সকালের হেডলাইন

শ্রীজিৎ সরকার

মানুষ ভাগ করার খেলা দেখাতে গিয়ে হত এক সহকারিণী!

প্রধান জাদুকরের দিকেই সন্দেহের নিশানা

নিজস্ব সংবাদদাতা: গতকাল রাতে, উত্তর কলকাতার এক অভিজাত অডিটোরিয়ামে মৃত্যু ঘটল এক ম্যাজিক-দলের কর্মীর৷ সূত্রের খবর, ‘দ্বিখন্ডিতা নারী’ খেলাটি দেখাতে গিয়ে এই দুর্ঘটনাটি ঘটেছে৷ প্রত্যক্ষদর্শীদের বিবরণ অনুযায়ী জাদুকর করাতটি মেয়েটির শরীরে ছোঁয়ানো মাত্রই সে চিৎকার করে ওঠে এবং সকলের চোখের সামনেই রক্ত বেরিয়ে আসে৷ এবং কিছু সময়ের মধ্যে মেয়েটির ওই টেবিলেই মৃত্যু হয়৷ এরপর শো স্থগিত রাখা হয়৷ উত্তেজিত জনতা অডিটোরিয়াম ভাঙচুর করে৷ পুলিশের তরফ থেকে জানানো হয়েছে, তাঁরা মৃতার পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করছেন৷ তাদের পক্ষ থেকে সঠিক তদন্তের আশ্বাসও দেওয়া হয়েছে৷ আপাতত অনির্দিষ্টকালের জন্য শো বন্ধ রাখা হয়েছে৷ অভিযোগ এবং গাফিলতির তির জাদুকরের দিকে উঠলেও

সূত্রের খবর অনুযায়ী এখনও তাকে গ্রেফতার করা হয়নি৷

______________

খবরটা পড়তে-পড়তে মনটা কেমন যেন কেঁপে উঠল রণজয়ের৷ এই জ্যান্ত মানুষকে কেটে দু-ভাগ করে দেওয়া, তারপর আবার জোড়া লাগিয়ে দেওয়া— এই খেলা তো কবের থেকে দেখানো হয়ে আসছে৷ পি সি সরকার সিনিয়র তো বি বি সি চ্যানেলে এই খেলা দেখিয়েই পৃথিবী-জুড়ে হইচই ফেলে দিয়েছিলেন৷ তারপরও কত জাদুকর এই জিনিস দেখাল... কিন্তু এরকম খবর তো কখনও শোনা যায়নি৷ অন্তত রণজয় তো কখনও শোনেনি৷

স্মিতা এতক্ষণ রান্নাঘরে ছিল৷ জলখাবারের তদারকি করছিল, দুপুরের মেনু ঠিক করছিল৷ ততক্ষণে দার্জিলিঙের লম্বা-লম্বা চা-পাতারাও ঈষদুষ্ণ গরমজলে আরাম করে নিজেদের নির্যাস ছাড়ছিল৷ তদারকি, মেনু-সিলেকশন, লিকার প্রস্তুতি, একটু ব্যস্ততা অবশেষে সব কাজ একসঙ্গে শেষ হয়েছে৷

চায়ের কাপ নিয়ে এসে স্মিতা রণজয়ের পাশে বসল৷ গলা বাড়িয়ে আলগোছে কাগজে একবার চোখ চালিয়ে নিয়ে বলল—

‘ওহ! এই খবরটা পড়ছ? কাল রাত থেকেই তো ফেসবুকে ঘুরছে৷ ভাইরাল হয়ে গেছে৷ নিউজ চ্যানেলেও দেখাচ্ছিল৷ অবশ্য ভাইরাল হওয়ার মতোই ব্যাপার৷’

এমনিতে রণজয়ের রোজ সকালে খুঁটিয়ে-খুঁটিয়ে কাগজ পড়ার অভ্যাস৷ কিন্তু আজ ও সেই অভ্যাসে বিরতি দিল৷ কাগজটা ভাঁজ করে টেবিলে রেখে দিল৷

একটা তরতাজা মেয়ের জীবন এইভাবে শেষ হয়ে গেল— কথাটা ভাবতেই যেন এমন সুন্দর সকালটা তেতো হয়ে যাচ্ছে৷

রণজয় প্রসঙ্গ বদলানোর জন্য বলল, ‘বুবাইকে পড়াতে এসেছে?’

