১৯   

সত্যজিৎ রায়

মোল্লা এখন কাজী, সে আদালতে বসে। একদিন এক বুড়ী তার কাছে এসে বললে, ‘আমি বড়ই গরীব। আমার ছেলেকে নিয়ে বড় ফ্যাসাদে পড়েছি কাজীসাহেব। সে মুঠো মুঠো চিনি খায়, তাকে আর চিনি জুগিয়ে কূল পাচ্ছি না। আপনি হকুম দিয়ে তার চিনি খাওয়া বন্ধ করুন। সে আমার কথা শোনে না।’

মোল্লা একটু ভেবে বললে, ‘ব্যাপারটা অত সহজ নয়। এক হপ্তা পরে এসো, আমি একটু বিবেচনা করে তারপর এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেবো।’

বুড়ী হুকুমমতো এক হপ্তা পরে আবার এসে হাজির! মোল্লা তাকে দেখে মাথা নাড়লে।—‘এ বড় জটিল মামলা। আরো এক হপ্তা সময় দিতে হবে আমাকে।’

আরো সাত দিন পরেও সেই একই কথা। অবশেষে ঠিক এক মাস পরে মোল্লা বুড়ীকে বললে, ‘কই, ডাকো তোমার ছেলেকে।’

ছেলেটি আসতেই মোল্লা তাকে হুঙ্কার দিয়ে বললে, ‘দিনে আধ ছটাকের বেশি চিনি খাওয়া চলবে না। যাও।’

বুড়ী মোল্লাকে ধন্যবাদ জানিয়ে বললে, ‘একটা কথা জিগ্যেস করার ছিল, কাজীসাহেব।’

‘বলো।’

‘এই নিয়ে চারবার ডাকলেন কেন আমাকে? এর অনেক আগেই ত আপনি এ হুকুম দিতে পারতেন।’

‘তোমার ছেলেকে হকুম দেবার আগে আমার নিজের চিনি খাওয়ার অভ্যেসটা কমাতে হবে ত!’ বললে নাসীরুদ্দীন।

সকল অধ্যায়

নোট নিতে এবং টেক্সট হাইলাইট করতে লগইন করুন

লগইন
০%