সত্যজিৎ রায়
এক বেকুবের শখ হয়েছে সে পণ্ডিত হবে। সে মনে মনে ভাবলে মোল্লার ত নামডাক আছে পণ্ডিত হিসেবে, তার কাছেই যাওয়া যাক, যদি কিছু শেখা যায়।

অনেকখানি পথ পাহাড় ভেঙে উঠে সে খুঁজে পেলে নাসীরুদ্দীনের বাসস্থান। ঢোকবার আগে জানালা দিয়ে দেখলে মোল্লাসাহেব ঘরের এককোণে ধুনুচির সামনে বসে নিজের দু হাতের তেলো মুখের সামনে ধরে তাতে ফুঁ দিচ্ছে।
ঘরে ঢুকে বেকুব প্রথমেই হাতে ফুঁ দেওয়ার কারণ জিগ্যেস করলে। ‘ফুঁ দিয়ে হাত গরম করছিলাম’, বলে নাসীরুদ্দীন চুপ করলে। বেকুব ভাবলে, একটা জিনিস ত জানা গেল। আর কিছু জানা যাবে কি?
কিছুক্ষণ পরে নাসীরুদ্দীনের গিন্নী দুবাটি গরম দুধ এনে কর্তা আর অতিথির সামনে রাখলেন। নাসীরুদ্দীন তক্ষুনি দুধে ফুঁ দিতে শুরু করলে।
এবার বেকুব সম্ভ্রমের সঙ্গে শুধোলে, ‘হে গুরু, এবারে ফুঁ দেবার কারণটা কী?’
‘দুধ ঠাণ্ডা করা’, বললে নাসীরুদ্দীন।
বেকুব বিদায় নিলেন। যে লোক বলে ফুঁ দিয়ে জিনিস গরমও হয়, আবার ঠাণ্ডাও হয়, তার কাছ থেকে জ্ঞানলাভের কোনো আশা আছে কি?
নোট নিতে এবং টেক্সট হাইলাইট করতে লগইন করুন
লগইন