কেমন আছেন?

সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়

''কেমন আছেন?''

''বলতে পারব না।''

''কী অসুবিধে?''

''জানি না।''

''যাচ্ছেন কোথায়?''

''মাধ্যমিক।''

''আগে পাস করেননি?''

''আমি করেছি। এইবার আমার ছেলে। এখন যাচ্ছি ডাক্তারবাবুর কাছে।''

''কেন? ছেলের পেট ছেড়েছে টেনশনে?''

''ছেলে নয়। ছেলের মায়ের নাড়ি ছেড়ে গিয়েছে। স্ট্রোক। হাঁ করে পড়ে আছে। ঠোঁটের কাছে কান নিয়ে গিয়ে শুনলুম, বিড়বিড় করে বলছে, পাঁচটা নম্বর ছেড়ে দিয়ে এল, কী হবে রে?''

ভদ্রলোক ছুটলেন। ঊর্ধ্বশ্বাসে।

আর এক পরিচিতকে জিজ্ঞেস করলুম, ''কী হল? অশৌচ না কি? দাড়ি কামাওনি!''

''বাবা চলে গেলেন।''

''সে কী? কী হয়েছিল?''

''ইলেকট্রিক বিল।''

''সে আবার কী অসুখ? কোনও নতুন ভাইরাস?''

''না, না, ইলেকট্রিক বিল। হাতে নিলেন। স্থির দৃষ্টিতে তাকিয়ে রইলেন। তারপর ঘটের মতো উলটে গেলেন, আর সোজা হলেন না।''

আর একজনকে জিজ্ঞেস করলুম, ''কেমন আছেন?''

''নেই। ভূত হয়ে গিয়েছি।''

''সে আবার কী?''

''থার্ড ইয়ারে পড়ল। বোধহয় রজতজয়ন্তী করে যেতে হবে।''

''এখন ছুটছেন কোথায়?''

''খোঁচাতে।''

খুব ধীরে ধীরে হাঁটছেন। বৃদ্ধ মানুষ। হাতে বাজারের ব্যাগ। জিজ্ঞেস করলুম, ''জ্যাঠামশাই। কেমন আছেন?''

''বড়ো দুশ্চিন্তায় আছি বাবা?''

''কী আবার হল?''

''বড়ো আশা করে আছি, বাংলার ছেলে ওয়ার্ল্ড-কাপ কোলে করে দেশে ফিরবে, যদি না পারে?''

''না পারলে কী আর করা যাবে! খেলায় হার-জিত থাকবেই।''

''তুমি বুঝছ না, এইটা আমার শেষ ওয়ার্ল্ড কাপ। এই একটা কাপই আমরা ঘরে আনতি পারি, ফুটবলে আমাদের আশা নেই।''

''শেষ বলছেন কেন?''

''গতবারের কাপে বিরাজ গেল। এবারে আমার পালা। এই টেনশন সহ্য করার মতো হার্টের অবস্থা আর নেই। একবার ধাক্কা মেরেছে। বাড়ির লোক টিভির সামনে আমাকে বসতেই দিচ্ছে না। সামনে গেলেই দুরদুর করে তাড়িয়ে দিচ্ছে। আবার কী বলছে জানো, আমি না কি অপয়া। আমি থাকলেই ভারত হারবে।''

''যাচ্ছেন কোথায়?''

''আজ শনিবার, যাই পুজো চড়িয়ে আসি, ডাব চিনি দিয়ে।''

এইবার নিজেকেই প্রশ্ন ''কেমন আছ ভাই?''

উত্তর : ''এ দেশে কেউ খারাপ থাকতে পারে! এত ভঙ্গ বঙ্গদেশ তবু রঙ্গে ভরা।''

