দ্বাবিংশ অধ্যায়

শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়

বাইশ

ললিত একটু অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করল, কীসের বিপদ?

অপর্ণা প্রথমে উত্তর দিল না। নতমুখে টেবিলের কাছে তার সাদা প্রায় রক্তশূন্য একটি আঙুল দিয়ে কয়েকটা গোল চিহ্ন আঁকল। তারপর তার বয়সের তুলনায় ভারিক্কি বিষণ্ণ মুখখানা তুলে বলল, কয়েক দিন ধরে দেখছি আমাদের বাড়ির সামনে দিয়ে একটা কালোমতো ছেলে ঘুরে বেড়ায়। যেতে যেতে আমাদের বাড়ির ব্যালকনি কিংবা খোলা জানালার দিকে হাঁ করে চেয়ে থাকে। আমি যখন কলেজে যাই তখন দেখি সে চৌরাস্তায় দাঁড়িয়ে সিগারেট খাচ্ছে। কয়েক দিন তাকে কলেজের গেটের সামনেও দেখেছি।

চা খাওয়ার পর ললিতের অম্বলের ভাব বেড়ে যাচ্ছিল। ব্যথা করছিল বুক আর পিঠ। কেমন একটা ঘুম-ঘুম ভাব, শুয়ে পড়তে ইচ্ছে করে।

অপর্ণার কথা শুনে সে একটু হাসল। বলল, তাতে কী? ও-রকম কত ছেলে পিছু নেয় মেয়েদের, তারপর বোধবুদ্ধি হলে আবার সরেও যায়। ওকে বেশি পাত্তা দেবেন না।

এ-কথা যখন বলছিল ললিত তখন তার অমোঘভাবে মিতুর কথা মনে পড়ছিল। মিতুও হয়তো নিজের বাবা মার কাছে বলত যে একটা ফরসামলতা রোগা ছেলে যাতায়াতের পথে দাঁড়িয়ে থাকে, কাণ্ডজ্ঞানহীনের মতো চেয়ে থাকে তাদের বাড়ির দিকে।

মেয়েটি ললিতের উপদেশ শুনল কি না বলা যায় না, বলল, পিছু-নেওয়া। ছেলে আমি অনেক দেখেছি। কিন্তু এ-ছেলেটা ভীষণভাবে আমার কাছে আসার চেষ্টা করছে। একদিন দেখি আমাদের দারোয়ানের কাছ থেকে দেশলাই চেয়ে সিগারেট ধরাল, আর দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে কী একটু কথাও বলে গেল। পরে দারোয়ানকে জিজ্ঞেস করেছিলাম। ছেলেটা নাকি তার কাছ থেকে কয়েকটা ফুলের চারা চেয়েছিল। আমি দারোয়ানকে বারণ করে দিয়েছি ওর সঙ্গে কথা বলতে।

ললিত সান্ত্বনা দেওয়ার ভঙ্গিতে বলল, তাতে কী? ওতে ভয় পাবেন না। মেয়েটির মুখে-চোখে একটু রক্তাভা দেখা যায়; নিশ্বাস চেপে খুব আস্তে আস্তে বলল, ছেলেটি আমাকে লক্ষ্য করে আমাদের মোটরগাড়ির মধ্যে একটা কাগজের দলা ছুড়ে দেয়। খুলে দেখি চিঠি। ভুল বানানে লেখা অজস্র আজেবাজে কথা। আমি কাউকে বলিনি৷ তা ছাড়া আমার বিশ্বাস এই ছেলেটাই টেলিফোন করেছিল আমার বাবাকে। আমার কেমন যেন ভয় করে। এমন অবস্থা যে বাড়ি থেকে একা বেরোতে পারি না, ছেলেটা ভীষণ ডেসপারেট, কী জানি কী করে বসে! টেলিফোনে বাবাকে বলেছিল যে ওর বাসার কাছেই নাকি থাকে, একই পাড়ায়। সেটা জানার পর থেকে আমি আর ওর কাছেও যাই না।

পেটের মধ্যে কলকল শব্দ হচ্ছে। ছুঁচের মুখের মতো গলার কাছে খোঁচা দিচ্ছে অম্বল। হঠাৎ পেটের মধ্যে শব্দটা এত জোরে হল যে ললিতের ভয় হচ্ছিল মেয়েটা শুনতে পাচ্ছে।

ললিত উঠে দাঁড়াতে দাঁড়াতে বলে, আমিও ওই পাড়ায় থাকি। যদি একা যেতে ভয় করে তবে আমার সঙ্গে চলুন, কোনও ভয় নেই। আপনি গেলে বিমান খুশি হবে।

মেয়েটা ম্লান হেসে বলল, কিন্তু ও যে বারণ করেছে।

ললিত বলল, কিন্তু একটু আগেই ও আমার কাছে এসেছিল। তখন দেখেছি ও নর্মাল। কথাবার্তা ভালই বলছিল। এখনও ভয়ের কিছু নেই।

মেয়েটি একটু চিন্তা করে হঠাৎ উঠে দাঁড়িয়ে বলল, চলুন।

অপর্ণাই তার অভিজাত ভঙ্গিতে কেবলমাত্র একটি তর্জনীর সংকেতে খালি ট্যাক্সিটা দাঁড় করাল।

