পল্লবী সেনগুপ্ত
দক্ষিন কলকাতার দামী হোটেলরুমের কনকনে এসি তেও বেশ ঘাম হচ্ছে তিস্তার। কোথা থেকে যে কি হচ্ছে কিছুই যেন বুঝে উঠতে পারছে না তিস্তা।
কে এই নয়ন বিশ্বাস? ও কি সত্যি শুধুই একজন যৌনকর্মী? সেদিন ছেলেটা সারা রাত মাথায় হাত বুলিয়ে গেছে তিস্তার। একটা অদ্ভুত সহানুভূতির সৎ ছোঁয়া ছিল ওর স্পর্শে। তিস্তার অবুঝপানা, দামাল কান্না, আচমকা রুক্ষতম ব্যবহার কোন কিছু মেনে নিতেই যেন কোন আপত্তি ছিল না ওর। সব যৌনকর্মীই কি এমন হয়? না উত্তরটা জানা নেই তিস্তার। কিন্তু তিস্তার বারবার মনে হচ্ছে ওর মা বাবার পর আর কেউ এমন স্নেহসিক্ত স্পর্শে তো ভিজিয়ে দেয়নি ওকে। এই মানুষটাকে আর একবার কাছে পেতে যে বড্ড তাই লোভ হয়েছিল ওর।
তাই এজেন্সিতে যোগাযোগ করে আবার আজকে রাতের জন্য নয়নকে ভাড়া করেছে ও। নিজের মনের সবটুকু যন্ত্রণা যদি উজাড় করে দিতে চায় নয়নেরর সামনে ও তাহলে কি করবে ছেলেটা? না আজ আর শহরের বাইরে নয়, আজ তাই শহরের এক হোটেলরুমেই খুঁজতে চেয়েছে ও নির্জনতা।
বেল বাজতেই অল্প কেঁপে উঠল তিস্তা। দরজা খুলতেই অল্প চমকে উঠল ও। এসে গেছে নয়ন। আগের দিনের থেকেও আরও বেশি ঝকঝকে দীপ্তিময় লাগছে ওর চোখদুটো।
আস্তে আস্তে ভিতরে এল ছেলেটা। কেমন মায়া জড়ান দৃষ্টি যেন আজ ওর। এবার বসল ও সাজান সোফায়।
নিজেকে কেমন যেন এলোমেলো লাগছে তিস্তার। সব কথা সাজিয়ে গুছিয়ে নিতে পারছে না ঠিকমত।
-''নয়ন আমি জানি আমি এমন আলাদা ভাবে তোমায় ডেকেছি বলে তুমি হয়তো বড্ড অবাক হয়েছ। আসলে আমার একজন এমন মানুষকে প্রয়োজন, যে আমার এতদিনের জমান অনেকটা জমাট বাঁধা যন্ত্রণার শরিক হতে পারবে। যার সাথে ভাগ করে নিতে পারব আমার একাকীত্ব আমি। তুমি কি আমার কথা শুনবে নয়ন''?
-''আমি তো ভাড়াটে এক পুরুষ ম্যাডাম। তাই যে ভাবে আপনি চাইবেন সেইভাবেই আমি আপনাকে সার্ভিস দেব সেটা তো স্বাভাবিক।
তবে আপনি আমায় প্রথমবার শুধুই একটা মাংসের শরীর ভাবার বদলে একজন মানুষ ভেবেছেন। সেই জন্য আপনাকে কৃতজ্ঞতা জানাবার ভাষা হয়তো সত্যি আমার নেই।
আমাদের সকলের জীবনেই তো অনেক না বলা যন্ত্রণা থাকে যেগুলো ভাগ করে নিতে ইচ্ছে করে বারবার, কিন্তু ভাগ করে নেবার মত একটা মানুষ খুঁজে পাওয়া যায় না।
আপনাদের মত অনেক সহৃদয় মানুষ হয়তো সেই যন্ত্রণার ভাগিদার হিসাবে কিছু ভাড়া করা মানুষ খুঁজে নেয়, তাদের শরীরের বদলে তাদের সময় আর মন ভাড়া নিতে চায়। কিন্তু আমাদের মত কিছু মানুষদের তো সেই উপায়টুকুও থাকে না। আমরা যে শুধুই প্রফেশনাল''।
তিস্তা লক্ষ্য করল ছেলেটার চোখটা যেন কয়েক মুহূর্তের জন্য ছলছল করে উঠল। কিন্তু পরক্ষনেই আবার সামলে নিল সে। ছেলেটার পাশে গিয়ে এবার বসল ও। ওর চোখে চোখ রাখল। অস্ফুটে বলল
-''আমার বন্ধু হবে নয়ন? শুধু ক্লায়েন্ট না ভেবে আমায় কি এক মুহূর্তের জন্য বন্ধু ভাবা যায় না''?
-''লোভ দেখাবেন না ম্যাডাম দয়া করে। সম্পর্কের প্রলোভন জয় করা যে বড্ড কঠিন, কারন সম্পর্ক তৈরি করাটা বা খুঁজে পাওয়াটাই যে বড্ড দুষ্কর। আর আমাদের যে বন্ধু থাকতে নেই''।
-''ঠিক বলেছ তুমি। সম্পর্কই পৃথিবীতে সবচেয়ে দুর্লভ''। নিজের অজান্তেই কেমন যেন মুচড়ে উঠল ওর বুকটা। কে যেন ভেতর থেকে বলে উঠল
-''তিস্তা এই মানুষটার সাথে আরও আগে তোমার দেখা উচিত ছিল। কি বল''?
-''না এখনও সময় আছে। পুরোটা দেরি হয়ে যায়নি''? কলকল করে উঠল ওর হৃদয়ের অন্নুচারিত শব্দগুলো।
নোট নিতে এবং টেক্সট হাইলাইট করতে লগইন করুন
লগইনএই বইয়ে প্রাপ্তবয়স্কদের উপযোগী বিষয়বস্তু রয়েছে।
পড়া চালিয়ে যেতে নিশ্চিত করুন যে আপনার বয়স ১৮ বছর বা তার বেশি।