‘হ্যাঁ৷ রিমা তো রোজই ঠিকঠাক টাইমে চলে আসে৷ তোমার ছেলেরই আর আলস্য ভাঙতে চায় না৷ টু লেজি! আমি তো এই রিমাকে চা দিয়ে আসলাম৷’

স্মিতা এক-চুমুক চা খেয়ে বলল, ‘দেশে এত জায়গা থাকতে, বেছে-বেছে ইনসিডেন্টটা ঠিক আমাদের এখানেই ঘটতে হল৷’

কথাটা সত্যি৷ জাদুকর তাঁর দলবলসহ এখানে তাঁবু গেঁড়েছেন দিন-দশেক হল৷ এখনও নাকি কুড়িদিন থাকার কথা— মানে প্রচারের গাড়ি আর দেওয়ালে-দেওয়ালে সাঁটা পোস্টার তো তাই বলছে৷

রণজয় আর স্মিতা তো পরিকল্পনা করেছিল, কোনও একটা সুবিধামতো উইকএন্ড দেখে বুবাইকে নিয়ে ম্যাজিক শো দেখে আসবে৷ আজকাল ম্যাজিক আর সার্কাস দেখানো ভীষণ কমে গেছে৷ অথচ ওই মাথামোটাদের টি ভি শোগুলোর থেকে এগুলো অনেক-অনেক ভালো৷ তাই দেখার সুযোগ পেলে আর ছাড়তে ইচ্ছা করে না৷

রণজয় হেসে বলল, ‘এরকমভাবে বলছ কেন? এরকমও তো বলা যায় দেশে এত জায়গা থাকতে, আমরা ঠিক সেই জায়গাতেই থাকি—

যেখানে ইনসিডেন্টটা ঘটল৷’

স্মিতা তর্কে হারার পাত্রী না৷ ও বলল, ‘কেন এইরকম ভাবব? আমরা এখানে আগে থেকে বসবাস করছি, নাকি ইনসিডেন্টটা আগে ঘটেছে — বলো? আনসার মি...’

স্মিতার চোখে-মুখে উত্তেজনা ফুটে উঠছে৷ মনে হচ্ছে, ও বোধহয় কোনও ডিবেটে অংশগ্রহণ করেছে৷ একটা কলেজ ছাত্রীর চাপল্য প্রকাশ পাচ্ছে ওর চেহারায়৷

এগুলো দেখতে খুব মজা লাগে রণজয়ের৷ এত বয়স হয়ে গেল, একটা ছেলে হয়ে গেল; তবু স্মিতার মধ্যে থেকে ছেলেমানুষি ব্যাপারটা আর গেল না৷

আবার এই স্মিতা-ই মাঝেমধ্যে কেমন অচেনা হয়ে যায়!

আজ অবশ্য বিষয়টা তেমন গুরুতর কিছু না৷ তাই স্মিতা সহজেই নিজের উত্তেজনা নিয়ন্ত্রণ করে ফেলল৷ প্রসঙ্গ বদলে জিজ্ঞাসা করল, ‘তুমি টিকিটটা কেটেছ রণজয়?’

রণজয় দু-পাশে মাথা নেড়ে বলল, ‘না গো৷ আজ কাটব৷’

সামনের মাসেই রণজয় আর স্মিতার বিবাহবার্ষিকী৷ প্রতিবছর ওরা ওইদিন কোথাও না-কোথাও বেড়াতে যায়৷ ছেলে হওয়ার পরেও এই নিয়মের ব্যতিক্রম হয়নি৷

এবারের গন্তব্য উত্তরাখন্ডের জিম করবেট ন্যাশনাল পার্ক, সঙ্গে শুধু রাণীখেত আর নৈনিতাল৷ দিল্লি হয়ে যাবে, দিল্লি হয়েই ফিরবে৷ আসার সময় একটা দিন দিল্লির জন্য রাখা৷

