শ্রীজিৎ সরকার
ছাদের আলসেতে ঝুঁকে দাঁড়িয়ে ছিল প্রণব৷ নানারকম কথা ভাবছিলও—স্ফিয়ার, শো, হিয়ার বিয়ে, মা, নিজের ভবিষ্যৎ... তার ওপর আজ সকালেই আবার আমেরিকার বঙ্গীয় পরিষদ থেকে চিঠি এসেছে; তাঁরা তাঁদের বার্ষিক অনুষ্ঠানে প্রণবকে চান৷ যাওয়া-আসা, থাকা-খাওয়া, ঘোরাঘুরি— সব খরচ তাঁদের৷ আবার পারিশ্রমিকও ভালো৷
অন্যসময় হলে, প্রণব এই প্রস্তাবে হ্যাঁ-করতে দু-বার ভাবত না৷ কিন্তু এখন ও ওটা নিয়েই ঘন্টার পর ঘন্টা ভেবে চলেছে৷ এক-পা এগিয়ে যাচ্ছে, তো দশ-পা পিছিয়ে আসছে৷ ও তো জানে— বিদেশের মাটিতে দাঁড়িয়ে একটা সফল শো উপহার দিতে পারলে যতটা সুনাম পাওয়া যাবে, সামান্য কোনও ত্রুটি-বিচ্যুতি ঘটে গেলে দুর্নাম হবে তারথেকে অনেক বেশি৷
আর সত্যি বলতে, ঝুঁকি নেওয়ার মতো মনের জোর এখন আর প্রণবের নেই৷ ও ভিতরে-ভিতরে অনেকটা দুমড়ে-মুচড়ে গেছে, ভাঙন ধরে গেছে ওর সেই অটল আত্মবিশ্বাসে৷ অথচ ‘No risk– no gain .’ -কে সম্বল করেই তো আজকের এই সাফল্য এসেছে৷ প্রথম-প্রথম ঝুঁকি নিয়ে মঞ্চে বিপজ্জনক খেলাগুলো না-দেখালে ও জানতে পারত যে, বড়-বড় জাদুকরদের মতো ওর মধ্যেও ওগুলো উপস্থাপন করার ক্ষমতা আছে?
‘স্ফিয়ারটার কথা ভাবছেন?’
হঠাৎ অচেনা গলার আওয়াজ শুনে, প্রণব পিছন ফিরে দাঁড়াল৷ কথাটা অবশ্য ও শুনতে পায়নি৷
মিথিল এসেছে৷
আশ্চর্য হল প্রণব! মিথিল এলই বা কখন, আর ছাদে উঠলই বা কখন? ওর সঙ্গে আর তো কেউ নেই৷
প্রণব অবশ্য প্রশ্নগুলো মনের মধ্যেই রেখে দিল৷ যেন কিছুই হয়নি— এমনভাবে হেসে বলল, ‘আরে মিথিল! তুমি কখন এলে?’
মিথিলও হাসল, ‘এই তো, এইমাত্র এলাম৷ স্ফিয়ারের কথা ভাবছিলেন নাকি দাদা?’
‘স্ফিয়ার’-এর কথাটা মিথিল এত স্বাভাবিক ভাবে বলল, যেন এর আগে ওটা নিয়ে ওর সঙ্গে প্রণবের অনেক আলোচনা হয়ে গেছে৷
প্রণব আরও অবাক হল, ‘তু-তুমি কী করে জানলে?’
মিথিল খুব-একটা বিচলিত হল না৷ শান্ত গলায়, আত্মবিশ্বাসী সুরে বলল, ‘আমি তো সবটাই জানি দাদা৷’
হাত বাড়িয়ে ছাদের আলসেটা শক্ত করে ধরল প্রণব৷ ওর পা-দুটো সম্ভবত কাঁপছে, মাথার ভিতরটা ফাঁকা হয়ে আসছে৷ প্রণব ঢোঁক গিলে, খুব আস্তে-আস্তে ও জিজ্ঞাসা করল, ‘একটা সত্যি কথা বলো তো— কে তুমি?’
‘আমি তো মিথিল৷ ওই নামেই সবাই আমাকে চেনে৷ তবে আমার আরও একটা নাম আছে, সেই নামেও কেউ-কেউ আমাকে চেনে৷ ‘প্রবাহ’৷’
প্রণবের সারা শরীরে যেন একটা শিহরণ খেলে গেল৷
কতদূর থেকে যেন নামটা ভেসে আসছে— ‘প্রবাহ... প্রবাহ...’
