দুর্ঘটনার পরে

শ্রীজিৎ সরকার

কেউ কোনও কেস করল না— এটা আশ্চর্য না?

পুলিশ স্বতঃপ্রণোদিত মামলা রুজু করল না— এটা আরও আশ্চর্য না?

কেউ ক্ষতিপূরণের দাবি নিয়ে এসে দাঁড়াল না— এটা সবচেয়ে বেশি আশ্চর্যজনক না?

কেমন পুলিশ শরীর নিয়ে চলে গেল, পোস্টমর্টেম হল, শব বাড়ির লোকের হাতে তুলে দেওয়া হল, তারা চুপচাপ সৎকার সেরে ফেলল৷ কোথাও এতটুকু গোলমাল বা ঝামেলা হল না৷

প্রণব, যাকে সবাই চেনে ‘জাদুকর অঘোরলাল’ নামে— সে এখন চুপচাপ নিজের ঘরে শুয়ে-শুয়ে এসব ভাবছে৷

ঘরে একটা মৃদু সবুজ আলো জ্বলছে৷ পাশের আরেকটা খাটে শুয়ে আছে সলিল— প্রণবের সেক্রেটারি৷ কোথাও গেলে প্রণব ওকে নিজের ঘরেই শুতে নেয়৷ কখন কী অসুবিধা হয় তো বলা যায় না! সলিল যেমন বুদ্ধিমান, তেমনই বিশ্বাসী৷ এমন অনেক জাদু আছে যেগুলোর আসল কলা-কৌশল প্রণব ছাড়া একমাত্র সলিলই জানে৷ দলের বাকিদের যেটুকু করতে বলা হয়, অনেকসময়েই তারা আগু-পিছু কিছু না জেনে শুধু সেটুকুই করে৷

গত দু-বছর ধরে প্রণব এই খেলাটা মঞ্চে দেখিয়ে আসছে৷ অভ্যাস তো করছে তারও অন্তত বছর-দুয়েক আগের থেকে৷ কোনওদিন কোনও বিপদ ঘটেনি৷

আর আজ এইরকম একটা বিপদ ঘটল?

ঘটল তো ঘটল; সেটা আবার এত সহজে মিটেও গেল?

অবশ্য সাংবাদিকেরা আর কবেই বা কাদাজল সহজে থিতিয়ে যেতে দিয়েছে! তারা ব্যাপারটা নিয়ে যতটা সম্ভব জলঘোলা করেই চলেছে৷ আর সেইসঙ্গে পাল্লা দিয়ে কর্দমাক্ত হয়ে উঠছে প্রণবের কেরিয়ার— আরও... আরও...

সেদিন ঘটনার আকস্মিকতায় প্রণব একদম ভ্যাবাচ্যাকা খেয়ে গিয়েছিল৷ তবে মঞ্চ ছেড়ে নামতে-নামতেই যেন টের পাচ্ছিল, মেয়েটি আর বেঁচে নেই৷ তবুও হাসপাতাল, ডাক্তার— ওই পরিস্থিতিতে দাঁড়িয়ে যা-যা করার, সবই করেছিল৷

উহ! কীরকম পিচকারির ধারার মতো রক্ত ছিটকে উঠেছিল, ফাঁক দিয়ে পেটের ভিতরের সবকিছু উঁকি মারছিল... কথাগুলো ভাবলে যেন এখনও প্রণবের বিশ্ব-সংসার দুলে উঠছে৷ যদি সব দাগ মুছেও যায়, তবু ওই পোশাকটা প্রণব আর কোনওদিন পরতে পারবে না৷ ভাগ্যিস অতিরিক্ত তিন-চার সেট পোশাক তৈরি করানো আছে৷

তবে এরপরও তো আশ্চর্য হওয়ার আরও কিছু বাকি ছিল৷

টেবিলের শেষ অর্ধাংশে যে মেয়েটির থাকার কথা ছিল, তাকে পাওয়া গিয়েছিল তারই নিজের ঘরে; ঘুমন্ত অবস্থায়৷

অথচ ব্যাক-স্টেজের দায়িত্বে যারা ছিল, তারা সমানে বলছে— তারা মেয়েটাকে টেবিলে ঢুকিয়েছিল৷ মেয়েটি নিজেও এই একই কথা বলছে৷ কিন্তু তারপর সে কীভাবে টেবিল থেকে বেরিয়ে গেল, কীভাবে নিজের ঘরে ফিরে গিয়ে ঘুমিয়ে পড়ল— এসব কেউ জানে না৷

এরা সবাই প্রণবের দলে প্রায় প্রথম থেকেই আছে৷ যদি ধরেও নেওয়া হয়, এরা মিথ্যে বলছে; তবুও তো একটা সন্দেহ থাকছে৷

যে মেয়েটা মারা গেল— সে নিজের পা-দুটো টেবিলের ভিতরের নির্দিষ্ট খাঁজে না-ঢুকিয়ে, সোজা বিছিয়ে দিয়েছিল কেন? সে তো এই খেলা

দেখানোয় রীতিমতো অভিজ্ঞ৷

ও কি তাহলে মরতে চেয়েছিল? কিন্তু তারজন্য তো বিষ আছে, রেললাইন আছে, আরও অন্তত ডজনখানেক উপায় আছে... অত কষ্ট পেয়ে কি কেউ মরতে চায়?

