পর্দার নিচে একজোড়া পা

মতি নন্দী

বাজার থেকে বেরিয়ে, ট্রামরাস্তা ধরে প্রবীর ষাট—সত্তর মিটার হেঁটেছে, তখনই ঘটল।

তার সামনে, মাত্র দশ হাত দূরত্বে যে লোকটি ঠিক তার মতোই বাজারের থলি হাতে, সবুজ লুঙি এবং সাদা পাঞ্জাবি পরে মাথাটা বাঁ ধারে হেলিয়ে হাঁটছিল, তাকে আচমকা চারটি ছেলে প্রবীরের পিছন থেকে এগিয়ে এসে ঘিরে ধরল। প্রায় দু হাত লম্বা মোটা একটা লোহার রড দিয়ে একজন লোকটির মাথার পিছনে মারল। ভোঁতা একটা শব্দ হল। মাথা ঘুরিয়ে লোকটি তাকাতেই প্রবীর ওর চোখে এমন এক ধরনের বিস্ময় দেখতে পেল যেটা তার একবছর বয়সি ছেলে বুবাই—এর চোখে ফুটে ওঠে হাত থেকে বিস্কুট বা খেলনা কেড়ে নিলে।

লোকটির হাত থেকে থলিটা পড়ে গেল এবং দুহাত বাড়িয়ে প্রবীরের দিকে তাকাল। রড হাতে ছেলেটি বিরক্ত—উত্তেজিত ভঙ্গিতে হাত নেড়ে প্রবীরকে বলল, ''হাঁটুন, হাঁটুন।'' বুকফাটা একটা মরিয়া চিৎকার করে লোকটি প্রবীরের দিকে ছুটে আসতে গেল। চারজনের একজন ওর পাঞ্জাবি টেনে ধরে অতি দ্রুত পেটে ছুরি ঢুকিয়ে দিল। প্রবীরের হতভম্ব ভাবটা সঙ্গে সঙ্গে কেটে গেল এবং দেখল জায়গাটা ফাঁকা হয়ে গেছে। তখন সে রাস্তার অন্যান্য লোকেদের মতো ঊর্ধ্বশ্বাসে ছুটল।

কিছুদূর গিয়েই অবশ্য প্রবীর থেমে গেল। পিছনে তাকিয়ে দেখল লোকটি উপুড় হয়ে পড়ে। বাঁ হাতটা মুচড়ে বুকের নিচে, ডান হাতটা ট্রাফিক পুলিসের হাতের মতো প্রসারিত। বুবাই কখনো কখনো এইভাবে ঘুমোয়। তখন সে সন্তর্পণে চিত করে দেয়। বুবাই—এর জন্য বিস্কুট কেনার কথা মনে পড়ে যেতেই প্রবীর নিকটবর্তী দোকানটিতে ঢুকল। সেই সময় দোকানির সঙ্গে তার নিম্নোক্ত কথা হল:

''কি কাণ্ডটা হল দেখলেন, একেবারে চোখের সামনে ঘটে গেল।''

''আমার দোকানের সামনে দিয়েই তো ছেলেগুলো গেল। এখন পুলিস এসে আর কী করবে। এ পর্যন্ত একজনকেও তো হাতেনাতে ধরতে পারল না।''

''ওদের সাহস কিরকম দেখেছেন?''

''যারা মার্ডার করল?''

''হ্যাঁ। এতবড় একটা রাস্তায়, সকাল সাড়ে আটটায়, এত লোকজনের মধ্যে কী অবলীলায় যে কাজ সেরে বেরিয়ে গেল!''

''আপনি খুব কাছ থেকে দেখতে পেলেন।'' ক্ষুণ্ণ—স্বরে দোকানি বলল।

''রডটা মারল যে, তাকে তো খুব ভাল করেই দেখলুম। বেশ বড়ঘরের ছেলে বলেই মনে হল। কী টকটকে গায়ের রঙ, কী টানা টানা চোখ! স্বচক্ষে না দেখলে বিশ্বাসই করতে পারতুম না অমন ফুটফুটে চেহারার ছেলে অত জোরে রড চালাতে পারে।''

''পাবলিককে ভয় খাওয়াতে বোমাটোমা চালায়নি, এই যা রক্ষে। তাহলে ঝাঁপ ফেলে দিতে হত। সকালের এই সময়টা বন্ধ গেলে বড় লোকসান যায়।''

প্রবীর বাড়িতে ফিরেই, রান্নাঘরে থলিটা রাখতে রাখতে ঘটনার কথা বলল। শোনামাত্র ওর মা ''আহা'' বলে উঠল। অফিসের রান্নার দেরি হয়ে গেছে; থলি থেকে মেঝেয় আনাজ ঢেলে, বঁটিটা পেতে চেঁচিয়ে বলল, ''বৌমা মাছটা তাড়াতাড়ি কুটে দাও।'' তারপর প্রবীরের সঙ্গে তার নিম্নোক্ত কথাবার্তা হল:

''কী কাণ্ড, ওম্মা! বাজার করে ফিরছে একটা লোক আর অমনি তাকে মেরে ফেলল।''

''হয়তো কোনো কারণ আছে।''

''তাহলে তো লোকটা নিজেও জানত; তাহলে নিশ্চয় অমন আগলা হয়ে রাস্তায় বেরুত না।''

''কখন যে কাকে মারবে, তা—কি কেউ জানে। হয়তো লোকটা জানত সে এমন কিছু করে ফেলেছে যেটা ওদের কাছে অপরাধ।''

''য়্যাঁ, জানত না?''