চা খাওয়া শেষ৷ আপাতত হাতে কিছুক্ষণ সময় আছে৷ একটু আগে করা প্রতিজ্ঞা ভেঙে রণজয় আবার ফিরে গেছে কাগজে৷ একমনে খেলার

খবর পড়ছে৷

স্মিতা কাপ-প্লেট গুটিয়ে উঠে গেল৷ একটু পরে ছেলে স্কুলে যাবে, স্বামী অফিসে যাবে৷ ওর এখন এখানে বসে-বসে গল্প করার সময় নেই৷ অবশ্য কাজের লোক আছে৷ তবু স্মিতা তাদেরকে বড় একটা ভরসা করতে পারে না৷

রান্নাঘরে এসে স্মিতা দেখল, দৃশা এরই মধ্যে সবজি কাটতে আরম্ভ করেছে৷ দৃশা এই বাড়িতে কাজে এসেছে মাস-তিনেক হল৷ মেয়েটার একটা ইতিহাস আছে— খুব দুঃখজনক আর যন্ত্রণাদায়ক ইতিহাস৷ সুন্দর, ফুটফুটে মেয়েটাকে কেউ একজন অ্যাসিড ছুঁড়েছিল৷ ভাগ্য ভালো বলতে হয়; ওর পুরো মুখে জিনিসটা লাগেনি৷ তবুও যেটুকু লেগেছিল, তাতেই আধখানা মুখ ঝলসে বিকৃত হয়ে গেছে৷

সবসময় দৃশা মুখের সেই আধখানা অংশ ওড়না দিয়ে ঢেকে রাখে৷

প্রথমদিকে একদিন রণজয় আড়ালে নিখাদ মজা করেই বলেছিল, ‘পুরো ‘সত্যম শিবম সুন্দরম’ -এর জিনাত আমান...’

শুনে স্মিতার মুখটা ভীষণ হিংস্র হয়ে উঠেছিল৷ ও বোধহয় তখন একটা জামায় বোতাম বসাচ্ছিল৷ এক-টানে সেটাকে ছুঁড়ে ফেলে দিয়েছিল৷ তারপর রণজয়ের কলার ধরে ঝাঁকাতে-ঝাঁকাতে বলেছিল, ‘ও৷ তাহলে এইরকম তোমার মেন্টালিটি... আমার সঙ্গে যদি কোনওদিন এরকম হয় — তুমি এভাবেই টোন করবে? তাই তো?’

রণজয় ভ্যাবাচ্যাকা খেয়ে গিয়েছিল৷ তারপর কোনওরকমে নিজেকে ওর হাত থেকে ছাড়িয়ে নিতে-নিতে বলেছিল, ‘ওহ! শান্ত হয়ে যাও স্মিতা৷ আমি শুধু মজা করছিলাম৷ দৃশার প্রতি আমার যথেষ্ট সিমপ্যাথি আছে৷’

স্মিতা তখনই শান্ত হতে পারেনি৷ জোরে-জোরে নিঃশ্বাস ফেলতে-ফেলতে বলেছিল, ‘সিমপ্যাথি? ও তোমার ‘সিমপ্যাথি’র যোগ্য নয় রণজয়৷ ও তোমার রেসপেক্টের যোগ্য৷ যেভাবে ও এই এতবড় ঘটনাটাকে ইগনোর করেছে, যেভাবে ও ন্যাকা-কান্না না-গেয়ে পরিশ্রম করে চলেছে— তাতে আমাদের ওকে রেসপেক্ট করা উচিত৷ ডু ইউ আন্ডারস্ট্যান্ড? আই সেড ডু ইউ...’

রণজয় স্মিতাকে নিজের বুকের মধ্যে নিয়ে নিয়েছিল৷ আস্তে-আস্তে মাথায় হাত বুলিয়ে দিতে-দিতে, খুব নরম করে বলেছিল, ‘আই ক্যান আন্ডারস্ট্যান্ড স্মিতা৷ আমারই ভুল৷ আয়্যাম রিয়েলি স্যরি— ওকে? আর কখনও এরকম বলব না৷ খুশি?’

