নিরর্থক

মতি নন্দী

''এই বারান্দাটা এত ভাল লাগে, এত কথা মনে পড়িয়ে দেয়।'' প্রৌঢ়া এই বলে কিছুক্ষণ তাকিয়ে রইলেন। ঠিক বারান্দা নয়, প্রায় ছাদ। সন্ধ্যায় তাঁরা দুজন ওখানে বসতেন। অশোক—অতসী সে গল্প জানে।

''এখনও মাঝে মাঝে বসি, পরীক্ষার খাতাপত্তর নিয়ে, যদি কোনো বই, হাতের কাছে থাকে চমৎকার, না?''

উনি ঘর থেকে বেরিয়ে বারান্দায় এলেন। ওদের দিকে তাকালেন, বাঃ তোমরাও আসছ না কেন, এমন চোখের ভাব নিয়ে।

অশোক এবং অতসী ওঁর পাশে এগিয়ে এল।

''বসবে এখানে?''

অশোক—অতসী মুখ চাওয়াচাওয়ি করল। ঘাড় নেড়ে সম্মতি জানাল। উনি তাড়াতাড়ি ঘর থেকে পাটি এনে পাতলেন।

এই বারান্দার তিন দিকেই বাড়ি। দুদিকে দুবাড়ির পাঁচিল, আর একদিকে প্রায় পনেরো গজ দূরে, আর এক বাড়ির দোতলা। হাওয়া—আলো এই দিক থেকেই আসে।

এখন সন্ধ্যা শেষ হয়ে রাত্রি শুরু হচ্ছে। অশোক সেই পনেরো গজ ফাঁকা অঞ্চলটার দিকে তাকিয়ে বলল, ''আপনার বারান্দার ওয়েসিস।''

প্রৌঢ়া হেসে উঠলেন। ''উনিও প্রায় এই রকমই বলতেন।''

''কিন্তু কতদিন এরকম থাকবে। ওরা যদি ভাড়া দেবার জন্যে দোতলার উপর ঘর তোলে? মানুষ যা লোভী হয়ে পড়ছে।''

অতসী, লোভ জিনিসটা যে কত দুঃখের গলার স্বরে বুঝিয়ে দিল।

''নাঃ, হাজার তিন—চার খরচ করার মতো সামর্থ্য ওদের নেই। দেখছ না কি রকম চুনবালি খসা।''

''আজকাল ভাড়াটেরাই টাকা দেয়। আমাদের সামনের বাড়িতেই তো এমনি করে তিন তলা উঠল, এখন দম বন্ধ হয়ে আসে!''

''ভাবতেও কেমন লাগে।''

ভয়ে ভয়ে উনি পনেরো গজ ওপাশের বাড়িটার দিকে তাকালেন।

''যদি আপত্তি জানাই?''

''কার কাছে?''

''ওদের কাছে, কর্পোরেশনের কাছে।''

অশোক ঠোঁট মুচড়ে হাসল।

''সামনের বাড়ির ওরা পাইখানার সয়েল পাইপটা তুলল ঠিক আমাদের জানলার সামনে; আপত্তি জানানো হল, কিচ্ছু হল না। রয়েই গেছে।''

''হয়ে গেল!''

বালিকার মতো তাকিয়ে রইলেন। অতসী ভারিক্কি চালে বলল, ''শুনলেন না, নমিতাদি সেদিন কি বলছিলেন, ওঁদের গলিতে ড্রেন ঢাকা পাইপটা চুরি হয়ে গেছে আজ কুড়ি দিন, হাঁ—হয়ে আছে রাস্তাটা। একটা বুড়ি একদিন রাতে পড়েও গেছল।''

প্রৌঢ়া হেসে বললেন, ''আমি রাতে বেরোই না।''

''ভালই করেন।''

''কী করতেই বা বেরোব, কোথায়ই বা যাব।''

হতাশ স্বরে বললেন, গলায় সরু চেনটা টেনে ঘোরালেন। অশোক চট করে দেখল, ঘাড়ের মাংসে কেটে বসেছে যেন গহনাটা। অতসী বলল, ''আপনার যে ভাই টালিগঞ্জে থাকে, তার ওখানেও তো মাঝে মাঝে যেতে পারেন!''