দু’জন দু’ কোণে বসল। মাঝখানে অনেকটা ফাঁকা জায়গা। অপর্ণা বাইরের দিকে তাকিয়ে। আর ললিত তার বুক আর পেটের অস্বস্তিটা থেকে রেহাই পাওয়ার জন্য একটু গা এলিয়ে সিটের পিছনে মাথা রেখে। বমিটা হয়তো হবে। এক গ্লাস জলের পর এক কাপ চা খেয়েছে ললিত। খাওয়াটা ঠিক হয়নি।

অপর্ণা মুখ ফিরিয়ে ললিতকে দেখে বলল, আপনার কি শরীর খারাপ? না।

একটু অন্যমনে চুপ করে থেকে অপর্ণা বলল, এখন আমাদের সময় ভাল যাচ্ছে না। কিছু দিন আগেই বাবার কারখানার কর্মচারীরা বাড়ির সামনে এসে জমায়েত হয়েছিল একদিন, বোনাস আর কাজের সিকিউরিটির জন্য। ইউনিয়নের লিডার এক ছোকরা এল বাবার সঙ্গে কথা বলতে। সে আমাদের বৈঠকখানায় বসে বাবার সঙ্গে কথা বলতে বলতে তাঁর সামনেই সিগারেট খাচ্ছিল। ফলে বাবা সেদিন ভীষণ রেগে যায়, আর নার্ভাস হয়ে পড়ে। সেই ঘটনার পরেই বিকেলের দিকে বাবার ব্লাড প্রেশার অসম্ভব বেড়ে যায়। রাত্রে। একটা স্ট্রোকের মতো হয়।

ললিত বলে, সে কী! ছেলেটা সিগারেট খেয়েছিল বলে?

অপর্ণা মৃদু একটু হাসল, উনি পুরনো আমলের লোক। কর্মচারীরা সামনে সিগারেট খাবে এটা উনি বরদাস্ত করতে পারেননি।

ললিতের কথা বলতে কষ্ট হচ্ছিল, তবু সে বলল, কিন্তু এ-রকম হওয়াই তো স্বাভাবিক। দীর্ঘকাল পেটমোটা, অসৎ, অতিরিক্ত মুনাফাখোর মালিকদের সম্মান করতে করতে ওরা এই ম্যানারিজমকে আর বিশ্বাস করছে না।

এই অপ্রিয় কথাগুলো একজন মালিকের মেয়েকে তার বলার ইচ্ছে ছিল না। কিন্তু কথাগুলো এমনিতেই বেরিয়ে এল। তাই একটু লজ্জা করছিল ললিতের।

অপর্ণা বাইরের দিকেই চেয়ে ছিল। ট্যাক্সিটা একটা ডবলডেকারের পিছু পিছু আস্তে আস্তে যাচ্ছে। অপর্ণা মুখ না-ঘুরিয়েই বলল, ইউনিয়নের ওই ছেলেটা আমাদের এক জ্ঞাতির ছেলে। যখন সে চাকরি চাইতে এসেছিল তখন বাবার পা ছুঁয়ে প্রণাম করেছিল। তা ছাড়া আমার বিশ্বাস সে সিগারেট খাওয়ার দরকার বলেই সিগারেট খায়নি, সে খেয়েছিল ইচ্ছে করে, বাবাকে চটিয়ে দেওয়ার জন্যই।

ললিত একটু উত্তেজনা বোধ করে বলে, কিন্তু আমি কাগজে ছবি দেখেছি কুড়ি-একুশ বছরের বাচ্চা নিগ্রো ছেলে আমেরিকার প্রেসিডেন্টের সঙ্গে তাদের দাবিদাওয়ার কথা বলছে। তার হাতে সিগারেট, সামনে মদের গ্লাস, খুব ইজি ভঙ্গি—

অপর্ণা হাসল, বলল, আমি ও-সব জানি না। আমি ছেলেবেলায় আমাদের কারখানার কর্মচারীদের কাকা কিংবা দাদা বলে ডেকেছি, তারাও বাবাকে কখনও জ্যাঠামশাই কখনও অন্য কোনও আত্মীয়তার সম্পর্কে ডেকেছে। আমাদের মধ্যে খুব একটা দূরত্ব ছিল না। কিন্তু ওই ছেলেটা বাবার সামনে সিগারেট খেয়ে সেই দূরত্ব তৈরি করে দিল।

ললিত ভিতরে উত্তেজিত হয়েছিল, সেই উত্তেজনা তার গলার স্বরকে অজান্তে তীব্র করে দিল। বলল, দূরত্ব ছিলই। হয়তো বাইরে থেকে বোঝা যাচ্ছিল না। দুটো শ্রেণী, তাদের পরস্পরবিরোধী স্বার্থ, কী করে তারা পরস্পরের কাছের লোক হয়?

অপর্ণা এ-কথার উত্তর দিল না। অনেকক্ষণ বাইরের দিকে চেয়ে রইল। তারপর বিষন্ন মুখখানা ফিরিয়ে বলল, হলে ভাল হত।

ললিত হাসতে যাচ্ছিল। ঠিক সেই সময়ে তার পেটের ভিতর থেকে একটা ‘ওয়াক’ উঠে আসছিল। সে তাড়াতাড়ি সিগারেট ধরিয়ে ধোঁয়ার মধ্যে নিজেকে ডুবিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করল।

অপর্ণা ভ্রূ কুঁচকে তার দিকে তাকায়। বড় সুন্দর দেখায় তাকে। বলে, আপনার কি কোনও কষ্ট হচ্ছে?

