হামি

চঞ্চলকুমার ঘোষ

একমনে হিউ-এন-সাঙ-এর ভ্রমণ বৃত্তান্ত পড়ছিল অমিতাভ। এতক্ষণ সেও যেন হারিয়ে গিয়েছিল গোবির দুস্তর মরুভূমিতে। বইটা বন্ধ করে চুপ করে কিছুক্ষণ বসে থাকে। একটা বিষয় মনের মধ্যে জেগে ওঠে। হিউ-এন-সাঙ যে পথ দিয়ে ভারতে এসেছিলেন আজও কি সেই পথ একইরকম আছে, না সব কিছু পালটে গিয়েছে ? এখন হয়তো সেখানে ট্রেন চলেছে। গাড়ি যাচ্ছে। মরুভূমির মধ্যে তৈরি হয়েছে বিমান বন্দর। যেমন সিনেমায় দেখা যায়। ধুধু প্রান্তরের মধ্যে একটা েছাটো প্লেন এসে নামল। নায়ক একা এগিয়ে চলেছে।

আজ হয়তো সাত দিনের পথ সত্তর মিনিটে পৌঁছে দিচ্ছে প্লেন। কল্পনায় ভেসে চলে মন। হঠাৎ, সামনে রাখা কম্পিউটারের দিকে চোখ পড়তেই হেসে ফেলে অমিতাভ। কম্পিউটারে নেট খুলে সার্চ করলেই সারা বিশ্বের খবর সামনে এসে যাবে। অথচ এতক্ষণ এই সহজ কথাটাই মনে পড়ছিল না। আসলে হিউ-এন-সাঙ-এর সঙ্গে সেও দেড় হাজার বছর আগে পিছিয়ে গিয়েছিল।

কম্পিউটার খোলে। দু-জন পর্যটকের বিবরণ রয়েছে। একজন গিয়েছেন একশো বছর আগে। তিনি লিখেছেন, এখন যে অঞ্চলকে চৈনিক তুর্কিস্থান বলে তার পশ্চিম আর দক্ষিণ জুড়ে রয়েছে সার সার পর্বত। বেশিরভাগই দুর্গম পথ। এর মধ্যে কয়েক-শো মাইল জুড়ে মরুভূমি। স্থানীয় মানুষরা বলেন তারিখ মরুভূমি। এই মরুভূমি গিয়ে মিশেছে গোবি মরুভূমির সঙ্গে। এই অঞ্চলে মানুষের বাস নেই বললেই চলে। তার একটিই কারণ, জলের অভাব। পাহাড় থেকে বরফ গলা জল নিয়ে এসে যে সব নদী নেমেছে তারা মরুভূমির মধ্যে এসেই শুকিয়ে গিয়েছে। তাই নদীর উৎসমুখের কাছাকাছি এক একটা মরুদ্যান রয়েছে। সেখানে মানুষের বাস। চিন দেশ থেকে ভারতে আসতে গেলে এই মরুদ্যানের পথ ছাড়া আর কোনো পথ নেই। এই পথের দু-ধারে মানুষ কোনোভাবে বেঁচে আছে। আধুনিক সভ্যতার কোনো চিহ্ন নেই সেখানে। অথচ এক সময় সেখানে সভ্যতা ছিল। মানুষের বসতি ছিল। তারা যে যথেষ্ট উন্নত ছিল তার নানান প্রমাণ রয়েছে। মাটি খুঁড়ে তার বহু নিদর্শন পাওয়া গিয়েছে। পুথি, শিল্প সামগ্রী, অলংকার বালির নীচে চাপা পড়ে গিয়েছিল। গবেষণায় জানা গিয়েছে তখন এই অঞ্চলে মরুভূমির প্রবল প্রভাব ছিল না। কালের গতিতে বাড়তে থাকে মরুভূমির প্রভাব। এক সময় গোটা অঞ্চল জুড়ে নেমে আসে ভয়ংকর রুক্ষতা, প্রসারিত হয় এক বালির পৃথিবী।

