দু'ভাগে

মতি নন্দী

''বলো আপনার বড় জ্যাঠাবাবুর ছেলে বিনোদবাবু এসেছেন।''

চাকরটির ভ্রূ পলকের জন্য কুঞ্চিত হয়েছিল। তারপরই সৌজন্য স্বরে বলল, ''বসুন।''

সে ভিতরের ঘরে ঢুকল। কিছু পরে এসে বলল, ''অপেক্ষা করতে বললেন।''

টাইপ করে চলেছে একটি লোক। ফিরেও তাকাল না। টাইপ কাগজগুলো সাজিয়ে রাখছে আর একজন। সে বলল, ''দাঁড়িয়ে কেন, বসুন।''

প্রায় আধঘণ্টা পর কাপড়ে জড়ানো খাতা আর কাগজের বান্ডিল হাতে তিনটি লোক ভিতরের ঘর থেকে বেরোল। ঘণ্টা বাজল। চাকরটি ছুটে গেল, এসে বলল, ''ডাকছেন।''

পুরু কাচ সেক্রেটারিয়েট টেবলের উপর। ব্রিফ ছড়ানো। নিয়ন আলো জ্বলছে তবু একটা টেবলল্যাম্প। ঘুনু মুখ নামিয়ে একটা মোটা বইয়ের পাতা ওলটাচ্ছে, থামছে, আবার ওলটাচ্ছে। টাক পড়েছে, মোটা হয়েছে। পাশে দাঁড়িয়ে এক যুবক, হাতে মোটা বাঁধানো বই। বাইরের ঘরের মতো এটাও বইয়ে ঠাসা। টেবলের তিন দিকে পাঁচ—ছটা চেয়ার। বিনোদ একটার পিঠে হাত রেখে দাঁড়াল।

তখন ফোন বেজে উঠল। যুবকটি ব্যস্ত হয়ে রিসিভার তুলে কানে দিয়েই মৃদু স্বরে বলল, ''স্যার আপনার।''

রিসিভার হাতে নেবার আগে ঘুনু ইশারায় বিনোদকে বসতে বলল।

''হ্যাঁ ভালই পরীক্ষা দিয়েছে। স্ট্যান্ড করার কথা কি বলা যায়, তবে আশা তো করি। হ্যাঁ হ্যাঁ, আচ্ছা। এ সময় তো ব্যস্ত থাকিই।''

রিসিভার নামিয়ে রাখতে দেখে বিনোদ বলল, ''ঘুনু এই দ্যাখ।''

ভাঁজ করা খবরের কাগজের একটা পাতা, এতক্ষণ যেটা হাতে ধরা রয়েছে বিনোদ টেবলে রাখল।

''দাঁড়িয়ে কেন বোস।''

''অনেকদিন পর দেখা, বোধহয় বড় জ্যাঠাবাবু মারা যাওয়ার পর এই প্রথম।''

ঘুনু খুঁটিয়ে লক্ষ্য করছে। হয়তো জিজ্ঞাসা করবে, কেমন আছিস, কোথায় থাকিস, কী কচ্ছিস। বিনোদ পাতাটা তুলে নিয়ে বলল, ''এই যে এই খবরটা।''

কাগজটা তুলে লাল পেন্সিল দাগানো জায়গাটা ঘুনু পড়তে শুরু করল। যুবকটি দেয়াল ঘেঁষা চেয়ারটিতে গিয়ে বসল। দেয়ালে একটা অয়েল পেইন্টিং। গোঁফওয়ালা মেজকাকা, ঘুনুর বাবা। উকিলের পোশাকে, মুখে হাসি, কিন্তু বিনোদ ওঁকে কখনো হাসতে দেখেনি। কম বয়সী দেখাচ্ছে, কিন্তু মারা গেছেন সাতাশিতে। একবার খবরও দেয়নি, শ্রাদ্ধেও না।

ঘুনুর মুখে ভাবান্তর হচ্ছে না। কী ভাবছে সেটা বুঝতে না পেরে বিনোদ খাপছাড়া ভাবে বলল, ''সেজন্য মোটেই আত্মহত্যা করেনি, ডাহা মিথ্যে কথা ছাপিয়েছে।''

''কে এই বীরেন্দ্রনাথ?''

''আমার বড় ছেলে।''

ঘুনুর বিস্ময়সূচক শব্দ টেবলের এধারে পৌঁছল দেরিতে।

''আমার ছোট মেয়েও এবার পরীক্ষা দিল। তোর কটি ছেলেমেয়ে?''