ওই দুর্ঘটনা, এতগুলো ধাঁধা— সব মিলে যেন ছিঁড়ে-খুঁড়ে খাচ্ছে প্রণবের জীবনটা৷ আইনি ঝামেলায় না-পড়ার জন্য আনন্দ পাবে নাকি আরও বড় কিছুর জন্য প্রস্তুত হবে— ও বুঝতে পারছে না৷

‘আপনি এখনও ঘুমোননি স্যার?’

প্রণব তাকিয়ে দেখল, সলিল নিজের বিছানায় উঠে বসেছে৷

প্রণব ভেবেছিল সলিল হয়তো ঘুমিয়ে পড়েছে৷ তাই নিজেও চুপচাপ শুয়ে ছিল৷ এখন ওকে জেগে থাকতে দেখে ও নিজেও উঠে বসল৷ আস্তে-আস্তে বলল, ‘না সলিল৷ ঘুম আসছে না৷’

সলিল মুখ নিচু করল, ‘জানি স্যার, এই অবস্থায় কারোরই ঘুম আসে না৷ তবুও বলব— ঘুমানোর চেষ্টা করুন স্যার৷’

প্রণব বিষণ্ণ হাসল, ‘চেষ্টা করলেই কি সব পাওয়া যায় সলিল?’

কথাটা বলল বটে; তবে প্রণবের নিজের কানেই সামান্য বেমানান শোনাল৷

আজ তো শুধু নিজের চেষ্টায় প্রণব এই জায়গায় পৌঁছিয়েছে৷ শুরু তো করেছিল গ্রামে-গ্রামে ঘুরে খেলা দেখিয়ে৷ তখন আজকের মতো এতকিছু জানতও না, আর এতসব সরঞ্জামও ছিল না৷ একদিকে একটা কিছু পেট চালানোর মতো কাজ, আর অন্যদিকে ম্যাজিক— দুটোকে একসঙ্গে চালিয়ে যাওয়ার জন্য তখন ও প্রাণপণ পরিশ্রম করেছে৷ দিনের পর দিন৷ দুটো পয়সা সাশ্রয়ের জন্য কত দুপুর, কত রাত শুধু ছাতু-মুড়ি খেয়ে কাটিয়ে দিয়েছে৷

তারপর কিছু সঞ্চয় হওয়ার পর ম্যাজিক নিয়ে পড়াশোনা করা,

এখান-ওখান থেকে টুকটাক খেলা শেখা, ফাঁকে-ফোঁকে সুযোগ পেলে কোনও নামী জাদুকরের সাগরেদি করা, সাধ্যমতো একটা-দুটো করে জিনিস কেনা, এক দু-জন সহকারী জোগাড় করা, ঝুঁকি নিয়ে জীবনের প্রথম খেলাটা দেখানোর জন্য ছোটোখাট মঞ্চ ভাড়া নেওয়া...

এই স্বপ্নের উত্থানকে বাস্তব করার জন্য যে কত রাত প্রণব না-ঘুমিয়ে কাটিয়েছে, তার কোনও হিসাব নেই৷ পকেটে তেমন পয়সা ছিল না, পিছন থেকে ব্যাক-আপ দেওয়ার মতো মানুষও ছিল না৷ শুধু দু-চোখ ভর্তি স্বপ্ন ছিল৷

তবে প্রণবের সুন্দর চেহারা, আকর্ষণীয় কথা বলার স্টাইল আর গলার আওয়াজ ওকে একটা বাড়তি সুবিধা অবশ্যই দিয়েছিল৷ ওগুলোই তো প্রাথমিকভাবে মানুষকে আকর্ষণ করত৷ তারপর তারা ডুবে যেত ওর দুর্দান্ত সব কলা-কৌশল আর উপস্থাপনার মধ্যে৷

রাতে শুয়ে-শুয়েও তো প্রণব এগুলোই ভেবে চলত—কেমন করে হাতসাফাই আরও নিখুঁত করা যায়, কেমন করে চিরাচরিত খেলাগুলোতে অভিনবত্ব আনা যায়, কেমন করে সূক্ষ্মতার সঙ্গে মনোরঞ্জনকে মিশিয়ে দেওয়া যায়...

