সত্যজিৎ রায়
একদিন এক জ্ঞাতি এসে নাসীরুদ্দীনকে একটা হাঁস উপহার দিলে। নাসীরুদ্দীন ভারী খুশি হয়ে সেটার মাংস রান্না করে জ্ঞাতিকে খাওয়ালে।
কয়েকদিন পরে মোল্লাসাহেবের কাছে একজন লোক এসে বললে, ‘আপনাকে যিনি হাঁস দিয়েছিলেন, আমি তাঁর বন্ধু।’
নাসীরুদ্দীন তাকেও মাংস খাওয়ালে।
এরপর আরেকদিন আরেকজন এসে বলে, ‘আপনাকে যিনি হাঁস দিয়েছিলেন, আমি তার বন্ধুর বন্ধু।’ নাসীরুদ্দীন তাকেও খাওয়ালে।
তারপর এল বন্ধুর বন্ধুর বন্ধু। মোল্লাসাহেব তাকেও খাওয়ালে।
এর কিছুদিন পরে আবার দরজায় টোকা পড়ল। ‘আপনি কে?’ দরজা খুলে জিজ্ঞেস করলে নাসীরুদ্দীন।
‘আজ্ঞে মোল্লাসাহেব, যিনি আপনাকে হাঁস দিয়েছিলেন, আমি তার বন্ধুর বন্ধুর বন্ধুর বন্ধু।
‘ভেতরে আসুন’, বললে নাসীরুদ্দীন, ‘খাবার তৈরিই আছে।’
অতিথি মাংসের ঝোল দিয়ে পোলাও মেখে একগ্রাস খেয়ে ভুরু কুঁচকে জিগ্যেস করলেন, ‘এটা কিসের মাংস মোল্লাসাহেব?’
‘হাঁসের বন্ধুর বন্ধুর বন্ধুর বন্ধুর’, বললে নাসীরুদ্দীন।
নোট নিতে এবং টেক্সট হাইলাইট করতে লগইন করুন
লগইন