টেকনিক

সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়

টেকনিক আর টেকনোলজির যুগ। তাহলে শান্তিতে বাঁচার উপায় তো একটা বের করতে হয়। জ্বলেপুড়ে বৃষকাষ্ঠ হয়ে মরাটা কী খুব গৌরবের, না বুদ্ধিমানের কাজ? দেখা যাক, ইহুদি প্রবাদে কী নির্দেশ দিচ্ছে:

He who spares his words has true wisdom;

And he who holds his temper is a man of sense.

যে চোটপাট উত্তর না দিয়ে গুম মেরে থাকে, সে জ্ঞানী। আর বিচক্ষণ মানুষ রাগেন না। তাহলে গৃহসুখের প্রথম টেকনিক হল, স্ত্রীর মুখে মুখে তর্ক না করা। আর দাঁতে দাঁত চেপে নিজের রাগকে সংযত রাখা। কথা আর রাগ হল কুরুক্ষেত্রের মশলা। বলেছ, কী মরেছ!

A forbearing man is better than a warrior

He who rules his temper better than one who takes a city.

যে সহনশীল, যার সহ্যশক্তি বেশি সে যে-কোনো যোদ্ধার চেয়ে শক্তিশালী। যেমন ভগবান শ্রীরামকৃষ্ণ বলে গেছেন— শ,ষ,স, সহ্য কর, সহ্য কর, সহ্য কর। যে সয় সে রয়, যে না সয় সে নাশ হয়। প্রায় একই উপদেশ। তারপর? যে তার মেজাজকে শাসনে রাখতে পারে, সে যে-কোনো নগরশাসকের চেয়ে ভালো। অনেক বেশি ক্ষমতাশালী।

এরপর? আরও আছে,

Even a fool is counted wise if he keeps silent,

Intelligent if he shuts his lips.

পিঁড়েতে টোপর মাথায় যে বসেছে, সে-ই বোকা। দেখুন তুলসীদাসজী কী বলছেন?

বেহা বেহা সবকোই কহে, মেরা মনমে এহি ভায়।

চড় খাটোলি ধো ধো লগড়া জেহেল পর লে যায়।।

সে কী আনন্দ! আমার বিয়ে, বিয়ে। চৌদোলায় চড়ে, বাদ্যবাজনা করে বর চলেছে। তুলসী দেখছেন আর ভাবছেন, হায় রে! আমৃত্যু জেলখানায় বন্দি করার জন্যে নিয়ে যাচ্ছে। মূর্খ সেজে হাজতে চলেছে, রোশনাই করে। ডবল মূর্খ! তা সেই মূর্খকেও জ্ঞানী বলা যাবে, যদি সে চুপ করে থাকে। আর সে-ই বুদ্ধিমান যে নিজের ঠোঁট বন্ধ রাখতে জানে। পরিবার ওসকাবে; কিন্তু কোনো ট্যাঁ-ফোঁ করব না, এই হল বুদ্ধিমানের ধর্ম।

সেই একই রকমের নির্দেশ তুলসীদাসজীর,

রাজা করে রাজ্য বশ, যোদ্ধা করে রণ জই।

আপনা মনকো বশ করে সো, সবকো সেরা ওই।।

রাজ্য বশ করতে পারলেই রাজা, যুদ্ধ জয় করলেই যোদ্ধা, আর দুর্দান্ত মনকে জয় করতে পেরেছে যে, তার কাছে, রাজাও লাগে না, যোদ্ধাও লাগে না। তিনিই হলেন সবচেয়ে বড় জয়ী। আমায় যতই নাচাও নাচবো না, এই হোক মন্ত্র।

পরিবার কেন রাগেন

তিনি হলেন প্রভু। অতএব কাজে ফাঁকি দিলে, কী আলস্য করলে, তিনি রাগতেই পারেন। রাগার হক আছে। কাজের তালিকা:

(১) সকালে সময়মতো বাজার। নিজের মনোমতন নয়, তাঁর মনের মতো।

(২) ফ্যুয়েলের চাহিদা মতন জোগাড়, যেমন গ্যাস ও কেরোসিন।

(৩) ফাইফরমাশ খাটা। হাসিমুখে, বিরক্ত না হয়ে।

(৪) যখন যেখানে যেতে বলবেন, বিনা প্রতিবাদে যাওয়া এবং নিয়ে যাওয়া।

(৫) জল, জলখাবার, বারে বারে চা না-খাওয়া।

(৬) সকালের প্রথম চা করে দিতে পারলে অতি উত্তম।

(৭) রাতে বিছানা করা, মশারি টাঙানো, সকালে পরিপাটি করে তোলা।

(৮) মাঝে মাঝে বাপের বাড়ি নিয়ে যাওয়া।

(৯) কাজের লোক না এলে বাসন বাজা, ঘরদোর পরিষ্কার করা।

(১০) রাতে শুতে যাবার আগে দরজা বন্ধ করা, সব আলো নেবানো ও ভোরে কাজের লোককে খুলে দেওয়া।

এই হল টেন কম্যান্ডমেন্টস। পালনে সুখ। অবহেলায় অশান্তি। শয়নের আগে একবার অন্তত বলা, 'সকলি তোমারি ইচ্ছা ইচ্ছাময়ী তারা তুমি।'।। অথ গৃহসুখ সমাপ্ত।।

