মতি নন্দী
রাস্তা পার হয়েই সুকুমারের সঙ্গে দেখা। প্রায় ছ'বছর পর। অশোকও অবাক হল। হেসে এগিয়ে বলল, ''কেমন আছ।''
ওদের দেখা চৌরঙ্গীর বাসস্টপে। সুকুমারের হাতে পোর্টফোলিও। পোশাকে সাহেব। চালচলন ভারিক্কি। মোটা গলায় সে উত্তর দিল, ''ভাল, করছ কি এখন?''
''মাস্টারি।'' বলেই অশোক একটু অস্বস্তি বোধ করল। সুকুমার ঠিক কত মাইনে পাচ্ছে তা সে জানে না। ছ'বছর আগে ছিল সাড়ে তিনশো। এখন নিশ্চয় অনেক।
''কেন, আর কিছু করার মতো পেলে না?''
শুকনো হাসিতে প্রশ্নটা এড়িয়ে গিয়ে অশোক বলল, ''এখন বাসা কোথায় করেছ? বহুদিন পরে দেখা, না?''
''পাইকপাড়া। একটা ভাল ফ্ল্যাট দেখে দিতে পার?''
''কেন? জায়গাটা তো ভাল।''
''ভাল তো, কিন্তু বর্ষায় অসহ্য। দু'শো পর্যন্ত দিতে পারি, সাউথে কিংবা তোমাদের ওদিকে যদি—''
''পরশু পর্যন্তও একটা ছিল, আলিপুরে। আমার পিসতুতো ভাইয়ের বাড়ি। দুশো পঁচিশে ভাড়া হয়ে গেল।''
''দিন তিন—চার আগে তোমার সঙ্গে দেখা হলে ভাল হত।''
সুকুমার হেসে উঠল। দাঁতে সুতো কাটতে কাটতে যেন হাই তুলল।
''ঠিকানাটা রেখে দাও, পেলেই খবর দিও। কুলোয় না আর, ছেলে দুটো যা দুরন্ত হয়েছে। একটু বড় জায়গা না হলে থাকা যাচ্ছে না।''
সুকুমার ব্যাগ খুলে কার্ড এগিয়ে দিল। না দেখেই অশোক পকেটে রাখল। অন্যমনস্কের মতো দুজনেই বাসের আনাগোনা, লোকেদের ওঠানামার দিকে তাকিয়ে থেকে এক সঙ্গেই পরস্পরকে কিছু একটা বলতে গিয়ে থেমে গেল। অশোক বলতে যাচ্ছিল, আচ্ছা চলি এখন, একদিন যাব। আর সুকুমার বলতে যাচ্ছিল, সময় করে একদিন এসো। না বলতে পারার অপ্রতিভতা এড়াতে সুকুমার বলল, ''চলো, বহুদিন পরে দেখা, কোথাও বসা যাক!''
সঙ্গে সঙ্গে অশোক রাজি হয়ে গেল।
তারা চৌরঙ্গীর পুব ফুটপাত ধরে দক্ষিণ দিকে হাঁটতে শুরু করল। অশোক লক্ষ্য করল সুকুমার একটু মোটা হয়েছে। ফলে চলনটা যেন পরিশ্রান্ত মানুষের। সে ভাবল, ও নিশ্চয় খুব যত্নে রয়েছে। অতসী ভাল মেয়ে, স্বামীর সম্পর্কে উদাসীন হতেই পারে না। ভাল মেয়ে বললে সব বলা যায় না, রূপে, গুণে, স্বভাবে—। অশোক হাতড়াতে শুরু করল কীসের সঙ্গে তুলনা করা যায়।
সুকুমার একটা বইয়ের দোকানের সামনে থেমে পড়ল। বেছে বেছে একটা কিনল। দামে সস্তা, মলাটে পুরুষদের উস্কানি দেওয়া ছবি।
''আজকাল এইগুলোই পড়ি, বেশ লাগে।''
পোর্টফোলিওর মধ্যে বইটা ভরে নিল। চলতে চলতে সুকুমার বলল, ''কলেজে ঢুকে এই ধরনের বই পড়তাম। তখন বেশ লাগত, মাঝে লাগত না, এখন লাগে। ওই মাঝামাঝি সময়টাতেই অতসীর সঙ্গে আলাপ। আগে বা পরে হলে হত না, সিরিয়াস মানুষদের তখন সহ্যই করতে পারতুম না। তুমি কি এখনও আগের মতোই সিরিয়াস রয়ে গেছ?''
জবাব দিতে গিয়ে অশোক থ হয়ে গেল। সুকুমার এ কোথায় তাকে নিয়ে ঢুকছে। এযে শুঁড়িখানা! এতটুকু হয়ে সুকুমারকে অনুসরণ করে একটা চেয়ারে বসল। পাশের টেবিলে তিনটি মেয়ে। অশোক প্রাণপণে সিধে তাকিয়ে ভাবল, সুকুমার অধঃপাতে গেছে।
''তুমি কি খাবে?''
