সাফারি টাইম

শ্রীজিৎ সরকার

ব্যবস্থা ছিল: স্মিতা, রণজয় আর বুবাই— তিনজন একটা জিপসিতে করে যাবে৷

সাধারণত একেকটা জিপসিতে পাঁচজন করে উঠতে পারে৷ তবে কেউ চাইলে এরকম দু-তিনজনের জন্য, এমনকি একজনের জন্যও গোটা একটা গাড়ি বুক করতে পারে৷ সেক্ষেত্রে তাকে ওই পুরো পাঁচজনের ভাড়াটাই দিতে হয়৷

কিন্তু এখন মনে হচ্ছে সবকিছু গোলমাল হয়ে যাবে৷

বুবাই একরাতের মধ্যেই সুস্থ হয়ে গেছে— একদম আগের মতো সুস্থ৷ অন্যসময় বাড়িতে স্মিতা ঠেলে-ঠেলে ছেলেকে ঘুম থেকে তুলতে পারে না৷ অথচ এখানে একবার ডাকতেই উঠে গেছে৷ তারপর থেকে দু-চোখে একটু ঢুলুনির চিহ্ন পর্যন্ত নেই৷

বুবাই সমানে প্রশ্ন করে যাচ্ছে— ‘কী-কী অ্যানিমেল দেখব আমরা?’; ‘টাইগার দেখব? আর পিকক?’; ‘পিকক, ফেজ্যান্ট আর কী-কী পাখি?’, ‘এখানে কি ওদেরকে চিড়িয়াখানার মতো কেজের মধ্যে রাখা থাকবে?’, ‘এখানকার ফরেস্ট কি একদম টি ভি-র মতো?’...

যখন স্মিতারা জেগে উঠেছিল, তখন তো ঘুটঘুটে রাত্রি৷ নিস্তব্ধ গাছ-গাছালিরা গা-জড়াজড়ি করে দাঁড়িয়ে, কোত্থাও কোনও সাড়া-শব্দ নেই৷ মনে হচ্ছিল, এই বুঝি কিছু একটা সামনে এসে দাঁড়াল!

এখনও অবশ্য অন্ধকার আছে৷ তবে আস্তে-আস্তে তার গাঢ়ত্বে ভাটা পড়ছে৷

এদিকে যে গাড়িটাতে করে ওদের তিনজনের যাওয়ার কথা ছিল, সেটা স্টার্ট নিচ্ছে না৷ ঠান্ডার দরুণ হোক, বা অন্যকোনও যান্ত্রিক গোলযোগের কারণে— তার ইঞ্জিন একেবারে শান্ত হয়ে পড়েছে৷

এদিকে দেরি হয়ে যাচ্ছে ৷ সাফারির সময় তো বাঁধা৷ পৌঁছাতে বেশি দেরি হলে ভালো করে দেখার আগেই বেরিয়ে আসতে হবে৷ ওদিকে যে এখন না-গিয়ে বিকেলের ট্রিপে জঙ্গল দেখবে— তারও উপায় নেই৷ বেলা বারোটার মধ্যেই ওদের রাণীখেতের উদ্দেশ্যে বেরিয়ে পড়ার ব্যবস্থা করে রাখা আছে৷

ড্রাইভার নানারকম চেষ্টা করে যাচ্ছে৷

ম্যানেজার মুখ চুন করে বলল, ‘একটু অসুবিধা হয়ে গেছে স্যার৷’

রণজয় বলল, ‘সে তো বুঝতেই পারছি৷ এখন কী করব?’