''সময় কই। বিকেলে ইস্কুল থেকে ফিরে আর কোথাও যেতে ইচ্ছে করে না। ট্রামে বাসে যা ভিড়।''

''হ্যাঁ'', অশোক নিমেষে প্রসঙ্গটা ধরে নিল, ''আমাদেরই অসুবিধে হয়, ভয়ও করে।''

উনি হেসে উঠলেন, ''ভয় করে?''

''নিশ্চয়, কালকেই অফিস যাবার সময় ট্রামে উঠতে গিয়ে পিছলে পড়লাম, একজন লাথি মেরে সরিয়ে দিল, তাই পাটা চাকার তলায় গেল না।''

''আপনি কী করে যে ট্রামে আসেন ওই সময়।''

অতসী শিউরে উঠল। অশোক নিজের কথার খেই ধরে বলল, ''দোষটা কিন্তু আমার ছিল না। থামতে না থামতেই ঘণ্টা দিয়ে দিল, হ্যান্ডেল ধরে ছুটতে ছুটতে চেঁচাচ্ছি, পা সরান, একটুখানি জায়গা দিন—কে শোনে! লাফালুম, একজনের জুতোয় পা পড়ল, তিনি পা ছুঁড়লেন।''

''ও মা, তাতো জানতাম না, এমন কাণ্ড ঘটে গেছে!'' উনি অশোকের শরীরে চোখ বোলালেন। উৎকণ্ঠিত দৃষ্টি। তাড়াতাড়ি অশোক বলল, অবশ্যই হাসির মতো করে, ''আশ্চর্যের কথা, কোথাও ছড়েটড়ে যায়নি।''

''মারাত্মক কিছু তো হতে পারত, আমি তো অফিসের সময়ই উঠি, এমন দৃশ্য কিন্তু একদিনও চোখে পড়েনি।''

অতসী অনুযোগের স্বরে বলল ''হুঁশ বলে আপনার কিছু আছে নাকি! এইটে ক্লাস নিতে গিয়ে থ্রিতে পড়িয়ে এলেন, এখনো টিচার্স রুমে তাই নিয়ে হাসাহাসি হয়।''

উনি ভ্রূ কুঞ্চিত করলেন। লক্ষ্য করল অতসী। ''থ্রিতে তখন ক্লাস ছিল লক্ষ্মীদির। দরজার কাছে দাঁড়িয়ে গলদঘর্ম। ওরে বাবা! হেডমিস্ট্রেসকে কী করে ক্লাস থেকে বেরিয়ে যেতে বলে, বলুন? তাছাড়া স্কুলে যা গম্ভীর থাকেন!''

খুশি হলেন অতসীর কথায়। গলার হারটা ঘোরাতে ঘোরাতে বললেন, ''ওটা ডিসিপ্লিনের জন্য। কত বছর মাস্টারি করলুম বল তো?''

''চব্বিশ।''

অশোক উত্তর দিল। ওঁর সব কথাই তার এবং অতসীর জানা। ''তোমার তো মোটে দেড় বছর, দেখবে আর দু—বছরের মধ্যে কেমন গম্ভীর হয়ে যাবে।''

অতসীকে বললেন, বলে তাকালেন অশোকের দিকে, ''উনি এই গম্ভীর ভাবটা কিছুতেই পছন্দ করতেন না, ভারী হাসাতে পারতেন। যতক্ষণ বাড়িতে থাকতাম হেসে হেসে মারা যাবার দাখিল। তুমি হাসাতে পার? হাসাও দেখি।''

উৎসুক হয়ে তাকালেন, অস্বস্তিতে নড়েচড়ে বসল অশোক। অতসী শুকনো গলায় হেসে উঠল ''বাঃ এমনি এমনি কেউ হাসাতে পারে নাকি?''