স্মিতার পুরোপুরি শান্ত হতে অবশ্য আরও কিছুক্ষণ লেগেছিল৷

দৃশা প্রতিদিন সকালে আসে, আর সন্ধ্যাবেলার একটু আগে চলে যায়৷ রেললাইন পার করে যে পাড়াটা— ও সেখানেই কোথাও থাকে৷

এখন দৃশা মেঝেতে কাগজ বিছিয়ে নিয়ে, বাবু হয়ে বসে-বসে একমনে বাঁধাকপি কুঁচিয়ে চলেছে৷

কী নিপুণ আর নিখুঁত! ঝিরিঝিরি ফালিগুলোর মাপ একটুও এদিক-ওদিক হচ্ছে না৷ বঁটির গোড়ায় স্তুপ হয়ে গেলেই দৃশা হাত দিয়ে সেগুলোকে একপাশে সরিয়ে দিচ্ছে৷

দৃশার একটা চোখ তো সবসময় ঢাকাই থাকে৷ আরেকটা চোখ দিয়ে যে ও কী করে এত নিখুঁত কাজ করে? স্মিতা ভাবে আর অবাক হয়ে যায়৷ কী তাড়াতাড়ি হাত চলছে ওর! যেন হাত না; অটোমেটেড কোনও মেশিন৷ স্মিতা জিজ্ঞাসা করল , ‘আলু কাটা হয়ে গেছে দৃশা?’

দৃশা হাত চালাতে-চালাতেই ঘাড় নাড়ল, ‘হ্যাঁ বউদি৷ একেবারে ধুয়ে রেখে দিয়েছি৷ ওই তো— ওভেনের পাশেই রয়েছে৷’

স্মিতা অল্প লবণ দিয়ে আলুর টুকরোগুলোকে সিদ্ধ হওয়ার জন্য বসিয়ে দিল৷ তারপর একটা গামলায় জল আর আটা নিয়ে মেঝেতেই বসে পড়ল৷

আটা ঠাসতে-ঠাসতে স্মিতা বলল, ‘কাল কী হয়েছে, সেসব কিছু শুনেছ দৃশা? ওই ম্যাজিক শো-তে নাকি...’

স্মিতার কথা শেষ হওয়ার আগেই দৃশা নির্বিকারভাবে বলল, ‘জানি৷ আমি তো তখন ছিলাম ওখানে৷’

স্মিতা একটু চমকে উঠল৷

দৃশার ম্যাজিক শো-এ উপস্থিত থাকাটা অস্বাভাবিক কিছু না৷ বরং যথেষ্ট স্বাভাবিকই৷ যেমন আরও পাঁচটা লোক ছিল, তেমনই ও ছিল৷ কিন্তু স্মিতা যেন ঠিক এটা শোনার জন্য তৈরি ছিল না৷

সবথেকে বড় কথা, ওরকম একটা ঘটনার সাক্ষী থাকার পরও দৃশা কী নির্বিকারভাবে চুপচাপ কাজ করে চলেছে! অন্য কেউ হলে এতক্ষণ এই গল্প দশবার দশরকমভাবে শুনিয়ে ফেলত৷

কী দিয়ে তৈরি ওর স্নায়ু— ইস্পাত নাকি তার থেকেও আরও কঠিন কিছু? এমন সাঙ্ঘাতিক ঘটনার সাক্ষী হওয়ার পরেও এত নির্লিপ্ত!

অবাক হওয়ার অভিঘাতে স্মিতার হাত কয়েক সেকেন্ডের জন্য থেমে গিয়েছিল৷ ও আবার কাজে মন দিতে দিতে বলল, ‘তাই? তুমি তখন ছিলে ওখানে... মানে আমি বলতে চাইছি যে, তোমার চোখের সামনেই ঘটেছে ইনসিডেন্টটা?’

দৃশা বলল, ‘হ্যাঁ৷ গোলমাল শুরু হচ্ছে দেখে আমি আস্তে-আস্তে বেরিয়ে এসেছিলাম৷’

স্মিতা জানত দৃশা মানসিকভাবে শক্তপোক্ত৷ তবে সেটা যে এতটা— তা ও আন্দাজও করতে পারেনি৷ হয়তো ওর নিজের জীবনে ঘটে যাওয়া ঘটনাই ওকে এই দৃঢ়তা আর উদাসীনতা দিয়েছে৷

তবু তো একটা জলজ্যান্ত মৃত্যু! চোখের সামনে এমন বীভৎস আর রক্তক্ষয়ী ঘটনা দেখার পরও...

