ষট্ত্রিংশ অধ্যায়

শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়

ছত্রিশ

অনিমা দাশগুপ্ত নামে সেই মেয়েটি খুব আশ্চর্য হল যেদিন সঞ্জয় ওকে নাম ধরে ডাকল।

কী করে জানলেন?

সঞ্জয় গম্ভীরভাবে বলল, শুধু নাম! আমি আপনার ভক্তদের সংখ্যা পর্যন্ত জানি।

মেয়েটা একটু হাসে, তারপর ফ্যাল ফ্যাল করে চেয়ে থাকে। সঞ্জয়ের কামানো মাথার দিকে চেয়ে হঠাৎ বলে, আপনার মায়ের কী হয়েছিল?

বয়েস। একটু বিষণ্ণভাবে নিজের কথা চিন্তা করে সঞ্জয়। বলে, আমাদেরও হচ্ছে। জীবনের শ্রেষ্ঠ সময় কেটে যাচ্ছে।

অনিমা এখনও রিনি আর পিকলুর কথা জানে না। আরও সময় দরকার। এখনই বলা যায় না। অনিমা কিন্তু ঘুরেফিরেই জিজ্ঞেস করে তার বাড়িতে কে আছে। সঞ্জয় এড়িয়ে যায়।

সঞ্জয় জানে অনিমার যারা ভক্ত তাদের কারও গাড়ি নেই। একটা গাড়ির যে কত উপযোগ! এই গরিব ভিখিরির দেশে একটা গাড়ি দেখিয়ে কত কিছু করা যায়!

আজ আর সোজা বাড়ি ফেরা হয় না। অফিস থেকে বেরিয়ে গাড়ি নিয়ে চলে যায় ডালহৌসিতে। ম্যককারিয়নের অদূরে গলির মধ্যে গাড়ি দাঁড় করিয়ে সিগারেট খায়। একটুক্ষণের মধ্যেই অনিমা চলে আসে। তরপর অনেকক্ষণ নানা রাস্তায় তাদের গাড়ি ঘুরে বেড়ায়।

বাসায় নতুন ফোন ফিট করে দিয়ে গেছে মিস্তিরিরা। ফোন আসার কয়েক দিন পরেই এক রাত্রে বাসায় ফিরে দেখল রিনি খুব অসহায় ভঙ্গিতে বসে আছে সুন্দর মুখখানা শুকনো। কী হয়েছে তা প্রথমে বলল না।

যখন রাতে বাইরের গ্রিল দেওয়া বারান্দায় হুইস্কি নিয়ে রোজকার মতো বসেছে সঞ্জয়, তখন নিঃশব্দে ছায়ার মতো সামনে এসে দাড়াল রিনি।

আজকে একটা অদ্ভুত ফোন এসেছিল।

কে করেছিল?

চিনি না। মোটা গলার একজন পুরুষমানুষ। বলল, আপনাকে একটা খবর জানানো দরকার। আপনার স্বামীর একটু খোজখবর নেবেন। সম্প্রতি উনি—

রিনি থেমে গেল। সঞ্জয় চেয়ে ছিল রিনির দিকে। মেয়েটা বড় নরম। সারা দিন কেঁদেছে হয়তো, এখনও কথা বলার সময়ে ঠোঁট কাঁপছে একটু একটু। রিনির তেজ বলে কিছু নেই। মুশকিলে পড়লেই কেমন অসহায় হয়ে পড়ে। সঞ্জয় ধমক-টমক দিলে উলটে ঝগড়া করতে পারে না, কেঁদে ভাসায়। দুর্বল মেয়ে। কথাটা ঠিক মতো স্পষ্টভাবে বলতে পারছে না। ভয় পাচ্ছে। বললেই দু’জনের মধ্যে সম্পর্কটা স্পষ্ট হয়ে যাবে।