ললিত বলল, না, না। আপনি কথা বলুন।

অপর্ণা বলল, বাবাকে নিয়েই আমার ভয়। এখন বেশি উত্তেজনা তাঁর পক্ষে ভাল না। গতকাল রাত থেকে তাঁর কর্মচারীরা হাওড়ার কারখানায় তাঁকে আটকে রেখেছে। এখন পর্যন্ত তাঁর কোনও খবর আমরা পাইনি।

ললিত জিজ্ঞেস করল, কেন আটকে রেখেছে?

অপর্ণা মৃদু হাসিমুখে বলে, তিনি প্রায় নব্বইজনকে ছাঁটাই করেছেন।

ললিত একটু চমকে ওঠে, নব্বইজনকে! এই অভাব-কষ্টের দিনে!

অপর্ণা মাথা নেড়ে বলল, কিন্তু ভয়ের কিছু নেই। বাবা নব্বইজনকে ছাঁটাই করতে চান না। ওই যে ইউনিয়নের ছেলেটা আর ও-রকম আরও জনাচারেক, এই মোট পাঁচ জনকেই বাবা তাড়াতে চাইছেন। কিন্তু সরাসরি ওই পাঁচ জনকে সরানো খুব মুশকিল। তাই নব্বই জনকে ছাঁটাইয়ের নোটিশ দিয়েছেন তিনি। এখন আন্দোলন হবে, তর্কাতর্কি হবে, স্ট্রাইক চলবে। আর বাবা আস্তে আস্তে তাদের দাবির কাছে হার স্বীকার করতে থাকবেন। নব্বই জনের জায়গায় আশি জন, তারপর সত্তর জন, এভাবে সংখ্যা কমতে থাকবেন। শেষ পর্যন্ত পঁচাশি জনকেই আবার কারখানায় ফেরত নেবেন, তারপর বলবেন তোমাদের দাবিদাওয়া প্রায় সবই মেনে নিলাম, কেবল ওই শেষ পাঁচ জনকে বাদ দাও। ওদের নিতে পারব না। তখন ইউনিয়ন দেখবে যে তারা মালিকের কাছ থেকে প্রায় সবটাই আদায় করে নিতে পেরেছে, তাদেরই জয় হয়েছে, আর স্ট্রাইক চালিয়ে যাওয়ার মানে হয় না, ছেলেপুলে পুজোর আগে না খেয়ে আছে, নতুন জামা-কাপড় কিনতে পারছে না, কাজেই তারা মিটমাট করে নেবে। কিন্তু বাবা ঠিক যে-পাঁচজনকে ছাঁটাই করতে চেয়েছিলেন, তাদেরই ছাঁটাই করবেন, কর্মচারীরা সেই ব্যাপারটা বুঝতেই পারবে না। তারা বৃহত্তর স্বার্থে নব্বইজনের জায়গায় পাঁচজনের ছাটাই মেনে নেবে।

ললিত একটু ছটফট করছিল ভিতরে ভিতরে। বলল, এটা তো শত্রুতা।

অপর্ণা হাসল, হ্যাঁ, ভীষণ শত্রুতা। আমাদের মধ্যে আর একটুও আত্মীয়তার ভাব নেই। কিন্তু আপনাকে এত কথা বলা বোধ হয় ঠিক হচ্ছে না।

ললিত মুখ ফিরিয়ে নিল।

অপর্ণা মৃদু গলায় বলল, তবু বলছি, কারণ আমার মন একদম ভাল নেই। বাবার হাই ব্লাডপ্রেশার, তার ওপর এইসব উত্তেজনা। এখন যদি তাঁর একটা কিছু হয়ে যায়, আমি সেই কথাই ভাবছি—

ললিত চাপা গলায় বলল, তখন আপনি মালিক হবেন!

অপর্ণা শান্ত গলায় বলল, ঠিক। কিন্তু তখন আমি আর মা কী ভীষণ একা হয়ে যাব! তখন ওই সব কর্মচারীরা যদি আমাদের ঘেরাও করে রাখে! যদি বাসায় এসে হামলা করে! মা গো, সে-কথা ভাবতেই বুকের ভিতরটা শুকিয়ে যায়।

অপর্ণা আবার অন্যমনস্ক হয়ে যায় একটুক্ষণের জন্য। তারপর খুব সংকোচে লাজুক গলায় বলে, তাই বাবা প্রাণপণে আমার বিয়ের জন্য চেষ্টা করছেন। বুঝতেই তো পারছেন কেমন পাত্র খুঁজছেন আমার বাবা! ইন্ডাস্ট্রিয়ালিস্ট, বংশপরম্পরায় যাদের মালিক হওয়ার অভিজ্ঞতা আছে, এমন পাত্র। সে-ছেলে চরিত্রহীন বা মাতাল হলেও কিছু যায় আসে না, বাবা ও-সব বাছবিচার করবেন না। আর দু’-তিন মাসের মধ্যেই আমার বিয়ের ডেট ঠিক হয়ে যাবে। আর যদি ও-রকম ছেলের সঙ্গে আমার বিয়ে হয় তা হলে কোনও দিনই আর কর্মচারীর সঙ্গে আমাদের শত্রুতা মিটবে না।

ললিত বলল, আপনি কী চান?