''হয়তো করেছে।''

''তাহলে লোকে বুঝবে কি করে কোন কাজটা করলে খুন হতে হবে? একি জ্বালারে বাবা।''

''কি জানি। সব থেকে ভাল বোধহয় কোনো কিছু না করা।''

''লোকজনের সঙ্গে ঝগড়া—টগড়া করিসনি বাপু, তোর যা মাথা গরম আর অফিস থেকে সকাল—সকাল ফিরিস।''

এরপর প্রবীর বুবাইকে কিছুক্ষণ আদর করল। তার মধ্যে একবার ওর স্ত্রী ঘরে আসতেই সে বলল, ''আজ দারুণ বেঁচে গেছি। ঠিক এক হাত সামনে, এইভাবে''—প্রবীর উঠে দাঁড়িয়ে একটি কাল্পনিক রড ঘাড়ের উপর তুলল। ওর স্ত্রী শিউরে উঠে চোখ বুজে বলল, ''থাক থাক।''

তখন ওদের নিম্নোক্ত কথা হল:

''রডটা তোলার সময় তোমার চোখেমুখে খোঁচা লেগে যেতে পারত।''

''তা তো লাগতই যদি না চট করে পিছিয়ে যেতুম।''

''লোকটার মতো তুমিও তো লুঙি আর পাঞ্জাবি পরেছিলে, যদি ওরা ভুল করত।''

''যাকে মারে, তাকে কি আগে ভাল করে দেখে নেয় না ভেবেছ?''

''তবু, ভুল কি আর হতে পারে না। তুমি কিন্তু কাল থেকে আর লুঙি পরে বেরোতে পারবে না।''

''প্যান্ট কি ধুতি পরা লোক কি খুন হয়নি?''

স্ত্রী রাগ দেখিয়ে ঘর থেকে বেরিয়ে গেল বুবাইকে নিয়ে। স্নান সেরে বাবার সঙ্গে খেতে বসল প্রবীর। দুজনে একসঙ্গেই অফিসে বেরোবে। একই অফিস তবে দুজনের ডিপার্টমেন্ট আলাদা। খেতে খেতে দুজনের মধ্যে নিম্নোক্ত কথা হল:

''একটু সাবধানে লোকজনের সঙ্গে কথা বলবি। কোনোরকম পলিটিক্যাল কথার মধ্যে থাকবি না।''

''আমি তো কখনো ওসব আলোচনার মধ্যে থাকি না।''

''লোকটার বয়স কত মনে হল।''

''আমার থেকে বছর দশেকের বড় হবে।''

''পুলিসের লোক হয়তো। তোর এক সার্জেন্ট বন্ধু আছে না? তার সঙ্গে এখন আর দেখাটেখা করিসনি। আর বৌমা বলছিল প্যান্ট—শার্ট পরে বাজার যেতে। আমার অবশ্য মনে হয় না তাতে নিরাপত্তা কিছু বাড়বে, তবে বলছে যখন। ভাল কথা ওরা ক'জন ছিল?''

''মনে হল চারজন।''

''চারজন আচমকা অ্যাটাক করলে একটা লোক কীই—বা করতে পারে। তবে রাস্তায় আশেপাশের লোকেদের দিকে নজর রাখবি।''

অফিসে পৌঁছেই প্রবীর উসখুস করতে লাগল ঘটনাটার কথা সহকর্মীদের জানাতে। একসময় সে পাশের টেবলের লোকটিকে বলল, ''জানেন দাদা, আজ ভীষণ বাঁচা বেঁচে গেছি। তিন হাত দূরে ঠিক আমার সামনের লোকটাকেই খুন করল চারটে ছেলে রড আর ছোরা দিয়ে; ওপেন রাস্তায় একশো লোকের সামনে। একটুর জন্য বেঁচে গেছি, লোকটার আর আমার পরনে একই লুঙি ছিল।

''সে কি, দারুণ সেভড হয়েছেন! শুনছেন, প্রবীরবাবু আজ খুন হতে হতে বেঁচে গেছেন।'' লোকটি চেঁচিয়ে অন্যান্য টেবলকে শোনাল। সঙ্গে সঙ্গে কাজ বন্ধ হয়ে গেল। প্রবীরকে সাত—আটজন ঘিরে দাঁড়াল। তখন ওদের মধ্যে নিম্নোক্ত কথাবার্তা হল :

''এগস্যাক্টলি ঠিক কোনখানে রডটা মারল?''

