সূর্যাস্তের প্রতিবিম্ব

মতি নন্দী

পরের মুহূর্তে, পরের ঘণ্টায় বা পরের দিনে কী ঘটবে এই নিয়েই যারা ব্যস্ত থাকে উদয় বসাক তাদের অন্তর্গত। তাদের মতোই সে কিছুটা ভীরু প্রকৃতির। জীবনে যা কিছু ঘটে, সেগুলো তো ঘটতই, এমন একটা ধারণা বাল্য থেকে তৈরি হয়ে যাওয়ায় অতীত নিয়ে মাথা ঘামায় না। ঘামাবার দরকার বোধ করে না। কিন্তু কোনোভাবে যদি মনে পড়ে যায় তাহলে অবশ্যই কিছুক্ষণ সে অতীতে তাকায়। যেমন, তার দুটি ছেলেমেয়ে এটা মনে করে রাখার কোনো দরকারই সে বোধ করে না। মাসকয়েক আগে শুনল গৌরী পঞ্চমবার অন্তঃসত্ত্বা। তখন হুঁশ হল। তখন হিসেব করে দেখে, বছর পনেরো তার বিয়ে হয়েছে। পনেরো বছর বিবাহিত, এটা ভেবে অবাক হতে তার ভাল লাগল। তারপর মনে পড়ল তারাও চার ভাইবোন, একজন মারা গেছে। এরপর নিজেকে সে বলে, ''ইস, সময় যে কীভাবে চলে যাচ্ছে, এবার কিছু জমাতে হবে।'' উদয় চাকরি করছে সতেরো বছর, এটা তার মনে পড়ে গত মাসে বার্ষিক ইনক্রিমেন্টের টাকা পেয়ে। তারপর একবার মনে পড়েছিল, বাবা মারা যেতে বি এ পরীক্ষা না দিয়েই চাকরিতে ঢুকতে হয়েছিল। যথারীতি সে তারপর নিজেকে বলে, ইস সময় যে কীভাবে চলে যাচ্ছে, কিছু জমাতে হবে এবার। এইভাবেই উদয় বসাকের মনে পড়ল, একসময় সে যুবক ছিল।

বাসটায় যথেষ্ট ভিড়। দুটো দরজা দিয়ে ফোড়ার মতো মানুষ ঠেলে বেরিয়ে রয়েছে। হাতলটা ধরে ছুটতে ছুটতে পাদানিতে লাফ দেয় এবং পা—টি পিছলে যায়। অফিসের সহকর্মী দাশগুপ্ত রাস্তায় উবু হয়ে থাকা উদয়কে টেনে তুলেই ধমকায়, ''দরকার কি আপনার এই ভিড় বাসে ওঠার। বয়স হয়েছে, আর যে ইয়াং নন, এটা ভুলে যান কেন?''

দাশগুপ্ত আরও অনেক কিছু বলে যাচ্ছিল কিন্তু উদয় তখন লজ্জায় কালা হয়ে গেছে। বাস স্টপের সবাই তার দিকে তাকিয়ে, অফিসের দুটি মেয়েও রয়েছে। হাসবার চেষ্টা করে উদয় বলল, ''এই রকম ভিড়েই তো রোজ উঠি।''

''তাহলে পড়ে গেলেন কেন?''

উদয় চট করে জবাব দিতে পারল না। তাই তো, কি কারণ সে দাখিল করতে পারে! দাশগুপ্ত তো নিজের চোখেই দেখল পাদানি থেকে পা পিছলে গেল। ''ধাক্কা দিয়েছিল।''

''মোটেই না। আপনি ছুটতেই পারেননি। বাসের স্পিডের সঙ্গে আপনার স্পিডটা মেলেনি। তাই আপনি পিছিয়ে পড়েছিলেন। তাই আপনার পা ফুটবোর্ড মিস করে। এভাবে বাসে উঠতে হলে আপনার বয়সটাকে কুড়ি—পঁচিশ বছর কমাতে হবে।''

প্যান্টের হাঁটুর কাছটা পিঁজে গেছে। গৌরী গজগজানি শুরু করল। হিসেবি কর্ত্রী, শক্ত হাতে সংসার চালায়, বাজে খরচ দেখলে তার মাথাগরম হয়ে যায়।

''আশি টাকা দিয়ে এই সেদিন করালে, দুমাসও হয়নি, দরকার কি ছিল লাফিয়ে বাসে ওঠার? বয়স কমছে না বাড়ছে, সে খেয়াল থাকে না কেন?''