''কিছু না।''
''অন্তত দু ঢোঁক।''
অশোক মাথা নাড়ল। না। সেলাম দিয়ে বেয়ারা হাসল। সুকুমারও হাসল।
''ও জানে আমি কী খাই। প্রায়ই আসি। তবে অন্য কিছু ভেব না, শুধু খেতেই আসি। মেয়েদের সম্পর্কে আমি এখনও সিরিয়াস, ওঃ, তখন তো তুমি কথাটার জবাব দিলে না।''
''কি আর দোব, আমি আগের মতোই রয়ে গেছি। রোজগার তো আর বাড়েনি যে বদলে যাব।''
''প্লিজ, প্লিজ, রাগ কোরো না, ওধরনের কিছু বলতে চাইনি। আমিও সিরিয়াস হতে চাই। রোজগার বাড়লেই মানুষ বদলায় এসব তোমার মাথায় কে ঢোকাল, কমলেও তো বদলায়। তার মানে তুমি এক জায়গাতেই রয়ে গেছ?''
অশোক কথা বলল না। বেয়ারা গ্লাস বোতল ইত্যাদি নিয়ে হাজির হয়েছে।
''কিছু একটা খাও অন্তত, বাবুর জন্য কোকাকোলা।''
বেয়ারা মাথা নাড়ল। অশোক ভাবল কথাটা। এক জায়গায় সে নিশ্চয় নেই। কিছু একটার সঙ্গে তুলনা করলে টের পাওয়া যায় বটে, কিন্তু কার সঙ্গে করবে? সুকুমার তো বদলেছে সুতরাং তুলনা করে বোঝা যাবে না। অতসী, সেও কি বদলেছে? যদি আগের মতোই রয়ে গিয়ে থাকে তাহলে ওর পাশে নিজেকে দাঁড় করিয়ে বোঝা যেতে পারে। বাড়ির কেউ, মা, বোনেরা—এদের লক্ষ্য করেও তো টের পাওয়া যেতে পারে। নাকি ওরাও বদলেছে। কিন্তু আমি তো টের পাই না।
''ভাবছ কি, খাও। মাস্টারি করে চলছে কেমন? বিয়ে—থা তো করোনি নিশ্চয়।''
অশোক মাথা নাড়ল, না।
''করবে নিশ্চয়। রোজগারপাতি বাড়াও।''
অশোক গ্লাসের কানায় আঙুল বোলাতে বোলাতে চিন্তিত সুরে বলল, ''ভাবছি একটা কোচিং খুলব। খাটলে—খুটলে শ' পাঁচেক টাকা হতে পারে।''
''গ্র্যান্ড, শুরু করে দাও। তারপর বিয়ে করে ফেলো। টাকা লাগলে বলো, হাজারখানেক পর্যন্ত ধার দিতে পারি। চাকরি বড় বিশ্রী জিনিস, স্বাধীন কিছু একটা রোজগারের ব্যবস্থা থাকা অনেক ভাল। পারি না আর।''
অশোকের কষ্ট হল সুকুমারের জন্য। এ লোকটাও সুখী নয়।
''বুঝলে অশোক, আমি বৌকে ভালবাসি। অতসীকে তুমি তো জানই, ভালবাসার মতো মেয়ে, নয়? বলো, তাই নয়?''
মাতাল হচ্ছে বোধ হয়। অশোক অসুবিধা বোধ করতে শুরু করল। তবে পথেঘাটের মাতালদের মতো নয়। কথাগুলোই যা অস্বাভাবিক। তা নয়তো বৌকে ভালবাসার মধ্যে নতুনত্বের কি আছে!
''ওকে সুখে রাখার জন্য কি না করেছি, মুখের রক্ত তুলে খেটে চলেছি। অথচ জানো, ও কিন্তু আমায় ভালবাসে না।''
সুকুমার একচুমুকে গেলাস শেষ করল।
''আর নয়, আমার কাজ আছে।'' হঠাৎ যেন সুকুমার বদলে গেল। মাতাল বোঝার মতো একফোঁটা চিহ্নও চোখেমুখে নেই। অশোক হাঁপ ছাড়ল! প্রতিদিন বাড়িতে ঢোকার সময় সে এ জাতীয় কষ্টে ভোগে। ভীতু চোখে সবাই তাকায়, সংসারের একমাত্র রোজগেরে, সবাই তাকে তুষ্ট করতে ব্যস্ত। ওরা যত ব্যস্ত হয় ততই অশোকের কষ্টটা বাড়ে। ভয়ও হয়, এদের ভবিষ্যৎকে জীইয়ে রাখার সামর্থ্য তার কতটুকুই বা। বর্তমানকেই বা কতটুকু পারছে।
বেয়ারার লম্বা সেলাম পিছনে ফেলে ওরা বেরোল। সন্ধ্যা নেমেছে প্রায়। কলকাতার এই অংশটি ফুরফুরে হয়ে উঠতে শুরু করেছে।
''আমি চলি। দেখা করতে হবে একজনের সঙ্গে। ভাল কথা, ইনশিওর করেছ?''
