হেমেন্দ্রকুমার রায়
সক্কালবেলায় প্রাতঃস্নান করে, দুর্গাকালী কুটনো কুটতে যাচ্ছে, এমন সময়ে ঘরের ভেতর থেকে ভামিনী চেঁচিয়ে ডাক দিলেন, 'দুগগাকালী, অ দুগগাকালী!'
'ঘুম না ভাঙতেই চেঁচানি শুরু!' এই বলে দুর্গাকালী ঘরের ভেতর গিয়ে ঢুকল।
ভামিনী বললেন, 'গিন্নি, মস্ত এক সুস্বপ্ন দেখেচি। ভোরের স্বপন তো সত্যি হয়?'
দুর্গাকালী বললে, 'সুস্বপ্ন! কী সুস্বপ্ন?'
ভামিনী বললেন, 'দেখলুম, আমি ঘোড়দৌড়ের মাঠে দাঁড়িয়ে রয়েচি। অনেকগুলো ঘোড়া দৌড়োচ্চে। দৌড় থামলে দেখলুম, আমি যে ঘোড়ার ওপরে বাজি ধরেচি সেই ঘোড়াই প্রথম হয়েচে।'
দুর্গাকালীর উৎসাহ অল্পে অল্পে জেগে উঠছিল। সে ভামিনীর সামনে এসে দুই থাবা পেতে বসে আগ্রহভরে বললে, 'তারপর?'
ভামিনী বললেন, 'তারপর শুনলুম, আমি পনেরো হাজার টাকার বাজি জিতেচি।'
দুর্গাকালী রুদ্ধশ্বাসে জিজ্ঞাসা করলে, 'টাকাটা পেলে তো?
ভামিনী একটু দুঃখিতভাবে মাথা নেড়ে বললেন, 'হাতে পাবার আগেই আহ্লাদে আমার ঘুম ভেঙে গেল।'
দুর্গাকালী মুখভার করে বললে, 'তা আমি আগেই এঁচে নিয়েচি। জেগে জেগেই যে মানুষ সব কাজ পণ্ড করে, স্বপ্নেও সে বোকামি তো করবেই! আচ্ছা, তবু এমন স্বপনটা যখন দেখলে, তখন একটা কাজই করো-না কেন! আজ তো আপিসের সায়েব মরেচে বলে তোমার ছুটি?'
'হুঁ।'
'আজ ঘোড়দৌড় আছে তো?'
'আজ শনিবার, আছে বই কী!'
'তবে কপাল ঠুকে ''রেস'' খেলে এসো। ঘোড়দৌড়ের দিনেই ভোরবেলায় যখন সুস্বপন দেখেচ, তখন চাই কী ফলে যেতেও পারে।'
ভামিনী সন্দেহের সঙ্গে মাথা নাড়তে নাড়তে একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে বললেন, 'এমন আলটপকা টাকা পাওয়া কি আর আমার অদৃষ্টে ঘটবে! গিন্নি, কত লোকে কত পায়, আমি কিন্তু আজ পর্যন্ত পথ থেকে কোনোদিন একটা ডবল পয়সাও কুড়িয়ে পেলুম না। আমাকে বলচ রেস খেলতে?— হায় রে!'
দুর্গাকালী বললে, 'ওই তো! ওই রোগেই তো ঘোড়া মরেচে! অদৃষ্ট কখন কার ওপরে প্রসন্ন হয়, তা কে বলতে পারে? মনে নেই এটা মাঘ মাস, আর তোমার কর্কটরাশ? শাস্ত্রে লিখেচে, মাঘ মাসে কর্কটের অর্থলাভ হয়।'
ভামিনী কিছুমাত্র উৎসাহিত না হয়ে বললেন, 'হুঁ, তা জানি বটে। কিন্তু কলিকালে কি শাস্ত্রবাক্য ফলে?'
দুর্গাকালী বললে, 'এখনও চন্দর-সূর্য উঠচে, শাস্ত্র আর ফলবে না?—লক্ষ্মীটি, আমার কথা শোনো, আজ ঘোড়দৌড়ে যাও, নিশ্চয় তুমি বাজি জিতবে!'