''ঠিক এইখানে! মার খেয়েই লোকটা তাকাল পিছনে। তখন আমার সঙ্গে চোখাচোখি হল। শরীরটা তখন কীরকম যে করে উঠল কী বলব। একটা বয়স্ক সুস্থ জ্যান্ত লোক মারা যাবার কয়েক সেকেন্ড আগে যে ওভাবে বাচ্চা ছেলের মতো তাকাতে পারে ভাবাই যায় না।''

''কটা স্ট্যাব করল?''

''সাত—আটটা।''

''গলার নলি কাটল না?''

''অতটা আর দেখিনি, বোধহয় কেটেছে, কাল কাগজে জানা যাবে।''

''কোনোরকম শব্দটব্দ করেনি লোকটা?''

''একবার যেন আঃ বলে উঠল।''

''আরে মশাই আপনারাও যেমন, গলা দিয়ে শব্দ বার করার সময় কি আর ওরা দেয়। এক সেকেন্ডেই খতম। ছেলেগুলো তারপর কী করল, ছুটে পালাল?''

''ছুটেছিল, তবে খুব জোরে নয়। অনেকটা বরং হনহন করে।''

''ওরা দেখতে কেমন? শুনেছি রুমাল দিয়ে মুখ বেঁধে রাখে যাতে না কেউ আইডেন্টিফাই করতে পারে।''

''আপনি আবার দেখলে চিনতে পারবেন?''

''একজনকে তো পারবই। খুব ফরসা, টানাটানা চোখ চেহারাটা পাতলা।''

''প্রবীরবাবু আপনি একটু সাবধানে থাকবেন।''

''য়্যাঁ! আমি তো কিছু করিনি।''

''আপনিই প্রধান সাক্ষী, স্বচক্ষে খুব কাছে থেকে দেখেছেন, ওদের একজনকে চিনতে পারবেন বলছেন। আপনি তো ওদের কাছে বিপজ্জনক।''

''কি যে বলেন, ওরাও কি আমায় চিনে বসে আছে নাকি। রাস্তায় তখন আমার মতো আরও কত লোক ছিল, তারাও তো দেখেছে। তাই বলে কি সবাইকে ওরা খুন করবে?''

''আপনি সব থেকে কাছে ছিলেন তো।''

ওরা যে যার টেবলে চলে যাবার পর প্রবীর অনেকক্ষণ ভাবল। ভেবে ভেবে সে বুঝে উঠতে পারল না কেন সে খুন হতে পারে। ক্রমশ তার মাথাটা ভার হয়ে উঠছে, জ্বরো ভাব লাগছে। ছুটি নিয়ে সে বাড়ি এল। তাড়াতাড়ি বাড়ি ফেরার কৈফিয়ত হিসাবে বৌকে বলল, সকালের ঘটনার জন্য মনটা বিশ্রী লাগছে। বৌ তখন ইভনিং শো—য়ে সিনেমা দেখার প্রস্তাব দিতেই প্রবীর রাজি হয়ে গেল। সিনেমা যাবার পথে এক জায়গায় দাঁড়িয়ে পড়ে সে বলল, ''ঠিক এইখানটায়ই ঘটেছে আজ সকালে।'' বৌ হ্যাঁচকা টান দিয়ে প্রবীরকে সরিয়ে এনে বলল, ''এমনভাবে দাঁড়ালে যেন—উঃ কি যে ভয় করে উঠেছিল।'' তারপর হাঁটতে হাঁটতে বলল, ''বাড়ি ফিরে জুতোটা ধুয়ে নেবে।''

হেঁটে বাড়ি ফেরার পথে, নায়কের অভিনয়ের নানান গুণের এবং নায়িকার দেহ—সৌন্দর্যের দু—চারটি ত্রুটির কথা বলতে বলতে বৌ হঠাৎ খাপছাড়াভাবে প্রবীরকে প্রশ্ন করল, ''তখন থেকে তুমি বারবার ফিরে তাকাছে কেন বলো তো?''

''কই তাকাচ্ছি!'' প্রবীর অপ্রতিভ হয়ে বলল।

''অন্তত বার দশ দেখলুম।''

''মনে হল যেন চেনা কেউ আসছে।''

''কই, কাউকে তো দেখছি না!''

প্রবীর আর জবাব দিল না। সিগারেট ধরাল এবং ঘন ঘন টান দিয়ে বাড়ি পৌঁছবার আগেই শেষ করে ফেলল। বুবাই ঘুমোচ্ছিল। তাকে তুলে সে কিছুক্ষণ আদর করল। কটা দাঁত উঠেছে গুনল। অবিলম্বে ওকে ট্রিপল আন্টিজেন দেওয়া সম্পর্ক বৌ—এর সঙ্গে কথা বলল। মা এসে জানাল, বুবাই অত্যন্ত দুষ্টু হয়েছে, চোখের আড়াল করলেই হামা দিয়ে পালায়। সন্ধ্যার সময় ছাদে উঠে গেছল। পাঁচিলের ঘুলঘুলিগুলো দিয়ে ওর মাথা গলে যায়। দুদিন আগেও বুবাই আধখানা বেরিয়ে গেছল। যদি না বৌমা ছুটে গিয়ে ধরত তাহলে কি যে হত, ভাবলে হাত—পা ঠাণ্ডা হয়ে যায়। কালকেই যেন মিস্ত্রি ডেকে ঘুলঘুলিগুলো বুজিয়ে ফেলা হয়।

