মহাভিক্ষুণী

চঞ্চলকুমার ঘোষ

সাতদিন বুদ্ধগয়ায় ছিলেন হিউ-এন-সাঙ। প্রতিদিন সকলেই উৎসুক হয়ে তঁার ভ্রমণকথা শুনতেন। সেখানকার বৌদ্ধ শ্রমণরাও তঁাদের জ্ঞানের কথা বলতেন। একদিন হিউ-এন-সাঙ জিজ্ঞাসা করলেন, ভগবান বুদ্ধকে দর্শন করে যাঁরা অর্হত্ত্ব লাভ করেছিলেন, সেই সব মহাপুণ্যবান ভিক্ষু ও ভিক্ষুণীদের কথা জানতে চাই। তঁাদের পবিত্র জীবনকথা উত্তরকালের মানুষদের সঠিক জীবনপথে চলার নির্দেশ দেবে।

প্রবীণ বৌদ্ধ শ্রমণ বললেন, আপনি ঠিকই বলেছেন ধর্মগুরু। আমি সকলের কথা না জানলেও অনেকেরই জীবনকথা জানি। সাধারণ গৃহী মানুষদের মতো তাদের অনেকেরই জীবন ছিল দুঃখ-কষ্ট-যন্ত্রণাময়। জীবনের যথার্থ সুখ-আনন্দের স্বরূপ তঁাদের জানা ছিল না। লোভ, কামনা, বাসনা তাদের তাড়িয়ে নিয়ে বেড়াত। ভগবান বুদ্ধের করুণায় তঁাদের মুক্তি ঘটল। এঁদের মধ্যে ছিলেন গৌতমী, পটাচারা, ভদ্দা কুণ্ডলকেশা, উৎপলবর্ণা।

হিউ-এন-সাঙ বললেন, হে আচার্য, আপনি সেই মহাভিক্ষুণীদের জীবনকথা বলুন। আমার সমস্ত মনোজগৎ তঁাদের জীবনকথা শোনবার জন্যে ব্যাকুল হয়ে উঠেছে।

প্রবীণ শ্রমণ বললেন, প্রথমে মহাভিক্ষুণী ক্ষেমার কথা বলি। তিনি ছিলেন মগধরাজ বিম্বিসারের মহা মহিষী। রাজা বিম্বিসার ছিলেন ভগবান বুদ্ধের পরমভক্ত। যখনই বুদ্ধ মগধে আসতেন প্রতিদিন সমস্ত রাজকার্য শেষ করে বিম্বিসার বুদ্ধের কাছে যেতেন ধর্ম উপদেশ শুনতে। বিম্বিসার ছাড়াও রাজপ্রাসাদের সকলেই যেতেন বুদ্ধের কাছে। শুধু রাজমহিষী ক্ষেমা বুদ্ধের প্রতি একেবারেই শ্রদ্ধাশীল ছিলেন না। সেই কারণে কখনো বুদ্ধের কাছে যাওয়ার জন্যে সামান্যতম আগ্রহ অনুভব করতেন না। যাঁরা বুদ্ধের কাছে যেতেন তঁাদের সকলকে পরিহাস করতেন। মহারাজ বিম্বিসার অনুরোধ করলে ক্ষেমা জবাব দিতেন, আমি জগতের শ্রেষ্ঠ সুন্দরী। রূপে-গুণে এই বিশ্বে আমার কোনো তুলনা নেই। এই রূপ দর্শন করার জন্যে পুরুষরাই আমার কাছে আসে। কারও কাছে আমি যাই না। বুদ্ধই আমার কাছে আসবেন আমি তঁার কাছে যাব না।

বিম্বিসারের অনুরোধ সত্ত্বেও ক্ষেমা বুদ্ধকে দর্শন করতে গেলেন না। রূপের অহংকার তঁার স্বাভাবিক বোধকে আচ্ছন্ন করে রেখেছিল। যখনই শুনতেন নগরের সকলে বুদ্ধের কাছে যাচ্ছেন, এমনকী রাজপ্রাসাদের দাস-দাসীরাও প্রতিদিন বুদ্ধকে দর্শন করবার জন্যে যান নিজের অন্তর জুড়ে প্রবল এক ক্ষোভ শুরু হল। কীসের এই আকর্ষণ যার জন্যে দলে দলে মানুষ চলেছে ওই সর্বত্যাগী সন্ন্যাসীর কাছে। একদিন এক সহচরীকে জিজ্ঞাসা করলেন, ‘কীসের জন্যে তোরা বুদ্ধের কাছে যাস ?’ সহচরী বলল, ‘তঁাকে দর্শন করবার জন্যে।’

‘তিনি কি আমার চেয়েও সুন্দর ?’