''তিন ছেলে এক মেয়ে। খোকাই বড়।''

''খোকাই বীরেন্দ্রনাথ? ভেরি স্যাড।''

ঘুনু শোকার্ত ভঙ্গিতে মাথা নামিয়ে কাগজটার দিকে তাকিয়ে রইল। টেবলে অনেকগুলো পেপারওয়েট। তার একটা মুঠোয় চেপে ধরল বিনোদ।

''একটা ছেলেকে মানুষ করে তোলা যে কী জিনিস। ওরা তো ফলাফল ভেবে কাজ করে না। আসলে এই বয়সে ওরা সেন্টিমেন্টাল থাকে।''

ঘুনু ব্যথিত স্বরে বলল কথাগুলো। বিনোদ তখন দেখছিল টেবলের কাচে তাদের দুজনের ছায়া। ঘোলাটে, বহির্রেখাহীন দুটো মাথার ছাঁচ টেবলে যেন শোয়ানো। খোকার মুণ্ডু আর ধড় আলাদা করে লাশকাটা টেবলে রাখা হয়েছিল।

টেবলে আর একটা মাথা ছায়া ফেলল।

''স্যার পেয়েছি।''

যুবকটি হাতের বইটার পাতা খুলে টেবলে রাখল। ঘুনু ঝুঁকে পড়ল। সন্তর্পণে হাত বাড়িয়ে বিনোদ নিজের ছায়াটা মুছল। কাচে ঘামের দাগ পড়ল। তীক্ষ্ন চোখে তাকাল। অনেকটা খোকার মুখের মতো। মুখটা ফুলে রয়েছে। চোখের মণি দুটো বড় হয়ে ঠিকরে বেরিয়ে আসছে ঠিক এইভাবেই খোকা একদিন তাকিয়েছিল। কবে যেন...

বিনোদ মনে করার জন্য এক একটা দিনকে বইয়ের পাতা ওল্টাবার মতো অতিক্রম করে অবশেষে গঙ্গার ধারে এসে দাঁড়াল। ঘাটের উপর তারা মাত্র দুজন। সে আর খোকা। সে বলল, ''কি আর তোকে খাওয়াই, একটা ডিম আর দুটো কলা।''

''না, না, সবাই তাকিয়ে থাকে।''

''ওদের কথা ভেবেই তোর পিছনে খরচ করি। পুষ্টিকর জিনিস না খেলে ব্রেন তৈরি হয় না। লেখাপড়ায় ভাল না হলে, উন্নতি করবি কী করে! আমি তোকে মানুষ করব, এটা আমার কর্তব্য। তুই ছোট ভাইদের মানুষ করবি। এই ভাবেই তো সংসার চলে, জগৎ সংসার। আমি আর কদিন।''

খোকা মাথা নামিয়ে শুনছিল। থুতনি ধরে মুখটা তুলতেই জল নেমে এল চোখ থেকে। মাথা নেড়ে বলল, ''আমার ভয় করে ভাবতে। আমি পারব না।''

ওর চোখে কী অদ্ভুত ত্রাস। মণি দুটো বড় হয়ে ঠেলে বেরিয়ে আসছে। আঙুল ছুঁইয়ে দিতেই ও চোখ বন্ধ করল।

''আমার ছেলে?'' বিনোদ কাচের উপর ছায়াটায় আঙুল রেখে বলল, ''সন্ধের পরই খোঁজ শুরু করি।''

''কোথায় খুঁজলি?'' ঘুনু মৃদুস্বরে বলল।

''ওর সঙ্গে পরীক্ষা দিচ্ছে একটা ছেলে, কাছেই থাকে। তার বাড়ি গেলাম। সে বলল, টুকছিল বলে পরীক্ষার হল থেকে খোকাকে বার করে দিয়েছে। বাজে কথা, এসব কাজ ওর পক্ষে করা সম্ভব নয়।''

''কী করে বুঝলি!''

বিনোদ অসাড় বোধ করল, একজোড়া চোখ মতলববাজের মতো তাকে তাক করছে দেখে।

''তোর ছেলে কি টুকেছিল? হাতেনাতে ধরে ফেলেছে বলে কাগজে লিখেছে।''

''মিথ্যে কথা লিখেছে। সেইজন্যই এসেছি, মানহানির মামলা করব।''

ঘুনু ভ্রূ নাচাল। যুবকটি দুজনের দিকে তাকিয়ে আবার বইয়ে মন দিল।

''তাহলে বার করে দিল কেন?'' ঘুনু কোণঠাসা প্রশ্ন করল ধাতব কণ্ঠে, দ্রুতস্বরে।

''ভুল করে।''

''সেটা যে ভুল, কে বলল তোকে? ছিলিস সেখানে?''

''ছেলেরা, যারা ওই ঘরে পরীক্ষা দিচ্ছিল, তারা বলেছে।''

''গার্ড যখন ধরল, ওরা কেউ কি তখন তাকে কিছু বলেছিল, প্রতিবাদ করেছিল?''

বিনোদ চুপ রইল।

''তাহলে?''