প্রথম পর্যটকের বিবরণীর পরই রয়েছে একালের একজনের বিবরণী।

‘আমরা হামি থেকে রওনা হলাম। আমাদের বাসটা ছিল গাঢ় নীল রঙের। চওড়া রাস্তা দিয়ে কিছুদূর যেতেই চোখে পড়ল লালচে রঙের পাহাড়। প্রথমে ভেবেছিলাম তার ওপর সাদা মেঘ ভাসছে। কিছু পরেই বুঝতে পারলাম ওগুলো বরফ ঢাকা পাহাড়ের চূড়া। মাঝে মাঝেই পেট্রোল পাম্প। তার সঙ্গে েছাটো েছাটো রেস্তরঁা। মাঝে মাঝে েছাটো েছাটো গাছ, বাগান। কোথাও আবার রুক্ষ প্রান্তর। পাশে বসা একজনকে জিজ্ঞাসা করলাম, এখানে জল পাওয়া যায় কোথা থেকে ?

ভদ্রলোক বললেন, বরফ গলা জল পাইপে করে নিয়ে আসা হয়।

মাঝে মাঝেই আঙুর খেত। তরমুজের বাগান। েছাটো েছাটো গ্রাম। সার দেওয়া পপলার গাছ। কোনো স্কুল ছুটি হয়েছে। কচিকাচা ছেলেমেয়েরা পথের ধার দিয়ে চলেছে।

হঠাৎ গোঁ গোঁ করে বাস থেমে গেল। ড্রাইভার বললেন ইঞ্জিনে গোলমাল। ঠেলতে হবে। সবাই হৈ হৈ করে নেমে পড়লাম। খানিক দূর যেতেই ইঞ্জিন চালু হয়ে গেল। আবার বাস চলতে আরম্ভ করল।’

ভ্রমণ বৃত্তান্ত শেষ। কম্পিউটার বন্ধ করল অমিতাভ।

আবার হিউ-এন-সাঙ-এর বইটা খোলে। বইটা যেন নেশার মতো তাকে টানছে। কী আশ্চর্য সুন্দর লেখার ভঙ্গি। ঠিক ছবির মতো চোখের সামনে ফুটে উঠছে।

হামির পথ ধরে চলেছেন হিউ-এন-সাঙ। বেশিরভাগই নির্জন প্রান্তর। অল্প অল্প গাছ। চারদিকের মরুভূমির তাপে গাছগুলো কেমন যেন বিবর্ণ ফ্যাকাশে হয়ে গিয়েছে। পথ চলতে কষ্ট হচ্ছিল। তেষ্টা পেয়েছিল। হাজি খান যতটুকু জল দিয়েছিলেন তাতে দু-দিন ভালোভাবেই চলে গিয়েছে। এখন ঘোড়াটাও ছটফট করছে। তারও তেষ্টা পেয়েছে।

খানিকটা এগোতেই একটা উঁচু পাথরের দেওয়াল। মনে মনে নিশ্চিন্ত হলেন হিউ-এন-সাঙ। ওখানে নিশ্চয়ই মানুষের ঘর। চলার গতি বাড়িয়ে দিলেন। দেওয়ালটা পার হতেই অবাক হলেন হিউ-এন-সাঙ। সামান্য দূরেই বৌদ্ধ বিহার। তার মাথায় পতাকা উড়ছে। এখানে এই মরুদ্যানের মধ্যে কোনো বৌদ্ধ বিহারের সন্ধান পাবেন আশা করেননি হিউ-এন-সাঙ। আনন্দে দু-হাত তুলে বলে উঠলেন, কী অপার তোমার করুণা !