অনেক রাত পর্যন্ত প্রবীরের ঘুম এল না। কেন যে সে রাস্তায় বারবার পিছু ফিরে তাকিয়েছিল, ভেবে ভেবে তার কারণ খুঁজতে লাগল। আততায়ীর ভয়ে? কিন্তু আমাকে খুন করবে কেন, কি অপরাধ করেছি? কোনোদিন রাজনীতি করিনি। শুধু স্কুলে পড়ার সময় রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘে কিছু দিন প্যারেড করেছি। তখন জানতুম না ওটা একটা সাম্প্রদায়িক সংগঠন। না জেনে এমন কাজ কতই তো করি, কত কথাই তো বলি। কাজলকে তো বলেছিলুম ওকে বিয়ে করব নয়তো সায়নাইড খাব। ও বলেছিল আমাকে না পেলে গলায় দড়ি নেবে। কাজল গত মাসেও বাপের বাড়ি এসেছিল তিন ছেলেকে নিয়ে, রাস্তায় দেখা হতে দুজনেই হাসলুম। একটুও তো অপরাধী মনে হয়নি নিজেকে বা ওকে। এমন তো হামেশাই হয়। ইকনমিক্স পরীক্ষায় শুধু একটা প্রশ্নের উত্তর টুকেছিলুম। কিন্তু তার জন্যই বি.এ. পাস করেছি এমন কথা নয়। না টুকলেও পাস করতুম, তবে কয়েকটা নম্বরই শুধু কম হত। কিন্তু ডিগ্রিটা সেজন্য চুরি করে নিয়েছি বলা যায় না। চাকরিটাও বলা যায় না যে অযথা পেয়েছি! সবাইয়েরই রোজগার দরকার, আমারও দরকার। বাবা যদি ভেতর থেকে ম্যানেজ করে দেয়, তাতে অপরাধটা কোথায়? আর একজন চাকরিটা পেলে আমিও তো বঞ্চিত হতুম।

প্রবীর অনেক ভেবেও আর কোনো অপরাধ খুঁজে পেল না। ট্রাম—বাসে ভাড়া না দিয়ে অনেকবারই কন্ডাক্টরকে ঘাড় নেড়ে জানিয়েছে, দিয়েছে। কিন্তু সেটাকে অপরাধের মধ্যে গণ্য করবে কিনা তাই নিয়ে একটুখানি ভাবল। এতই তুচ্ছ, মাত্র কয়েকটা পয়সার ব্যাপার। লক্ষ লক্ষ টাকা ফাঁকি দিচ্ছে কত লোক! এই তো সেদিন খবরের কাগজে লিস্ট বেরিয়েছিল কারা কারা ইনকাম ট্যাক্স দেয়নি। প্রবীর ঈষৎ উত্তেজিত হয়ে নিজের চুল মুঠিতে চেপে ধরল। তাইতে কনুয়ের ধাক্কা লাগল বৌয়ের কাঁধে। ''উঁউ'' বলে বৌ পাশ ফিরে ওকে জড়িয়ে ধরল। প্রবীর বিরক্ত হয়ে হাতটা সরিয়ে দিয়ে আবার তার চিন্তায় প্রবেশ করল। কিন্তু এর সঙ্গে রাজনীতির সম্পর্ক কী? আমি সকলের সঙ্গে মিছিলে গেছি, ইউনিয়ন যখনি ম্যানেজারের ঘরের সামনে অ্যাজিটেশন করার ডাক দিয়েছে সবায়ের সঙ্গে সিট ছেড়ে উঠে গেছি! কয়েক টাকা মাইনে যদি বাড়ে, তাহলে যাব না কেন? হরিদাস গুহ, কমল পোদ্দারও তো যায়। একবার মিছিল থেকে সটকে ওদের সঙ্গে সিনেমায় গেছলুম, কিন্তু তাইতে জমায়েতের এক বিন্দুও কমেনি। পনেরো পয়সা বাস ভাড়া ফাঁকি দেওয়াতে নিশ্চয় গভরমেন্ট ভিখিরি হয়ে যায়নি। অথচ যারা দেশকে ভিখিরি করছে সেই সব কালোবাজারি, ট্যাক্স ফাঁকি দেওয়া শয়তানগুলো—।

প্রবীর কিছুক্ষণ উত্তেজিত অবস্থায় থেকে ধীরে ধীরে ক্রমশ নিস্তেজ হয়ে পড়তে লাগল। মাথা ঘুরিয়ে জানালা দিয়ে তাকাল একবার। সামনের বাড়ির দেওয়ালে বহুদিন আগে লেখা আলকাতরার অক্ষরগুলো বিবর্ণ হয়ে গেছে। মাথা তুলে সে পড়ার চেষ্টা করল। 'চলছে, চল—' এইটুকু মাত্র দেখেই তার মনে পড়ল, এর আগেই লেখা আছে, 'খতম'। তার উপরে আছে, 'খতম মানেই খুন নয়। ঘৃণার চরম প্রকাশ।'