ঘুনু দুই হাঁটু নাচাচ্ছে। গেঞ্জির নিচে থলথল করছে চর্বি।

খোকা কি এক কথায় খারিজ হয়ে গেল! বিনোদ অবাক হয়ে ঘুনুর দিকে তাকিয়ে রইল। চোখের পাতা ঝুলে মণির অর্ধেকটাই ঢাকা। তিন—চারটে ভাঁজ চোখের তলায়। স্তিমিত, ধূর্ত, পরিতৃপ্ত চাহনি। বিনোদের গা শিরশির করে উঠল। এই চোখ, ঘুনুর এই চোখই কি উজ্জ্বল দীর্ঘ ছিল। পুরনো বাড়ির হলঘরের দেয়ালে একটা অয়েল পেইন্টিংয়ের দিকে আঙুল দেখিয়ে ঘুনু বলেছিল, ঠিক কর্ণের মতো তাকিয়ে রয়েছে। কি তেজ দেখেছিস!

কোন সময়ের কর্ণ? ঘুনু বলেছিল, রথচক্র যখন মাটিতে বসে গেছে তখন অর্জুনের দিকে তাকিয়ে যখন বলল এক সেকেন্ড, আগে এটা তুলে নিই, তখনকার কর্ণ।

একি সাইকেলের পাংচার হওয়া টিউব বদল করা? ঘুনু বলেছিল, অর্জুনটা কাওয়ার্ড স্পোরটিং স্পিরিট দেখাতে পারেনি।

তুই দেখাতে পারতিস? ঘুনু জবাব না দিয়ে আয়নার সামনে তার দীর্ঘ চোখ থেকে তেজ বার করে দেখাবার চেষ্টা করতে থাকে।

''ঘুনু কী তেজ, কী অহঙ্কার দেখলাম দু চোখে।''

''কার?''

''খোকার। মর্গে দেখলাম ওর মরামুখে শুধু দুটি চোখ।''

ঘুনু দু'হাত তুলে আড়মোড়া ভাঙল। চাকরটি ঘরে ঢুকে ইতস্তত করে বেরিয়ে গেল। যুবকটি উশখুশ করছে।

''সে তো তেজ দেখিয়ে, তার নিজের অহঙ্কার রক্ষা করল। কিন্তু এখন তুই? লোকে তো বলবে এর ছেলে পরীক্ষায় টুকেছিল।''

''সেইজন্যই তো তোর কাছে এসেছি। বিচার হোক। বিশ্বাস কর, ওর চোখে গ্লানি ছিল না।''

''অতএব আমার ভাইপো নির্দোষ। সে টোকেনি, কাগজে মিথ্যা রিপোর্ট ছেপে তাকে কলঙ্কিত করেছে, তার বংশকে অপমান করেছে। সুতরাং হুজুরের কাছে নিবেদন, আমার ভাইপোকে, বংশকে কলঙ্ক মুক্ত করুন। কারণ তার চোখে—''

ঘুনু থেমে গেল পেপারওয়েট হাতে কাঁপতে কাঁপতে বিনোদকে উঠে দাঁড়াতে দেখে। যুবকটি দ্রুত এসে বিনোদের হাত চেপে ধরল। ঘুনুর মুখে টকটকে রাগ ফেটে পড়ার উপক্রম করছে।

বিনোদ মাথাটা হেলিয়ে বিড়বিড় করে বলল, ''আমার ছেলে আত্মহত্যা করেছে, সেজন্য আমি গর্বিত।''

এই বলে সে ঘর থেকে বেরিয়ে যাবার জন্য দরজার কাছে এসেছে তখন ঘুনু বলল, ''নুদু তুই ভুল বুঝছিস।''

''কী বললে?''

তারপরই শুধরে নিয়ে বিনোদ বলল, ''কী বললি?''

ঘুনু কথা বলছে। ওর ঠোঁট, গাল আর থুতনির চর্বি নড়াচড়া করছে। কিন্তু বিনোদ তার একটা কথাও শুনতে পাচ্ছে না। এখন লক্ষ—যোজন মাইল দূর থেকে একদল শব্দের ধ্বনি একটা দিনের স্মৃতি গমগম শব্দে বহন করে আনছে। টলতে টলতে তারা বিনোদের সামনে এসে দাঁড়িয়েছে। প্রতিটি ধ্বনির কণ্ঠে বাবার মুখ। সলজ্জ কাতর চোখ দুটি ফিরিয়ে চুপ করে বসে। অনেকটা এখন যেভাবে ঘুনু তাকাচ্ছে।

বহু বছর আগেকার যুবক বিনোদকে দেখতে পেল বিনোদ। পায়চারি করছে আর বাবার দিকে তাকাচ্ছে। মাঝে মাঝে থমকে দাঁড়াচ্ছে, তখন উনি চমকে আড়চোখে তাকাচ্ছেন। এক সময় যুবক বিনোদ বলল, ''একবার যা দান করেছ, এতকাল পর তা চেয়ে নিতে তোমার লজ্জা করবে না?''

