আর বোলো না ভাই!

সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়

'আর বোলো না ভাই!'

এই একটি সম্প্রদায়। সারা দিনে বার কয়েক এঁদের দর্শন পাওয়া যেতে পারে চলতে ফিরতে।

'আর বোলো না ভাই!'

'কেন কী হল?'

'কাল সারাটা রাত যে কীভাবে কেটেছে! মেয়েটা মানিকতলায় পড়তে যায় প্রাইভেট কোচিং। সে আর ফেরেই না, ফেরেই না। আটটা বাজল, নটা বাজল, দশটা বাজল। কে একজন বললে মানিকতলায় একটা অ্যাকসিডেন্ট হয়েছে। এগারোটা বাজল, বারোটা বাজল।'

'তারপর?'

'তারপর রাত দুটোর সময় আমার বউ হঠাৎ লাফিয়ে উঠল। কী ব্যাপার? সে তো আজ পড়তে যায় নি। তা হলে গেছে কোথায়? বাগুইহাটিতে মামার বাড়ি। বলেই তো গেল, আজ ফিরবে না। বোঝো ঠ্যালা। তখন আমরা খেতে বসলুম। যখন উঠলুম তখন কাক ডাকছে।'

'আর বোলো না ভাই!'

'আপনার আবার কী হল?'

'পাম্প। বলা নেই কওয়া নেই ফেঁসে গেল।'

'ফেঁসে গেল মানে? পাম্প ঘুড়ি না কি?'

'আরে না। ঘুরছে, জল উঠছে না। ব্রংকাইটিসের কাশির মতো একটা শব্দ। হাওয়া ঢুকে গেছে। গেলুম পাম্প পঞ্চাননের কাছে। বাড়ি নেই বিয়ে করতে গেছে। এইবারে কী হবে! কলে এক ফোঁটা জল নেই। কল খুললেই একটা শব্দ। যেন অন্য গ্রহের মানুষ কথা বলছে। বাসনের ডাঁই কলতলায়। যে বাসন মাজে সে চেঁচাচ্ছে—এসব কী চোখের জলে ধোয়া হবে!'

'এখন চললেন কোথায়?'

'আর বোলো না ভাই! আর কতক্ষণ চেপে থাকা যায়। যাই পে-টয়লেটে!'

'আর বোলো না ভাই!'

'আপনার সমস্যা?'

'সামনেই ফাইন্যাল।'

'মাধ্যমিক দিচ্ছেন বুঝি?'

'আমার আর সে বয়স আছে?'

'তা হলে?'

'আমার মেয়ে।'

'তা দিতে হয় দেবে।'

'কী দেবে? বই খুলে বসে আছে আর নীরবে কাঁদছে। জল ঝরছে তো ঝরছেই। এখন বলে কি না, ডিহাইড্রেসান হয়ে গেছে, স্যালাইন চালাতে হবে। বেরিয়েছি, দেখি, কে স্যালাইন চালাতে পারে। আর বোলো না ভাই, এমন জানলে কে সংসার করত।'

'আর বোলো না ভাই!'

'আপনার আবার কী হল?'

'এই যে! কেশে কেশে মরে যাচ্ছি, এক শিশি কাফ মিকশ্চার কিনলুম, কার বাপের সাধ্য ছিপি খোলে। সারা রাত ধরে সপরিবারে চেষ্টা করেও হল না।'

'এখন চললেন কোথায়?'

'নিবারণের ছেলে জিম খুলেছে, বউ বললে, ওখানে একবার গিয়ে দেখ।'

'তা হলে এই দেখুন।'

আমার পকেট থেকে বের করলুম আধুনিক মোড়কে একটি লজেনস। 'এটা একমাস আমার পকেটে পড়ে আছে, রোজ সবাই মিলে খোলার চেষ্টা করি। হাতে হাতে ঘুরে আবার ফিরে আসে পকেটে।'

'আরে কাঁচি দিয়ে কেটে ফেললেই তে পার?'

'আজ্ঞে না, একটা লজেনসের কাছে শক্তির পরীক্ষায় হেরে যেতে রাজি নই।'

'অ্যায়! ঠিক বলেছ, আমারও ওই এক মনোভাব।'

'তা ছাড়া আরও একটা দিক আছে—আমার স্ত্রী যখন খুব গজ গজ করে তখন এইটা ধরিয়ে দি, 'খোলো' ব্যাস, ঘণ্টাখানেক গৃহ শান্ত।'

'ঠিক বলেছ হে। আমার বউও কাল সন্ধেবেলা থেকে খুব শুরু করেছিল, এটা ধরিয়ে দিলুম। আমার কাশি শান্ত না হলেও সে শান্ত হয়ে গেল। তা হলে কি বলছ—এটা বাড়ি ফিরিয়ে নিয়ে যাই!'