সহচরী জবাব দেয়, ‘তিনি পরম সুন্দর। তঁাকে দর্শন করলে মন-প্রাণ আনন্দে ভরে ওঠে।’

ক্ষেমার সমস্ত অন্তর জুড়ে ক্ষোভ আর ঈর্ষার আগুন জ্বলতে থাকে। কেউ কেউ বুদ্ধের কাছে অনুযোগ করে সকলে আপনার কাছে আসে, শুধু ক্ষেমা নিজের রূপের অহংকারে আপনাকে উপেক্ষা করল। কোনো জবাব দেন না বুদ্ধ। শুধু মৃদু হাসেন।

বুদ্ধের এই উপেক্ষা মেনে নিতে পারেন না ক্ষেমা। তীব্র এক অস্থিরতা অনুভব করেন নিজের মনে। একদিন স্থির করলেন তিনি ছদ্মবেশে যাবেন, দেখবেন বুদ্ধ কি তারও চেয়ে রূপবান ?

প্রতিদিন যখন বুদ্ধ সর্বসাধারণকে উপদেশ দিতেন। সেইসময় সেখানে উপস্থিত হলেন ক্ষেমা। পাছে কেউ চিনতে পারে তাই ওড়নায় মুখ ঢেকে নিয়েছেন। একটা গাছের নীচে বসে উপদেশ দিচ্ছিলেন বুদ্ধ।

ক্ষেমা তঁার দিকে তাকাতেই চমকে উঠলেন, বিস্ময়ভরা চোখে দেখলেন বুদ্ধের দু-পাশে দুটি নারী তঁাকে পাখার বাতাস করছে। সেই দুই নারী স্বর্গের দেবীর চেয়েও সুন্দরী। স্তম্ভিত হয়ে গেলেন ক্ষেমা। মনে হল তঁার চেয়েও ওই দুই নারী লক্ষ-কোটিগুণ সুন্দরী। এমন রূপ যদি তিনি পেতেন, ধন্য হয়ে যেত জীবন। ভাবনার রেশটুকু মিলিয়ে যাবার আগেই চমকে উঠলেন, দেখলেন দুই সুন্দরী নারীর রূপ হারিয়ে গিয়েছে। সমস্ত দেহ জুড়ে বার্ধক্যের চিহ্ন। ক্রমশই জরা তাদের গ্রাস করল। তারপরই বিস্ময়ভরা চোখে দেখলেন, কোথায় নারী ! সেখানে দাঁড়িয়ে দুটি কঙ্কালসার কুৎসিত ভয়ংকর দেহ।

ক্ষেমা উপলব্ধি করলেন, যে-রূপের অহংকার তার মনকে আচ্ছন্ন করে রেখেছিল, এই তঁার অন্তিম পরিণতি। বুঝলেন ভগবান বুদ্ধ তঁাকে এইভাবে শিক্ষা দিলেন। মুহূর্তে মনের সব সংশয় কেটে গেল। ছুটে গিয়ে বুদ্ধের পদপ্রান্তে লুটিয়ে পড়লেন। বুদ্ধ সস্নেহে বললেন, আমি তোমারই জন্যে প্রতীক্ষা করছিলাম ক্ষেমা। তোমার কল্যাণ হোক।

প্রাসাদে ফিরে গেলেন ক্ষেমা। আর সংসারে মন বসল না। অনুভব করছিলেন দেহের এই রূপ, রাজসুখ সবই অনিত্য। ক্ষণিকের মোহ। সব কিছু ত্যাগ করে তিনি ভিক্ষুণী সংঘে প্রবেশ করলেন। উত্তরকালে ত্যাগ আর সাধনার শক্তিতে ভিক্ষুণীদের মধ্যে অগ্রগণ্যা ছিলেন। তিনি বুদ্ধের দক্ষিণ দিকে স্থান পেতেন বলে তঁাকে বলা হত দক্ষিণ হস্ত শ্রাবিকা।

বুদ্ধের ভিক্ষুণী সংঘের আরেক অগ্রগণ্যা ভিক্ষুণী হলেন উৎপলবর্ণা। তিনি ছিলেন শ্রাবস্তীর এক শ্রেষ্ঠীর কন্যা। অসাধারণ রূপবতী উৎপলবর্ণার গায়ের রং ছিল পদ্মের মতো নীলাভ। উৎপলবর্ণার রূপের খ্যাতি ছড়িয়ে পড়েছিল চারদিকে। তঁাকে পাবার জন্যে অভিজাত সম্প্রদায়ের মধ্যে বিরোধ শুরু হয়ে গেল। সকলেই চায় উৎপলবর্ণা তঁার স্ত্রী হবে। মহা ভাবনায় পড়ে গেলেন উৎপলবর্ণার পিতা। যাঁরা তঁার কন্যাকে বিবাহ করতে চায়, রূপে-গুণে-অর্থে সমাজের প্রভাব প্রতিপত্তিতে কেউ কারও চেয়ে কম নয়। অনেকেই যথেষ্ট ক্ষমতাবান। এদের মধ্যে একজনের সঙ্গে যখনই উৎপলবর্ণার বিবাহ হবে, অন্যরা ক্ষুব্ধ হবে, তারা শক্রতা করবে। সংসারের সুখ-শাস্তি সব বিনষ্ট হবে।

