অ-সাক্ষাৎ এবং সাক্ষাৎ

শ্রীজিৎ সরকার

ট্রেনের সিটে চুপচাপ বসে আছে প্রণব৷ ও মাঝেমাঝেই কাঁধে ঝোলানো ক্যানভাসের ব্যাগটায় হাত বুলিয়ে নিচ্ছে; সেই সঙ্গে জানালা দিয়ে বাইরেটা দেখছে, আবার দেখছে না৷

আজ প্রণব স্ফটিক-গোলকটাকে কাঁধের থেকে নামানোর আরেকটা চেষ্টা করেছিল৷ এমনকিছু জটিল পথ নেয়নি— ও শুধু জিনিসটা

সেখানেই ফেরত দিয়ে আসতে গিয়েছিল, যেখান থেকে কয়েকদিন আগেই ওটাকে এনেছিল৷

কিন্তু প্রণব আজ আর ‘ক্রিস্টাল-ক্লিয়ার ক্রিস্টাল বল শপ’ নামের সেই দোকানটা খুঁজেই পায়নি৷ আশপাশের অনেক দোকানেও ও খোঁজ নিয়েছে৷ কিন্তু কেউ শোনেনি ওই দোকানের নাম, কেউ চেনে না মিস জেনিফারকে, কেউ আগে কখনও ওইরকম আশ্চর্য গোলক দেখেনি৷

কম করে ছয়-সাতবার গোটা জায়গাটাকে চক্কর দিয়েছে প্রণব৷

নেই... কোত্থাও নেই...

ঠিক যে জায়গাটাতে দোকানটা ছিল, সেখানে একটা ভাঙা দেওয়াল ছাড়া আর কিছু পড়ে নেই৷ পাশের দোকানদার বলল, গত সাতবছর ধরে জায়গাটা ওরকমই পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে আছে৷

কিন্তু সেদিনের ঘটনাটা তবে কী ছিল?

প্রণব আজ আর গোলকটাকে রাস্তাঘাটে ফেলে দেওয়ার কোনও চেষ্টা করেনি৷ আগের অভিজ্ঞতা থেকে ও বুঝে গেছে— ওসব চেষ্টা শুধু কিছুটা সময় নষ্ট ছাড়া আর কিছু না৷ এখন যা করতে হবে, খুব সাবধানে আর বুদ্ধি করে৷ জিনিসটা আবার চূড়ান্ত অভঙ্গুরও!

প্রণবের মাথায় চিন্তার পর চিন্তা আছড়ে পড়ছে: হঠাৎ করে কেন ঘটছে এগুলো? কে বসে আছে এগুলোর পিছনে? সে বেছে-বেছে কেন প্রণবকেই নিশানা বানিয়েছে?

প্রশ্নের পর প্রশ্ন... উত্তরের কোনও সূত্র কি প্রণব পাচ্ছে না? পাচ্ছে, কিন্তু সবকিছু আবার গুলিয়েও যাচ্ছে৷ অথচ আর বেশিদিন তো এইভাবে বাড়িতে বসে থাকতেও পারবে না! আবার এইরকম মানসিক অস্থিরতার মধ্যে অন্তত জাদুর মতো খেলাও দেখানোও যাবে না— যেখানে মনোসংযোগই শেষ কথা৷

জানালা থেকে মুখটা সরিয়ে নিল প্রণব৷ আর একটু আশ্চর্য হল৷

উল্টোদিকে মিথিল বসে আছে৷

কখন মিথিল এসে বসল, কতক্ষণ বসে আছে— প্রণব এতক্ষণ কিছু লক্ষ্যই করেনি!

মিথিল বোধহয় আগেই প্রণবকে দেখতে পেয়েছিল৷ লজ্জা পেয়ে হোক, বা অন্য কোনও কারণে— কথা বলে উঠতে পারেনি৷ অবশ্য এক হিসাবে তো ও আর প্রণব পরস্পরের অপরিচিত৷

প্রণব জানে, ও কথা বললেই মিথিল অপ্রস্তুত হবে৷ তাছাড়া এভাবে উপযাচক হয়ে কথা বলতে ওর নিজেরও একটু অস্বস্তি লাগবে৷ তবুও চিন্তাটাকে সরিয়ে রাখার জন্য ও জোর করে কথা বলল, ‘তোমার নাম মিথিল না?’

মিথিল একটু আমতা-আমতা করে বলল, ‘হ্যাঁ৷ আপনি... মানে আমি ঠিক চিনতে পারলাম না৷’

প্রণব হাসল, ‘সেকি! আমাকে চিনতে পারলে না? আমি হিয়ার দাদা৷’

মিথিল বুকের কাছে হাত জড়ো করল, ‘ও৷ নমস্কার দাদা৷ ভালো আছেন তো?’