''পাগল, প্রিমিয়াম দেবার টাকা কোথায়।''
''তা বটে, তবু করে রাখা ভাল, এ শহরকে তো বিশ্বাস নেই। আর করলে আমায় খবর দিও কিন্তু।''
লম্বা পা ফেলে সুকুমার এগিয়ে গেল। টলছে না। ক্লান্তও দেখাচ্ছে না। অশোক নিজের হাঁটাটাই ক্লান্তিকর বোধ করল। এবার টিউশ্যনি তারপর বাড়ি। দুটো বোন আর মা। আধময়লা জামাকাপড়ের গন্ধ, আরশোলা ওড়ার শব্দ। ওরা কেউ এমন কথা বলবে না যাতে একটু হাসা যায়, বা দুটো হাসির কথা বলা যায়। এমন কোনো পরিস্থিতি তৈরি হবে না যাতে মনে হবে আমি সকলের ভালবাসার পাত্র। ফিসফিস করে ওরা ঝগড়া করবে কিংবা নিজেদের মধ্যেই হাসাহাসি করবে। তবু ওদের কথাই দিনরাত ভাবতে হয়। অশোক ভাবল, ওরা আমার থেকেও অসহায় তাই ওদের ভালবাসি হয়তো। সুকুমার বিয়ে করেই বাড়ি থেকে আলাদা হয়ে গেল। আমিও পারি একটা বিয়ে করে আলাদা হতে। অশোক বিয়ের কথা ভাবল বছর পাঁচেক পরে। পাঁচ বছর আগে মা একবার কথাটা তুলেছিল। দূর সম্পর্কের এক অফিসার দাদা তখন বলেছিল, চেষ্টা করব। উচিত ছিল বড় মেয়ের বিয়ের কথা বলা, তা না বলে ছেলের বিয়ের কথা তুলেছিল! অশোকের কাছে তখন আশ্চর্যের ঠেকেছিল।
একটা দমকা বাতাসের ঝাপটা খেল অশোক। ভাল লাগল। অন্ধকার ময়দানের দিকে তাকাল। তাকিয়ে ইচ্ছে করল মাঠে ঘুরে আসতে। রাস্তা পার হবার জন্য ডানদিকে তাকাতেই দেখল দূরে কি যেন একটা হয়েছে। ছুটে ছুটে মানুষ জড়ো হচ্ছে। রাস্তার মধ্যে একটা ডবল—ডেকার বাস দাঁড়িয়ে।
অশোক কৌতূহলী হল। একটু জোরে হেঁটে ভিড়ের কাছে পৌঁছল। যা প্রথম তার মনে হয়েছিল, তাই ঘটেছে। একজনকে ডেকে জিজ্ঞাসা করল, ''কি করে চাপা পড়ল?''
''যা করে পড়ে। চলন্ত বাসে উঠতে যাচ্ছিল, পিছলে পড়ল। পেছনের বাসটা ব্রেক কষার সময়ও পেল না।''
একজন বলল, ''আহা, এই বাজারে একটা লোকের মরা মানে যে কি সর্বনাশ হয়ে যাওয়া!''
শুনে বুকের মধ্যে নিশ্বাস আটকে গেল অশোকের। যদি সে নিজে বাসের তলায় যেত! বাড়ির তিনটি প্রাণীর অবস্থা তাহলে কি হত!
''একদম মরে গেছে কি?''
''একদম, সঙ্গে সঙ্গে।''
অশোকের ইচ্ছে করল একটুখানি দেখে। ভিড় ঠেলে গোড়ালিতে ভর দিয়ে উঁকি দিল। একি! থরথর করে কাঁপল সে। সন্দেহ নেই কোনো। ব্যাগটা পুলিসের জিম্মায়, দেখেই সে চিনল। ভয় তাকে কোণঠাসা করে ফুটপাতের কিনারে হাজির করল। কাঁপুনি থামেনি। এখন সে কী করবে? ইচ্ছে করছে ছুটে পালাতে, কিন্তু তা নয়, কিছু একটা করা উচিত। যে চাপা পড়েছে সে তার বন্ধু এ—কথা বলে কোনো লাভ নেই। সুকুমারকে নিয়ে হাসপাতালে যেতে হবে। কিন্তু সেও অনর্থক, কারণ ওতো মরেই গেছে। তবু কিছু একটা করা দরকার। একটি লোককে দেখে অশোকের মনে হল অনেকগুলি সন্তানের পিতা, স্বল্প আয় কিন্তু টাকা জমায়। লোকটিকে সে জিজ্ঞাসা করল, ''যে চাপা পড়ল তার সঙ্গী কেউ ছিল না?''