''কুঞ্জ বলেছিল ফেরত দেবে।''

''হ্যাঁ বলেছিল, কিন্তু তাকে তুমি বলেছিলে, সারা জীবন তুই আমাদের বাড়ি দুধ বেচেছিস, তিন হাজার টাকার জন্য তোর ছেলের বিলেতে ডাক্তারি পড়তে যাওয়া আটকাবে, তা কি একটা কথা হল? টাকা আমায় ফেরত দিতে হবে না।''

''বলেছিলুম। কিন্তু কুঞ্জ তারপরও বলে, বড়বাবু ছেলে যদি মানুষ হয়ে ওঠে তাহলে ও টাকা আপনাকে ফেরত নিতেই হবে। কুঞ্জর ছেলে এখন দিনে হাজার টাকা রোজগার করে। নদু পরশুর মধ্যে দু'হাজার টাকা চাই। মামলাটায় হেরে গেলে এ বাড়ি নিলাম হয়ে যাবে। তোর কাকারা আমায় চোর প্রতিপন্ন করবে। আর মুখ দেখাতে পারব না।''

যুবকটি তীব্রস্বরে বলল, ''তোমার বয়স তো এখন একাত্তর। বললেই বা চোর কদিন আর তুমি বাঁচবে?''

''নদু তোকে যে চোরের ছেলে বলবে!''

যুবকটির দিকে তখন একজোড়া চোখ এমনভাবে তাকিয়ে যেন এবারই জীবন শুরু হবে, সামনে একাত্তর বছরের ভবিষ্যৎ যেন পড়ে রয়েছে। কিন্তু যুবক তিক্ত কণ্ঠে বলে ওঠে,

''কাকারা যা খুশি বলুক। কিন্তু লোকে যে আমার দিকে আঙুল দেখিয়ে বলবে, এর বাবা, এর বাবা, এর বাবা। ফেরত নেবে না বলে যা দিয়েছিল আবার তা ভিক্ষে করে নিয়েছিল।''

''কী বললি?'' চিৎকার করে উঠেছিলেন।

বিনোদ চমকে দেখল ঘুনুর হাতে একশো টাকার একটা নোট। ঘাড় নামিয়ে ড্রয়ারটা বন্ধ করছে।

''এটা নে।''

''কেন?''

''এমনিই দিচ্ছি। কেন, আমি দিলে কি তুই নিবি না? তোর ছেলেমেয়েদের মিষ্টি খাবার জন্য কি কিছু দিতে পারি না?''

''ঘুনু আমাদের সেই ছবিগুলো নিলামে কারা কিনেছিল জানিস কিছু?''

''কোন ছবি!''

''যার একটার চোখ দেখে বলেছিলিস কর্ণের মতো।''

কয়েক সেকেন্ড মনে করার চেষ্টার পর ঘুনু হেসে ফেলল।

''নাহ, ওসব ছবির সেন্টিমেন্টাল ভ্যালু ছাড়া কোনো দাম নেই এখন।''

এই বলেই সে দেয়ালে নিজের বাবার ছবিটার দিকে তাকিয়ে ভ্রূ কোঁচকাল। বিনোদও তাকাল।

''আসলে কি জানিস নদু, একটা বংশ বিরাট বটগাছের মতো। মাটির তলায় অনেক দূর পর্যন্ত শেকড়টা ছড়িয়ে পড়ে। যদি গাছটা ধীরে ধীরে মরেও আসে, তবু শেকড় অনেকদিন বেঁচে থাকে, আমাদের সেই বাজ পড়ে জ্বলে যাওয়া পাম গাছটার কথা ভাব। কতদিন পর্যন্ত খাড়া ছিল!''

ঘুনু মাথা নাড়ল। বিনোদ অস্ফুটে বলল, ''কতদিন পর্যন্ত শেকড় বাঁচে?''

''টাকাটা ধর। মক্কেলরা বাইরে বসে।''

''কুঞ্জ গয়লার ছেলে এখন বিরাট ডাক্তার। ওর বিলেত যাওয়ার টাকা কে দিয়েছিল জানিস?''

''শুনেছি বড়জ্যাঠাবাবু দিয়েছিলেন।''

বিনোদ উঠে দাঁড়াল।

''তুই যদি মামলা করতে রাজি হোস তাহলে নেব।''

ঘুনু ফিকে হেসে মাথা নাড়ল।

''নদু এ নিয়ে মামলা হয় না। শোকে তোর মাথা খারাপ হয়ে গেছে। অবশ্য হওয়ার মতোই ব্যাপার।''

''তাহলে কী নিয়ে মামলা হয়?''

কথাটা বলেই বিনোদ টেবলের কাচে তাকাল। তার সন্দেহ হল, মর্গে খোকার চোখ তেজ দেখিয়ে, না বাসি হয়ে যাওয়ায়, কোন কারণে ফুলেছিল? হঠাৎ তাহলে কেন ঘুনুকে বলতে গেলাম, তেজ ছিল অহঙ্কার ছিল। মিথ্যা বললাম? তিনদিনের বাসি খোকা ফুলে টসটসে হয়ে দু'ভাগে ভাগ করা ছিল। ওর চোখে তেজ কি সম্ভব! ঘুনু হয়তো মনে মনে হাসছে।

''মামলা করে কী লাভ হবে তোর? ধর প্রমাণ হল তোর ছেলে টোকেনি, তাহলে বাপ হিসেবে হয়তো মর্যাদা রক্ষা পাবে, ছেলেটা কি তাতে বেঁচে উঠবে?''