দুশ্চিন্তায় একেবারে ভেঙে পড়লেন উৎপলবর্ণার পিতা। কী করবেন মনস্থির করতে পারেন না। পিতার যন্ত্রণাটুকু অনুভব করেন উৎপলবর্ণা। একদিন দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে আছেন এমন সময় দেখলেন এক বৌদ্ধ ভিক্ষু পথ দিয়ে চলেছেন। চোখে-মুখে কী প্রশান্তি। তিনি বৌদ্ধ ভিক্ষুককে জিজ্ঞাসা করলেন, কোথায় পেলেন এই প্রশান্তি। ভিক্ষু বললেন, যাঁরা ভগবান বুদ্ধের স্মরণ নেন তঁাদের জীবন, শান্তি আর পরম আনন্দে পূর্ণ হয়ে ওঠে।

উৎপলবর্ণার মনে হল তিনিও যাবেন ভগবান বুদ্ধের কাছে। তখন জেতবনে ছিলেন বুদ্ধ। তঁাকে প্রণাম করতেই বুদ্ধ বললেন, তুমি সংসারের মায়া-মোহ ত্যাগ করে ধর্মের শরণ নাও, তাহলে শান্তি পাবে।

‘আমার পিতা ?’

বুদ্ধ প্রসন্ন মুখে বললেন, তিনিও শান্তি পাবেন।

উৎপলবর্ণা বললেন, আমি আপনার স্মরণ নিলাম। আমাকে সন্ন্যাস দিন।

ভগবান বুদ্ধ তঁাকে দীক্ষা দিলেন। সংসারের সকল বন্ধন মুক্ত হয়ে উৎপলবর্ণা ভিক্ষুণী সংঘে যোগ দিলেন। অসাধারণ ছিল তঁার মেধা আর ঋদ্ধিশক্তি। একবার কিছু জৈন সাধু এলেন। তঁারা সগর্বে ঘোষণা করলেন বুদ্ধের ঋদ্ধিশক্তি পরীক্ষা করবেন। বুদ্ধ প্রকৃত জ্ঞানী না ভণ্ড সর্বসমক্ষে প্রমাণিত হবে। ভগবান বুদ্ধের প্রতি এই অপমানকর মন্তব্যে ভয়ংকর ক্রুদ্ধ হলেন উৎপলবর্ণা। তিনি বললেন, আমি ওই জৈন সাধুদের তর্কে পরাজিত করব। তর্কের স্থান ও দিন স্থির করা হোক।

ভগবান বুদ্ধ এই সংবাদ পেলেন।

তিনি ডেকে পাঠালেন উৎপলবর্ণাকে। বললেন, এই তর্কযুদ্ধের কোনো প্রয়োজন নেই। প্রকৃত জ্ঞানী কখনো জ্ঞানের আস্ফালন করে না।

বুদ্ধের আদেশ স্বীকার করে নিলেন উৎপলবর্ণা। পরবর্তীকালে বুদ্ধ ঘোষণা করলেন, ঋদ্ধিমন্তী ভিক্ষুণীদের মধ্যে উৎপলবর্ণা শ্রেষ্ঠ। সকল ভিক্ষুণীদের তিনি আদর্শ।

উৎপলবর্ণার কথা শেষ হতে হিউ-এন-সাঙ বললেন, ধন্য সেই সব ভিক্ষুণী-মাতা যাঁরা ভগবান তথাগতের করুণা লাভ করেছিলেন। নিজ তপস্যার প্রভাবে অর্হত্ত্ব অর্জন করেছেন। তঁাদের সকলকে আমার প্রণাম।

বৃদ্ধ শ্রমণ বললেন, আরেক মহা সাধিকার কথা বলি যিনি ভগবান বুদ্ধের করুণায় যন্ত্রণাময় এক জীবন থেকে সাধনার মহত্তম স্তরে উত্তীর্ণ হয়েছিলেন। তঁার নাম কিসা গৌতমী। কিসা গৌতমী ছিলেন শ্রাবস্তীর এক ধনী পরিবারের বধূ। বিবাহের বেশ কয়েক বছর তঁার কোনো সন্তান হয়নি। সন্তানের জন্যে মনে মনে ব্যাকুল হয়ে উঠেছিলেন। মনে হত যার সন্তান নেই তার জীবন বৃথা। অবশেষে পুত্রসন্তানের মা হলেন কিসা গৌতমী। ছেলেকে এক মুহূর্তের জন্য দৃষ্টির আড়ালে রাখেন না কিসা। ছেলেই তঁার ধ্যান-জ্ঞান চোখের মণি। দেখতে দেখতে কয়েক বছর কেটে গেল। হঠাৎ একদিন অসুস্থ হয়ে পড়ল ছেলেটি। নগরের সবচেয়ে বড়ো চিকিৎসককে ডাকা হল। চিকিৎসা শুরু করবার আগেই মারা গেল ছেলেটি। ছেলেকে হারিয়ে পাগলের মতো হয়ে গেলেন কিসা গৌতমী। কী করে মৃত ছেলেকে বাঁচানো যায় তার জন্যে নগরের প্রান্তে প্রান্তে ছুটে বেড়াতে আরম্ভ করলেন। যাকেই দেখেন তাকেই জিজ্ঞাসা করেন তুমি কি জান, কোন ওষুধে আমার সন্তান আবার জীবিত হয়ে উঠবে ? সকলেই মাথা নিচু করে বলে, আমরা জানি না। মায়ের ওই করুণ দৃশ্য দেখে সকলেই ব্যথিত হয়। যদিও কোনো কিছুই তাদের করণীয় নেই। অবশেষে একজন বললেন, নগরপ্রান্তে রাজউদ্যানে এখন অবস্থান করছেন ভগবান বুদ্ধ। তিনি মহাজ্ঞানী। তিনি নিশ্চয়ই পুণর্জীবনের ওষুধ বলে দেবেন।