উদয় লুঙি পরে খালি গায়ে চুপচাপ খাটে শুয়ে কাগজ পড়ে যায়। মাঝরাতে কলঘরে যাবার জন্য আলো জ্বেলেই সুইচের পাশে আয়নাটায় তার চোখ পড়ল। ইতস্তত করে তাকাল। অবশেষে এক পা এগিয়ে ঝুঁকে মুখটা আয়নার কাছে আনল। গভীরভাবে সে নিজের দিকে কিছুক্ষণ তাকিয়ে রইল। মনে করতে পারল না শেষবার কবে সে এইভাবে নিজেকে দেখেছে। উদয় এখন নিজেকে অপরিচিত একজনের মুখোমুখি ভেবে নিজেকে বলল, এই লোকটা কবে থেকে আমি হলাম! তার কাছে পুরো মুখটাই নতুন লাগল। কপাল থেকে চুল ইঞ্চি দুয়েক পিছিয়ে গেছে, পাক ধরেছে কানের উপরের চুলে, সকালে কামানো গালে হাত বোলাতে ঝিকিয়ে উঠল সাদা দাড়ি, থুতনির নিচের চামড়া দু' আঙুলে টানতেই বিনা যন্ত্রণায় অনেকটা লম্বা হল। নাকের পাশ দিয়ে ঠোঁটের কোল পর্যন্ত দুটো গভীর রেখা মাংসে ডেবে বসেছে। উদয় আরও লক্ষ্য করল, চোখদুটি যেন ঘোলাটে এবং ক্লান্ত। সে নিঃশব্দে বার দুয়েক হেসে উঠে দেখল, সারা মুখটা ভেঙেচুরে ধসে যাচ্ছে। চোখে একধরনের ভয় ফুটে উঠছে।

উদয় আলো নিভিয়ে দিল। অদ্ভুত উত্তেজনার চাপে সে এখন অসহায় বোধ করছে। নিজেকে ফিসফিস করে শোনাল, ''তাহলে এই রকমই কি ছিলাম! হতেই পারে না। রোজই তো আয়নার সামনে চুল আঁচড়াই, দাড়ি কামাই। খেয়ালই হয়নি বদলে গেছি, আশ্চর্য তো!''

কলঘর থেকে ফিরে বিছানায় শোবার আগে অন্ধকারে আবার সে আয়নার সামনে দাঁড়াল। একবার মনে হল, ফট করে যদি এখন আলো জ্বলে ওঠে তাহলে সে অন্য একটা লোককে আয়নায় দেখতে পাবে। অনেক কম বয়স, দেখতে অনেকটা তারই মতো।

উদয় তার কমবয়সি অবয়বের রূপটি তৈরি করতে গিয়ে বারবার ব্যর্থ হবার পর মনে করতে পারল তার একটা ফোটো আছে। বিয়ের পরদিন গৌরীদের পাশের বাড়ির উঠোনে তোলা, চেয়ারে গৌরী কনের সাজে, তার পাশে দাঁড়িয়ে বরবেশে উদয়।

সকালে ছবিটা খুঁজে বার করল মেজছেলে খাটের তলার তোরঙ্গের পিছন থেকে। দালানে টাঙানো ছবিটা ওখানে গেল কি ভাবে? দেয়ালে রবারের বল মেরে ক্যাচ ধরা রপ্ত করতে গিয়ে বড়ছেলে ছবির কাচ ভাঙে। ভয় পেয়ে ছবিটা সে খাটের নিচে লুকিয়ে রাখে। সাত—আট মাস সে বা গৌরী লক্ষ্যই করেনি দেয়ালে রেশন কার্ড মাপের ছবিটার জায়গা ফাঁকা রয়েছে। উদয় বিব্রত হল এবং হতাশও। মেঝেয় পড়ে থাকা, কাচভাঙা ছবিতে তার মুখটি, এবং আশ্চর্য শুধু তারই মুখটি ঝাপসা হয়ে চেনার অযোগ্য হয়ে আছে। ধুতি—পাঞ্জাবিতে ঢাকা দেহকাণ্ডটি কিছুই বোঝাচ্ছে না তার সম্পর্কে। তবে গৌরীর মুখটি অক্ষতই রয়েছে। ছেলেদের ধমক—ধামক দিয়ে গৌরী ফ্রেম থেকে ছবিটি খুলে আলমারিতে শাড়ি ভাঁজে রেখে দিল।

অফিসে তার সামনের টেবলে বসে রঞ্জিত কর। কথা বলে তড়বড়িয়ে, চেয়ারে খুব কম সময়ই পাওয়া যায়। ঘাড় পর্যন্ত চুল, পুরু গালপাট্টা, সরু কোমর। অ্যাজিটেশনের সময় স্লোগান দেওয়ায়, অফিসের স্পোর্টসে, নাটকের রিহারসেলে বা অফিসারদের সঙ্গে চোটপাটে রঞ্জিতের সাহায্যের বা ঔদ্ধত্যের তুলনা, অফিসে কেউ নেই। ফাইলে চোখ রেখে উদয় শুনছিল ওর কথা।

''আমাকে কিনা ছুরি চমকায়! সেদিনের ছোঁড়া সব, গাল টিপলে দুধ বেরোবে, ছুরি দেখিয়ে বলে কিনা, বেশি হেঁক্কোড় দেখাবেন না। একটাকে মারলুম থাপ্পড় আরেকটাকে লাথি। যন্তর আনতে যাচ্ছি বলে সেই যে কেটে পড়ল, আসেনি।''

''ভালো কাজ করলে না রঞ্জিত। অবনী চাটুজ্যে মাথা নেড়ে উদ্বিগ্ন কণ্ঠে বলল, ''এসব ছেলেছোকরাদের বিশ্বাস নেই। একটা কিছু করেও ফেলতে পারে। তখন কেউ তোমায় সাহায্য করতে এগিয়ে আসবে না। তাছাড়া পাশের বাড়ির মেয়েকে উত্ত্যক্ত করছে কি না করছে তাতে তোমার কি আসে যায় বাপু। খোঁজ নিয়ে দেখ দোষ মেয়েটারও আছে।''