উপায়টা বোধহয় ম্যানেজার আগেই ভেবে রেখেছিল৷ রণজয়ের কথা শেষ হতে না-হতেই বলল, ‘অল্টারনেট একটা ব্যবস্থা করছি৷ আরেকটা জিপসি ছাড়ছে৷ তাতে তিনজন প্যাসেঞ্জার৷ আপনারা তাতে একটু অ্যাডজাস্ট করে নিন৷ বাচ্চা তো ছোট, কোনও অসুবিধা হবে না৷’

স্মিতা বিরক্ত হল, ‘কী আশ্চর্য! গাড়ির প্রবলেম তো যখন-তখন হতেই পারে৷ এটাও মানলাম যে, আরেকটা এক্সট্রা জিপসি নেই৷ কিন্তু মেকানিক? একজন মেকানিকের ব্যবস্থা তো রাখা উচিত ছিল৷ এত কেয়ারলেস কেন আপনারা?’

ম্যানেজার আরও অপ্রস্তুত হল, ‘মেকানিক একজন ছিল৷ কিন্তু সে আজ আসেনি৷ প্লিজ একটু অ্যাডজাস্ট করে নিন ম্যাডাম৷ আমি আপনাদের ব্যালেন্স পেমেন্ট ফিরিয়ে দেব৷’

স্মিতা অসন্তুষ্ট হয়ে বলল, ‘কথাটা পেমেন্টের নয়৷ কথাটা হল এই সময়ের৷ আমরা তো বারবার করবেট ঘুরতে আসব না৷’

ম্যানেজার মনে হয় যুৎসই উত্তর খুঁজে পেল না৷ তাই মুখ নিচু করে দাঁড়িয়ে থাকল৷

কিন্তু সময় ক্রমশ এগিয়ে যাচ্ছে৷ আলোও আস্তে-আস্তে প্রবল হয়ে উঠছে৷ ড্রাইভারের হাজার সাধ্য-সাধনা সত্ত্বেও এখনও জিপসির ইঞ্জিন চুপচাপ৷

স্মিতারা অন্য জিপসির দিকে এগিয়ে গেল৷

এই গাড়ির যাত্রীরা এখনও সিটে চড়ে বসেনি; গাড়ির পাশেই জবুথবু হয়ে দাঁড়িয়ে আছে৷ তবে পরনে মাফলার আর টুপি থাকলেও সেগুলো তাদের মুখ ঢেকে রাখেনি৷ তাই কারোরই মুখ চিনতে অসুবিধা হচ্ছে না৷

ডক্টর অমরেশ চক্রবর্তী, ট্রেনে দেখা সেই বৃদ্ধ আর বৃদ্ধের ছেলে৷

আশ্চর্য সমাপতন! সবাই এক ট্রেনে চেপে দিল্লি এল, মাঝখানের রাস্তাটুকু বাদ দিয়ে একই গন্তব্যে পৌঁছাল, এমনকি এক হোটেলে উঠল; আবার এখন এক গাড়িতে চড়ে সাফারি করতে যাচ্ছে৷

ধরতে গেলে— বুবাইয়ের শরীর খারাপটা বাদ দিলে, কারোর সঙ্গে কারোর দেখাই হল না! স্মিতাদের গাড়িটা খারাপ না-হলেও কি আর দেখা হত?

স্মিতারা কাল রাতে ডাইনিংয়ে খেয়েছে৷ তখনও তো কাউকে দেখেনি৷ হতে পারে, আর সবাই খাবার ঘরে নিয়ে গিয়ে খেয়েছে৷

তবে এখন আর কারোর এসব তত্ত্ব নিয়ে মাথা ঘামানোর সময় নেই৷

জিপসি এমনিতে খোলা গাড়ি৷ তবে ড্রাইভার আর তার পাশের সিটটা ঢাকা৷ সেখানে কুমারেশবাবু বুবাইকে নিয়ে বসলেন৷ তারপর খোলা সিটের প্রথমটায় স্মিতা-রণজয়, আর পরেরটায় বৃদ্ধ-বৃদ্ধের ছেলে বসল৷ বুবাই একেবারে বাচ্চা নয়৷ তবে ও আর কুমারেশবাবু— দু-জনেই রোগা বলে, আর সামনের সিটটা সামান্য চওড়া হওয়ায়, সেটা ভাগ করে নিতে অসুবিধা হল না৷ তবে গরমকাল হলে নিশ্চয়ই এত গা-ঘেঁষাঘেঁষি করে বসতে অসুবিধা হত৷