মৃত সন্তানকে বুকে নিয়ে বুদ্ধের কাছে গেলেন কিসা গৌতমী। বুদ্ধ তখন শিষ্যদের উপদেশ দিচ্ছিলেন। তঁার পায়ের উপর লুটিয়ে পড়লেন কিসা গৌতমী। ভগবান আপনি মহাজ্ঞানী, বহু কিছু জানেন। আমার এই একমাত্র সন্তানের মৃত্যু হয়েছে। তাকে আবার জীবিত করতে পারি এমন কোনো ওষুধের কথা বলুন।

বুদ্ধ অনুভব করলেন মাতৃহৃদয়ের গভীর যন্ত্রণা। কোনো উপদেশ না দিয়ে বললেন, আমি একটি ওষুধ জানি যাতে তোমার সন্তান আবার জীবিত হবে। তার জন্যে প্রয়োজন এক মুঠো সরিষা।

কিসা গৌতমী তৎক্ষণাৎ বললেন, আমি এখনই ঘর থেকে এক মুঠো সরিষা নিয়ে আসছি।

বুদ্ধ বললেন, তোমার গৃহ থেকে নয়। তুমি নগরে যাও। যে-বাড়িতে ইতিপূর্বে কখনো পিতা-মাতা–ভ্রাতা-ভগিনী-পুত্র-কন্যা বা দাস-দাসীর মৃত্যু হয়নি এমন বাড়ি থেকে এক মুঠো সরষে নিয়ে আসবে।

তখনই নগরের দিকে রওনা হলেন কিসা গৌতমী। যে বাড়িতেই যান, জানতে পারেন সেখানে কারও না কারও মৃত্যু হয়েছে। সমস্ত দিন নগর পরিক্রমা করেও এমন একটি বাড়ি পেলেন না কিসা গৌতমী যেখানে মৃত্যু প্রবেশ করেনি। তখন তিনি উপলব্ধি করলেন মৃত্যু জীবনের এক অবশ্যম্ভাবী পরিণতি। পৃথিবীতে যে জীবই জন্মগ্রহণ করে তাকেই মৃত্যুবরণ করতে হয়। শোকের ছায়া মুছে গেল তঁার অন্তর থেকে। সন্তানকে শ্মশানে নিয়ে গিয়ে তার অন্তিম সংস্কার করলেন। তারপর এলেন বুদ্ধের কাছে। বুদ্ধ বললেন, গৌতমী তুমি কি এক মুঠো সরিষা পেয়েছ ?

গৌতমী বললেন, আমি অনুভব করেছি অনিত্য এ জীবন। সন্তানের দেহ সংস্কার করেছি। আর সরিষার প্রয়োজন নেই।

বুদ্ধ প্রসন্নকণ্ঠে বললেন, এই পৃথিবীতে সবই অনিত্য। সকল দেব-মানবই এই অনিত্যতার শিকার। প্রবল জলস্রোত যেমন গ্রাম-নগর ভাসিয়ে নিয়ে যায়, মৃত্যুও তেমনি সমস্ত জীবকুলকে ভাসিয়ে নিয়ে যায়। পিতা-পুত্র-বন্ধু-জ্ঞাতি কেউ মৃত্যু থেকে মুক্তি দিতে পারে না। যিনি এই সত্য উপলব্ধি করেন তিনিই নির্বাণের পথে এগিয়ে যান।

বুদ্ধের উপদেশ শুনে গৌতমীর মন থেকে সংসারের সমস্ত মোহ-মায়া-শোক দূর হয়ে গেল। বললেন, প্রভু আপনার স্মরণ নিলাম। আপনি আমাকে মুক্তির পথে নিয়ে চলুন।

বুদ্ধের শিষ্যত্ব গ্রহণ করলেন কিসা গৌতমী। সংসার ত্যাগ করে ভিক্ষুণী সংঘে যোগ দিলেন।

কিসা গৌতমীর কাহিনি শেষ করে বৃদ্ধ শ্রমণ বললেন, এইভাবেই ভগবান বুদ্ধ মানুষকে শিক্ষা দিতেন।