সঞ্জয় চুপ করে থাকে। ফোনটা কে করেছে তা খানিকটা আন্দাজ করে নেয়। শুভময় ঘোষাল নামে ছেলেটা ইঞ্জিনিয়ার। অনিমার ভক্তদের মধ্যে সেই সবচেয়ে উজ্জ্বল। ইঞ্জিনিয়ার কিন্তু রবীন্দ্রসংগীত গাইতে পারে। তার প্রতি একটু দুর্বলতা আছে অনিমার।

প্যান্টের হিপ পকেট সাতশোর মতো টাকা ছিল। এটা এক দিনের রোজগার। সঞ্জয় হঠাৎ উঠে গিয়ে ওয়ার্ডরোব খুলে পকেট থেকে টাকার থোকাটা বের করল। রিনির হাতে দিয়ে বলল, এটা রেখে দাও।

রিনি আড়ষ্টভাবে টাকাটা হাতে নিয়ে সঞ্জয়ের দিকে চেয়ে থাকে। বুঝতে পারে না হঠাৎ এ সময়ে, জরুরি কথার মাঝখানে, সঞ্জয়ের হঠাৎ টাকাটার কথা মনে পড়ল কেন!

রিনির সাদা মুখখানার দিকে চেয়ে হঠাৎ বড় লজ্জা পায় সঞ্জয়।

রিনি বলল, লোকটা বলছিল তুমি নাকি অনিমা নামে একজন মেয়ের সঙ্গে ঘুরে বেড়াও!

রাস্তায় রাস্তায় এখন খুব ভিড়। পুজোর বাজার। দোকানের শো-কেসে সাজানো পুতুল-মেয়ের মুখ চোখে চোখ রেখে হাসে। সুন্দর সব শাড়ির রং রাস্তা আলো করে দেয়। তাদের গায়ে লটকানো ভয়ংকর দাম লেখা টিকিট। স্কুলের পর দোকান দেখতে দেখতে ললিত অনেক দূর হাঁটে। ইচ্ছে করে দোকানে ঢুকে অনেক কিছু সওদা করে নিয়ে যায়। অনেক দিন পর এবার মায়ের জন্য একটা সাদা থান কাপড় কিনেছে সে, তারপর আর কারও জন্যই কিছুই কেনার নেই। তবু দোকানের দিকে চেয়ে পথ হাঁটে ললিত, মানুষের কেনাকাটা দেখে। কখনও ফুটপাথের দোকানে চওড়া পাড় আর সুন্দর নকশার শাড়ি দেখে দাঁড়িয়ে যায়। দাম জিজ্ঞেস করে, শাড়ির গায়ে হাত বুলিয়ে বলে, কত?

দোকানদার সাগ্রহে বলে, পঁয়ত্রিশ। নিন, কিছু কমে দেব।

ললিত মাথা নেড়ে বলে, থাক।

আশ্চর্যের বিষয় আজকাল রাস্তায় মেয়েরা তার দিকে তাকায়। আগে প্রায়ই মেয়েরা তাকে তুচ্ছতাচ্ছিল্য করেছে। কিন্তু এখন ললিতের চোখ মাঝে-মধ্যে অচেনা পথ-চলতি মেয়ের চোখে আটকে যায়। মেয়েটা চোখ সরায় না, তাকে দেখে, পেরিয়ে গিয়েও এক-আধবার ঘাড় ফেরায়।

দোকানের আয়নায় নিজের মুখখানা মাঝে মাঝে দেখে ললিত। সুন্দর মুখ। অসুস্থতার কোনও ছাপ নেই। মা বলে ছেলেবেলায় তার রং ছিল দেখবার মতো, রোদে পুড়ে আর ঘুরে ঘুরে সে-রং নষ্ট হয়ে গিয়েছিল। ললিত এখন ভাবে, বোধ হয় সেই শিশু বয়সের গায়ের রং আবার ফিরে এসেছে তার।