হঠাৎ তার মনে হল বারান্দায় কার যেন পায়ের শব্দ হচ্ছে। দরজার পর্দাটা চৌকাঠ থেকে এক হাত উপরে ঝুলছে। পর্দার নিচে আবছা মেঝেটার দিকে একদৃষ্টে তাকিয়ে থাকতে থাকতে তার মনে হল, একজোড়া পা দেখতে পাবে। বিবর্ণ চামড়া, মোটা মোটা দশটা আঙুল, শিরাবহুল থ্যাবড়া পাতা আর ভারি গোছ। নিঃশব্দে এসে পর্দার পিছনে পা জোড়া অপেক্ষা করে থাকবে।

প্রবীরের কপালে ঘাম ফুটল। শরীর থেকে লেপটা ফেলে দেবার জন্য হাতটা তুলেও নামিয়ে নিল। বাইরে কি আবার শব্দ হল? অত্যন্ত মনোযোগ শুনতে গিয়ে সে গুম গুম একটা ভয়াবহ শব্দ শুনল। ড্রাম বাজাতে বাজাতে তালে তালে পা ফেলে কেউ যেন এগিয়ে আসছে। প্রবীর একদৃষ্টে পর্দার নিচের ফাঁকটুকুতে তাকিয়ে বলল, 'আমার বুকের মধ্যেই এটা হার্ট বিটের শব্দ, এতে ভয় পাবার কি আছে!' এবং সকাতর প্রশ্ন করল নিজের কাছেই, 'আমি কী অপরাধ করেছি যে জন্য ঘৃণার চরম প্রকাশ আমার উপর ঘটবে?' কোনো জবাব দিতে না পেরে গভীর অসহায়তার মধ্যে ডুবতে ডুবতে শেষ অবলম্বনটি আঁকড়ে ধরার মতো সে বলল, 'আমি তো কিছুই করিনি, তবে!'

প্রবীর পরদিন খবরের কাগজে চার লাইনে ছাপা বিবরণ থেকে জানল, চারজন যুবক এক ব্যক্তিকে ছুরিকাঘাতে হত্যা করে পালিয়ে যায় এবং জোর পুলিসি তদন্ত চলছে। নিহত ব্যক্তি একজন পুলিশ কর্মচারী। প্রবীর আরও দুটি খবরের কাগজ থেকে জানল, দিবালোকে, জনাকীর্ণ রাজপথে, নৃশংসভাবে সমাধিত এই হত্যাকাণ্ডে এলাকার লোক সন্ত্রস্ত হয়ে পড়েছে।

বাজারে যাওয়ার পথে প্রবীর কয়েকবার পিছু ফিরে তাকাল। পিছন থেকে একটি ছেলে আসছে। প্রবীর মন্থর হয়ে লক্ষ্য করল ছেলেটিও মন্থর হয় কিনা। ছেলেটি অতিক্রম করে যাওয়ার পরই তার মনে হল, এইরকম ভয় তো ক্রমশই আমাকে পাগল করে দেবে; এর হাত থেকে মুক্তি পেতেই হবে। এরপর সেই স্থানটির পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় সে আড়চোখে তাকাল। কাল সকাল থেকে হাজার হাজার লোকের যাতায়াতে ঘটনাটা মুছে গেছে। প্রবীর ভাবল, আমার ভয়টাও যদি এত সহজে মুছে যেত!

বাজার থেকে ফেরার সময় প্রবীরের মনে হল, কালকের চারজনের একজনকে সে যেন পাশের গলিতে ঢুকতে দেখল এবং সামনে থেকে আসা আর একটি ছেলেকে দেখেও যখন তার এই রকমই মনে হল তখন সে বুঝতে পারল, তারমধ্যে একটা গণ্ডগোল ঘটে গেছে।

অফিসে বেরোবার সময় বৌ ওকে আর একবার ছাদের ঘুলঘুলিগুলো বন্ধ করার কথা মনে করিয়ে দিল। অফিসে এক সহকর্মী ওকে বলল, ''কাগজে পড়লুম। এসব ঘটনা ডিটেলে লিখতে হয়। কী যে পলিসি কাগজগুলোর বুঝি না।''

আর একজন বলল, ''ডিটেলে না লিখে ভালই করেছে। নইলে প্রবীরবাবুও ইনভলভড হয়ে যেতেন। ওঁর সামনেই তো ঘটেছে, সুতরাং রিপোর্টার ওঁকে ইন্টারভিউ করতই। পেপারে নাম বেরিয়ে গেলে—''

''তা কেন! 'জনৈক প্রত্যক্ষদর্শী বলেন', এইভাবে কাগজে লেখা হত। প্রবীরের সেফটি কাগজওলারা নিশ্চয় দেখত।''

''কিন্তু ওরা তো ঠিকই বুঝতে পারত প্রত্যক্ষদর্শীটি কে। প্রবীরবাবু, একজন আপনার দিকে তাকিয়ে দেখেছিল না?''

