হতেছে পাগলের মেলা

সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়

কী সাংঘাতিক মেজাজ হয়েছে এ-কালের মানুষজনের।

সাধারণ ভদ্রতা, জিজ্ঞেস করেছিলুম, 'কেমন আছেন?'

উত্তর হল, 'কেমন দেখছ?' ভারি গম্ভীর গলা।

'না শুনেছিলুম, শরীর খারাপ যাচ্ছে।'

'যার কাছে শুনেছিলে তাকে জিজ্ঞেস করো।'

'আপনার ছেলের কাছে।'

'সে নিজের বউ আর শ্বশুরবাড়ি ছাড়া আর কারুর খবর রাখে? বাবা অসুস্থ বলেছিল তো? সে এ-বাবা নয় ওই বাবা।'

মানুষের অনেক অভিযোগ। শুধু এ-কালে নয় সর্বকালে। শুধু টাকাপয়সা, মান-সম্মান, যশ, খ্যাতিতে মানুষের মন ভরে না। খুব সামান্য, সামান্য জিনিসের অভাবে মনের ভারসাম্য টলে যায়। কেমন আছেন, জিজ্ঞেস করায় তিনি ক্ষিপ্ত হলেন, তিনি বেশ বুঝে গেছেন, তাঁর ভালো থাকা, মন্দ থাকায় কারুর কিছু যায় আসে না। বেঁচে থাকাটা সম্পূর্ণ নিজস্ব প্রয়াস। সেকালের বাসে দুটি কথা লেখা থাকত। একটি হল, 'পাশেই পকেটমার।' দ্বিতীয়টি হলে, 'মাল নিজ দায়িত্বে রাখুন।' জীবনও মাল। পয়লা নম্বরে মাল। ধরে বসে থাক জীবনের রেলগাড়িতে।

শ্রদ্ধেয় অখিলবন্ধু ঘোষের অসাধারণ একটি গানের কয়েকটি লাইন স্মৃতিতে জাগছে, সারাটি জীবন ধরে শুধু, মায়া ভরা পৃথিবীতে পেয়েছি যত, তারও চেয়ে বেশি হয় তো হয়েছে দিতে।।

সবাই নিচ্ছে। নিঙড়ে নিচ্ছে। কেউ কিছু দিচ্ছে না। এই ক্ষোভ থেকে যত বিক্ষোভ। যার ক্ষোভ তার প্রতিও এই তো একই ক্ষোভ আর একজনের। এই জগতে সবাই তো লেনেওয়ালা। দেনেওয়ালা কে?

খুব আনন্দ করে সব বিয়ে করে। ক্যাসেটের কাটা সানাই। আজকাল আবার নিমন্ত্রণ পত্র হয়েছে পেল্লায়। এক একটার সাইন বোর্ডের মতো সাইজ। বাড়ির সামনে ম্যাটাডর থামল। দুজন আসছে। ধরাধরি করে আনছে। 'দাদা, ছেলের বিয়ে। কোন দেয়ালে ঝোলাব?'

'দেয়ালে ঝোলাবেন কেন? সে তো একটি মেয়ের গলায় ঝুলবে। গলা তো ঠিক হয়েই আছে।'

'না, না, এই নিমন্ত্রণ হোর্ডিংটা। আমরা একেবারে ফিক্স করে দিয়ে যাব। খুব দামি জিনিস। নামি আর্টিস্টের কাজ। এমনি বোঝা যাবে না। কাছে গেলে তো একেবারেই না। 'অ্যাবস্ট্রাকট' বিয়ের দৃশ্য। অনেকটা দূর থেকে দেখলে দেখবেন, একটা বড়ো কলাগাছ। একটা বর আছে, একটা বউ আছে। টোপর আছে।'

আর এক বড়োলোকের ছেলের বিয়ে। এল 'রিলিফের' কাজ। সিমেন্ট ঢালাই। ওজন কুড়ি কেজি। পালকি, চার বেহারা, ভেতরে বর বউ। ইচ্ছে করলে এটা আপনি দেয়ালে গেঁথে রাখতে পারেন। 'ওয়ার্ক অফ আর্ট, ভেরি কালারফুল।' বাবা এসেছেন নিমন্ত্রণ করতে। তাঁর গাড়ির পিছনে পিছনে চলেছে মাঝারি মাপের লরি। লরিতে হাজার পিস কংক্রিট নিমন্ত্রণ পত্র।

পত্র ঢালাই করা যায়, সম্পর্ক যে ঢালাই হতে চায় না কিছুতেই। স্বামী-স্ত্রী যেন 'সোর্ন এনিমি'। চিড় ধরা 'ফাউন্ডেশনে' কেঁদে ওঠে নবজাতক, নবজাতিকারা। নামীদামি স্কুলে পড়তে যায়। ডিম খায়, ছানা খায়। আর বাবা-মায়ের ফাইটের সাক্ষী হয়।

'কী সমস্যা আপনাদের?'

কর্তার একাক্ষরী উত্তর, 'অসহ্য!'

স্ত্রীর একাক্ষরী উত্তর, 'অমানুষ!'

উভয়ের মিলনে জন্মাল, 'অসহ্য অমানুষ'। বন মানুষের বাবা?