জিপ চলতে আরম্ভ করল৷

গাড়ি যথেষ্ট জোরে চলছে৷ ফলে উলটোদিক থেকে হু-হু ঠান্ডা বাতাস এসে লাগছে৷ একটা অদ্ভুত বিবশ করে দেওয়া শীতলতা— মোটা-মোটা জামা-কাপড়, চামড়া-মাংস ভেদ করে একেবারে হাড় পর্যন্ত ঢুকে পড়ছে যেন!

তার ওপর চারদিক খোলা; ফলে গাড়ি একটু লাফিয়ে উঠলেই গড়িয়ে পড়ে যাওয়ার আশঙ্কায় বুকটা দুরুদুরু করে উঠছে৷ এদিকে আবার সামনের রডটাও ধরার মতো নেই৷ সারারাত খোলা আকাশের নীচে থেকে সেটা একেবারে জমাট বরফের মতো ঠান্ডা হয়ে উঠেছে৷ ছুঁলেই যেন হাত কেটে যাচ্ছে!

স্মিতা গায়ের শালটা দিয়ে ভালো করে মুখ ঢাকতে-ঢাকতে বলল, ‘ভালো হয়েছে, বুবাই ভিতরে বসেছে৷’

রণজয় ছোট্ট উত্তর দিল, ‘হুমম৷’

পিছনের আরোহীদের অবশ্য কোনও সাড়াশব্দ নেই৷ মনে হয় এই চড়া ঠান্ডায় তারা একেবারে জবুথবু মেরে গেছে৷

বেশ অনেকটা পথ যাওয়ার পর ধিকালার প্রবেশপথ৷ সেখানে তারকাঁটায় ঘেরা ছোট শৌচাগার আছে, কয়েকটা চা আর নুডলসের দোকান আছে৷ তাছাড়া অনেক স্থানীয় মানুষ ঘুরে-ঘুরে চা-বিস্কুট, বাড়িতে বোনা হাতমোজা, সেলফি-স্টিক, সস্তার বাইনোকুলার— এইসব বিক্রি করছে৷

এরপর শুরু আসল জঙ্গল৷ সেখানে তো কিছু নেই-ই, আর গাড়িও কোথাও দাঁড়াবে না৷ কাজেই সমস্ত দরকার এখানেই মিটিয়ে নিতে হয়৷

গাড়ির সবাই শৌচাগার থেকে ঘুরে এল৷ বুবাই আর ডক্টর কুমারেশ চক্রবর্তী বাদে আর সবাই চা খেল৷ একজায়গায় খানিকটা শুকনো পাতা জ্বালিয়ে আগুনের ব্যবস্থা করা হয়েছে৷ সেখানে গিয়ে সবাই একটু হাত-মুখ সেঁকে নিল৷

এতক্ষণ পিচরাস্তা ছিল৷ এবার মাটির পথ৷ চারপাশে বিশাল-বিশাল গাছ, তাদের কান্ড-জুড়ে নানারকম ফার্ণ আর অজানা সব লতার ঘর-সংসার৷ অল্প-অল্প আলোও আছে, আবার তারই মধ্যে অন্ধকারও আছে৷

এই জঙ্গল নাকি নানারকম পাখিতে ভর্তি; অথচ কোথাও কোনও

পাখির সাড়াশব্দ নেই৷ কিন্তু গোটা পরিবেশ জুড়ে একটা অদ্ভুত ‘কী হয় কী হয়’ ভাব!

এই বুঝি কিছু ডেকে উঠল...

এই বুঝি কিছু বেরিয়ে আসল...

এই বুঝি কিছু ঝাঁপিয়ে পড়ল...

