চতুর্দশ অধ্যায়

শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়

চোদ্দো

অপরাহ্নে এক-একদিন উঠোনে একটা অদ্ভুত আলো এসে পড়ে। শালিখের পায়ের মতো হলুদ তার রং। পাঁচিলের ছায়া তুলসীমঞ্চ ছাড়িয়ে অর্ধেক উঠোন পর্যন্ত চলে যায়। পেয়ারা গাছে ফিরে আসে পাখির ঝাঁক। সেই অলৌকিক হলুদ আলো-আঁধারিতে মা কুঁজো হয়ে সড়সড় করে উঠোন ঝাঁট দেয়, বিড়বিড় করে কী যেন কথা বলে নিজের সঙ্গে।

দুপুরের ঘুম থেকে উঠে ললিত উঠোনের সিঁড়িতে বসে অলস দুর্বল শরীর আর ঝিম-ধরা মাথায় উঠোনের সেই অলৌকিক আলো দেখে বোকা-চোখে চেয়ে থাকে। মনে হয়— সে জেগেছে অন্য এক গ্রহের বিকেলে। এ সব চেনা পৃথিবীর দৃশ্য নয়।

ঝাঁট দেওয়া শেষ হলে মা ঘটি থেকে জলছড়া ছিটিয়ে দেয় সারা উঠোন। তুলসীতলায় প্রদীপ দেয়, শাঁখ বাজায়। ঠিক সেই সময়ে দূরে কোথাও বাচ্চা ছেলেদের খেলা ভাঙে, তাদের হাসি-চিৎকারের শব্দ ভেসে আসে। আর তখন, ললিতের চোখের সামনে স্বল্পস্থায়ী হলুদ আলোটি ক্রমে মুছে যায়। কোথা থেকে উঠোনে এসে পড়ে বিষন্ন সব ছায়া আর ছায়া। ভেজা মাটির গন্ধ মন্থর বাতাসে ভারী হয়ে ওঠে। ললিত দরজার কাঠে তার মাথা হেলিয়ে দেয়, হাঁটু মুড়ে বাচ্চা ছেলের মতো বসে থাকে। হয়তো তখন মা তাকে ডেকে বলে, ঘরে যা ললিত, এখন বড় হিম পড়ে। কিন্তু ললিত সে-কথা শুনতেই পায় না। কেননা তখন অপরাহ্ণের নিঃশেষ আলোয়, দীর্ঘ গাঢ় ছায়ার দিকে চেয়ে থেকে সে বহুবরের এক নিস্তব্ধতার কণ্ঠস্বর শোনে। তার সামনে ছোট্ট উঠোনটায় শব্দহীন ভাবে শেষ হয়ে যায় একটি দিন। দিন যায়। ললিতের দিন যায়। মহামূল্যবান এক-একটি দিন।

সন্ধ্যাবেলাতেই মায়ের রান্না শেষ হয়ে যায়। তখন মাঝে মাঝে মায়ে-পোয়ে লুডোর ছক ফেলে বসে। অদ্ভুত নিয়মে তাদের খেলা হয়। তারা কেউ কারও গুটি খায় না। যে আগে ঘরে পৌঁছয় তার জিত। এ তাদের নিজস্ব নিয়ম। কেউ বাধা দেয় না। তাদের ভুল ধরে না। তাই অদ্ভুত নিয়মে চলে খেলা।

কোনও দিন বা গলির সামনে পাড়ার রাস্তায় আস্তে আস্তে ঘুরে বেড়ায় ললিত। চেনা লোকের সঙ্গে দেখা হলে দু’দণ্ড কথা বলে। সত্যদাসের মুদির দোকানের সামনে বাঁশের খাটার বাবা বেঞ্চে গিয়ে কোনও-কোনওদিন বসে। রান্না করতে করতে গিন্নিদের মশলা ফুরোয়। তাই তখন পড়া ফেলে বাচ্চা ছেলে কি মেয়েটাই আসে মায়ের জন্য এক পোয় তেল কি দু’ আনার গরমমশলা নিতে। একটু সময় কাটিয়ে যায় ললিত। ছেলেবেলায় কত গেছে পড়া ফেলে মায়ের মশলা আনতে। সত্যদাসের দোকানে বাচ্চাদের ভিড় দেখে ললিত, সবাইকে চিনতে পারে না। মাঝে মাঝে সত্যদাসকে ডেকে বলে, ও মেয়েটা কে বলো তো!

ক্লাবের সামনে জটলা করে শম্ভু-সুবলরা। ললিত পারতপক্ষে সেদিকে যায় না। তাকে দেখলে ওরা এখনও সিগারেট লুকোয়। তাই সত্যদাসের দোকানে বসে রাস্তা দেখে ললিত। কখনও সেই রাস্তা ধরেই হা-ক্লান্ত, বিষণ্ণ, চিন্তিত মুখে কপালে ভাঁজ ফেলে তুলসীকে আসতে দেখা যায়। বড় খুশি হয়ে ওঠে ললিত। সারা দিন সে মানুষের জন্য অপেক্ষা করে। যে-কোনও মানুষ আসুক তার কাছে। তুলসীর সঙ্গে কিন্তু আড্ডা জমে না। তুলসী গিয়ে রাজ্যের গল্প ফেঁদে বসে মায়ের সঙ্গে। বুড়োদের মতো সংসারী কথা বলে।

বাবার বাৎসরিক কাজের দিন ঠিক করতে এক দিন এসেছিলেন মাধব চক্রবর্তী। ললিতকে ডেকে বললেন, পৈতেখানা ফেলে দিয়েছিস, তোরা কী রে?