''আরে মশাই অত ভয় করলে চলে না। প্রবীর কোথায় থাকে না—থাকে তা কি ওরা জেনে বসে আছে?''

''রোজ বাজার করেন, দু—চারদিন ওয়াচ করলেই তো জানা যাবে।''

ইতিমধ্যে আরও দুজন এসে আলোচনায় যোগ দিল। তাদের একজন বলল, ''কিন্তু প্রবীরদা যদি প্রেসম্যানকে ভিভিড বর্ণনা দিতেনই, তা থেকে কি কালপ্রিটদের বার করা সম্ভব হত? একদমই না। ধরে নিচ্ছি ওরা প্রবীরদার নাড়ি নক্ষত্রই জানে, তাহলেও বাজি ধরে বলতে পারি ওরা এই নিয়ে মাথা ঘামাবে না।''

''দ্যাখো, বাজিটাজি ধরার কথা তুমি অন্তত বোলো না। গত বছর দশ টাকা বাজি ধরেছিলে, নায়ীম ইস্টবেঙ্গলে যাবে না। সে টাকা আজও দাওনি। তুমি যেটা বাজি ধরো তার উল্টোটাই তো ঘটে। বলছ মাথা ঘামাবে না, অথচ দ্যাখোগে তারা হয়তো প্রবীরের জন্যই বসে আছে। না, না, আমি কথার কথাই বলছি। কিছু মনে করলে না তো?''

''আরে আজকাল এইসব কথায় কি কেউ মনে করে নাকি। আমিই যে আজ পেটে ছুরি খাব না, কে গ্যারান্টি দিয়ে বলতে পারে, তাই না প্রবীরবাবু?''

''অকারণে আপনারা প্রবীরদাকে ভয় খাওয়াচ্ছেন। উনি তো কিছুই করেননি।''

প্রবীর এতক্ষণ নিশ্চল হয়ে শুনে যাচ্ছিল। এই বার সে মনে মনে বলল, আমি তো কিছুই করিনি, তাহলে ভয় পাই কেন! কেউ তো খতম করবে বলেনি, তাহলে ভয় পাই কেন! আমি তো সব কিছুই মেনে চলি, কখনো কিছু তো অস্বীকার করি না, তাহলে তো আমার অপরাধ হবার কথাও নয়!

ছুটির পর অফিস থেকে বেরিয়ে রাস্তায় পা দিয়েই প্রবীরের মনে হল বাস স্টপে সেই গৌরবর্ণ, টানাটানা চোখ ছেলেটি দাঁড়িয়ে, যাকে লোহার রডটা মারতে দেখেছে। সঙ্গে সঙ্গে সে বিষণ্ণ হয়ে পড়ল এইভাবে, একটা কিছু গণ্ডগোল হয়েছেই নয়তো কাউকে দেখলেই এমন মনে হবে কেন। মুখ ফিরিয়ে সে আনমনে রাস্তার অপর পারে তাকিয়ে রইল। পিঠে বোঁচকা দুজন বিদেশি হিপি রাস্তা পার হচ্ছে। সোনালি এলো চুল, সবুজ লুঙি ও শার্ট পরা মেয়েটিকে চোখ দিয়ে অনুসরণ করতে প্রবীরের নজর পড়ল বাস স্টপে এবং কিছুক্ষণ গভীরভাবে তাকিয়ে থেকে সে বুঝতে পারল গণ্ডগোলজনিত ভ্রম হয়নি। দ্রুত পায়ে ছেলেটির কাছে এসে চাপাস্বরে সে বলল, ''আমি কাল তোমায় দেখেছি, কাল তুমি একজনকে খুন করেছ।''

''তাই নাকি।'' ছেলেটি একদম বিস্মিত হল না।

''আমি তোমায় ধরিয়ে দেব না।''

''ভাল কথা।'' ছেলেটি নিরুত্তেজিত স্বরে বলল।

''কিন্তু আমি ভয় পাচ্ছি, মনে হচ্ছে আমায় তোমরা খতম করবে। কিন্তু আমি তো ভেবে কূলকিনারা পাচ্ছি না চরম ঘৃণা পাবার মতো কি করেছি?''

''চরম ঘৃণাটা কী জিনিস।'' ছেলেটি ডান হাত তুলে কররেখা পরীক্ষায় মন দিল।

''এমন একটা জিনিস যেটা, খুব রেগে গেলে মানুষেই শুধু প্রকাশ করতে পারে। বুকের মধ্যে তখন গনগনে উনুন জ্বলে। 'উনুনটা' বুক থেকে ছুঁড়ে ফেলতে ব্যস্ত হয়ে পড়ে।''

''আপনি কাউকে রাগিয়েছেন কি?'' ছেলেটা যেন হতাশ হয়েই হাতটা নামিয়ে রাখল।

''তোমরা কি রাগনি? আমি যে দেখে ফেলেছি!''

''তা তো দেখবেনই। দিনের বেলা, বড় রাস্তায় আপনার মতো আরও কত লোকই তো দেখেছে।'' বাস আসছে। ছেলেটি রাস্তায় নামল।

''আমি কি তবে চরম ঘৃণা পাবার মতো কিছু করিনি?''