অবনী চারদিকে দৃষ্টি বোলাতে তিন—চারটি মাথা সায় দিয়ে দুলে উঠল।

''দোষ কার আছে তা নিয়ে তো আমার মাথাব্যথা নেই। কিন্তু ব্যাপারটা বড় দৃষ্টিকটু, মানসম্মান ছিবড়ে হয়ে যায়। এ ধরনের অসভ্যতা সহ্য করা যায় না।''

''সে আর কি করবে, তা দিনকাল মুখ বুজে সহ্য করাই বুদ্ধিমানের কাজ। তুমি আর মাথা গরম কোরো না বরং ওদের সঙ্গে কমপ্রোমাইজ করে নিও। ছেলেপুলে নিয়ে তোমাকেও বাস করতে হয়, ঠিক কি না?''

অবনী চারদিকে তাকাতেই তিন—চারটি মাথা হেলে পড়ল।

উদয় উঠে গেল স্টাফ সেকশানে। দাশগুপ্তর টেবলে দোতলার দুটি ছেলে এসে গল্প করছে। ইন্টার—অফিস টেবিল টেনিস টুর্নামেন্ট শুরু হবে। অফিসের নামী প্লেয়ার দাশগুপ্ত।

''একটু দরকার পড়ে গেল দাশগুপ্ত, রঞ্জিত করের সার্ভিস ফোল্ডারটা একবার দেখতে হবে।''

''উদয়দার যত দরকার ঠিক এই সময়টাতেই। এখন আর আমি খোঁজাখুঁজি করতে পারব না, আলমারি খোলাই আছে আপনি বার করে নিন।''

ফোল্ডার খোঁজার সময় উদয় ওদের কথায় দু—তিনবার কান পেতে বুঝল, এবারে তেমন একটা কেউ নেই যে দাশগুপ্তকে আটকাতে পারে। তবে প্রিয়তোষ আর দিব্যেন্দু ঘটক নামে নতুন ছেলেটি নাকি প্র্যাকটিস ভালোই করছে। ''ছুটির পর আজ যাবো। ব্যাটের রবারটা একটু নরম নরম হয়ে গেছে। খোঁজ রাখিস তো কেউ যদি রবার বিক্রি করে, ষাট পর্যন্ত দিতে রাজি আছি।''

এরপর হাতের খোলা ফোল্ডারটিতে উদয়ের চোখ আটকে রইল। রঞ্জিত কর আর তার জন্মসালটা একই। নিজেকে বলল, আমরা সমবয়সি, আশ্চর্য তো। অথচ ও কেমন যুবক! বাস থেকে পড়ে গেলে দাশগুপ্ত নিশ্চয় ওকে বলবে না ''আর যে ইয়াং নন এটা ভুলে যান কেন।'' বললে হয়তো রঞ্জিত কর থাপ্পড় কষিয়ে দেবে। একদা যুবক ছিল প্রতিপন্ন করার জন্য ওর প্রমাণ দাখিলের দরকার হবে না। কিন্তু আমার? এমন একটা কিছুও জমানো নেই যেটা সামনে ধরা যায়।

ছুটির পর কিছুক্ষণ স্টপে দাঁড়িয়ে থেকে উদয় ভাবল, এত ভিড়ে না ওঠাই ভালো। একটু এধার ওধার ঘুরে ফাঁকা বাসে উঠব। সে হাঁটতে শুরু করল ইডেনের পাশ দিয়ে গঙ্গার ধারে যাবার জন্য। মিনিট পাঁচেক হাঁটার পর ভিড় কিছুটা ফাঁকা হতে সে দেখতে পেল রঞ্জিত অন্তত পঁচিশ মিটার আগে চলেছে এবং পাশে একটি মেয়ে। ওরাও গঙ্গার দিকে যাচ্ছে।

উদয় কৌতূহলী হয়ে পড়ল। ওদের মন্থরতার সঙ্গে সমতা রেখে নিজেও মন্থর হল। রঞ্জিতের ডানদিকে মেয়েটি। হাতে একটি ব্যাগ ঝুলছে, কোনো অফিসে হয়তো কাজ করে। অবিবাহিতা কিনা বোঝা যাচ্ছে না। বেশ নধর গড়নটি। লম্বা, ফরসা। উদয়ের মনে হল রঞ্জিতের ডান হাত মেয়েটির বাম ঊরুতে ধাক্কা দিচ্ছে। একটা ছোট রাস্তা পার হবার জন্য ওদের একবার থমকে দাঁড়াতে হল, তখন রঞ্জিতের ডান হাত মেয়েটির ডান কাঁধটা ধরেছিল, সেইভাবেই রাস্তাটা পার হয়ে হাতটা নামাবার সময়, উদয় স্পষ্টই দেখল, মেয়েটির পাছায় বুলিয়ে নিল রঞ্জিত।