সকল অধ্যায়
১.
টক ঝাল মিষ্টি
২.
ঘোরকলি
৩.
কেমন আছেন?
৪.
জীবন একটা বেয়াড়া ভাল্লুক
৫.
হতেছে পাগলের মেলা
৬.
সকাল
৭.
আশার কথা
৮.
আর বোলো না ভাই!
৯.
'পৃথিবীতে যত বেটা সব বেটা গোরু'
১০.
আজও দাঁড়িয়ে আছি
১১.
হাঁদা গঙ্গারাম
১২.
কে পরাবে সিঁদুর
১৩.
জীবনের জাতীয় সংগীত
১৪.
মেয়েদের সৌন্দর্য
১৫.
বাস-মিনিবাসের লাইনে ঘোষ, বোস, মিত্তির
১৬.
ফরে কৃষ্ণ, কৃষ্ণ কৃষ্ণ, ফরে ফরে
১৭.
বাঁচতে ইচ্ছে করে না
১৮.
বাঁদর
১৯.
কোরা কাগজ
২০.
মৃত্যু একটা ড্রপসিন
২১.
শান্তির সহজপাঠ
২২.
বুদ্ধুকা দেশমে ধুর্তুকা রাজ
২৩.
অনুসন্ধান
২৪.
কোথাকার জল কোথায় গড়ায়
২৫.
প্রেমের শিকল
২৬.
বিপজ্জনক রকমের বড়লোক হয়ো না
২৭.
ছদ্মবেশী
২৮.
প্রেম বাড়ছে
২৯.
হনুমান টুপি
৩০.
বারমুডা ট্র্যাঙ্গল
৩১.
আড়ং ধোলাই
৩২.
হেমন্তের সকাল
৩৩.
হাতপাখা
৩৪.
খেলা
৩৫.
সন্দেহ
৩৬.
পেটে খেলে পিঠে সয়
৩৭.
শেয়াল পণ্ডিতের পাঠশালা
৩৮.
আমার আছে তোমার নেই
৩৯.
ধ্যাততেরিকা সংসার
৪০.
মায়ার খেলা, মায়ের খেলা
৪১.
যে ট্রেনের কোনো ইস্টিশন নেই
৪২.
সুখের লাগিয়া
৪৩.
টেকনিক
৪৪.
বাপের চা
৪৫.
অনশন
৪৬.
এ চোর সে চোর নয়
৪৭.
পরনিন্দা পরচর্চা
৪৮.
অমর বাঙালি
৪৯.
পথের শেষ কোথায়!
৫০.
ইনকিলাব জিন্দাবাদ
৫১.
পুজোর পাঁচালি
৫২.
আকাশ যখন ছবির মতো নীল
৫৩.
সংসার, শূন্য এক ছায়াবাজি
৫৪.
মারডালো
৫৫.
বড় সাধ ছিল
৫৬.
খোলকত্তাল
৫৭.
হিরের টুকরো
৫৮.
কোনওদিন শুনেছ, চোর এসে সাধ করে ধরা দিচ্ছে
৫৯.
অধিকার করে অধিকারী হতে হয়
৬০.
কোথায় কী
৬১.
জীবন ও সাহিত্য
৬২.
শামা হর রঙ্গ মেঁ
৬৩.
যা ছিল, একদিন নেই হবে, যা ছিল না,তা একদিন আছে হবে, শেষ হবে না কিছুই
৬৪.
উলটোপাক
৬৫.
যুবক
৬৬.
কাজের সময় কাজি
৬৭.
সকাল সকাল ভোট দিন
৬৮.
শুভানুধ্যায়ী
৬৯.
ছাতা আর গামছার মাল্টিপারপাস ব্যবহার
৭০.
জোকার
৭১.
আসরটা যে করলে মাটি
৭২.
কাঠুরিয়া
৭৩.
মানুষ হয়ে মরতে চাই
৭৪.
উতলা দখিন বাতাসে
৭৫.
ভাঙলে কিছু গড়তে তো হবে
৭৬.
আতঙ্ক
৭৭.
নিগ্রহ
৭৮.
ছুটির সকাল
৭৯.
স্বপ্ন
৮০.
আয় কাটাকাটি করি
৮১.
কলকাতা—৩০০
৮২.
আপনি কার পেশেন্ট
৮৩.
শরৎকাল
৮৪.
পকেটমারি
৮৫.
দুর্বলের সংসার সবলের সন্ন্যাস
৮৬.
আমি ক্ষুদ্র প্রাণ এক
৮৭.
মন পাখিরে কৃষ্ণকথা বল
৮৮.
জন্ম যার কোলে মৃত্যুও তারই কোলে
৮৯.
কেউ যায় বাজারে পচা মাছ কিনতে,কেউ যায় এভারেস্টে উঠতে
৯০.
উঠে বোসো শালগ্রাম
৯১.
এইবার যাই কোথায়!
৯২.
বেঁচে থাকার বিশ্রী ভয়টা আর নেই
৯৩.
এসেছি কেঁদে, যাই যেন হেসে
৯৪.
নির্জনতায় আমরা ভয় পাই, সজনতায় বিরক্ত হই
৯৫.
নদী ডাকে, আয় চলে আয়
৯৬.
কেউ ঘুমোয় কেউ জাগে

নোট নিতে এবং টেক্সট হাইলাইট করতে লগইন করুন

লগইন
০%