স্মিতা আর কিছু বলল না৷ ওদিকে দৃশার বাঁধাকপি কাটা শেষ৷ ও সবটাকে জড়ো করে একটা গামলায় তুলে নিল৷ কাগজ আর বঁটি গুছিয়ে রেখে দিল জায়গা মতো৷

স্মিতা ভেবেছিল এই নিয়ে দৃশার সঙ্গে আর কথা বাড়াবে না৷ কিন্তু একে ও বেশিক্ষণ চুপ করে থাকতে পারে না; তার ওপর কৌতূহল বড় বালাই৷

স্মিতা একটু ভেবে নিয়ে বলল, ‘আচ্ছা দৃশা, কাগজে লিখেছে— মেয়েটা নাকি কাটার সময় চিৎকার করে উঠেছিল৷ তখন তোমরা কিছু বুঝতে পেরেছিলে?’

দৃশা বেসিনে চলে গেছে৷ কল খুলে গামলায় জল ভরতে-ভরতে বলল, ‘হ্যাঁ৷ মনে হচ্ছিল কিছু একটা গন্ডগোল হচ্ছে৷ তারপরেই তো ফিনকি দিয়ে রক্ত বেরোল৷’

স্মিতা অবাক হয়ে জিজ্ঞাসা করল, ‘ম্যাজিশিয়ান তাও করাত চালালেন?’

দৃশা নির্বিকারভাবে বলল, ‘ইচ্ছা করে কী আর বউদি? তখন করাত আপনিই অনেকটা ভিতরে ঢুকে গেছে৷’

স্মিতা একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলল, ‘ও৷’

আটা মাখা শেষ৷ স্মিতা ওখানে বসেই আটার লেচি বানিয়ে নিল৷

এখন রুটি-লুচি বেলার ব্যবস্থা অবশ্য টেবিলে৷ আগে স্মিতা মেঝেতে বসেই একেবারে বেলা-বেলির কাজ সেরে ফেলত৷ কিন্তু সিজারিয়ান ডেলিভারি হওয়ার পর থেকে পেট চেপে কাজ করতে ওর কেমন যেন কষ্ট হয়৷ ডাক্তারও বারন করেছেন৷

কাজ শেষ করে টেবিলে আসতে স্মিতার কিছু না-হোক মিনিট দশেক লেগেছে৷ অথচ এখনও দৃশা এক-গামলা জলের মধ্যে ফেলে বাঁধাকপি ডলেই যাচ্ছে... ডলেই যাচ্ছে...

স্মিতা দেখে অবাক হল, ‘এই দৃশা, তুমি অত করে বাঁধাকপিগুলো কচলাচ্ছ কেন? খানিক্ষণ জলে ভিজিয়ে রাখলেই তো হয়৷’

দৃশা মাথা নিচু করে বলল, ‘বাঁধাকপিতে খুব নোংরা থাকে বউদি...’

স্মিতা ভ্রূ কোঁচকাল, ‘নোংরা থাকে? কই, সেরকম কিছু তো দেখলাম না!’

‘সব জিনিস কি চোখে দেখা যায় বউদি?’

কথাটা কেমন যেন শোনালো স্মিতার কানে৷ অবশ্য খাবার-দাবারে যেসব জীবাণু থাকে, সেগুলো চোখে দেখা যায় না৷ সেদিক থেকে ভেবে দেখলে, দৃশা ঠিকই বলেছে৷

কিন্তু দৃশা কি আদৌ ঠিক ‘সেটাই’ বলেছে, যেটা স্মিতা ভাবছে? ওর কথার সুরটা যেন কেমন-কেমন!