এতক্ষণের ক্লান্তিটুকু পলকে কোথায় যেন হারিয়ে যায়। নতুন উদ্যমে এগিয়ে চললেন। সামনে ফটক। ভেতরে যেতেই চোখে পড়ল একজন বৃদ্ধ সন্ন্যাসী বিহারের বারান্দায় বসে একমনে ধর্মচক্র ঘুরিয়ে চলেছেন।

হিউ-এন-সাঙ তাকে উদ্দেশ্য করেই বললেন, প্রণাম ভন্তে।

বৃদ্ধ সন্ন্যাসী মুখ ফেরালেন। অপরিচিত এক তরুণ সন্ন্যাসীকে দেখে বিস্মিত হলেন।

‘কল্যাণ হোক। আপনি কোথা থেকে আসছেন ?’

‘চিন থেকে।’

‘চিন! সে তো বহু দূরের পথ!’ সন্ন্যাসীর বিস্ময়ের মাত্রা আরও বেড়ে যায়।

‘আপনি ঠিকই অনুমান করেছেন ভন্তে। আমি মরুভূমির দীর্ঘ পথ পার হয়ে এসেছি।’

সন্ন্যাসী কিছুক্ষণ অপলক চোখে চেয়ে থাকেন হিউ-এন-সাঙ-এর দিকে। তারপর বললেন, আপনি এত পরিশ্রম করে কোথায় চলেছেন ?

হিউ-এন-সাঙ বললেন, ভগবান বুদ্ধের ধর্মশিক্ষাকে জানবার জন্যে আমি ভারতবর্ষে চলেছি।

কিছু ভাবলেন সন্ন্যাসী। তারপরই উচ্চকণ্ঠে কাউকে ডাক দিলেন।

কয়েক জন শ্রমণ ভেতর থেকে বের হয়ে আসে। বৃদ্ধ বললেন, এই মহাত্মন সুদূর চিন দেশ থেকে এখানে এসেছেন। তোমরা থেরকে সংবাদ দাও।

বৃদ্ধ নিজেই এগিয়ে এলেন হিউ-এন-সাঙ-এর কাছে। একজন শ্রমণ ঘোড়ার পিঠ থেকে মালপত্র নামায়। ‘আসুন মহাত্মন।’

বৃদ্ধের সঙ্গে বিহারের ভেতরে এলেন হিউ-এন-সাঙ। পর পর ঘর। মাঝখানে চওড়া চাতাল। একেবারে শেষে থের (বিহারের প্রধান) এর কক্ষ। আগেই সংবাদ পেয়েছিলেন থের। দরজার সামনে এসে দাঁড়িয়েছিলেন। বয়সের ভারে বিশেষ চলাফেরা করতে পারেন না। হিউ-এন-সাঙকে দেখামাত্রই বললেন, ওম মণিপদ্মে ওম।

হিউ-এন-সাঙ নতমস্তকে বললেন, ওম মণিপদ্মে ওম।

থের বললেন, আপনি সুদূর চিন থেকে এসেছেন আমাদের এই বিহারে। এ আমাদের পরম সৌভাগ্য।

হিউ-এন-সাঙ বললেন, আমি লো ইয়াং মঠের ধর্মশিক্ষক ছিলাম। চলেছি ভগবান বুদ্ধের দেশ ভারতবর্ষে।

থের বললেন, আপনার মতো মহাপ্রাজ্ঞ, ধর্মগুরু এই বিহারে এসেছেন এ তথাগতের আশীর্বাদ। আপনি বহু দূর পথ পার হয়ে এসেছেন। এই মুহূর্তে আপনার বিশ্রামের প্রয়োজন।

হিউ-এন-সাঙ সামান্য কুণ্ঠিতভাবে বললেন, আপনি ঠিকই অনুমান করেছেন থের। আমি ভীষণ পরিশ্রান্ত।

থের একজন শ্রমণের দিকে চেয়ে বললেন, ধর্মগুরুকে বিশ্রাম কক্ষে নিয়ে যাও। ধর্মগুরুর সেবার ভার তোমার ওপর থাকবে।