প্রণব ঘাড় নাড়ল, ‘আছি৷ তুমি কি কলকাতায় গিয়েছিলে?’

‘হ্যাঁ দাদা৷ আমার অফিস তো কলকাতায়৷’

‘ও৷ ডেইলি প্যাসেঞ্জারি করো?’

‘হ্যাঁ দাদা৷’

‘উঠলে কোথা থেকে?’

‘শিয়ালদা থেকেই৷’

প্রণব অবাক হল, ‘লক্ষ্য করিনি তো! অবশ্য আমি একটু অন্যমনস্ক ছিলাম, আর তখন খানিকটা ভিড়ও ছিল৷’

প্রণব কোথায় গিয়েছিল, কেন ও অন্যমনস্ক ছিল, কী করে মিথিলকে চিনল— মিথিল এসব কোনও কথা জিজ্ঞাসা করল না৷

কামরাটা এখন খানিকটা ফাঁকা-ফাঁকা হয়ে গেছে৷

প্রণব গলাটা একটু নামিয়ে, স্বাভাবিক সুরেই বলল, ‘হিয়া আমাকে বলেছে তোমাদের ব্যাপারে৷’

মিথিল কোনও উত্তর দিল না৷ ও শুধু মুখটা নিচু করে নিল৷

তার মানে প্রেমিকার সামনে যতই দুঃসাহসী সাজুক, আসলে বেচারা লাজুকই৷

প্রণব জিজ্ঞাসা করল, ‘আমি কি তোমাকে অপ্রস্তুত করছি মিথিল?’

তাড়াতাড়ি মিথিল মুখ তুলল৷ দু-পাশে মাথা নাড়তে-নাড়তে বলল, ‘না-না দাদা৷ আমি শুনছি৷ আপনি বলুন না, কী বলবেন...’

‘তোমার বাড়িতে কে-কে আছে মিথিল?’

‘আপাতত আমি একা৷’

‘হুমম৷ হিয়া অবশ্য বলছিল৷ যাইহোক... তুমি হিয়াকে বিয়ে করতে রাজি তো? দেখো মিথিল, আমি সোজাসাপ্টা কথা বলতে ভালোবাসি৷ তুমি যদি সত্যিই রাজি থাকো, তবে আমি আমার মায়ের সঙ্গে কথা বলব৷ তারপর দেখি মা কী বলে!’

মিথিল কিছুক্ষণ কোনও কথার উত্তর দিল না৷ তারপর মুখ তুলে, খুব স্পষ্ট করে বলল, ‘হ্যাঁ দাদা৷ আমি হিয়াকে বিয়ে করব৷’

প্রণব বলল, ‘তুমি তো জানো, বোনেরা দাদাদের কত আদরের হয়! ওকে কিন্তু কোনও কষ্ট দিতে পারবে না৷’

‘আমি ওকে যত্ন করে রাখব দাদা৷’

স্টেশন এসে গেছে৷

প্রণব আর মিথিল নেমে পড়ল৷ তারপর স্টেশন থেকে বেরিয়ে মিথিল চলে গেল একদিকে, আর প্রণব আরেক দিকে৷

এখন অনেকগুলো ভাবনা-চিন্তা প্রণবের মাথায় একসঙ্গে ঘুরপাক

খাচ্ছে৷

প্রথমত: বর্তমান সমস্যা৷

দ্বিতীয়ত: মিথিল আর হিয়ার সম্পর্ক, এবং সেই সম্পর্কের ভবিষ্যৎ৷

তৃতীয়ত: প্রণবের নিজের ভবিষ্যৎ৷

হিয়া তো বিয়ে করে শ্বশুরবাড়ি যাবেই৷ তারপর প্রণব মাকে কোন ভরসায় একা বাড়িতে থাকতে দেবে? আবার, মাকে নিশ্চয়ই ও সঙ্গে করে নিয়ে ঘুরতে পারবে না৷ সেক্ষেত্রে একমাত্র সমাধান, নিজে একটা বিয়ে করে নেওয়া৷

কিন্তু নিজের বিপজ্জনক জীবনের সঙ্গে কোন ভরসায় প্রণব অন্য একটা মেয়ের জীবন জুড়বে? যে প্রণবের জীবনটা নিয়ে এমন ভয়ানক খেলায় মেতেছে, সে যে প্রণবের নিকটজনদের ওপরেও প্রতিশোধ নেবে না— সে নিশ্চয়তাই বা কে দিতে পারে? এখন তো মা আর হিয়ার সুরক্ষা নিয়েও দুশ্চিন্তা এসে যাচ্ছে...