ভাবনাটাকে স্মিতা মাথা থেকে ঝেড়ে ফেলল৷ এখন এতকিছু অ-কাজের কথা চিন্তা করার সময় কোথায়? এক্ষুনি রিমা পড়ানো শেষ করে চলে যাবে৷ তারপর বুবাইকে স্নান করিয়ে, খাইয়ে তৈরি করে দিতে হবে, রণজয়ের সমস্ত ওষুধ আর লাঞ্চবক্স গুছিয়ে দিতে হবে, বুবাই স্কুল থেকে ফিরে এসে কী খাবে তার ব্যবস্থা করে রাখতে হবে...

রণজয়ের গলা শোনা গেল, ‘স্মি-ই-তা-আ... একটা বাথসোপ বের করে দাও তো৷ এটা তো শেষ দেখছি৷ স্মি-ই-তা-আ...’

স্মিতা গলা তুলে উত্তর দিল, ‘আসছি-ই-ই...’

তাড়াতাড়ি স্মিতা আটা-মাখা হাতেই রান্নাঘর থেকে বেরিয়ে গেল৷

দৃশার বাঁধাকপি ধোওয়া শেষ৷ ও এখন ডানহাতে গামলাটা কাত করে ধরে জলটা ফেলে দিচ্ছে৷ গামলার কানায় বাঁহাতের আঙুলগুলো ছড়িয়ে রেখেছে ছাঁকনির মতো করে— যাতে জলের সঙ্গে সবজি না বেরিয়ে যায়৷

স্মিতা বেরোনোর আগে শুধু জল ফেলাটুকুই দেখতে পেয়েছিল৷ জলটা আর দেখতে পায়নি৷

ভালো করে লক্ষ্য করলে স্মিতা দেখত, যে জলটা দৃশার আঙুলের ফাঁক দিয়ে বেসিনে এসে পড়ছে— সেটার রঙ ঘন কালো৷

সকল অধ্যায়
১.
ম্যাজিক শো থেকে শুরু...
২.
সকালের হেডলাইন
৩.
দুর্ঘটনার পরে
৪.
‘সে’ আছে আড়ালে
৫.
রাত এবং উপহার
৬.
আবার রহস্যময় অঘটন
৭.
নিঝুম দুপুরের আগন্তুক
৮.
একটি প্রশ্নোত্তর পর্ব
৯.
শান্তির স্নান
১০.
কেমন আছে অনুরাধা?
১১.
নতুন দিনের প্রস্তুতি
১২.
স্বাগত আমার ঘরে
১৩.
আবার ম্যাজিক-শো
১৪.
বুবাই কোথায়
১৫.
আবার বাড়িতে ফেরা
১৬.
আয়না, ওয়াইন, পুতুল এবং...
১৭.
বিভীষিকাময় রাত
১৮.
কোকিল মানে বসন্ত; কোকিল মানে...
১৯.
আরেকটি ‘কেন’
২০.
সাফারি টাইম
২১.
ক্রিস্টাল-ক্লিয়ার ক্রিস্টাল বল শপ
২২.
ত্রুটি সংশোধন
২৩.
নখ কেন কালো
২৪.
স্বচ্ছ স্ফটিক; ঘোলা স্ফটিক
২৫.
ঢাকা থাক, থাক ঢাকা...
২৬.
বেড়ানোর ছবি
২৭.
বহুদিন পর; আবার!
২৮.
নিষ্ফলতার আক্রোশ
২৯.
একটুর জন্য...!
৩০.
অ-সাক্ষাৎ এবং সাক্ষাৎ
৩১.
‘সে’ ছিল, ‘সে’ আছে...
৩২.
একটা অন্যরকম রবিবার
৩৩.
প্রচেষ্টা এবং অভিজ্ঞতা
৩৪.
অন্তিম প্রস্তুতি
৩৫.
দৃশ্য এবং অদৃশ্য
৩৬.
কোন সে সুদূর অতীত হতে...
৩৭.
রইল বাকি এক
৩৮.
জানা এবং অজানা
৩৯.
সময় এসেছে কাছে
৪০.
ইট’স ফাইন
৪১.
ঘন হয়ে উঠেছে অন্ধকার
৪২.
শব্দটীকা
৪৩.
সহায়ক গ্রন্থপঞ্জী

নোট নিতে এবং টেক্সট হাইলাইট করতে লগইন করুন

লগইন
০%