বিনোদ অত্যন্ত অসহায় বোধ করল হঠাৎই। কথাটা কয়েক বারই তারও মনে হয়েছিল। খোকা কোনো ভাবেই তো বেঁচে উঠবে না, তাহলে মামলা করে কী লাভ! আবার মনে হয়েছে তবে মর্যাদাটা বাঁচাবার চেষ্টা করতে দোষ কি?

''পাবে রক্ষা পাবে। খোকার মর্যাদা রক্ষা পাবে। সে হীনতা করেনি, এ কথাটা চিরকাল থেকে যাবে। এটাই আমি চাই।''

''চাস নিজের জন্য। এটা শখের ব্যাপার তোর কাছে।''

বিরক্ত ঘুনু ঘণ্টা বাজাল। চাকর ঘরের ঢুকতেই বলল, ''আসতে বল।'' তারপর একশো টাকার নোটটা এগিয়ে ধরল। খবরের কাগজটা পকেটে রাখতে রাখতে বিনোদ বলল,

''না থাক।''

প্রায় একঘণ্টা পর একই স্বরে বিনোদ বলল, ''না থাক।''

কথাটা বলে বিনোদ আর একবার ঘরের মধ্যে চোখ বোলাল। এতবড় ডাক্তার কিন্তু জিনিসগুলো অতি সাধারণ ও সামান্য। ঘরের কোণে রোগী পরীক্ষার জন্য খাট, একটা বেসিন, আলমারিতে কিছু যন্ত্রপাতি আর ওষুধের শিশি। টেবলে স্তূপকরা নানান ওষুধ কোম্পানির কাগজের মধ্যে ফাঁকা জায়গা অল্পই।

এই হচ্ছে কুঞ্জর ছেলে। গেটের ধারে বাবার চটি আগলে দাঁড়িয়ে থাকত। ভিতরে ঢোকার সাহস ছিল না। কুঞ্জ দুধ দিয়ে ফিরে এসে চটি পরত। কুঞ্জকে 'তুমি' বলতে বিনোদ।

লম্বা চওড়া, ভারী গড়ন। কাঁচাপাকা ঘন চুল। ঢিলে বুশ শার্ট। পুরু ফ্রেমের চশমা। শান্ত গভীর চাহনি। ধীরে কথা বলে। একে 'আপনি' বলতে হবে।

''চলি এখন। আপনি ব্যস্ত মানুষ, আর সময় নষ্ট করা উচিত হবে না। এমনিই এসেছিলাম। বাবার সঙ্গে অনেকদিন আগে বোধহয় আপনার দেখা হয়েছিল!''

''তা, কয়েক বছর তো হল, বলেছিলেন ডায়বিটিসে ভুগছেন। পরীক্ষাও করেছিলাম। সেরে ওঠার প্রশ্নই ছিল না, যে কটা দিন... শেষে কি খুব কষ্ট পেতেন?''

''না না, তেমন কিছু নয়।''

''বলেছিলাম আবার আসতে।''

বিনোদের মনে হচ্ছে একটা ট্রেনের জন্য সে অপেক্ষায় রয়েছে। ট্রেনটা লেট করে আসছে, কিন্তু কত দেরিতে আসবে বুঝতে পারছে না। তাই প্ল্যাটফর্ম ছেড়ে কোথাও যেতেও পারছে না।

''এসেছিলেন?'' কথাটা বলতে বলতে নিশ্বাস নেওয়ার কাজ বন্ধ হয়ে এল বিনোদের। দূরে অস্পষ্ট এলোমেলো শব্দ একটানা হয়ে ক্রমশ যেন বড় হয়ে উঠছে। ট্রেন আসছে বোধ হয়।

''না।'' ডাক্তার ললিত ঘোষ মাথা নাড়ল। ''দেখাতে আর আসেননি।''

বিনোদ নিশ্বাস ছাড়ল, বুক ভরে নিল।

''তবে অন্য একটা ব্যাপারে এসেছিলেন।''

ললিত ইতস্তত করে টেবলে কলমটা ঠুকতে লাগল। বিনোদ কান পাতল। ট্রেনটা আসছে। খোকা শুয়ে পড়েছে লাইনে গলা রেখে। সার্চ লাইটের আলো থরথর করে লাইনে পড়ছে, পিছলে যাচ্ছে। এবার হুইসল দেবে, কেন না ড্রাইভার দেখতে পেয়েছে ব্যাপারটা।

''উনি টাকা চাইতে এসেছিলেন।''

বিনোদই বলেছিল ললিতের হয়ে। কৃতজ্ঞ ললিত হাসল।

''বলেছিলাম পরের দিন আসতে। চেক নিতে রাজি হননি।''

''এসেছিলেন?''