পৈতেটা ঠিক ফেলে দেয়নি ললিত। কবে যেন বহুকাল আগে পুরনো হয়ে ছিড়ে গিয়েছিল পৈতে, সেটা ছেড়ে ফেলেছিল। তারপর আর পরা হয়নি। ললিত চুপ করে থাকে।

মা খুঁজে-পেতে ঠাকুরের সিংহাসনের তলা থেকে একটা প্যাকেটের পৈতে বের করে বলে, ঠাকুরমশাই, গেরোন্থি দিয়ে রেখে যান। আমি ওকে পরাব।

তখন মাধব চক্রবর্তী ললিতকে গাল দিতে দিতে বসলেন গ্রন্থি দিতে। ললিত সুতো ধরল, মাধব চক্রবর্তী পদ্মাসনে বসে হাঁটুতে সুতোর প্যাঁচ দিতে দিতে হেঁকে বললেন, চণ্ডীখানা পড়িস? তোকে শিখিয়েছিলাম পড়তে!

তারপর আপন মনে হায় হায় করেন মাধব, আচমন ভুলে গেলি, গণ্ডূষ ভুলে গেলি… এরপর গায়ত্রী ভুলবি, গোত্র ভুলবি, কোন ঋষির পুত্র তা ভুলবি, শেষে বাপের নামও মনে পড়বে না…।

অনেকটা পর অবিরল হাসতে পারে ললিত।

মাধব চশমা তুলে তাকান, চণ্ডীখানা পড়িস ললিত। তোকে যে পকেট-চণ্ডীখানা দিয়েছিলাম, আছে সেটা?

ললিত ঘাড় নাড়ে। আছে।

পড়িস। চণ্ডীপাঠে রোগ সারে। আমি চল্লিশ বছর পড়ছি। দ্যাখ, আমার শরীরে রোগ নেই।

ললিতদের দেশের গ্রামে পুরুত ছিলেন মাধব। এখানে কাছাকাছিই থাকেন। এখন আসেন কালেভদ্রে। বাবা বেঁচে থাকতে কিন্তু রোজ সন্ধেবেলা মাধব তার লক্ষ্মীনারায়ণের পুজো সেরে আসতেন ললিতের বাসায় খবরের কাগজ পড়তে। চাদরে ঢাকা দিয়ে রেকারে আনতেন সামান্য প্রসাদ। ললিতের তখন টাইফয়েড চলছে। সারা বিকেল সে তার নলীর মতো ঘাড়খানা উঁচু করে মাধবের জন্য দরজার দিকে চেয়ে থাকত। মাধব এসে হাতে দিতেন আলোচাল-মাখা একটু কলা, একটি বাতাসা, এক টুকরো নারকেল কিংবা আখ। সেই প্রসাদটুকু কতক্ষণ ধরে রেখে রেখে টুক টুক করে পাখির মতো অল্পে অল্পে খেত ললিত, পাছে তাড়াতাড়ি ফুরিয়ে যায়! সারা দিনে ওইটুকুই মাত্র কুপথ্য সে করতে পারত। প্রসাদ বলে মা কিংবা বাবা আপত্তি করত না। প্রসাদটুকু শেষ করে ললিত চিঁ চিঁ করে দুর্বল গলায় বলত, ঠাকুরমশাই, আপনার খাওয়ার গল্প বলুন। মাধব হাসতেন, তারপর ফেঁদে বসতেন গ্রামের এক কৃপণ বুড়িকে ভজিয়ে কীভাবে দেড় সের সর খেয়েছিলেন সেই গল্প। সেই সূত্রে আরও কত খাওয়ার গল্প এসে পড়ত। শুনতে শুনতে ঢোঁক গিলত লোভী ললিত, শূন্যমুখে স্বাদ পেত সেইসব খাবারের। ‘ভাল হয়ে অনেক-অনেক রকমের খাবার খাব’ ভাবতে ভাবতে ঘুমিয়ে পড়ত সে। মাধবকে কী যে ভাল লাগত তখন!