রাস্তাঘাট ফাঁকা৷ আপনমনেই প্রণব হাঁটছিল৷ হঠাৎ রাস্তার মাঝখানে কোত্থেকে একটা কুকুর এসে দাঁড়াল৷

কুকুরটার গায়ে সংক্রমণ ভর্তি, ঘোলা চোখ দিয়ে জল গড়াচ্ছে৷ বোঝাই যাচ্ছে ও স্বাভাবিক অবস্থায় নেই৷

দাঁড়িয়ে পড়ল প্রণব৷

এইরকম কুকুররা ভয়ানক হয়৷ কোনও কারণ ছাড়াই এরা বিপক্ষকে আক্রমণ করে৷ আর এদের আঁচড়-কামড়ও যথেষ্ট ক্ষতিকর৷

প্রণব যতটা সম্ভব কুকুরটার চোখে চোখ রেখে, চুপচাপ দাঁড়িয়ে থাকল৷

অন্যদিন এইসময় এই রাস্তা দিয়ে যথেষ্ট গাড়ি চলে৷ আজ যে কেন এত ফাঁকা— কে জানে! একটা লোক পর্যন্ত নেই৷ শুনশান একেবারে৷ এদিকে প্রণবের আশেপাশে গাছের ডাল তো দূরে থাক, একটা ঢিল কি খোয়া পর্যন্ত পড়ে নেই৷

এদিকে কুকুরটা যেন জিভ বের করে হাঁফাচ্ছে আর প্রণবকে তীক্ষ্ণ চোখে মাপছে৷ ঝাঁপিয়ে পড়ার আগে বাঘ যেমন শেষবার শিকারকে মেপে নেয়, ওকে অনেকটা সেরকম দেখাচ্ছে৷

কোত্থেকে আরও দুটো কুকুর এসে দাঁড়াল৷ তাদেরও চেহারা ঠিক একইরকম, তারাও ঠিক একইরকমভাবে দেখতে শুরু করল প্রণবকে৷

এতদিন প্রণব এই গ্রামে আছে, অথচ কোনওদিন এরকম পাগল কুকুর দেখেনি৷ অবশ্য কোনওদিন ছিল না মানে এখনও থাকবে না, সেরকম কোনও কথা নেই৷

কিন্তু তবুও— একসঙ্গে তিন-তিনটে অস্বাভাবিক কুকুর... এতটা কাকতালীয়?

প্রণব টের পাচ্ছে, ওর বুকের ভিতরে কে যেন হাতুড়ি পিটছে৷ ও যথেষ্ট সাহসী, তবুও একটা আশ্চর্য ভয় ওর মনের মধ্যে আস্তে-আস্তে জেগে উঠছে৷ সেই ভয়, যা অজান্তেই গ্রাস করে ফেলে আত্মবিশ্বাস আর উপস্থিত বুদ্ধিকে৷ পশুদের মেজাজ-মর্জি বলে কথা! তার ওপর এই কুকুরগুলোর শ্বদন্তগুলো যেন অস্বাভাবিক ছুঁচালো৷ অবশ্য ভয়ের চোটেও প্রণবের এরকম মনে হতে পারে৷

মনে-মনে ঠিক করে নিল প্রণব, যদি কুকুরগুলো তেড়ে আসে— তবে ও স্ফটিক-গোলকটাই ছুঁড়ে মারবে৷ ওটা তো বেশ শক্তপোক্ত আছে৷ তারপর যা হবে দেখা যাবে...

প্রণব আস্তে-আস্তে ব্যাগে হাত ঢোকাল৷

আচমকা প্রথম কুকুরটা বিশ্রী সুরে ডেকে উঠল, অন্য কুকুরদুটোও তার সঙ্গে যোগ দিল৷ কী একটা অদ্ভুত স্বর! কাঠ চেরার কর্কশ শব্দ আর উঁচুস্বরের বিলাপ মিশে গেলে যেমন হয়, কিছুটা তেমন৷ যেন কত জন্মের শোক ওদের বুকের মধ্যে জেগে উঠেছে, কত হাহাকার ওদের গলায় এসে জড়ো হয়েছে, কোন এক সুতীব্র অভিঘাতে ওদের হৃদয় দুমড়ে-মুচড়ে যাচ্ছে...

কুকুরের গলায় এমন ডাক প্রণব জীবনে কখনও শোনেনি৷ ওরা যেন প্রণবকে এই সম্মিলিত ডাকটাই শোনাতে এসেছে! একটানা চলছে... চলছে... প্রণবের স্মৃতি থেকে সব আওয়াজ যেন মুছে যাচ্ছে, তন্ত্রীতে-তন্ত্রীতে সদর্পে বাজছে শুধু এই একটাই শব্দ৷ বিবশ হয়ে যাচ্ছে ওর হাত-পা, বোধবুদ্ধি লোপ পাচ্ছে৷

কিছুক্ষণ চলল এরকম৷ তারপর আচমকাই আওয়াজগুলো থেমে গেল৷ তিনটে কুকুরই রাস্তা থেকে নেমে পড়ল৷

চেতনা ফিরে আসতেই প্রণবও আর দেরি করল না; তাড়াতাড়ি পা চালিয়ে বাড়ি চলে এল৷

রত্না বারান্দাতেই বসে ছিল৷ বোধহয় প্রণবের জন্যই ও অপেক্ষা করছিল৷ ছেলের চেহারা দেখে ও চমকে উঠল, ‘একি! এই কয়েক ঘন্টায় তোর চোখ-মুখ এরকম শুকিয়ে গেছে কেন?’