''কি জানি মশাই, থাকলে তো দেখতেই পাওয়া যাবে।''
''তা বটে, তবে থেকেই বা আর কি করত, করার মতো কিছুই তো নেই।''
''তবু বাড়িতে তাড়াতাড়ি খবরটা পৌঁছত।''
বাড়িতে খবর দেওয়া। তাড়াতাড়ি কার্ডটা বার করে অশোক ঠিকানা পড়ল। ছুটল বাস স্টপের দিকে। পাইকপাড়ার বাস ছেড়ে যাচ্ছে। বেপরোয়ার মতো লাফিয়ে উঠে পড়ল।
বাসে উঠেই মনে হল এ ভাবে লাফিয়ে ওঠাটা তার উচিত হয়নি। বহু লোক এই ভাবেই মারা গেছে। মরার কথা ভেবে অশোক প্রাণপণে হ্যান্ডেল আঁকড়ে রইল। ফলে দোতলায় উঠতে অসুবিধা হওয়ায় দুচারজন বিরক্তি প্রকাশ করল। রেগে উঠল অশোক। একটু আগেই যে সে মরতে বসেছিল সে কথাটা কেউ ভাবছে না। ঠেলেঠুলে দোতলায় উঠল। বসার জায়গাও কিছুটা অভদ্রের মতোই জোগাড় করে নিল।
বসার পরই সে ভাবল খবরটা কীভাবে অতসীকে দেওয়া যায়। শোনা আছে, আনন্দের খবর, লটারিতে বহু টাকা পাওয়া বা চাকরি পাওয়ার মতো খবরগুলো গ্রহণের প্রস্তুতি হিসাবে মনকে প্রথমে দুঃখিত করে দিতে হয়। ধাক্কা সামলাবার জন্যই এর দরকার নয়তো আনন্দে নাকি কেউ কেউ মারাও গেছে। অতসীও মরে যেতে পারে। সুতরাং ওকে প্রথমে আনন্দিত করে তারপর দুঃখের খবরটা দিতে হবে। কী বীভৎস কাজ। অসম্ভব, প্রায় ছ'বছর পরে এই রকম এক খবর নিয়ে কারুর সঙ্গে দেখা করা যেতে পারে না।
নেমে যাবার কথা অশোক ভাবল। কিন্তু মাঝপথে নেমে কি লাভ! বহুদিন পরে বাসে বসবার জায়গা পাওয়া গেছে, এক্ষুনি ছেড়ে উঠতে তাই আলসেমি ধরল। বাড়ির কাছাকাছি এলে বরং নামা যাবে। অশোক যা ভাবল তা করল না। পাইকপাড়া পর্যন্তই টিকিট কাটাল। এতদিন পরে অতসী কেমন দেখতে হয়েছে, তাই জানবার লোভটুকু ইতিমধ্যে প্রবল হতে শুরু করেছে।
বাস থেকে নেমে ঠিকানা অনুযায়ী বাড়ি খুঁজে নিতে অশোকের দেরি হল না। তিনতলা থেকে বিনিয়ে কান্নার শব্দ আসছে। কড়া না নেড়ে অশোক রাস্তাতেই দাঁড়িয়ে থাকল। খবর পেয়ে গেছে তাহলে। নিশ্চয় অতসীই কাঁদছে। বীভৎস দায়িত্বের হাত থেকে রেহাই পাওয়া গেছে ভেবে অশোক খানিকটা ঝরঝরে বোধ করল। এখন তো চলেও যাওয়া যায়। কিন্তু এতটা পথ এসে এবং ছ'বছর পরে এসে ফিরে যাওয়ার কোনো মানে হয় না। তাছাড়া অনেক কিছু করবার মতো কাজও রয়ে গেছে। আত্মীয়স্বজনদের খবর দেওয়া, হাসপাতালে যাওয়া, সেখান থেকে শ্মশানে, তার পরের দায় অবশ্য অতসীর ভাইয়েদের। বিধবা বোনকে নিশ্চয় তারা ফেলে দেবে না। শ্বশুরবাড়ির অবস্থা ভাল নয়, সম্পর্কও ভাল নয়। আলাদা হওয়াতে সুকুমারের মা বা ভায়েরা খুশি হয়নি।
বাড়ির মধ্য থেকে এক বিধবা বুড়ি বেরিয়ে এল। অশোককে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে বলল, ''কাকে খুঁজছেন?''
মুখে আসছিল সুকুমারের নাম, সামলে নিয়ে অশোক ফিসফিস করে বলল, ''অতসী কি ওপরে?''
''ওপরে কেন, ওরা তো নিচের ভাড়াটে।''
''তবে কাঁদছে কে!''
''সে তো বাড়িওলা গিন্নি, ও হপ্তায় খবর এসেছে শ্বশুরবাড়িতে মেয়ে জলে ডুবে মরেছে।''
''অতসী কোথায়?''