শরীর ঘুম চাইলেও প্রণবের ঘুম আসত না৷ এপাশ-ওপাশ করতে-করতে চিন্তার মধ্যে দিয়েই অর্ধেক রাত কাটিয়ে দিত৷

কিন্তু সেই জাগা আর এই জাগার মধ্যে কত পার্থক্য!

প্রণব বলল, ‘তোমার মনে হয় না সলিল, এই যে ওর বাড়ির লোক কোনও কেস-টেস করল না— এটা খুব অস্বাভাবিক?’

সলিল কিছুক্ষণ ভাবল৷ তারপর দু-পাশে মাথা নেড়ে বলল, ‘না স্যার৷ হয়তো খুব অস্বাভাবিক না৷ যতদূর জানি, ওরা গরীব মানুষ৷ হয়তো ভেবেছে, এত টাকা-পয়সার ব্যাপার, কোর্টকেস মানে ঝামেলাও... এসব ওদের পক্ষে সামলানো সম্ভব হবে না৷ যা যাওয়ার তা তো গেছেই৷ কেস করলে তো আর ওদের মেয়ে ফিরে আসবে না৷’

এই কথাগুলো যে প্রণবের মনেও একবারের জন্যও আসেনি— এমন নয়৷ যুক্তিতে জোরও আছে৷ তবুও মনের মধ্যে কী যেন একটা কাঁটার মতো খচখচ করেই চলেছে...

সলিল প্রসঙ্গ বদলানোর জন্য জিজ্ঞাসা করল, ‘স্যার, একটা কথা বলছিলাম৷ এখন এখানেই থাকবেন, নাকি এবার অন্য কোথাও উঠে যাবেন?’

প্রণব জিজ্ঞাসা করল, ‘অর্গানাইজাররা কী বলছে?’

সলিল একটু ভেবে বলল, ‘ওরা তো তেমন কিছু বলছে না৷ বরং জিজ্ঞাসা করছে, আবার কবে থেকে খেলা দেখানো হবে৷ অনেকে নাকি টিকিটের খোঁজ করছে৷ মানুষ আসলে প্রথমদিন ভাঙচুর-টুর যা করার করেছিল৷ এখন সব আবার শান্ত৷ আর আমরা তো বলেইছি স্যার, সমস্ত

ক্ষতিপূরণ দিয়ে দেব৷ আর সত্যি বলতে, প্রথমদিকে ভিড় তো খারাপ হয়নি৷ তখন যথেষ্ট প্রফিট...’

সলিল আরও কীসব বলে চলেছে৷ সব যেন প্রণবের মাথার ওপর দিয়ে চলে যাচ্ছে৷

প্রণব খানিকটা নিজের মনেই বলল, ‘একটা কথা ভাবছিলাম সলিল৷’

সলিল নিজের কথা থামিয়ে জিজ্ঞাসা করল, ‘কী কথা স্যার?’

প্রণব একটু ইতস্ততঃ করে বলল, ‘ভাবছি, আপাতত এখানেই থাকি৷ আর... আর মানে, ওই খেলাটা আপাতত ক-দিন বন্ধ রাখি৷’

সলিল বুঝতে পারল৷ তবুও একবার নিশ্চিত হওয়ার জন্য বলল, ‘কোন খেলাটা স্যার? ‘দ্বিখন্ডিতা নারী’?’

প্রণব মুখে কিছু বলল না৷ শুধু মাথা নেড়ে সায় দিল৷

সলিল আবার কিছুক্ষণ চুপচাপ থাকল৷ তারপর একবার ঢোঁক গিলে বলল, ‘কিন্তু স্যার, ওটাই তো আমাদের সবচেয়ে ফেমাস আইটেম৷ ওটা না-থাকলে শোয়ের চার্ম কমে যাবে না? তার ওপর টাইম কভার করারও একটা ব্যাপার আছে৷’

যুক্তিটা ভালো৷

কিন্তু অনেকগুলো প্রতিযুক্তিও আছে৷ এই ঘটনার পর দলের আর কোনও মেয়ে কি ওই খেলায় অংশগ্রহণ করতে রাজি হবে? আর যদি কেউ রাজিও হয়, প্রণব কি আর আগের মতো সাবলীলভাবে ওটা

দেখাতে পারবে?