প্রণব তাড়াতাড়ি হাসি টেনে বলল, ‘আসলে সারাদিন রোদে হাঁটাহাঁটি পড়েছে তো৷ তার ওপর, ট্রেনে যা ভীড়!’

রত্না রাগ করে বলল, ‘ওইজন্য বলি, গাড়িতে যা৷ তোরা ভাই-বোন আমার কোনও কথা শুনিস?’

গাড়ি নিতে যাওয়ার অসুবিধা মাকে বোঝানো অসম্ভব এবং অসুবিধা৷ তাই প্রণব কোনও উত্তর দিল না৷

রত্না জিজ্ঞাসা করল, ‘সে যাক গে যাক৷ কাজ মিটেছে তো?’

প্রণব যে কী কাজে গিয়েছিল— রত্না সেসব কিছুই জানে না৷ প্রণব বলেছে, ‘একটু দরকারে কলকাতায় যাব৷’ রত্নাও তাই নিয়ে খুশি থেকেছে৷ কেন যাচ্ছে, কোথায় যাচ্ছে— সেসব জানার আগ্রহ ওর নেই৷ শুধু ছেলে সারাদিনের কষ্টের ফল পেয়েছে কিনা, ওর সেটা জানলেই চলবে৷

প্রণব সিঁড়ির দিকে এগোতে-এগোতে বলল, ‘ওই একরকম৷ আমি ফ্রেশ হয়ে নীচে আসছি মা৷ তোমার সঙ্গে কয়েকটা দরকারি কথা আছে৷’

মিথিলের ব্যাপারে মায়ের সঙ্গে কথাটা যত তাড়াতাড়ি সম্ভব সেরে ফেলতে চায় প্রণব ৷

রত্না গলা উঁচু করে বলল, ‘দুটো লুচি ভাজব?’

‘ভাজো৷ আর একটু বেগুন...’

সকল অধ্যায়
১.
ম্যাজিক শো থেকে শুরু...
২.
সকালের হেডলাইন
৩.
দুর্ঘটনার পরে
৪.
‘সে’ আছে আড়ালে
৫.
রাত এবং উপহার
৬.
আবার রহস্যময় অঘটন
৭.
নিঝুম দুপুরের আগন্তুক
৮.
একটি প্রশ্নোত্তর পর্ব
৯.
শান্তির স্নান
১০.
কেমন আছে অনুরাধা?
১১.
নতুন দিনের প্রস্তুতি
১২.
স্বাগত আমার ঘরে
১৩.
আবার ম্যাজিক-শো
১৪.
বুবাই কোথায়
১৫.
আবার বাড়িতে ফেরা
১৬.
আয়না, ওয়াইন, পুতুল এবং...
১৭.
বিভীষিকাময় রাত
১৮.
কোকিল মানে বসন্ত; কোকিল মানে...
১৯.
আরেকটি ‘কেন’
২০.
সাফারি টাইম
২১.
ক্রিস্টাল-ক্লিয়ার ক্রিস্টাল বল শপ
২২.
ত্রুটি সংশোধন
২৩.
নখ কেন কালো
২৪.
স্বচ্ছ স্ফটিক; ঘোলা স্ফটিক
২৫.
ঢাকা থাক, থাক ঢাকা...
২৬.
বেড়ানোর ছবি
২৭.
বহুদিন পর; আবার!
২৮.
নিষ্ফলতার আক্রোশ
২৯.
একটুর জন্য...!
৩০.
অ-সাক্ষাৎ এবং সাক্ষাৎ
৩১.
‘সে’ ছিল, ‘সে’ আছে...
৩২.
একটা অন্যরকম রবিবার
৩৩.
প্রচেষ্টা এবং অভিজ্ঞতা
৩৪.
অন্তিম প্রস্তুতি
৩৫.
দৃশ্য এবং অদৃশ্য
৩৬.
কোন সে সুদূর অতীত হতে...
৩৭.
রইল বাকি এক
৩৮.
জানা এবং অজানা
৩৯.
সময় এসেছে কাছে
৪০.
ইট’স ফাইন
৪১.
ঘন হয়ে উঠেছে অন্ধকার
৪২.
শব্দটীকা
৪৩.
সহায়ক গ্রন্থপঞ্জী

নোট নিতে এবং টেক্সট হাইলাইট করতে লগইন করুন

লগইন
০%