অপর্ণা একটুও না-ভেবে বলল, আমি চাই আমাদের মালিক আর শ্রমিকদের মধ্যে একই স্বার্থ কাজ করুক। পরস্পরের মধ্যে বোঝাপড়া আর ভালবাসা থাক।

ললিত প্রাণপণে তার বমির ভাবটা আটকে রাখার চেষ্টা করছিল। সেই চেষ্টায় তার চোখে জল এসে গেল। সে একটু হাঁফাতে লাগল।

অপর্ণা জিজ্ঞেস করল, আপনার কী হয়েছে?

ললিতের ইচ্ছে হল অপর্ণার আগের কথাটার উত্তর দিয়ে বলে, এই দেখুন, এতকাল একসঙ্গে বাস করেও আমার শরীরটার সঙ্গে বোঝাপড়া বা ভালবাসা হয়নি, এ কেবল আমাকে কষ্ট দেওয়ার জন্য জন্মেছে। এর সঙ্গেও আমার স্বার্থের মিল নেই।

কিন্তু সে-কথা না বলে ললিত বলল, শরীরটা ভাল নেই। কিন্তু আপনি কিছু ভাববেন না, ও ঠিক হয়ে যাবে। কিন্তু আপনি শ্রমিক-মালিকের এক স্বার্থের কথা কী যেন বলছিলেন! কী যেন, বোঝাপড়া আর ভালবাসার কথা!

অপর্ণা লাজুক মুখে মাথা নামিয়ে বলল, ওটা আমার একটা এমনিই খেয়াল। আসলে বোধ হয় আমাদের সঙ্গে কর্মচারীদের শত্রুতা কোনও দিন মিটবে না। কিন্তু ওদের শত্রু ভাবতে আমার ভাল লাগে না। ইচ্ছে করে ওদের সব দাবিদাওয়া মিটিয়ে দিই। কিন্তু ভেবে দেখেছি, শত্রুতাটা এমন এক জায়গায় পৌঁছে গেছে যে, দাবি মিটিয়ে দিলেও ওরা খুশি হবে না। ভিতরে ভিতরে গুমরে উঠবে, কেন একজন লোক আমাদের মালিক হয়ে আছে! কেন তাকে আমরা সম্মান করব? কেন তার সামনে আমরা সিগারেট খাব না? একজন মানুষ এখন আর কিছুতেই অন্য একজন মানুষের অধীন হতে চায় না। কেননা মানুষ তারই অধীন হতে পারে যাকে সে ভালবাসে।

ললিত একটু অবাক হয়েছিল অপর্ণার কথা শুনে। একটি অল্পবয়সি মেয়ের কাছে সে এ-রকম কথা আশাই করেনি। কে জানে, এ-সব কথা হয়তো ওকে বিমান শিখিয়েছে, এ-কথা হয়তো ওর নয়। সে মৃদু গলায় বলল, ব্যক্তিগত মালিকানার ওটাই তো দোষ। মালিকানা যদি রাষ্ট্রের হাতে যায়, যে-রাষ্ট্র সকলের স্বার্থে কাজ করে, তবে সেই রাষ্ট্রে এ-ব্যাপার হবে না।

অপর্ণা হাসল, আপনি কি কমিউনিস্ট?

ললিত উত্তর দিল না।

অপর্ণা মৃদু গলায় বলল, কমিউনিস্ট কি না এই প্রশ্ন করলে আজকাল অনেকেই চুপ করে থাকে। কিন্তু আমি জানি আপনি কমিউনিস্ট।

ললিত হাসল, কী করে জানলেন?

অপর্ণা বলল, অবশ্য আমার ভুল হতে পারে। তবু মনে হয় অনেক দিন আগে আপনার বন্ধু বিমানের কাছে আপনাদের কয়েকজনের কথা শুনতাম।

ললিত অবিশ্বাসের সুরে বলল, তাই নাকি?

অপর্ণা মৃদু হাসল, এক সময়ে ও আমাকে পড়ত। তখন ও কলেজের ছাত্র। খুব ভাল ছাত্র ছিল, কিন্তু কারও সঙ্গে কথাবার্তা বলতে পারত না। বাবা ওকে অনেক বলে কয়ে আমাকে পড়াতে রাজি করিয়েছিলেন। প্রথম প্রথম ও পড়াত না, চুপচাপ বসে থেকে বইপত্র নাড়াচাড়া করে উঠে যেত। কিন্তু আমি তখন বাচ্চা মেয়ে, ফ্রক পরি কাজেই বোধ হয় আমাকে ও বেশি দিন লজ্জা করল না। আস্তে আস্তে কথা বলতে শুরু করল, কিন্তু পড়ার কথা নয়। তখন ও মাঝে মাঝে ললিত নামে একজনের কথা বলত। সেই ললিত ছিল কমিউনিস্ট ইউনিয়নের নেতা, খুব চালাকচতুর চৌকস ছেলে। তাই যখন টেলিফোনে আপনি নাম বললেন, তখনই আমার সেই ললিতের কথা মনে পড়েছিল, তা ছাড়া আপনিও তো ওর কলেজের বন্ধু, কাজেই মনে হচ্ছে আপনি সেই ললিত। না?।

ললিত একটা অদ্ভুত শিহরিত আনন্দ বোধ করল। আশ্চর্য, কত দূরে কোথায় চলে গেছে তার পরিচয়। এই মেয়েটাও মনে রেখেছে তাকে! ললিতের বড় জানতে ইচ্ছে করে আরও কত দূরে। আরও কোথায় কোথায় লোকে তাকে মনে রেখেছে!