এই সেই মাধব। কিন্তু মাধব এখনকার ললিতকে কী দিতে পারেন, যা ললিত কৃপণের মতো যত্নে নেবে হাত পেতে! আছে কি মাধবের কাছে কিছু, সেই অলৌকিক স্বাদযুক্ত প্রসাদের মতো? কিছু নেই। তবু ললিত স্নান করে পৈতে পড়ল। পরে নিজেকে শিশুর মতো বোধ করল সে। রুগ্‌ণ এক শিশু, যা-শিশুর মাধবের কাছে রোজ এক প্রত্যাশা থাকত। ঠিক সেইরকম পৈতে পরে সে এই পৈতেটার কাছ থেকে কিছু একটা প্রত্যাশা করতে লাগল। হয়তো তা আরও কিছুদিনের জীবনীশক্তি, নিরাপত্তা, অভাবমোচন কিংবা এমনকী নারীপ্রেম।

দু’-একদিন এ-রকম শিশু হওয়ার নেশা তাকে পেয়ে বলল। পকেট-চণ্ডীখানা দুপুরে খুলে বসল সে। খুলল শেষের দিকের পাতা, যেখানে চণ্ডীপাঠের ফল দেওয়া আছে। সংকল্প ও পূজা করার পর একবার পাঠ করলে ও বলিদান করলে মানুষ সিদ্ধিলাভ করে।… চৌদ্দবার পাঠ করলে স্ত্রী ও শত্রু নিজের বশ হয়ে থাকে… কুড়িবার আবৃত্তি করে পাঠ করলে মানুষ দুষ্টব্রন বা বিষফোঁড়া থেকে আরোগ্য লাভ করে। তার পর আছে “সংকট উপস্থিত হইলে, দুশ্চিকিৎসা ও ব্যাধিতে, প্রাণ যাওয়ার উপক্রম হইবার সময়ে, আধ্যাত্মিক, আধিদৈবিক ও আধিভৌতিক—এই তিন প্রকার উৎপাত উপস্থিত হইলে, অতিপাতক হইলে, যত্নের সহিত একশোবার আবৃত্তি করিয়া পাঠ করিবে। তাহাতে বিপদ নষ্ট হইয়া এই জন্মে মঙ্গল ও পরজন্মে পরমগতি লাভ হয়।”

পড়তে পড়তে কেমন একটা লোভ ঘনিয়ে ওঠে মনের মধ্যে। উত্তেজনা বোধ করে ললিত। আত্মবিস্মৃতের মতো উঠে বসে। অতীতের ললিতকে ভুলে গিয়ে পরিপূর্ণ এক নবজাতক শিশু হয়ে যাওয়ার চেষ্টায় সে গুনগুন করে পাঠ করতে থাকে, ওঁ নারায়ণায় নমঃ, ওঁ দেব্যৈ নমঃ, ওঁ সরস্বত্যৈ নমঃ, ওঁ ব্যাসায় নমঃ, ওঁ নমশ্চণ্ডিকায়ৈ…

পড়তে পড়তে নিজের চারধারে সেই রোমহর্ষকারী শৈশব টের পায় ললিত। যখন কেবল প্রত্যাশা আছে, আছে প্রসারিত দীর্ঘ আয়ু, নির্ভরতা আছে। যেন বা কোলের ললিতকে শক্ত হাতে বুকে আঁকড়ে আছে মা। আর ভয় নেই।

একবার শিশু হয়ে যেতে পারলে আর ভয় নেই। ভাবতে ভাবতে সারা দুপুর ঘরময় অস্থির পায়চারি করে, সিগারেট ধরায়। জানালার কাছে দাঁড়িয়ে চেয়ে থাকে বাইরের দিকে। আবার ফিরে এসে শ্রীশ্রীচণ্ডী খুলে বসে, বিড় বিড় করে বলে, এতকাল ধরে আমি যা শিখেছি সব ভুলিয়ে দাও। আবার নির্বোধ করে দাও। আবার যেন এইসব বিশ্বাস করতে পারি, ছেলেবেলায় যেমন করতুম।

এখন অনেকটাই সেরে গেছে বিমান। পাড়ার এক চেনা কম্পাউন্ডারকে ধরে ওর ব্যান্ডেজ পালটানোর বন্দোবস্ত করেছিল ললিত। ছ’-সাত দিনের মধ্যেই ব্যান্ডেজের সংখ্যা কমে গেছে অনেক। কেবল মাথার চারধারে একটি পট্টি এখনও আছে। ব্যান্ডেজ খোলার পর বিমানের মুখখানা দেখে খুব আবছাভাবে ললিতের মনে পড়েছে যে, এ-মুখ সে কোথাও দেখেছে। হয়তো কলেজের সিঁড়িতে উঠতে নামতে, কিংবা করিডোরে, পথসভার ভিড়ে, হয়তো রমেনের বাড়ির জমায়েতে। এর চেয়ে বেশি কিছু মনে পড়েনি। কলেজ জীবনে হাজারটা ছেলে ঘিরে থাকত ললিতকে, তাদের সকলের মুখ ভিড়ের মুখের মতো, একই রকমের দেখতে।

বিমানের খাবার দু’বেলাই টিফিন ক্যারিয়ারে করে পৌঁছে দিয়ে আসে ললিত। আজকাল বড় লজ্জা পায় বিমান, বলে, আমি বেশ ভাল আছি। বেঁধে খেতে আর অসুবিধে নেই। আর তোমাদের অন্ন ধ্বংস করার মানে হয় না।

ললিত হাসে, অন্ন ধ্বংস হয় আর কোথায়! তুমি তো এইটুকু খাও।

খাওয়ার পরে বিমান ললিতের টিফিন ক্যারিয়ার নিজেই মেজে দেয়। তারপর তারা কিছুক্ষণ মুখোমুখি বসে। সিগারেট ধরিয়ে গল্প করে।

কোনও দিন বিমান বলে, ললিত, তুমি কলেজে যে রকম বক্তৃতা করতে ঠিক সেরকম আবার শুনতে ইচ্ছে করে। এক দিন শোনাবে একটু?