হঠাৎ ভামিনী আঁতকে উঠে খাট থেকে তড়াক করে লাফিয়ে পড়লেন।
'ও কী! ও আবার কী হল?'
'টিকটিকি, টিকটিকি! গায়ের ওপরে টিকটিকি পড়েচে—রাম, রাম!'
'টিকটিকি পড়েচে? রোসো,— কোনদিকে গো,— ডানদিকে না বাঁদিকে?'
কোঁচা দিয়ে গা ঝাড়তে ঝাড়তে ভামিনী ঘৃণাভরে বললেন, 'বাঁদিকে!'
দুর্গাকালী ভারী খুশি হয়ে বলে উঠল, 'বাঁদিকে পড়েচে, বলো কী গো! বাঁদিকে টিকটিকি পড়লে লাভ হয় গো, লাভ হয়! হে বাবা সত্যনারায়ণ! মুখ তুলে চাও বাবা, তোমার দোরে এক টাকার শিন্নি চড়াব!'
এতক্ষণে ভামিনীরও একটু একটু বিশ্বাস হল। তিনি তাড়াতাড়ি পাঁজি খুলে দেখলেন, তার উপর আজ আবার ত্র্যমৃতযোগ। তাঁর আর কোনো সন্দেহ রইল না, নিজের সৌভাগ্য সম্বন্ধে একেবারে নিশ্চিন্ত হয়ে তিনি বললেন, 'আজ আমার পোয়াবারো দুগগা, আজ আমার পোয়াবারো! এই দেখো, আজ ত্র্যমৃতযোগ! পাঁজিতে লেখা রয়েচে, ''এই যোগ যাত্রাদিতে শ্রেষ্ঠ ও অভিমত ফলপ্রদান করে।'' তুমি তাড়াতাড়ি রান্নাবান্না শুরু করে দাও, আজ যা থাকে কপালে— একবার ''রেস'' খেলেই দেখা যাক!'
দুর্গাকালী বললে, 'কিন্তু আমিও তোমার সঙ্গে যাব।'
ভামিনী আশ্চর্য হয়ে বললেন, 'তুমি? তুমি যাবে কী বলো?'
দুর্গাকালী বললে, 'কী জানো, তোমাকে একলা ছেড়ে দিতে আমার ভরসা হয় না। শেষটা হাতে লক্ষ্মী পেয়েও হয়তো পায়ে ঠেলবে!'
ভামিনী বললেন, 'না, না, তোমার আর গিয়ে কাজ নেই। জানো না, শাস্ত্রে আছে ''পথে নারী বিবর্জিতা''?'
'শাস্ত্র'-এর এই বচনটা দুর্গাকালীর কোনোদিনই ভালো লাগত না। কিন্তু আজ ভালো না লাগলেও এই 'শাস্ত্রবাক্য'টা অবহেলা করতে তারও ভরসা হল না। কাজেই সে বললে, 'বেশ, আমি না হয় বাড়িতেই থাকব। কিন্তু টাকা যদি পাও, খুব সাবধানে এনো।'
ভামিনী বললেন, 'তা আর বলতে। একেবারে পেট-কাপড়ে বেঁধে আনব।'
দুর্গাকালী তাড়াতাড়ি বলে উঠল, 'না, না, তোমার কাপড়ের কষি বড়ো একটুতেই আলগা হয়ে যায়।'
'তবে বুকপকেটে।'
'সেই ভালো। কিন্তু দেখো, শেষটা পকেট যেন কাটা না যায়!' এই বলে দুর্গাকালী হাত দুলিয়ে তাড়াতাড়ি রান্নার আয়োজন করতে চলে গেল।
খাওয়াদাওয়া শেষ হলে ভামিনী চটপট কাপড়চোপড় পরে নিলেন।
দুর্গাকালী বললে, 'নাও, কুলুঙ্গিতে সিদ্ধিদাতা গণেশ আছেন, ওঁকে আগে প্রণাম করে নাও।'
ভামিনী কথামতো কাজ করলেন। এত ভক্তিভরে গণেশকে তিনি আর কখনো প্রণাম করেননি।
দরজার কাছে একটি জলভরা কলসি রেখে দুর্গাকালী বললে, 'এইবার এই কলসির দিকে তাকিয়ে ইষ্টিদেবতার নাম করতে করতে সোজা বেরিয়ে পড়ো।'
ভামিনীর স্ত্রী-র উপদেশ অক্ষরে অক্ষরে পালন করে বেরুতে যাচ্ছেন, এমন সময়ে পথ থেকে কে ডাকলে, 'ভামিনীবাবু বাড়িতে আছেন?'