মনে মনে কুঁকড়ে গিয়ে উদয় চারপাশে তাকাল। এখনও দিনের আলো, রাস্তায়ও যথেষ্ট লোক কিন্তু কেউ লক্ষ্যই করেনি ব্যাপারটা। ভয় পেল সে, এমন দৃশ্য আবার হয়তো দেখতে হবে। কিংবা রঞ্জিত মুখ ফিরিয়ে তাকে দেখতে পেয়ে ভাববে, ফলো করছি। উদয় দ্রুত পাশের রাস্তায় ঢুকে পড়ে নিশ্চিন্ত হল এবং তখন মনে পড়ল মাত্র চারদিন আগে সে ঘুমন্ত গৌরীর পাছায় হাত রেখেছিল। একটু পরেই সে বিমর্ষ বোধ করে আবার আগের রাস্তায় ফিরে এসে রঞ্জিতদের দেখতে পেল না। দ্রুত হেঁটে গঙ্গার ধারে পৌঁছে খুঁজল এবং দেখতে না পেয়ে একটি বেঞ্চে বসে সূর্যাস্তের দিকে তাকিয়ে সে বারকয়েক কেঁপে উঠল। রঞ্জিত আর আমি একই সালে জন্মেছি, এই কথাটি সে বারংবার নিজেকে শোনাল।

পরদিন উদয় ফাইলে চোখ রেখে উৎকর্ণ হল।

''না অবনীদা, ঝামেলা বোধ হয় বাধল। কাল রাতে বাড়ি ফিরে তোমার বৌমার কাছে শুনলুম ছোঁড়াগুলো বিকেলে বাড়ির সামনে খিস্তিখাস্তা করেছে, আমার নাম ধরেও অনেক কিছু বলেছে।''

''বলেছিলুম কি না, সেই আজকালকার ছেলে—ছোকরাদের বিশ্বাস নেই রঞ্জিত, এরা ঠাণ্ডা মাথায় সব কিছু করতে পারে।''

''দেখা যাক কি করতে পারে।''

''না না, ওসব দেখাদেখিতে আর যেও না, কমপ্রোমাইজ করে ফেল। বুঝলে কিনা, জীবন তো একটা বই দুটো নয়।''

অনেকক্ষণ পর সন্তর্পণে চোখ তুলে উদয় দেখল রঞ্জিত একদৃষ্টে জানালা দিয়ে বাইরে তাকিয়ে। চোয়াল দুটি শক্ত, দেখে উদয়ের বুকের মধ্যে বাতাস আটকে গেল। ছুটির পর দাশগুপ্তর সঙ্গে ওর দেখা হল সিঁড়িতে, ওর হাতে টেবল টেনিস ব্যাট।

''যাই একটু হাত—পা ছাড়িয়ে আসি। মাস দুয়েক ব্যাট ছুঁইনি।''

''দু—মাস এ আর এমন কি বেশি সময়। মানুষ কি স্কিল ভোলে কখনো, মাজাঘষা করে নিজেই ঝকঝকে হয়ে ওঠে।''

''না উদয়দা, স্যান্ডুইচ রাবার ব্যাটে রেগুলার প্র্যাকটিস না থাকলে মুশকিলে পড়তে হবে। বছর কুড়ি আগে কাঠের ব্যাটে এসব ভাবনা ছিল না।''

দাশগুপ্ত দোতলায় ক্লাবঘরের দিকে চলে গেল। তখন উদয়ের মনে পড়ল কলেজে ফোর্থ ইয়ারে পড়ার সময় সে কলেজ চ্যামপিয়ন হয়েছিল টেবল টেনিসে। হিসেব করে দেখল আঠারো বছর আগের ঘটনা। রাস্তায় হাঁটতে হাঁটতে তার মনে পড়ল, কমনরুমে খেলাটা হয়েছিল। ফাইনালে সে আর থার্ড ইয়ার কেমিস্ট্রি অনার্সের অমলেন্দু, সম্ভবত মিত্তিরই, অমলেন্দু মিত্তির খেলেছিল। স্কোরটা সে ভুলে গেছে শুধু মনে পড়ছে শেষ গেমটা ডিউসে জিতেছিল। কুড়ি—কুড়ি, বাইশ—বাইশ তারপর চোখ বুজে বেপরোয়া দুটো স্ম্যাশ। ভাবলে অবাক লাগে, বোর্ডেই পড়েছিল। ক্লাসের তিন—চার জন কোলে তুলে নাচানাচির চেষ্টা করেছিল। তখন চোখ ধাঁধিয়ে গেছল ফ্ল্যাশ বালবের আলোয়, চিন্ময় ছবি তুলেছিল কলেজ ম্যাগাজিনে ছাপাবার জন্য। ওদের ফোটোগ্রাফির দোকান ছিল কলেজ স্ট্রিটে, এখনও হয়তো আছে। ছবিটা ম্যাগাজিনে ছাপা হয়েছিল কিনা উদয় জানে না। সেই ফাইনালের এক সপ্তাহ পরেই বাবা মারা যান। তারপর আর সে কলেজে যায়নি।