বোধ হয় মৃত্যুর আগে মানুষের কয়েকটা সুদিন আসে। সে ক’দিনে তাকে ভোগ করে নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়। একদিন স্কুল থেকে ফিরে সে ঘরে শুয়ে আছে বিছানায়, এমন সময়ে ‘মাসিমা, ও মাসিমা’ বলে ডেকে খোলা দরজা দিয়ে পালের নৌকোর মতো ভেসে ঘরে এল একটি মেয়ে। সাবলীল লম্বা মেয়েটি, পরনে তাঁতের রঙিন শাড়ি। বাঁ কোলে একটি বাচ্চা। প্রথমে ললিত চেনেনি, মা’ও না। দু’জনেই একটু অবাক হয়ে চেয়ে ছিল। মেয়েটি কোলের বাচ্চাটিকে মেঝেয় দাঁড় করিয়ে মাকে প্রণাম করে উঠে দাঁড়াতেই অহংকারের সেই পুরনো ভঙ্গিটি, ঘাড় পিছনে হেলানোর মিষ্টি মুদ্রাদোষটি দেখে চিনতে পারল ললিত। মিতু। স্বেচ্ছায় মিতু কখনও এ-বাসায় আসেনি। এই প্রথম তার স্বেচ্ছায় আসা। এখন তার সিঁথিতে সিঁদুর, কোলে বোধ হয় দ্বিতীয় কিংবা তৃতীয় সন্তান।

হাসিমুখে বলল, আমি মিতু।

মা গলায় ঘরঘর শব্দ করে বলল, অ। বোসো। কবে এলে?

কাল এসেছি। বম্বে তো অনেক দূর। আসাই হয় না। চার বছর পর এলাম। পুজোর পরই শ্বশুরবাড়ি যাব ব্যারাকপুরে।

শোয়া থেকে আস্তে আস্তে উঠে বসল ললিত। এখন আগের চেয়েও সুন্দর হয়েছে মিতু। মসৃণ গা, সতেজ শরীর। দেখলেই বোঝা যায় বড়লোকের ঘর করে। ললিত একবার-দু’বারের বেশি তাকাতেই পারল না। ভীষণ লজ্জা করছিল। কেন এসেছে মিতু!

মা রান্নাঘরে গেল, মিতু গেল পিছু পিছু। ললিত একবার ভাবল ঘর ছেড়ে বেরিয়ে যায়, যাতে মিতুর সঙ্গে দেখা না হয় আর। উঠে সে জামা গায়ে দিল, দরজার কাছে দাঁড়িয়ে একটু ইতস্তত করল। হঠাৎ মনটা বড় ভাল লাগছিল তার। মিতু আসাতে বহুদিনের পুরনো একখানা কাঁটা সরে গেছে। শেষবার এ-বাড়িতে যখন এসেছিল মিতু তখন মায়ের ওপর রাগ করে কেঁদেকেটে মাকে অপমান করে চলে গিয়েছিল। ভেবেছিল মা তাকে ভুলিয়ে ভালিয়ে ললিতের সঙ্গে বিয়ে করাতে চায়। সেই লজ্জায় এত দিন কাঁটা হয়ে ছিল ললিত। মিতু নিজে থেকেই এসেছে বলে বড় ভাল লাগছিল ললিতের। জীবনের শেষ কয়েকটি দিন ভরে যাচ্ছে কানায় কানায়। হয়তো মরার সময়ে সে ভরা মন নিয়ে যাবে। কোনও দুঃখ থাকবে না। পৃথিবীর কাছে সব দাবিদাওয়া শেষ হয়ে গেলে মরা কত সহজ হয়ে যায়!