বুবাই এরই মধ্যে কুমারেশবাবুর সঙ্গে গল্প জুড়ে দিয়েছে৷ একটানা কথা বলেই যাচ্ছে, আর কুমারেশবাবুও উত্তর দিয়েই যাচ্ছেন৷ কিছু শোনা যাচ্ছে না, কিন্তু মুখ-নাড়া দেখে বোঝা যাচ্ছে৷

ড্রাইভার অবশ্য সাঙ্ঘাতিক মনেযোগী৷ সে চুপচাপ সামনের দিকে চোখ রেখে গাড়ি চালিয়ে যাচ্ছে৷

রণজয় একবার ঘাড় ঘুরিয়ে দেখল, পিছনের দুই আরোহীর দু-জনের মুখ দু-দিকে ঘোরানো৷ মনে হয় ঠান্ডা হাওয়ার দাপটে কাঠ হয়ে বসে আছে৷

ঘন্টাখানেক কেটে গেল৷ সম্বর, চিতল— এইরকম তিন-চাররকম হরিণ ছাড়া আর কিছু দেখা গেল না৷

একবার একটা খোলা মাঠের মতো জায়গায় পাঁচ-ছটা ময়ূর চরছিল৷ ভালো করে দেখানোর জন্য ড্রাইভার তাদের কাছাকাছি এসে গাড়ির গতি একটু কম করেছিল৷ আর সঙ্গে-সঙ্গে তারা তীক্ষ্ণস্বরে ডাকতে-ডাকতে জঙ্গলে দিকে পালিয়ে গেল৷

রণজয় ক্যামেরা নিয়ে রেডি হয়েছিল৷ তবুও ময়ূরের ছবি ভালো করে তুলতে পারেনি৷ তবে হরিণের ছবিগুলো সুন্দর এসেছে৷ হরিণ এমনিতে ভীতু জন্তু৷ কিন্তু এমন চুপচাপ দাঁড়িয়ে ছিল, মনে হচ্ছিল ওরা বুঝি ছবি তোলাতেই এসেছে৷

তবে জঙ্গলটা দেখার মতো৷

থেকে-থেকেই সবুজ মাঠের কিনারা ঘেঁষে দাঁড়িয়ে থাকা পাহাড়, ছোট্ট-ছোট্ট সোঁতা, উঠতে থাকা সূর্য আর পাতার ফাঁক দিয়ে এসে পড়া রৌদ্র, চড়াই-উৎরাই, আঁকা-বাঁকা পাকদন্ডী— দেখার চোখ থাকলেই এগুলোই দেখে শান্তি৷

বেলা বাড়ার সঙ্গে-সঙ্গে পাখির ডাকও শোনা যাচ্ছে৷

কিছু ফেজ্যান্ট আর হাতি দেখা গেল৷ তবে ভালুক, মোনাল বা নীলগাইয়ের চিহ্নমাত্র নেই৷ আর বাঘ বা চিতাবাঘ তো আশাতীত প্রাণী!

পিছনের সেই বৃদ্ধ আর তাঁর ছেলে হাঁ-করে জঙ্গল দেখছে৷ তবে কিছু দেখা গেলেও— ওদের কোনও উত্তেজনাও নেই, ছবি-টবি তোলার বালাইও নেই৷

ড্রাইভারটা তো প্রায় যন্ত্রমানব৷ গাড়ি চালাচ্ছে, আর অভিজ্ঞ চোখে কিছু ধরা পড়লেই সতর্ক করে দিচ্ছে৷ সেও একটাই মাত্র শব্দ— ‘হিরণ’, ‘মোর’... তার সঙ্গে বড়জোর ‘উও দেখিয়ে’ কিংবা ‘জরা ধিয়ান সে’৷

পাতার খসখসে আওয়াজ, হঠাৎ-হঠাৎ ভেসে আসা অচেনা পাখির ডাক, সোজা রাস্তার মাঝখানে আচমকা হেয়ারপিন বেন্ট— আর সবার উপর স্থবির, নিস্তব্ধ অরণ্য! যে স্মিতা এত কথা বলতে ভালোবাসে, সে পর্যন্ত চুপ করে গেছে৷ ইচ্ছা করছে শুধু চুপচাপ সবকিছু অনুভব করে যেতে...