দুর্গাকালী দৌড়ে গিয়ে, জানলা দিয়ে মুখ বাড়িয়ে দেখে এসে বললে, 'কে একটা মাকুন্দ লোক ডাকচে!'
ভামিনী বললেন, 'গলা শুনে মনে হচ্ছে নন্দ ঘোষ।'
দুর্গাকালী বললেন, 'খবরদার, ওর সঙ্গে দেখাও কোরো না, সাড়াও দিয়ো না! ও আগে চলে যাক, তারপর তুমি বেরিয়ো।'
'কেন?'
'কেন আবার—অযাত্রা! জানো না, খনার বচনে আছে—
''যদি দেখো মাকুন্দ চোপা
এক-পা-ও না বাড়াও বাপা।''
হতভাগা মিনসে, ডাকবার আর সময় পেলেন না, আর-একটু হলেই তো তোমার সঙ্গে চোখাচোখি হয়ে যেত!'
এই মূর্তিমান অযাত্রাটি ডেকে ডেকে গলা ভেঙে যখন হতাশ হয়ে চলে গেল এবং দুর্গাকালী যখন 'লাইন ক্লিয়ার' আছে কি না দেখবার জন্যে জানলা দিয়ে আর- একবার উঁকি মেরে ভরসা দিলে, ভামিনী তখন তাম্বূলারক্ত নিশ্চিন্ত মুখে বাড়ি ছেড়ে বেরিয়ে পড়লেন।
তাঁর বাসা থেকে ট্রামের রাস্তা ছিল খানিক তফাতে। গরমও পড়েচে চরম, ভামিনীর স্থূল বপুখানির স্বাভাবিক উত্তাপও যথেষ্ট;—কাজেই ছাতার আড়ালে আত্মরক্ষা করেও অল্পক্ষণের মধ্যেই তিনি গলদঘর্ম হয়ে উঠলেন।
এর উপরে আর-এক বিপদ! ঘোড়দৌড়ের উত্তেজনায় ভামিনী একটু অন্যমনস্ক হয়েও পথ চলছিলেন,— আচম্বিতে তাঁর কানের কাছেই ভোঁ করে একটা ভয়ানক পরিচিত ভেঁপু বেজে উঠল— ভামিনী চমকে বুঝলেন, তাঁর ঘাড়ের উপরেই মোটরগাড়ি! পাশেই ছিল একটা কানায় কানায় ময়লাভরা 'ডাস্টবিন'—দিগবিদিক জ্ঞানহারা হয়ে ভামিনী তার ভিতরেই হুমড়ি খেয়ে মুখ থুবড়ে পড়ে গেলেন।
কিন্তু যে ভেঁপু বাজিয়েছিল সে মোটরগাড়ি নয়—একখানা সাইকেল মাত্র!
'ডাস্টবিন'-এর জঞ্জাল সর্বাঙ্গে মেখে এবং দুর্গন্ধে ওয়াক থু করতে করতে ভামিনী কোনোরকমে বাইরে বেরিয়ে এসে দেখলেন, এর মধ্যেই সেখানে বেশ একটি ছোটোখাটো জনতার সৃষ্টি হয়েছে, আর সেই জনতার ভিতরে তাঁর পরিচিত বন্ধু গঙ্গারাম হাতিও কোথা থেকে এসে যোগদান করেছেন।
গঙ্গারাম তো ভামিনীর অবস্থা দেখে হেসেই খুন!
ভামিনী বলে চললেন, 'আপনি কী মনে করচেন গঙ্গারামবাবু, যে আপনার হাসি এখন আমার বড্ড ভালো লাগচে?'