ললিত মাথা নাড়ল।

বিনোদ সঙ্গে সঙ্গে যুবক বিনোদকে দেখতে পেল। বিরাট ফাঁকা বাড়িতে একটা চটির শব্দ ক্রমশ এগিয়ে আসতে আসতে হলঘরে এসে থামল। হলঘরে বিনোদ দাঁড়িয়ে। আসবাব, ছবি সবই নিলামদাররা বহু আগেই নিয়ে গেছে। বাড়ি আজই ছেড়ে দিতে হবে।

''রাত্তিরে গেলে হয় না।''

''কেন!''

''দিনের বেলা সবাই ভিড় করে দেখবে।''

''দেখুক না।'' বাবা হাসলেন। ''চোর নাকি আমরা?''

ঘরের দেয়ালে চৌকো চৌকো সাদা, ওখানে ছবি টাঙানো ছিল। বিনোদ সেই সাদায় চোখ রেখে বলেছিল, ''রাত্তিরে গেলে ক্ষতি কি।''

বাবা গম্ভীর হয়ে গেলেন, চোয়াল শক্ত করে জানলা দিয়ে বাইরে তাকিয়ে রইলেন। অনেক পরে বললেন, ''তাহলে রাতেই যাব।''

কণ্ঠস্বরে যেন পাহাড়ের চুড়ো ভেঙে পড়ার শব্দ ছিল। বিনোদ চেষ্টা করল মুখটা দেখতে। কপাল থেকে থুতনি, রেখাটা অসমান চড়াইয়ের মতো। পাথরের মতো কর্কশ মণি দুটো। গালে জমাট লাভাপ্রবাহের প্রাচীনত্ব। দুই ভুরুতে বন্য গুল্মের ঝোপ। দাঁড়াবার ভঙ্গিতে প্রতিধ্বনিত হচ্ছে বিশালত্বের অহঙ্কার।

''থাক, দিনেই যাব।''

''কেন?''

বাবা ঘুরে দাঁড়ালেন। 'কেন' শব্দটায় হলঘর ভরে গেল।

''যখনই যাই না কেন, লোকে তোমায় দেখতে পাবেই।''

এই বলে যুবক বিনোদ ঘর থেকে বেরিয়ে যাচ্ছিল, উনি ডাকলেন। বিনোদ ফিরে দাঁড়িয়ে দেখল, প্রান্তরের মধ্যে পাহাড়ের ভেঙে পড়া একটা টুকরোর মতো নিঃসঙ্গ একটা লোক।

''নদু যত দীন হবি, ততই আত্মসম্মান বোধ চেপে বসবে। কি লাভ, কি লাভ, এইসব মর্যাদা দিয়ে।''

বিনোদ তাকাল যেভাবে যুবক বিনোদ তখন তাকিয়েছিল। তারপর এখন মাথা নেড়ে বলল, ''না থাক। টাকা আমি ফেরত নেব না। বাবা দিয়েছিলেন, তিনিই যখন আর নিতে আসেননি...।''

বিনোদ বুক ভরে নিশ্বাস নিল এবং ঘরে আসার পর এই প্রথম গন্ধটা পেল। তীব্র ঝাঁঝালো। মাথার মধ্যে ঝিমঝিম করে কিছুক্ষণ এই গন্ধের মধ্যে থাকলে, স্নায়ুগুলো কুঁকড়ে আসে। বিনোদের মনে হল বাসি একটা শবদেহ কোথাও পচে ফুলে উঠে টসটস করছে। তাকে গোপন করার জন্যই এই তীব্র ঝাঁঝালো গন্ধটা। মর্গে এই রকম গন্ধই ছিল। খোকা দু'ভাগে টেবলে পড়ে।

''এটা একটা মর্যাদার ব্যাপার। যাচ্ছিলাম এখান দিয়ে, ভাবলাম দেখে যাই, এমনিই কৌতূহলে... টাকার কথাটা মনেই ছিল না। আপনি বললেন তাই।''

''আমিও তুলতাম না!'' ললিতের চোখ, বিনোদের বসে যাওয়া গাল থেকে জীর্ণ চটি পর্যন্ত ঝটিতি নেমেই, আবার মুখে নিবদ্ধ হল। ''উনি বলেছিলেন, যদি আমার ছেলে কি নাতিরা কখনো এসে চায়—আপনি আসতে মনে হল হয়তো।''

বিনোদ স্মিত হাসল। মাথা নাড়ল মৃদু মৃদু। উঠে দাঁড়াল।

''বট গাছটা শুকিয়ে গেলেও, শেকড় যে অনেক গভীরে ছড়ানো, সহজে মরে না।''

বিনোদ আবার হাসল, মাথা নাড়ল এবং বেরিয়ে এল, সদর দরজার কাঠের পাটায় সাদা অক্ষরগুলো আবার পড়ল। আউট্রাম ঘাটের ধারে বেড়াবার সময় বাবা একদিন বলেছিলেন, তাঁর বিলেত যেতে ইচ্ছে করে। ঘাটের একটা গাছের গুঁড়িতে বিনোদ ছুরি দিয়ে 'এন' খোদাই করছিল, বাবা তখন ধমক দেন।