দরজার কাছ থেকে আবার ফিরে এসে চৌকিতে বসল ললিত। সিগারেট ধরাল। শুনতে পেল উঠোনের ও-পাশের রান্নাঘরে মা আর মিতুর গলা, পরস্পর কথা বলছে। ললিত কান পেতে শোনবার চেষ্টা করছিল।

তখন ঘরটা অন্ধকার হয়ে এসেছে। সন্ধের সামান্য একটু মরা আলোয় ছায়ার মতো একা, একটু কুঁজো হয়ে বসে আছে ললিত। এ সময়ে উঠোন পার হয়ে চলে যাওয়ার জন্য ঘরের মধ্যে এল মিতু। ললিত মুখ না তুলেও বুঝতে পারছিল মিতু চলে যাচ্ছে। জীবনে কোনও দিন মিতুর সঙ্গে তার কোনও কথা হয়নি। আজও হবে না কি? হে ভগবান…

মিতু দরজার মুখ থেকে আস্তে ঘুরে দাড়াল। কোলের বাচ্চাটা কাঁধে মাথা রেখে ঘুমিয়ে আছে। আবছা অন্ধকারে মিতুর সুন্দর, অহংকারী মুখখানা বিষণ্ণ দেখল আজ। মৃদু গলায় হঠাৎ মিতু সোজা তার সঙ্গে কথা বলল, এখন কেমন আছেন?

কেমন হঠাৎ কাঠ-আড়ষ্ট হয়ে গেল হাত-পা, গলা বুজে আসছিল। ললিত আস্তে বলল, ভালই।

মিতু এক পাও কাছে এল না, কিন্তু গলার স্বর অনেকটা নিকটজনের মতো শোনাল। বলল, কী হয়েছে!

ললিতের ইচ্ছে ছিল না রোগের নামটা বলে। কী হবে মেয়েটার মন খারাপ করে দিয়ে। পরমুহূর্তেই ইচ্ছেটা পালটে গেল আবার। কেন মিতু চিরকাল সুখী থাকবে? দেখি না ক্যান্সার শুনে ওর মুখটা কেমন পালটে যায়!

ললিত মৃদু গলায় বলে, ক্যান্সার।

প্রথমটায় বুঝতেই পারল না মিতু। বলল, কী!

ললিত আবার বলল!

মিতুর চুড়ি-পরা হাত হঠাৎ ঝনাৎ করে পড়ে যায়। নিশ্বাসের সঙ্গে মিতু বলে, যাঃ! মিথ্যে কথা।

এত আপনজনের মতো শোনায় মিতুর গলা যে, ফের কথাটা শুনতে ইচ্ছে করে।

সত্যিই। ললিত বলে।

কিন্তু আমি যে শুনলাম আপনি শিগগিরই বিয়ে করছেন।

ললিত অবাক হয়, কে বলল?

পাড়ায় সবাই বলছে। শাশ্বতী না কী যেন নাম মেয়েটির!

ললিত অন্ধকারেই মাথা নেড়ে বলে, না।

না?

মিতু একটু চুপ করে থাকে। তারপর আপনমনে বলে, আমি তো জানতাম মাসিমা বলছিলেন কলিক পেন।

মা জানে না।

মিতুর কোলের বাচ্চাটা নড়ে উঠে ‘অঃ’ শব্দ করল। মিতু চঞ্চল হয়ে বলে, ওকে মশা কামড়াচ্ছে, এবার যাই।

আচ্ছা।

মিতু একটু দ্বিধা করে বলে, অনেক দিন আছি। মাঝে মাঝে এসে দেখা করে যাব।

ললিত বলে, আচ্ছা।

চলেই যাচ্ছিল মিতু। যখন ঘরের দরজার বাইরে তার এক পা তখনই হঠাৎ ললিত জিজ্ঞেস করল, কেন এসেছিলেন?

মিতু থেমে যায়। তারপর মাথা নিচু করে প্রায় ফিসফিস করে বলে, জানি না।

গলিটাকে খুব নির্জন করে দিয়ে মিতু চলে গেল।

ললিত জানে যে তাকে সুখী করা ছাড়া মিতুর এই আসার কোনও দরকারই ছিল না। এইভাবেই শেষ কয়েকটা দিন সে সুখেই কাটাবে।

রাতে এক ডাকেই রমেন সাড়া দেয়। কেন এতক্ষণ না ঘুমিয়ে ললিতের ডাকটারই অপেক্ষায় ছিল। জেগে উঠে বসে রমেন। তার গায়ে হাত রেখে গভীর গলায় বলে, কী রে!