শ্রমণ মাথা নিচু করে বলল, আসুন ধর্মগুরু।

হামির বৌদ্ধ বিহারে দু-দিন কেটে যায়। সকলের সেবা যত্নে পুরোপুরি সুস্থ হয়ে ওঠেন হিউ-এন-সাঙ। নিজের কক্ষে বসে প্রার্থনা করছিলেন। এক বৃদ্ধ সন্ন্যাসী সামনে এসে দাঁড়ালেন। এই দু-দিনে সামান্য দু-চারজন ছাড়া কারও সঙ্গেই ভালো করে পরিচয় হয়নি। বৃদ্ধকে দেখেই হিউ-এন-সাঙ বললেন, প্রণাম ভন্তে।

বৃদ্ধ বললেন, আপনার সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে এলাম। বহুদিন পর আমার স্বদেশের কাউকে দেখে বড়ো ভালো লাগছে। আমার জন্মও চিনে। শৈশব-কৈশোর-প্রথম যৌবন কেটেছে সেখানে।

উৎফুল্ল হয়ে ওঠেন হিউ-এন-সাঙ। আমারও ভালো লাগছে আপনাকে দেখে। আপনি সুদূর চিন থেকে এখানে এলেন কী করে ?

‘আমি বাণিজ্য করতে গিয়েছিলাম তুর্কিস্থানে। এক বৌদ্ধ সন্ন্যাসীর সঙ্গে পরিচয় হল। আমার মধ্যে কী হল জানি না, তঁার শিষ্যত্ব গ্রহণ করলাম।’

‘চিন দেশের কোথায় আপনার ঘর ?’

‘দক্ষিণ প্রদেশের লো-ইয়াং গ্রামে থাকতাম। সেও অনেক বছর আগেকার কথা।

‘লো-ইয়াং! আমিও তো সেই গ্রামের। ওখানেই আমার জন্ম। আমার ছেলেবেলা কেটেছে।’

আনন্দে বৃদ্ধ সন্ন্যাসী দু-হাতে হিউ-এন-সাঙকে বুকে জড়িয়ে ধরলেন। ‘কোনো দিন ভাবিনি আবার নিজের গ্রামের কারও সঙ্গে দেখা হবে।’

হিউ-এন-সাঙ-এর দু-চোখ বেয়ে জলের ধারা গড়িয়ে পড়ে। বললেন, সবই ভগবান তথাগতর ইচ্ছা।

হামি বৌদ্ধ বিহারে আরও এক দিন কেটে যায়। বিহারের সকলেই হিউ-এন-সাঙ-এর কাছে ধর্ম উপদেশ শুনতে চায়। ইতিপূর্বে তাদের বিহারে এমন মহাপণ্ডিত কেউ আসেনি। প্রার্থনা কক্ষে মিলিত হলেন সকলে।

থের বললেন, হে ধর্মগুরু, আমরা ভগবান বুদ্ধের অনুগামী হলেও তঁার ধর্ম প্রসঙ্গে প্রায় কিছুই জানি না। আপনি কিছু বলুন।

হিউ-এন-সাঙ বললেন, আপনাদের যদি কারও কিছু জিজ্ঞাসা থাকে বলুন আমি উত্তর দেব।

কিছুক্ষণ কেউ কোনও কথা বলেন না। তারপর একজন উঠে দাঁড়িয়ে বললেন, ভগবান বুদ্ধ কী ধর্ম উপদেশ দিয়েছিলেন ?

হিউ-এন-সাঙ বললেন, ভগবান বুদ্ধ সর্ব মানুষের জন্যে যে ধর্ম উপদেশ দিয়েছিলেন তার মূল কথা হল অষ্টমার্গ।

উপস্থিত সকলে বলে উঠলেন অষ্টমার্গ কী?

