পথের শেষ কোথায়!

সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়

''মানুষ হয়ে আর জন্মাবে?''

''চিন্তা করছি।''

''এমন মানব জনম আর পাবে না।''

''তা হলে তো ল্যাঠা চুকেই গেল। আর জন্মাতে হবে না।''

''এই ব্যাপারটাই তো ঠিকমতো কেউ বলছে না। ধরো 'নেক্সট টাইম' যদি কুকুর হয়ে জন্মাই।''

''বিলিতি কুকুর হতে আমার আপত্তি নেই। প্রচণ্ড আদর-যত্ন। ছোটো লোমঅলা হলে গাউন-পরা সুন্দরী সুন্দরী মেমসায়েবদের কোলে থাকব। রোজ বুরুশ দিয়ে লোম পরিপাটি করে দেবে। বিলিতি পাউডার মাখাবে। বিলিতি বিস্কুট খাওয়াবে। মাংসের কিমা। বিলিতি পাঁউরুটি। চকচক করে দুধ খাব। খেঁউ খেঁউ করে ডাকব সরু গলায়। সারাদিন শুধু খেলা। মাঝে মাঝে একটু একটু ঘুমিয়ে নেব দামি সোফার উপর। আর রাত্তির বেলা মেমসায়েবের কোলের কাছে। মেমসায়েবের স্বামী বেশিদিন টেকে না। বিয়ে ফেঁসে ফর্দাফাঁই। সেই কারণে মেমরা স্বামী আর কুকুর দুটোই রাখে। স্বামী কেটে পড়লেও কুকুরটা থাকে। কুকুরটার সঙ্গে যত প্রাণের কথা। আয় রে 'জনি', তোর চেয়ে আপনার পৃথিবীতে আর কে আছে রে বগলা! আবার সায়েবটারও একটা কুকুর থাকে। দামড়া অ্যালসেশিয়ান, অথবা গোল্ডেন রিট্রিভার কি বক্সার! সায়েব বলবে, আয় রে কমলা, তুই তো মেয়েদের মতো চপলা নোস। এই নে চিকেন প্যাটিস খা।''

''সায়েবরা এত বউ পালটায় কেন বলতো!''

''মেমগুলো যে মাছের জাত। পিছলে যায়। ভালো বক না হলে ধরা যায় না। আবার ধরা গেলেও ধরে রাখা সহজ নয়। সায়েবরা বিয়ে করতে করতে এগোতে এগোতে একদিন মরে যায়। তখন মাথার কাছে বসে থাকে বিশ্বস্ত কুকুর কালুয়া।''

''আমি তা হলে 'নেক্সট টাইম' সায়েব হয়ে জন্মাব।''

''কেন?''

''বিয়ে করার প্রচণ্ড স্কোপ। তিন চার বছর অন্তর-অন্তর নতুন-নতুন বউ।''

''আমি কুকুরই হব।''

''দিশি মানুষ দিশি কুকুরই হবে। পুনর্জন্মের এলাকা ভাগ করা আছে। সমুদ্র টপকে বিলেত যাওয়া হবে না। এদেশের কাঁঠাল ওদেশে যাবে? হবে না। আর একটা জিনিস শুনে রাখ, একবার মানুষ হয়ে গেলে আর কুকুর হওয়া যাবে না। মানুষই হতে হবে; যেমন আমের পুনর্জন্ম আম। আম আমড়া হতে পারে না।''

''আমি তা হলে আর জন্মাব না। পিঠে কুড়ি কেজি ব্যাগ নিয়ে স্কুলে যেতে পারব না। প্রতি সপ্তাহে পরীক্ষা দিতে পারব না। মাধ্যমিক পাশ করা সম্ভব হলেও, উচ্চমাধ্যমিকে ধেড়াবই। ফেল করলেই মেট্রো রেল। আত্মহত্যা আর হত্যা ছাড়া এ যুগে আর কী আছে! এজ অফ সুইসাইড, মার্ডার অ্যান্ড টর্চার। স্কুলে, কলেজে টর্চারের বিলাইতি নাম 'র‌্যাগিং'। ঘরে ঘরে টর্চারের সংস্কৃত নাম নিপীড়ন। লকআপে টর্চারের নাম, 'থার্ড ডিগ্রি'। আবার 'মেন্টাল টর্চার' আছে। মানসিক পীড়ন। আবার শাস্ত্রীয় নিপীড়ন আছে। বড়োজাত, ছোটোজাত, জল অচল জাত। তারপর বড়োলোকেরা পৃথিবীটাকে ভাগ করে নিয়েছে। বড়োলোকরা বাঘ। মধ্যবিত্তরা শেয়াল। স্লোগানই তাদের গান এবং গান (Gun)। দুলে দুলে, নেচে নেচে, সুরে সুরে, টোন টেনে, ছন্দে ছন্দে, 'চলছে না, চলবে না।' দিতে হবে, দিতে হবে।' 'ভেঙে দাও গুঁড়িয়ে দাও।' কেড়ে খাও, খেয়ে কাড়ো। খেয়োখেয়ি করে মরো। অহঙ্কারে লুচির মতো ফুলে ওঠো। জীবনের চাপে তক্তা। বহুকরমের বক্তা।''

''কিন্তু ভায়া, পৃথিবীটা যে কবিতা। জলে নামে চাঁদ। রুপোর তবক গাছের পাতায়। ভোরের জালে রুপোর মাছ। শিশুর মুখে ঊষার আলো। বৃদ্ধের মুখে ভাঁজে দিবাশেষের কাব্য। গনগনে রোদের আঁচে পথিক বৃদ্ধা। হাত দিয়ে চোখ আড়াল করে নিজেকেই নিজে জিজ্ঞেস করছে—পথের শেষ কোথায়! কবির উত্তর 'শেষ নাহি যার শেষ কথা কে বলবে!'