উদয়ের খেয়াল হল সে গঙ্গার দিকে এগোচ্ছে আর কিছু একটা দেখার জন্য এধার—ওধার তাকাচ্ছে। লজ্জা পেল সে, ভাবল এটা বোধহয় একধরনের বিকার। থাকা উচিত নয়। সে গঙ্গার ধারে একটি বেঞ্চে বসল প্রশান্ত চিত্তে সূর্যাস্ত দেখার ইচ্ছায়। ধীরে ধীরে রৌদ্রের তাপ, আলো, রাস্তায় যানবাহনের শব্দ, ফিরিওলার ডাক, নরনারীর কণ্ঠস্বর তার কাছে থেকে সরে গেল। ওপারে তাকিয়ে সে নিঃসঙ্গ বোধ করল। অভিজ্ঞতাটা তার কাছে নতুন প্রায়। ব্যস্ত থাকার মতো কিছুই আর নেই বলে মনে হচ্ছে। স্ত্রী সন্তান পরিবার আর চাকরি এই মুহূর্তে একঘেঁয়ে অপ্রয়োজনের হয়ে উঠল। মাথা নেড়ে নিজেকে বলল, ''কিছুই নেই, জমাবার কিছুই নেই, জমানোও কিছুই নেই। রঞ্জিত করই বেশ আছে।''

উদয় উঠে পড়ল বুকের মধ্যে মৃদু জ্বালা অনুভব করে।

কলেজ স্ট্রিটে ফোটোর দোকানটা খুঁজে নিতে উদয়ের অসুবিধা হল না। আগের দোকানের দরজার দুধারে ঝোলানো কাচের শোকেসে অজস্র ফোটো। ময়লা চিটচিটে একটা সোফা। পালিশ ওঠা বিবর্ণ কাঠের কাউন্টার। একটা লোক হেঁট হয়ে তুলি দিয়ে ফোটো রি—টাচ করছে। মাথার মাঝখানে টাক শুরু হয়েছে। দোকানে আর কেউ নেই।

''একটা কথা জিজ্ঞাসা করতে পারি?''

লোকটি মাথা তুলল। উদয়ের দিকে তাকিয়ে ঘাড় হেলাল।

''বছর আঠারো আগে একটা ছবি তুলেছিল চিন্ময় নামে আপনাদেরই একজন। বোধহয় মালিকের ছেলে।''

উদয় বলতে বলতে থেমে গেল, তার মনে হচ্ছে সে চিন্ময়ের সঙ্গে কথা বলছে। তাকে থেমে যেতে দেখে লোকটি বলল, ''হ্যাঁ আমিই চিন্ময়?''

''তাহলে তো ভালোই হল। কলেজের টেবল টেনিস ফাইনালে একটা ছবি তুলেছিলেন—উইনারকে তিন—চারজন তুলে ধরেছে। পাওয়া যাবে ছবিটা?''

''আঠারো বছর!'' চিন্ময় সামনের দেওয়ালের দিকে তাকিয়ে ছবিটা বা ঘটনাটার কথা ভাবতে লাগল। উদয়ের ইচ্ছে করল বলতে, ''আমিই সেই উইনার।''

''অতদিনের পুরনো নেগেটিভ আছে কিনা দেখতে হবে। সময় লাগবে।''

''কতদিন?''

''কবে চাই আপনার?''

''কাল কি পরশু।''

''ছবিটা আপনার নিজের?''

নিরুত্তাপ ব্যবসায়িক কণ্ঠস্বর। অথচ একই ক্লাসের সহপাঠী। দোকান থেকে ক্যামেরা এনেছিল ক্লাসের ছেলে চ্যামপিয়ন হলে ছবি তুলবে বলে।

''না আমার এক বন্ধুর।''

তুলিটা উঁচু করে চিন্ময় হাতের ছবিটার দিকে ভ্রূ কুঁচকে তাকাল! উদয় ইতস্তত করে বলল,

''তাহলে—''

''আসবেন, হপ্তাখানেক পর। আছে কিনা দেখতে হবে।''

উদয় সন্তর্পণে দোকান থেকে নেমে এল, যেন চিন্ময় টের না পায় সেদিনের উইনারের সঙ্গেই সে কথা বলেছে। কয়েক পা এগোতেই দাশগুপ্তর ডাক শুনল।

''এখানে যে!''

''এসেছিলাম এই ফোটোর দোকানে।''

''ছবি তোলাতে?''

দাশগুপ্তর সঙ্গে অফিসেরই একটি ছেলে। দুজনে পরস্পরের দিকে তাকিয়ে চাপা হাসল। মাথাটা গরম হয়ে উঠল উদয়ের। একটু তীব্রস্বরেই বলল, ''দাশগুপ্ত, আমিও একসময় টেবল টেনিস খেলেছি। কলেজে আমি চ্যামপিয়ন হয়েছিলাম।''

''সেকি! কই অ্যাদ্দিন একথাটা বলেননি তো? উদয়দা, তা হলে এবার ইন্টার—অফিসে খেলুন। না না, কোনো ওজর আপত্তি নয়। আপনারই কথা, মাজাঘষা করে নিলেই ঝকঝকে হয়ে যায়। কাল থেকে প্র্যাকটিসে আসুন।''

বাড়ি ফেরার পথে উদয় বিব্রত হয়ে ভাবল, রাজি হয়ে গেলাম? এমন বোকামি করার ইচ্ছা কেন হল!