অপর্ণা ঘাড় হেলিয়ে তাকে একটু দেখল। তারপর রহস্যময় একটু হেসে বলল, আপনার বন্ধু একসময়ে আপনার খুব প্রভাবে পড়েছিল। প্রায়ই ব্যক্তিগত মালিকানা তুলে দিয়ে রাষ্ট্রগত মালিকানার কথা বলত। আমাকে বলত, তোমাদের কারখানার সব ক্যাপিটাল শেয়ারে ভাগ করে শ্রমিকদের মধ্যে বিলিয়ে দাও। নইলে একদিন শ্রমিকদের রাষ্ট্রে তোমাদের বিচার হবে…এইসব কথা। আমি তখন ছোট মেয়ে, ওর কথা শুনে হাঁ করে চেয়ে থাকতাম, কখনও হাসতাম। কিন্তু মনে মনে ওর সব কথাই আমার সত্য বলে মনে হত—

কেন? ললিত হঠাৎ জিজ্ঞেস করে।

অপর্ণা সামান্য একটু রাঙা হয়ে বলে, খুব ছেলেবেলায় ওর সঙ্গে একবার আমার বিয়ের কথা হয়েছিল। ওরা আমাদের জ্ঞাতি, দেশে আমাদের বাড়ি ছিল ওদের বাড়ির পাশে। এ-সব ক্ষেত্রে অনেক সময়ে যেমন হয়, বাবা-মায়েরা ছোট ছোট ছেলেমেয়েদের বিয়ে ঠিক করে রাখেন, আবার বড় হলে ভুলে যান, অনেকটা তেমনি। কাজেই ও যখন পড়াতে এল তখন আমি জানতাম যে এই লোকটাই একদিন আমার যথাসর্বস্ব।

বলেই চুপ করে গেল অপর্ণা।

ললিত হাসি চেপে বলল, বলুন।

অপর্ণা একটু ঘোর লাগা চোখে চেয়ে থেকে বলল, তাই ওর সব কথা আমি মনের মধ্যে গেঁথে নিতাম। কিচ্ছু ভুলতাম না। দেখুন না, আপনার নাম আমি আজও মনে রেখেছি।

ঠিক। ললিত ঘাড় নাড়ল।

অপর্ণা মৃদু হাসি হেসে বলল, আপনাকে দেখে ও একেবারে কমিউনিস্ট হয়ে গিয়েছিল। আমার কাছে আবার বাবার নিন্দে করত। বলত, আমাদের রক্তের মধ্যে বিষ থেকে যাবে এই মালিক স্বার্থের। তাই একদিন নাকি আমাদের মেরে ফেলা হবে!

শুনে আপনি রাগ করতেন না?

অপর্ণা মাথা নাড়ল, না। বরং ভয় হত খুব। ভাবতাম ও যা বলছে ঠিকই বলছে। আমার ইচ্ছে হত বাড়ি ছেড়ে, মা-বাবা ছেড়ে ওর কাছে চলে যাই। ও যেন আমাকে বাঁচায়। কিন্তু ওর এই মনোভাব বেশিদিন রইল না।

টালিগঞ্জ রেলব্রিজ পার হয়ে ট্যাক্সিওয়ালা মুখ ফেরাল, কোন দিকে যাবেন?

ললিত বলল, আর-একটু ভাই, তারপর আনোয়ার শা রোড—

অপর্ণার দিকে মুখ ফিরিয়ে বলল, তারপর?

অপর্ণা বলল, ও তখন আর-একজন বন্ধুর প্রভাবে পড়েছে। সেই বন্ধুটি ছিল জমিদার, পূর্ববাংলা কোথাকার যেন, পার্টিশানের পর সব ছেড়ে দিয়ে চলে এসেছে, তার নামটা কী যেন—

ললিত সাগ্রহে বলল, রমেন? রমেন্দ্রনারায়ণ চৌধুরী?