'অবশ্যই। নিজেও চেষ্টা করবেন, মনে মনে ভাববেন, ওটা খুললেই বরাতও খুলে যাবে। সংস্কারের মতো সামনে রাখবেন। সাধনার মতো।'

সকল অধ্যায়
১.
টক ঝাল মিষ্টি
২.
ঘোরকলি
৩.
কেমন আছেন?
৪.
জীবন একটা বেয়াড়া ভাল্লুক
৫.
হতেছে পাগলের মেলা
৬.
সকাল
৭.
আশার কথা
৮.
আর বোলো না ভাই!
৯.
'পৃথিবীতে যত বেটা সব বেটা গোরু'
১০.
আজও দাঁড়িয়ে আছি
১১.
হাঁদা গঙ্গারাম
১২.
কে পরাবে সিঁদুর
১৩.
জীবনের জাতীয় সংগীত
১৪.
মেয়েদের সৌন্দর্য
১৫.
বাস-মিনিবাসের লাইনে ঘোষ, বোস, মিত্তির
১৬.
ফরে কৃষ্ণ, কৃষ্ণ কৃষ্ণ, ফরে ফরে
১৭.
বাঁচতে ইচ্ছে করে না
১৮.
বাঁদর
১৯.
কোরা কাগজ
২০.
মৃত্যু একটা ড্রপসিন
২১.
শান্তির সহজপাঠ
২২.
বুদ্ধুকা দেশমে ধুর্তুকা রাজ
২৩.
অনুসন্ধান
২৪.
কোথাকার জল কোথায় গড়ায়
২৫.
প্রেমের শিকল
২৬.
বিপজ্জনক রকমের বড়লোক হয়ো না
২৭.
ছদ্মবেশী
২৮.
প্রেম বাড়ছে
২৯.
হনুমান টুপি
৩০.
বারমুডা ট্র্যাঙ্গল
৩১.
আড়ং ধোলাই
৩২.
হেমন্তের সকাল
৩৩.
হাতপাখা
৩৪.
খেলা
৩৫.
সন্দেহ
৩৬.
পেটে খেলে পিঠে সয়
৩৭.
শেয়াল পণ্ডিতের পাঠশালা
৩৮.
আমার আছে তোমার নেই
৩৯.
ধ্যাততেরিকা সংসার
৪০.
মায়ার খেলা, মায়ের খেলা
৪১.
যে ট্রেনের কোনো ইস্টিশন নেই
৪২.
সুখের লাগিয়া
৪৩.
টেকনিক
৪৪.
বাপের চা
৪৫.
অনশন
৪৬.
এ চোর সে চোর নয়
৪৭.
পরনিন্দা পরচর্চা
৪৮.
অমর বাঙালি
৪৯.
পথের শেষ কোথায়!
৫০.
ইনকিলাব জিন্দাবাদ
৫১.
পুজোর পাঁচালি
৫২.
আকাশ যখন ছবির মতো নীল
৫৩.
সংসার, শূন্য এক ছায়াবাজি
৫৪.
মারডালো
৫৫.
বড় সাধ ছিল
৫৬.
খোলকত্তাল
৫৭.
হিরের টুকরো
৫৮.
কোনওদিন শুনেছ, চোর এসে সাধ করে ধরা দিচ্ছে
৫৯.
অধিকার করে অধিকারী হতে হয়
৬০.
কোথায় কী
৬১.
জীবন ও সাহিত্য
৬২.
শামা হর রঙ্গ মেঁ
৬৩.
যা ছিল, একদিন নেই হবে, যা ছিল না,তা একদিন আছে হবে, শেষ হবে না কিছুই
৬৪.
উলটোপাক
৬৫.
যুবক
৬৬.
কাজের সময় কাজি
৬৭.
সকাল সকাল ভোট দিন
৬৮.
শুভানুধ্যায়ী
৬৯.
ছাতা আর গামছার মাল্টিপারপাস ব্যবহার
৭০.
জোকার
৭১.
আসরটা যে করলে মাটি
৭২.
কাঠুরিয়া
৭৩.
মানুষ হয়ে মরতে চাই
৭৪.
উতলা দখিন বাতাসে
৭৫.
ভাঙলে কিছু গড়তে তো হবে
৭৬.
আতঙ্ক
৭৭.
নিগ্রহ
৭৮.
ছুটির সকাল
৭৯.
স্বপ্ন
৮০.
আয় কাটাকাটি করি
৮১.
কলকাতা—৩০০
৮২.
আপনি কার পেশেন্ট
৮৩.
শরৎকাল
৮৪.
পকেটমারি
৮৫.
দুর্বলের সংসার সবলের সন্ন্যাস
৮৬.
আমি ক্ষুদ্র প্রাণ এক
৮৭.
মন পাখিরে কৃষ্ণকথা বল
৮৮.
জন্ম যার কোলে মৃত্যুও তারই কোলে
৮৯.
কেউ যায় বাজারে পচা মাছ কিনতে,কেউ যায় এভারেস্টে উঠতে
৯০.
উঠে বোসো শালগ্রাম
৯১.
এইবার যাই কোথায়!
৯২.
বেঁচে থাকার বিশ্রী ভয়টা আর নেই
৯৩.
এসেছি কেঁদে, যাই যেন হেসে
৯৪.
নির্জনতায় আমরা ভয় পাই, সজনতায় বিরক্ত হই
৯৫.
নদী ডাকে, আয় চলে আয়
৯৬.
কেউ ঘুমোয় কেউ জাগে

নোট নিতে এবং টেক্সট হাইলাইট করতে লগইন করুন

লগইন
০%