সকল অধ্যায়
১.
টক ঝাল মিষ্টি
২.
ঘোরকলি
৩.
কেমন আছেন?
৪.
জীবন একটা বেয়াড়া ভাল্লুক
৫.
হতেছে পাগলের মেলা
৬.
সকাল
৭.
আশার কথা
৮.
আর বোলো না ভাই!
৯.
'পৃথিবীতে যত বেটা সব বেটা গোরু'
১০.
আজও দাঁড়িয়ে আছি
১১.
হাঁদা গঙ্গারাম
১২.
কে পরাবে সিঁদুর
১৩.
জীবনের জাতীয় সংগীত
১৪.
মেয়েদের সৌন্দর্য
১৫.
বাস-মিনিবাসের লাইনে ঘোষ, বোস, মিত্তির
১৬.
ফরে কৃষ্ণ, কৃষ্ণ কৃষ্ণ, ফরে ফরে
১৭.
বাঁচতে ইচ্ছে করে না
১৮.
বাঁদর
১৯.
কোরা কাগজ
২০.
মৃত্যু একটা ড্রপসিন
২১.
শান্তির সহজপাঠ
২২.
বুদ্ধুকা দেশমে ধুর্তুকা রাজ
২৩.
অনুসন্ধান
২৪.
কোথাকার জল কোথায় গড়ায়
২৫.
প্রেমের শিকল
২৬.
বিপজ্জনক রকমের বড়লোক হয়ো না
২৭.
ছদ্মবেশী
২৮.
প্রেম বাড়ছে
২৯.
হনুমান টুপি
৩০.
বারমুডা ট্র্যাঙ্গল
৩১.
আড়ং ধোলাই
৩২.
হেমন্তের সকাল
৩৩.
হাতপাখা
৩৪.
খেলা
৩৫.
সন্দেহ
৩৬.
পেটে খেলে পিঠে সয়
৩৭.
শেয়াল পণ্ডিতের পাঠশালা
৩৮.
আমার আছে তোমার নেই
৩৯.
ধ্যাততেরিকা সংসার
৪০.
মায়ার খেলা, মায়ের খেলা
৪১.
যে ট্রেনের কোনো ইস্টিশন নেই
৪২.
সুখের লাগিয়া
৪৩.
টেকনিক
৪৪.
বাপের চা
৪৫.
অনশন
৪৬.
এ চোর সে চোর নয়
৪৭.
পরনিন্দা পরচর্চা
৪৮.
অমর বাঙালি
৪৯.
পথের শেষ কোথায়!
৫০.
ইনকিলাব জিন্দাবাদ
৫১.
পুজোর পাঁচালি
৫২.
আকাশ যখন ছবির মতো নীল
৫৩.
সংসার, শূন্য এক ছায়াবাজি
৫৪.
মারডালো
৫৫.
বড় সাধ ছিল
৫৬.
খোলকত্তাল
৫৭.
হিরের টুকরো
৫৮.
কোনওদিন শুনেছ, চোর এসে সাধ করে ধরা দিচ্ছে
৫৯.
অধিকার করে অধিকারী হতে হয়
৬০.
কোথায় কী
৬১.
জীবন ও সাহিত্য
৬২.
শামা হর রঙ্গ মেঁ
৬৩.
যা ছিল, একদিন নেই হবে, যা ছিল না,তা একদিন আছে হবে, শেষ হবে না কিছুই
৬৪.
উলটোপাক
৬৫.
যুবক
৬৬.
কাজের সময় কাজি
৬৭.
সকাল সকাল ভোট দিন
৬৮.
শুভানুধ্যায়ী
৬৯.
ছাতা আর গামছার মাল্টিপারপাস ব্যবহার
৭০.
জোকার
৭১.
আসরটা যে করলে মাটি
৭২.
কাঠুরিয়া
৭৩.
মানুষ হয়ে মরতে চাই
৭৪.
উতলা দখিন বাতাসে
৭৫.
ভাঙলে কিছু গড়তে তো হবে
৭৬.
আতঙ্ক
৭৭.
নিগ্রহ
৭৮.
ছুটির সকাল
৭৯.
স্বপ্ন
৮০.
আয় কাটাকাটি করি
৮১.
কলকাতা—৩০০
৮২.
আপনি কার পেশেন্ট
৮৩.
শরৎকাল
৮৪.
পকেটমারি
৮৫.
দুর্বলের সংসার সবলের সন্ন্যাস
৮৬.
আমি ক্ষুদ্র প্রাণ এক
৮৭.
মন পাখিরে কৃষ্ণকথা বল
৮৮.
জন্ম যার কোলে মৃত্যুও তারই কোলে
৮৯.
কেউ যায় বাজারে পচা মাছ কিনতে,কেউ যায় এভারেস্টে উঠতে
৯০.
উঠে বোসো শালগ্রাম
৯১.
এইবার যাই কোথায়!
৯২.
বেঁচে থাকার বিশ্রী ভয়টা আর নেই
৯৩.
এসেছি কেঁদে, যাই যেন হেসে
৯৪.
নির্জনতায় আমরা ভয় পাই, সজনতায় বিরক্ত হই
৯৫.
নদী ডাকে, আয় চলে আয়
৯৬.
কেউ ঘুমোয় কেউ জাগে

নোট নিতে এবং টেক্সট হাইলাইট করতে লগইন করুন

লগইন
০%