ঠিক। অপর্ণা উজ্জ্বল মুখে বলল, রমেন। সেই বন্ধুর সঙ্গে পরিচয় হওয়ার পর একদিন আমাকে এসে বলল, দেখো, আমার এই বন্ধুটি বড় অদ্ভুত। কলকাতায় ওর যেসব প্রজা-ট্রজা আছে তারা এখনও ওকে খুব সম্মান করে, ওর বাসায় যায়, ওর খোঁজখবর নেয় ঠিক যেন আত্মীয়ের মতো। রাস্তায়-ঘাটে দেখা হলে প্রণাম বা নমস্কার করে, ট্রামে-বাসে সিট ছেড়ে দেয়। অথচ ওরা পুরুষানুক্রমে প্রজাদের শোষণ করে আসছে। আমি জিজ্ঞেস করলাম, তাতে কী হল? ও উত্তরে বলত, হয় ওর প্রজাগুলো দীর্ঘকাল ওদের সম্মান করতে করতে নিজেদের একেবারে দাস বানিয়ে ফেলেছে, নয়তো ওরা সত্যিই ওকে ভালবাসে। তারপর এসে বলল, না, ওর প্রজারা ওর সঙ্গে আন্তরিক ব্যবহার করে। এটা ঠিক ম্যানার্স নয়। মোটর অ্যাকসিডেন্ট করে ও বুকের একটা হাড় ভেঙেছে, সেই শুনে ওর এক প্রজা মা কালীর কাছে কালো পাঁটা মানত করেছে। কোন স্বার্থে সেটা সে করবে? এখন তো আর ওর জমিদারি নেই যে সেই প্রজার একটু সুবিধে করে দেবে! ওরা সত্যিই ভালবাসে ওকে। আমি কিছুতেই বুঝতে পারছি না কী করে দুটো শ্রেণী তাদের স্বার্থ ভুলে, এবং সমাজ-বিপ্লব ছাড়াই একে অন্যকে ভালবাসছে।

ললিত সামান্য গম্ভীরমুখে বলল, ওটা হয়তো একটা একসেপশন। হয়তো রমেনরা বেশি চালাক ছিল, প্রজাদের প্রিয় হয়ে তাদের আরও বেশি এক্সপ্লয়েট করার চেষ্টা করেছিল।

অপর্ণা মাথা নেড়ে বলল, সে যাই হোক। ও কিন্তু আপনার প্রভাব কাটিয়ে উঠল। আমাকে বোঝাত, ব্যক্তিগত মালিকানা জিনিসটা খারাপ নয়। যদি এ-রকমভাবে দুটো শ্রেণী একে অন্যকে আঁকড়ে ধরে থাকে, যদি তারা পরস্পর পরস্পরের স্বার্থ হয়ে দাঁড়ায়, আর যদি ভালবাসে, ভালবাসা পায়, তা হলে জমিদার আর তার প্রজা চমৎকার কমিউন গড়ে তুলতে পারে। আমি তখন ওর কাছ থেকেই থা বলতে শিখেছি। বললাম, আর রাষ্ট্রের মালিকানার কী হবে! ও ঠোট উলটে বলল, দুর, রাষ্ট্র তো এটা যন্ত্র। যন্ত্র কি কখনও ভালবাসতে পারে! মানুষ ভাতকাপড়ের চেয়েও মানুষের ভালবাসা বেশি চায়। রমেন আর তার প্রজাদের মধ্যে সম্পর্ক দেখে আমি অবাক হয়ে গেছি। এখনও ওর প্রজাদের কেউ কেউ ছোট কর্তাকে না বলে মেয়ের বিয়ের সম্বন্ধ ঠিক করে না। জমি কিনবার সময়ে, চাষবাসের ব্যাপারে, রোগ-বালাইতে আগে আসে রমেনের কাছে তারপর উকিল ডাক্তার বা সরকারি লোকের কাছে যায়। রাষ্ট্র কি এতটা ভালবাসতে পারে! জমিদারের জায়গায় একদিন আসবে কমিউন বা ব্লকের অফিসার, কারখানায় আসবে সরকারি ডিরেক্টর, তাতে কি শ্রমিক বা প্রজারা খুশি হবে! তখনও তাদের একজন লোক চাই শোকে দুঃখে বিপদ বালাইয়ে কিংবা কেবল মন খারাপ হলেই যার কাছে ছুটে যাওয়া যায়, যাকে দেখলে বা যার কথা শুনলে বুক জুড়িয়ে যায় এমন কেউ একজন ভালবাসার লোক। রমেনরাও কি প্রজাদের কাছে তাই ছিল!

শুনে ললিত খুশি হল না, আস্তে করে বলল, কিন্তু অর্থনৈতিক শ্রেণীবৈষম্য থেকে গেলে শেষ পর্যন্ত এ ভালবাসা কি টেকে? কে গ্যারান্টি দিতে পারে যে রমেনের ছেলে রমেনের মতো হবে! তা ছাড়া মালিক-শ্রমিক সম্পর্কটাই তো ভয়াবহ, একে অন্যকে কিছুতেই বিশ্বাস করতে পারে না।

অপর্ণা একটু গম্ভীর হয়ে বলল, সেই জন্যই আমি এমন একটা স্বার্থ খুঁজছিলাম যাতে আমি আর আমার কর্মচারীরা সেই রমেনের মতো একে অন্যের প্রয়োজন হয়ে উঠি। আমি জোর করে মালিক হব না, কিন্তু ওরা আমাকে ওদের প্রয়োজনে ভালবেসে মালিক করে রাখবে, আমি ওদের সে-রকম স্বার্থ হয়ে উঠতে পারি কি না, এ-রকম একটা খ্যাপাটে ইচ্ছে আমার মাঝে মাঝে হয়!