গঙ্গারাম অপ্রস্তুত হয়ে বললেন, 'মাপ করবেন ভামিনীবাবু, হাসিটা আমার অজান্তে মুখ ফসকে বেরিয়ে পড়েচে! কিন্তু আপনি কলকাতার ছেলে, সামান্য একখানা সাইকেল দেখেই ভড়কে ময়লার কুপোর ভেতরে গিয়ে পড়েছিলেন কেন?'
ভামিনী নাকের ঠিক ডগা থেকে অত্যন্ত দুর্গন্ধ কী একটা বিশ্রী জিনিস মুছে ফেলে বললেন, 'কুপোর ভেতরে গিয়ে পড়েছিলুম স্বচক্ষে সরষে ফুল দেখবার জন্যে। কেমন, আপনার কৌতূহল মিটল তো? আপাতত আপনারা পথ ছেড়ে দয়া করে বিদায় হলে আমি দুঃখিত হব না। আপনাদের বোঝা উচিত, আমি সং নই।'
গঙ্গারাম বললেন, 'ভামিনীবাবু, সামনেই আমার শ্বশুরবাড়ি, আসুন, স্নান করে জামাকাপড় বদলে ফেলবেন।'
উপায়ান্তর না দেখে ভামিনী ম্লানমুখে আস্তে আস্তে গঙ্গারামের পিছনে পিছনেই চললেন। স্নান করে পরিষ্কার হলে পর গঙ্গারাম তাঁকে একটি কোট, একখানি কাপড় আর একখানি চাদর পরতে দিলেন। গঙ্গারামকে অনেক ধন্যবাদ দিয়ে ভামিনী আবার ঘোড়দৌড়ের মাঠের উদ্দেশে ছুটলেন। কিন্তু পথে এই বাধা পড়াতে তাঁর মনটা ভারী দমে গেল।
***
আজ আর দুর্গাকালীর অন্য চিন্তা নেই। এমনকী আজ দুপুরে পাড়া বেড়াতে যেতেও তার মন উঠল না।
সারাদিন নানান দেবতাকে সে ষোড়শোপচারে পুজো দেব বলে বারংবার প্রলুব্ধ করেছে এবং ঘন ঘন জানলার কাছে গিয়ে দেখেছে যে, ভামিনীভূষণ হাসিমুখে ফিরে আসছেন কি না!
বলা বাহুল্য, টাকাটা হাতে এলেই একখানা ভালো মাদ্রাজি শাড়ি, একটা হালফ্যাশনের ব্লাউজ, আর একছড়া মটরমালার জন্যে স্বামীর কাছে মনের বাসনা প্রকাশ করবে, সেটাও সে ইতিমধ্যেই স্থির করে ফেলেছে।
এদিকে বেলা পড়ে এল। ভামিনী তবু ফেরেন না কেন? তবে কি ভোরের স্বপন, মাঘ মাস কর্কটরাশ, বাম অঙ্গে টিকটিকির পতন আর ত্র্যমৃতযোগ, সমস্তই মিথ্যে হয়ে গেল, না গাঁটকাটা কি গুন্ডা এসে পথের মাঝেই টাকাগুলো হাতিয়ে নিয়ে সরে পড়ল?
দুর্গাকালীর উদবেগ যখন মাত্রা ছাড়াই ছাড়াই করছে, তখন হঠাৎ নীচে থেকে ভামিনীর গলা পাওয়া গেল— 'গিন্নি, গিন্নি!'
দুর্গাকালী হুড়মুড় করে ছুটে বাইরে বেরিয়ে গেল, আবেগে তার মুখ দিয়ে আর কথা ফুটল না।
ভামিনী বাড়ি কাঁপিয়ে চেঁচিয়ে বললেন, 'দুগগা, কিস্তিমাত!' বলেই তিনি সামনের দিকে প্রাণপণে দু-হাত বাড়িয়ে দিলেন, দুর্গাকালীও তার ভিতরে গিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়ে ভামিনীর বুকের উপরে মুখ রেখে চোখ মুদে চুপ করে রইল।
আনন্দের প্রথম ধাক্কাটা কেটে গেল। দুর্গাকালী মুখ তুলে প্রথমেই জিজ্ঞাসা করলে, 'কত টাকা জিতলে গা?— পনেরো হাজার তো?'
