চঞ্চলকুমার ঘোষ
সকালে যাত্রা শুরু করার পর একটি বারের জন্যেও কোথাও বিশ্রাম করেননি হিউ-এন-সাঙ। সঙ্গীদের মধ্যে কয়েক জন সামান্য ক্লান্ত হয়ে পড়েছিলেন। একজন বললেন, ধর্মগুরু এখানে কোথাও আমাদের আহারপর্ব শেষ করে নিই।
লজ্জিত হলেন হিউ-এন-সাঙ। নালন্দার কথা ভাবতে ভাবতে সঙ্গীদের ক্ষুধা-তৃষ্ণার কথা ভুলেই গিয়েছিলেন।
সামনে কয়েকটি কুটির চোখে পড়ছিল। সেখানেই একটি গাছের ছায়ায় সকলে বসলেন। আহারপর্ব শেষ হতেই হিউ-এন-সাঙ ব্যগ্র কণ্ঠে বললেন, চলো নালন্দার দিকে যাত্রা করি। সেই মহাতীর্থে পৌঁছোবার জন্যে আমার সমস্ত মন-প্রাণ ব্যাকুল হয়ে উঠেছে।
যাত্রা শুরু করতেই সমবেত কণ্ঠস্বর বাতাসে ভেসে এল। সকলে থমকে যায়। অল্পক্ষণ পরেই চোখে পড়ে অসংখ্য ভিক্ষু শ্রমণ সারিবদ্ধভাবে এগিয়ে আসছে।
সঙ্গী পথপ্রদর্শককে জিজ্ঞাসা করলেন হিউ-এন-সাঙ, এই শ্রমণের দল কোথায় চলেছেন ?
‘জানি না, ধর্মগুরু। হয়তো কোনোখানে ধর্মসভা হবে।’
সকলে পথ ছেড়ে এক প্রান্তে এসে দাঁড়ালেন। মিছিল এগিয়ে আসে। সকলের আগে একজন প্রবীণ সন্ন্যাসী। হাতে চামর, পুষ্পমালা।
হিউ-এন-সাঙ স্থির। প্রবীণ সন্ন্যাসী তঁাকে দেখামাত্রই উচ্ছ্বাসে ফেটে পড়লেন। তারপরই কাছে এসে বললেন, প্রণাম ধর্মগুরু। আপনিই তো সুদূর চিন থেকে ভারতবর্ষে এসেছেন?
হিউ-এন-সাঙ নতমস্তকে বললেন, আপনি ঠিকই অনুমান করেছেন।
মুহূর্তে প্রবীণ সন্ন্যাসী জয়ধ্বনি করে ওঠেন। চিন থেকে আগত মহান ধর্মগুরুকে স্বাগত জানাই।
শত শত কণ্ঠস্বরে মুখর হয়ে ওঠে চারিদিক, ‘স্বাগতম, স্বাগতম।’
হিউ-এন-সাঙ-এর বুকের মধ্যে বিচিত্র এক অনুরণন। একে একে অনেকেই তঁার গলায় মালা পরিয়ে দেন। স্তব্ধ বিস্ময়ে অল্প কিছুক্ষণ একটি শব্দও উচ্চারণ করতে পারেন না হিউ-এন-সাঙ। তারপরই চেতনার জগতে ফিরে এসে বললেন, আপনারা কোথা থেকে আসছেন ?