দৃশ্যগুলো প্রণব যেন মানসচোখে দেখতে পাচ্ছে৷
একটা বাচ্চা ছেলে ঘুরে বেড়াচ্ছে উঠোন জুড়ে, এর-তার পোশাক ধরে টানাটানি করছে, খিলখিল করে হেসে উঠছে; কেউ এসবে বিরক্ত হচ্ছে, কেউ আবার উপভোগ করছে৷ অনেকে বাচ্চাটাকে কোলে তুলে নিচ্ছে৷ কিন্তু স্বভাবে চঞ্চল বাচ্চাটা কারোর কোলে স্থির হয়ে থাকতে চাইছে না৷ তার মা তাকে ডাকছেন— ‘প্রবাহ, ওদের বিরক্ত কোরো না৷ ওদের মন দিয়ে কাজ করতে দাও৷ এখন ভিতরে যাও প্রবাহ... কথা শুনছ না কেন...’
কিন্তু আজকের এর, আর সেদিনের সেই বাচ্চাটার চেহারায় আকাশ-পাতাল পার্থক্য! অবশ্য সেটা হওয়াই স্বাভাবিক৷ কিছু না-হোক, এর মাঝখানে বাইশ-তেইশ বছর কেটে গেছে৷ পৃথিবী নিজেই তিনশো-ষাট ডিগ্রি বদলে গেছে, তো তার বাসিন্দারাই বা একইরকম থাকবে কীভাবে!
প্রণবের তো বিশ্বাসই হচ্ছে না, এ-ই সেই প্রবাহ! এতদিন পর কোত্থেকে এল এ? প্রণবের খোঁজই বা পেল কীভাবে?
কোনওরকমে প্রণব বলল, ‘তুমি-ই সেই প্রবাহ?’
মিথিল ওরফে প্রবাহ, খুব ধীরে-ধীরে মাথা নাড়ল, ‘হ্যাঁ৷ আমিই সেই প্রবাহ৷’
প্রণবের যেন মনে হল— আচমকাই ও পাঁচ-ছ’বছর পিছিয়ে গেছে৷ তখন ও পথে-পথে ঘুরছে, শিক্ষক বানানোর জন্য একজন জাদু-বিশারদকে খুঁজে চলেছে৷ যেখান থেকে যাঁর খোঁজ পাচ্ছে, ও তাঁর কাছে গিয়েই ভিড়ছে; ছোট-বড় জাদুকর, তান্ত্রিক, কাপালিক— কেউ বাদ যাচ্ছে না৷ কিন্তু যা ও চাইছে, তা কিছুতেই পাচ্ছে না৷
এই করতে-করতেই, ছাইয়ের গাদায় রত্নের মতো হঠাৎ প্রণব খোঁজ পেয়ে গিয়েছিল ‘তাঁর’৷ দেখেই মুগ্ধ হয়ে গিয়েছিল৷ খুব সাধারণ চেহারা— অথচ কী আশ্চর্য উজ্জ্বল দৃষ্টি ছিল তাঁর, কী দৃঢ় কথা ছিল...
এখন প্রণব ‘জাদুকর অঘোরলাল’ সেজে মঞ্চে যেগুলো দেখায়, সে কিন্তু সেগুলো শেখাত না৷ সে শেখাত প্রকৃত জাদু— যে জাদু প্রকৃতির গহীন-গোপন শক্তিকে উন্মোচিত করে, যে জাদু রহস্যময় জগতের সঙ্গে বাস্তবের সেতুবন্ধ রচনা করে, যে জাদু মানুষের সাধারণ শক্তিকে অসাধারণত্বে উন্নীত করে, যে জাদু জীবিত আর মৃতের মধ্যে সংযোগ স্থাপন করে৷ একটা অন্য জগতের দরজা যেন খুলে যাচ্ছিল প্রণবের সামনে— যেখানে সাদা-কালো মিলেমিশে রয়েছে, নিজের জন্য সঠিকটা নিজেকেই খুঁজে নিতে হবে৷
কত ছাত্রছাত্রী মন্ত্রমুগ্ধের মতো সবসময় তাঁকে ঘিরে থাকত৷ সবাই তাঁর কাছ থেকে আরও জানতে চায়, আরও শিখতে চায়৷ সেও সবাইকে যত্ন নিয়ে শেখাত, সন্তানের মতো আগলে রাখত৷ কঠোর হয়ে শাসনও করত, কোমল হয়ে স্নেহও বিলোত৷
বেশ তো এগোচ্ছিল সবকিছু৷ ভুল করতে-করতেই সঠিকটি শেখা হচ্ছিল, অপটুত্ব ধীরে-ধীরে পটুত্বে উন্নীত হচ্ছিল৷
হঠাৎ একটা ঝড়...
