কে পরাবে সিঁদুর

সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়

''ব্যাবসাটা ভালোই, কী বলো? বেশ লাভজনক!''

''কোন ব্যাবসার কথা বলছ, ধান, গম, তেল?''

''না রে ভাই, কিডন্যাপিং। ধরো তোমাকে তুলে নিয়ে গেল। এই মর্নিংওয়াক করছ। একটা গাড়ি এসে দাঁড়াল। টাটা, গুডবাই।''

''এখন তুলতে এল, আটটা পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে। দু-কাপ চা খাব, তারপর আমার ডাক আসবে। তারপর আমি মুক্ত পুরুষ হয়ে বলব, চলো ব্রাদার।''

''মামার বাড়ি! অত খাতির নেই। ওদের কাছে দুটো জিনিস থাকবেই থাকবে। প্ল্যানিং অ্যান্ড সিপড। লোক্যাল এজেন্ট আগে দেখবে, মালটা মালদার কি না! এরপর তোমার ফাইল যাবে হেড কোয়ার্টারে। সেটা মুম্বইতে হতে পারে, আবার দুবাইতেও হতে পারে। সেখান থেকে সেলফোনে সিগন্যাল আসবে, 'বিপ, বিপ, বিপ।'' এদিককার এজেন্টরা উত্তর দেবে, 'পিপ, পিপ, পিপ।''

দুই প্রবীণে এই রকম কথা হচ্ছে। হাঁটতে হাঁটতে।

''এরপর মালটাকে নিয়ে গিয়ে আড়তে ফেলবে। গিয়ে দেখবে আরও গোটাকতক মাল গুদামে মজুত। গলায় টিকিট ঝুলছে। লেখা আছে নাম, ঠিকানা। ফোন নং, বয়েস। ক্যাচ ডেট, অর্থাৎ কোন তারিখে পাকড়েছে। আর বড়ো বড়ো অক্ষরে লেখা—ডিম্যান্ড। কত টাকা চাওয়া হয়েছে।

''এই অবস্থায় তুমি একটা মজা দেখবে। ধরো, তোমার টিকিটে তোমার ভ্যালু ধরেছে দশ লাখ, আর তোমার পাশে যে মালটা, টিকিটে তার ভ্যালু এক কোটি টাকা। সে তোমার সঙ্গে কথা বলবে না। তুমি হয়তো গায়ে পড়ে জিজ্ঞেস করলে, কী দাদা! লাঞ্চ হো গিয়া! সে মুখ ফিরিয়ে নেবে। সে যে তার ভ্যালু জেনে গিয়েছে। তার ওপাশের মালটার ভ্যালু তিন কোটি। সে তো চোখ বুজে বসে আছে অহঙ্কারে। সবচেয়ে দামি মাল। যতদিন না তোমাকে হরণ করা হচ্ছে, ততদিন তোমার 'ভ্যালু' জানা যাবে না।''

''এরপর একটা ফোন আসবে। ও পাশে ভারী গলা—''এই তোর বাপকে ধরেছি। এক কোটি টাকা দিয়ে নিয়ে যা। একটু ভেঙেচুরে গিয়েছে। মেরামত করে নিস।''

''ছেলে ফোন ছেড়ে দিয়ে কী করবে বল তো?''

''কী?''

''মায়ের সঙ্গে পরামর্শে বসবে। মা কী করা যায়? অনেক চাইছে। এত কস্টলি বাবা নিয়ে কী হবে?'' ছেলের মা বলবে, ''খদ্দের পায় তো অন্য কোথাও ঝেড়ে দিতে বল। নয় তো ওদের স্টকেই পড়ে থাক। কিছুদিন রাখলেই বুঝবে কী মাল?'' ''যদি মেরে ফেলে?'' ''তোর মনস্কামনা পূর্ণ হবে। আর আমি হব মডার্ন বিধবা!''