‘আমরা নালন্দা মহাবিহার থেকে আসছি। আপনাকে দর্শন করবার জন্য সেখানে সকলেই উদগ্রীব হয়ে রয়েছেন।’
অস্ফুটে হিউ-এন-সাঙ বললেন, এ আমার পরম সৌভাগ্য। আপনাদের সকলকে প্রণাম।
‘আপনি কত দীর্ঘ পথ পার হয়ে অবশেষে নালন্দায় এসেছেন।’
‘সবই ভগবান তথাগতের ইচ্ছা।’
একজন প্রবীণ শ্রমণ বললেন, চলুন ধর্মগুরু। সকলে আপনার জন্যে প্রতীক্ষা করছেন।
‘এগিয়ে চললেন হিউ-এন-সাঙ। তঁাকে ঘিরে সমবেত ভিক্ষুমণ্ডলী। পথের দুই পাশে সাধারণ মানুষ। সকলের চোখে বিস্ময়। সুদূর চিন থেকে এসেছেন কোনো দেবপুরুষ। তঁাকে একটি বারের জন্যে দর্শন করে জীবন সার্থক করবে।
সকলের স্বাগতম ধ্বনিতে মুখর হয়ে ওঠে আকাশ-বাতাস।
তারপর কয়েকটি গ্রাম পার হয়ে শুরু হয়েছে নালন্দা মহাবিহারের প্রাচীর। বিরাট ফটক। দুই দিকে সার দিয়ে ছাত্ররা দাঁড়িয়ে। সকলের হাতে রঙবেরঙের পতাকা। ফটক পার হয়ে নালন্দা মহাবিহারের সীমার মধ্যে প্রবেশ করতেই নানান বাদ্যযন্ত্র ও ঘণ্টার ধ্বনিতে চারদিক মুখর হয়ে ওঠে।
হিউ-এন-সাঙ-এর মনে হল ইতিপূর্বে তিনি বহু স্থানে গিয়েছেন। অভ্যর্থনাও পেয়েছেন। এই নালন্দায় এসে যা পেলেন তার কোনো তুলনা নেই।
কয়েক জন প্রবীণ শ্রমণ এগিয়ে এলেন। একজন পরিচয় করিয়ে দেন। এরা এই নালন্দা মহাবিহারের প্রবীণ আচার্য। জ্ঞানে প্রজ্ঞায় সর্বজনশ্রদ্ধেয়।
নতজানু হয়ে সকলের উদ্দেশ্যে প্রণাম জানান হিউ-এন-সাঙ।
একজন বললেন, আমরা বহুদিন ধরেই আপনার আগমনের প্রতীক্ষা করছি।
মৃদুস্বরে হিউ-এন-সাঙ বললেন, আমারও দীর্ঘ প্রতীক্ষার আজ সমাপ্তি হল। জ্ঞানের এই পুণ্যভূমিতে এসে আমি ধন্য।
‘চলুন সকলের আগে আমরা ‘‘সদ্ধর্মরক্ষক’’-এর কাছে যাব।’
কৌতুহলে হিউ-এন-সাঙ বললেন, সদ্ধর্মরক্ষক কে ?
একজন পরম শ্রদ্ধায় বললেন, নালন্দা মহাবিহারের অধ্যক্ষ মহাপ্রাজ্ঞ মহাস্থবির আচার্য শীলভদ্রকে এখানে সকলে ওই নামেই সম্বোধন করেন।
‘আমি ইতিপূর্বেই তঁার নাম শুনেছি। বহু আচার্য তঁাকে ধর্মরত্ন বলেও সম্বোধন করেন।’
হিউ-এন-সাঙ-এর কথা শুনে সকলেই প্রসন্ন হলেন। সামনেই একটি প্রশস্ত আঙিনা। সেখানে পাথরের বেদির উপর বসেছিলেন এক বৃদ্ধ সন্ন্যাসী। একজন বললেন, আসুন ধর্মগুরু, স্থবির ধর্মদাস আপনার জন্যে প্রতীক্ষা করছেন। উনি নালন্দা মহাবিহারের কর্মাধ্যক্ষ। এখানে বসবাসের অনুমতি কর্মাধ্যক্ষই দিয়ে থাকেন।