ললিত কী বলবে ভেবে পায় না। ভিতরটা অস্থির লাগে। সারা দিন সে জীবন্ত মানুষজনের ভিতরে ঘুরে বেড়িয়েছে, দেখেছে দোকান, মেয়েদের চোখ, দোকানে সাজানো ফল, বইয়ের মলাট, অচেনা মানুষের মুখ, রাস্তার মোড়ে বকুল গাছ— এইরকমই সব তুচ্ছ বিষয়গুলির জন্য হঠাৎ ব্যথিয়ে ওঠে বুক, দম বন্ধ হয়ে আসে। সামনের পুজোয় শরৎকালে সে এসব দৃশ্য হয়তো আর দেখবে না। এই ব্যক্ত জগৎ ছেড়ে সে কি কোনও অব্যক্ত জগতে চলে যাবে! না কি কোনও অস্তিত্বই আর থাকবে না তার? সে কি আবার জন্ম নেবে? না কি একবারই ললিত এসেছিল, আর আসবে না?

ললিত শ্বাস ফেলে বলে, রমেন, আমি আর বেশি দিন বাঁচব না রে, তুই দেখিস।

রমেন সান্ত্বনা দেয় না, উত্তরও দেয় না। কেবল চুপ করে জেগে বসে থাকে। অনেকক্ষণ ধরে ললিতের স্বাস কাঁপতে থাকে। তারপর কখন আস্তে আস্তে ঘুমিয়ে পড়ে সে।

সকল অধ্যায়
১.
প্রথম অধ্যায়
২.
দ্বিতীয় অধ্যায়
৩.
তৃতীয় অধ্যায়
৪.
চতুর্থ অধ্যায়
৫.
পঞ্চম অধ্যায়
৬.
ষষ্ঠ অধ্যায়
৭.
সপ্তম অধ্যায়
৮.
অষ্টম অধ্যায়
৯.
নবম অধ্যায়
১০.
দশম অধ্যায়
১১.
একাদশ অধ্যায়
১২.
দ্বাদশ অধ্যায়
১৩.
ত্রয়োদশ অধ্যায়
১৪.
চতুর্দশ অধ্যায়
১৫.
পঞ্চদশ অধ্যায়
১৬.
ষোড়শ অধ্যায়
১৭.
সপ্তদশ অধ্যায়
১৮.
অষ্টাদশ অধ্যায়
১৯.
ঊনবিংশ অধ্যায়
২০.
বিংশ অধ্যায়
২১.
একবিংশ অধ্যায়
২২.
দ্বাবিংশ অধ্যায়
২৩.
ত্রয়োবিংশ অধ্যায়
২৪.
চতুর্বিংশ অধ্যায়
২৫.
পঞ্চবিংশ অধ্যায়
২৬.
ষড়বিংশ অধ্যায়
২৭.
সপ্তবিংশ অধ্যায়
২৮.
অষ্টাবিংশ অধ্যায়
২৯.
ঊনত্রিংশ অধ্যায়
৩০.
ত্রিংশ অধ্যায়
৩১.
একত্রিংশ অধ্যায়
৩২.
দ্বাত্রিংশ অধ্যায়
৩৩.
ত্রয়োত্রিংশ অধ্যায়
৩৪.
চতুর্ত্রিংশ অধ্যায়
৩৫.
পঞ্চত্রিংশ অধ্যায়
৩৬.
ষট্ত্রিংশ অধ্যায়
৩৭.
সপ্তত্রিংশ অধ্যায়
৩৮.
অষ্টত্রিংশ অধ্যায়
৩৯.
ঊনচল্লিশ অধ্যায়
৪০.
চল্লিশ অধ্যায়
৪১.
একচল্লিশ অধ্যায়

নোট নিতে এবং টেক্সট হাইলাইট করতে লগইন করুন

লগইন
০%