''সে তো ছেলেদের নিয়ে পার্কে বেড়াতে বেরিয়েছে।''
অশোকের পায়ের নিচে মাটি কেঁপে উঠল। ইচ্ছে করছে ছুটে পালাতে। কিন্তু ছুটতে গেলেই পড়ে যাবে, মাটি ভীষণভাবে কাঁপছে। খবরটা তা হলে তাকেই দিতে হবে। হায় ভগবান, এই বিনিয়ে কান্নাটা কেন অতসীর হল না! কেন তার সঙ্গেই আজ সুকুমারের দেখা হল, কেন দুর্ঘটনা দেখতে সে এগিয়ে গেল। অমন তো রোজই কতকগুলো মানুষ বাসচাপা যাচ্ছে, কই তাদের বাড়িতে খবর দেবার জন্য তো তার মাথাব্যথা হয় না।
অশোক একটু একটু করে নিজের উপরে রেগে উঠতে থাকল। সঙ্গে সঙ্গে পায়ের নিচের মাটিও শান্ত হয়ে গেল। এসেছে যখন খবরটা দিয়েই যাবে। একটা রাস্তার লোকের মতোই নিরাসক্তভাবে খবরটা দেবে। সুকুমার যে—বাসে চাপা গেছে সেটা যখন অন্য লোকেই চালাচ্ছিল, তখন ভয় পাবার কি আছে। তা ছাড়া সুকুমারকে তো সে বাসের নিচে ঠেলে দেয়নি, সুতরাং ভয় পাবার কি আছে। সুকুমার নিজের দোষেই মরেছে, মদ খেয়ে চলন্ত বাসে উঠতে গেছল। কেউ তাকে অমন করে উঠতে বলেনি, কাজেই নির্ভয়ে খবরটা দেওয়া যায়।
ভাবতে ভাবতে অশোক একটু জোরে হেঁটেই পার্কে পৌঁছল। খুব ছোট পার্ক নয়, মাঝে মস্ত পুকুর। লোকও জমেছে অনেক। খেলাধুলোর পাট সাঙ্গ করে দামালরা ঘরে ফিরে গেছে। শান্তিপ্রিয় বয়স্করা এখন জিরোতে এসেছে। এ পার্কে অশোক অনেকবার এসেছে। বহুদিন আগে অতসীর সঙ্গেই একবার এসেছিল।
খুঁজে বার করতে হবে। কোন দিক থেকে শুরু করবে ভাববার জন্য অশোক দাঁড়াল। ঘাসের উপর বসা দুটি কিশোর আই এ এস পরীক্ষার দুরূহতা বিষয়ক আলোচনায় উত্তেজিত হয়ে পড়েছে, বেঞ্চে বসা বৃদ্ধদের মধ্যে কেউ হেসে উঠল, ঝালমুড়িওয়ালার কাছ থেকে এক যুবতী কাঁচা লংকা নিল, ওপর থেকে পিঠে কি যেন পড়ল। ঘাড় ফিরিয়ে অশোক জামাটা টেনে তুলে দেখল। বিরক্তিতে কিশ কিশ করে উঠল দাঁত। আরও তিনদিন জামাটা পরার কথা। একটা কাঠির জন্য নিচু হয়ে খুঁজতে খুঁজতে মনে পড়ল পকেটে দেশলাই আছে।
ঝেড়ে ফেলেও দাগটা রয়ে গেল। এখন অতসীকে খুঁজে বার করতে হবে। দুপাশে চোখ রেখে সে পুকুর ধার দিয়ে এগোল। সামান্য যেতেই মনে হল, দুটি ছেলে নিয়ে যে মহিলাটি চীনেবাদাম খাচ্ছে, সেই অতসী। তবু নিশ্চিন্ত হবার জন্য লক্ষ্য করতে লাগল। শরীরটা ভারী হয়েছে মাত্র নয়তো মাথা নোয়ালে ঘাড়ের কাছে শিরদাঁড়াটা আগের মতোই ঠেলে ওঠে, চিবোবার সময় রগের কাছটা সেই রকমই দপদপ করে, ঝুরো চুল তুলে দেবার জন্য সেইভাবে আঙুলগুলো বেঁকে যায়।
প্রথম কথা অতসীই বলল।
''তাই বলি, কে এমনভাবে এতক্ষণ ধরে তাকাচ্ছে।''
''চিনতে পেরেছিলে?''
''একটু একটু, খুব বেশি বদলাওনি দেখছি।''
''চিনেছিলে যদি ডাকলে না কেন।''
''ছ'বছরেও যে—মানুষের টিকি দেখা গেল না, তাকে কেন যেচে ডাকতে যাব?''