বিনোদ হাঁটতে হাঁটতে শেয়ালদা স্টেশনে এল। প্ল্যাটফর্মে অসম্ভব ভিড়। দু'ঘণ্টা কোনো লোকাল ট্রেন আসেনি, বিদ্যুৎ বন্ধের জন্য। বিনোদ সেই শিশু, যুবা, বৃদ্ধ, বালক, নারী প্রভৃতির থিকথিকে ভিড়ের কিনারে অপেক্ষা করতে লাগল। আধ ঘণ্টা পর একটি ট্রেন আসামাত্র প্রায় দশটি ট্রেনের যাত্রী সেইটির উপর ঝাঁপিয়ে পড়ল। বিনোদ এগিয়েছিল কিন্তু জমাট পিণ্ডাকার মানুষ ভেদ করতে পারল না।

ট্রেনটি ছেড়ে দেবার পর সে যখন প্ল্যাটফর্মের একটা থামে হেলান দিয়ে দাঁড়িয়ে তখন চোখে পড়ল মেঝেয় পড়ে থাকা বালাটা। বাচ্চার হাতের, সোনারই হবে। দু—তিন পা এগিয়ে বিনোদ কুড়িয়ে নিল। তাকিয়েই বুঝল সোনার, পকেটে রাখল, সন্তর্পণে দু'পাশে তাকাল।

যুবকটি মুচকে হাসল চোখাচোখি হতেই। বিনোদের বুকের মধ্যে ছ্যাঁৎ করল। দেখেছে ও। হাতে অ্যাটাসে, গলায় টাই। পায়ে পায়ে বিনোদের পাশে এসে দাঁড়াল।

''কী যেন কুড়োলেন।''

বিনোদ পকেট থেকে বালাটা বার করল। মুখটা পাংশু, হাত কাঁপছে।

''সোনারই।'' যুবক বালাটা হাতে নিয়ে ওজন অনুভব করতে করতে বলল, ''চার আনার মতো মনে হচ্ছে।''

বিনোদ জবাব দিতে পারল না। শুধু অসহায় চোখ মেলে রইল।

বার কয়েক আড়চোখে বিনোদকে লক্ষ্য করে যুবক বলল, ''এটা জমা দেওয়া উচিত। দামি জিনিস নিশ্চয় খোঁজখবর করবে। অবশ্য নাও করতে পারে। সোনা হারালে ফিরে পাবে, এমন আশা করে কেউ কি খোঁজ করবে'' হাসল, ''আজকালকার দিনে?''

নির্বাক বিনোদ মাথা নাড়ল। ওটা কুড়িয়ে পকেটে রাখলাম কেন? এই প্রশ্নটা এখন তার সর্বাঙ্গে পোকার মতো ঘুরে বেড়াচ্ছে। এটা চুরি করারই চেষ্টা, তাছাড়া অন্য কোনো অজুহাত খুঁজে পাওয়া যাবে কি! ও যদি না দেখত তাহলে এটা পকেটেই থাকত। উচিত ছিল নাকি সঙ্গে সঙ্গে জমা দেবার কথাটা ভাবা। বিনোদ মনে করে দেখল, সে একবারও তা ভাবেনি। কিন্তু ভদ্রলোক ভেবেছে।

''জমা দেওয়াই উচিত।'' বিনোদ বলল।

''হুঁ। তবে খোঁজ নিতে কেউ আসবে না, পড়েই থাকবে। যারা বাচ্চার হাতে এই রকম বালা পরায় তাদের পয়সা আছে। গ্রাহ্যও করবে না। কত দাম হবে মনে হয়?''

সোনার দর বিনোদ জানে না। বিরক্ত হল।

''বলতে পারব না।''

''বাইশ ক্যারেট মনে হচ্ছে। কত আর হবে, গোটা তিরিশ টাকা বড়জোর।''

যুবক আবার আড়চোখে বিনোদকে লক্ষ্য করল। বিনোদ ঘাড় নাড়ল। পোকাগুলো সারা শরীরে কামড় বসিয়েছে। এই বালা, যুবক, স্টেশন থেকে সে এই মুহূর্তে বিচ্ছিন্ন হতে চায়।

''আমি এই রকম একটা বালা করাব ভাবছি, মেয়ের জন্য। তিরিশ টাকাই চেয়েছে।''

যুবক মসৃণ হেসে পকেট থেকে পার্স বার করল।

''হাফাহাফি হোক। আপনার ফিফটি, আমারও।''

একটি দশ ও পাঁচটি এক টাকার নোট এগিয়ে ধরল যুবক।

''কি লাভ জমা দিয়ে বলুন? যারা অসাবধান, তাদের পানিশমেন্ট এ ভাবেই হওয়া উচিত। আমার দরকার ছিল পেয়ে গেলাম, আপনিও ফোকটে কিছু পেলেন। ধরুন।''

বিনোদ বোবার মতো তাকিয়ে। এই লোকটি দেখতে না পেলে বালাটা নিশ্চয় আমার পকেটেই থাকত। ওটা বিক্রিই করতাম। তখন নিশ্চয় এইসব কথাই নিজেকে বলতাম। এটা যদি প্ল্যামফর্মে পড়েই থাকত, দেখেও মুখ ফিরিয়ে নিতাম তাহলে অন্য কেউ কুড়িয়ে নিতই। সে কি জমা দিত?

