সপ্তবিংশ অধ্যায়

পল্লবী সেনগুপ্ত

দক্ষিন কলকাতার দামী হোটেলরুমের কনকনে এসি তেও বেশ ঘাম হচ্ছে তিস্তার। কোথা থেকে যে কি হচ্ছে কিছুই যেন বুঝে উঠতে পারছে না তিস্তা।

কে এই নয়ন বিশ্বাস? ও কি সত্যি শুধুই একজন যৌনকর্মী? সেদিন ছেলেটা সারা রাত মাথায় হাত বুলিয়ে গেছে তিস্তার। একটা অদ্ভুত সহানুভূতির সৎ ছোঁয়া ছিল ওর স্পর্শে। তিস্তার অবুঝপানা, দামাল কান্না, আচমকা রুক্ষতম ব্যবহার কোন কিছু মেনে নিতেই যেন কোন আপত্তি ছিল না ওর। সব যৌনকর্মীই কি এমন হয়? না উত্তরটা জানা নেই তিস্তার। কিন্তু তিস্তার বারবার মনে হচ্ছে ওর মা বাবার পর আর কেউ এমন স্নেহসিক্ত স্পর্শে তো ভিজিয়ে দেয়নি ওকে। এই মানুষটাকে আর একবার কাছে পেতে যে বড্ড তাই লোভ হয়েছিল ওর।

তাই এজেন্সিতে যোগাযোগ করে আবার আজকে রাতের জন্য নয়নকে ভাড়া করেছে ও। নিজের মনের সবটুকু যন্ত্রণা যদি উজাড় করে দিতে চায় নয়নেরর সামনে ও তাহলে কি করবে ছেলেটা? না আজ আর শহরের বাইরে নয়, আজ তাই শহরের এক হোটেলরুমেই খুঁজতে চেয়েছে ও নির্জনতা।

বেল বাজতেই অল্প কেঁপে উঠল তিস্তা। দরজা খুলতেই অল্প চমকে উঠল ও। এসে গেছে নয়ন। আগের দিনের থেকেও আরও বেশি ঝকঝকে দীপ্তিময় লাগছে ওর চোখদুটো।

আস্তে আস্তে ভিতরে এল ছেলেটা। কেমন মায়া জড়ান দৃষ্টি যেন আজ ওর। এবার বসল ও সাজান সোফায়।

নিজেকে কেমন যেন এলোমেলো লাগছে তিস্তার। সব কথা সাজিয়ে গুছিয়ে নিতে পারছে না ঠিকমত।

-''নয়ন আমি জানি আমি এমন আলাদা ভাবে তোমায় ডেকেছি বলে তুমি হয়তো বড্ড অবাক হয়েছ। আসলে আমার একজন এমন মানুষকে প্রয়োজন, যে আমার এতদিনের জমান অনেকটা জমাট বাঁধা যন্ত্রণার শরিক হতে পারবে। যার সাথে ভাগ করে নিতে পারব আমার একাকীত্ব আমি। তুমি কি আমার কথা শুনবে নয়ন''?

-''আমি তো ভাড়াটে এক পুরুষ ম্যাডাম। তাই যে ভাবে আপনি চাইবেন সেইভাবেই আমি আপনাকে সার্ভিস দেব সেটা তো স্বাভাবিক।

তবে আপনি আমায় প্রথমবার শুধুই একটা মাংসের শরীর ভাবার বদলে একজন মানুষ ভেবেছেন। সেই জন্য আপনাকে কৃতজ্ঞতা জানাবার ভাষা হয়তো সত্যি আমার নেই।

আমাদের সকলের জীবনেই তো অনেক না বলা যন্ত্রণা থাকে যেগুলো ভাগ করে নিতে ইচ্ছে করে বারবার, কিন্তু ভাগ করে নেবার মত একটা মানুষ খুঁজে পাওয়া যায় না।

আপনাদের মত অনেক সহৃদয় মানুষ হয়তো সেই যন্ত্রণার ভাগিদার হিসাবে কিছু ভাড়া করা মানুষ খুঁজে নেয়, তাদের শরীরের বদলে তাদের সময় আর মন ভাড়া নিতে চায়। কিন্তু আমাদের মত কিছু মানুষদের তো সেই উপায়টুকুও থাকে না। আমরা যে শুধুই প্রফেশনাল''।

তিস্তা লক্ষ্য করল ছেলেটার চোখটা যেন কয়েক মুহূর্তের জন্য ছলছল করে উঠল। কিন্তু পরক্ষনেই আবার সামলে নিল সে। ছেলেটার পাশে গিয়ে এবার বসল ও। ওর চোখে চোখ রাখল। অস্ফুটে বলল

-''আমার বন্ধু হবে নয়ন? শুধু ক্লায়েন্ট না ভেবে আমায় কি এক মুহূর্তের জন্য বন্ধু ভাবা যায় না''?