''উনি পারতেন।''

''যা দিনকাল—হাসি আসে নাকি?''

অশোক যুক্তি দেখাবার মতো করে বলল, অতসী ঘাড় নেড়ে সমর্থন জানাল। উনি বিব্রত হলেন, ''তা বটে, সত্যিই অনেক তফাত। তোমার বয়সে আমার বিয়ে হয়ে গেছল।''

''নাঃ, সে রকম আর কী তফাত, বিয়ে তো আমরাও বহুদিন আগেই করতে পারতাম।''

প্রৌঢ়া যেন আহত হলেন। হাত নেড়ে বললেন, ''তবে করনি কেন?''

ওরা দুজন চুপ করে তাকিয়ে থাকল। এতক্ষণে বোঝা গেল পাশের বাড়ির রেডিওয় একটা হাসির নাটক হচ্ছে।

''আজ পয়লা।''

''হ্যাঁ, শুক্রবার।''

''কী গরম পড়েছে!''

অশোক—অতসী নিজেদের মধ্যে বলল।

''বসো, চা করি।''

''আমি কিন্তু খাব না, আজ তিন কাপ হয়ে গেছে।''

''আধ কাপই না হয় খেয়ো।''

উনি চলে গেলেন ভিতরে। অন্ধকারে ওরা দুজন নিশ্চল বসে থাকল। এক সময় অতসী বলল, ''রান্নাঘরটা বেশ বড়। দুটো জানালা, গরম কম হয়।''

''একার জন্যে দুটো বেডরুম নিয়ে কী করে থাকে। অস্বস্তি হয় না! রান্নাঘরের পাশের ঘরটাও বেডরুম করা যায়, তা হলে তিনটে হবে।''

ওরা আবার চুপ করে রইল কিছুক্ষণ। একসময় অশোক বলল, ''অফিসের পর, এই রকম বারান্দায় চান করে, মাদুর পেতে শুয়ে থাকতে বেশ লাগবে।''

গলা নামিয়ে নিচু স্বরে অতসী বলল, ''এই জায়গাটায় প্রাইভেসি আছে, শোননি কতবার বলেছে আমরা এখানে বসতাম।''

''আশ্চর্য ব্যাপার দেখেছ, চৌবাচ্চাটা সব সময় জলে ভরা। অনেক বার ভেবেছি, গামছা থাকলে এখান থেকেই চান করে যেতুম।''

''তোমাকে তো কতবার বলেছি, কলের মুখ একটা মিস্তিরি ডাকিয়ে নিচু করে নাও, দেখবে জল বেড়ে যাবে। বাড়িওয়ালার ভরসায় থাকলে কি চলে? অন্য ভাড়াটেরা পয়সা দিক বা না দিক তুমি করিয়ে নাও, আমাদের বাসায় তো দেখলাম।''

''তোমাদের বাসায় লোক কম, তাই মনে হচ্ছে জল বাড়ল। ধর যদি বাড়েই কতটা বাড়বে? আমাদের ছ'জন, দোতলায় প্রায় দশ। তিনতলায় দুই। পয়সা খরচ করে কত জল বাড়াতে পারব? তা ছাড়া এ মাসে প্রিমিয়াম দিতেই হবে।''

অশোক উত্তেজিত হয়ে গলা চড়িয়ে ফেলেছে। অতসী প্রসঙ্গটা ঘুরিয়ে দেবার জন্য বলল, ''আমাদের শোভনাদির স্বামী অফিসের কো—অপারেটিভ থেকে লোন নিয়ে মধ্যমগ্রামে জমি কিনেছে। আটশো টাকা কাঠা। আজ আট বছর টাকা জমাচ্ছে।''

''লোক কজন?''