উদয় পরদিন অফিস ছুটির পর দোতলার ক্লাবঘরে গেল।

দাশগুপ্ত সবাইকে শুনিয়ে বলল, ''উদয়দা কিন্তু কলেজ চ্যামপিয়ন হয়েছিলেন। অনেকদিন তারপর আর খেলেননি। প্র্যাকটিসে আজ ওঁকে ধরে এনেছি। ইন্টার—অফিসে এবার খেলবেন।''

দাশগুপ্তই তার ব্যাটটা দিল খেলার জন্য। টেবলের ওধারে প্রিয়তোষ। ঘরের বারো—তেরো জোড়া কৌতূহলী চোখের সামনে মিনিট খানেকের মধ্যেই উদয় বুঝে গেল, ব্যাটের সঙ্গে বলের সম্পর্ক স্থাপনের কোনো হদিশ সে পাচ্ছে না। অসহায় চোখে দাশগুপ্তর দিকে তাকাতেই সে বলল, ''আপনি বোধহয় স্যান্ডুইচ রাবার ব্যাটে কখনো খেলেননি। আপনাদের সময় এ ব্যাট ছিল না।''

উদয় মাথা নাড়াল। চার বার সে ব্যাটে বল ঠেকিয়েছে, চার বারই বল ছিটকে বোর্ডের বাইরে পড়েছে। ব্যাটটা দাশগুপ্তকে ফিরিয়ে দিয়ে সে বলল, ''আমার দ্বারা হবে না ভাই।''

''হবে হবে, যান খেলুন তো।''

ব্যাটটা উদয়ের হাতে গুঁজে দিয়ে ধমকে উঠল দাশগুপ্ত। ''আস্তে আস্তে বোর্ডে বল রাখার চেষ্টা করুন, শট নিতে যাবেন না।''

দশ মিনিট পর উদয় বোর্ডের উপর ব্যাটটা রেখে বলল, ''আজ থাক বাড়িতে কাজ আছে।''

রাস্তায় বেরিয়ে এসে উদয়ের মনে হল, ওরা যেন তাকে নিয়ে আমোদ পাচ্ছিল। মনে হওয়া মাত্র সে রেগে উঠল। রাত্রে আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে সে চোয়াল শক্ত করে দেখল, যেমনটি দেখবে ভেবেছিলে তা হয়নি।

পরদিন উদয় ক্লাবঘরের পথ মাড়াল না। দাশগুপ্ত এসে অনুযোগ করল, ''বলছি তো আপনাকে দিন চারেকের মধ্যে সড়গড় করিয়ে দেব, বিশ্বাস করুন, কোয়ার্টার ফাইনাল পর্যন্ত পৌঁছে যাবেনই।''

রঞ্জিত হঠাৎ মুখ তুলে বলল, ''কিসের কোয়ার্টার ফাইনাল?''

''উদয়দাকে বলছি টেবল টেনিস টুর্নামেন্ট খেলুন। একসময় কলেজ চ্যামপিয়ন হয়েছিলেন, তা জানেন কি?''

''তাই নাকি! কবে?''

দাশগুপ্ত প্রশ্নটা চাহনি দ্বারা রিলে করে দিল উদয়কে।

''এই বছর আঠারো হল।''

''বাহ, আমিও তো তখন কলেজে পড়তুম। আরে খেলুন খেলুন অফিস ছুটির পর আর করবেন কি?''

উদয় ভাবল, সত্যিই আমার কিছু করার নেই। একা সূর্যাস্ত দেখা ছাড়া।

''ছুটির পর আপনি কি করেন?''

প্রশ্নটা করে উদয় নিজেই বিব্রত হল। রঞ্জিত কর কি জানতে পারবে, সে দেখছে সঙ্গিনীর পাছায় হাত দেওয়া!

''কি আর করব, প্রেমিকাকে নিয়ে ঘুরি নয়তো মাল খেতে যাই।''

উদয় চট করে দাশগুপ্তর দিকে তাকাল। হাসছে দাশগুপ্ত, তার মনে পড়ল, চতুর্থ সন্তান ও গৌরীকে হাসপাতাল থেকে আনার সময় ডাক্তার তাকে বলেছিল এবার ভ্যাসেকটমি করে ফেলুন। গৌরীর দিকে তাকিয়ে সে হেসেছিল। নিশ্চয় দাশগুপ্তর মতোই তখন দেখিয়ে ছিল। উদয় হঠাৎ ব্যস্ত হয়ে বলল, ''মাস্তানদের সঙ্গে কম্প্রোমাইজ করলেন?''

রঞ্জিত অবাক হয়ে কয়েক সেকেন্ড তাকিয়ে থেকে বলল, ''বলেন কি?''

তারপর রঞ্জিতের সারা মুখ, উদয়ের মনে হল, তার প্রতি ধিক্কারে বা ভর্ৎসনায় বা ঘৃণায় ফুলে উঠল ঘাড় থেকে দুটি পেশী লাফিয়ে ওঠায়।

ফাইলে চোখ নামিয়ে উদয় বলল, ''দাশগুপ্ত, আজ যাব।''

বিকেলে জনা দশেক ছিল ক্লাবঘরে। দাশগুপ্ত বলল, ম্যাচ প্র্যাকটিস না করলে ঠিক সিরিয়াস চেষ্টাটা হয় না। উদয়কে নিয়ে সে তিন গেমের ম্যাচ শুরু করল। একজন বলল, ''উদয়দা বাজি রেখে খেলুন, এক রাউন্ড চা, দেখবেন তাহলে আরও এফর্ট দিয়ে খেলবেন।''

''বেশ, কিসের ওপর বাজি?''