ছেলেমানুষি দেখে ললিত হাসে। মাথা নেড়ে বলে, সব ভুলে গেছি হে।

কথাটা শুনে বিমান অনেকক্ষণ ভাবে। ভেবে চিন্তে বলে, সে-সব কথা কি তুমি প্রাণ দিয়ে বিশ্বাস করতে না ললিত? করলে কী করে ভুলে যাবে? তোমার সে-সব বক্তৃতা এমন মারাত্মক নেশা জাগাত আমার মধ্যে যে কত বার ভিতরে ভিতরে ওলট-পালট হয়ে গেছি। কখনও একা ঘরে আমি ঠিক তোমার নকল করে বক্তৃতা করতাম, চোখ বুজে কল্পনা করতুম আমাকে ঘিরে সামনে-পিছনে চারধারে অনেক লোক দাঁড়িয়ে আছে। তারা মন দিয়ে প্রাণ দিয়ে শুনছে আমার কথা। কথা শোনা শেষ হলেই তারা মারমার করে বিপ্লবে ঝাঁপিয়ে পড়বে। তুমি তো জানো যে আমি কারও সঙ্গেই কথা বলতে পারতুম না। কিন্তু সে সময়ে আমি একজন বড়লোকের মেয়েকে পড়াতুম। বাচ্চা মেয়ে, সব কথা ভাল বুঝত না। তাই তাকে আমার লজ্জা ছিল না। তোমার বক্তৃতা শুনে আমার এমন নেশা ধরে গিয়েছিল যে সেই বাচ্চা মেয়েটিকে আমি মাঝে মাঝে নিপীড়িত মানুষের সংগ্রামের কথা বলতুম। বলতুম, একদিন সেইসব বঞ্চিত মানুষেরা তাদের সব সম্পত্তি কেড়ে নেবে। তারপর বিচার করবে, দণ্ড দেবে, ধবংস করবে তাদের। ব্যক্তিগত মালিকানা বিলোপের সুফল কী তা সেই মেয়েটি বুঝত না। কিন্তু তবু সে ভারী ভয় পেয়ে যেত। যেমন বাচ্চা মেয়েরা তাদের পুতুল কেউ কেড়ে নেবে শুনলে ভয় পায় ঠিক সেইরকম ভয় পেত। বুকের ফ্রক খামচে ধরে শুকনো মুখে চেয়ে থাকত। তার সেই ভয়টুকু আমি বেশ উপভোগ করতুম। অন্তত ওই একটা জায়গায় আমার বক্তৃতা বেশ সফল হত।

একটু চুপ করে থাকে বিমান, তারপর দুঃখের সঙ্গে বলে, কিন্তু হায়, তুমি সে-সব কথা ভুলেই গেছ!

সত্যিই যে ললিত সুৰ কথা ভুলে গেছে তা নয়। এখনও কথাগুলো মাঝে মাঝে তার ভিতরে ওড়াউড়ি করে। কিন্তু সেসবের আর কোনও দংশন নেই। ললিত তাই সিগারেটে লম্বা টান দিয়ে বলে, কিন্তু সেসব কথা তো এখন আর তুমি বিশ্বাস করো না!

বিমান মাথা নাড়ে, না, করি না।

তবে আবার শুনতে চাও কেন?

এমনিই। তোমাকে আবার আমার ওরকম দেখতে ইচ্ছে করে। তোমার ধারালো মুখখানা উত্তেজনায় ফেটে পড়ছে। শক্ত হয়ে ফুলে উঠছে চোয়াল, পাকানো মুঠি তুলে ধরে শপথ করছ, তোমার শরীর নড়ছে চাবুকের মতো। সেইসব ভঙ্গি দেখে মুগ্ধ হয়ে যেতুম আমি। তোমাকে ভালবেসে ফেলেছিলুম বলে তোমার কথাই আমার কথা হয়ে উঠেছিল। আবার তোমাকে সে-রকম দেখলে, হয়তো আবার আমি তোমার সব কথা বিশ্বাস করে ফেলব। তুমি কি সত্যিই ভুলে গেছ?

ললিত মৃদু স্নান হাসে। বলে, ভুলিনি। কিন্তু তোমাকে সে-সব আর বিশ্বাস করাতে চাই না।

কেন চাও না ললিত?

ললিত উত্তর দেয় না।

বিমান আস্তে করে বলে, তবে কি এখন বুঝতে পেরেছ যে তুমি সে-সব কথা ভুল বলতে? তাই আমাকে বলতে চাও না?