''মানুষ যখন নিজেকে ঘৃণা করে, তার থেকে চরম আর কিছু হতে পারে না। আপনি কি নিজেকে—'' এই বলে ছেলেটি বাসের দিকে এগোল।

''তেমন কাজ করিনি।''

''তাহলে—'' বাসে উঠে চলে যেতে যেতে ছেলেটি বলল।

শোনামাত্র প্রবীর উৎফুল্ল বোধ করল। বাড়ি ফিরে বুবাইয়ের সঙ্গে খেলা করল। বৌয়ের নিষেধ অগ্রাহ্য করে লুঙি পরে বাজারে গেল মাংস কিনতে। বিস্কুটের দোকানে ঢুকে বলল, 'আর কিছু হয়—টয়নি তো।'' রাত্রে খাওয়ার সময় বাবা—মা—বৌকে বাস স্টপের সাক্ষাৎকারের বিবরণ শুনিয়ে সন্ত্রাস সৃষ্টি করল এবং ঘনস্বরে বলল, ''ফাইন ছেলে। পড়াশুনো আছে মনে হল। এমনভাবে কথা বলল অ্যাজ ইফ আমি ওর ফ্রেন্ড।''

খাওয়াটা বেশি মাত্রায় হওয়ায় জোয়ানের আরক খেয়ে ছাদে ধীর পায়চারি করতে করতে খবরের কাগজে ছাপার জন্য একটা চিঠির খসড়া করে ফেলল। খুনের বর্ণনাটা দিয়ে শেষে একটা প্রশ্ন থাকবে, 'কতদিন আর চোখের সামনে এইসব ঘটনা ঘটবে?' কিন্তু বাক্যটি শেষ পর্যন্ত মনঃপূত হল না। ছাদটিকে বারছয়েক পাক দিয়ে সে স্থির করল—'জামায় রক্তের ছিটে লাগিয়ে আমাদের বাড়ি ফেরা কবে বন্ধ হবে?' এই কথা দিয়ে শেষ করবে। তারপর—প্রবীর এইবার সত্যই ফাঁপরে পড়ল; 'জনৈক প্রত্যক্ষদর্শী' না নিজের নাম? পক্ষে—বিপক্ষে নানারকম যুক্তি দিয়ে অবশেষে একটা রফা করে হাঁফ ছেড়ে বাঁচল—নামটা না দেওয়া খুবই কাপুরুষের মতো কাজ হবে তবে, কিছুই বলা যায় না, বাবা, মা, বৌ আর বুবাইয়ের কথাটাও ভাবা দরকার, ঠিকানাটা বরং একটা ফলস দেওয়াই ভাল। তারপর ছাদ থেকে উঁকি দিয়ে দোতলার শোবার ঘরে তাকিয়ে দেখল, বৌ ক্রিম ঘষছে গলায়—ঘাড়ে। প্রবীর তখন সখেদে ভাবল, খাওয়াটা বড্ড বেশি হয়ে গেছে, পেটে চাপ পড়লে বমি হয়ে যাবে না তো।

বস্তুত রাতটা প্রবীরের খুব ভালই কাটল। বমি হয়নি এবং পর্দার নিচে দুটি পা দেখতে পাবে, এমন চিন্তায় একবারও কাতর হল না। সকালে গভীর নিরুপদ্রব ঘুম থেকে বৌ ওকে জাগিয়ে তুলল ঝাঁকাতে ঝাঁকাতে, ''কি বাঁচান বেঁচে গেছ যে! দ্যাখো আজ কাগজে কি খবর বেরিয়েছে।''

কাগজটা প্রবীরের হাতে দিয়ে বাবা বলল, ''বৌমা, প্রবীরের কোষ্ঠীটা বার করতে বলো তো।'' প্রবীরের মা ছুটে এসে বলল, ''সত্যনারায়ণ করব।'' আর প্রবীর খবরটা পড়ে ফ্যালফ্যাল করে ওদের দিকে তাকাল। খবরে আছে: এক পুলিস অফিসার বাজার করে ফিরছিল। কয়েকটি ছেলে অতর্কিতে তার উপর ঝাঁপিয়ে পড়ে ছুরি মারে। খুব কাছেই অমূল্য বাচা নামে একজন লোক দাঁড়িয়েছিলেন। এই দৃশ্য দেখেই তিনি বাধা দিতে এগিয়ে আসেন এবং একটি ছেলেকে জাপটে ধরেন। ছেলেটি ওঁর পেটে ছুরি বসিয়ে দেয় ফলে তিনি সঙ্গে সঙ্গেই মারা যান। অমূল্য বাচা খুবই দরিদ্র, রাজমিস্ত্রির কাজ করতেন, চারটি বাচ্চা ছেলেমেয়ের বাবা। পুলিসটি অবশ্য গুলি করে ছেলেটিকে মেরে ফেলে।

প্রবীর অফিসে পৌঁছতেই সহকর্মীরা ছুটে এসে তারিফভরা চোখে ওকে দেখতে লাগল। একজন বলল, ''আজ কাগজে খবরটা পড়ে আপনার কথাই প্রথমে মনে পড়ল। অদ্ভুত রিস্ট্রেইনিং পাওয়ার দেখিয়েছেন মশাই। নয়তো অমূল্য বাচার মতো কাজ করে ফেলতেন।''

