সত্যজিৎ রায়
গাঁয়ের লোকে একদিন ঠিক করল নাসীরুদ্দীনকে নিয়ে একটু মশকরা করবে। তারা তার কাছে গিয়ে সেলাম ঠুকে বললে, ‘মোল্লাসাহেব, আপনার এত জ্ঞান, একদিন মসজিদে এসে আমাদের তত্ত্বকথা শোনান না।’ নাসীরুদ্দীন এক কথায় রাজি।’
দিন ঠিক করে ঘড়ি ধরে মসজিদে হাজির হয়ে নাসীরুদ্দীন উপস্থিত সবাইকে সেলাম জানিয়ে বললে, ‘ভাই সকল, বল ত দেখি আমি এখন তোমাদের কী বিষয় বলতে যাচ্ছি?’
সবাই বলে উঠল, ‘আজ্ঞে সে ত আমরা জানি না।’
মোল্লা বলল, ‘এটাও যদি না জান তাহলে আর আমি কী বলব। যাদের বলব তারা এত অজ্ঞ হলে চলে কি করে?’
এই বলে নাসীরুদ্দীন রাগে গজগজ করতে করতে মসজিদ ছেড়ে সোজা বাড়ি চলে এল।
গাঁয়ের লোক নাছোড়বান্দা। তারা আবার তার বাড়িতে গিয়ে হাজির।
‘আজ্ঞে, আসছে শুক্রবার আপনাকে আর একটিবার আসতেই হবে মসজিদে।’
নাসীরুদ্দীন গেলেন, আর আবার সেই প্রথম দিনের প্রশ্ন দিয়েই শুরু করলেন। এবার সব লোকে একসঙ্গে বলে উঠল, ‘আজ্ঞে হ্যাঁ, জানি।’
‘সবাই জেনে ফেলেছ? তাহলে ত আর আমার কিছু বলার নেই’—এই বলে নাসীরুদ্দীন আবার বাড়ি ফিরে গেলেন। গাঁয়ের লোক তবুও ছাড়ে না। পরের শুক্রবার নাসীরুদ্দীন আবার মসজিদে হাজির হয়ে তাঁর সেই বাঁধা প্রশ্ন করলেন। এবার আর মোল্লাকে রেহাই দেবে না গাঁয়ের লোক, তাই অর্ধেক বলল ‘জানি’, অর্ধেক বলল ‘জানি না’।
‘বেশ, তাহলে যারা জান তারা বলো, আর যারা জান না তারা শোন’—এই বলে নাসীরুদ্দীন আবার ঘরমুখো হলেন।
নোট নিতে এবং টেক্সট হাইলাইট করতে লগইন করুন
লগইন