ললিত হাসতে থাকে। বুক থেকে বমির ভাবটা সরে যাচ্ছে এখন। সে বলে, আপনার খুব মালিক হবার ইচ্ছে!

অপর্ণা ম্লান হাসে, না। আমার কেবল ওইটা পরীক্ষা করার ইচ্ছে যে, দুটো শ্ৰেণীকে তুলে না দিয়ে একে অন্যের স্বার্থ হওয়া যায় কি না! আসলে আমার এখন ওই রমেনের মতো একজন হতে ইচ্ছে করে।

অম্বলে ললিতের বুক জ্বলে যায়। সিগারেটে ডুবে থাকে সে। ট্যাক্সিটা ধীরে ধীরে আনোয়ার শা রোডে ঘুরে ঢুকে যাচ্ছে।

ললিত ধীরে ধীরে বলল, ওটা বোধ হয় আপনার দুর্বলতা। আপনি চাইছেন মালিকানা চলে গেলেও যেন আর-এক ধরনের মালিকানা এসে যায় হাতে। একটা শেষ সম্বল রেখে দিতে চান, তাই না?

অপর্ণা একটু উদ্ভ্রান্তের মতো চেয়ে থেকে বলে, রমেনও কি তাই চেয়েছিল?

ললিত ঘাড় নাড়ে, বোধ হয় রমেনের ব্যাপারটাও তাই। ওর মধ্যে বংশানুক্রমিক একটা জমিদারির ভাব থেকে গেছে। ওটা হেরিডিটারি, এড়ানো যায় না। জমিদারি কিংবা মালিকানা চলে গেলে মানুষ তখন নেতা হবার চেষ্টা করে। ভারতবর্ষের অনেক নেতাই এসেছেন অভিজাত সমাজ থেকে। মানুষ তাদের ত্যাগের মহিমা কীর্তন করেছে, কিন্তু কখনও ভেবে দেখেনি তারা সেই বংশানুক্রমিক আভিজাত্যের কাছেই নতুন রকমে মাথা বিকিয়ে দিল।

অপর্ণা অবাক হয়ে বলে, তা কেন? যে ভাল তাকে ভালবাসতে দোষ কী?

ললিত অধৈর্যের ভঙ্গিতে মাথা নাড়ে, তা হবে না। এমন সমাজ হয়তো তৈরি হবে যখন মানুষ মালিক বা জমিদারের এই ভালবাসাকে ঠিক বিশ্বাস করবে না। তাদের কাছ থেকে একটুও সম্মান পাবেন না আপনি। তখন যে-কেউ সিগারেট খাবে আপনার সামনে, ইচ্ছে হলে সেই ছোকরা আপনার কাছে—

বলেই থেমে গেল ললিত। সে বলতে যাচ্ছিল ‘আপনার কাছে প্রেম নিবেদন করবে। নির্ভয়ে।’ কিন্তু সে-কথাটা বড় নিষ্ঠুর। বলার নয়।

অপর্ণার মুখ এখন নানা রঙে রঙিন। মুখের রেখা কেমন পালটে যাচ্ছে। হঠাৎ সে রুদ্ধশ্বাসে বলল, আমি সব ছেড়ে দিতেই তো চাই। আমার এ-সব একটুও ভাল লাগে না। এই কারখানা, স্ট্রাইক, কর্মচারীদের সঙ্গে শত্রতা, এ-সব মনে হলেই আমার বুক কাঁপে। ইচ্ছে করে চলে যাই কোথাও।

ললিত শান্ত গলায় জিজ্ঞেস করে, কোথায় যাবেন?

অপর্ণা আস্তে করে বলে, সেই ছেলেবেলায় যেমন ওর কথায় ভয় পেয়ে ইচ্ছে হত এর সঙ্গে বাড়ি ছেড়ে চলে যাই, ঠিক তেমনিই একটা ইচ্ছে হয় আমার। ও আমাকে এই সব গোলমাল থেকে টেনে নিয়ে যাক। কিন্তু ও কেন পাগল হয়ে যাচ্ছে—ও কেন—বলতে বলতে ঠোঁট কেঁপে গেল অপর্ণার।

ব্যথিত মনে ললিত চুপ করে থাকে। সে নিজে যে কথাগুলো বলেছে সেগুলো অত্যন্ত নিষ্ঠুর। না বললেও হত।

কিন্তু এ-কথাটা সে কিছুতেই মনে মনে সহ্য করতে পারছিল না যে এই মেয়েটার রমেনের মতো হতে ইচ্ছে করে। কেন, রমেনের মতো কেন? এ-মেয়েটা তো রমেনাকে চেনেও না।

হঠাৎ খুব হীনের মতো একটা কাজ করল ললিত, যার জন্য পরে সে অনুতাপ করেছিল। সে হঠাৎ অপর্ণাকে বলল, রমেন তার প্রজাদের কাছে হয়তো দেবতা ছিল। কিন্তু নিজের স্ত্রীর কাছে? আপনি কি জানেন যে ওর বউ পালিয়েছিল বলে ও হঠাৎ সন্ন্যাসী হয়ে গেছে?

ভীষণ অবাক হল অপর্ণা। বলল, নিশ্চয়ই বাজে মেয়ে! নইলে ও-রকম লোকের কাছ থেকে পালায়!