ললিত কেবল মৃদু হাসে।

বিমান অনুচ্চস্বরে বলে, একথা ঠিকই যে তুমি ভুল বলতে। মানুষকে সমষ্টিগতভাবে দেখার মধ্যেই একটা বিরাট ভুল আছে। কিন্তু তুমি তাই দেখতে। দ্রুত সমাজ পালটানোর জন্য তুমি চেয়েছিলে বিপ্লব, আর বিপ্লবের জন্য জড়ো করতে চাইছিলে মানুষ। তাই তোমার কাছে সমষ্টিই বড় ছিল। ভিড়কে চিনেছিলে কেবল। বিচ্ছিন্ন মানুষটা ভিড় থেকে আলাদা হয়ে দাঁড়ালেই তুমি আর তাকে চেনোনি। তাই না ললিত? অথচ যে-মানুষটা মিছিলে পতাকা বহন করে যায়, যে তার বক্তৃতায় মুগ্ধ হয়ে হাততালি দিয়ে আসে সেই মানুষটাই হয়তো সময়ের চাষ ফেলে রাখে, বুড়ো বাপকে খাটায়, বীজধান খেয়ে ফেলে, অন্যের খেত থেকে ধান চুরি করে। দাঙ্গা করে জেল খেটে আসে, জোর করে কেড়ে নেয় বউয়ের গয়না, তখন তাকে কে দেখেছে ভাল করে? স্বভাববশত এ লোকটাই একদিন হয়তো তার সর্বস্ব হারায়। এ রকম হাজারটা লোক আসে তোমার বিপ্লবে। তাদের মধ্যে ক্ষমতার লোভ থাকে, হিংসা থাকে, থাকে প্রতিশোধস্পৃহা, কাম ও মাৎসর্য। কিন্তু তুমি তার স্বভাব বিচার করো না। তোমার কাছে তার সর্বস্ব-হারানোটাই মহত্তর গুণ, তাই তুমি তাকে সর্বহারা বলে বুকে জড়িয়ে ধরো, বিপ্লবের অংশীদার করে নাও, সিংহাসনে বসাতে চাও তাকে কখনও ভেবেও দেখো না সর্বস্ব যে হারায় সে কী ভীষণ ডিসকোয়ালিফায়েড। কিন্তু মানুষকে সমষ্টিগতভাবে দেখতে শিখেছ বলেই তুমি মনে করো সমাজের ব্যবস্থাই তার সর্বস্ব হারানোর কারণ। সমাজ পালটালেই মানুষ পালটে যাবে। তাই না? তাই তুমি তাকে বিপ্লবে ডাক দাও, তাকে লোভ দেখাও যে তার সব অভাব দূর করে দেবে।

ললিত বাধা দিয়ে বলে, সবাই কি এই রকমের?

না। সবাই এই রকমের নয়। সত্যিকারের নিপীড়িতরাও আসে, আসে মুনাফাখোর বুর্জোয়ার চরও, আসে ব্যক্তিগত লাভের প্রত্যাশী কিছু মানুষ। আমরা রোজ যে-সব নানা ত্রুটিযুক্ত মানুষকে চারধারে দেখছি তারাই। তুমি বিপ্লবের আগে তাদের সংশোধন করে নাও না, নির্বিচারে টেনে নাও বলে। কাজে লাগাও তার শক্তিকে। তোমার সবচেয়ে বেশি কাজে লাগে এদের স্থূল শক্তি এবং হিংস্রতা। তুমি যথেষ্ট পরিমাণে এ দু’টিকে জাগিয়ে তোলে, ফলে জেগে ওঠে ব্যক্তিগত লোভ এবং প্রতিশোধস্পৃহা, ফলে সে খুব হিংস্রভাবে আক্রমণ করে, সমাজকে চুরমার করে দেয়। কিন্তু বিপ্লবের মাঝপথে সে হঠাৎ থেমে পড়ে, দ্রুত খুঁজতে থাকে মুনাফা, প্রবৃত্তির নানা তৃপ্তি— তার কাছে সেগুলিই বিপ্লবের ফসল। সে বহুকাল ভাল খাবার খায়নি, দুর থেকে ধনীদের জীবনযাত্রা দেখে ও রক জীবনযাত্রার যে লোভ তার বরাবর হয়েছে তা মেটেনি, সে কখনও কর্তৃত্ব করার সুযোগ পায়নি, মানুষকে নিপীড়ন করার মধ্যে যে আনন্দ আছে তা ভোগ করেনি। অথচ এই লোভগুলি তার দুর্জয়ভাবে রয়ে গেছে। তাই তখন তার মধ্যে জেগে ওঠে অমোঘভাবে বুর্জোয়ার শ্রেণীচরিত্র। কিন্তু পুরনো ধরনের বুর্জোয়াদের মতো তার হাতে পুঁজির কর্তৃত্ব থাকে না বলে সে আরম্ভ করে ক্ষমতা দখলের লড়াই। নিজের পালকের পাখি খুঁজে সে তৈরি করে প্রতিক্রিয়াশীল জোট। তখন আবার নতুন লড়াই শুরু হয় এই শ্রেণীর সঙ্গে, কিংবা এ-রকম একাধিক শ্রেণীর সঙ্গে। সে-লড়াইয়েও দু’পক্ষেই থেকে যায় বুর্জোয়া শ্রেণীচরিত্রের লোক, শোধনবাদী এবং প্রতিবিপ্লবী। ফলে লড়াই আর শেষ হয় না। বহুভাগে ভেঙে যায় মানুষের আদর্শ, তৈরি হতে থাকে বহু দল। তখন, যারা মানুষের সত্যিকারের ভাল করতে চায় তারা নতুন করে ‘মানুষ’ কথাটা নিয়ে ভাবতে শুরু করে। খুঁজতে শুরু করে মানুষের মূল। তারা দেখে সমাজ পালটালেও মানুষের প্রবৃত্তি পালটায় না— সেই দমননীতি, সেই ক্ষমতা দখল, সেই প্রতিবাদের পথ রোধ করা— যা কিনা ছিল বুর্জোয়ার শ্রেণীবৈশিষ্ট্য সেটাই অন্য চেহারা নিয়ে ফিরে এসেছে। তাই মূল থেকে পালটাতে হবে মানুষকে।