''স্ট্রেট গেমে হারবেন না। হারলেই এক রাউন্ড চা।''

আর একজন তাকে বাধা দিয়ে বলল, ''না না অত সহজে চা খাওয়া চলবে না। পয়সা অত সস্তা নয়, উদয়দা আপনি রাজি হবেন না।''

দুজনের মধ্যে কৃত্রিম তর্ক শুরু হল। ব্যাট হাতে উদয় সকলের মুখের দিকে তাকাল। প্রত্যেকটি মুখে আমোদ। চাপা হাসিতে ভরা। ঘাড়ের কাছে পেশীগুলোর লাফিয়ে ওঠার জন্য উদয় অপেক্ষা করতে করতে বুঝতে পারল তার মুখেও কীরকম একটা হাসি নড়াচড়া করছে। ভয় তার বুকের মধ্যে থরথর করে উঠল।

মিনিট ছয়েকের মধ্যে দাশগুপ্ত প্রথম গেম জিতল ২১—৪। চারটি পয়েন্ট সে দিয়েছে দূর থেকে বোর্ডের লাইন ঘেঁষে স্ম্যাশ আয়ত্ত করার চেষ্টায় বাইরে বল ফেলে। উদয় সকলের মুখে সহানুভূতি দেখল। একজন বলল, ''স্টেডি স্টেডি। সাতটা পয়েন্ট যে ভাবে হোক নিতেই হবে।''

বিড়বিড় করে উদয় বলল, ''তোমাদের এই ব্যাটে কখনো খেলিনি। বল এত জোরে যে যায়।''

দ্বিতীয় গেম উদয়ের সারভিস দিয়ে শুরু হল। পাঁচটি সারভিসে পাঁচ পয়েন্ট। পাঁচবারেই দাশগুপ্ত ইচ্ছে করে বল বাইরে মেরেছে। তবু উল্লাস ফেটে পড়ল ঘরটায়।

''উদয়দা, আর দুটো, শুধু দুটো পয়েন্ট চাই।'' গেম জিততে হবে কেউ বলল না। ওরা বাজিরক্ষার কথা ছাড়া আর কিছু ভাবছে না হঠাৎ উদয়ের মনে হল, সে বড় একা। সূর্যাস্তের সামনে একা দাঁড়িয়ে। কোনো শব্দ কোনো বর্ণ, কোনো স্পর্শ তার নাগালের মধ্যে নেই। শুধু দেখতে পাচ্ছে টেবলের ওধারে দাশগুপ্তর মুখটা অবহেলা আর তাচ্ছিল্যে রঞ্জিতের মতোই হয়ে রয়েছে। একসময় সে শুনল কে চেঁচিয়ে বলছে, ''সিকস—নাইনটিন, এবার দাশগুপ্তর সারভিস।''

''কাম অন উদয়দা, আর একটা পয়েন্ট।''

''হয়ে যাবে, হয়ে যাবে। স্টেডি থাকুন, ওকে দুটো পয়েন্ট করতে দেবেন না।''

''কাম অন কলেজ চ্যামপিয়ন।''

দাশগুপ্তর মুখটা আর উদয় দেখতে পাচ্ছে না। সাদা ধোঁয়ায় ঢেকে গেছে। ঘাড়ের দুটো জায়গা দপদপ করছে। অন্ধের মতো সে ব্যাট চালালো দুবার। দুটি স্ম্যাশেই বল পাশের দেয়ালে গিয়ে লেগেছে।

বাড়ি ফেরার সময় সে কাতরভাবে আশা করল নেগেটিভটা যেন চিন্ময় খুঁজে না পায়।

দুদিন পরেই উদয়ের খেলা। ফিক্সচার দেখিয়ে দাশগুপ্ত বলে গেল, আপনার অপোনেন্ট দিব্যেন্দু ঘটক, চেষ্টা করবেন ফাইট দেবার।

রঞ্জিত চেঁচিয়ে উঠল, ''চেষ্টা মানে? চেঁচিয়ে ফাইট করিয়ে দোব! খেলা কখন, ছ'টায়? ঠিক আছে হাজির থাকব।''

খেলার দিন উদয় অফিসে এল না। দেড় বছর পর এই প্রথম কামাই। উদয় সারাদিনই বিছানায় শুয়ে কাটাল। তার প্রায়ই মনে হচ্ছিল সত্যিই বোধহয় জ্বর হয়েছে।

পরদিন অফিসে ঢোকার আগে সে নিজেকে জ্বরগ্রস্ত এবং বিমর্ষ দেখাবার চেষ্টা করতে করতে আর একবার মনে করে নিল দাশগুপ্তকে কি কি বলবে। অফিসের হলটা অন্যদিনের থেকে চুপচাপ। অবনী চাটুজ্যের টেবলে পাঁচ—ছ জন কথা না বলে বসে আছে। উদয় চাবি দিয়ে ড্রয়ার খুলে টেবলে জিনিস বার করে রাখার সময় দেখল অবনী চাটুজ্যে ওর দিকে তাকিয়ে।

''জ্বর হয়েছিল।'' উদয় সঙ্কুচিত হয়ে বলল।

''তাহলে তুমি শোননি। রঞ্জিত বোধ হয় আর বাঁচবে না।''

কয়েকটা ফ্ল্যাশবালব জ্বলে উঠল উদয়ের চোখের সামনে। অন্ধের মতো সে তাকিয়ে বলল, ''পাইপগান না ছোরায়?''