অথচ গোটা ম্যাজিক শো যদি একটা মুকুট হয়, তবে ওই ‘দ্বিখন্ডিতা নারী’ খেলাটা সেই মুকুটের কোহিনূর৷

প্রণব কিছুক্ষণ ভাবনা-চিন্তা করে বলল, ‘আমি তো বলছি না যে, একেবারের মতো বন্ধ করে দেব৷ বলেছি— আপাতত কয়েকদিন বন্ধ রাখব৷ আসলে এই ট্রমাটা কাটিয়ে উঠতে আমার এখন কিছুদিন লাগবে৷ এই অবস্থায় দেখাতে গেলে বরং পারফরমেন্স ভালো হবে না৷ আর টাইম কভারের জন্য চিন্তা কোরো না৷ আমি অন্য আইটেম নিয়ে আসব৷ দর্শকের কোনও লস হবে না৷’

হাজার হোক, প্রণবই দলের সর্বেসর্বা৷ অভিজ্ঞতা আর বুদ্ধিও ওর কম না৷ সলিল আর তাই নতুন কোনও যুক্তি-প্রতিযুক্তিতে গেল না৷ মাথা নেড়ে সায় দিল৷

প্রণব চুপচাপ বসে আছে৷ চিন্তার চোটে ওর চোখের পাতাগুলো পর্যন্ত ঠিকঠাক পড়ছে না৷ মুখ থমথমে৷

সলিল বুঝতে পারল, এখন প্রণবের সঙ্গে কথা বলতে যাওয়া বৃথা৷ ও মৃদু গলায় একবার ‘গুড নাইট’ বলে, শুয়ে পড়ল৷ তবে ওরও আজ ঘুম আসবে কিনা সন্দেহ৷

খাটের পাশে একটা জানালা রয়েছে৷ প্রণব আস্তে-আস্তে সেটার পাশে গিয়ে বসল৷ পর্দা সরিয়ে ফেলে, কাচে মুখ ঠেকিয়ে বাইরেটা দেখতে লাগল৷

আজ প্রকৃতি যেন আশ্চর্যরকম অন্ধকার! গাছের পাতাগুলো যেন নড়তে ভুলে গেছে৷ ল্যাম্পপোস্টগুলো দাঁড়িয়ে আছে চুপচাপ৷ আকাশটাও অদ্ভুত একরকম ধোঁয়া-ধোঁয়া মেঘে ঢেকে রয়েছে৷

রহস্যের মতো অন্ধকারেরও বোধহয় একটা নেশা আছে৷ চাইলেও চোখ সরিয়ে নেওয়া যায় না৷ ইচ্ছা হলেও মন থেকে মুছে ফেলা যায় না৷ আশঙ্কা আর ভয়ে মন উদ্বেল হয়ে ওঠে; তবু চুম্বকের মতো একটা আমোঘ টান ক্রমাগত আকর্ষণ করতেই থাকে... করতেই থাকে...

হঠাৎ প্রণবের দু-চোখ ঘুমে জড়িয়ে এল৷

সকল অধ্যায়
১.
ম্যাজিক শো থেকে শুরু...
২.
সকালের হেডলাইন
৩.
দুর্ঘটনার পরে
৪.
‘সে’ আছে আড়ালে
৫.
রাত এবং উপহার
৬.
আবার রহস্যময় অঘটন
৭.
নিঝুম দুপুরের আগন্তুক
৮.
একটি প্রশ্নোত্তর পর্ব
৯.
শান্তির স্নান
১০.
কেমন আছে অনুরাধা?
১১.
নতুন দিনের প্রস্তুতি
১২.
স্বাগত আমার ঘরে
১৩.
আবার ম্যাজিক-শো
১৪.
বুবাই কোথায়
১৫.
আবার বাড়িতে ফেরা
১৬.
আয়না, ওয়াইন, পুতুল এবং...
১৭.
বিভীষিকাময় রাত
১৮.
কোকিল মানে বসন্ত; কোকিল মানে...
১৯.
আরেকটি ‘কেন’
২০.
সাফারি টাইম
২১.
ক্রিস্টাল-ক্লিয়ার ক্রিস্টাল বল শপ
২২.
ত্রুটি সংশোধন
২৩.
নখ কেন কালো
২৪.
স্বচ্ছ স্ফটিক; ঘোলা স্ফটিক
২৫.
ঢাকা থাক, থাক ঢাকা...
২৬.
বেড়ানোর ছবি
২৭.
বহুদিন পর; আবার!
২৮.
নিষ্ফলতার আক্রোশ
২৯.
একটুর জন্য...!
৩০.
অ-সাক্ষাৎ এবং সাক্ষাৎ
৩১.
‘সে’ ছিল, ‘সে’ আছে...
৩২.
একটা অন্যরকম রবিবার
৩৩.
প্রচেষ্টা এবং অভিজ্ঞতা
৩৪.
অন্তিম প্রস্তুতি
৩৫.
দৃশ্য এবং অদৃশ্য
৩৬.
কোন সে সুদূর অতীত হতে...
৩৭.
রইল বাকি এক
৩৮.
জানা এবং অজানা
৩৯.
সময় এসেছে কাছে
৪০.
ইট’স ফাইন
৪১.
ঘন হয়ে উঠেছে অন্ধকার
৪২.
শব্দটীকা
৪৩.
সহায়ক গ্রন্থপঞ্জী

নোট নিতে এবং টেক্সট হাইলাইট করতে লগইন করুন

লগইন
০%