বিমান একটুক্ষণ ললিতের মুখের দিকে চেয়ে থেকে বলে, অবশ্য এখনও তুমি সেকথা ভাবতে শুরু করোনি। কিন্তু মনে হয়, তোমার ভিতরে ক্লান্তি এসেছে। ভিড়ের মুখ তুমি বোধহয় আর দেখতে চাও না। এবার হয়তো তুমি মানুষের মূল খুঁজতে শুরু করবে। আমিও খুঁজছি।

ভীষণ প্রতিবাদ করতে ইচ্ছে করে ললিতের। সে জানে এগুলো সব ঠিক কথা নয়। কিন্তু বিমান পাগল বলেই সে এর প্রতিবাদ করে না। চুপচাপ বসে শোনে। মৃদু একটু হাসে। কিন্তু ভিতরে ভিতরে যথেষ্ট উত্তেজিত হয়ে ফিরে আসে সে। ফেরার পথে প্রকাণ্ড একটা অশ্বথ গাছ আছে, তার তলায় বাঁধানো বেদি। সেইখানে একা চুপ করে বসে ললিত। টিফিন ক্যারিয়ারটা পাশে রেখে একটা সিগারেট ধরায়। এতকাল যে-সব কথার পোকাগুলো নির্বিবাদে এলোমেলো ওড়াউড়ি করত মনে, সেগুলো হঠাৎ দলবদ্ধ দংশন শুরু করে। মানুষকে ডেকে আবার কথা বলতে ইচ্ছে করে তার। জোট বাঁধতে ইচ্ছে করে আবার। সে সামনের শূন্য অন্ধকার জায়গাটার দিকে চেয়ে হঠাৎ মৃদুস্বরে বলে, কমরেডস্‌, আমি ভুলে গিয়েছিলাম সংগ্রামের কথা। আপনারা আমাকে মাপ করবেন। আমি প্রতিজ্ঞা করছি যে আবার আমি মানুষের মুক্তির সংগ্রামে ফিরে আসব, ভেঙে দেব প্রতিক্রিয়াশীল জোট, সমস্ত গণতান্ত্রিক শক্তিগুলিকে মিলিত করব…

কিন্তু বড় ক্লান্তি লাগে। মাথা উত্তেজিত থাকে বলে অনেক রাত পর্যন্ত ঘুম আসতে চায় না। বিছানা গরম হয়ে ওঠে শরীরের তাপে। ললিত উঠে বাইরের সিঁড়িতে এসে বসে, সিগারেট খায়। বিড়বিড় করে বলে, শৈশবে ফিরে যাওয়া নয়, আমরা চাই তাড়াতাড়ি যৌবনকে পেতে। আমরা অতিক্রম করতে চাই অর্থনৈতিক শৈশব, রাজনৈতিক চেতনার শৈশব, আমরা চাই সমৃদ্ধির যৌবনকে….

ললিত ভাবে, একদিন সে যাবে অবিনাশের কাছে, গিয়ে বলবে, আমি আবার পার্টিতে আসতে চাই। তুমি ব্যবস্থা করে দাও। হ্যাঁ, কালকেই যাবে, কাল সকালেই। আর সময় নষ্ট করবে না।

কিন্তু সকালবেলা থেকেই অন্য রকম সব ঘটনা ঘটতে থাকে।

চা খেতে খেতে খবরের কাগজ দেখছিল ললিত। অনেককাল দেশের রাজনৈতিক খবরগুলোর কোনও খোঁজ রাখেনি সে। তাই মন দিয়ে পড়ছিল। এমন সময়ে সুবল এসে ডাক দেয়, ললিতদা, একটু কথা আছে। গলিতে আসুন।

গলির মুখে ললিতকে নিয়ে গিয়ে খুব উত্তেজিতভাবে বলল, ললিতদা, সেই মেয়েটাকে আমরা ট্রেস করেছি।

ললিত অবাক হয়ে বলে, কোন মেয়েটা?