হিউ-এন-সাঙ একাগ্রভাবে কিসা গৌতমীর জীবনকথা শুনছিলেন। বললেন, ভগবান তথাগতের জীবন তঁার শিক্ষা ছিল সহজ সরল তাই সকলে তা গ্রহণ করতে পেরেছিল।

বৃদ্ধ শ্রমণ বললেন, আপনি ঠিকই বলেছেন ধর্মগুরু। শুধু তাই নয়, ভগবান বুদ্ধের সময়ে এই দেশের মানুষ ব্রাহ্মণ্য ধর্মে বিশ্বাস করত। ব্রাহ্মণেরাই ছিল সমাজের সবচেয়ে ক্ষমতাশালী। তারা বেদ-উপনিষদ রচনা করেছিল। সমাজে নিজেদের প্রভুত্ব বিস্তার করেছিল। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সমাজে পরিবর্তন শুরু হল। আগে মানুষ শুধু কৃষিকাজ করত। এরপর মানুষ ব্যবসাবাণিজ্য শুরু করল। ফলে শ্রেষ্ঠী নামে এক শ্রেণির বণিকের উদ্ভব হল। কৃষক-ব্যবসায়ী এমনকী শূদ্ররাও বাণিজ্যের ফলে সম্পদশালী হয়ে উঠল। তা ছাড়া ব্রাহ্মণরা সেইসময়ে যজ্ঞ করত। আর সেই যজ্ঞে প্রচুর পরিমাণে গোরু হত্যা করে তার মাংস আহুতি দেওয়া হত। এইভাবে গো-হত্যা করার জন্যে চাষবাস করতে অসুবিধা হত। তা ছাড়া গোরুর দুধ নানান কাজে লাগত। গো-হত্যা করার জন্য গোরুর দুধের জোগান ব্যাহত হত। এইসব কারণে সাধারণ মানুষরা ব্রাহ্মণদের উপর অসহিষ্ণু হয়ে উঠল। তা ছাড়া সমাজে অর্থনৈতিক পরিবর্তনের ফলে মানুষ আর আগের মতো ব্রাহ্মণদের প্রাধান্য স্বীকার করল না। আরও একটা কারণ ছিল ব্রাহ্মণদের মধ্যে ব্যভিচার, মিথ্যাচার, ধর্মের গোঁড়ামি, ধর্মের নামে সাধারণ মানুষকে শোষণ এমন জায়গায় পৌঁছোল যে নীচের তলার মানুষদের মধ্যে ক্ষোভ-অশান্তি বাড়তে লাগল। এইসব কারণে সমাজের এতদিনকার যাগযজ্ঞ, পুজো, আচার অনুষ্ঠানসর্বস্ব জটিল ধর্মের জায়গায় ভগবান বুদ্ধ নিয়ে এলেন সহজ সরল মানুষের ধর্ম। তাই মানুষ সহজেই তঁার ধর্ম গ্রহণ করল।

হিউ-এন-সাঙ বললেন, আপনি ঠিকই বলেছেন, যেকোনো জটিল বিষয়ের চেয়ে সহজ সরল বিষয়ের প্রতিই মানুষ বেশি আকর্ষণ বোধ করে।

বৃদ্ধ শ্রমণ বললেন, শুধু পুরুষরাই নয়, মেয়েরাও নিজেদের অন্তর জ্বালা মেটাবার জন্যে ভগবান বুদ্ধের কাছে নিজেদের সমর্পণ করেছেন।

হিউ-এন-সাঙ বললেন, হে মহামান্য আচার্য, আপনি ক্ষেমা, উৎপলবর্ণা, কিসা গৌতমীর কথা বললেন। এই রকম আর কারও জীবনকথা কি জানা আছে ?