ভামিনী বললেন, 'হ্যাঁ, তুমিও যেমন, স্বপ্নে পনেরো হাজার টাকা পেয়েচি বলে সত্যি সত্যিও তা-ই কি কখনো পাওয়া যায়? অত টাকা পাইনি। তবে যা পেয়েচি, তাও বড়ো কম নয়— দু-হাজার তিনশো!'
দুর্গাকালী আগ্রহভরে হাত বাড়িয়ে বললে, 'কই, দেখি, দেখি!'
'এই যে, নোটগুলো কোটের ভেতরদিককার পকেটে পুরে রেখেচি!'— ভামিনী কোটটা টপ করে খুলে ফেলে তার ভিতরের পকেটে হাত চালিয়ে দিলেন।
সঙ্গে সঙ্গে তাঁর চোখ আর মুখ যেন কেমনতরো হয়ে গেল!
দুর্গাকালী ভয় পেয়ে বললে, 'কী গো, টাকা কোথায়?'
ভামিনী অস্ফুটস্বরে নিজের মনেই বলে চললেন, 'না, না, তাও কি হয়, ভেতরের পকেট থেকে তো টাকা আর চুরি যেতে পারে না!' তিনি আবার ভালো করে পকেটের ভিতরে বাগিয়ে হস্তচালনা করলেন। এবারে তাঁর হাত পকেটের মুখ দিয়ে ঢুকে, নিতান্ত অনায়াসে তলা দিয়ে ফুড়ুত করে বেরিয়ে পড়ল।
দুর্গাকালী কাঁদো কাঁদো হয়ে বললে, 'টাকা কই গো?'
ভামিনী স্তম্ভিত নেত্রে গঙ্গারামের দেওয়া জামার সেই ছিন্ন পকেটের দিকে তাকিয়ে, হাঁ করে পাথরের মূর্তির মতন দাঁড়িয়ে গেলেন।
দুর্গাকালী বললে, 'তবে বুঝি এতক্ষণ চালাকি হচ্ছিল, টাকা-ফাকা কিছুই পাওনি?'
বরাবরের মতো ভামিনী এবারেও নিজের বোকামি ঢাকবার জন্যে কাষ্ঠহাসি হেসে বললেন, 'প্রিয়ে, স্বপন যদি সত্যি হত, তবে দুনিয়ায় আজ কি কেউ আর ফকির থাকত? আর টাকা কি এত সহজে পাওয়া যায়? এতক্ষণ আমি তোমাকে নিয়ে একটু মশকরা করছিলুম!'
কিন্তু ভামিনী মনে মনে এটা বিলক্ষণই বুঝলেন যে, আজ তাঁর জীবনে স্বপ্নও সত্যি হয়েছে, টাকাও তিনি খুব সহজেই পেয়েছেন, আর সে টাকা চোর-ডাকাতেও কেড়ে নেয়নি, কিন্তু কে জানত, ইস্টুপিড গঙ্গারামের জামার পকেট এমন ভয়ানক ছেঁড়া? ওই ছিদ্রপথেই তো তাঁর সদ্যহস্তগত দুর্লভ 'সৌভাগ্য' আবার পলায়ন করেছে!
ভামিনী জামাটা টান মেরে একদিকে ছুড়ে ফেলে দিয়ে এই ভাবতে ভাবতে চলে গেলেন,—জীবনে যে একটা ডবল পয়সাও কুড়িয়ে পায়নি, তার পক্ষে 'রেস' খেলতে যাওয়ার চেয়ে পাগলামি আর কী আছে?
বলা বাহুল্য, দুর্গাকালী সেরাত্রে উনুনে আর আগুন দিলে না।
ভারতী, আষাঢ় ১৩২৮ (জুন ১৯২১)
নোট নিতে এবং টেক্সট হাইলাইট করতে লগইন করুন
লগইনএই বইয়ে প্রাপ্তবয়স্কদের উপযোগী বিষয়বস্তু রয়েছে।
পড়া চালিয়ে যেতে নিশ্চিত করুন যে আপনার বয়স ১৮ বছর বা তার বেশি।