হঠাৎ ঘ্যাঁচাং করে গাড়ির ব্রেক কষল৷

কেউই তৈরি ছিল না৷ এ-ওর ঘাড়ে, ও-এর ঘাড়ের ওপর হুমড়ি খেয়ে পড়ল৷ হাতের কাছে যে যা পেল, শক্ত করে ধরল৷

ব্যাপার অবশ্য তেমন কিছুই না৷ একটা কাঠবিড়ালি রাস্তা পার হচ্ছিল৷ তাকে বাঁচানোর জন্যই ড্রাইভারের এমন কাজ৷

একটু ধাতস্থ হয়ে নিয়ে রণজয় আর স্মিতা একবার মুখ চাওয়া-চাওয়ি করল৷

একটা পুরনো স্মৃতি ওদের মনের মধ্যে ফুটে উঠছে৷ বুবাই হওয়ার সময় স্মিতার লেবার-পেইন উঠেছিল মাঝরাতে৷ রণজয় নিজেই ড্রাইভ করে নার্সিংহোমে নিয়ে যাচ্ছিল৷ ফাঁকা রাস্তা পেয়ে ভীষণ জোরে গাড়ি ছুটিয়েছিল৷ হঠাৎ কী যেন চাকার তলায়...

শুধু একটা কুকুরের তীক্ষ্ণ, করুণ আর্তনাদ শোনা গিয়েছিল৷

রণজয়ের গাড়ি চালানোর হাত খুব ভালো বলে, নয়তো ভারসাম্য সেদিনও প্রায় হারিয়ে গিয়েছিল! কী আশ্চর্য, অত রাতেও সেদিন কোকিল ডাকছিল! স্পষ্ট মনে আছে স্মিতার৷

তবে খুব বেশি কিছু ভাবার সময় ছিল না সেদিন৷ তখন কোনওরকমে নার্সিংহোম পর্যন্ত পৌঁছানো নিয়ে কথা... তারপর এমার্জেন্সি ও টি অ্যারেঞ্জ করতে আর একজন অ্যানাস্থেশিওলজিস্ট জোগাড় করতে যেটুকু সময়৷

কয়েক ঘন্টার মাথায় বুবাই বেরিয়ে এসেছিল স্মিতার শরীর থেকে৷

আবার গাড়ি চলতে শুরু করেছে৷ এবার শুধুই নামা৷ তার মানে সাফারি শেষ৷ অন্তত এবার আর বাঘ-ভালুকের দেখা পাওয়া কপালে নেই৷

স্মিতার বুকের মধ্যেটা কেমন যেন কেঁপে উঠেছিল৷ সেটা এখন কমে গেছে বটে, কিন্তু কেমন একটা অস্বস্তি যেন চাপ বেঁধে রয়েছে৷ তাছাড়া খাদের দিকে তাকালে যেন বুকটা কেমন দুরুদুরু করে উঠছে৷ অথচ কিছুক্ষণ আগে এরকম কিছু হচ্ছিল না৷

গাড়ি আবার ফিরে এসেছে পিচ-রাস্তায়৷ দোকান-পাট খুলছে এক-এক করে৷ রাস্তায় লোকজনও দেখা যাচ্ছে৷ একজন একঝুড়ি কমলালেবু নিয়ে রাস্তা পার হয়ে গেল৷