''শুধু একটা বাচ্চা।''

ওরা চুপ করে রইল, চায়ের কাপ হাতে সন্তর্পণে প্রৌঢ়া এলেন। মুখে চাপ হাসি। ''ক্রাউডেড হয়ে গেল তো!''

ওরা হাসল। অতসী নিজের কাপ থেকে খানিকটা অশোকের কাপে ঢেলে দিল। অশোক চুমুক দিচ্ছে। উনি উদ্বিগ্ন হয়ে তাকিয়ে থাকলেন, চুমুক শেষ করে অশোক হাসল :

''চমৎকার!''

স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেললেন প্রৌঢ়া। ''আজ ষোলো বছর এই দোকান থেকে চা নিচ্ছি। উনি কিনতেন।''

অতসী বলল, 'সত্যিই চাটা ভাল। এর লোভেই আসতে ইচ্ছে করে।''

''মুখেই তোমরা বল, কী একা একা যে লাগে! বিনা দরকারে কেউ আসে না।''

ওঁর স্বরটা এত বিষণ্ণ হয়ে গেল যে, চুপ করে না থাকাটাই কুরুচিকর হয়ে পড়ে। নির্দিষ্ট একটা সময় পর্যন্ত চুপ করে থেকে অশোক বলল, ''আপনার এক ভাই তো বেহালায় থাকেন, সেখানে যদি থাকতেন, তাহলে একা লাগত না।''

এবার উনি চুপ করে থাকলেন। অতসী বলল, ''তার তো ছেলে মেয়েতে ভরা জমজমাট সংসার, সেখানে নিশ্চয় একা বোধ করবেন না।''

''না, যাওয়া যায় না। বহুদিন সম্পর্ক নেই।''

''যা কিছু মনোমালিন্য, সে তো বাবার সঙ্গে হয়েছিল। তিনি বেঁচে নেই। ভাইয়ের কাছে যাবেন তাতে আর এমন কি''—অতসীকে থামিয়ে বলে উঠলেন, ''কিন্তু এত জায়গা থাকতে সেখানেই যে যেতে হবে, তার কি মানে আছে?''

''তাহলে আর থাকবার জায়গা কোথায়?''

অশোক গম্ভীর ভাবে বলল, ''তারা আপনার নিজের লোক, আত্মীয় ; এখন ওদেরই দরকার। আপনার বয়স হয়েছে। এখন তো দিন দিন অশক্ত হয়ে পড়বেন।''

থতমতের মতো উনি তাকিয়ে থাকলেন। অন্ধকারে জমাট দুটি ছেলেমেয়ের মুখ দেখার চেষ্টাতেই যেন ঝুঁকে বললেন, ''কী বলছ!''

অশোক বলল, ''যদি আপনার ভারী কোনো অসুখ হয়, কে দেখবে?''

অতসী বলল, ''বিপদের কি কোনো ঠিক—ঠিকানা আছে?''

অশোক বলল, ''কত রকমের উড়ো গোলমাল জুটতে পারে কে জানে। বত্রিশ টাকা ভাড়ায় এই বাজারে এতগুলো ঘর নিয়ে রয়েছেন, বাড়িওয়ালা ভদ্র লোক ছিল তাই, কিন্তু ওর ছেলেরা যদি এখন ভাড়া বাড়ানোর মামলা করে।''

অতসী বলল, ''চার পাশেই তো ভাড়াটে বাড়ি। যদি কোনো বদখত প্রতিবেশী জোটে, তো জ্বালাতন করে মারবে, ঝগড়াঝাঁটিও ওরা করতে পারে।''

অস্ফুটে প্রৌঢ়া বললেন, ''কেন?''

''ধরুন,'' অশোক বলল, ''আপনার এই বারান্দাতেই হয়তো ময়লা ফেলতে শুরু করল, তখন কী করবেন?''