হিউ-এন-সাঙ কর্মাধ্যক্ষের সামনে গিয়ে দাঁড়াতেই বৃদ্ধ স্থবির উঠে দাঁড়ালেন। দু-হাত বাড়িয়ে তঁাকে আলিঙ্গন করে বললেন, মহামান্য ধর্মগুরুকে স্বাগত। এই মহাবিহারে আপনার ইচ্ছা অনুসারে অবস্থান করতে পারেন।
সঙ্গে সঙ্গে কর্মদান (ম্যানেজার) ঘণ্টা বাজিয়ে ঘোষণা করলেন, ধর্মগুরু (হিউ-এন-সাঙ) যতদিন নালন্দা মহাবিহারে অবস্থান করবেন, এখানকার সন্ন্যাসীদের মতো মহাবিহারের সব কিছু সামগ্রী ব্যবহার করবার ক্ষমতা থাকবে।
কর্মাধ্যক্ষ বললেন, মহামান্য ধর্মগুরু এবার আপনি মহাস্থবির আচার্য সদ্ধর্মরক্ষকের কাছে যান। তিনি আপনার সঙ্গে সাক্ষাতের জন্যে প্রতীক্ষা করছেন।
হিউ-এন-সাঙ নতমস্তকে বললেন, আমিও তঁার দর্শনের জন্যে ব্যাকুল হয়ে উঠেছি।
একজন প্রবীণ সন্ন্যাসী মৃদুস্বরে বললেন, ধর্মগুরু আপনি কি সদ্ধর্মমহাস্থবিরের কথা কিছু জানেন ?
‘অতি সামান্য জানি। শুনেছি তিনি ছিলেন সমতট রাজবংশের ব্রাহ্মণসন্তান। ভগবান বুদ্ধের মতোই রাজঐশ্বর্য তঁাকে আকর্ষণ করতে পারেনি। কৈশোর পার হতেই তিনি রাজসুখ পরিত্যাগ করে বৌদ্ধ সংঘে যোগ দিলেন। রাজপুত্র থেকে হলেন মহাভিক্ষু। মাত্র পঁচিশ বছর বয়সে নালন্দার আচার্য হন।’
প্রবীণ এক আচার্য বললেন, আপনি ঠিকই শুনেছেন ধর্মগুরু। অসাধারণ ছিল তঁার মেধা। মাত্র দশ বছরেই তিনি সমস্ত বৌদ্ধশাস্ত্র পড়ে ফেলেছিলেন। তিনিই হচ্ছেন একমাত্র আচার্য, যিনি বৌদ্ধ ও ব্রাহ্মণ্য শাস্ত্রের প্রতিটি বিষয় জানেন, তার অর্থ ব্যাখ্যা করতে পারেন।
‘চিন দেশে তঁার প্রসঙ্গে বলা হয় ‘‘জেঙ-ফা-জ্যাঙ’’। যার অর্থ সর্বশাস্ত্র বিশারদ।’
সকলে বিশাল এক কক্ষের দ্বারপ্রান্তে এসে পৌঁছেছিল। মুহূর্তে তারা শান্ত গম্ভীর হয়ে যায়।
হিউ-এন-সাঙ অনুভব করলেন তঁারা মহাস্থবির শীলভদ্রের কক্ষে এসেছেন।
কক্ষে প্রবেশ করতেই দেখলেন কক্ষের একপ্রান্তে উঁচু আসনে বসে আছেন মহাস্থবির শীলভদ্র। বয়স একশো পার হয়ে গিয়েছে। জরা গ্রাস করেছে। তবু চোখে-মুখে কী গভীর প্রশান্তি।
কয়েক মুহূর্ত স্থির হয়ে রইলেন হিউ-এন-সাঙ। ধীরে ধীরে ভূমিতে নতজানু হলেন। তারপর হামাগুড়ি দিয়ে এগিয়ে গেলেন। তারপর সাষ্টাঙ্গে প্রণাম করে তঁার পায়ে ফুল ছড়িয়ে দিলেন।
শীলভদ্র দুই হাত বাড়িয়ে দিলেন হিউ-এন-সাঙ-এর দিকে। তারপর মৃদুস্বরে আশীর্বাদ করে নিজের পাশের আসনে বসালেন।
উপস্থিত সকলেই শ্রদ্ধাবনত দৃষ্টিতে তঁার দিকে তাকিয়ে থাকেন। মহাস্থবির শীলভদ্রের পাশের আসনে বসবার যোগ্যতা নালন্দায় কারও নেই।
উপস্থিত সকলে আসন গ্রহণ করতেই শীলভদ্র জিজ্ঞাসা করলেন, তুমি কোথা থেকে আসছ ?