একটা টিনের চালে ঢাকা দোকানের সামনে জিপসি দাঁড়িয়ে গেল৷

সেখানে একটা বিশাল তামার পাত্রে চা তৈরি হচ্ছে৷ জ্বলন্ত কয়লার মধ্যে ছোট-ছোট তামার ঘটি গুঁজে রাখা আছে৷ দোকানদার একটা চিমটে দিয়ে লাল টকটকে হয়ে যাওয়া ঘটিগুলো তুলে-তুলে বড় পাত্রে ফেলছে৷ আর অমনি বড় পাত্রের চা টগবগিয়ে ফুটে উঠছে৷

নিঃসন্দেহে অভিনব জিনিস৷

বেশ ভিড় হয়েছে দোকানটায়৷ কেউ-কেউ ছড়িয়ে-ছিটিয়ে বসে চা

খাচ্ছে, কেউ-কেউ আবার চা তৈরির দৃশ্যের ভিডিও তুলছে৷ একটা বিশাল বড়, কালো কুচকুচে কুকুর ম্যানেজারের মতো দোকানময় ঘুরঘুর করছে৷

ড্রাইভার বলল, ‘এখানে অন্তত একবার চা খান৷ খুব ভালো চা৷’

পদ্ধতিটা দেখে মনে হয় সবারই একটু চেখে দেখার ইচ্ছা হচ্ছিল৷ ড্রাইভার বলতেই ওরা গাড়ি থেকে নেমে পড়ল৷ চা খেলে হয়তো স্নায়ুগুলোও একটু সতেজ হবে৷

সকল অধ্যায়
১.
ম্যাজিক শো থেকে শুরু...
২.
সকালের হেডলাইন
৩.
দুর্ঘটনার পরে
৪.
‘সে’ আছে আড়ালে
৫.
রাত এবং উপহার
৬.
আবার রহস্যময় অঘটন
৭.
নিঝুম দুপুরের আগন্তুক
৮.
একটি প্রশ্নোত্তর পর্ব
৯.
শান্তির স্নান
১০.
কেমন আছে অনুরাধা?
১১.
নতুন দিনের প্রস্তুতি
১২.
স্বাগত আমার ঘরে
১৩.
আবার ম্যাজিক-শো
১৪.
বুবাই কোথায়
১৫.
আবার বাড়িতে ফেরা
১৬.
আয়না, ওয়াইন, পুতুল এবং...
১৭.
বিভীষিকাময় রাত
১৮.
কোকিল মানে বসন্ত; কোকিল মানে...
১৯.
আরেকটি ‘কেন’
২০.
সাফারি টাইম
২১.
ক্রিস্টাল-ক্লিয়ার ক্রিস্টাল বল শপ
২২.
ত্রুটি সংশোধন
২৩.
নখ কেন কালো
২৪.
স্বচ্ছ স্ফটিক; ঘোলা স্ফটিক
২৫.
ঢাকা থাক, থাক ঢাকা...
২৬.
বেড়ানোর ছবি
২৭.
বহুদিন পর; আবার!
২৮.
নিষ্ফলতার আক্রোশ
২৯.
একটুর জন্য...!
৩০.
অ-সাক্ষাৎ এবং সাক্ষাৎ
৩১.
‘সে’ ছিল, ‘সে’ আছে...
৩২.
একটা অন্যরকম রবিবার
৩৩.
প্রচেষ্টা এবং অভিজ্ঞতা
৩৪.
অন্তিম প্রস্তুতি
৩৫.
দৃশ্য এবং অদৃশ্য
৩৬.
কোন সে সুদূর অতীত হতে...
৩৭.
রইল বাকি এক
৩৮.
জানা এবং অজানা
৩৯.
সময় এসেছে কাছে
৪০.
ইট’স ফাইন
৪১.
ঘন হয়ে উঠেছে অন্ধকার
৪২.
শব্দটীকা
৪৩.
সহায়ক গ্রন্থপঞ্জী

নোট নিতে এবং টেক্সট হাইলাইট করতে লগইন করুন

লগইন
০%