''পিঠে বোমা মারে। সেই অবস্থায় ঝাঁপিয়ে একজনের ছোরা কেড়ে নিয়ে তার পেটে বসিয়ে দেয়। তখন ওর মাথায় বোমা মারে।''

''তা হলে লড়েছিল।''

''হ্যাঁ লড়েছিল।''

''একজনকে তাহলে মেরেছে।''

''হ্যাঁ মেরেছে, সেও কাল রাত থেকে ওর সঙ্গে হাসপাতালে। দুজনই বোধ হয় বাঁচবে না। অফিসের অনেকেই খবর পেয়ে নীলরতন হাসপাতালে গেছে। তুমিও যাবে নাকি?''

''হ্যাঁ যাব, আমরা একই সালে জন্মেছি।''

অফিস থেকে বেরিয়ে মন্থরভাবে হেঁটে উদয় গঙ্গার ধারে এল। দরদর করে সে ঘামছে। ধারে কাছে মানুষ দেখতে পেল না। ছাতি মাথায় দু—চারজন পথে চলেছে। গাছের ছায়া—পাওয়া একটা বেঞ্চে বসে সে ঝিরঝির হাওয়ায় চোখ বন্ধ করে আরামে ''আহ'' বলে উঠল। কিছুক্ষণ পর সে বেঞ্চে শুয়ে ঘুমিয়ে পড়ল।

সকল অধ্যায়
১.
ছাদ
২.
একটি ঐতিহাসিক সিচ্যুয়েশন
৩.
শূন্যে অন্তরীণ
৪.
রাস্তা
৫.
জীবনযাপন প্রণালী
৬.
পাষাণভার
৭.
শেষবিকেলের দুটি মুখ
৮.
একটি পিকনিকের অপমৃত্যু
৯.
শহরে আসা
১০.
বয়সোচিত
১১.
প্রত্যাবর্তন
১২.
গুণ্ডাদ্বয়
১৩.
বেহুলার ভেলা
১৪.
টুপু কখন আসবে
১৫.
বহুদূর ব্যাপ্ত উজ্জ্বলতা
১৬.
উৎসবের ছায়ায়
১৭.
সুখী জীবন লাভের উপায়
১৮.
দুর্ঘটনা
১৯.
ঘর
২০.
এবং তারা ফিরে এল
২১.
কালপ্রিট
২২.
অস্থায়ী পলায়ন
২৩.
ষড়যন্ত্র
২৪.
রাজা
২৫.
সূর্যাস্তের প্রতিবিম্ব
২৬.
চোরা ঢেউ
২৭.
তাপের শীর্ষে
২৮.
নিরর্থক
২৯.
কামরার মধ্যে
৩০.
শীত
৩১.
সেই আবছা মুখগুলো
৩২.
ইমেজ
৩৩.
দু'ভাগে
৩৪.
নিজেকে যে—সব প্রশ্ন
৩৫.
আত্মভুক
৩৬.
একটি সাধারণ ব্যাপার
৩৭.
এক ধরনের অসুখ
৩৮.
নায়কের প্রবেশ ও প্রস্থান
৩৯.
একচক্ষু
৪০.
সামান্য জীবন
৪১.
চতুর্থ সীমানা
৪২.
ব্লেজার
৪৩.
পর্দার নিচে একজোড়া পা
৪৪.
শবাগার
৪৫.
একটি মহাদেশের জন্য
৪৬.
ক্লান্তি বিনিয়োগ
৪৭.
ছ'টা পঁয়তাল্লিশের ট্রেন
৪৮.
যুক্তফ্রন্ট
৪৯.
রাশিফল
৫০.
জলের ঘূর্ণি ও বকবক শব্দ
৫১.
মুক্তো
৫২.
কপিল নাচছে
৫৩.
জালি
৫৪.
অবিনাশের সাড়ে আটচল্লিশ
৫৫.
বৃষ্টির মতো
৫৬.
গলিত সুখ
৫৭.
একটা খুনের খবর
৫৮.
বৃষ্টিতে
৫৯.
একটি সকাল, একটি মেয়ে
৬০.
ফুলদানি
৬১.
আঠারো বছরে
৬২.
তরুণের বাড়ি ফেরা
৬৩.
অন্ধকার থেকে অন্ধকার
৬৪.
ষোলোকে পনেরো করা
৬৫.
রেড্ডি
৬৬.
বুড়ো এবং ফুচা

নোট নিতে এবং টেক্সট হাইলাইট করতে লগইন করুন

লগইন
০%