শ্রমণ হিউ-এন-সাঙ-এর আন্তরিকতায় মুগ্ধ হলেন। বললেন, দু-জনের কথা বলছি। একজন পটাচারা আর একজন ভদ্দা কুণ্ডলকেশা। পটাচারার মতো দুঃখিনী নারী খুব কম দেখা যায়। শ্রাবন্তীনগরের রাজার প্রধান কোষাধ্যক্ষের একমাত্র কন্যা ছিলেন পটাচারা। পটাচারা ছিলেন অসাধারণ সুন্দরী। রূপ-যৌবনের মোহে তঁাদের পরিবারের এক পরিচারকের সঙ্গে অবৈধ সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন। পরিবারের সকলের অজ্ঞাতে সেই পরিচারক পটাচারাকে নিয়ে পালিয়ে গেলেন। নগরের বাইরে এক নদীর তীরে তঁারা কুটিরে আশ্রয় নিলেন। আজন্ম সুখে পালিত পটাচারার দুঃখের দিন শুরু হল। এক বছর পর যমজ পুত্রের জন্ম হল। তখন ঘোর বর্ষা। খাদ্যের সন্ধানে গিয়েছিল পটাচারার স্বামী। পথিমধ্যে এক বিষাক্ত সাপ তাকে কামড়াল। ঘরে ফিরে এসেই মারা গেল পটাচারার স্বামী। রাতে প্রবল বৃষ্টি শুরু হল। নদীর জল বাড়তে আরম্ভ করল। সেই জলস্রোতে ভেসে গেল পটাচারার ঘর, তঁার দুই সন্তান। কোনোরকমে নিজের প্রাণ বাঁচান পটাচারা। চরম অসহায় অবস্থায় স্থির করেন পিতার গৃহে ফিরে যাবেন। নগরের মধ্যে দিয়ে যখন পিতার গৃহের দিকে চলেছেন, দেখলেন আগের দিন রাতে প্রবল ঝড়বৃষ্টিতে নগরের অধিকাংশ বাড়ি-ঘরই ধ্বংস হয়ে গিয়েছে। যখন নিজের গৃহে এসে পৌঁছোলেন, দেখলেন এক ভয়াবহ দৃশ্য। ঝড়ে সমস্ত বাড়ি ধূলিসাৎ হয়ে গিয়েছে। ঘরে সামনে সার দেওয়া পিতা, মাতা, একমাত্র ভাইয়ের মৃতদেহ। এই দৃশ্য দেখে শোকে উন্মাদের মতো হয়ে গেলেন পটাচারা। প্রতিমুহূর্তে মনে হল এই সংসারে, বিশ্বপ্রকৃতিতে তঁার আর আপনার কেউ নেই। মানসিক শক্তি হারিয়ে ফেললেন। পার্থিব সব কিছুর প্রতি আকর্ষণ হারিয়ে পথে পথে ঘুরে বেড়ান। কেউ দয়া করে কিছু দিলে খান, না হলে অভুক্ত থাকেন। পরনের পোশাক ছিন্নভিন্ন হয়ে যায়। লজ্জাবোধটুকুও হারিয়ে যায়। উলঙ্গ অবস্থায় পথে ঘুরে বেড়ান। একদিন পরিচিত একজন তঁাকে দেখতে পেয়ে নিজের বস্ত্র দিয়ে তঁার শরীর ঢেকে দিয়ে বললেন, তোমাকে এই অবস্থায় দেখে আমার সমস্ত অন্তর বেদনায় ভরে উঠেছে। জানি না কবে তোমার এই দুঃখের দিন শেষ হবে।

পটাচারা বললেন, মৃত্যু ছাড়া কেউ আমার দুঃখ দূর করতে পারবে না।

সেইসময়ে সেই পথ দিয়ে চলেছিলেন এক বৌদ্ধ ভিক্ষু। সে পটাচারার দুঃখের কথা শুনে বলল, তুমি ভগবান বুদ্ধের কাছে চলো, তিনি তোমার সব দুঃখ দূর করে দেবেন।

সেই ভিক্ষু পটাচারাকে নিয়ে গেল ভগবান বুদ্ধের কাছে। বুদ্ধকে দেখেই তঁার পায়ে লুটিয়ে পড়লেন পটাচারা। অশ্রুসজল চোখে বললেন নিজের জীবনের কথা।

বুদ্ধ তঁাকে সান্ত্বনা দিয়ে বললেন, তুমি যা হারিয়েছ আর কোনোদিন তা ফিরে পাবে না। তোমার এই দুঃখ শুধু এই জন্মের নয়, আগের জন্মেও তুমি স্বামী-সন্তান হারিয়েছ। জন্মজন্মান্তরে তোমার চোখ থেকে এত জল ঝরেছে তা চার সমুদ্রের জলের চেয়েও বেশি। এ সংসারে সবই অনিত্য। আর যা অনিত্য তার জন্যে শোক করা বৃথা।

বুদ্ধের উপদেশে পটাচারার অশান্ত হৃদয়ে শান্তি ফিরে এল। তিনি বুদ্ধের কাছে দীক্ষা নিয়ে ভিক্ষুণী সংঘে যোগ দিলেন। পরবর্তীকালে পটাচারার খ্যাতি এতই ছড়িয়ে পড়েছিল একদিন ভগবান বুদ্ধ সমস্ত ভিক্ষু-ভিক্ষুণীদের কাছে বললেন, সমস্ত ভিক্ষুণীদের মধ্যে আমার পটাচারা অগ্রস্থানীয়া।