প্রৌঢ়া শিউরে উঠলেন।

''আর কদিনই বা চাকরি করবেন। বিশ্রাম তো নিতেই হবে।'' প্রৌঢ়া ঘাড় নাড়লেন।

''খরচ চালাবেন কী করে, তখন তো আরও একা লাগবে।''

''কেন, তোমরা আসবে না?''

''নিশ্চয় আসব।''

প্রায় একসঙ্গে দুজনে বলে উঠল। তারপর অতসী বলল, ''কিন্তু তখন তো আরো কাজের চাপ পড়বে আমাদের।''

''হ্যাঁ, তোমাদের তখন বিয়ে হয়ে যাবে।''

অশোক বলল, ''আপনি বরং এখনই দাদার বাড়িতে চলে যান।''

''হ্যাঁ।''

উদগ্রীব হয়ে তাকাল ওরা দুজন। প্রৌঢ়া ভাবছেন। সিদ্ধান্তটা এখনই হয়তো জানিয়ে দেবেন। কোনো কথা বললেন না। শুধু তাকিয়ে থাকলেন এই দুটি ছেলেমেয়ের দিকে।

''কাল না পরশুর কাগজেই একটা খবর পড়লুম। সেই থেকে যা ভয় ধরে গেছে!''

অতসীকে অশোকই প্রশ্ন করল, ''কী?''

''এক বুড়ি নার্স একা থাকত ভাড়াটে বাড়িতে। একদিন রাতে চাকর তাকে গলা টিপে মেরে গয়নাগাটি নিয়ে চম্পট দেয়। অবশ্য ধরা পড়েছে।''

''আমার তো পয়সা বলতে প্রায় কিছুই নেই।''

প্রৌঢ়ার গলার স্বর কেঁপে উঠল! অন্ধকারে বোঝা গেল না মুখের ভাব কেমন। চিন্তিত হয়ে অশোক বলল, ''ওরা আর সে—সব বোঝে না; ভাবে নিশ্চয় সোনাদানা আছে। তবে বাড়ির চাকরই যে সব সময় করে তা অবশ্য নয়। কত রকমের ফিরিওয়ালা আসে, আশ—পাশের বাড়ির চাকরেও করতে পারে! আপনার চাকরটি তো ভালই মনে হয়, তাই না?''

প্রৌঢ়া কথা বললেন না। ওরা কিছুক্ষণ চুপ করে থেকে উঠে পড়ল।

দরজা বন্ধ করার সময় প্রৌঢ়া বললেন, ''তোমরা বলছ যেতে?''

অনুমোদন করার ভঙ্গিতে দুজন তাকিয়ে থাকল। প্রৌঢ়া ধীরে ধীরে দরজা বন্ধ করলেন।

গলি থেকে বেরিয়ে ট্রাম রাস্তায় পা দিয়েই অশোক বলল, ''কবেকার কাগজে খবরটা বেরিয়েছে?''

''কাল—পরশু হবে। মা বলছিল।''

''আমাদের কথা কিছু বলেছেন?''

''হ্যাঁ, তোমাকে দাদার সঙ্গে দেখা করতে বলেছে।''

সিগারেটের জন্য পকেটে হাত দিয়ে ক্ষুব্ধ স্বরে অশোক বলল, ''বাসাই জোগাড় হল না, দেখা করে কী হবে?''

ভ্রূ কোঁচকাল অতসী। তাই দেখে দেশলাই জ্বালতে অশোক দাঁড়াল।

''আমাদের ওই বাসায় গিয়ে থাকতে পারবে?'' অশোক সিগারেটে আগুন দিল। অতসী বলল, ''আলাদা একটা ঘর আমাদের জন্যে তো চাই।''

''আমি তো তাই বলছি।''

সিগারেটের প্রথম ধোঁয়া ছেড়ে হাঁটতে শুরু করল।

''কালকেও আবার আসতে হবে।''

''কোথায়? ও হ্যাঁ, এক সঙ্গেই আসবখন।''

''কী ভাবছ?''