হিউ-এন-সাঙ বললেন, অষ্টমার্গ হচ্ছে সেই পথ যে-পথে মানুষ আত্মিক সাধনার সর্বোচ্চ ধাপে পৌছতে পারে।

আটটি মার্গ বা পথের প্রথম হল সত্যবোধ বা সম্যক দৃষ্টি। আমাদের সব দুঃখের মূলে রয়েছে মিথ্যা ধারণা বা অবিদ্যা। এই মিথ্যার জগৎ থেকে মুক্ত হলেই একমাত্র প্রকৃত জ্ঞান লাভ করা যায়।

দ্বিতীয় মার্গ হল, সংকল্প। শুধু জ্ঞান লাভ হলেই মুক্তি আসবে না। প্রয়োজন সত্য লাভ করবার জন্যে সংকল্প। অর্থাৎ পার্থিব বিষয়ের প্রতি আসক্তি ভোগবাসনা জয় করবার ইচ্ছা, দ্বেষ ও রাগ বিসর্জন দেওয়ার সংকল্প।

তৃতীয় হল সত্য বাক্য। সব অবস্থায় সত্য কথা বলবে। পরনিন্দা বা খারাপ কথায় কাউকে আঘাত দেওয়া অনুচিত। সংযমী ও সত্যবাক্যই শ্রেষ্ঠ বাক্য।

চতুর্থ হল সত্য আচরণ। শুধুমাত্র কথা নয় আচরণেও সংযম থাকা প্রয়োজন। আমরা যেন কোনো কামনা বাসনার দাস না হয়ে চলি। আমাদের সব কাজেই সংযম আর নিয়ম শৃঙ্খলা মেনে চলতে হবে। দয়া মায়া ভালবাসা হবে আমাদের সব কাজের প্রেরণা।

পঞ্চম, সত্য জীবন। অর্থাৎ এমনভাবে আমাদের অর্থ উপার্জন করতে হবে যাতে আমাদের শুচিতা পবিত্রতা নষ্ট না হয়।

ষষ্ঠ, সত্য চেষ্টা। কর্ম চিন্তায় সংযম। একদিকে যেমন মন থেকে অসৎ চিন্তা দূর করা উচিত তেমনি সৎ চিন্তার দ্বারা নিজের মনকে পূর্ণ রাখা উচিত।

সপ্তম, এই অবস্থায় মানুষ সত্য চিন্তা করবে। তাকে মনে রাখতে হবে। দেহ মন সব কিছুই ক্ষণস্থায়ী। যা ক্ষণস্থায়ী যা অনিত্য তার প্রতি আসক্তি থেকে সব দুঃখের সৃষ্টি হয়। এই আসক্তি থেকে মুক্তি মানেই পরম শান্তি।

অষ্টম মার্গের শেষ ধাপ সমাধি। কেউ যখন এই স্তরে পৌছে যায়, তখন তার মধ্যে আর কোনো দুঃখ থাকে না। কামনা বাসনা থাকে না। একমাত্র যিনি আগের সাতটি ধাপ অতিক্রম করতে পেরেছেন অর্থাৎ সব অসৎ ভাবনা থেকে মনকে মুক্ত করতে পেরেছেন, নিজের আচরণ সংযত করতে পেরে ইন্দ্রিয়কে জয় করতে পেরেছেন, তিনিই একমাত্র সমাধির মাধ্যমে নির্বাণ লাভ করতে পারেন।

একজন জিজ্ঞাসা করলেন, কেন আমরা এই আটটি পথ বা মার্গ অনুসরণ করব ?

হিউ-এন-সাঙ প্রশান্ত কণ্ঠে বললেন, চারটি কারণে তোমরা এই পথ অনুসরণ করবে।

‘একে বলতে পারো চার সত্য।’

‘প্রথমত জন্ম হল সব দুঃখের কারণ। জীবন দুঃখময়। জন্মের পর থেকে মানুষ একের পর এক দুঃখের জীবনকে অতিক্রম করে মৃত্যুর দিকে এগিয়ে যায়।’

‘দ্বিতীয় সত্য হল, সব দুঃখের কারণ আছে। রোগ-ব্যাধি-জরা-মৃত্যু এর কারণ হল জন্ম। এই জন্মের জন্যে দায়ী দেহজ কামনা বাসনা।’