পটাচারার কাহিনি শেষ করে বৃদ্ধ শ্রমণ বললেন, এবার ভদ্দা কুণ্ডলকেশার কথা বলব। বড়ো বিচিত্র তঁার জীবন। তিনি ছিলেন রাজগৃহের এক শ্রেষ্ঠীর কন্যা। যেদিন তঁার জন্ম হয়, সেদিন রাজপুরোহিতের এক পুত্রসন্তানের জন্ম হয়। তার নাম ছিল সত্তুক। ছেলেবেলা থেকেই সত্তুক ছিল অসৎ চরিত্রের। তবু কুণ্ডলকেশার সঙ্গে প্রেম গড়ে উঠেছিল। প্রথম যৌবনে সত্তুক এমন এক অপরাধ করে যার জন্যে তঁাকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হল। যখন সত্তুককে বধ্যভূমিতে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে সেইসময় তাকে দেখে কুণ্ডলকেশা এমন বিচলিত হয়ে পড়লেন যে তখন নিজের পিতার কাছে গিয়ে বললেন, যেভাবে সম্ভব সত্তুককে মুক্ত করতে হবে। একমাত্র কন্যার অনুরোধ উপেক্ষা করতে পারলেন না শ্রেষ্ঠী। নগরপালকে প্রচুর অর্থ ঘুস দিয়ে সত্তুককে মুক্ত করলেন। সত্তুককে নিজের গৃহে নিয়ে এলেন। কারাগারে অসুস্থ হয়েছিল সত্তুক। কয়েক দিনের সেবাযত্নে আবার সুস্থ হয়ে উঠল। সেইদিন গৃহে কোনো অনুষ্ঠান ছিল। কুণ্ডলকেশা সর্বাঙ্গে বহুমূল্য রত্ন অলংকার পরেছিলেন। বহুমূল্য এই অলংকার দেখে সত্তুকের মনে হল, যদি এই সব অলংকার কোনোভাবে চুরি করতে পারে, তবে অন্য কোথাও গিয়ে রাজসিক সুখে দিন কাটাতে পারবে। সে কুণ্ডলকেশাকে বলল, পাহাড়ের উপর দেবতার মন্দির রয়েছে, সেখানে আমাদের নতুন জীবনের মঙ্গল কামনায় পুজো দেব। তুমি আমার সঙ্গে চলো।

কুণ্ডলকেশা সরলচিত্তেই সত্তুকের কথায় রাজি হলেন। দু-জনে পাহাড়ের উপর যেতেই সত্তুক কোমরে লুকিয়ে রাখা ছুরি বার করে বলল, তোমার সমস্ত অলংকার আমায় দাও।

কুণ্ডলকেশা ছিলেন বুদ্ধিমতী। তিনি বুঝতে পারলেন সত্তুক শুধু গহনা নিয়ে তঁাকে মুক্তি দেবে না। নিজের অপরাধ গোপন করবার জন্যে তঁাকে খুন করবে। মনে মনে প্রাণরক্ষার একটা উপায় বার করলেন। তিনি মধুর কণ্ঠে বললেন, আমার এই অলংকার তোমার প্রয়োজন একথা গৃহে বললেও তোমাকে সব দান করতাম। এসো, আগে আমাকে আলিঙ্গন করো। তোমার স্পর্শে আমার মন-প্রাণ ভরে উঠুক। তারপর তোমার মনের সব ইচ্ছা পূর্ণ করব।

সত্তুক কুণ্ডলকেশার প্রকৃত উদ্দেশ্য বুঝতে পারল না। এগিয়ে এসে কুণ্ডলকেশাকে আলিঙ্গন করল। এই সুযোগের প্রতীক্ষায় ছিলেন কুণ্ডলকেশা। সত্তুক অসতর্ক হতেই সমস্ত শক্তি দিয়ে তাকে আঘাত করলেন কুণ্ডলকেশা। পাহাড় থেকে বহু নীচে গড়িয়ে পড়ে সত্তুকের মৃত্যু হল। বিশ্বাসঘাতকতার এই যন্ত্রণা সইতে না পেরে কুণ্ডলকেশা আর গৃহে ফিরে গেলেন না। নগরের প্রান্তে ছিল জৈন সন্ন্যাসীদের সংঘ। সেখানে গিয়ে আশ্রয় নিলেন। শুরু হল কঠোর কৃচ্ছ্রসাধনা। তঁার সমস্ত চুল কেটে দেওয়া হল। অল্পদিন পর দেখা গেল তঁার মাথায় কুণ্ডলাকারে নতুন কেশ জন্ম নিয়েছে। তখন তঁার নাম রাখা হল ‘কুণ্ডলকেশা’। জৈন সংঘে কিছুদিন শাস্ত্রচর্চা করলেন। সেখানে তঁার মন তৃপ্ত হল না। সংঘ ত্যাগ করে পথে বেরিয়ে পড়লেন তিনি। বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ঘুরে ঘুরে শিক্ষালাভ করতে থাকেন। কয়েক বছরের মধ্যেই বিভিন্ন শাস্ত্রে গভীর জ্ঞান অর্জন করেন। চারিদিকে তার পাণ্ডিত্যের খ্যাতি ছড়িয়ে পড়ল। একদিন শ্রাবন্তী নগরে গিয়ে বালির স্তূপ গড়লেন। তার উপর একটা গাছের ডাল পুঁতে ঘোষণা করলেন, যে আমার সঙ্গে তর্কযুদ্ধ করতে চায়, সে এই গাছের ডাল পদদলিত করুক। সেইসময় সেই পথে চলেছিলেন ভগবান বুদ্ধের শিষ্য সারিপুত্র। তঁার সাক্ষী ছিল কয়েকটি বালক। তিনি বালকদের বলে ওই গাছের ডাল পদদলিত করলেন।

