সত্যজিৎ রায়
নাসীরুদ্দীন নাকি বলে বেড়াচ্ছে যারা নিজেদের বিজ্ঞ বলে তারা আসলে কিচ্ছু জানে না। এই খবর শুনে দেশের সাতজন সেরা বিজ্ঞ নাসীরুদ্দীনকে রাজার কাছে ধরে এনে বললে, ‘শাহেন শা, এই ব্যক্তি অতি দুর্জন। ইনি আমাদের বদনাম করে বেড়াচ্ছেন। এর শাস্তির ব্যবস্থা হোক।’
রাজা নাসীরুদ্দীনকে জিগ্যেস করলেন, ‘তোমার কিছু বলার আছে?’
‘আগে কাগজ-কলম আনা হোক, জাঁহাপনা,’ বললে নাসীরুদ্দীন।
কাগজ-কলম এল।
‘এদের সাতজনকে একটি করে দেওয়া হোক।’
তাও হল।
‘এবার সাতজনে আলাদা করে আমার প্রশ্নের জবাব লিখুন। প্রশ্ন হল—রুটির অর্থ কী?’
সাত পণ্ডিত উত্তর লিখে রাজার হাতে কাগজ দিয়ে দিলেন, রাজা পর পর উত্তরগুলো পড়ে গেলেন।
পয়লা নম্বর লিখেছেন—রুটি একপ্রকার খাদ্য।
দুই নম্বর—ময়দা ও জলের সংমিশ্রণে তৈয়ারি পদার্থকে বলে রুটি।
তিন নম্বর—রুটি ঈশ্বরের দান।
চার নম্বর—একপ্রকার পুষ্টিকর আহার্যকে বলে রুটি।
পাঁচ নম্বর—রুটির অর্থ করতে গেলে আগে জানা দরকার, কোনপ্রকার রুটির কথা বলা হচ্ছে।
ছয় নম্বর—রুটির অর্থ এক মূর্খ ব্যক্তি ছাড়া সকলেই জানে।
সাত নম্বর—রুটির প্রকৃত অর্থ নির্ণয় করা দুরূহ ব্যাপার।
উত্তর শুনে নাসীরুদ্দীন বললে, ‘জাঁহাপনা, যে জিনিস এঁরা প্রতিদিন খাচ্ছেন, তার মানে এঁরা সাতজন সাতরকম করলেন, অথচ যে লোককে এঁরা কখনো চোখেই দেখেন নি তাকে সকলে একবাক্যে নিন্দে করছেন। এক্ষেত্রে কে বিজ্ঞ কে মূর্খ সেটা আপনিই বিচার করুন।’
রাজা নাসীরুদ্দীনকে বেকসুর খালাস দিলেন।
নোট নিতে এবং টেক্সট হাইলাইট করতে লগইন করুন
লগইন