দুই প্রবীণের আলোচনায় তৃতীয় আর একজন এসেছেন অনেকক্ষণ। রাউন্ড চলছে। তৃতীয় প্রবীণ বললেন, ''একালে আবার সধবা, বিধবা! সিঁদুর দেওয়া তো উঠেই গিয়েছে। বিধবারা আর থান পরে না। টেলিফোনে, ইন্টারনেটে বিয়ে হয়।''

''হ্যাঁ ভাই, সেই সমাজ আসছে। যে সমাজে বাপ-মায়ের নাম জিজ্ঞেস করাটা হবে অসভ্যতা। কোথা থেকে এল ওই ব্যাক ডেটেড বুড়োটা। বলে, বাপের নাম কী, মায়ের নাম কী? বাপের নাম 'এক্স', মায়ের নাম 'ওয়াই'। ছেলের নাম 'জেড'। 'জেব্রা সোসাইটি', 'অ্যালজেব্রার ফর্মূলায়' চলছে। "x + y = z "

''একটা ব্যাপার 'ক্লিয়ার'। যম ছাড়া কেউ আমাদের নেবে না—'নো টেকার''। তাও তো নিত্য দু'বেলা শুনতে হয় সহধর্মিণীর আক্ষেপ—''দেখবি, ওই ঢকঢকে শরীর নিয়ে হাঁপাতে হাঁপাতে একশো বছর টেনে দেবে। শচীনের জাত। সেঞ্চুরি না করে উইকেট ছাড়বে না।'' ছেলে ভরসা দেবে, ''কিচ্ছু ভেব না, যাকে নিয়ে আসছি অ্যায়সা টাইট দেবে!''

''টাইট দেবে কী করে? বাড়িটা নিজের নামে, কাঁড়ি টাকা ব্যাংকে নিজের নামে। ডাঁট মেরে বলে শুনিস না, শেষকালে যে আমার সেবা করবে, সব মালকড়ি তাকে দিয়ে যাব।''

''এদের কী বলে জানো মা, মজুতদার বাপ।''

''সেবাদাসী রেখে দেখুক না। কাগজে পড়িস তো, গলা টিপে রেখে যাবে।''

''সে ভয়টা তোমার, গয়না তো সব তোমার আলমারিতে।''

অবশেষে তিন ভ্রমণকারীর সমবেত ক্ষেদোক্তি—''রমণীয় রমণীরা কেন এমন ভীষণ ভয়ঙ্করী!''