কুণ্ডলকেশা তখনই সারিপুত্রকে তর্কযুদ্ধে আহ্বান করলেন। স্থির হল প্রথমে প্রশ্ন করবেন কুণ্ডলকেশা। উত্তর দেবেন সারিপুত্র। সেইমতো প্রশ্ন করতে আরম্ভ করলেন কুণ্ডলকেশা। নিজের জ্ঞানবুদ্ধি উজাড় করে কঠিন কঠিন প্রশ্ন করতে থাকেন। প্রতিটি প্রশ্নেরই সঠিক উত্তর দেন সারিপুত্র। কুণ্ডলকেশার প্রশ্ন শেষ হতেই সারিপুত্র প্রশ্ন করলেন। একের-পর-এক এমন সব প্রশ্ন করলেন যার উত্তর জানা নেই কুণ্ডলকেশার। একসময় পরাজয় স্বীকার করে নিয়ে বললেন, আমি আপনার শিষ্যত্ব গ্রহণ করতে চাই। সারিপুত্র বললেন, আমি আপনার গুরু হবার যোগ্য নই। যিনি প্রকৃতই আপনাকে পথ দেখাতে পারেন, আপনি সেই ভগবান বুদ্ধের শরণ নিন।

কুণ্ডলকেশা গেলেন বুদ্ধের কাছে। বুদ্ধ তঁাকে শিষ্যত্বে গ্রহণ করলেন। তিনি বললেন, বহু জ্ঞানের চেয়ে একটু জ্ঞান যা তোমাকে শান্তি দেবে, অন্যকে শান্তিদান করবে তাই শ্রেষ্ঠ।

বুদ্ধের ভিক্ষুণী সংঘে যোগ দিয়ে অবশিষ্ট জীবন কাটিয়ে দেন কুণ্ডলকেশা।

কুণ্ডলকেশার জীবনকথা শেষ করে বৃদ্ধ শ্রমণ বললেন, ভগবান বুদ্ধের করুণায় এইসব মহান ধর্মসাধিকারা শুধু যে অর্হত্ত্বলাভ করেছিলেন তাই নয়, তঁারা হয়ে উঠেছিলেন সকলের আদর্শ।

হিউ-এন-সাঙ বললেন, আপনি ঠিকই বলেছেন আচার্য। তঁাদের জীবনকথা শুনে আমার সমস্ত অন্তরলোক আনন্দে পূর্ণ হয়ে উঠেছে। চরম দুঃখময় জীবনের মধ্যেও তঁারা ছিলেন সৌভাগ্যবতী, কারণ তঁারা ভগবান তথাগতের করুণা পেয়েছিলেন।

হিউ-এন-সাঙ নয় দিন বুদ্ধগয়ায় কাটালেন। তঁার সমস্ত অন্তর জুড়ে একটিমাত্র আকাঙ্ক্ষা নালন্দায় যাবেন। বৌদ্ধধর্মের যা-কিছু জ্ঞান তা অর্জন করবেন। এই লক্ষ্যপথে তিনি চিন দেশ থেকে যাত্রা করেছিলেন। এবার সেই লক্ষ্যপথের সমাপ্তি হবে।

সকল অধ্যায়
১.
গভীর গহন এক রাত
২.
আলোর পথে
৩.
প্রথম সকাল
৪.
রাত্রি শেষ
৫.
যাত্রা হল শুরু
৬.
সীমান্ত পথ
৭.
মৃত্যু উপত্যকা
৮.
মরুদ্যান
৯.
হামি
১০.
তুরফান
১১.
কুচা
১২.
বরফের দেশে
১৩.
ইশিক কুল
১৪.
সমরখন্দ
১৫.
লৌহকপাট
১৬.
বামিয়ান
১৭.
গান্ধার
১৮.
ছায়াগুহা
১৯.
পুরুষপুর
২০.
তক্ষশীলা
২১.
কাশ্মীর
২২.
শাকল
২৩.
জলন্ধর থেকে কুলু
২৪.
মথুরা
২৫.
কান্যকুব্জ
২৬.
অযোধ্যা থেকে কৌশাম্বী
২৭.
প্রয়াগ
২৮.
শ্রাবস্তী
২৯.
কপিলাবস্তু
৩০.
লুম্বিনী
৩১.
কুশীনগর
৩২.
বারাণসী
৩৩.
সারনাথ
৩৪.
বৈশালী
৩৫.
মগধ
৩৬.
শীলভদ্র বিহার
৩৭.
গয়া
৩৮.
বুদ্ধগয়া
৩৯.
বোধিবৃক্ষ
৪০.
মহাভিক্ষুণী
৪১.
রাজগৃহ
৪২.
মানসলোক
৪৩.
নালন্দা
৪৪.
ভারত পরিক্রমা
৪৫.
আবার নালন্দা
৪৬.
শরণাগত

নোট নিতে এবং টেক্সট হাইলাইট করতে লগইন করুন

লগইন
০%