সকল অধ্যায়
১.
টক ঝাল মিষ্টি
২.
ঘোরকলি
৩.
কেমন আছেন?
৪.
জীবন একটা বেয়াড়া ভাল্লুক
৫.
হতেছে পাগলের মেলা
৬.
সকাল
৭.
আশার কথা
৮.
আর বোলো না ভাই!
৯.
'পৃথিবীতে যত বেটা সব বেটা গোরু'
১০.
আজও দাঁড়িয়ে আছি
১১.
হাঁদা গঙ্গারাম
১২.
কে পরাবে সিঁদুর
১৩.
জীবনের জাতীয় সংগীত
১৪.
মেয়েদের সৌন্দর্য
১৫.
বাস-মিনিবাসের লাইনে ঘোষ, বোস, মিত্তির
১৬.
ফরে কৃষ্ণ, কৃষ্ণ কৃষ্ণ, ফরে ফরে
১৭.
বাঁচতে ইচ্ছে করে না
১৮.
বাঁদর
১৯.
কোরা কাগজ
২০.
মৃত্যু একটা ড্রপসিন
২১.
শান্তির সহজপাঠ
২২.
বুদ্ধুকা দেশমে ধুর্তুকা রাজ
২৩.
অনুসন্ধান
২৪.
কোথাকার জল কোথায় গড়ায়
২৫.
প্রেমের শিকল
২৬.
বিপজ্জনক রকমের বড়লোক হয়ো না
২৭.
ছদ্মবেশী
২৮.
প্রেম বাড়ছে
২৯.
হনুমান টুপি
৩০.
বারমুডা ট্র্যাঙ্গল
৩১.
আড়ং ধোলাই
৩২.
হেমন্তের সকাল
৩৩.
হাতপাখা
৩৪.
খেলা
৩৫.
সন্দেহ
৩৬.
পেটে খেলে পিঠে সয়
৩৭.
শেয়াল পণ্ডিতের পাঠশালা
৩৮.
আমার আছে তোমার নেই
৩৯.
ধ্যাততেরিকা সংসার
৪০.
মায়ার খেলা, মায়ের খেলা
৪১.
যে ট্রেনের কোনো ইস্টিশন নেই
৪২.
সুখের লাগিয়া
৪৩.
টেকনিক
৪৪.
বাপের চা
৪৫.
অনশন
৪৬.
এ চোর সে চোর নয়
৪৭.
পরনিন্দা পরচর্চা
৪৮.
অমর বাঙালি
৪৯.
পথের শেষ কোথায়!
৫০.
ইনকিলাব জিন্দাবাদ
৫১.
পুজোর পাঁচালি
৫২.
আকাশ যখন ছবির মতো নীল
৫৩.
সংসার, শূন্য এক ছায়াবাজি
৫৪.
মারডালো
৫৫.
বড় সাধ ছিল
৫৬.
খোলকত্তাল
৫৭.
হিরের টুকরো
৫৮.
কোনওদিন শুনেছ, চোর এসে সাধ করে ধরা দিচ্ছে
৫৯.
অধিকার করে অধিকারী হতে হয়
৬০.
কোথায় কী
৬১.
জীবন ও সাহিত্য
৬২.
শামা হর রঙ্গ মেঁ
৬৩.
যা ছিল, একদিন নেই হবে, যা ছিল না,তা একদিন আছে হবে, শেষ হবে না কিছুই
৬৪.
উলটোপাক
৬৫.
যুবক
৬৬.
কাজের সময় কাজি
৬৭.
সকাল সকাল ভোট দিন
৬৮.
শুভানুধ্যায়ী
৬৯.
ছাতা আর গামছার মাল্টিপারপাস ব্যবহার
৭০.
জোকার
৭১.
আসরটা যে করলে মাটি
৭২.
কাঠুরিয়া
৭৩.
মানুষ হয়ে মরতে চাই
৭৪.
উতলা দখিন বাতাসে
৭৫.
ভাঙলে কিছু গড়তে তো হবে
৭৬.
আতঙ্ক
৭৭.
নিগ্রহ
৭৮.
ছুটির সকাল
৭৯.
স্বপ্ন
৮০.
আয় কাটাকাটি করি
৮১.
কলকাতা—৩০০
৮২.
আপনি কার পেশেন্ট
৮৩.
শরৎকাল
৮৪.
পকেটমারি
৮৫.
দুর্বলের সংসার সবলের সন্ন্যাস
৮৬.
আমি ক্ষুদ্র প্রাণ এক
৮৭.
মন পাখিরে কৃষ্ণকথা বল
৮৮.
জন্ম যার কোলে মৃত্যুও তারই কোলে
৮৯.
কেউ যায় বাজারে পচা মাছ কিনতে,কেউ যায় এভারেস্টে উঠতে
৯০.
উঠে বোসো শালগ্রাম
৯১.
এইবার যাই কোথায়!
৯২.
বেঁচে থাকার বিশ্রী ভয়টা আর নেই
৯৩.
এসেছি কেঁদে, যাই যেন হেসে
৯৪.
নির্জনতায় আমরা ভয় পাই, সজনতায় বিরক্ত হই
৯৫.
নদী ডাকে, আয় চলে আয়
৯৬.
কেউ ঘুমোয় কেউ জাগে

নোট নিতে এবং টেক্সট হাইলাইট করতে লগইন করুন

লগইন
০%