প্রণব আশপাশ দেখে নিল একবার৷ তারপর গলাটাকে একেবারে নামিয়ে নিয়ে ও জিজ্ঞাসা করল, ‘তোমার মা কেমন আছেন প্রবাহ? কোথায় থাকেন এখন?’
মিথিল দু-পাশে মাথা নাড়ল, ‘জানি না৷ কদিন আগে জানতে পেরেছিলাম, মা নাকি একটা নিউরো রিসার্চ ইনস্টিটিউটে ভর্তি রয়েছে৷ তারপর আর কোনও খবর নেই৷ অনেক চেষ্টা করেছি আমি৷’
আবার একটা হিসেবে ধাক্কা৷ ধীরে-ধীরে জ্বলে উঠতে থাকা আশার আলোটা আবার নিভে গেল৷ আবার হতাশা গিলে ফেলল প্রণবকে৷ ওর ভাগ্যটাই কি এমনভাবে লেখা হয়েছে?
উত্তেজিত হয়ে জিজ্ঞাসা করল প্রণব, ‘আমি ঠিক বুঝলাম না৷ ‘জানতে পেরেছিলাম’— মানে? এতদিন উনি তোমার সঙ্গে ছিলেন না?’
একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলল মিথিল, ‘নাহ! যে রাতে আপনি ক্রিস্টাল-স্ফিয়ার নিয়ে পালালেন, তার তিনদিন পরেই একটা দুর্ঘটনা ঘটেছিল৷ সেদিন ছিল মঙ্গলবার৷ সকাল থেকে সবকিছু ঠিকঠাকই চলছিল৷ কিন্তু ঠিক দুপুরবেলায় ‘সে’ কেমন উন্মাদ হয়ে উঠল! আপনি তো জানেন— ব্ল্যাক নেক্রোম্যান্সির চর্চা যারা করে, বিশেষ করে যারা ‘ডেথস্লেয়ার’— তারা বিশেষ-বিশেষ তিথিতে এইরকম হয়ে ওঠে৷ নিজের জ্ঞান যতক্ষণ না প্রয়োগ করতে পারছে, ততক্ষণ তারা শান্ত হয় না৷ এইরকম সময়ে তারা সমস্ত বাহ্যজ্ঞান হারিয়ে ফেলে৷’
একটা আশঙ্কা যেন কাঁটার মতো উঁচু হয়ে উঠছে... প্রণব সায় দিল, ‘হ্যাঁ, জানি৷ তারপর কী হল?’
‘মা তাকে অনেকবার বোঝানোর চেষ্টা করেছিল যে, তার ভালর জন্যই এসব করা হয়েছে৷ কিন্তু সে কিছুতেই শুনল না৷ অবশ্য সেটাই স্বাভাবিক৷ এরই মধ্যে একফাঁকে সে মাকে সোলট্রাভেল দিল৷ আর মা সঙ্গে-সঙ্গে পঙ্গু হয়ে পড়ে গেল৷’
প্রণব শিউরে উঠল, ‘কী বলছ প্রবাহ! এতকিছু ঘটে গেল, আর বাকি ছাত্রছাত্রীরা কেউ বাধা দিল না?’