''জমা দেবেন না?''

''আরে দূর মশাই, ধরুন ধরুন। এ রকম কত জিনিস আমাদের হারায়, কোনোদিন কি ফেরত পেয়েছেন? ট্রেনেই আমার কলম গেছে। আপনিও ভেবে দেখুন কখনো টাকা মার গেছে কিনা। আর তা পেয়েছেন?''

এক ঝলকে ঘুনুর হাতের নোট বা ললিতের মুখটা বিনোদের মনে পড়ল। সে বিষণ্ণ হতে হতে ভাবল, খোকাকে ফেরত পাওয়া যাবে না। ঘুনুও বলেছিল, ''ছেলেটা কি বেঁচে উঠবে?''

যুবকের হাত থেকে নোটগুলো বিনোদ নিল।

ট্রেনে বিনোদ অনুভব করল, তার সর্বাঙ্গে পোকার কামড় বা চলাফেরা সে আর অনুভব করছে না। আর একবার তার মনে হয়, কি রকম একটা পচা বাসি দুর্গন্ধ যেন সে পাচ্ছে। কিছুক্ষণ পরে সে ভেবে বুঝল, গাদাগাদি মানুষের শরীরের গন্ধ এটা। তারপর এক সময় বিনোদ পকেট থেকে খবরের কাগজের পাতাটা বার করে দু'ভাগে ছিঁড়ে ট্রেনের জানলা দিয়ে ফেলে দেয়।

সকল অধ্যায়
১.
ছাদ
২.
একটি ঐতিহাসিক সিচ্যুয়েশন
৩.
শূন্যে অন্তরীণ
৪.
রাস্তা
৫.
জীবনযাপন প্রণালী
৬.
পাষাণভার
৭.
শেষবিকেলের দুটি মুখ
৮.
একটি পিকনিকের অপমৃত্যু
৯.
শহরে আসা
১০.
বয়সোচিত
১১.
প্রত্যাবর্তন
১২.
গুণ্ডাদ্বয়
১৩.
বেহুলার ভেলা
১৪.
টুপু কখন আসবে
১৫.
বহুদূর ব্যাপ্ত উজ্জ্বলতা
১৬.
উৎসবের ছায়ায়
১৭.
সুখী জীবন লাভের উপায়
১৮.
দুর্ঘটনা
১৯.
ঘর
২০.
এবং তারা ফিরে এল
২১.
কালপ্রিট
২২.
অস্থায়ী পলায়ন
২৩.
ষড়যন্ত্র
২৪.
রাজা
২৫.
সূর্যাস্তের প্রতিবিম্ব
২৬.
চোরা ঢেউ
২৭.
তাপের শীর্ষে
২৮.
নিরর্থক
২৯.
কামরার মধ্যে
৩০.
শীত
৩১.
সেই আবছা মুখগুলো
৩২.
ইমেজ
৩৩.
দু'ভাগে
৩৪.
নিজেকে যে—সব প্রশ্ন
৩৫.
আত্মভুক
৩৬.
একটি সাধারণ ব্যাপার
৩৭.
এক ধরনের অসুখ
৩৮.
নায়কের প্রবেশ ও প্রস্থান
৩৯.
একচক্ষু
৪০.
সামান্য জীবন
৪১.
চতুর্থ সীমানা
৪২.
ব্লেজার
৪৩.
পর্দার নিচে একজোড়া পা
৪৪.
শবাগার
৪৫.
একটি মহাদেশের জন্য
৪৬.
ক্লান্তি বিনিয়োগ
৪৭.
ছ'টা পঁয়তাল্লিশের ট্রেন
৪৮.
যুক্তফ্রন্ট
৪৯.
রাশিফল
৫০.
জলের ঘূর্ণি ও বকবক শব্দ
৫১.
মুক্তো
৫২.
কপিল নাচছে
৫৩.
জালি
৫৪.
অবিনাশের সাড়ে আটচল্লিশ
৫৫.
বৃষ্টির মতো
৫৬.
গলিত সুখ
৫৭.
একটা খুনের খবর
৫৮.
বৃষ্টিতে
৫৯.
একটি সকাল, একটি মেয়ে
৬০.
ফুলদানি
৬১.
আঠারো বছরে
৬২.
তরুণের বাড়ি ফেরা
৬৩.
অন্ধকার থেকে অন্ধকার
৬৪.
ষোলোকে পনেরো করা
৬৫.
রেড্ডি
৬৬.
বুড়ো এবং ফুচা

নোট নিতে এবং টেক্সট হাইলাইট করতে লগইন করুন

লগইন
০%