ট্যাক্সিটা এসে দাঁড়াল সেই বট গাছটার তলায় যার চার দিকে বাঁধানো বেদি, যেখানে বিমান কাল ছেলেদের পাল্লায় পড়েছিল। ট্যাক্সি এই পর্যন্ত আসে, এরপর হেঁটে যেতে হয়। ললিত ভাড়া দেওয়ার জন্য পকেটে হাত দিয়েছিল, অপর্ণা ভীষণ রাঙা হয়ে বলল, না, না, ট্যাক্সিটা আমিই ডেকেছিলাম… খুব লজ্জা আর সংকোচের সঙ্গে বাধা দিয়ে অপরাধীর মতো নিজেই ভাড়াটা দিয়ে দিল।

করুণা! ললিত মনে মনে হাসল।

বিমান শুয়ে ছিল। ললিতকে দেখে উঠে বসবার চেষ্টা করে বলল, চিঠিটা দিয়েছ?

ললিত দরজায় দাঁড়িয়ে, পিছনে অপর্ণা। হেসে বলল, দিয়েছি। আর উত্তরটাও নিয়ে এসেছি।

কই? বলে হাত বাড়াল বিমান।

ললিত সরে গেল, তারপর জোরে হেসে উঠল।

কিন্তু ললিত বুঝতে পারল হাসিটা ওদের স্পর্শও করেনি। ধীর পায়ে অপর্ণা ঘরে এসে দাঁড়াতেই বিমানের সঙ্গে অপর্ণার চোখ পরস্পর গেঁথে গেল। নিস্পন্দ হয়ে রইল দু’জনে। কিন্তু সেই নিথরতার মধ্যেও তাদের মুখে যেন কয়েকটা রূঢ় কর্কশ রেখা কোমলতায় বেঁকে গেল। ইঙ্গিতময় ভাববাহী হয়ে গেল ঘরের বাতাস। ললিত বুঝল ওরা কথা না-বলে, চেষ্টাহীনভাবে পরস্পরকে গভীর ভালবাসা জানাতে পারে।

কষ্ট হল ললিতের। বিমানটা পাগল। আর এ একজন কারখানা-মালিকের মেয়ে। কিন্তু মনে হয়, ওরা দু’জনেই ভিখিরি—অকিঞ্চন—ওদের দু’জনের ওরা দু’জন ছাড়া আর কিছু নেই। দুটোই পাগল।

তার ইচ্ছে হল অপর্ণাকে ডেকে বলে, যদি কোনও দিন ভবিষ্যতের সমাজ মালিক পক্ষকে অবলুপ্ত করতে চায়, সেদিন আপনাকে ক্ষমা করা হবে, কেননা আপনি এই পাগলকে ভালবেসেছিলেন।

ললিত দু’জনকে ওই অবস্থায় রেখে বেরিয়ে এল। বাইরে থেকে দরজাটা টেনে ভেজিয়ে দিল সাবধানে।

সকল অধ্যায়
১.
প্রথম অধ্যায়
২.
দ্বিতীয় অধ্যায়
৩.
তৃতীয় অধ্যায়
৪.
চতুর্থ অধ্যায়
৫.
পঞ্চম অধ্যায়
৬.
ষষ্ঠ অধ্যায়
৭.
সপ্তম অধ্যায়
৮.
অষ্টম অধ্যায়
৯.
নবম অধ্যায়
১০.
দশম অধ্যায়
১১.
একাদশ অধ্যায়
১২.
দ্বাদশ অধ্যায়
১৩.
ত্রয়োদশ অধ্যায়
১৪.
চতুর্দশ অধ্যায়
১৫.
পঞ্চদশ অধ্যায়
১৬.
ষোড়শ অধ্যায়
১৭.
সপ্তদশ অধ্যায়
১৮.
অষ্টাদশ অধ্যায়
১৯.
ঊনবিংশ অধ্যায়
২০.
বিংশ অধ্যায়
২১.
একবিংশ অধ্যায়
২২.
দ্বাবিংশ অধ্যায়
২৩.
ত্রয়োবিংশ অধ্যায়
২৪.
চতুর্বিংশ অধ্যায়
২৫.
পঞ্চবিংশ অধ্যায়
২৬.
ষড়বিংশ অধ্যায়
২৭.
সপ্তবিংশ অধ্যায়
২৮.
অষ্টাবিংশ অধ্যায়
২৯.
ঊনত্রিংশ অধ্যায়
৩০.
ত্রিংশ অধ্যায়
৩১.
একত্রিংশ অধ্যায়
৩২.
দ্বাত্রিংশ অধ্যায়
৩৩.
ত্রয়োত্রিংশ অধ্যায়
৩৪.
চতুর্ত্রিংশ অধ্যায়
৩৫.
পঞ্চত্রিংশ অধ্যায়
৩৬.
ষট্ত্রিংশ অধ্যায়
৩৭.
সপ্তত্রিংশ অধ্যায়
৩৮.
অষ্টত্রিংশ অধ্যায়
৩৯.
ঊনচল্লিশ অধ্যায়
৪০.
চল্লিশ অধ্যায়
৪১.
একচল্লিশ অধ্যায়

নোট নিতে এবং টেক্সট হাইলাইট করতে লগইন করুন

লগইন
০%