''না এমনি, এ ভাবে থাকার কী যে মানে হয়।''

''আমরা?''

''না, ওঁর কথা বলছি।'' বাসাটা ছেড়ে দিয়ে চলে গেলেই পারেন।''

আশ্বস্ত হয়ে বড় করে টান দিল অশোক। গল গল করে ধোঁয়া ছেড়ে দাঁড়িয়ে পড়ল রাস্তা পার হবার জন্য। একটা লরি আসছে, হাত তুলে অতসীর গতি রোধ করে বলল, ''সেন্টিমেন্টাল,'' তারপর বলল, ''দেখে পার হও!''

সকল অধ্যায়
১.
ছাদ
২.
একটি ঐতিহাসিক সিচ্যুয়েশন
৩.
শূন্যে অন্তরীণ
৪.
রাস্তা
৫.
জীবনযাপন প্রণালী
৬.
পাষাণভার
৭.
শেষবিকেলের দুটি মুখ
৮.
একটি পিকনিকের অপমৃত্যু
৯.
শহরে আসা
১০.
বয়সোচিত
১১.
প্রত্যাবর্তন
১২.
গুণ্ডাদ্বয়
১৩.
বেহুলার ভেলা
১৪.
টুপু কখন আসবে
১৫.
বহুদূর ব্যাপ্ত উজ্জ্বলতা
১৬.
উৎসবের ছায়ায়
১৭.
সুখী জীবন লাভের উপায়
১৮.
দুর্ঘটনা
১৯.
ঘর
২০.
এবং তারা ফিরে এল
২১.
কালপ্রিট
২২.
অস্থায়ী পলায়ন
২৩.
ষড়যন্ত্র
২৪.
রাজা
২৫.
সূর্যাস্তের প্রতিবিম্ব
২৬.
চোরা ঢেউ
২৭.
তাপের শীর্ষে
২৮.
নিরর্থক
২৯.
কামরার মধ্যে
৩০.
শীত
৩১.
সেই আবছা মুখগুলো
৩২.
ইমেজ
৩৩.
দু'ভাগে
৩৪.
নিজেকে যে—সব প্রশ্ন
৩৫.
আত্মভুক
৩৬.
একটি সাধারণ ব্যাপার
৩৭.
এক ধরনের অসুখ
৩৮.
নায়কের প্রবেশ ও প্রস্থান
৩৯.
একচক্ষু
৪০.
সামান্য জীবন
৪১.
চতুর্থ সীমানা
৪২.
ব্লেজার
৪৩.
পর্দার নিচে একজোড়া পা
৪৪.
শবাগার
৪৫.
একটি মহাদেশের জন্য
৪৬.
ক্লান্তি বিনিয়োগ
৪৭.
ছ'টা পঁয়তাল্লিশের ট্রেন
৪৮.
যুক্তফ্রন্ট
৪৯.
রাশিফল
৫০.
জলের ঘূর্ণি ও বকবক শব্দ
৫১.
মুক্তো
৫২.
কপিল নাচছে
৫৩.
জালি
৫৪.
অবিনাশের সাড়ে আটচল্লিশ
৫৫.
বৃষ্টির মতো
৫৬.
গলিত সুখ
৫৭.
একটা খুনের খবর
৫৮.
বৃষ্টিতে
৫৯.
একটি সকাল, একটি মেয়ে
৬০.
ফুলদানি
৬১.
আঠারো বছরে
৬২.
তরুণের বাড়ি ফেরা
৬৩.
অন্ধকার থেকে অন্ধকার
৬৪.
ষোলোকে পনেরো করা
৬৫.
রেড্ডি
৬৬.
বুড়ো এবং ফুচা

নোট নিতে এবং টেক্সট হাইলাইট করতে লগইন করুন

লগইন
০%