সকল অধ্যায়
১.
টক ঝাল মিষ্টি
২.
ঘোরকলি
৩.
কেমন আছেন?
৪.
জীবন একটা বেয়াড়া ভাল্লুক
৫.
হতেছে পাগলের মেলা
৬.
সকাল
৭.
আশার কথা
৮.
আর বোলো না ভাই!
৯.
'পৃথিবীতে যত বেটা সব বেটা গোরু'
১০.
আজও দাঁড়িয়ে আছি
১১.
হাঁদা গঙ্গারাম
১২.
কে পরাবে সিঁদুর
১৩.
জীবনের জাতীয় সংগীত
১৪.
মেয়েদের সৌন্দর্য
১৫.
বাস-মিনিবাসের লাইনে ঘোষ, বোস, মিত্তির
১৬.
ফরে কৃষ্ণ, কৃষ্ণ কৃষ্ণ, ফরে ফরে
১৭.
বাঁচতে ইচ্ছে করে না
১৮.
বাঁদর
১৯.
কোরা কাগজ
২০.
মৃত্যু একটা ড্রপসিন
২১.
শান্তির সহজপাঠ
২২.
বুদ্ধুকা দেশমে ধুর্তুকা রাজ
২৩.
অনুসন্ধান
২৪.
কোথাকার জল কোথায় গড়ায়
২৫.
প্রেমের শিকল
২৬.
বিপজ্জনক রকমের বড়লোক হয়ো না
২৭.
ছদ্মবেশী
২৮.
প্রেম বাড়ছে
২৯.
হনুমান টুপি
৩০.
বারমুডা ট্র্যাঙ্গল
৩১.
আড়ং ধোলাই
৩২.
হেমন্তের সকাল
৩৩.
হাতপাখা
৩৪.
খেলা
৩৫.
সন্দেহ
৩৬.
পেটে খেলে পিঠে সয়
৩৭.
শেয়াল পণ্ডিতের পাঠশালা
৩৮.
আমার আছে তোমার নেই
৩৯.
ধ্যাততেরিকা সংসার
৪০.
মায়ার খেলা, মায়ের খেলা
৪১.
যে ট্রেনের কোনো ইস্টিশন নেই
৪২.
সুখের লাগিয়া
৪৩.
টেকনিক
৪৪.
বাপের চা
৪৫.
অনশন
৪৬.
এ চোর সে চোর নয়
৪৭.
পরনিন্দা পরচর্চা
৪৮.
অমর বাঙালি
৪৯.
পথের শেষ কোথায়!
৫০.
ইনকিলাব জিন্দাবাদ
৫১.
পুজোর পাঁচালি
৫২.
আকাশ যখন ছবির মতো নীল
৫৩.
সংসার, শূন্য এক ছায়াবাজি
৫৪.
মারডালো
৫৫.
বড় সাধ ছিল
৫৬.
খোলকত্তাল
৫৭.
হিরের টুকরো
৫৮.
কোনওদিন শুনেছ, চোর এসে সাধ করে ধরা দিচ্ছে
৫৯.
অধিকার করে অধিকারী হতে হয়
৬০.
কোথায় কী
৬১.
জীবন ও সাহিত্য
৬২.
শামা হর রঙ্গ মেঁ
৬৩.
যা ছিল, একদিন নেই হবে, যা ছিল না,তা একদিন আছে হবে, শেষ হবে না কিছুই
৬৪.
উলটোপাক
৬৫.
যুবক
৬৬.
কাজের সময় কাজি
৬৭.
সকাল সকাল ভোট দিন
৬৮.
শুভানুধ্যায়ী
৬৯.
ছাতা আর গামছার মাল্টিপারপাস ব্যবহার
৭০.
জোকার
৭১.
আসরটা যে করলে মাটি
৭২.
কাঠুরিয়া
৭৩.
মানুষ হয়ে মরতে চাই
৭৪.
উতলা দখিন বাতাসে
৭৫.
ভাঙলে কিছু গড়তে তো হবে
৭৬.
আতঙ্ক
৭৭.
নিগ্রহ
৭৮.
ছুটির সকাল
৭৯.
স্বপ্ন
৮০.
আয় কাটাকাটি করি
৮১.
কলকাতা—৩০০
৮২.
আপনি কার পেশেন্ট
৮৩.
শরৎকাল
৮৪.
পকেটমারি
৮৫.
দুর্বলের সংসার সবলের সন্ন্যাস
৮৬.
আমি ক্ষুদ্র প্রাণ এক
৮৭.
মন পাখিরে কৃষ্ণকথা বল
৮৮.
জন্ম যার কোলে মৃত্যুও তারই কোলে
৮৯.
কেউ যায় বাজারে পচা মাছ কিনতে,কেউ যায় এভারেস্টে উঠতে
৯০.
উঠে বোসো শালগ্রাম
৯১.
এইবার যাই কোথায়!
৯২.
বেঁচে থাকার বিশ্রী ভয়টা আর নেই
৯৩.
এসেছি কেঁদে, যাই যেন হেসে
৯৪.
নির্জনতায় আমরা ভয় পাই, সজনতায় বিরক্ত হই
৯৫.
নদী ডাকে, আয় চলে আয়
৯৬.
কেউ ঘুমোয় কেউ জাগে

নোট নিতে এবং টেক্সট হাইলাইট করতে লগইন করুন

লগইন
০%