''লোকটা কেন যে এমন বোকামি করল!'' আর একজন বলল।

''সম্ভবত খুব আবেগপ্রবণ ছিল। আমাদের নিয়ে এই এক মুশকিল, কিছু একটা ঘটতে দেখলেই অমনি ঝাঁপিয়ে পড়া।'' আর একজন বলল।

''প্রবীরকে দেখলে কিন্তু মনে হয় না ওর কমনসেন্স এত স্ট্রং।'' আর একজন বলল।

''আমাদের মনে হয় একটা ফান্ড করা উচিত। লোকটা গরিব রাজমিস্ত্রি ছিল। বৌ আর চারটে বাচ্চা আছে তো।'' আর একজন বলল।

''নিশ্চয় করা উচিত। তবে আজ আমাদের ফিশ ফ্রাই না খাওয়ালে কিন্তু প্রবীরদাকে খতম করে দেওয়া হবে।'' আর একজন বলল।

সকলের কথা শুনে প্রবীর আস্তে আস্তে হেসে উঠল। আর সঙ্গে সঙ্গে মনে পড়ল ঘুলঘুলিগুলো বন্ধ করার জন্য কালই একজন রাজমিস্ত্রি ডাকতে হবে। বুবাই বড় দুরন্ত হয়ে উঠেছে।

রাত্রে হঠাৎ ঘুম ভেঙে গেল প্রবীরের। তার মনে হল, বারান্দায় কার যেন পায়ের শব্দ হচ্ছে। পর্দার নিচে চোখ রেখে সে নিথর হয়ে হৃৎস্পন্দনের প্রতিটি ভয়ঙ্কর ঘাতের সঙ্গে অপেক্ষা করতে লাগল একজোড়া পা—এর জন্য।

সকল অধ্যায়
১.
ছাদ
২.
একটি ঐতিহাসিক সিচ্যুয়েশন
৩.
শূন্যে অন্তরীণ
৪.
রাস্তা
৫.
জীবনযাপন প্রণালী
৬.
পাষাণভার
৭.
শেষবিকেলের দুটি মুখ
৮.
একটি পিকনিকের অপমৃত্যু
৯.
শহরে আসা
১০.
বয়সোচিত
১১.
প্রত্যাবর্তন
১২.
গুণ্ডাদ্বয়
১৩.
বেহুলার ভেলা
১৪.
টুপু কখন আসবে
১৫.
বহুদূর ব্যাপ্ত উজ্জ্বলতা
১৬.
উৎসবের ছায়ায়
১৭.
সুখী জীবন লাভের উপায়
১৮.
দুর্ঘটনা
১৯.
ঘর
২০.
এবং তারা ফিরে এল
২১.
কালপ্রিট
২২.
অস্থায়ী পলায়ন
২৩.
ষড়যন্ত্র
২৪.
রাজা
২৫.
সূর্যাস্তের প্রতিবিম্ব
২৬.
চোরা ঢেউ
২৭.
তাপের শীর্ষে
২৮.
নিরর্থক
২৯.
কামরার মধ্যে
৩০.
শীত
৩১.
সেই আবছা মুখগুলো
৩২.
ইমেজ
৩৩.
দু'ভাগে
৩৪.
নিজেকে যে—সব প্রশ্ন
৩৫.
আত্মভুক
৩৬.
একটি সাধারণ ব্যাপার
৩৭.
এক ধরনের অসুখ
৩৮.
নায়কের প্রবেশ ও প্রস্থান
৩৯.
একচক্ষু
৪০.
সামান্য জীবন
৪১.
চতুর্থ সীমানা
৪২.
ব্লেজার
৪৩.
পর্দার নিচে একজোড়া পা
৪৪.
শবাগার
৪৫.
একটি মহাদেশের জন্য
৪৬.
ক্লান্তি বিনিয়োগ
৪৭.
ছ'টা পঁয়তাল্লিশের ট্রেন
৪৮.
যুক্তফ্রন্ট
৪৯.
রাশিফল
৫০.
জলের ঘূর্ণি ও বকবক শব্দ
৫১.
মুক্তো
৫২.
কপিল নাচছে
৫৩.
জালি
৫৪.
অবিনাশের সাড়ে আটচল্লিশ
৫৫.
বৃষ্টির মতো
৫৬.
গলিত সুখ
৫৭.
একটা খুনের খবর
৫৮.
বৃষ্টিতে
৫৯.
একটি সকাল, একটি মেয়ে
৬০.
ফুলদানি
৬১.
আঠারো বছরে
৬২.
তরুণের বাড়ি ফেরা
৬৩.
অন্ধকার থেকে অন্ধকার
৬৪.
ষোলোকে পনেরো করা
৬৫.
রেড্ডি
৬৬.
বুড়ো এবং ফুচা

নোট নিতে এবং টেক্সট হাইলাইট করতে লগইন করুন

লগইন
০%