সুবলের মুখ হঠাৎ রাঙ্গা হয়ে ওঠে, মাথা নামিয়ে নিয়ে বলে, ওই যে, যে-মেয়েটা আপনার বন্ধু বিমান রক্ষিতের কাছে আসে।

মেয়েটার কথা ভুলেই গিয়েছিল ললিত, বলল, সে মেয়েটা কী করেছে?

সুবল ক্ষীণ হাসে, অন্য দিকে মুখ ফিরিয়ে বলে, কী আবার করবে! পাড়ার মধ্যে একজন মেয়ে একটা ব্যাচেলারের কাছে আসে, ঘরের দরজা বন্ধ করে কথাবার্তা বলে, পাড়ার বাচ্চাকাচ্চা ছেলেমেয়েরা এ-সব দেখছে…এ তো ঠিক নয়, তাই আমরা একটু খোঁজ-খবর করেছি।

ললিত শুনে একটু লজ্জা পেল। বিমান তার সহপাঠী, বন্ধু। তার কাছে কে এক মেয়ে আসে তা নিয়ে বয়সে ছোট সুবলের সঙ্গে আলোচনা করতে তার ইচ্ছে হল না। শুধু বলল, কী খোঁজ পেলি?

দেখলাম বিরাট বড়লোকের মেয়ে। হিন্দুস্থান পার্কে ওদের বাড়ি। বাড়ির চারধারে কম্পাউন্ড আর বাগান, দু’-তিনটে গাড়ি আছে, কুকুর আছে, ছাদের ওপর পাথরের পরি…

বলতে বলতে সুবল উত্তেজিত হয়ে ওঠে। সে নিজে হয়তো উত্তেজনা টের পায় না। কিন্তু ললিত পায়। সুবলের চোখ চকচকে হয়ে আসে, কালো মুখটাতে কয়েকটা শিরা জেগে ওঠে আস্তে আস্তে বলে, মেয়েটা লেডি ব্রাবোর্নে পড়ে, গান জানে, ফাংশনে গায়। এ-রকম মেয়ের সঙ্গে ওই লোকটার কী সম্পর্ক? এ-লোকটা কর্পোরেশনের জমাদারদের টিপসই বাবু, গরিবের পয়সা ঘুষ খায়, রোগা হাড়গিলে চেহারা, এর সঙ্গে কি ও মেয়ের সম্পর্ক হওয়া উচিত? আপনার বন্ধু, তাই বেশি কিছু বলতে চাই না ললিতা, কিন্তু আমার মনে হয় লোকটা মেয়েটাকে ব্লাফ দিয়ে ভুলিয়েছে। বড়লোকের মেয়েকে বিয়ে করতে পারলে লাইফের মতো নিশ্চিন্ত, লোকটা সেই তালেই ছিল। কিন্তু বোধ হয় মেয়েটার অন্য কোনও লাভার ব্যাপারটা জেনে গুন্ডা দিয়ে ঠ্যাঙান দিয়েছে লোকটাকে। ও-সব ছিনতাই পাটির গল্প আপনি বিশ্বাস করেন? যারা ছিনতাই করে তারা এমন মরশুটে হাভাতে লোককে ধরবে কেন? ওরা লোক চেনে।

ললিত গম্ভীর হয়ে যায়। বলে, তোরা এখন কী করতে চাস?

সুবল অন্য দিকে মুখ ফিরিয়ে বলে, আপনার বন্ধু, তাকে আর আমরা কী করব? আপনি শুধু ওকে একটু সাবধান করে দেবেন, পাড়ার মধ্যে থেকে যেন এ-সব না করে। ওসব মেয়ের দিকে হাত বাড়ানো কি ওর উচিত? আপনিই বলুন না! ওদিকে মেয়েটাও হয়তো লোকটার হিস্ট্রি জানে না, এ-রকম তো হয় আজকাল, অচেনা লোক গিয়ে নানা রকম ব্লাফ দিয়ে বড়লোকের মেয়েকে বিয়ে করে। তাই আমাদেরও উচিত মেয়েটাকে বাঁচানো। আমরা মেয়েটাকে সাবধান করে দেব।

ললিত কোনও উত্তর দেয় না। তার মনটা খারাপ হয়ে যায়। অন্যমনস্কভাবে ঘরে চলে আসে। বিমানের জন্য নয়, সেই অচেনা মেয়েটার জন্যও নয়, বরং সুবলের জন্যই কেমন যেন চিন্তা হতে থাকে ললিতের। ওর চকচকে চোখ, কথা বলার উগ্র ভঙ্গি, অস্থিরতা—এর মধ্যে কী একটা যেন রয়েছে যা অস্বস্তিকর। বড়লোকের সুন্দর মেয়েটা বিমানের কাছে আসে, এটা কি সইতে পারছে না সুবল? না পারাই অবশ্য স্বাভাবিক। বিমান হাড়গিলে, রোগা, ভিতু, দুর্বল, জীবনে অসফল একজন মানুষ। এ-রকম লোকের কাছে কোনও মূল্যবান কিছু দেখলেই নিতান্ত নিরীহেরও ইচ্ছে করবে ওকে দু’ঘা থাপ্পড় দিয়ে জিনিসটা কেড়েকুড়ে নিতে।