‘তখন তো ভেকেশন চলছিল৷ সবাই যে-যার বাড়ি ফিরে গিয়েছিল৷ এসবেরই মধ্যে দিদি খুব কষ্ট করে আমাকে নিয়ে পালাতে পেরেছিল৷ সে অবশ্য দিদিকেও আক্রমণ করেছিল৷ যাইহোক, এতদিন আমরা নিজেদের লুকিয়ে রাখতে পেরেছিলাম৷ কিন্তু এবার মনে হয় আর পারব না৷’
মিথিল মুখ নিচু করে বলল, ‘জানি, সেদিন আমরা স্বার্থপরের মতো কাজ করেছিলাম৷ কিন্তু ওই পরিস্থিতিতে আর কী-ই বা করতাম? ভেবেছিলাম, এখন পালিয়ে যাই৷ পরে ফিরে এসে মায়ের ওপর থেকে সোলট্রাভেলের প্রভাব কাটিয়ে নেব৷ কিন্তু মাকে তো আর খুঁজেই পেলাম না৷’
প্রণব বলল, ‘তোমার দিদিও তো নেক্রোম্যান্সি কিছু-কিছু জানত!’
সায় দিল মিথিল, ‘হ্যাঁ৷ অনেকটাই জানত৷ আমাকেও অল্প-অল্প কিছু
শিখিয়েছিল৷ সেসব প্রয়োগ করেই তো আমরা এতদিন লুকিয়ে ছিলাম৷ কিন্তু তার শক্তির পাশে এসব কিচ্ছু না৷ এখন তো সে আরও-আরও শক্তিশালী হয়ে উঠেছে৷ কী করব, কীভাবে বাঁচব— কিচ্ছু জানি না৷ সে তো জেনে গেছে যে, আপনিই তার ক্রিস্টাল-স্ফিয়ার নিয়ে পালিয়েছেন৷ আপনিই তাকে শক্তিশালী হতে বাধা দিয়েছেন৷ তাই সে আপনার পিছনে পড়ে আছে৷ এখন তার ওই স্ফিয়ারের আর কোনও দরকার নেই৷ কিন্তু সে প্রতিশোধ নেবে৷ নেবেই৷’
এবার যেন প্রণবের হিসেবগুলো সব একে-একে মিলে যাচ্ছে৷ তাহলে সেদিন রাতের সেই কন্ঠস্বর ও চিনতে ভুল করেনি৷
কিন্তু এই মুহুর্তে সবচেয়ে প্রয়োজন মুক্তির পথ... সেটা কি আদৌ কি আছে? পালিয়ে-পালিয়ে বেড়ানোটা কতদিনের জন্য সম্ভব? তাছাড়া পালানোটা একটা সাময়িক ব্যবস্থা হতে পারে; স্থায়ী সমাধান তো নয়৷
মিথিল বলল, ‘সে এখন তার পূর্ণ শক্তি অর্জন করে ফেলেছে৷ আমরা কেউ তাকে আর আটকাতে পারব না৷ ক্ষমা সে করবে না৷ এবার সে শুধু প্রতিশোধ নেবে৷’
প্রণবের মাথার মধ্যে সব যেন তালগোল পাকিয়ে উঠছে৷ আর কিছু ভাবতে পারছে না ও৷ কতদূরে এসব কিছু ফেলে এসেছিল একদিন, যতটা সম্ভব ভুলে যেতে চেষ্টা করেছিল এই-সংক্রান্ত সবকিছু৷ আর আজ সেই অতীতই অলক্ষ্যে অজগরের মতো গিলে ফেলছে প্রণবের বর্তমান! শুধু ছটফট করা আর মুক্তিলাভের নিষ্ফল প্রার্থনা করা ছাড়া প্রণবের আর কিছুই করার নেই?
অসহায়ের মতো প্রণব শুধু জিজ্ঞাসা করল, ‘তাহলে?’
দু-পাশে মাথা নাড়ল মিথিল, ‘জানি না৷ আমি আর দিদি ক্রমাগত ভেবে চলেছি৷ কিচ্ছু মাথায় আসছে না৷ মা— একমাত্র হয়তো মা-ই পারত কিছু করতে৷ কিন্তু মা এখন আদৌ বেঁচে আছে কিনা তাই বলতে পারব না...’
শেষের দিকে মিথিলের গলা ধরে এল৷
প্রণব নিজেকে ভিতরে-ভিতরে শক্ত করার চেষ্টা করল৷ তারপর ও প্রবাহর কাছে এগিয়ে এসে, ওর কাঁধে হাত রেখে বলল, ‘এত ভেঙে পড়লে হবে? চলো, একবার নাহয় নেক্রোম্যান্সি দিয়েই তোমার মাকে খুঁজে বের করার চেষ্টা করি৷’
মিথিল বিষণ্ণ হাসল, ‘কী করে খুঁজবেন দাদা? ওই স্ফিয়ারের সাহায্যে?’