''না ডাকতে পারো কিন্তু বসতে বলতেও তো পারো।''
''অনুমতির দরকার আছে নাকি, এটা তো পার্ক।''
''বিনা অনুমতিতে বসা যায় কিন্তু কারুর সঙ্গে তো বসা যায় না।''
অশোক গুছিয়ে বসল। অতসীর ছেলে দুটি অবাক হয়ে দেখছে। বড়টি মার কানে কানে কথা বলল। অতসী তাকে বোঝাল—''মামা হয়, বুড়োমামা নাড়ুমামা যেমন আছে না, তেমনি অশোকমামা হয়।''
বাদাম ভাঙতে ভাঙতে অশোক বলল, ''রোজই আসো নাকি।''
''নাঃ তবে মাঝে মাঝে আসি। বাড়িতে তিষ্ঠোতে পারছি না। বাড়িওলার মেয়ে মরেছে জলে ডুবে, আজ দশ দিন ধরে কান্নার বিরাম নেই। উঠতে বসতে শুতে খেতে একটা স্বর খালি তাড়া করে চলেছে। এমন একঘেয়ে লাগে না—''
একঘেয়ে শব্দটাকে অতসী একটু বেশি টেনে ধরেছিল। অশোক ওর মুখের দিকে তাকাতে বাধ্য হল।
''এইভাবে মরাটা ভারী বিশ্রী, অবশ্য সব মরাই বিশ্রী তবু এমনি মরা আর অপঘাতে মরায় তফাত আছে। আছে না?''
মরা কথাটা অশোককে চারবার আঘাত করল।
দাঁতের ফাঁকে বাদাম আটকে গেছে। জিভ দিয়ে খোঁচাতে খোঁচাতে বলল, ''সুকুমারের সঙ্গে দেখা হয়েছিল।''
''কবে, আজ?''
''বাসা বদলাতে চায়, কেন এ জায়গাটা তো ভালই।''
''আমি দরকার মনে করি না, এটা ওর বাতিক, এই নিয়ে তিনবার বদলানো হয়েছে। বাসায় ফেরার পথে ওর পার্কে আসার কথা আমরা একসঙ্গে ফিরব। কটা বাজে?''
''ঘড়ি নেই।''
''ছিল তো!''
''গ্যাছে।''
অতসী যেন আহত হল। একটুক্ষণ চুপ থেকে বলল, ''সেই বাসাতেই আছ?''
''হ্যাঁ।''
''বোনেদের বিয়ে হয়েছে?''
''না!''
''করছ কী?''
''মাস্টারি।''
''বিয়ে করবে না?''
অশোক জবাব দিল না।
''একটা চাকুরে কাউকে বিয়ে কর, সুবিধে হবে। আমার মতো লেখাপড়া—জানা অকর্মাকে কোরো না।''
''কেন তুমি খারাপ হলে কিসে?''
''নয়? শুধু তো খরচই করছি, নিজে রোজগার তো করতে পারি না।''
''সুকুমার বলছিল, ও তোমায় ভীষণ ভালবাসে।''
''ও আমার জন্যে খুব খাটে। অমন করে আর কাউকে কিন্তু খাটতে দেখলাম না।''
''কজনকে তুমি দেখেছ।''
অতসী তাকিয়ে রইল অশোকের মুখের দিকে। গলায় স্বরটা মোচড়ানো, তেতো। অশোক বুঝতে পেরে লজ্জা পেল। ঘাস ছিঁড়তে ছিঁড়তে বলল, ''ভাল না বাসলে খাটা যায় না, সে মানুষ বা কাজ যাকেই হোক না কেন।''
অতসী চুপ রইল। অশোক ভাবল, এসব কথা সে কেন বলতে গেল, যে কথাটা বলার, তাই তো বলার উপায় থাকছে না। একটা আনন্দিত পরিবেশ তৈরি করতে হবে।
''যাকগে এসব কথা, পুরনো বন্ধুদের সঙ্গে আর দেখা হয়?''
অতসী গম্ভীর হয়ে থাকল।
''মিনতির সঙ্গে দেখা হয়েছিল, মেদিনীপুরে ওর স্বামী বদলি হয়েছে। তোমার মতোই মোটা হয়েছে। বিয়ে করলে কি মোটা হয়? সুকুমার পর্যন্তও হয়েছে।''
অতসী মুখ ফিরিয়ে জলের দিকে তাকাল। ছেলেদুটি ভীষণ লক্ষ্মী, ছোটাছুটি না করে ঢিল ছোঁড়ার খেলায় ব্যস্ত। বেড়ুনে মানুষগুলি আলগোছে চোখ বুলিয়ে যাচ্ছে। অতসীর ভারী চেহারা এবং দুটি ছেলে সঙ্গে থাকার জন্য অশোক স্বস্তিবোধ করল। ওরা কেউ তাদের প্রেমিক—প্রেমিকা ভাবছে না। স্বামী—স্ত্রী ভাবতে পারে, তা ভাবুক। অশোক কনুয়ে ভর দিয়ে ঘাসে শরীর বিছিয়ে হাল্কা সুরে বলল, ''এত ভাবছ কি? গম্ভীর হয়ে থেকে যদি আমার অস্বস্তির কারণ হও তাহলে বরং আমার চলে যাওয়াই উচিত।''
ছেলেদুটি পুকুরের কাছাকাছি চলে গেছে। অতসী ডাকল। বাধ্যের মতো ওরা কাছে এল। জলের দিকে না গিয়ে ওদের খেলতে বলল অতসী।
''সুকুমার বলেছিল ওরা খুব দুষ্টু।''
''সুকুমার ওদের খুব ভালবাসে।''
''তোমাকেও।''
অতসী হাসল। অশোক মন দিয়ে লক্ষ্য করল। হাসলে আগের মতো টোল পড়ে না। মাংস জমেছে।
''সুকুমারের কিন্তু একটা বদ অভ্যাস হয়েছে দেখলুম।''
''হ্যাঁ, তবে মাত্রা ছাড়ায় না। আমিও কিছু বলি না। কি হবে বলে, ওইতে আনন্দ পায়, তা থেকে কেন বঞ্চিত করব।''
''তোমার ভয় করে না?''