শম্ভু-সুবলরা কি জানে যে, একসময়ে ললিতও বড় বাড়ির মেয়ে মিতুর জন্য পাগল হয়েছিল? মিতুকে বাসায় ডেকে এনে ছেলেকে বিয়ে করতে রাজি করানোর অক্ষম চেষ্টা করেছিল ললিতের বোকা মা? আর, তারপর থেকে ললিত মুখ তুলে রাস্তায় হাঁটতে পারত না? ওরা কি জানে যে, এখনও মিতু বাপের বাড়িতে এসেছে খবর পেলে ললিত অস্বস্তি বোধ করে? না, শম্ভু-সুবলেরা জানে না। কী করে জানবে! ওরা তখন বাচ্চা ছেলে, হাফপ্যান্ট পরে লাল-নীল রবারের বল নিয়ে রাস্তা আটকে ফুটবল খেলে। জানলে কখনও সুবল ললিতকে এমন নিষ্ঠুরের মতো বলতে পারত না, এ-রকম বাজে লোকটার সঙ্গে কি ও-রকম মেয়ের সম্পর্ক হওয়া উচিত? আপনিই বলুন না!

মিতুর কথা মনে পড়লেই এক নিস্তব্ধ পৃথিবীতে চলে যায় ললিত। যেখানে ললিতের ব্যর্থতাগুলি থরে থরে সাজানো রয়েছে। মিতু তাকে অবহেলা করে গেল, সে হল না সংগ্রামী মানুষের নেতা, হয়ে উঠল না সফল মানুষ। যৌবনের মাঝপথে বেলাশেষের হলুদ আলোটি এসে পড়েছে এখন। দূরবর্তী এক নিস্তব্ধতা আসছে তার দিকে। মূক করে দিয়ে যাবে তাকে। তাই মাঝে মাঝে অস্থিরভাবে মায়ের কাছে চলে আসে ললিত! মাথা ঝুঁকিয়ে দিয়ে বলে, আমার মাথায় একটু হাত রাখো তো মা। একটু হাত রাখো।

মা মাথায় হাত বুলিয়ে বলে, কেন রে?

ললিত বিড় বিড় করে বলতে থাকে, সব ভুলিয়ে দাও তো মা, ভুলিয়ে দাও তো। বুদ্ধি, স্মৃতি, অবিদ্যা, ভুলিয়ে দাও। আবার ছোট ললিত হয়ে কোলে ফিরে যাই…

সকল অধ্যায়
১.
প্রথম অধ্যায়
২.
দ্বিতীয় অধ্যায়
৩.
তৃতীয় অধ্যায়
৪.
চতুর্থ অধ্যায়
৫.
পঞ্চম অধ্যায়
৬.
ষষ্ঠ অধ্যায়
৭.
সপ্তম অধ্যায়
৮.
অষ্টম অধ্যায়
৯.
নবম অধ্যায়
১০.
দশম অধ্যায়
১১.
একাদশ অধ্যায়
১২.
দ্বাদশ অধ্যায়
১৩.
ত্রয়োদশ অধ্যায়
১৪.
চতুর্দশ অধ্যায়
১৫.
পঞ্চদশ অধ্যায়
১৬.
ষোড়শ অধ্যায়
১৭.
সপ্তদশ অধ্যায়
১৮.
অষ্টাদশ অধ্যায়
১৯.
ঊনবিংশ অধ্যায়
২০.
বিংশ অধ্যায়
২১.
একবিংশ অধ্যায়
২২.
দ্বাবিংশ অধ্যায়
২৩.
ত্রয়োবিংশ অধ্যায়
২৪.
চতুর্বিংশ অধ্যায়
২৫.
পঞ্চবিংশ অধ্যায়
২৬.
ষড়বিংশ অধ্যায়
২৭.
সপ্তবিংশ অধ্যায়
২৮.
অষ্টাবিংশ অধ্যায়
২৯.
ঊনত্রিংশ অধ্যায়
৩০.
ত্রিংশ অধ্যায়
৩১.
একত্রিংশ অধ্যায়
৩২.
দ্বাত্রিংশ অধ্যায়
৩৩.
ত্রয়োত্রিংশ অধ্যায়
৩৪.
চতুর্ত্রিংশ অধ্যায়
৩৫.
পঞ্চত্রিংশ অধ্যায়
৩৬.
ষট্ত্রিংশ অধ্যায়
৩৭.
সপ্তত্রিংশ অধ্যায়
৩৮.
অষ্টত্রিংশ অধ্যায়
৩৯.
ঊনচল্লিশ অধ্যায়
৪০.
চল্লিশ অধ্যায়
৪১.
একচল্লিশ অধ্যায়

নোট নিতে এবং টেক্সট হাইলাইট করতে লগইন করুন

লগইন
০%