয়া আমার বুকের 'পরে এসে আবেগভরে ঝাঁপিয়ে পড়ছিল।

সিঁড়িতে পায়ের শব্দ হল— দুরুদুরু প্রাণে আমি দরজার কাছে গিয়ে দাঁড়ালুম। হ্যাঁ, তিনিই বটে!

আমি উচ্ছ্বসিত হয়ে বললুম, 'আসুন, আসুন!'

তিনি সেদিনকার মতো তেমনি চোখে আমার মুখের দিকে চেয়ে হাসতে হাসতে ঘরে এসে ঢুকলেন।

আমি তাঁকে খাটের উপরে বসিয়ে পানের ডিবেটা তাঁর সামনে এগিয়ে দিলুম। কেমন এক যন্ত্রণাভরা সুখে আমার প্রাণমন যেন আচ্ছন্ন হয়ে নেতিয়ে এল। মনে হতে লাগল, আজ যেন এ জগতে আর কেউ কোথাও নেই— শুধু তিনি আর আমি, তিনি আর আমি!...

আমার চিবুকে হাত দিয়ে আমার মুখখানা তিনি তুলে ধরলেন— সে স্পর্শে আমার সারা দেহ শিউরে শিউরে উঠল, আমার দু-চোখ ধীরে ধীরে আপনি মুদে গেল!

কিন্তু এ কী! আমি চোখ মুদতে-না মুদতে, তিনি যে একেবারে ঘর কাঁপিয়ে হেসে উঠলেন!

সে হাসির পরিচয় আমি জানি, আমি জানি!... আমার দিকে তাকালে আর সবাই যে হাসি হাসে, আজ এঁর গলাতেও আমি যে ঠিক সেই হাসিই শুনছি! চমকে চোখ চেয়ে আমি দু-পা পিছিয়ে এলুম। থেমে থেমে বললুম, 'আপনি হাসচেন যে!'

অনেক চেষ্টায় হাসি থামিয়ে তিনি বললেন, 'উঃ, এ যে হেসে মরে যাবার গতিক! তুমি যখন চোখ বুজে কেমন একরকম মুখ করেছিলে, বাপ, তখন তোমাকে দেখলে মড়াও যে হেসে উঠত!'

আমি কর্কশস্বরে বললুম, 'কী বলচেন?'

'কামিনী, সত্যি বলচি, তোমার মুখের জোড়া মেলা ভার! তোমাকে যদি দু-দিন শিখিয়ে-টিখিয়ে থিয়েটারে নামাই, তাহলে তোমার চেয়ে ভালো হাসির অভিনয় আর কেউ করতে পারবে না। লোকে চেষ্টা করে, বিতিকিচ্ছি মুখভঙ্গি করে লোক হাসায়; তোমাকে কিন্তু সেসব কিছু করতে হবে না! ভগবান তোমাকে এমনি আশ্চর্য মুখ দিয়েছেন যে, আমার মতো গম্ভীর লোকও তোমাকে দেখে না হেসে থাকতে পারলে না।'

আমি ঠোঁট কামড়ে অধীরস্বরে বললুম, 'কে আপনি?'

'আমি ''ভেনাস'' থিয়েটারের ম্যানেজার।'

'কী চান এখানে?'

'তুমি আমার থিয়েটারে অভিনয় করবে? দু-চার দিন শিখলেই তুমি হাস্যরসের খুব ভালো অভিনেত্রী হতে পারবে। তোমার ওই মজার মুখ দেখেই আমি সেটা বুঝে নিয়েছি! তাতে তোমার-আমার দুজনেরই লাভ।'

আমি চেঁচিয়ে বলে উঠলুম, 'না না! চলে যান আপনি! যান,— যান বলছি!'

অত্যন্ত আশ্চর্য ও হতভম্ব হয়ে লোকটা ঘর থেকে সুড়সুড় করে বেরিয়ে গেল।...

একটা সুদীর্ঘ নিশ্বাসের মতো দক্ষিণ বাতাস আমার ঘরে ঢুকে ফুলের মালাগুলোকে দোলা দিয়ে গেল।

মালাগুলো ছুড়ে রাস্তায় ফেলে দিয়ে, জানলা বন্ধ করে আমি আলো নিবিয়ে দিলুম।... ওরে আমার পোড়ার মুখ, এ অন্ধকারে তোকে আর কেউ দেখতে পাবে না রে, কেউ দেখতে পাবে না!

ভারতী, চৈত্র ১৩২৩ (মার্চ ১৯১৭)

সকল অধ্যায়

নোট নিতে এবং টেক্সট হাইলাইট করতে লগইন করুন

লগইন
০%