‘চিন থেকে আসছি। আপনার কাছে যোগাচারভূমি শাস্ত্র শেখবার জন্যে এখানে এসেছি।’
মুহূর্তে শীলভদ্রের দু-চোখ বেয়ে অশ্রুধারা গড়িয়ে পড়ল। তঁার সামান্য দূরে বসে ছিলেন শিষ্য ভ্রাতুষ্পুত্র বুদ্ধভদ্র। তঁার বয়স সত্তর। তিনি ত্রিপিটক বিশারদ ও মহাপণ্ডিত।
বুদ্ধভদ্রের দিকে চেয়ে শীলভদ্র বললেন, সকলের জানবার জন্য তিন বছর আগে আমার যে অসুখ ও কষ্ট হয়েছিল তার বিষয়ে কিছু বল।
গুরুর সেই ভয়ানক কষ্টের কথা ভেবে কেঁদে উঠলেন বুদ্ধভদ্র। তারপর শান্ত হয়ে বললেন, মহাস্থবির কুড়ি বছরের বেশি শূলবেদনায় কষ্ট পাচ্ছিলেন। তিন বছর আগে তার কষ্ট এমন ভয়ানক অবস্থায় পৌঁছোয় যে তা সহ্যের বাইরে চলে যায়। বেঁচে থাকবার সব আকাঙ্ক্ষা ত্যাগ করে তিনি মনস্থির করলেন প্রায়োপবেশনে দেহত্যাগ করবেন।
উপস্থিত সকলেই পরস্পরের মুখের দিকে তাকায়। এই সংবাদ তঁারা কেউ জানতেন না।
বুদ্ধভদ্র বলে চলেছেন। গুরুদেব যখন মৃত্যুর সংকল্প গ্রহণ করেছেন, সেইসময়ে একদিন রাত্রে স্বপ্ন দেখলেন তিন দেবতা তঁার সামনে এসে দাঁড়িয়েছেন।
‘তিন দেবতা!’
একজন অস্ফুটে বললেন, কোন দেবতা ?
‘তিন দেবতা, সকলেই সুদর্শন। মুখে প্রশান্তি, পরনে উজ্জ্বল বসন। একজন স্বর্ণাভ হলুদ, একজন হলুদ, আরেক জনের রজতশুভ্র বর্ণ। তিন দেবতা তঁাদের আত্মপরিচয় দিলেন। স্বর্ণাভ হলুদ বর্ণের দেবতা হলেন মঞ্জুশ্রী বোধিসত্ত্ব, হলুদ বর্ণের দেবতা হলেন অবলোকিতেশ্বর বোধিসত্ত্ব আর রজতশুভ্র বর্ণের দেবতা হলেন মৈত্রেয় বোধিসত্ত্ব। মৈত্রেয় বোধিসত্ত্ব বললেন, দেহত্যাগের এই সংকল্প তুমি পরিত্যাগ করো। এতে কারও লাভ নেই। আমরা তোমায় কিছু উপদেশ দেবার জন্যে এসেছি। আরও কয়েক বছর তোমাকে সদ্ধর্ম যোগাচারভূমি শাস্ত্র প্রচার করতে হবে। চিন থেকে একজন মহান জ্ঞানতাপস ভিক্ষু তোমার কাছে আসবেন শাস্ত্রজ্ঞান লাভ করবার জন্যে। তুমি তঁাকে শিক্ষা দেবে। এই বলে তিন দেবতা অদৃশ্য হয়ে গেলেন। আর আশ্চর্যের বিষয় এর পরেই গুরুদেব সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে উঠলেন।’