''কিসের?''
অশোক চুপ করে রইল। একটা ঝোপকে মাঝে রেখে ছেলে দুটি লুকোচুরি খেলছে। তাই দেখতে সে ব্যস্ত হল।
''কিসের ভয়?''
''যদি মাত্রা ছাড়ায়?''
''নাঃ, তাতে ভয় পাবার কি আছে। ওসব ভয়টয়ে আমার মাথাব্যথা নেই।''
''যদি কাজের ক্ষতি হয়, চাকরি চলে যায়?''
''যদি তাই হয় তাহলে আমাকেও কাজ খুঁজতে হবে। বিয়ের আগে স্বামী, পুত্র, সংসার ইত্যাদির চমৎকার একটা ধারণা করেছিলাম, বিয়ের পরও কিছুদিন ছিল। এখন আর ওসব ভাল লাগে না। কেমন যেন নিচু নিচু বোধ করি সব সময়। কিছু একটা না করা ভীষণ লজ্জার ব্যাপার।''
''কি করতে চাও, চাকরি?''
''হ্যাঁ, যে করেই হোক সংসারে আমিও কিছু দিতে চাই।''
''এতে সুকুমার আপত্তি করবে না?''
''করবে। ওইতো আমার কাজের প্রধান বাধা, নয়তো এই পাড়াতেই মেয়েদের স্কুলে একটা কাজ পেয়েছিলাম।''
''সুকুমার যদি বাধা না দেয়, ধরো সে হয়তো নিরুদ্দেশ হয়ে গেল, কোনোদিন আর হয়তো ফিরবে না বা পাগল হয়ে গেল—''
উঠে বসল অশোক। ছেলে দুটিরও আর খেলা ভাল লাগছে না। মায়ের কোলে আর পিঠে দুটিতে ঠাঁই নিয়েছে। অতসী ঝুঁকে পড়েছে। কোলেরটি চুলে হাত বুলোতে বুলোতে বলল, ''তুমি কি বলছ বুঝছি না। সুকুমার পাগল বা নিরুদ্দেশ হতে যাবে কেন?''
''ঠিক তা নয়, মানে ধরো ওর অস্তিত্ব তুমি ভুলে যেতেও তো পারো।''
''পাগল, তাই হয় কখনো। অত সহজেই ভোলা যায় নাকি?''
ছেলেদুটি বায়না ধরেছে বাড়ি যাবার। অতসী উঠে দাঁড়াল, অশোক উঠল না।
''আমার এবার বাড়ি যেতে হবে তুমিও চলো।''
''আর একটু থাক। কি হবে এখুনি গিয়ে, বসে বসে তো কান্না শুনবে।''
''এদের বসতে ভাল লাগছে না, বরং একটা চক্কর দি।''
পুকুরধারের রাস্তা দিয়ে ওরা হাঁটতে শুরু করল। আলো কম, রাস্তা অসমান। অশোক একটি ছেলের হাত ধরল। অন্যটিকে অতসী কোলে তুলে নিল। দূরে কোথায় কালী—কীর্তন হচ্ছে। পার্কের পাশ দিয়ে ঝড়ের মতো বাস ছুটে চলেছে। অন্ধকার বেঞ্চে বসা একজোড়া ছেলেমেয়ের পাশ দিয়ে ওরা হেঁটে গেল। ঘাসের গন্ধ। পুকুরের মধ্যে একটা দ্বীপ, সেখানে কিছু গাছপালা। দ্বীপটায় অন্ধকার ঝোপ হয়ে রয়েছে। পার্কের বাতিগুলোর রশ্মি জলের উপর বিছানো আঙুলের মতো অন্ধকার ধরার জন্য পাতা। উত্তেজনায় মাঝে মাঝে কেঁপে উঠছে। হোঁচট খেয়ে অতসী টলে পড়ছিল, কোনোরকমে সামলে নিল। ছেলেটিকে কোল থেকে নামাতে চাইল। ছেলে গলা জড়িয়ে গোঁ ধরল নামবে না।
''যদি পড়ি তো দুজনই পুকুরে গিয়ে পড়ব, নামো, লক্ষ্মী ছেলে নামো।''
কেঁদে উঠল ছেলে, অশোক তাকে কোলে নেবার জন্য হাত বাড়াতেই অতসী বেঁকে দাঁড়াল।
''থাক।''
ওরা আবার হাঁটতে শুরু করল। সাবধানে আস্তে আস্তে। অতসীর গলায় মুখ গুঁজে ছেলেটি কাঁদছে। জলা গন্ধ, আর এক জোড়া নারী—পুরুষ ঘাসের উপর। অশোকের হাতটা প্রাণপণে আঁকড়ে বড় ছেলেটি হাঁটছে। মাঝে মাঝে গায়ে লেপটে আসছে। অশোক ওর চুলে হাত দিল।
''পুকুরটা বেশ বড় তো! অনেকক্ষণ হাঁটছি।''
''কোলে বোঝা নিয়ে হাঁটতে বিশ্রী লাগছে।''
অশোক হাসিটা বোঝাবার জন্য মুখে শব্দ করল। তারপর বলল, ''একা হাঁটতে সব সময়ই ভাল লাগে, বোঝা নয় এমন কাউকে নিয়ে হাঁটতে আরও ভাল লাগে। যেমন তোমার সঙ্গে এখন ভাল লাগছে।''
''সুকুমার আমায় নিয়ে বেরোতে চায় না। আগে বেরোত।''
''কেন চায় না?''