‘তৃতীয় সত্য হল দুঃখের নিরোধ। সব কাজেরই কারণ আছে। সব দুঃখের কারণ আছে। যদি সেই দুঃখের কারণগুলো ধ্বংস করা যায় তাহলেই দুঃখের শেষ হয়।’

‘চতুর্থ সত্য হল দুঃখের যে কারণ আছে তার থেকে মুক্তির উপায় হল অষ্টমার্গের অনুসরণ। কামনা মুক্ত হলে মানুষ আর জন্ম নেবে না। আর জন্ম না হলে কাউকে দুঃখ পেতে হবে না।’

বহুক্ষণ ভগবান বুদ্ধের কথা বলে শান্ত হলেন হিউ-এন-সাঙ। রাত বাড়ছিল। চারদিক নিস্তব্ধ, শুধু বাতাসের শব্দ।

হামির বৌদ্ধ বিহারে হিউ-এন-সাঙ-এর সামনে বসে থাকা সব শ্রমণ, ভিক্ষু, থের, সকলেই এমন আত্মস্থ হয়ে গিয়েছিলেন চারপাশের জগতের কোনো কিছুই তঁাদের চেতনার জগতে ছিল না। বেশ কিছুক্ষণ পর সকলে সচেতন হলেন।

থের বললেন, ধর্মগুরু আপনার মুখে ভগবান তথাগতের কথা যতই শুনছি ততই মুগ্ধ হয়ে যাচ্ছি। মনে হচ্ছে জীবনের বাকি অংশটুকু আপনার সান্নিধ্যে যদি কাটাতে পারতাম।

হিউ-এন-সাঙ বললেন, আমাকে যে ভারতবর্ষের পথে যেতে হবে।

সকলে সমস্বরে বলে ওঠেন, আমরা আর কয়েকটা দিন আপনার সান্নিধ্যে কাটাতে চাই।

হিউ-এন-সাঙ অনুভব করলেন সকলের আন্তরিকতা। বললেন, এক পক্ষকালের জন্যে আপনাদের এখানে থাকব। ধর্মালোচনা করব। তারপর যাত্রা করব।

সকল অধ্যায়
১.
গভীর গহন এক রাত
২.
আলোর পথে
৩.
প্রথম সকাল
৪.
রাত্রি শেষ
৫.
যাত্রা হল শুরু
৬.
সীমান্ত পথ
৭.
মৃত্যু উপত্যকা
৮.
মরুদ্যান
৯.
হামি
১০.
তুরফান
১১.
কুচা
১২.
বরফের দেশে
১৩.
ইশিক কুল
১৪.
সমরখন্দ
১৫.
লৌহকপাট
১৬.
বামিয়ান
১৭.
গান্ধার
১৮.
ছায়াগুহা
১৯.
পুরুষপুর
২০.
তক্ষশীলা
২১.
কাশ্মীর
২২.
শাকল
২৩.
জলন্ধর থেকে কুলু
২৪.
মথুরা
২৫.
কান্যকুব্জ
২৬.
অযোধ্যা থেকে কৌশাম্বী
২৭.
প্রয়াগ
২৮.
শ্রাবস্তী
২৯.
কপিলাবস্তু
৩০.
লুম্বিনী
৩১.
কুশীনগর
৩২.
বারাণসী
৩৩.
সারনাথ
৩৪.
বৈশালী
৩৫.
মগধ
৩৬.
শীলভদ্র বিহার
৩৭.
গয়া
৩৮.
বুদ্ধগয়া
৩৯.
বোধিবৃক্ষ
৪০.
মহাভিক্ষুণী
৪১.
রাজগৃহ
৪২.
মানসলোক
৪৩.
নালন্দা
৪৪.
ভারত পরিক্রমা
৪৫.
আবার নালন্দা
৪৬.
শরণাগত

নোট নিতে এবং টেক্সট হাইলাইট করতে লগইন করুন

লগইন
০%