সকল অধ্যায়
১.
টক ঝাল মিষ্টি
২.
ঘোরকলি
৩.
কেমন আছেন?
৪.
জীবন একটা বেয়াড়া ভাল্লুক
৫.
হতেছে পাগলের মেলা
৬.
সকাল
৭.
আশার কথা
৮.
আর বোলো না ভাই!
৯.
'পৃথিবীতে যত বেটা সব বেটা গোরু'
১০.
আজও দাঁড়িয়ে আছি
১১.
হাঁদা গঙ্গারাম
১২.
কে পরাবে সিঁদুর
১৩.
জীবনের জাতীয় সংগীত
১৪.
মেয়েদের সৌন্দর্য
১৫.
বাস-মিনিবাসের লাইনে ঘোষ, বোস, মিত্তির
১৬.
ফরে কৃষ্ণ, কৃষ্ণ কৃষ্ণ, ফরে ফরে
১৭.
বাঁচতে ইচ্ছে করে না
১৮.
বাঁদর
১৯.
কোরা কাগজ
২০.
মৃত্যু একটা ড্রপসিন
২১.
শান্তির সহজপাঠ
২২.
বুদ্ধুকা দেশমে ধুর্তুকা রাজ
২৩.
অনুসন্ধান
২৪.
কোথাকার জল কোথায় গড়ায়
২৫.
প্রেমের শিকল
২৬.
বিপজ্জনক রকমের বড়লোক হয়ো না
২৭.
ছদ্মবেশী
২৮.
প্রেম বাড়ছে
২৯.
হনুমান টুপি
৩০.
বারমুডা ট্র্যাঙ্গল
৩১.
আড়ং ধোলাই
৩২.
হেমন্তের সকাল
৩৩.
হাতপাখা
৩৪.
খেলা
৩৫.
সন্দেহ
৩৬.
পেটে খেলে পিঠে সয়
৩৭.
শেয়াল পণ্ডিতের পাঠশালা
৩৮.
আমার আছে তোমার নেই
৩৯.
ধ্যাততেরিকা সংসার
৪০.
মায়ার খেলা, মায়ের খেলা
৪১.
যে ট্রেনের কোনো ইস্টিশন নেই
৪২.
সুখের লাগিয়া
৪৩.
টেকনিক
৪৪.
বাপের চা
৪৫.
অনশন
৪৬.
এ চোর সে চোর নয়
৪৭.
পরনিন্দা পরচর্চা
৪৮.
অমর বাঙালি
৪৯.
পথের শেষ কোথায়!
৫০.
ইনকিলাব জিন্দাবাদ
৫১.
পুজোর পাঁচালি
৫২.
আকাশ যখন ছবির মতো নীল
৫৩.
সংসার, শূন্য এক ছায়াবাজি
৫৪.
মারডালো
৫৫.
বড় সাধ ছিল
৫৬.
খোলকত্তাল
৫৭.
হিরের টুকরো
৫৮.
কোনওদিন শুনেছ, চোর এসে সাধ করে ধরা দিচ্ছে
৫৯.
অধিকার করে অধিকারী হতে হয়
৬০.
কোথায় কী
৬১.
জীবন ও সাহিত্য
৬২.
শামা হর রঙ্গ মেঁ
৬৩.
যা ছিল, একদিন নেই হবে, যা ছিল না,তা একদিন আছে হবে, শেষ হবে না কিছুই
৬৪.
উলটোপাক
৬৫.
যুবক
৬৬.
কাজের সময় কাজি
৬৭.
সকাল সকাল ভোট দিন
৬৮.
শুভানুধ্যায়ী
৬৯.
ছাতা আর গামছার মাল্টিপারপাস ব্যবহার
৭০.
জোকার
৭১.
আসরটা যে করলে মাটি
৭২.
কাঠুরিয়া
৭৩.
মানুষ হয়ে মরতে চাই
৭৪.
উতলা দখিন বাতাসে
৭৫.
ভাঙলে কিছু গড়তে তো হবে
৭৬.
আতঙ্ক
৭৭.
নিগ্রহ
৭৮.
ছুটির সকাল
৭৯.
স্বপ্ন
৮০.
আয় কাটাকাটি করি
৮১.
কলকাতা—৩০০
৮২.
আপনি কার পেশেন্ট
৮৩.
শরৎকাল
৮৪.
পকেটমারি
৮৫.
দুর্বলের সংসার সবলের সন্ন্যাস
৮৬.
আমি ক্ষুদ্র প্রাণ এক
৮৭.
মন পাখিরে কৃষ্ণকথা বল
৮৮.
জন্ম যার কোলে মৃত্যুও তারই কোলে
৮৯.
কেউ যায় বাজারে পচা মাছ কিনতে,কেউ যায় এভারেস্টে উঠতে
৯০.
উঠে বোসো শালগ্রাম
৯১.
এইবার যাই কোথায়!
৯২.
বেঁচে থাকার বিশ্রী ভয়টা আর নেই
৯৩.
এসেছি কেঁদে, যাই যেন হেসে
৯৪.
নির্জনতায় আমরা ভয় পাই, সজনতায় বিরক্ত হই
৯৫.
নদী ডাকে, আয় চলে আয়
৯৬.
কেউ ঘুমোয় কেউ জাগে

নোট নিতে এবং টেক্সট হাইলাইট করতে লগইন করুন

লগইন
০%