-''লোভ দেখাবেন না ম্যাডাম দয়া করে। সম্পর্কের প্রলোভন জয় করা যে বড্ড কঠিন, কারন সম্পর্ক তৈরি করাটা বা খুঁজে পাওয়াটাই যে বড্ড দুষ্কর। আর আমাদের যে বন্ধু থাকতে নেই''।

-''ঠিক বলেছ তুমি। সম্পর্কই পৃথিবীতে সবচেয়ে দুর্লভ''। নিজের অজান্তেই কেমন যেন মুচড়ে উঠল ওর বুকটা। কে যেন ভেতর থেকে বলে উঠল

-''তিস্তা এই মানুষটার সাথে আরও আগে তোমার দেখা উচিত ছিল। কি বল''?

-''না এখনও সময় আছে। পুরোটা দেরি হয়ে যায়নি''? কলকল করে উঠল ওর হৃদয়ের অন্নুচারিত শব্দগুলো।

সকল অধ্যায়
১.
প্রথম অধ্যায়
২.
দ্বিতীয় অধ্যায়
৩.
তৃতীয় অধ্যায়
৪.
চতুর্থ অধ্যায়
৫.
পঞ্চম অধ্যায়
৬.
ষষ্ঠ অধ্যায়
৭.
সপ্তম অধ্যায়
৮.
অষ্টম অধ্যায়
৯.
নবম অধ্যায়
১০.
দশম অধ্যায়
১১.
একাদশ অধ্যায়
১২.
দ্বাদশ অধ্যায়
১৩.
ত্রয়োদশ অধ্যায়
১৪.
চতুর্দশ অধ্যায়
১৫.
পঞ্চদশ অধ্যায়
১৬.
ষোড়শ অধ্যায়
১৭.
সপ্তদশ অধ্যায়
১৮.
অষ্টাদশ অধ্যায়
১৯.
ঊনবিংশ অধ্যায়
২০.
বিংশ অধ্যায়
২১.
একবিংশ অধ্যায়
২২.
দ্বাবিংশ অধ্যায়
২৩.
ত্রয়োবিংশ অধ্যায়
২৪.
চতুর্বিংশ অধ্যায়
২৫.
পঞ্চবিংশ অধ্যায়
২৬.
ষড়বিংশ অধ্যায়
২৭.
সপ্তবিংশ অধ্যায়
২৮.
অষ্টাবিংশ অধ্যায়
২৯.
ঊনত্রিংশ অধ্যায়
৩০.
ত্রিংশ অধ্যায়
৩১.
একত্রিংশ অধ্যায়
৩২.
দ্বাত্রিংশ অধ্যায়
৩৩.
ত্রয়োত্রিংশ অধ্যায়
৩৪.
চতুর্ত্রিংশ অধ্যায়
৩৫.
পঞ্চত্রিংশ অধ্যায়
৩৬.
ষট্ত্রিংশ অধ্যায়
৩৭.
সপ্তত্রিংশ অধ্যায়
৩৮.
অষ্টত্রিংশ অধ্যায়
৩৯.
ঊনচল্লিশ অধ্যায়
৪০.
চল্লিশ অধ্যায়
৪১.
একচল্লিশ অধ্যায়
৪২.
দ্বিচল্লিশ অধ্যায়
৪৩.
ত্রিচল্লিশ অধ্যায়
৪৪.
চতুর্চল্লিশ অধ্যায়
৪৫.
পঞ্চচল্লিশ অধ্যায়
৪৬.
ষট্চল্লিশ অধ্যায়

নোট নিতে এবং টেক্সট হাইলাইট করতে লগইন করুন

লগইন
০%