''জানি না।''
মনে হল সামনেটা যেন ঢালু। অশোক ছেলেটির হাত শক্ত করে ধরল।
''সুকুমারকে খুব ক্লান্ত মনে হয়েছিল।''
অতসী চুপ রইল।
''তোমারও কি ক্লান্ত লাগে?''
অতসী চুপ।
''কথা বলো।'' অশোক চাপা সুরে প্রায় ধমকে উঠল।
''ভাল লাগছে না কথা বলতে।''
''তখন থেকে শুনছি ভাল লাগে না, আর ভাল লাগে না। কি ভাল লাগে তবে?''
''তা যদি জানতুম? অদ্ভুত একঘেয়েমির মধ্যে পড়ে গেছি যেন। যা হোক একটা কিছু এসে যদি নাড়া দিয়ে যায়, প্রবলভাবে নাড়া দিয়ে যায়।''
অশোক এতক্ষণে অতসীর চোখ দেখতে পেল। আলোর মধ্যে ওরা এসে পড়েছে। রাস্তাটা সমান। ছেলেটি হাত ছেড়ে হাঁটতে শুরু করল, আলোর নিচে তাস খেলছে বৃদ্ধরা, যুবকরা ছড়িয়ে—ছিটিয়ে গল্প করছে। অতসীর চোখ যেন ঠিকরে বেরিয়ে আসতে চায়। ছেলেকে অনেকক্ষণ কোলে নিয়ে আছে, নিশ্চয়ই কষ্ট হচ্ছে।
''ওকে নামিয়ে দাও বরং।''
শোনামাত্রই ছেলেটি প্রাণপণে গলা আঁকড়ে ধরল। অতসী টলে উঠল একবার। কোনোরকমে ঘাড়টাকে ঘুরিয়ে অশোকের দিকে তাকাল, হাসলও করুণভাবে। ঝাঁ ঝাঁ করে উঠল অশোকের মাথা। অতটুকু ছেলের এত জেদ কেন? দুহাতে ছেলেটির কাঁধ ধরে সে টানল।
''থাক অশোক। ওকে জান না, ও কিছুতেই ছাড়বে না।''
ছেলেটি গলা জড়িয়ে ধরেছে ফলে অতসীও টানের সঙ্গে এগিয়ে এল।
অশোক এবার রীতিমতো জোর দিল। ছেলের হাতের চাপে লাল হয়ে উঠল অতসীর মুখ। দম আটকে গেছে। মাথা ঝাঁকাল। হাত দিয়ে নিজের গলা ছাড়াতে গিয়ে সে হঠাৎ অশোককে ধাক্কা দিয়ে সরিয়ে দিল।
পিছিয়ে এল অশোক। অতসী হাঁপাচ্ছে। ছেলেটি বিনিয়ে কেঁদে চলেছে। বাতাসে জলা গন্ধ। বৃদ্ধরা তাস খেলছে।
কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে থেকে অতসী স্বাভাবিক হয়ে আবার চলতে শুরু করল। অশোক নিজেকে বিস্বাদ বোধ করছে। ক্লান্ত লাগছে নিজেকে।
''অতসী একটু আস্তে হাঁটো, একটা খবর আছে।''
অতসী গতি কমাল না। অশোক যেন আরও পিছিয়ে পড়ছে।
''অতসী আস্তে হাঁটো, একটা ভাল খবর আছে। তোমাকে সেই কথাটা বলার জন্যই এসেছি, আমি শিগগিরই বিয়ে করছি।''
নোট নিতে এবং টেক্সট হাইলাইট করতে লগইন করুন
লগইন