বুদ্ধভদ্রের এই কথা শুনে হিউ-এন-সাঙ-এর দু-চোখ বেয়ে জলের ধারা গড়িয়ে পড়ল। আনন্দে তঁার মন পূর্ণ হয়ে উঠল। তিনি অনুভব করেন তঁার ভারতবর্ষে আগমন, নালন্দায় শিক্ষাগ্রহণের জন্যে আসা, সবই ঈশ্বর নির্দিষ্ট। তিনি আবার শীলভদ্রকে প্রণাম করে বললেন, ঈশ্বরের আদেশ আমাকে পালন করতেই হবে। আমি আপনার সমস্ত আদেশ ও উপদেশ মেনে চলব। করুণা করে আমাকে আপনার শিষ্য হিসেবে গ্রহণ করুন।
শীলভদ্র তঁাকে শিষ্যত্বে গ্রহণ করে আশীর্বাদ করলেন।
বুদ্ধভদ্র বললেন, ধর্মগুরু আপনি দীর্ঘ পথ পার হয়ে এসেছেন। ক্লান্ত, পরিশ্রান্ত। এখন আমার গৃহে চলুন। সেখানেই বিশ্রাম নেবেন। আপনি ছাত্র হিসেবে এলেও এখানকার প্রধান আচার্যেরা যে-সমস্ত সুবিধা ভোগ করেন আপনাকে তা দেওয়া হবে।
পার্থিব সুখ আকাঙ্ক্ষার প্রতি কোনো আগ্রহ না থাকলেও সকলের আন্তরিকতায় মুগ্ধ হলেন হিউ-এন-সাঙ।
সামান্য দূরে বুদ্ধভদ্রের আবাস। সেখানে বিশ্রামকক্ষে হিউ-এন-সাঙ। বিশাল কক্ষ। কক্ষের চারদিকে বেদির উপর শ্বেতপাথরের ভগবান বুদ্ধের মূর্তি। অপলক চোখে সেই মূর্তির দিকে চেয়ে রইলেন কিছুক্ষণ।
বেলা শেষ। কক্ষের আলো-আঁধারের মধ্যে দাঁড়িয়ে বহুদিন আগের এক স্মৃতি মনের মধ্যে ভেসে আসে, চাঙ-আন নগরের বৌদ্ধ বিহারে প্রথম যে স্বপ্ন দেখেছিলেন।
জ্যোতির্ময় এক পুরুষ চলেছেন। হাতে ভিক্ষাপাত্র। তঁাকে অনুসরণ করছেন শত-সহস্র মানুষ। সকলের কণ্ঠে উচ্চারিত হচ্ছে একই মন্ত্র। তারা চলেছেন।
তিনি মুগ্ধ হয়ে চেয়ে আছেন। সেই আশ্চর্য পুরুষ চলেছেন কপিলাবস্তু থেকে বুদ্ধগয়া...সারনাথ থেকে রাজগৃহ...। যে-পথে তিনি চলেছেন, উদ্ভাসিত হয়ে উঠছে সেই পথ। আলোর রেণু ছড়িয়ে দিয়ে তিনি চলেছেন।
দেখতে দেখতে বিবশ হয়ে গিয়েছিলেন হিউ-এন-সাঙ। চেতনার গভীর থেকে বলে উঠেছিলেন, আমি যাব তোমার কাছে। ওই আলোর পথ ধরে।
অকস্মাৎ মন্ত্রধ্বনির সুরেলা উচ্চারণে চেতনার জগতে ফিরে এলেন হিউ-এন-সাঙ। ওই আলোর পথ ধরে অবশেষে তিনি এসে পৌঁছেছেন এই জ্ঞানতীর্থে। এবার শুরু হবে নতুন পথ চলা।
নোট নিতে এবং টেক্সট হাইলাইট করতে লগইন করুন
লগইন