‘হ্যাঁ৷’
‘এখনও বোঝেননি আপনি, ওটা একটা চাল?’
প্রণবের হাতটা আলগা হয়ে গেল৷
প্রণব কিছুটা বুঝেছিল যে, স্ফিয়ারটা অস্বাভাবিক৷ কিন্তু ওর ধারণা ছিল, এই বাড়িতে আসার পর জিনিসটা নিজের ‘অস্বাভাবিকত্ব’ অর্জন করেছে৷ বা হয়তো প্রণবই ওটাকে ঠিকঠাক চালনা করতে পারছে না৷
কিন্তু ওটা যে সুপরিকল্পিত— সেটা প্রণবের মাথাতেই আসেনি৷ তবে এখন মনে হচ্ছে, দোকানের ব্যাপারটা দেখেই ওর জিনিসটা বোঝা উচিত ছিল৷
প্রণবের সামনের সমস্ত দরজাগুলো যেন এক-এক করে বন্ধ হয়ে যাচ্ছে৷
‘এবার তাহলে কী হবে প্রবাহ? ওটাকে তো আমি ঘাড় থেকে নামাতেও পারছি না...’
‘জানি না দাদা৷ এক হিসাবে ওটা তো ‘শয়তানের উপহার’৷ অভিশপ্ত জিনিস৷ আর আপনি নিজে যেচে ওটাকে ঘরে এনেছেন৷ এখন তো এভাবে ফেলতেও পারবেন না৷ আমি চেষ্টা করেছিলাম আপনাকে তখন বাধা দিতে৷ পারিনি৷’
প্রণব অবাক হল, ‘তুমি আমাকে বাধা দিতে চেষ্টা করেছিলে? কখন?’
মিথিল কোনও কথা বলল না৷ চুপচাপ একটা জিনিস প্রণবের দিকে এগিয়ে দিল৷
জিনিসটা একটা ওয়ালেট; যেটা সেদিন প্রণবের থেকে পকেটমারি হয়ে গিয়েছিল৷ অন্তত প্রণব তো তেমনই ভেবেছিল৷
প্রণব ওয়ালেটটা ফেরত নিতে-নিতে বলল, ‘এটা তুমি করেছিলে?’
‘হ্যাঁ৷ ভেবেছিলাম, হয়তো দোকানে ঢোকার আগেই ব্যাপারটা আপনি টের পেয়ে যাবেন৷ তখন বাড়ি ফিরে আসবেন৷ তারপর আপনাকে আটকানোর অন্য আরেকটা ব্যবস্থা করা যাবে৷ কিন্তু সব হিসেব তো অন্যরকম হয়ে গেল!’
‘তুমি তো আগেই আমাকে এসে এসব বলতে পারতে প্রবাহ৷’
‘আসলে আমি আড়ালেই থাকতে চাইছিলাম৷ ভাবছিলাম, আড়ালে থেকেই যা করার করব৷ কিন্তু জল এখন মাথার ওপর দিয়ে যাচ্ছে৷ আড়ালে থাকা আর না-থাকা— দুটোই এখন সমান৷’
প্রণবের জগৎ যেন অন্ধকার আর শূন্য হয়ে আসছে৷ সেখানে শুধু ও রয়েছে, আর রয়েছে সেই আশ্চর্য গোলক৷ চক্রবূহ্যে ঢুকে পড়েছে ও, যেখান থেকে বের হওয়ার রাস্তাটা ওর অজানা৷ কেবল অভিমন্যুর মতো পথ হাতড়ে চলেছে— যদি পাওয়া যায়... যদি পাওয়া যায়...
ওকে ঘিরে এতকিছু কবে গড়ে উঠল? ও তো কিছুই টের পেল না!
ছাদের ঠিক পাশে যে কালোজামগাছটা, তার ডাল থেকে একটা দাঁড়কাক উড়ে চলে গেল৷
প্রণব বলল, ‘নীচে চলো প্রবাহ... স্যরি— নীচে চলো মিথিল৷ ঘরে গিয়ে কথা বলি৷’
নোট নিতে এবং টেক্সট হাইলাইট করতে লগইন করুন
লগইন